06/05/2026
না আজ মনে হয় বাড়ি ফেরা হবে না শিবুর, বড্ড জোরে বৃষ্টি পড়ছে সাথে আবার কালবৈশাখী। সরকার থেকে যে ঘরটা করে দিয়েছে শ্মশানযাত্রী দের বিশ্রামের জন্য সেখানে শিবু আর ওর সাগরেদ বসে পড়লো, এই আবহাওয়ায় একটু সূরা পান না হলে চলে না। বাড়ি না ফিরতে পারা নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই শিবুর, বাপ্ মা মরা ছেলে, ছোটো বেলা থেকে ছিঁচকে চুরি, মুট বউয়া, চায়ের দোকান ইত্যাদি কাজ করে শেষ মেশ এই মড়া পড়ানোটাকেই নিজের পেশা বানিয়েছে। আপন বলতে কোনো কালেই তার কেউ ছিলো না, তাই শোক তাপ প্রেম মমতা ওশরীরে নেই। মানুষের মৃত্যু তে তার আনন্দ হয়, হবে নাই বা কেনো,একা শবদাহ করতে পারলেই তো দু তিন দিনের খাবারের যোগান হয়ে যাবে। নেহাত গত বছর পাশের বাড়ির হারু কাকা মরার পর পাড়ার লোক জোর করে শিবুর বিয়ে দিয়েছিলো তার মেয়ে চুমকির সাথে, তাই বিয়ে টা করেছে নইলে ওইসবের দিকে ওর কোনোকালেই ঝোক নেই। চুমকির প্রতি ও যে খুব দরদ তা নয়, বাড়িতে আছে তাই থাকে, দুবেলা রেঁধে খেতে দেয় এতে শিবুর ভালোই হয়, হাতপুড়িয়ে রাঁধতে হয় না, শিবু হলপ করে বলে যে,ওর ওসব ভালোবাসা টাসা নেই, মরা-মদ আর জুয়া নিয়েই ও খুশি আছে।কথাটা যে খুব ভুল বলে তা নয়, মাঝে মধ্যেই রাতে একগলা মদ গিলে চুমকির গায়েও হাত তোলে শিবু।তাই আজ রাত টা এই শ্মশানে থেকে যেতে তার কোনোই সমস্যা নেই।
রাত ফুরোলে খানিক বাজার নিয়ে বাড়ি ঢোকে শিবু, বৌকে হুকুম দেয় ঝাল ঝাল করে চুনো মাছ টা রাঁধতে কিন্তু কি ব্যাপার বউ এর গলায় সারা নেই কেন? ঘুমাচ্ছে নাকি এতো বেলা অবধি? রাগ মাথায় ওঠে শিবুর। ভেতরের ঘরে ঢুকে দেখে বউ পেট ধরে শুয়ে আছে, কি হয়েছে জানতে চাইলে নিচু গলায় জানায় অসহ্য যন্ত্রনা পেটে।রাগ আরও বেড়ে যায় শিবুর, ও কোনোদিন ছুঁয়েও দেখেনি চুমকি কে তাহলে এই মেয়ে নিশ্চই...ছিঃ ছিঃ ছিঃ...
রাগে গজরাতে গজরাতে গ্রামের হাসপাতালে নিয়ে যায় বৌকে,ডাক্তারবাবু কি বলে সেই শুনে একটা হেস্ত নেস্ত আজ করেই ছাড়বে। কিন্তু ডাক্তার কিছু না বলে শুধু রক্তপরীক্ষা দেয় কটা, বাড়ি ফেরার সময় হাসপাতালেই রক্ত দেওয়া করিয়েছে বৌয়ের, আগামীকাল রিপোর্ট দেবে। রাতেই গেলাসে চুমুক দিতে দিতে শিবু ঠিক করে ফেলে এটাকে কালই বাড়ি থেকে দূর করে দেবে,কি কুক্ষনে যে বিয়ে করলো পারার লোকের কথায়, এইসব ভাবতে ভাবতে রাত কেটে যায়। পরদিন হাসপাতালে গেলে বড়ো ডাক্তার শিবুকে জানায় তার বৌয়ের দুটো কিডনিই নষ্ট, কোনো ভাবে একটা কিডনি বদলাতে পারলে বেঁচে যাবে চুমকি।এর মধ্যেই শিবুর সাগরেদ তাকে এসে জানায় আজকে পাশের গ্রামে বাউল মেলা আছে বিরাট বড়ো মোচ্ছব, খানা পিনা সব একদম জবরদস্ত হবে। শিবু ও নেচে ওঠে, দুজন মিলে এক প্যাকেট বাদাম আর দুটো বোতল নিয়ে রওনা দেয় মেলার উদ্যেশে। সন্ধে নামতে গেলাস ভোরে ওঠে লাল জলে, কিন্তু আজ শিবুর গলা দিয়ে নামছে না তার অতি প্রিয় পানিয়। দু পাত্র খেয়ে বাকিটা সরিয়ে রাখতে রাখতে সে ভাবে আগের মাসে যখন শহরের ডাক্তার সবাই কে চেক আপ করার ক্যাম্প করেছিল সেখানে সে জেনেছিলো তার শরীরে কোনো রোগ নেই, না আর মদ খাবে না ও, নিজের ই একটা কিডনি দিয়ে দেবে মুখপুড়ি টাকে, মুখপুড়িটাই যদি না থাকে চুনো মাছের ঝাল রাঁধবে কে, আর কার ওপরই বা রাগ দেখাবে,বাঁচাতেই হবে চুমকি কে, বাঁচতেই হবে একসাথে।
পাশের মঞ্চে গান বেজে ওঠে,"তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা মন জানোনা"।
✍️- Subham piplai da
🎨- me