15/09/2021
সেদিন আচমকাই তুলেছিলাম ছবিটা !!
তারপর অতোটা ভেবে দেখিনি যে ছবিটা ফ্রেমবন্দি করা যেতে পারে। একদিন দুপুরে গ্যালারী ঘাটতে ঘাটতে ছবিটা চোখে পড়ে। দেখলাম ভালোই এসেছে তো , তাহলে ছবিটা বাঁধাতে দেবো। বাবাকে ছোট্ট একটা সারপ্রাইজ দেওয়া যেতেই পারে।
আসলে সত্যি কথা বলতে কি , বাবা ছবি তুলতে খুব অপছন্দ করে। আমি জোর করে টেনে এনে ছবি তুলি ,তাও খুব বিরক্ত হয়। শেষমেষ তোলার পর ছবিটা দেখি একদম ভালো আসেনি, কেঁপে গেছে নাহলে চোখ বন্ধ হয়ে গেছে l আমি বলে নয় , আজও অবধি যাঁরা ছবি তুলতে চেয়েছে বাবার সাথে তারাও একই কথাই বলেছে।
জানিনা কেন তুলতে চায়না !! উত্তর আমার কাছে অজানা !!
বাবা বরাবর সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। ছোটো থেকে আজও অবধি আমি এটাই দেখে আসছি। নিজের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসটিও কিনতে দেখিনি। মন চাইলেই কোনোদিনও সবচেয়ে দামী প্যান্ট, জামা টা আমরা বাবাকে পড়াতে পারিনি। যেটুকু না হলেই নয়, সেটুকু নিয়ে চলে। আমি বড়ো হবার পর জেদ ধরে সবকিছু করাই। তাও অনেক বকা ঝকা দিয়ে। ঠাকুমা, মা আজও অবধি যা পারেনি তা কিছুটা হলেও আমার দ্বারা হয়। আমাকে খুব একটা এড়িয়ে যেতে পারেনা। একটু আধটু ভয় পাই, জানে মামন খুব জেদী। যদি রেগে যায় তাহলে ও আবার মুড নিয়ে থাকবে। কথা বলাই বন্ধ করে দেবে । তাই কিছুটা চাপে পড়েও করে।
আসলে সত্যি কি !! কারোর দুর্বলতা কেউ জেনে ফেললে তা খুবই খারাপ। আমি হলাম বাবার দূর্বল জায়গা, আর সেই সুযোগ টা বেশ ভালোই কাজে লাগাই। তবে হ্যাঁ, সেই জায়গায় আঘাত করিনা কখনো বরং "দূর্বলতা" টা ভালো কাজেই ব্যাবহার করা হয়।
যাইহোক এবার আসা যাক মূল কথাতে....
সোমবার সকালে ছবিটি নিয়ে আসি। আপাতত ফ্রিজের উপরে রাখা ছিলো। সন্ধ্যায় বাবা মন্দির থেকে বাড়ি এসে, ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় চেয়ার এ বসে বেশ গল্প করছে জেঠুর সাথে। আমি সেই ফাঁকে উঠে এসে ছবিটি নিয়ে গিয়ে বাবার হাতে ধরিয়ে দিলাম। বাবার এক্সপ্রেশন টা ছিল দেখার মতোন। কী অবাক হয়ে দেখছিল !! হাসিটা বাহ্যিক ভাবে প্রকাশ না করলেও , ঠোঁট এর কোণে যে স্পষ্ট সেটা খুব ভালো বুঝতে পারলাম।
আমাকে বলছে, "কখন এসব করলি মামন ? কিছু টের পেলাম না যে! কি যে করিসনা তুই ।"
আবার জেঠু কে বলছে , " এ মেয়ে কখন কি যে করে !! কিন্তু ছবিটা খুব ভালোই এসেছে বল বড়দা ?"
হা হা হা... আমিও বুঝলাম খুব পছন্দ হয়েছে বেটার। কথাবার্তায় স্পষ্ট আনন্দের বহিঃপ্রকাশ।
কিছু চাওয়ার নেই তোমাদের থেকে। এভাবেই যেন ছোটো ছোটো বিষয় গুলোতে তোমাদের আনন্দ দিতে পারি। ছোটো থেকে কস্ট কী জিনিস তা বুঝতে দাওনি আজও অবধি। তোমাকে কোনোদিন ও আমার ভালোবাসার সীমানা বোঝাতে পারবো না বাবা। আমি জানি , আমার প্রবল অভিমানের কান্নার সুর তুমি শুনতে পাও। আমার আনন্দের উল্লাস তুমি বুঝতে পারো। আমার ব্যাথার ছটফটানি তুমি উপলদ্ধি করতে পারো। তোমার জন্য রাজি আছি নিজেকে হারাতেও। তোমাদের সুস্থতা আমার মনের জোর বাড়িয়ে দেয়। তোমাদের অসুস্থতা আমাকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। তোমাদের ভালো থাকা আমাকে স্বর্গ সুখ এনে দেয়।
আমাকে নিয়ে তোমার প্রতিদিন এর স্বপ্ন দেখা একদিন স্বার্থক হবেই হবে। তোমার রক্ত আমার শরীরজুড়ে, তাই তোমার মতোন তীব্র জেদ আমার ও আছে। হার মেনে নুইয়ে যাবার মেয়ে আমি নয়। তোমার মতন সৎ , বড়ো মনের আদর্শ মানুষ খুব কমই দেখেছি। আমি গর্বিত , আমি তোমার কন্যা। আমি তোমার মামন।
আমার চিরসবুজ বাবা হয়েও থেকে যেও।❤️