অন্বেষণ

অন্বেষণ জীবন মুখী কবিতা

21/07/2026

অনুভূতি

জীবনের দমকা বাতাসে হড়পাবানের উদ্দামতায় এলোমেলো পুরষের নৌকো ভাসে শুধু ভাসে।
মায়ের কষ্ট বুঝলে স্ত্রীর মায়ের রাগ
অবুঝ ব্যাটা ছেলে
আমার মেয়েটার জীবন নরক করে দিল।
স্ত্রীর মন রাখতে গেলে
মায়ের অভিমানী সুর
ছেলে টা হঠাৎ পর হয়ে গেল।

সংসারী হতে চাইলে সমাজ তকমা দেয় স্ত্রৈন
সমালোচক প্রতি বেশি দের উদাত্ত কটুক্তি
মেয়ে ন্যাকড়া ব্যাটা ছেলে কোন পৌরুষ নেই।

রঙচটা জামা ছেঁড়া জুতো মোটা ঘষা কাঁচে অস্পষ্ট দৃষ্টি
সন্তানের মধ্যে চরম জিজ্ঞাসা
বাবা আটপৌরে রয়ে গেলো।

স্কুলের থার্ড বেঞ্চের সেই বন্ধু টা চাকরকে নিয়ে
দু হাজারি ইলিশ মাছের শরীরে হাত বুলিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলে
কিরে কি কিন্তু?
তারপর চড়া গলায় সুখ্যাতি করে বলে

তুই সেই বোকা রয়ে গেলি আজীবন
ছাপোষা নীরব ভালো ছেলে।
না কেউ খোঁজ নেয়নি

আমার নিজের অভিমান ভালো মন্দ সুখ দুঃখের অনুভূতি থাকতে পারে।
আমি চুপি চুপি হাসি।
জীবন স্রোতের মাঝে শুধু দাঁড় টানি।

আমার নীরবতা শুধু বলে সকলের শুভ হোক।
আমি বেশ আছি। 😀

সুজয়শঙ্কর পান্ডে✏️
২১শে জুলাই ২৬

11/07/2026

দূরত্ব

শেষ বিকেলে জবূথবু শীতে
হিমেল হলুদের অবসন্নতা য়
পার্কে বসে আমি আর আমার বার্ধক্য।
আমরা কেউ কাউকে একটুও পছন্দ করিনা।

তবুও একসাথে থাকি রজত জয়ন্তী পালনকরা দম্পতির মতো।
না সুখী না দুখী শুধু আছি সমবেত হয়ে এই প্রত্যয় নিয়ে।

পৃথিবীর গন্ডি এখন ছোটো।
সকলেই আমরা অন্যের কাছে কিছু পেতে চাই।
সময় বলে দেয় বেলা অবেলা কালবেলা য় কিছু দেওয়া র নেই।
তাই ডাক গুলো উপেক্ষিত হয় সযত্নে।
এখন আমি না প্রয়োজন না প্রিয় জন
একটা নিরালম্ব উপস্থাপন।
অন্ধকার নামছে জলের উপর
আমার জায়গা ক্রমশঃ সরে যাচ্ছে।

ও হয়তোবা অভিমানে দূরত্ব বাড়াতে চায়।
কারণ আমার কিছু দেওয়ার নেই।

সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১১ই জুলাই ২৬

10/07/2026

মূল্যায়ণ

অনেকে দেখা হলে প্রশ্ন ছুঁড়ে কৌতূহলী চোখে চোখ রেখে বলে
কেমন আছেন??
উত্তর টা সযত্নে কিশোরী মেয়ের প্রথম আলতাপড়া নিটোল না ভেজা পায়ের মতো এড়িয়ে যাই।
ভালো আছি বললে মিথ্যা চার
না আছি বললে সময়কে অবমাননা

এ বয়সে এর উত্তরটা খুব কঠিন।

পৃথিবীর বৃত্ত টাকে ছোটো করে এনেছি
বিন্দু তেই লীন যখন হতেই হবে
বিস্তৃতি র কি প্রয়োজন।
একসময় প্রজাপতির মতো রামধনু🌈 রঙের খুব নেশা ছিল
এখন
আকাশ খুঁজিনা ।
🌳গাছের পাতা র আড়ালে ঝোপঝাড়ে জল ফড়িং হয়ে ঘুরে বেড়াই মাঠ থেকে মাঠে।
দৃষ্টি এখন চাইতে
রামধনু🌈 মানাবে কেন আমায়।

জীবন টা এখন সাপলুডো
আবেগ অনুভূতি অভিযোগ অভিমান
ধূপের মতো শুধু পোড়ায়
আমি বসে বসে শুধু তারা গুনি

এক দুই তিন চার
ওদের ভিড়ে মিশে যাবো একদিন
আবার ফিরে আসার প্রত্যাশায়। 😀😀

সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১০/০৭/২৬

07/06/2026

অভ্যাস

রোজ সূর্য ওঠে ফুল ফোটে নদী হাঁটে ফল ঝরে
আমরা কি কোনো দিন জানতে চেয়েছি ওদের ইচ্ছে অনিচ্ছেগুলো।
ভোরের মিঠা বাতাস মুখশুদ্ধির মতো আজান শোনায় অভ্যাস।

আমার জীবন নামাজ এক ই বৃত্ত।
ঘুম জড়ানো চোখে চলভাষে লিখি প্রত্যাশার বারুদ ভরে সুপ্রভাত
কিংবা
শুভ রাত্রি লিখে আত্মিক হয়ে ওঠার জাল বুনি
কিন্তু বহমান সময় মুচকি হাসে
আমি টাটকা মিথ্যে বলি
অভ্যাস।
ঘুম জড়ানো চোখে যখন চায়ের কাপে চামচ নাড়ি
তখন চারিদিকে শান্তি সুখী করার স্বপ্ন দেখায়।
দিন পুরাণে যন্ত্রনায় অস্থির হয়ে মুক্তি চাই।

আসলে ওটা ডাঁহা মিথ্যে
ওটা আমার অভ্যাস।

মনে মনে বিরাগী হবার ইচ্ছে প্রবল হয়
আশপাশের সবকিছু বিরক্ত লাগে
যারা ছেড়ে চলে গেছে তাদের প্রিয় জন্য ভাবি
ওটা ও একটা বিচ্ছিরি অভ্যাস।
কারণ সদর দরজায় তিনটে তালা মেরে প্রতি বেশি কে হেসে বলি
একটুখানি দেখো ভাই আমি আজ রাতে ফিরবো না।
ওটা আমার জীবনের শৃঙ্খলা অভ্যাস।
হয়তোবা জীবনের শেষ ক্ষণে কাঁচের ঢাকা গাড়িতে জীবনের ওপারে গিয়ে
বিধাতা কে ঝকঝকে মিথ্যা বলে বসবো
স্যার
জীবন পথে খুব জ্যাম ছিল
তাই আসতে একটুখানি লেট হয়ে গেলো।
ভেরি স্যরি।
আসলে এটা ও একটা অভ্যাস 😀😀😀😀😀

সুজয়শঙ্কর পান্ডে✏️
০৭/০৬/২৬

05/06/2026

মধ্যবিত্ত

সারা দিন বাবা কে দেখি মাথা গুঁজে কাজ করে চলেছে।

বোবা কালা বধির আদ্যিকালের স্টিম ইঞ্জিন।
ফুক ফুক করে বিড়ির ধোঁয়া ছেড়ে ঢকঢক করে দু গ্লাস জল গিলে আবার কাজ কাজ কাজ।
বিরক্তি তে বলি মাঝে মাঝে আশ্চর্য।

না কোনো তাপ উত্তাপ দেখিনি তার মধ্যে।
বিড়ি ফোঁকা নিয়ে কত ওজর আপত্তি বকাঝকা চিৎকার মান অভিমান
কিন্তু বাবা নির্বিকার নির্লিপ্ত বাঁকা তালগাছ

নুইয়ে পড়ে কিন্ত্ত শুয়ে পড়তে দেখিনি কখনও
আমার বাবা মধ্য বিত্ত আমার অহংকার।

একটা অন্ধকার স্যাঁতস্যাঁতে ছাপাখানা য় কাজ করে।

রাত থাকতে মা উনুন জ্বেলে মা ভাতা আলু সেদ্ধ রাঁধে।
যত্ন করে তিনটে রুটি তরকারি গুছিয়ে দেয়। সেই রঙচটা জামা আর কালো রঙের প্যান্ট পড়ে ছেঁড়া চপ্পল টা পড়ে বেরিয়ে যায়।
আড়াল থেকে দেখি মা র গানটি ছুঁয়ে বলে আসি
লজ্জায় মা আরও নিবিড় হয়।
কপালে হাত জোড় করে বলে দুগ্গা দুগ্গা
বাবার গোল মরিচের মতো কদম ছাঁটচুল
চোখের নীচে গাঢ় কালি
ঠোঁট জুড়ে নিঃশব্দ হাসি
আমার বাবা মধ্য বিত্ত আমি খুব ভালো বাসি।
আমি এখন একটা চাকরি করি
তবুও কয়েকটা ডিম একটু দুধ দুয়েক টা ফল এনে মাকে চুপি চুপি বলে
খুকি খুব খাটে ওকে একটু টিফিন করে দিও
বেচারা খুব খাটে।
চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে।

সময় গড়াচ্ছে।
মায়ের শরীর ভাঙছে। ভালো মন্দ নিয়ে লড়াই করছে।
বাবাকে দেখি চুপচাপ বসে থাকে
কিছু ভাবছে
কিন্ত্ত চোখ মুখে কোনো অস্থিরতার ছাপ নেই।

গলি দিয়ে যেতে যেতে কানে আসে বাবা র কথা
তার ছেলে বেলা বেড়ে ওঠা দুপুর
তার সংসার আমার বেড়ে ওঠা ঝলমলে বিকেল
আজকের বাবার নির্বিকার গোধূলি

মেরুদণ্ড টা অভাবে আজও ভাঙেনি।
ঝুঁকে পড়া শীর্ণ শরীরের কলকব্জা আজও নিবিড়
আশ্চর্য
আমি সকলের মতো আজও বুঝতে পারিনি।
আমার বাবা হয়তো মধ্যবিত্ত
আমার গর্বিত ভবিষ্যৎ।

সুজয়শঙ্কর পান্ডে✏️
০৫/০৬/২৬

19/05/2026

ভালো বাসার💘 খোঁজ

পাখির পালকের মতো পেলব
নাকি ফুলের সুবাসে র মতো ছোঁয়াচে
কিংবা কালো দিঘির জলের মতো কাকচক্ষু
মরুভূমির তপ্ত উষ্ণতা খালি খুঁজছি।

ভালো বাসার মধ্যে সম্পর্কের গন্ধ থাকে
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দেওয়া নেওয়া
যার নাম পরম্পরা নির্ভরশীল তা
প্রেমিকা প্রেমিকা আবেগে বলে মনসুর

গুরু শিষ্য ভালো বাসার মধ্যে আছে বিশ্বাস ভরসা
সাফল্যের রসায়ন
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চায় বাকহীন আনুগত্য
সমাজ খোঁজ করে নৈতিকতা র পাঠ।

বাবার চোখে ভালো বাসার অর্থ
নিবন্ধিত শৃঙ্খলা কুলের মুখ রাখার শপথ
ভাইবোনের খুনসুটি মান অভিমান
বাড়ি ওয়ালিদের কাছে কাজের লোকের নমনীয়তা।

গোলকধাঁধার পৃথিবীর কাছে ভালো বাসা
মেঘ বৃষ্টির সম্পৃক্ততা সূর্যতাপ আর শুকনো পাতা মাটির সাথে নীরস মহামারী
ভিখারি র পেটের জ্বলন।

এত কাঠখড় পুড়িয়ে ও পায়নি নির্লিপ্ততা
হতাশ যখন সামনে দাঁড়িয়ে মা।
গনগনে আগুনে লালচে মুখ কপালে ঘামের ছাপ
থালায় সাজানো মুখরোচক খাবার

মা
ভালো বাসার সমার্থক সমারোহ
জ্যামিতিক রেখায় দুই রেখার যোগ সূত্র
নিঃশর্ত নিঃস্বার্থ আত্মসমর্পণ।
কাঁচা ভাতঘুমটা ভেঙে গেলো।

পিচঢালা রাজপথে বাস চলেছে
আমার গন্তব্যে
মনে ফূর্তি র আতশবাজির রোশন
আমি খুঁজে পেয়েছি প্রশ্নোত্তর।

সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১৯/০৫/২৬

18/05/2026

প্রাপ্তি

শেষ বিকেলে লেকের ধারে
রঙচটা আদ্যিকালের ভাঙা লোহার বেঞ্চে বসে।

পাখি গুলো এমন বজ্জাত বিষ্ঠা ত্যাগ করে আরাম কেদারা টার হাল করেছে
সত্তরের পরিপাটি করা চুলের বাহার।

হঠাৎ পরিভ্রমণ কারিনী এক আধুনিকা
এসে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন সৌজন্য ছাড়াই

আপনি বাবু স্যার না!?
সাহিত্য পড়াতেন

হেসে বিনম্র প্রত্যুত্তর ফিরিয়ে দিলাম
পড়াতাম নয় আজকেও ছাত্রছাত্রীদের সাহিত্য পড়াই ভালো বেসে যত্ন করে।
আগু ন্তুক বোধহয় একটু লজ্জা পেলেন।
আমাকে চিনতে পারছেন??
বললাম মামন
পোষাকিনামটা মনে নেই।
আমার দেওয়া নামটা মনে আছে
জলঘড়ির

এই প্রথম মাথা টানুয়ে ধুলো মাখা পা দুটো হাতের স্পর্শ পেল।
সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা ষোড়শী কিশোরী টি কেবল
প্র ণাম করো আমার মাস্টার মশাই।

ভোটের লাইনে মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মা হঠাৎ বললেন
ওই দেখ বাবু স্যার দাঁড়িয়ে আছেন।
একটা লজ্জা বোধ থেকে সেদিন ছুটে গিয়ে বলতে পারিনি কেমন আছেন?

একটা অপরাধ বোধ জড়িয়ে ছিল আমায়।
শেষ ক্লাবটি করে আসার পর
কুড়িটাবছরে বলতে পারিনি
আমি কিন্তু স্যার সাহিত্যে টপ করেছি আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে।

মৃদু হাসলাম
রসিকতা করে বললাম জলফড়িংয়ের
এখন জেদিঅহংকারের ছাই চাপা আলাদা রয়ে গেছে।
সূর্য ডুবে গেছে অনেক ক্ষণ
চারিদিকে ঝুপোঝুপো আঁধার নামছে।
ফোন নম্বর দিয়ে বললো
আসবেন আমি এখন আপনার বাড়ির দুয়ারে।

বাবা চলে গেছেন হঠাৎ গতবছর।
আমি ও একা।
তাই মেয়ে কে নিয়ে আছি মায়ের বাড়িতে।
জলফড়িংয়ের সেই আদুরে স্বর
মা বলতেন একদিন বাবু স্যার কে নিয়ে আসবিজোড় করে।
পেটপুরে পায়েস পিঠে খাওয়া বো।

সঙ্গী মেয়েটা এমন খিলখিল করে হেসে উঠলো
মনে হলো জলফড়িংয়ের দল
এখনও হাসে
পরিচিত পরিবেশে।

সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১৮/০৫/২৬

16/05/2026

আজবকাহানি

চারিদিকে আলোররোশনাই
ঢাকঢোল ধূপধুনোর গন্ধে মা আলোড়িত।
গদগদ কর্তা বাবু গরমের ধুতি পাঞ্জাবি পরে চক্ষু মুখে মাকে ডাকছেন

না মানে মাতৃচরণে আত্মস্থ হয়েছেন।

বাইরে কাঙালিদের গজলা গুঞ্জন ঘোঁটপাকানো
বাবু আজ অন্ন বস্ত্র কাঞ্চন দান করবেন।
চোখে পড়লো কাঁচা পাকা দাড়ি ওয়ালা

এক বৃদ্ধের ঠিক ভিখারি বলা চলে না।
চোখে মুখে বিরক্তি ঘেন্না মেশানো ক্ষোভ।

এ বাড়িতে আমার যাতায়াত একটা সূত্রে ।
সে অর্থে আমি কৃপা প্রার্থী আমন্ত্রিত।
লোক টা আমাকে ডেকে কর্তার পরিচয় জানতে চাইলে।
আমি ও উদারতার তামুকে কর্তার গুণ কেওন করলাম।
লোক টা হাসলো।

উনাকে চেনেন বটে।
পঁচিশ বছর আগে যখন এটটুকুন ছিল
কোলে পিঠে করে মানুষ করেছিল।
রক্তে র কেউ না
প্রতি বেশি রাখালের ব্যাটা যতন।
জ্যাঠাবাবু বলে ডাকতো।
সেয়ানা হলো আপন হলো।
জমি জমা বসতবাড়ি রাখতে হবে পাকাপোক্ত ভাবে
এই বিশ্বাসে বিষ মাখানো তিরগুজে দিল পাঁজরে।

রঙচঙে কাগজে কালো হিজিবিজি অক্ষরে
বুড়ো আঙুলের নীল ছাপে
ভোকাট্টা হয়ে গেলো তেপান্তরে।

ছোটাছুটি হলো সকাল সন্ধে মুখে গাঁজা তোলা গাধার মতো।
সরকারি বাবুরা বুঝিয়ে দিল ব্যাটা আমায় সংসার থেকে ছুটি করে দিয়েছে আমার ইচ্ছা য়।

তারপর গাঁয়ের নদী দিয়ে বয়ে গেছে কতজল।
ব্যাটা আমায় চিনতে পারিনি
দারোয়ানের লাল চোখ এড়িয়ে তাকে দেখা হয়নি।

চারিদিকে ঢাকঢোল কাঁসরঘন্টার শব্দে জড় দেবী মা
অসহায় ছেলে র কান্না সে শোনে না।
ঐশ্বর্য মেকি হাটে বাবু কল্পতরু।
অন্ন বস্ত্র বিলিয়ে ভিখারি র সেলাম কুড়োচ্ছেন।


সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১৬/০৫/২৬

14/05/2026

নজরবন্দী

অনেক দিন হয়ে গেলো আমি ছাড়া পাইনি।

অজ্ঞাত কারণে অসুস্থ হ ওয়ার অপরাধে
বাড়ির লোক জোর করে ভরে দিয়ে গেছে
এই নীল সাদা আকাশচুম্বী বাড়ি টাতে
সরকারি তকমা হাসপাতাল।

দড়ি ছেঁড়া বাছুরের মতো গুঁতো গুঁতিকরেছি অনেক
লাভ হয়নি একটা
আমার ব্যাধির ফিরিস্তি লম্বা
তাই নজরবন্দী।
চৌখুপী ঘরে লোহার খাটে নিরাভরণ আমি
রোজ বিকেলে জানলা দিয়ে আলাপ জমাই সবুজের সাথে।
মন খারাপ হলে শুয়ে থাকি একলা।

পরিযায়ী অনেকে আসে আমার মতো অপরাধ নিয়ে
কিছুদিন থাকে টকমিষ্টি আলাপচারিতার ফাঁকে
ফুড়ুত করে চড়াই পাখির মতো পালায়।
হাসিমুখে বলে
আসি দাদা "ভালো থাকবেন"।
ভালো থাকি কি করে
আমার ঘর ছেলে মেয়ে আমার পোষা বেড়াল
গিন্নি র হাতের কষা মাংস মোচা দিয়ে চিংড়ি
সেগুলো বড় টানে আজকাল।

গোঁফ ওয়ালা পেটমোটা একজন আসে সপ্তাহে একবার।
অল্পবয়সী মেয়ে র মতো নার্স গুলো র সাথে
ফিফার করে চলে যায়।
খালি ঘাড় নাড়ে
ভগবান বোধহয় হাসতে মানা করেছেন।
উৎসাহী মন আকুল ভাবে মেয়ে গুলো কে প্রশ্ন করে
আমার ছুটি হয়নি?????
স্মিতহাস্যে চলে যেতে যেতে শুধু বলে
না কাকু
আপনি নজর বন্দী। সত্যি আমার
আজকে ও ছুটির
নোটিশ আসেনি 😇😇😢😢।

সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১৪/০৫/২৬

11/05/2026

মা দিবস
জীবনের ধারা পাতে
কতজন এলো গেলো
সম্পর্কে র চড়াপারফিউমের স্নিগ্ধতা বা উগ্ৰ তায়
একটা রোদপোড়া গন্ধ আড়াল থেকে উঠে আসে
বারবার
হাজারো লক্ষ বার
মায়ের গায়ের গন্ধ।
মা আজ নেই
কতদিন হলো হিসেব করলে বুঝি
আড়াই হাজার বছর হবে
হ্যাঁ শিশুদের কাছে
মায়ের গুণিতক নেই🤔🤔।

কাকিমা জেঠিমা মাসিমা পিসিমা শাশুড়ি মা
মায়েদের ভিড়ে মুচকি হাসে নাড়ি মা
আমার ভ্রুণ মূল।
ছেলে বেলায় পিঠে পুলি চুরি করে মিথ্যে দোষ দিতাম বোনটাকে
মাঝরাতে ঘুম ভাঙিয়ে মা ফিসফিস করে বলতো
খোকা খেয়ে নেয়
দুখান তোর বাবার ভাগ থেকে সরিয়ে রেখে ছিলুম।
শরীরী না অশরীরী কাঁপা ভিজে বৃষ্টির গন্ধে
মা আসে প্রায় দিন শেষ রাতে।
সেই নাড়ির স্পর্শ সেই হাতের হিমেল গন্ধ।

জীবনের অদৃশ্য পাতায় বছরে একটা ঢ্যাড়া পড়ে।
জানিনা কবে যাবো মা র কাছে।
তবুও রোজ শুনি কন্ঠ্যধ্ব নি
খোকা
উঠে পর বাপ সূর্যি যে তোর আগে উঠে গেলো।

সুজয়শঙ্কর পান্ডে
১০/০৫/২৬

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অন্বেষণ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category