16/08/2026
*✨ঠাকুর আজও আছেন✨*
নবীন সন্ন্যাসী স্বামী প্রভবানন্দজী সবে ভুবনেশ্বর মঠে এসেছেন । তাঁর উপর ভার পড়লো ঠাকুরের নিত্য পূজা করা । তখন এমন একটি ঘটনা ঘটলো যাতে সবাই উপলব্ধি করলেন যে ঠাকুরের পূজা কতটা সাবধানে করতে হয় ।
একদিন প্রভবানন্দজী মিষ্টি আর একটা শসা কেটে নৈবেদ্য সাজিয়ে দিয়েছেন । সাধারণত নৈবেদ্য রেখে ঘরের দরজা বন্ধ করে বাইরে ধ্যানে বসে পূজারী নৈবেদ্য নিবেদন করেন; সেদিন গরমের জন্য ও শরীর ঠিক না থাকায় মহারাজ নিজের ঘরে এসে বসলেন ।
একটু পরেই দেখলেন এক সুন্দর ব্রাহ্মণ বালক সুক্ষ্ম শরীরে তাঁকে বলছে,, " তুমি ঠাকুরের শসায় নুন দিয়েছো তো ? ঠাকুর কিন্তু নুন ছাড়া শসা খেতে পারেন না ।"এই কথা বলে বালক অদৃশ্য হয়ে গেলো । তখন ভুবনেশ্বর মঠে স্বামী আত্মানন্দজী ছিলেন । প্রভবানন্দজী ব্যাপারটা তাঁকে বলে নির্দেশ চাইলেন ।
আত্মানন্দজী বললেন,"ঠিক কথা । ঠাকুর নুন ছাড়া শসা খেতে পারেন না । তুমি হাতে করে একটু নুন নিয়ে গিয়ে নৈবেদ্যর থালায় রেখে আবার দরজা বন্ধ করে দিয়ে এসো।" প্রভবানন্দজীও তাই করলেন । ঠাকুর যে ভক্তি ভরে শুদ্ধ চিত্তে নিবেদন করা নৈবেদ্য গ্রহণ করেন তা হাতে হাতেই প্রমাণ পেলেন ।
🌾🍁🌾🍁🌾🍁🌾🍁🌾🍁🌾
*ঠাকুর আজও আছেন*
স্বামী সোমেশ্বরানন্দ আরতির পর ঠাকুরের শয়ন ঘর পরিষ্কার করতেন। ঘরে জিনিস বেশি ছিল না। খাট, একজোড়া চপ্পল ইত্যাদি। মহারাজ ঘর পরিষ্কার করছেন, এমন সময় তাঁর মনে হল এই ঘরে কেউ এসেছেন। আসা অর্থে দরজা দিয়ে ঢোকা নয়,যেন কেউ হঠাৎ আবির্ভূত হয়েছেন। মহারাজ অনুভব করলেন খাটের পাশে কেউ দাঁড়িয়ে, বিরাট শরীর, প্রায় নয়- দশ ফুট লম্বা। কিন্তু পেছন ফিরতে কাউকে দেখতে পেলেন না। তিনি আবার মোছা শুরু করলেন, আবার সেই অনুভূতি। আবার পেছনে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলেন না। দরজা দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে চারিদিক খুঁজলেন কিন্তু কোথাও কিছু দেখলেন না। তিনতলা থেকে দোতলা পর্যন্ত তিনি নেমে এসে চতুর্দিক দেখলেন কিন্তু কিছুই দেখলেন না। ব্যপারটা তাঁর নিকট খুবই রহস্যময় লাগলো। তিনি আবার তিনতলায় ফিরে কাজ শুরু করলেন । আবার একই অনুভূতি হতে লাগলো । তিনি মনের ভুল মনে করে ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে চাইলেন, কিন্তু তিনি তীব্রভাবে অনুভব করছেন ঘরে কেউ আছেন। যতক্ষণ তিনি কাজ করলেন ততক্ষণ এই অনুভব তাঁর থাকল। পরে একদিন ধীরেন মহারাজকে যিনি বহু বছর ধরে ঠাকুরের পুজো করতেন তাঁকে তিনি তাঁর অনুভবের কথা জানালে ধীরেন মহারাজ বললেন, “ তুমি ভাগ্যবান, অনেকেরই এই অনুভূতি হয়েছে। ঠাকুর আজও আছেন।”
➖➖➖🪷➖➖➖
শ্রীরামকৃষ্ণ পরিবার গ্রুপের সংগৃহীত উপস্থাপন 🙏