31/07/2026
বর্তমানে জাপানের মহিলা প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি খুবই সহজ সরল। তিনি কোনো কিছু নিয়ে অতিরিক্ত প্যাচগোছ করেন না। সমস্যা যতই হোক, তার কাছে দারুণ একটা সমাধান আছে!
যেমন ধরুন, ইয়েনের মান কমতে কমতে প্রায় মাটির আধা হাত নিচে নেমে গেছে। আজ ১ ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দাম ১৬০ ইয়েন। আমি বলতে পারি, এই রেট আরও কমবে। তো তাকাইচি এখন কী করবে?
জাপানে যেসব বিদেশি আছে, তাদের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সের আবেদন ফি ১০,০০০ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩,০০,০০০ ইয়েন করে দাও! সমস্যা সমাধান!
আবার ধরুন, জাপানের বাজারে প্রায় হাজারেরও বেশি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। জাপানের জনগণ ধীরে ধীরে এর ওপর বিরক্ত হচ্ছে। গত সপ্তাহে তার জনসমর্থন ৫০% এর নিচে নেমে গেছে। তো তাকাইচি এখন কী করবে?
বিদেশিদের জন্য জাপানের নাগরিকত্বের আবেদন করার শর্ত ৫ বছর থেকে ১০ বছর করে দাও। সমস্যা সমাধান!
আবার ধরুন, জাপানে চালের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। তো তাকাইচি এখন কী করবে?
দোষ বিদেশিদের দিয়ে দাও। বেশি টুরিস্ট এসে জাপানের জনগণের চাল খেয়ে ফেলেছে, তাই দাম বেড়ে গেছে! সমস্যা সমাধান!
জাপানে গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ছে। টানা ৫ দিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। তো তাকাইচি এখন কী করবে?
অবশ্যই দোষ গাইজিনদের। তারা এই দেশে বেশি এসে দেশটাকে গরম করে ফেলেছে। গাইজিন মানে বিদেশি। সমস্যা সমাধান!
এই এক সপ্তাহের গরমে ৪,৫৮০ জন হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। হাসপাতাল এই চাপ সামলাতে পারছে না। তো তাকাইচি এখন কী করবে?
বিদেশিদের হাসপাতালে যেতে মানা করে দাও। তাদের জন্য নাকি হাসপাতালে জায়গা হয় না! সমস্যা সমাধান!
শুনতে হাস্যকর মনে হলেও, শেষের দুইটা ছাড়া বাকিগুলো সত্য। এদিকে একজন মেয়র এমনও বলেছে, বিদেশিদের জন্য নাকি রাস্তায় হাটা যায় না। বিদেশিদের কাছ থেকে রাস্তায় চলাচলের জন্য আলাদা করে টাকা নেওয়া দরকার!
ভাব দেখে এমন মনে হয়, এই সরকার বিদেশিদের কোলে তুলে নিয়ে রেখেছে। বিদেশিদের কাছ থেকে ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, ভ্যাট বা পেনশন কিছুই নেয় না। তাদের শুধু চুমু দিয়ে এই দেশে রেখে দিয়েছে! অথচ সত্যি হলো, প্রতিটি বিদেশি তার সমস্ত দায়িত্ব পালন করেই এখানে বসবাস করছে।
তারপরও প্রায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল ধরার আগেই মনে হয়, এই বুঝি আজ আবার নতুন কোনো নিয়ম এলো, অথবা আগের নিয়মটাই বদলে দিল! কী অদ্ভুত!
অথচ তাদের অন্যতম বড় সমস্যা হলো "এজিং পপুলেশন", "লো বার্থ রেট", "লো ম্যারেজ রেট" এবং "হাই ডিভোর্স রেট"। এমন চলতে থাকলে আগামী ১৫ বছরে এদের ৪০% ব্যবসা-বাণিজ্য কর্মীর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়বে। হোটেল বা কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করার জন্য লোক থাকবে না। এই দেশের বয়স্ক মানুষদের সেবা করার জন্য লোক থাকবে না। সেদিন মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হবে।
আর তখন তাকাইচির মতো প্রধানমন্ত্রী বুঝবে, ১০০টা সমস্যার ১টাই সমাধান, বিদেশিদের সঙ্গে গুতাগুতি করে তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া, এটা আসলে ভালো করেছে, নাকি খারাপ করেছে!
বিল্লাল হোসাইন
টোকিও, জাপান