Sujit Mondal Writes

Sujit Mondal Writes Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sujit Mondal Writes, Poet, sarsuna, KOLKATA.

সুজিত মন্ডল
লেখায় খুঁজি জীবনের রং, অনুভবের কণ্ঠস্বর। কবিতা, গল্প আর শব্দের যাত্রায় নিজেকে আবিষ্কার করি প্রতিদিন।
পেশায় একজন শিক্ষক ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষক—তবে ভালোবাসি ভাবনার জগতে ডুবে থাকতে।
📍প্রতিষ্ঠাতা: Global Computer and Cultural Academy

27/07/2026
কবিতা সংকলনবিশ্ব শান্তি--------------------------------------------------------------------------আনন্দসুজিত মন্ডলআজ আকাশ...
27/07/2026

কবিতা সংকলন
বিশ্ব শান্তি
--------------------------------------------------------------------------
আনন্দ
সুজিত মন্ডল

আজ আকাশে কি আনন্দ,
আজ আকাশে কি আনন্দ।
চারিদিকে মেঘের খেলা,
বাতাসে বাতাসে ছড়ায় ফুলের গন্ধ।
আজ আকাশে কি আনন্দ,
আজ আকাশে কি আনন্দ।

ওরে আয়রে সবাই
কাশের বনে, নদীর ঘাটে,
সেই খানেতে শালুক, পদ্মা, খুশি বাটে।
ছল ছলিয়ে যায় চলে, আপন মাঝি,
আয়রে সবাই আনন্দে কুসুম নাচি।
ছল ছলিয়ে যায় চলে, আপন মাঝি,
আয়রে সবাই আনন্দে কুসুম নাচি।

কতো রঙ ছড়ায়, খুশিতে ফুল বিকশিতে,
উৎসবে আনন্দ মোদের, নৃত্য, গীতে।
কতো রঙ ছড়ায়, খুশিতে ফুল বিকশিতে,
উৎসবে আনন্দ মোদের, নৃত্য, গীতে।

দেখি আকাশে বাতাসে, নতুন ছন্দ,
দেখি আকাশে বাতাসে, নতুন ছন্দ।
আজ আকাশে কি আনন্দ,
আজ আকাশে কি আনন্দ।

--------------------------------------------------------------------------
শরৎ
সুজিত মন্ডল

ফাগুনের দেশে, শরৎ এসে, দেখি নতুন ভুবন,
এসে মিছিল কবিতার, যায় জানিয়ে, মনময় কতো তার রঙ।
সন্দেশ নিয়ে উৎসবের, ডালি হাতে ফুলের,
শিউলি যেন কন্যা এক, আছে দাঁড়িয়ে আলুলায়িত কেশে।
চেনা এই পরিবেশে, কোমল কলমি, পেলব দূর্বা,
বহু দিন একসাথে, থাকে আত্মীয় হয়ে মিসে।
ভাবি আনন্দে, এমন করেই, চিরদিন, হয়ে
আত্মার আত্মীয়, থাকবে মানুষ, মানুষকে ভালবেসে।
চিরদিন, এসে চির নতুন, জেগে থেকে দেবত্ব মনে,
রবে অক্ষয়, পল্লবে পল্লবে জয়, সাধনার ক্ষনে ক্ষনে।
যেতে যেতে রাত, কোন এক ভোরে,
ডেকে ডেকে প্যাঁচা, যায় চুকে কোটরে।
পাখিরা ওঠে জেগে, সুরে সুরে যায়
প্লাবিত হয়ে পৃথিবী, ভৈরব রাগে।
এমন সুন্দর মুহূর্তে, হয় স্বর্গ ভুবন,
জোছনার পরশে, হয়ে ওঠে সংসার মন্দির,
নবীন উৎসাহে, হয় প্রস্ফুটিত, সকল প্রতিজ্ঞা,
কতো রঙে, থাকে হয়ে জগৎ রাঙা।

--------------------------------------------------------------------------
বিশ্বশান্তি
সুজিত মণ্ডল

প্রত্যেকটা ফুলের হাসি, বিশ্বশান্তির জানায় আহ্বান,
পেরিয়ে বিপন্ন অজস্র, বিদ্বন্ত ভূমিতে জন্মায় নতুন চারা,
বলে রোদুর, সৃষ্টির পৃথিবীর ছন্দ, হয় না দুর্যোগে স্থান।
প্রত্যেকটা ফুলের হাসি, বিশ্বশান্তির জানায় আহ্বান।
চেয়েছি বার বার তোমায় বৃষ্টি, বিশ্বশান্তির জন্য,
পারবো না থাকতে দৃষ্টিহীন হয়ে, এই মাটি বোবা নয় বলে।
গভীর ধ্যানমগ্ন জগতে, জীবের সেবায়, প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায়, রসদ -
মৃত্যুকার নিয়ে, খাদ্যের আশ্বাস প্রতিদিনের দিয়ে, যায় আদিত্য অস্তাচলে।
পারবো না থাকতে দৃষ্টিহীন হয়ে, এই মাটি বোবা নয় বলে।

মেঘের বার্তায় স্পষ্ট করেছি অনুভব, থেকে সুখে নয়নের গভীরের
পাতায় পাতায়, বিভোর হয়ে হর্ষে হয়েছি অবগত,
ছোট্ট তৃণর পৃথিবীর মুখ, আমায় চেতনায় চায়।
অনিঃশেষ অমৃতের সৃষ্টির ঋতুতে ঋতুতে, চায় না স্বত্তা মৃত্যুময় বিভীষিকা,
জাগরণ আমার, ফুলেরই মতো, দেবতার নয়নের নতুন পৃথিবীর,
ধ্বংস স্তুপের চন্দ্রালোকে, যায় না পাওয়া সুখের দেখা।
অনিঃশেষ অমৃতের সৃষ্টির ঋতুতে ঋতুতে, চায় না স্বত্তা মৃত্যুময় বিভীষিকা।

প্রতিদিন ভাস্করের জ্যোতি, ছড়ায় পৃথিবীতে শান্তির বাণী,
কলকল ধ্বনিতে, করে অবগত নদী, সূর্য কতো মহান দানি।
কোটি কোটি বৎসর বিষ নাশে, ফসলের আশে, প্রলয়ের উন্মাদনাকে -
মানিয়ে হার, বিন্যাসে বিন্যাসে শিকড়ের, যায় বয়ে সৃষ্টির জোয়ার।
রবির প্রকাশের আনন্দে, মৃত্তিকার দানে, বৃষ্টির ছন্দে ছন্দে,
চিরদিন সৃষ্টির সংহতি, কৃষ্টি, শিল্প, সাহিত্য, সাংস্কৃতির
আদান, প্রদান, গড়েছে যুগে যুগে, বিশ্বমানব প্রীতি।
ফুলের হাসির ন্যায়, পৃথিবীর শিশুদের হাসিতে হাসিতে, মেলে অপার শান্তি,
পুস্তক মেলার আকাশে আকাশে, ভালবাসার জ্যোৎস্না,
দেয় না জন্মাতে, অন্তরের পুষ্পের বাগানে, সঙ্কীর্ণতার দেনা।

--------------------------------------------------------------------------
আপন গুনে ভক্ত হয়েওঠে ভগবান
সুজিত মন্ডল

সারা জীবন আমার গেল কেটে
মন্দিরে পুজো করতে করতে।
কতো ভক্ত-বৃন্দ আসে মন্দিরে পুজো দিতে,
আসে ঠাকুর মম্দির দেখতে।
ভাল আছি আমি খুব,
নিত্য দেবতাকে প্রসাদ অর্ঘ্য করে নিবেদন,
প্রার্থনা মোর ঠাকুরের কাছে,
পারি যেন এভাবেই করিতে সেবা দেবতার, সারাজীবন।
এতো দিন মন্দিরে থেকে
কতো মানুষের সাথে হয়েছে পরিচয়,
এসেছেন তারা পুজো দিতে,
এসেছেন ভগবানের আশীর্বাদ নিতে।
এভাবেই কেটে গেছে কতো দিন
কতো বিশেষ তিথিতে, পজো অর্চনায় ভক্তি গীতিতে।
কতো মানুষের আছে কতো মনস্কামনা
আসে তারা পুজো দিতে
পুরন হলে মন-বাসনা।
আমিও আনন্দে যাই মিশে ভক্তদের সাথে,
ভাবি কতো মানুষ হন সমাগত
মন্দিরে মন্দিরে, দেবতার স্পর্শ পেতে।
মন্দিরে আগত ভক্ত-বৃ্ন্দের মাঝে,
কখন ভগবান ভক্তের বেশে আসে।
আমি তো চিনি না সবাইকে,
ভক্ত দেবতাকে, দেবতা ভক্তকে
অন্তর দিয়ে ভালবাসে।
একটু শান্তি পেতে, আসে মানুষ ভগবানের কাছে,
এতো জ্যোতি এতো আলো এতো আনন্দ
ভুবনে এই ভগবানের দান,
আপন গুনে ভক্ত হয়েওঠে ভগবান।

--------------------------------------------------------------------------
ছন্দ দাদু
সুজিত মণ্ডল

ও ছেলেরা মন দিয়ে শোন
তোরা কর মজা হরদম,
ভালো রাখার জন্য মন।
ও ছেলেরা মন দিয়ে শোন
বাজে কাজে দিসনাকো শ্রম,
পাস করে দেখা দেখি পরীক্ষায়,
তোরা নয় কিছুতে কম।
এমন করেই ডবুর দাদু
ছন্দে ছন্দে কথা বলে যায়।
শুনে সেসব কথা,
মজায় সবাই হেসে হেসে
লুটো পুটো খায়।
বলে দাদু ফুট বলের মাঠে
পারবি তোরা করতে গোল?
জানি, খেলতে নেমে মাঠে তোরা,
আছাড় খেয়ে খেয়ে, ধরবি শুধু ল্যাঠা, শোল।
পারবি তোরা মারতে?
ব্যাট হাতে, তিন বলে
তিনটে চার, কিনা ছক্কা,
জানি, সবতেই পাবি তোরা গোল্লা,
বৃথাই আমার তোদের সাথে বকা।
ভালোবাসে খেতে খুব
ডবুর দাদু সিঙাড়া।
কান তার এতোই ভালো
এক ডাকেতেই দেয় সাড়া।
থাকতে থাকতে দাদুর সাথে,
শিখে গেলাম আমরাও
বলা ছন্দে ছন্দে কথা।
পড়া না পারলে,
আন্টি কান ধরলে,
ছন্দে ছন্দে কথায় কথায়
থাকে না মনে ব্যথা।
--------------------------------------------------------------------------
অভিজ্ঞতা
সুজিত মণ্ডল

ছিল অনেক দিনের, স্বপ্ন আমার,
তোমার সাথে, সুখের ঘর বাঁধার।
দুজনের ভালোবাসার জোরে, এসেছি
পেরিয়ে, অনেক দুখের আঁধার।
ছিল অনেক দিনের, স্বপ্ন আমার,
তোমার সাথে, সুখের ঘর বাঁধার।

ভালোবাসো আমাকে, ভাবি আমিও,
তোমার মতো করে, চাই ফোটাতে প্রতিটি দিন,
ফুলের মতো করে, আমাদের সুখের ঘরে।
কতো আনন্দের দিন আজ, দুটি মন, একসাথে মিসে,
হয়েছে খুশি মন কতো, বাসা বেঁধে এই দুটি দেশে।
মনে হয় সুখ সকলই, আমার সংসারে,
নেই সুখ দুল, চুড়ি, হারে, সুখ সকলই, আমার সংসারে।

ঘটে কতো কিছু সংসারে, থাকতে থাকতে সংসারে,
হয় অভিজ্ঞতা, হয় সয়নিতে, নিরবে কতো ব্যথা।
হয়েছে এমনও, রেখে গোপন, অনেক কথা অন্তরে অন্তরে,
হয়েছে স্বামীর সাথে শুধুই সুখের কথা।
ঘটে কতো কিছু সংসারে, থাকতে থাকতে সংসারে,
হয় অভিজ্ঞতা, হয় সয়নিতে, নিরবে কতো ব্যথা।
ছিল অনেক দিনের, স্বপ্ন আমার,
তোমার সাথে, সুখের ঘর বাঁধার।

--------------------------------------------------------------------------
মা সরস্বতীকে প্রণাম
সুজিত মন্ডল

বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে প্রণাম জানাই
পৃথিবীতে তোমার আবির্ভাবে ভাবে মা শুভ্র জ্যোতির প্রকাশ দেখতে পাই।
শিশুরা ঘুমায় মাতৃ ক্রোড়ে নিশ্চিন্তে,
শাশ্বত শান্তি হয় স্থাপিত বিশ্বে, মাগো তোমার আশিসে।
জানবো পড়বো আরো শিখবো ভালবাসবো,
দৃঢ় সংকল্প জাগে মনে,
মায়ের আগমনের সাথে সাথে।
জিতবো আমরা প্রগতির সকল পথে,
সকল প্রতিবন্ধকতার সাথে সংঘাতে।
পুজো হবে, শিল্পকলার হবে প্রদর্শনী,
রয়েছি ব্রতী আমরা বছর বছর মায়ের আরাধনায়l
শিক্ষা শিল্পকলার মহামিলনের ক্ষেত্র
হয়ে ওঠে চিরদিন, মা সরস্বতীর আঙিনায়।
চির উন্নত হোক সব যুগ, শিক্ষার আশিসে জীবন বাঁচুক,
প্লাবিত হোক প্রাণ অনাবিল আনন্দের সৃষ্টি সুখ।
শিক্ষা শিল্প সৃষ্টির ভাব ধারায় আবহমান সত্তা
শিশুর ভাষার মতো বিকশিত হতে থাকুক।
সংগ্রাম করলে, কঠোর অধ্যবসায় হলে,
প্রতিনিয়ত অগ্রগতির জন্য লড়লে,
জানি হবে জয় একদিন নিশ্চয়।
থাকলে ইচ্ছা, সম্মুখে এগিয়ে যাবার,
শিক্ষার পথ সদা ডেকে লয়।

--------------------------------------------------------------------------
পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতি
সুজিত মন্ডল

আমরা সৌভাগ্যবান মহামানবের স্নেহের ছায়ায় পেয়েছি আশ্রয়,
তোমার পবিত্র আশীর্বাদে,
শিক্ষার সকল বাধা, দারিদ্রতা, স্বাধীনতাহীন দিন,
মঙ্গলের পথে পথে করবো আমরা জয়।
শিক্ষার আলো কখনই নেভে না,
ব্যথিত সত্তা করেযায় অবিরত সংগ্রাম,
দিতে মুছে পরাধীনতা,
শিক্ষাব্রতী চিরদিনই অন্যায় বাঁচতে দেবে না।
তোমার অপার করুণায়,
অন্তরের ভাষা পারি করতে প্রকাশ বিশ্ব-সংসারে।
বিশ্বময় রয়েছে ছড়ায়ে বর্ণের জ্যোতির কিরণ তোমার,
অবিরত শিক্ষার প্রসারে, বিকশিতর জগতে ভালবাসিবারে।
মনের ভাষা প্রকাশের আনন্দে, সৃষ্টির ছন্দে,
সুন্দর করে তোলে জীবন শিক্ষার আলোয়।
আদর্শ পথপ্রদর্শকের পথে,
সকল অগ্রগতিতে, দৃঢ় চিত্তে,
চলে এগিয়ে জীবন মানবের ভালোয়।
দেশপ্রেমিক চির দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আপন দেশের কাজে,
আমার দেশ হবে সার্বিক সাফল্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র, আর্দশ বিশ্বমাঝে।
তোমার ব্যক্তিত্ব আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে, চরিত্র কতো হয়েওঠে বলিয়ান,
দেশের কাজে উৎসর্গিত জীবন
পুজা সদা করে প্রাণ।

--------------------------------------------------------------------------
অবিনশ্বর চেতনা
সুজিত মন্ডল
অবিনশ্বর চেতনায় সবেতে আমি বিকশিত,
এই মহৎ কর্মে, চির নতুনভাবে পৃথিবীর আমি রুপ।
পুজো করি ঝরা থেকে পাপড়ির জ্যোতির্ময় মূর্তি,
প্রার্থনা থাকে সৃষ্টির বৃষ্টি, ঝরনা, উর্বরতা,
সুখ, শান্তির জন্য।
অক্ষরগুলো ইমারতের মতো সভ্যতার
সংগ্রামী পবিত্র মনের কথা, করে অবগত।
পাখির কলরবের সকাল, নতুন সূর্য চেনার জন্য,
লেখা থাকে, মাটি ছুঁয়ে থাকা মানবের অন্তরের নীড়ে।
ব্যর্থ মানুষ শিমুলের রঙে রঙে
উপহার সাজায়, সকলের জন্য।

--------------------------------------------------------------------------
অভিপ্সা
সুজিত মন্ডল

চেনা জগতের গন্ডি পেরিয়ে
অচেনা জগতে পাড়ি দেওয়া যার অভিপ্সা,
অসীম অনন্তকে জানার ইচ্ছে যার সহজাত,
অকূলে যে ভাসায় তরী, তাকে
বন্দি রাখার খাঁচা হয়নি তৈরি।
সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁধা, যাওয়া
যায় পেরিয়ে, মনের ইচ্ছে শক্তি দ্বারা।
পবিত্রতা, আদর্শের প্রতীককে, কোনদিনই
পারেনি রাখতে বন্দি কোন কারা।
পেরিয়ে শত বাধা, ফোটে যে
আলো, হয়ে জগতের ভালো, পারে
চিনতে ভুবন তারে, সে আলোর
সংগ্রামের ভাষায়, যায় মুছে যতো কালো।

--------------------------------------------------------------------------
উৎবের আনন্দ
সুজিত মন্ডল

আনন্দময় হয়ে ওঠে মন দুর্গা পুজো
এলে, খারাপ হয়ে যায় মনটা
পুজোর আনন্দের দিনগুলো চলে গেলে।
আবার কোনো উৎসবের অপেক্ষায় থাকি,
সামনেই সরস্বতী পুজো, পাড়ায় পাড়ায়
ইস্কুলে চলছে প্রস্তুতি তার জোর কদমে,
এখনো কিছুদিন আছে পুজোর বাকি।
আসবে তারপর রঙের উৎসব,
গাছে গাছে রঙের প্লাবনে, কোকিলের সুমধুর কণ্ঠের
নতুন ভুবনের জন্য, পাতা ঝরা দিনগুলোতে
বসন্তের আহ্বানে দেখি সাজ সাজ রব।
ভগবান শিব ও রাধাকৃষ্ণের পুজো উপলক্ষে,
চড়ক, গোষ্ঠ পাঁপড় ফুলুরি খাবার
খেলনা হরেক রকমের, মেলা বৈশাখ মাসে বসে।
মাঝে কিছু দিন থাকে অপেক্ষার, আসে আনন্দ আবার
ছোট বড় কতো রথ বেরোয় রাস্তায়,
কোথাও কোথাও বসে মেলা,
শিশুদের হাতে রথের দড়ি, উৎসবে যেন শিশুদের খেলা।
জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব আসে আষাঢ় মাসে।
গুনতে গুনতে দিন, এভাবেই
এসে যায় আবার দুর্গাপুজো আশ্বিনে।
ঠাকুর দেখতে যাব বলে, মা
আমার জন্য নতুন জামা কিনে আনে।
--------------------------------------------------------------------------

কবিতা সংকলনআদর্শ--------------------------------------------------------------------------সূচিপত্র১) আদর্শ২) মহামায়ার ভু...
18/07/2026

কবিতা সংকলন
আদর্শ
--------------------------------------------------------------------------
সূচিপত্র
১) আদর্শ
২) মহামায়ার ভুবনে
৩) মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা
৪) ভগবান যীশুর প্রতি
৫) সত্য
৬) মিছিল
৭) জয়ধ্বজা
৮) ভারত মাতার ঘর
৯) ভালবাসার ভাষা
১০) বিশ্ব মাতা
--------------------------------------------------------------------------
আদর্শ
সুজিত মন্ডল

ধনী মনেকরি নিজেকে আমি, ভারতের সন্তান
বলে, দেশকে সত্যিকারের ভালবাসি বলে।
জন্মেছেন কতো বীর সন্তান এদেশে,
চাই থাকতে বেঁচে ভালবেসে দেশকে,
চেয়েছি গড়তে জীবন, তাঁদেরই আদর্শে।
আমার ভারত স্বপ্নের ভারত,
সকল জাতি, শিক্ষা, সাংস্কৃতিকে করে সম্মান,
সম্ভার নিয়ে প্রতিভার, যুগে যুগে
অন্তহীন প্রতিভাবান, ভারতে উদীয়মান।
আমার দেশের সাংস্কৃতি, ছড়ায় পৃথিবীতে সৃষ্টির জ্যোতি,
সুখী আমি কতো, ভারতের পবিত্র মৃত্তিকায়,
আমার দেশের গনতন্ত্র, সকলকে আপন করতে শেখায়।
সংহতি, সম্প্রীতি, মৈত্রী, গনতন্ত্রের প্রতীক ভারতবর্ষ,
আমাদের কর্মের গৌরবে, ভারতবর্ষ বিশ্বে রবে হয়ে আদর্শ।

--------------------------------------------------------------------------
মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা
সুজিত মন্ডল

মানেুষের ভালো করার জন্য,
পিশাচের রোষে, হল যাঁকে পৃথিবী ছেড়ে
চলে যেতে, চায় জগৎ বৃক্ষের ছয়ার
মতো, আপনার করে তাঁকে ফিরে পেতে।
পরিবার, ভালবাসার কর্ম-স্থান, ছেড়ে যেতে
হল যাঁকে, যে মানুষটা হল বলি হিংসার,
আবার তিনি আসুক ফিরে পৃথিবীতে,
প্রার্থনা করি মায়ের এই মহাপুজায়।
মানুষকে ভালোবাসার মানুষই তো জগৎ চায়।
মানুষকে ভালবাসার মানুষ, দিলেন বুঝিয়ে,
ভাবেন যিনি মানুষের সুখের কথা,
মনে রাখে মানুষ চিরদিন, ভাবনা তাঁর।
আসেনা যেন আর জীবনে মাগো,
এমন যন্ত্রণাময় অধ্যায়ের গহন আধাঁর।
বহু সংগ্রাম করে জীবন দিয়ে, জাগিয়ে
গেলেন চেতনা যিনি, মহামানব তিনি।
সৎ মানুষ, চিরদিন পায় মানুষের পুজা।
নরকে পিশাচ পায় আজীবন সাজা।

--------------------------------------------------------------------------
ভগবান যীশুর প্রতি
সৃজিত মন্ডল

যুগে যুগে আসেন পৃথিবীতে দেবতা,
বুঝিয়ে দিতে মানব ধর্ম, বুঝিয়ে দিতে মানব কর্ম,
নিজের জীবনের বিনিময়ে, পেয়ে যন্ত্রণা কতো, পেয়ে কতো বাথা।
যুগে যুগে আসেন পৃথিবীতে দেবতা।

চিরদিন ওইভাবে, পারিনা দেখতে তোমায় প্রভু,
কষ্ট হয়, ব্যথিত হয়ে মন, তোমাকে দেখে আসে জল চোখে।
তৃণর প্রান্তরে করা বাদলের বারির মতো,
ঝরেছে অমৃতের বাণি তোমার, জীবনের প্রাতে,
হয়েছে বিকশিত ফুল অন্তরে অন্তরে, প্রভু তোমা হতে।
পবিত্রতা, সহিষ্ণুতা, সত্য, দয়া, ক্ষমার আলোর আদর্শে,
জীবনে নব প্রভাতের হয় উদয়, তোমার অমর বাণী থেকে।
চিরদিন ওইভাবে, পারিনা দেখতে তোমায় প্রভু,
কষ্ট হয়, ব্যথিত হয়ে মন, তোমাকে দেখে আসে জল চোখে।

ন্যায়-ধর্মের জন্য, জীবন করে দান, মহৎ কতো মানবের দেবতা তুমি,
দেখো, জানো সারা বিশ্ব, চিরদিন পাবে সম্মান, পাবে শ্রদ্ধা, প্রকৃত আদর্শ।
পাবে স্পর্শ সবাই সূর্যের আলোর, পাবে স্বাদ অমর, প্রত্যেকটি শিশু,
বিদ্যার জ্যোতিতে, হয় উদিত আত্মায়, জ্ঞানের আলোর যীশু।
থাকবে তুমি হয়ে অমর, অন্তরে অন্তরে, সভ্যতার পর সভ্যতা,
জেনেছে মানব, ধর্ম তোমার প্রভু, বুঝেছে, মানবের সুখের জন্য, তোমায় পাওয়া বাথা।

রাখবে মনে সারাজীবন মানব, কতো মহৎ তুমি দানি,
ন্যায়, সত্য, ধর্মের জন্য, জীবের ভগবান করেছেন জীবন দান।
সত্যে থাকতে প্রতিষ্ঠিত, রাখবে মনে আবহমান, সবাই তোমার বাণী,
রাখবে মনে সারাজীবন মানব, কতো মহৎ তুমি দানি।
ন্যায়, সত্য, আদর্শ, ধর্মের জন্য, তুমি প্রভু সকল যন্ত্রণা সয়ে নিলে।
রবে ক্ষমা, রবে দয়া অমৃত পৃথিবীতে, তুমি ভগবান বুঝিয়ে দিলে,
ন্যায়, সত্য, আদর্শ, ধর্মের জন্য, তুমি প্রভু সকল যন্ত্রণা সয়ে নিলে।

আসেন যুগে যুগে পৃথিবীতে দেবতা, প্রতিষ্ঠার জন্য
প্রকৃত মানব ধর্ম, করতে অবগত পরম্পরায় জীবনের কর্ম।
মানবের সুখ, শান্তির কামনায়, ভগবানের জীবন যায়।
সংগ্রামের জীবনের অভিজ্ঞতায় পাতায় পাতায়,
রেখেছেন নিদর্শন ভগবানই, সৃষ্টির উপায়।
ঈশ্বরের অপার করুণা হতে, রবেনা কোনদিন বঞ্চিত কেহ।
মানবের কল্যাণে নিয়োজিত প্রাণ, হয়ে ভগবান,
জীবের সেবার তরে, চিরদিন পান ভগবানের স্নেহ।
ঈশ্বরের অপার করুণা হতে, রবেনা কোনদিন বঞ্চিত কেহ।

--------------------------------------------------------------------------
সত্য
সুজিত মন্ডল

করেছে নষ্ট বার বার বর্বর,
মোর অনেক যত্নে বোনা ফসল।
এসো বন্ধু আন্দোলন করি মজবুত,
হোক নির্মূল যতো অত্যাচরীর দল।
বুঝেছি এই খারাপ সময়ে, শক্ত হাতে
ধরতে হবে হাল, জীবনের এই কঠিন
সময়ের সাথে, তবেই পারবো মেলাতে তাল।
তবেই পারবো করতে ধ্বংস, অরাজগতার কাল।
থাকতে হবে সজাগ, নইলে মারবে ছুরি
আড়াল থেকে, সর্বনাসের দালাল।
আন্দোলন বেঁচে থাক, ন্যায় বিচারের
মাধ্যমে, সত্যের প্রকাশ পাক।
আন্দোলনের মানুষ সত্যের পক্ষে,
সত্য থাকলে বেঁচে, মানুষের হবে রক্ষে।
--------------------------------------------------------------------------

মিছিল
সুজিত মন্ডল

আন্দোলনে যে ভয় পায়, আন্দোলন
সে থামাতে চায়, চিরদিন ভোরের
পাখি, নতুন দিনের গান গায়।
মিছিলের রূপ দেখে, পায় ভয়
স্বৈরাচারী, জীবনভর মানুষের জন্য,
যে করে কাজ, সুখের দিন হয় তারই।
এসো মেলাই কন্ঠ, মানুষের মহামিছিলের স্রোতে,
পারে মানুষের মহা-মিছিলই, অপরাধ দমাতে।
পারে সুখ, শান্তি, স্বাধীনতা দিতে।
কিসে আর পাবে মানুষ ভয়, কী আর
হারানোর আছে বাকি, এসো মিসে আন্দোলনে
অত্যাচারীর সামনে, শান্তির জীবন আঁকি।
--------------------------------------------------------------------------

জয়ধ্বজা
সুজিত মন্ডল

স্বাধীনতা ব্যতীত, পারবোনা স্বাধীনভাবে
ভালবাসতে দেশকে, হে ভারতমাতা।
পারবোনা করতে দেশের কাজ,
স্বাধীনতা বিনে হয়েযেতে পারি হত্যা
কতো রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস হয়ে,
গেছে দিন অস্তাচলে, কতো ভ্রাতার
প্রাণ মোর, গেছে ঝরে অকালে।
থাকবে অমর হয়ে, মোর বিপ্লবী ভ্রাতা,
হয়ে সংগ্রাম, বিপ্লব, স্বাধীনতার কথা।
পারি সয়েনিতে সব কষ্ট, পাওয়ার জন্য
স্বাধীনতা, উড়াইবো একদিন জয়ধ্বজা,
পরাধীনতার হাহাকার, প্রতিদিনের দৈন্যতা।
--------------------------------------------------------------------------

ভারত মাতার ঘর
সুজিত মন্ডল

আমরা প্রতিবাদ করেছি মাগো,
বলেছি দৃঢ় কন্ঠে, জেগেছে বিপ্লব,
দুর হও, দেশের শত্রু তুমি ভাগো।
আছে বিপ্লব প্রতিটি মানব-অন্তরে,
বিপ্লবের প্লাবনে, কূট চরিত্র হয় দমন,
যায় পৌঁছে সংবাদ দুয়ারে দুয়ারে।
এগিয়ে এলে সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদী মানবের
মহামিছিল, আস্থা পায় অন্তর।
পারেনা অসভ্যরা কাড়তে শান্তির রাত,
থাকে সুখে, শান্তিতে প্রতিটি ঘর।
আমরা শিখবো, জানবো, শান্তিতে গ্রহণ
করবো শিক্ষা, করিয়া প্রমাণ নিজেকে
জগৎ-প্রাঙ্গনে, উড়াইবো জয়ধ্বজা।
সকলের সাথে বাঁচবো আনন্দে,
নরকের কাছে করবো-নাকো ভিক্ষা।
থাকবোনা হয়ে আমরা কেউ কারো পর,
ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাই, বোনকে, পারবেনা
বানাতে শ্ত্রু, শর, জয়ের তৃপ্তিতে হাসবে অন্তর।
এতো আমাদের ভারতমাতার আশীর্বাদ,
দেশ আমাদের ভারতমাতার ঘর।
--------------------------------------------------------------------------

ভালবাসার ভাষা
সুজিত মন্ডল

মৃত্তিকার আকাশ, আকাশের মৃত্তিকার
গভীর ভালবাসার ভাষায়,
জীবন যারা চায় না আঁকতে,
পৃথিবীতে তারা বিপজ্জনক।
--------------------------------------------------------------------------

বিশ্ব মাতা
সুজিত মন্ডল

যে জীবন ছড়ায় জ্যোতি,
সে জীবন সকল পথের অগ্রগতি।
সকল ঘরে পারে সে
জীবন, শান্তির দীপ জ্বালাতে।
বিদ্ধ হয়ে ব্যথার তিরে তিরে,
অন্তরে অন্তরে হয়ে আহত,
পেরিয়ে বাধা কতো শত,
বিজয়িনীর জীবন হয় পেতে।
মানুষের জন্য যে জীবন,
সে জীবন অমৃত-ময়।
সে জীবন অভয় করেন দান,
মানবের মনে মনে অমর
সে জীবন, নাহি তার ক্ষয়।
এ জীবন দেবতা, এ অমর জীবন,
পারে হতে মানবের পরিত্রাতা,
পারে হতে মানবের মাতা।
মানুষের সহায়তার জন্য, অনন্দ্র
থাকেন জেগে যে মাতা,
মনে রাখে বিশ্ব-ইতিহাস অনন্তকাল তাঁর কথা।
প্রণাম তোমায় হে বিশ্ব-জননী,
তুমি শক্তির, আদর্শ তুমি সংহতির,
অগণিত সন্তানের ঐশ্বর্যের তুমি খনি।
সকল দেশের হয় রক্ষা, তোমার মহামায়ায়।
জানিল নতুন করে পৃথিবী,
সুখ আছে জগতে, তোমার চেতনার
সুরক্ষার ছায়ায়।

--------------------------------------------------------------------------

কবিতা সংকলনমাতৃভূমি--------------------------------------------------------------------------সূচিপত্র১)অধিকার২)মাতৃভূমি৩...
18/07/2026

কবিতা সংকলন
মাতৃভূমি
--------------------------------------------------------------------------
সূচিপত্র
১)অধিকার
২)মাতৃভূমি
৩)পুজো
৪)সুজাতা
৫)অচিন দেশে
৬)বিপ্লবী
৭) ঘুড়ি
৮) বিজয়া
৯) ছন্দ দাদু
১০)সঙ্কট
--------------------------------------------------------------------------
অধিকার
সুজিত মন্ডল

এসো হই সমবেত আন্দোলনে সবাই,
সবায়েরই পৃথিবীতে আছে সমান অধিকার,
এসো মানুষের অধিকার চাই।
অটুট রাখতে সুখ সংসারের,
দিকে দিকে আন্দোলনের হোক আহ্বান,
ভয়ঙ্কর দিনে আজ হয়েছে প্রতিবাদী প্রাণ।
শান্তিতে থাকতে আপন গৃহে,
চলবে আমাদের অধিকারের আন্দোলন।
ক্ষুধায়, নিদ্রায়, বহুদিনের লড়াইয়ে,
হয়নি ক্লান্ত শরীর, হয়নি ক্লান্ত মন।
থাকবে আজীবন মনে, আমি
আমার সংগ্রামী মায়ের সন্তান।
বুঝেনিতে আপনার অধিকার, বারংবার,
এসো আন্দোলনের গাই গান।
আন্দোলনেই চিনিবে বিশ্ব আমার মাকে,
মা যে সর্বদাই বুকে আগলে রাখে।
হিন্দু নই, ইসলাম নই, নই আমি
খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন, জন্মেছি হয়ে মানব,
পাখিদের কাকলিতে ভোরের বার্তার মতো,
কন্ঠে আমার, ন্যায় বিচারের,
মানুষের অধিকারের, আন্দোলনের রব।
--------------------------------------------------------------------------

মাতৃভূমি,
সুজিত মন্ডল

কতো রক্ত, প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি মাতৃভূমি,
পেয়েছি অন্ন, বস্ত্র তোমা হতে মা,
শত কোটি সন্তান স্নেহে, সদা জাগ্রত তুমি।
লালপাড় শাড়ি, সিঁদুর কপালে,
নিজের মাকে যেমন দেখেছি,
সেই কোন ছোট্টবেলায় তেমনই
মনে মনে তোমায় এঁকেছি।
প্রণাম তোমায় মাগো, চিরদিনই
চাই দেখতে তোমায় অমনই।
কতো রক্ত, প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি মাতৃভূমি।
মাটি থেকে পাওয়াযায় পাট,
রুইলে চারাগাছ, পাওয়াযায় ক্ষুধার অন্নের ধান।
দিয়েছে আশ্রয় দেশের মৃত্তিকা,
বিশ্ব-মাঝে দিয়েছে গর্বের সম্মান।
ভারতের শাশ্বত প্রকৃতি হতে পাই চেতনা,
ভারতের সাংস্কৃতি. আমার শিক্ষা, আমার সাধনা।
গর্বিত আমি ভারত মায়ের সন্তান বলে।
দীর্ঘ সংগ্রামের পথে, শান্তি আমার,
মায়ের শীতল ছায়ার আঁচলে।
--------------------------------------------------------------------------

পুজো
সুজিত মন্ডল

শঙ্খ বাজে, কাঁসর বাজে,
প্রদীপ জ্বলে, জ্বলে ধুনো, ধুপ।
দেখতে আসে সবাই, দুর দুরান্ত থেকে,
দুর্গা মায়ের অসুর দলনী রুপ।
ঢাকের বাদ্যির সাথে সাথে,
বাজে ব্রাহ্মণ ঠাকুরের ঘন্টা।
হাতজোড় করে থাকে সবাই,
থাকে পুজোয় নিমগ্ন মনটা।
ঘুরে বেড়াবো, ঠাকুর দেখবো,
কিনবো বেলুন, কিনবো ছানার গজা,
পয়সা দেবে ঠাকুমা, হবে খুব মজা,
এক বছর অপেক্ষার পর,
আসছে আবার দুর্গা পুজা।
বসছেনা আর মন পড়ায়,
মনেহয় ঘড়ি, জুতো, নতুন পোষাক দেখি,
কবে আসবে পঞ্চমি, অপেক্ষায় থাকি।
আরো হবে নতুন প্যান্ট জামা,
দাদু দেবে, পিসি দেবে, দেবে মেজো মামা।
বোন এখন খুব ছোট, এক পা দুপা
হেঁটে হেঁটে, বেড়ায় ঘুরে ঘুরে,
ঠাকুর দেখতে মা তাই,
পারবেনা যেতে খুব দুরে।
--------------------------------------------------------------------------

সুজাতা
সুজিত মন্ডল

প্রান্তরের তৃণয় তৃণয় মনের মুক্তোর মতো,
শিশিরের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়, এসেছে আবার পুজো,
প্রতি বছরের মতো, এমনভাবেই বন্ধু শিউলির
সৌরভের খুশি নিয়ে, আমায় তুমি খুঁজো।
এভাবেই সুখে, দুঃখে, চিরদিন আমায় তুমি বুঝো।
সারাবছর কাজের মধ্যে, কে কখন কোথায় থাকি,
হাজার কাজের মাঝে, বন্ধুকে আজো মনের আকাশে,
ফেলে আসা জীবনের পথের, সঙ্গী করে রাখি।
পুজোর কটাদিন কেটেযায়, হাসি, গান, কোলাহল, আড্ডায়,
থাকে মোবাইলে সারাবছর সবায়ের সাথে যোগাযোগ,
হটাৎ কফি খেতে খেতে, পুজো মন্ডপ থেকে,
এনেদেয় সুজাতা হাতে, ঠাকুরের গরম গরম ভোগ।
সুজাতা কখনো কখনো, হয়েওঠে আমাদের
মায়ের মতো, আমারা তখন ওর কাছে শিশু,
অশ্রু ও দেয় মুছিয়ে, জীবনটা কখনো কখনো,
মায়ের মতো করে, সুজাতাই দেয় গুছিয়ে,
প্রান্তরের তৃণয় তৃণয় মনের মুক্তোর মতো,
শিশিরের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়, এসেছে আবার পুজো,
প্রতি বছরের মতো, এমনভাবেই বন্ধু শিউলির
সৌরভের খুশি নিয়ে, আমায় তুমি খুঁজো।
এভাবেই সুখে, দুঃখে, চিরদিন আমায় তুমি বুঝো।
--------------------------------------------------------------------------

অচিন দেশে
সুজিত মন্ডল

বনের মাঝে উঠল চাঁদ সাঁঝে,
নদীর কাছে তখন অচেনা অন্ধকার,
সারাদিন মাঝি করেছে কতো পারাপার।
এখন আমরা দেখবো এসব, যাবোনাকো বাড়ী,
যাবো বলে দেখতে দৃশ্য, নদীর ওপারের,
ঘুম থেকে উঠেছি অনেক তাড়াতাড়ি।
এখানে সারাদিন পাখিদের মধুর ডাকাডাকি,
দিবসে মুক্ত আকাশ, নদীতট, অরণ্য, বিপুল
জলরাশি, সন্ধায় জ্যোস্নার মিষ্টি চাঁদ দেখি।
যেতে হবে বলে ছেড়ে, এতো মনের মনোরম,
সহসা খারাপ হয়েএল মনটা আমার খুব।
দেখে দেখে মেটেনা আস, ইচ্ছে করে দেখতে
আরো অনেক, প্রকৃতির এমন সুন্দর সুন্দর রূপ।
বলেছে মা, কোন ছুটিতে, স্বপ্নের মতো সুন্দর কোন
নতুন দেশে, ঘুরতে আবার যাবে আমাকে নিয়ে।
দেখি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নদীতটে, গেল
হারিয়ে সূর্য আকাশে, জলে চুমু দিয়ে।
বাঁশ, ধান, খড় নিয়ে চলেযায় অজানায়,
দূরের মেঠোপথ ধরে, গরুর গাড়িগুলো,
নিয়েযায় কৃষক হাটে বিক্রি করতে, মাঠ থেকে
সদ্য তুলেআনা, বেগুন, আলু, পটল, মুলো।
এই অজানা অচেনা পরিবেশে, ছড়িয়ে অনেক আনন্দ,
সরল মাটির মানুষ, বিস্তির্ণ প্রান্তরের সবুজ,
--------------------------------------------------------------------------

বিপ্লবী
সুজিত মন্ডল

বিপ্লবীর নেই মৃত্যু, চিরদিন থাকে বেঁচে
বিপ্লবী, চেতনার অশ্রু-ঝরা সত্তার গভীরে।
আদর্শ, ন্যায়, ত্যাগ, স্বাধীনতার কাছে,
অহংকারীর দম্ভ যায় মরে।
থাকেনা শন্তি দেশে, পবিত্র রাজ-সিংহাসনের
দাবি যদি করে, কোন কুলাঙ্গার।
সংগঠিত হয় বিপ্লব, ছড়িয়ে পড়ে
ক্ষোভের আগুন, বহু দিনের বঞ্চনার।
কেড়ে নিলে অকালে দেশের সন্তান,
সুফলা ভারতে, শত শত মায়ের
কোলে, ফুলের মতো পবিত্র শিশুরা হাসে।
পারেনা থাকতে বোবা হয়ে,
থাকতে থাকতে অন্যায় সয়ে সয়ে,
দেশকে যে প্রকৃত ভালোবাসে।
অন্যায় সয়ে যদি, থাকি বসে চুপ করে,
থাকিবেনা অস্তিত্ব ন্যায়ের, বিনা বাধায়,
দেশদ্রোহী জ্বালাবে আগুন মনের ঘরে।
মনে আছে কতো যুবক, যুবতী দিয়েছে প্রাণ,
বন্দুকের সামনে, দেশকে ভালবেসে।
পাথর হয়েছে শোকে মানব,
ছড়িয়েছে কন্না আকাশে বাতাসে।
ভেসেগেছে রক্তে কতো তরুণ, তরুণীর,
জীবনের মৃত্তিকায়, সবুজ ঘাসে ঘাসে।

--------------------------------------------------------------------------
ঘুড়ি
সুজিত মন্ডল
ঘুড়ি লাটাই সুতো মানজাই
ব্যপারটা বেশ মজার।
প্যাঁচ হয়ে ঘুড়ির সাথে ঘুড়ির,
পেয়ে যাবে যে কাটা ঘুড়ি
হয়ে যাবে ঘুড়ি তার।
কতো রকমের ঘুড়ি ওড়ে আকাশে
বেগদা, চিরুনী, লাট্টু, ময়ূরপঙ্খী,
মোমবাতি, গ্লাসদার, চোখদার, চৌরঙ্গী।
হাপ তেল, এক তেল, দেড় তেল
মাপেরও রয়েছে অনেক ফারাক,
হাওয়ার হাওয়ার ডান দিকে, বাম দিকে
নেয় ঘুড়ি বাঁক।
ঘুড়ি ওড়ানো, প্যাঁচ খেলা ঘুড়ির,
সমস্তাই বুদ্ধি আর শিল্প হাতের,
কেউ ভালবাসে খেলতে প্যাঁচ টেনে,
খেলে প্যাঁচ কেউ কেউ সুতো ছেড়ে ছেড়ে।
কখনো কখনো দুটি ঘুড়ি,
হয়ে যায় ছোট্ট বিন্দুর মতো, লাট খেতে খেতে।
লাল, নীল, সাদা, কালো, বেগুনী, সবুজ, হলুদ
আকাশে ঘুড়ির মেলা, খুশিতে খুশিতে মেতে,
ঘুড়ি নিয়ে কতো খেলা।

--------------------------------------------------------------------------
বিজয়া
সুজিত মণ্ডল
বিজয়ার দিনে চোখে জল আসে,
রঙ নিয়ে শিউলির আকাশের,
ডাকবে আবার শালুকের বন সকালে,
পথে প্রান্তরে নদে ঝিলে,
ফিরে পেয়ে ছেলেবেলার দিনগুলিকে,
মন মাদলে উঠবে মেতে কাশে
সবুজ ঘাসে ঘাসে।

আগমনীর দিনগুলি হয়ে উঠুক মৈত্রীর,
শরতের নৈসর্গিয়তায়
যাক মুছে যত হাহাকার, নিস্পেষণ, নৃশংসতা পৃথিবীর।

মানুষের মিলনের উৎসব
আগামী দিনের উৎসবের সূচনা।
মেঘের বৃষ্টি, রোদুরের পৃথিবী, জ্যোৎস্নার নিশীথ
এঁকে এঁকে মনের পাতায় পাতায়,
ঘরে ফেরার অপেক্ষায় একটি একটি করে
প্রিয়জনের দিন গোনা।

ঘাসে ঘাসে হাসে শিশির বিন্দু রোদুরে,
জীবনের কথা নিয়ে, দূর আকাশে,
ভাসাবে মেঘেরা গানের তরী।
এসো ভাই এসো মিত্র বক্ষে আমার
সবায়েরে আপন করি।

--------------------------------------------------------------------------
ছন্দ দাদু
সুজিত মণ্ডল
ও ছেলেরা মন দিয়ে শোন
তোরা কর মজা হরদম,
ভালো রাখার জন্য মন।
ও ছেলেরা মন দিয়ে শোন
বাজে কাজে দিসনাকো শ্রম,
পাশ করে দেখা দেখি পরীক্ষায়,
তোরা নয় কিছুতে কম।
এমনি করেই ছন্দ দাদু
ছন্দে ছন্দে কথা বলে যায়।
শুনে সেসব কথা,
মজায় সবাই হেসে হেসে
লুটোপুটি খায়।
বলে দাদু ফুট বলের মাঠে
পারবি তোরা করতে গোল?
জানি, খেলতে নেমে মাঠে তোরা,
আছাড় খেয়ে খেয়ে, ধরবি শুধু ল্যাঠা, শোল।
পারবি তোরা মারতে?
ব্যাট হাতে, তিন বলে
তিনটে চার, কিংবা ছক্কা,
জানি, সবেতেই পাবি তোরা গোল,
বৃথাই আমার তোদের সাথে বকা।
ভালোবাসে খেতে খুব
ছন্দ দাদু সিঙাড়া।
কান তার এতোই ভালো
এক ডাকেতেই দেয় সাড়া।
থাকতে থাকতে দাদুর সাথে,
শিখে গেলাম আমরাও
বলা ছন্দে ছন্দে কথা।
পড়া না পারলে,
দিদিমণি কান ধরলে,
ছন্দে ছন্দে কথায়
থাকে না মনে ব্যথা।
--------------------------------------------------------------------------
সঙ্কট
সুভিত মন্ডল

আষাঢ়ের বৃষ্টির পর, শ্রাবণের প্রবল ধারা এসে,
যখন পুকুরগুলো যায় ভেসে, গভীররাতে, ঘুমের গভীর অতলে।
সোনালী, রূপালী মাছ, খেলে মাঠে মাঠে, চাকাচিকে জলে।

বেরোয় কেউ কেউ অতরাতে, জাল, ঝুড়ি হাতে, মাছ ধরতে।
পারেনা বেরোতে তারা, ভারি বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে,
হবে বেরোতে যাদের, পরের দিন সকালে কাজে।

কতো বছর এমন করে, কতো জলে,
খেলে আনন্দে মাছ, কতো অঙ্কলে।
ভিজে ভিজে বৃষ্টিতে, না পেয়ে খাদ্য, ডেঠে-ওঠে শেয়ালের দল,
নেবে আশ্রয় কোথায়, চারিদিকে শুধু জল আর জল।
পৌষের ধূ ধূ প্রান্তরে তখন, জলে থৈ থৈ,
এ সময়ে, হয়ে পড়ে সঙ্কট খাদ্য, আশ্রয়ের,
শুনশান চারিদিকে, কেউ কোথাও নেই।
নিস্তব্ধ রাত্রি জলে থৈথৈ।

কখনো অতি বৃষ্টিতে, হয় কোথাও প্লাবন,
এভাবে উদ্বিগ্নে, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র কাটে।
পণ্ড হয়ে পরিশ্রম সব, কোথাও, হয় নষ্ট ফসল সব মাঠে।
থাকে তাকিয়ে নিশাচরেরা, জ্যোৎস্নার জল থৈথৈ রাতে।
--------------------------------------------------------------------------

কবিতা সকলনবিপ্লব--------------------------------------------------------------------------সূচিপত্র১)বিপ্লব২)এই সব সুখ জী...
18/07/2026

কবিতা সকলন
বিপ্লব
--------------------------------------------------------------------------
সূচিপত্র
১)বিপ্লব
২)এই সব সুখ জীবনে বারে বারে ফিরে ফিরে আসুক
৩)প্রকৃতির ভাষা
৪)শরতের দেশে
৫)কাজের ভোর
৬)আসবে আবার মা
৭) দাদা
৮) ভাই ফোঁটা
৯) বইমেলা
১০) নমস্কার
--------------------------------------------------------------------------
বিপ্লব
সুজিত মন্ডল

জানি ভয় যদি পাই আমি মৃত্যুকে,
দানবেরা চাইবে কাঁদাতে আমায়, বহু শোকে।
সৎ ভাবনা থাকে বেঁচে চিরদিন,
আন্দোলনই করে প্রমান, নই দূর্বল
আমরা, নই আমরা হীন।
সকল সত্তা চায় শৃঙ্খল মুক্ত হতে,
পিশাচের অধিনে, চায়না থাকতে পরাধীন।
এভাবে একসাথে চালিয়ে গেলে লড়াই,
হিংস্ররা পাবেনা কোথাও ঠাঁই।
সঙ্ঘবদ্ধ থাকলে, পাওয়াযাবে সকল বিচার,
নৃশংস অত্যাচার হবেনা দেখতে বার বার।
সকল ভয়কে রেখে সরিয়ে দূরে,
এসো মেলাই সুর আজ আন্দোলনের সুরে।
এসো মিছিলে সকলে একসাথে পা ফেলি,
হি্ংস্রতায়, দেবনা রক্তে রাঙাতে আর
মাতৃভূমির ধূলি।
--------------------------------------------------------------------------

এই সব সুখ জীবনে বারে বারে ফিরে ফিরে আসুক
সুজিত মন্ডল

জ্যোৎস্নার পুলক ঝরে পাতায় পাতায়
বসন্তের সন্ধ্যায়।
ভেসে আসা কোকিলের সুমধুর কণ্ঠ,
মোহময় করে তোলে এসময়,
কতোদিন পর বক পানকৌড়িদের গাছে গাছে
বসে থাকা দেখতে পাওয়ার সন্ধ্যা আসে,
শ্রাবণের বৃষ্টি ধারার মতো
মিষ্টি জ্যোৎস্নায় মন ভাসে।
সন্ধ্যার জ্যোৎস্নার বন্যায় ভেসে যাওয়ায়
অবিরত কোকিলের কন্ঠের প্লাবন,
সবুজ গাছ গাছালি, কোমল ঘাসের নিস্তব্ধ
মাঠে মাঠে ডেকে আনে মন।
অন্তরের কথা বলা নদী চরে বসে থাকা সঙ্গীরা
গৃহে ফিরে যায়,
প্রতিদিন নির্জনে ওরা, মনের কিছু কথা বলতে চায়।
ঘর বাঁধলে ওরা, নতুন নতুন সঙ্গীরা আবার আসবে,
চিরদিন এভাবেই ওরা প্রাণের ভাষায় ভালবাসবে।
শিমুল পলাস কৃষ্ণচুড়া আছে ফুটে বসন্তের বার্তা দিতে,
বড় মনোহর ওই, লাল রঙ মিশে আকাশের আকাশিতে।
এসময়ে বাতাসে বাতাসে,
বেল জুঁই রজনীগন্ধার সৌরভ থাকে মিশে।
এই সব পাওয়াতেই, আমার অনেক আনন্দ।
কিছু সময় আগেই
বিকেলে লাল রঙ গোলা আকাশে,
সূর্য ডুবে যাচ্ছিল।
পাখিরা ফিরে যাবার পর,
সন্ধ্যার আকাশে হেসে হেসে তারারা দেখা দিল।
এই সব সুখ,
জীবনে বারে বারে ফিরে ফিরে আসুক,
আঙিনায় গভীর স্নিগ্ধতায়, অমনই সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বলুক।

--------------------------------------------------------------------------
প্রকৃতির ভাষা
সুজিত মন্ডল

মাটির এই শরীর
মিশে যাবে একদিন ভারতের মাটিতে,
স্বাধীনতার লড়াইয়ের ক্ষেত্র থেকে জীবন চলে যাওয়ার পর।
গৌরব বোধ হয় ভেবে,
ভারত আমার ঘর।
ভারতের আদর্শ স্বাধীনভাবে বাঁচতে শেখায়,
সুস্থভাবে বাঁচার জন্য,
প্রত্যেকটি দিন ঐক্যের বাণী ছড়িয়ে যায়।
দেখি ভুবনে সর্বত্র তার পবিত্র চিত্র
ভাবে আকাশ প্রানের ক্ষুধার কথা,
ঋতুতে ঋতুতে তাই দিয়ে যায় বৃষ্টি।
প্রাণের সুখের জন্য
আকাশ, বাতাস, মৃত্তিকা, রোদ্দুর, জল, সবুজ
মিলে মিশে প্রতিনিয়ত নব নব সৃষ্টি।
প্রাণের জন্য জগতে সর্বত্র গভীর সংঘবদ্ধতা,
ফোটে ফুল, ফলে ফসল,
মাটি থেকে ফোটে মুখে কথা।
ভারত সৃষ্টির, ভারত জ্ঞানের, সংহতির,
ভারত চেতনার আলো,
আনন্দ উৎসাহ উদ্যম সৃষ্টির, ভারত দেখায় পথ।
ভাঙে শৃঙ্খল পরাধীনতার, ভাঙে বন্দির কারাগার,
প্রত্যেকটি দিনের ভাষা, জাগ্রত করে মন,
অবনীতে আলোকিত করে জীবন।

--------------------------------------------------------------------------
শরতের দেশে
সুজিত মন্ডল

বৃষ্টি শেষে শরতের দেশে,
সবুজ তৃণর প্রান্তর পেরিয়ে,
শালুক, কমল ভরা কলমির দিঘীর কাছে যাবো,
আনন্দ হচ্ছে ভাবতে।
প্রিয় কাশফুলে ভরা, আমার খেলার বিসৃত মাঠ,
থাকবে সেজে নতুন ঋতুতে,
আকৃষ্ট করে নীল আকাশে ভেসে ভেসে
থাকা মেঘের বাহার।
উড়ে উড়ে চলেযায় দূরে দূরে
বক শালিখেরা, খুঁজে পেতে দিনের আহার।
মাটির জীবনের ভালবাসার কল্পনায়,
তোমার শরতে কতো সুরে সুরে,
বাজবে আমার মনবীনা।
লাল হয়ে ঝরে থাকা বাদাম পাতার
ফাগুনের পথে, ঝরা শিউলির আহ্বান,
আমার অনেক দিনের চেনা।
সব দিন নিয়ে খেলা আমার,
ভাললাগার জন্য তোমার।
বৃষ্টির প্রকৃতির ছন্দে, জীবন বৃহতে হাসিতে হাসিতে,
গড়েছো আমায় এমন করে,
মাটির অন্তরের গভীর প্রকাশ ভালবাসিতে।
এভাবেই কতো বেলা চলে যায়,
গোধূলিতে তখনও নদীতে মাঝি নৌকায়।
ওই রক্তিম মেঘে মেঘে আগামীর নিশ্চয়তার চিত্র কতো,
মেলে ধরে, সন্ধানী চোখের চাওয়ায়।
বাঁধন যতো যায় ভেসে,
প্রতিটি দিনে,
শত শত পত্রের মতো অনন্ত অঙ্কন পাওয়ায়।

--------------------------------------------------------------------------কাজের ভোর
সুজিত মন্ডল
নিজে ভিজে গেলেও, কোনভাবেই ভিজতে
দেওয়া যাবেনা, খবরের কাগজগুলো।
সারাদিন যদি বৃষ্টি পড়ে,
সারাদিনই ভিজে ভিজে হবে পৌঁছে দিতে, সমস্ত খবরের কাগজগুলো,
যেভাবেই হোক, সংবাদপত্র রাখতে হবে যত্ন করে আগলে।
যাবেনা পড়া আর খবর, যাবেনা পাওয়া পয়সা,
মূল্যবান খবরের কাগজগুলো ভিজেগেলে।
স্টুডেন্ট পারবে দিতে টিউশনের মাইনে,
কারো সংসারের হবে উপকার, অর্থ পেলে।
তাই সারাদিনই ভিজে ভিজে, খবরের কাগজগুলো
তাড়াতাড়ি হবে দিতে বাড়ি বাড়ি।
কোন কোন দিন, বৃষ্টির জল গায়েই যায় শুকিয়ে,
শেষ হয় কাজ, সকল কাগজ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে।
হতেপারে শরীর খারাপ, দীর্ঘ সময় ভিজে থেকে,
এভাবেই সারাজীবন, করেযায় কাজ কতো মানুষ, জীবন বাজি রেখে।
পড়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর, কতো মানুষ সাগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে।
এতো যত্নকরে, কষ্ট করে, রাখেন যিনি সংবাদপত্র রক্ষা করে,
দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে দেবার জন্য,
কতো তিনি মহান, দায়িত্ববান।
চিরদিন থাকবে মনে, দেশের লড়াকু, সৎ, সংগ্রামী মনুষের অবদান।
ওই লড়াকু, সংগ্রামী মানুষগুলোকে দেখে,
জীবনযুদ্ধে কতো মানুষ হয় উদ্বুদ্ধ।
আসুক যতোই কষ্ট, দুঃখ জীবনে,
যেতে যেতে এগিয়ে আলোর ঠিকানায়,
সমস্ত প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে, আমরণ করেযাবো আমি যুদ্ধ।
যুগের পর যুগ, ক্ষেতে ক্ষেতে,
কৃষকের অমানুষিক পরিশ্রম দেখে, কতো প্রাণ হয় উজ্জীবিত,
দুবেলা অন্নের জন্য, তুচ্ছ ভেবে জীবনকে,
শ্রমিকদের লড়াই দেখে, জীবন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ,
চির সংগ্রামী শ্রমিকের সন্তান আমি,
সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ছাড়া, জীবনে কি আর আছে দামী?
যেতেই হবে এগিয়ে, চমকাক যতোই বিদ্যুৎ,
হোক বৃষ্টি, যাক বয়ে যতোই বাদলের ঝোড়ো হাওয়া,
লড়াই করেই জীবনযুদ্ধে, সংসারে সুখ যাবে পাওয়া।
চলছে এভাবেই সংগ্রাম নিরন্তর,
থাকে সজাগ মন, থাকে সজাগ দুটি আঁখি,
ফুটবে কখন আলো, আসবে কখন কাজের ভোর।

--------------------------------------------------------------------------আসবে আবার মা
সুজিত মন্ডল

প্রতি বছরের মতো এবছরও শঙ্খ বাজিয়ে,
খুব ভোরে দিয়েছে মা ফোঁটা দুয়ারে।
ষষ্ঠীর পুজোয় দেয় মা অঞ্জলী,
দিগন্তে দিগন্তে সেজেছে কাশেরা,
ফুটেছে পুজোর পদ্ম ফুটেছে খুশির শালুক,
শরতের কথা সৌরভে সৌরভে ছড়িয়েছে শিউলি।
বেজেছে ঢাক কাঁসর শঙ্খ, ধূপ ধুনো প্রদীপ জ্বলেছে।
দীপ্ত হয়েছে মন অশুভ নাসিনী মাকে দেখে,
আসবে আবার মা অন্তর বলেছে।
শারদীয়ার আলোয় আলোয় আকাশ বাতাস খুশিতে গেছে ভেসে,
করেছে মুখরিত পৃথিবী মায়ের পজোর পবিত্র মন্ত্র, দেশে দেশে।
নতুন পোষাকে শিশুরা খেলেছে কতো, মায়ের প্রাঙ্গনে,
কচি কচি হাতে করেছে প্রণাম দুর্গা মাকে,
পেয়েছে আনন্দ অনেক মনে মনে।
দিয়েছে সিঁদুর বিজয়াতে একে অপরকে, মুখে শাঁখায় সিঁথিতে,
চিরদিন সিঁদুরে সিঁদুরে হয়ে লাল, থাক অমনই মা বোনেদের কপাল।
হাসিমুখে সবাই করেছে মাকে বরণ,
করেছে মিষ্টি মুখ,
কতো উৎসব এমন করে,
জানিয়েছে আহ্বান সংহতির,
বিশ্ব সংসারে থেকেছে অব্যাহত সুখ।

--------------------------------------------------------------------------
দাদা
সুজিত মন্ডল
চিত্রা ভাবছে এবার পুজোয়
দাদা বাড়িতে আসলে,
সহজে দেবে না যেতে।
না-না অছিলায় অনেকদিন,
রেখেদেবে দাদাকে আঁটকে।
লক্ষীপুজো, ভাইফোঁটার পরে,
দেবে যেতে দাদাকে।
চিত্রা বোঝে, অনেক কাজ দাদার
চাইবে না থাকতে তাই অতোদিন বাড়িতে,
যতোদিন যায় রাখা দাদাকে,
চায় সে চেষ্টা করতে।
ভারি সুন্দর শরতের দিনগুলো,
শিউলির সৌরভে সৌরভে -
ভোরের ফোটে আলো।
ছুটিতে বাড়িতে আসলে দাদা
বাচ্ছদের খেলনা, সবায়ের পোশাক,
কতো কিছু নিয়ে আসে।
লাগে রঙ শালুকে, পদ্মে,
লাগে রঙ আকাশে, কাশে কাশে
ইসারায় ডাক দিয়ে তুলো-রঙা মেঘ,
দুর দেশে কেমন যায় ভেসে ভেসে।
কি কি রান্না করে খাওয়াবে দাদাকে চিত্রা -
অনেক দিন ধরে, মনে মনে ভেবে ফেলেছে,
দাদার জন্য সবাই বাড়ির
অপেক্ষা করে আছে।

--------------------------------------------------------------------------
ভাই ফোঁটা
সুজিত মণ্ডল

ভাই ফোঁটার দিন, নেব ফোঁটা বোনের থেকে,
ফোঁটা দিয়ে বোন কামনা করে মঙ্গল, শুভ, বাজিয়ে শঙ্খ,
তুলেদেয় মিষ্টি মুখে, ভাই ফোঁটার দিনে, নেব ফোঁটা বোনের থেকে।

খুশিতে ওঠে ভরে, সুন্দর এই দিনটিকে ঘিরে,
আসি ছুটে বার বার, বোনের কাছে, যেভাবেই থাকি যতদূরে।
থাকি অপেক্ষায় একটি বছর, এই দিনটির জন্য,
ব্যস্ত যতই থাকি কাজে, দিনটি এই ভুলি না কখনো।

আমরা ভাই বোনরা মিলে, ভরিয়ে তুলি বাড়ি খুশিতে,
আসুক চিরদিন ফিরে, এই দিনটি বার বার,
ভাই ফোঁটায় খুশিতে উঠুক ভরে ঘর সবার।
চাই এভাবেই, চিরদিন সবাইকে সুখ দিতে।
আমরা ভাই বোনরা মিলে, ভরিয়ে তুলি বাড়ি খুশিতে।

দিয়ে কপালে ফোঁটা, শুভ কামনা করে, জীবনযুদ্ধে
বরণ করে ভাইকে, বোনের অর্পণ বীরের সম্মান।
ধরনী যেমন তার সন্তানকে রাখে আগলে বুকে,
তেমনই বোন চায় দেখতে ভাইকে, সুখে।
দিকে দিকে রয় কেমন হেসে প্রকৃতি, কলকারখানায় কঠোর পরিশ্রম
করা শ্রমিকদের জন্য, সীমান্তে সীমান্তে পাহারায় থাকা সৈনিকদের জন্য,
দোরে দোরে মায়ের আঁচল ধরে ঘোরা, শিশুর জন্য,
দেশে দেশে ফলে, ঘাম, রক্ত, ঝরা পরিশ্রমের ধান।
দিয়ে কপালে ফোঁটা, শুভ কামনা করে, জীবনযুদ্ধে
বরণ করে ভাইকে, বোনের অর্পণ বীরের সম্মান।
এ যে ভাইকে বোনের শ্রদ্ধা, সম্মান, আবাহমান আশীর্বাদ,
এ যেন ফসলের দিনে, কৃষকের মনে আনন্দ অবধি।
ধরনী সন্তানকে লালন পালনের মতো, প্রকৃতির এই অফুরান দান।

--------------------------------------------------------------------------
বইমেলা
সুজিত মণ্ডল
মানবের মহামিলনে জগতে ঐক্য রয়।
মিলে সব, পুস্তকমেলায়, আনন্দ কতো হয়।
করি কামনা, মানবের মহামিলনের আয়োজন।
মনের সাথে, মিলনে মনের, মনের ব্যাপ্ত আকাশে,
পায় নতুন নতুন বন্ধু মন।
করি কামনা, মানবের মহামিলনের আয়োজন।

মানবের মহামিলনে, হয় ধন্য জীবন।
পুণ্যভূমে, হয় পুণ্য মন, বিশ্বমানব সমাগমে।
বহে আনন্দধারা, ধরাধামে।
মানবের মহামিলনে, হয় ধন্য জীবন।
পুণ্যভূমে, হয় পুণ্য মন, বিশ্বমানব সমাগমে।

বিশ্বসৌভাত্রত্বের বন্ধন, রবে অটুট, আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় আছ্বানে।
বিশ্ব-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সাংস্কৃতিক, কৃটির সাথে,
থাকে সুদৃঢ় বন্ধন, পুস্তক আদান প্রদানে।
বিশ্বসৌভাত্রত্বের বন্ধন, রবে অটুট, আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় আহ্বানে।
অক্ষর, শব্দ, বাক্য শিশুর বিকশিতের মতো, চেনায় পৃথিবী।
বিশ্ব-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সাংস্কৃতি, কৃষ্টির সাথে,
থাকে সুদৃঢ় বন্ধ পুস্তক আদান প্রদানে।
বিশ্ব-সৌভাতৃত্বের বন্ধন, রবে অটুট, আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় আহ্বানে।
অক্ষর, বাক্য, শন্দ, শিশুর বিকশিতর মতো চেনায় পৃথিবী,
কোন অচিন বাউলের সুরের কথা, শোনায় ভালবাসার কবি।
কতো মানুষের সাথে হয় পরিচয়, হঠাৎ বহু দিনের
চেনা, সুজন-সাহিত্যিকের সাথে, পথে দেখা হয়ে যায়।
ফুলের মতো দিন আনন্দের, করে খেলা মনের আভিনায়।

বিবেক হলে জাগ্রত, করি দেশের মঙ্গল, করি দেশের ভালো।
প্রার্থনা আমার, আরো, আরো প্রভু, হৃদয় থেকে পবিত্র
এমনই, অন্তরে আমার, প্রদীপ জ্ঞানের জ্বলো।
বিবেক হলে জাগ্রত, করি দেশের মঙ্গল, করি দেশের ভালো।

পুস্তকের দানে, বৃষ্টির ভুবনে দিগন্ত ভরা সবুজের মতো, হয় জ্ঞানের ব্যাপ্তি।
অম্পৃশ্য পারে না ছুঁতে পবিত্র, ছড়ায় পুস্তক পৃথিবীতে, শিক্ষার মন্ত্র।
হয়েওঠে মানব, সৃষ্টির জ্যোতি।
পুস্তকের দানে, বৃষ্টির ভুবনে দিগন্ত ভরা সবুজের মতো, হয় জ্ঞানের ব্যাপ্তি।

মৃত্তিকার ফুলে, জ্যোৎস্নার খেলা করার ন্যায়,
বর্ণ, শব্দ, বাক্য, ছন্দ করুক খেলা,
জীবনে আমার সমস্ত বেলা।
সহস্র সহস্র বৎসর, হোক আয়োজিত,
আন্তর্জাতিক বিশ্ব-মানব মিলন পুস্তক মেলা।

--------------------------------------------------------------------------
নমস্কার
সুজিত মন্ডল
আপনাদের সবাইকে জানাই নমস্কার,
পারি যেন লিখে য়েতে আমারন সেই গান
য়ে গানে প্রাণ উৎসাহ পায় বাঁচার,
আপনাদের সবাইকে জানাই নমস্কার।

সবায়ের সুখে হযে সুখি,
দুঃখে হয়ে দুঃখি
করবো আমরা লড়াই,
বাঁচাবো আমরা বিপদে
সবাই সবায়ের পাশে থেকে।
সবাই থাকুক সুখে
ত্রই প্রার্থনা আমার
আপনাদের সবাইকে জানাই নমস্কার।

লিখে য়েতে চাই গান ভালবেসে বৃষ্টিকে,
শিশুর মুখে খেয়ে চুমো
এঁকে যাবো ক্যানভাসে ক্যানভাসে সূর্যের সৃষ্টিকেL
এযে জীবনের গান
এযে লড়াইয়ের গান আমার
আপনাদের সবাইকে জানাই নমস্কার।

বুকের মাঝে আছে জেগে
লড়াইয়ের গান জীবনের,
প্রার্থনা আমার এ গানে
সব জীবন হোক সুখের।
পারি যেন লিখে য়েতে আমারন সেই গান
য়ে গানে প্রাণ উৎসাহ পায় বাঁচার
আপনাদের সবাইকে জানাই নমস্কার।

Address

Sarsuna
Kolkata
700061

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sujit Mondal Writes posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category