25/07/2026
টানা ৩ বছর এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি! তারপর একটা মাত্র ব্রত বদলে দিল পুরো রাজ্যের ভাগ্য। কী সেই অলৌকিক গল্প? জানেন কি, কেন আগামী ৪ মাস কোনো শুভ কাজ বা বিয়ে করা নিষিদ্ধ? এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোন অলৌকিক রহস্য?
‘দেবশয়নী' শব্দের অর্থ হলো—'ঈশ্বরের নিদ্রা'। বিশ্বাস করা হয়, এই বিশেষ দিন থেকে ভগবান শ্রী বিষ্ণু ক্ষীরসাগরে শেষনাগের শয্যায় আগামী চার মাসের জন্য যোগনিদ্রায় মগ্ন হন। এই চার মাসের সময়কালকে বলা হয় 'চাতুর্মাস্য'। যেহেতু পালনকর্তা স্বয়ং নিদ্রায় থাকেন, তাই এই চার মাস বিয়ে, পৈতৃক কাজ বা গৃহপ্রবেশের মতো শুভ ও মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং মানুষ আধ্যাত্মিক সাধনা ও আত্মসংযমে ব্রতী হয়। চার মাস পর কার্তিক মাসের প্রবোধিনী একাদশীতে ভগবান আবার জেগে ওঠেন।
ভবিষ্যোত্তর পুরাণ অনুযায়ী, সত্যযুগে মান্ধাতা নামে এক পরম ধার্মিক ও প্রজাবৎসল রাজা ছিলেন। তাঁর রাজ্যে প্রজারা অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে বসবাস করত। কিন্তু একবার এক ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো—রাজ্যে টানা তিন বছর কোনো বৃষ্টিপাত হলো না। চারিদিকে দেখা দিল তীব্র খরা, দুর্ভিক্ষ এবং হাহাকার।
প্রজাদের এই কষ্ট দেখে রাজা মান্ধাতা অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। তিনি এর সমাধানের খোঁজে নিজের সৈন্যসামন্ত নিয়ে বনের দিকে রওনা হলেন। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি পৌঁছালেন মহান ঋষি অঙ্গিরা-র আশ্রমে। রাজা ঋষিকে প্রণাম করে রাজ্যের এই দুর্দশার কথা জানালেন এবং এর থেকে মুক্তির উপায় জানতে চাইলেন।
ঋষি অঙ্গিরা ধ্যানমগ্ন হয়ে রাজাকে বললেন, "হে রাজন! আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি অত্যন্ত পবিত্র এবং ফলদায়ী। এই একাদশীর নাম দেবশয়নী একাদশী। তুমি সপরিবারে এবং প্রজাদের সাথে নিয়ে পরম ভক্তিভরে এই একাদশী ব্রত পালন করো। এর প্রভাবে তোমার রাজ্যে অবশ্যই বৃষ্টি হবে, খরা দূর হবে এবং প্রজারা আবার সুখ-শান্তি ফিরে পাবে।"
ঋষির পরামর্শ অনুযায়ী রাজা মান্ধাতা রাজ্যে ফিরে এসে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দেবশয়নী একাদশীর উপবাস ও পুজো সম্পন্ন করলেন। ব্রতের পুণ্যপ্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলো এবং মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। চারিদিক আবার সবুজ হয়ে উঠল, খরা ও দুর্ভিক্ষ দূর হলো এবং পুরো রাজ্য আবার আগের মতো ধন-ধান্যে ভরে উঠল। সেই থেকে সুখ, সমৃদ্ধি এবং ভগবানের কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে এই ব্রত পালন করা হয়ে আসছে।
😀