অচেনা path

অচেনা path অচেনা পথ সব সময় মানুষের পাশে মানুষের সাথে
হিংসা নয় চেষ্টা করে এগিয়ে যাও।
(1)

মেসির জন্মদিনেসবুজ ঘাসের বুকে আঁকা স্বপ্নের রঙ,পায়ের ছোঁয়ায় জেগে ওঠে ফুটবলের ঢঙ।গোলপোস্ট যেন হাসে, কাঁপে প্রতিটি প্রা...
24/06/2026

মেসির জন্মদিনে

সবুজ ঘাসের বুকে আঁকা স্বপ্নের রঙ,
পায়ের ছোঁয়ায় জেগে ওঠে ফুটবলের ঢঙ।

গোলপোস্ট যেন হাসে, কাঁপে প্রতিটি প্রাণ,
তোমার জাদুতে মুগ্ধ আজ সারা বিশ্বের গান।

হার না মানা সাহস নিয়ে এগিয়েছ নিরন্তর,
ঝড়-তুফান পেরিয়ে হয়েছ বিজয়ের অগ্রদূত অমর।

জয়ের মুকুট মাথায় তুলে লিখেছ ইতিহাস,
তোমার নামেই জেগে থাকে কোটি হৃদয়ের উচ্ছ্বাস।

আজ তোমার জন্মদিন, শুভেচ্ছা অফুরান,
আনন্দে ভরে উঠুক তোমার প্রতিটি নতুন প্রভাতের গান।

ফুটবলের আকাশ জুড়ে ছড়াক তোমার দীপ্তি,
শুভ জন্মদিন, মেসি—তুমি অনুপ্রেরণার চিরন্তন স্মৃতি।

কলমে - পুষ্পম
সৌজন্যে অচেনা path

মহাদেবের আঙিনায়মেঘদূতের বার্তা✍️ কলমে: মৌমিতা চৌধুরীগণেশ: বাবা, আমরা তো চারজনই আছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, বাড়িটা আজও পূর্ণ...
24/06/2026

মহাদেবের আঙিনায়

মেঘদূতের বার্তা

✍️ কলমে: মৌমিতা চৌধুরী

গণেশ: বাবা, আমরা তো চারজনই আছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, বাড়িটা আজও পূর্ণ নয়।

শিব: কেন এমন মনে হচ্ছে, বৎস?

কার্তিক: কারণ, যার উপস্থিতিতে ঘর সত্যিই বাড়ি হয়ে ওঠে, তিনি তো ছবিতে নেই।

নন্দী: ঠিকই বলেছ। দেখুন না, বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, অথচ দরজাটা খোলা। মনে হচ্ছে, কেউ আগেই ভেবে রেখেছেন—সবাই যেন ফিরে এসে আশ্রয় পায়।

গণেশ: ফলের থালাটাও কী সুন্দর করে সাজানো! মনে হচ্ছে, মা জানতেন আমরা ভিজেই ফিরব।

শিব (মৃদু হেসে): এটাই তো তোমাদের মায়ের স্বভাব। তিনি সামনে না থেকেও সবার প্রয়োজন আগে বুঝে নেন।

কার্তিক: অর্থাৎ, মা ছবিতে নেই; কিন্তু তাঁর যত্ন আছে। তাঁর কণ্ঠস্বর নেই; কিন্তু তাঁর ভাবনা আজও রয়ে গেছে।

নন্দী: কিছু মানুষ নিজেদের উপস্থিতি দিয়ে নয়, তাঁদের ব্যবহার আর ভালোবাসার মাধ্যমেই সর্বত্র থেকে যান।

শিব: তাই তো বলি, সংসার শুধু দেয়াল দিয়ে গড়ে ওঠে না; একজন মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, যত্ন আর ব্যবহারে তা পূর্ণতা পায়।

গণেশ: আজ বুঝলাম, বাবা—মা সামনে না থাকলেও, তাঁর ভালোবাসা, যত্ন আর ব্যবহারই এই পুরো সংসারটাকে পূর্ণ করে রেখেছে।

সৌজন্যে অচেনা path

*অম্বুবাচী : যখন মহাশক্তি নীরব হন, আর বিশ্ব অপেক্ষা করে* “নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ।নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ ন...
24/06/2026

*অম্বুবাচী : যখন মহাশক্তি নীরব হন, আর বিশ্ব অপেক্ষা করে*

“নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ।
নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্॥”

অর্থাৎ—মহাদেবীকে প্রণাম, শিবরূপিণীকে প্রণাম, প্রকৃতিরূপিণী শুভশক্তিকে প্রণাম।

ভারতীয় ধর্মতত্ত্বে অম্বুবাচী এমন এক আচার, যাহার প্রকৃত অর্থ বাহ্যচক্ষে ধরা পড়ে না। বহু মানুষ ইহাকে কেবল দেবীর উৎসব বলিয়া জানেন; কিন্তু শাক্তদর্শনের অন্তর্গত অর্থ আরও গভীর। এখানে দেবী কেবল পূজিতা নন—তিনি বিশ্বসৃষ্টির নীরব উৎস।

পুরাণীয় ভাবনায় জগৎ কেবল সৃষ্টি দ্বারা পরিচালিত নহে; সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের মধ্যবর্তী এক গুপ্ত সময়ও আছে—যখন কিছু দৃশ্যমান ঘটে না, অথচ অন্তরে রূপান্তর চলিতে থাকে। অম্বুবাচী সেই অন্তর্বর্তী সময়ের প্রতীক।

আষাঢ়ের বর্ষামুখর কালে দেবীকে ঋতুচক্রের প্রতীকে কল্পনা করা হয়। ইহা শরীরের বর্ণনা নহে; ইহা ধরিত্রীর নবউর্বরতা, ধারণশক্তি ও পুনর্জন্মের প্রতীক। এই কারণেই বহু প্রাচীন কৃষিজীবী সমাজে এই সময় মাটি খনন বা বীজরোপণ হইতে বিরত থাকার রীতি ছিল—কারণ বিশ্বাস ছিল, ধরিত্রী তখন নিজেই নবসৃষ্টির প্রস্তুতিতে নিমগ্ন।

একটি কম আলোচিত বিষয় এই—অম্বুবাচীতে দেবীর কাছে কিছু “চাওয়া” অপেক্ষা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় “অপেক্ষা”কে। কারণ শাস্ত্রীয় ধারণা বলিয়া থাকে—যে শক্তি সর্বদা দেয়, সে কখনও নিজেকেও পুনরায় ধারণ করে।

“সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি।”
— হে সনাতনী শক্তি, তুমিই সৃষ্টি, তুমিই স্থিতি, তুমিই লয়।

এই কয়েকদিন মন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকিবার মধ্যে নিষেধের ভাব অপেক্ষা অধিক আছে এক গভীর শিক্ষা—সব পবিত্রতা উচ্চারণে নহে; কিছু পবিত্রতা নীরবতায়।

অম্বুবাচী তাই আমাদের স্মরণ করায়—
শক্তি সর্বদা গর্জনে প্রকাশিত হয় না;
কখনও তিনি নীরবে ধারণ করেন,
আর সেই নীরবতার মধ্য দিয়াই বিশ্ব পুনর্জন্ম লাভ করে।

“জয়ন্তী মঙ্গলাকালী ভদ্রকালী কপালিনী।
দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥”

কলমে~রুচি
ছবি সংগৃহীত
সৌজন্যেঃ অচেনা path

তেরোই জুন, মেসির খেলা, লিওনেল মেসি বলে কথা। বারো তারিখ রাত থেকে পড়াশোনা, খাওয়া দাওয়া, ঘুম মাথায় উঠেছে। বারবার চোখে ভাসছে...
24/06/2026

তেরোই জুন, মেসির খেলা, লিওনেল মেসি বলে কথা। বারো তারিখ রাত থেকে পড়াশোনা, খাওয়া দাওয়া, ঘুম মাথায় উঠেছে। বারবার চোখে ভাসছে বিগত বছরগুলোর বিশ্বকাপ খেলায় মেসির গোল করার কায়দা। অনেক বকাবকির পর মা ঘুমতে পাঠালেও মেসি তো আমার শয়নে স্বপনে বিরাজমান। অন্ধকারের মধ্যেও চোখ বুজে যেন দেখছি কখন বাজবে সাড়ে ছয়টা, টপ করে বিছানা থেকে উঠে খেলা দেখব। যেই সাড়ে ছয়টা বাজলো অমনি মশারি ছিঁড়ে ফেলে টিভি নিয়ে বসে পড়া। এবং, আশ্চর্য" সব তার গোল করা। দেখলে যেন সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যায়, বারবার যেন মনে হয় আবার দেখি, ঠিক কেমন ভাবে বলটা বেঁকে গোলপোস্টে ঢুকল। এবং, যেরকম চাওয়া সেইরকম পাওয়া। ৩-০ গোলে জেতা। বেশ খোশ মেজাজে তৈরি হচ্ছিলাম স্কুলে যাব" বলে। রাস্তায় সেই দেখা 'জীবন্ত টেনিদা' কাকুর সাথে। চা দোকানে বসে উনি বোধহয় চাঁদে নিয়ে সাইকেল চালানোর গল্প করছেন। আশা করি বুঝতেই পারছেন। ওনার বলা কথাগুলো ততোটাই সত্যি, যতটা টেনিদার বাঘ শিকার সত্যি। নিজের মধ্যে কেন জানি না আড়ি পাতা কাকিমা স্বত্ত্ব জেগে উঠল। খুব মন দিয়ে শুনলাম। ঠিক যেন নেতা নেতা ভাব মাইকের অভাব, ভঙ্গি নিয়ে তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গোদের বলছেন, 'মেসি ছেলেটা কি খেলল দেখেছেন! সকালে ঘুম থেকে ওঠা সার্থক... চোখের সামনে ও ছেলেকে দেখেছি এককালে... আহা!'
যদিও আমি নিশ্চিত স্বয়ং ঈশ্বর ওনার বংশের পূর্বপুরুষ আদিম মানুষ হোমো ইরেক্টাস প্রজাতিকেও আর্জেন্টিনায় খুঁজে পাবেন না। যাই হোক তখন হৃদয়ের একদম ভিতর থেকে একটা কথাই বেরিয়ে এল, 'সকাল সকাল কাকুটা ঢপ দিচ্ছে! কাউকে বিশ্বাস করা যায় না আজকাল।'
নেহাত বাস চলে এল, নাহলে আমি আজকে মেসিভক্ত হিসাবে শহিদ হতাম। বাসে উঠে যেতে যেতে ভাবলাম আচ্ছা! এই কাকুর ঢপের মধ্যেও কি মেসি বা অন্যান্য ব্যক্তিত্বরা বেঁচে নেই? জানি ঢপ খারাপ, কিন্তু তা তো প্রতারণা নয়, হয়তো কাকুর মনে মেসির প্রতি অমলিন ভালোবাসা ফুটে উঠেছে এর মধ্য দিয়ে, এই হাজারো গল্প কল্পনা তো আমরা তাকে নিয়েই করি যাকে সত্যিই খুব ভালোবাসি। তাই কেন জানি না কাকুর সেই কথাগুলোর মধ্যে হঠাৎ মিষ্টত্ব খুঁজে পেলাম, বুঝলাম যে এই ঢপের মধ্যেও লুকিয়ে আছে কত বিশ্বাস, ভালোবাসা, না পাওয়ার আশা, যেটি চিরকালীন।

শুভ জন্মদিন, ফুটবলের জাদুকর লিওনেল মেসি। তোমার পায়ের জাদু, বিনয় আর অসংখ্য স্মৃতি কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকুক। 💙🤍⚽

কলমে - শ্রে য় ন্তী
সৌজন্যে অচেনা path

23/06/2026

পাখিদের স্মৃতি কিছু রীতিনীতি
ফণীমনসাও জানে.....
নৃত্যশিল্পী Monalisa Das
অচেনা path

— কিরে ! আগের মতো তো আর কিছু বলিস না আমায় ?— কি বলবো ?— এই যে কোথায় যাচ্ছিস, কিছু হয়েছে কি না, তোর গল্প গুলোও তো বলিস...
23/06/2026

— কিরে ! আগের মতো তো আর কিছু বলিস না আমায় ?
— কি বলবো ?
— এই যে কোথায় যাচ্ছিস, কিছু হয়েছে কি না, তোর গল্প গুলোও তো বলিস না, সেদিন আবার ট্রিপে গেলি বললি না তো আমায় !
— তুই কি শুনতে চাস আমার গল্প ? তোর এতো সময় কোথায় !
— এই ভাবে কেনো বলছিস আগে তো সবকিছুই বলতি আমায়, আমি শুনতে না চাইলেও...
— থাক সে সব কথা, অনেক কিছুই বুঝতাম না তখন তাই করতাম।
— কি বলছিস এসব ? তোর কথা গুলো আমায় না বললে তুই আর কাকে বলবি !
— যখন বলতে চেয়েছিলাম তখন তো শুনতে চাসনি, তাহলে এখন কেনো ? তোর সময় ছিলোনা তুই ব্যস্ত থাকতিস সবসময়ে তাই বললি না।
— তুই তো জানিস আমার কাজের চাপ থাকে সবসময়, বাড়ির নানা ঝামেলা থাকে।
— হ্যাঁ, এই জন্যই তো কিছু বলি না আর তোকে।
কিন্তু আমি তো চাই তুই আমায় বল সবকিছু, আমাকে তো বেস্ট ফ্রেন্ড ভাব।
— তোর কি সময় হবে ! সেই তো আমায় বলবি "ঝামেলায় আছি আমি তুই বুঝতেই চাচ্ছিস না উল্টে আরো ঝামেলা বাড়িয়ে দিচ্ছিস, বুঝতে চাইনা আমি তোকে" তাই থাক আমি বলতে চাইনা তোকে কিছু।
— এই করিস না তুই বলবি আমায় আমি শুনবো সব। আগের মতো তো আর ফোন করিস না, কথা বলিস না ।
— ফোন করলে তো বলবি "অফিসে আছি, নাহলে বলবি অফিস থেকে সবেই ফিরলাম একটু রেস্ট নেওয়ার সময় দে আমায়, নাহলে বলবি আমি বন্ধুদের সাথে বেরিয়েছি বারবার ফোন করিস না আমায়"।
— ভুল হয়ে গেছে আমার আর কখনো করবো না। এবার থেকে সবসময় তোকে সময় দেবো দেখিস, তুই এই রকম করিস না প্লিজ।
— আমি কিছুই করিনি, আসলে কি বলতো, - "কথা বলার জন্য সময়ের প্রয়োজন লাগে না, শুধু গুরুত্ব আর ইচ্ছে লাগে" ।
— আচ্ছা আমি বুঝেছি আর করবো না কখনো সরি, আমার ভুল হয়ে গেছে । রাগ কমিয়ে এবার চল ফুচকা খেয়ে আসি দুজনে !
— এড়িয়ে যাচ্ছিস কথা গুলো !
— না, আমি বুঝেছি আমার ভুল গুলো। আমি চাইনা আর তোকে কোনো কষ্ট দিতে, যতবার এগুলো মনে পড়বে কষ্ট কমবে না বরং ততই বাড়বে।
— এতদিন সেটা খেয়াল ছিলো না ? আজ হঠাৎ এতো খেয়াল করতে কে বলেছে তোকে !
— আর ঝগড়া করিস না প্লিজ, চল চল প্লিজ এবার...
— আমি ঝগড়া করি ? যাবোই না আমি তুই যা...
— না, একদম না, আমি ঝগড়ুটে, আমি ঝগড়া করি তুই না, ভুল হয়ে গেছে মা আমার আর বলবো না, এবার তো চল প্লিজ !
— ঠিক আছে, চল...

Banashree Sanfui
ছবি সংগৃহীত
সৌজন্যে অচেনা path

দেবী ঋতুচক্র পবিত্র, অথচ সাধারণ নারীদের এই একই ঋতুচক্র অশুচি মানা হয়।'মহিলাদের ঋতুচক্র অশুচি মানা ও তৎসংলগ্ন কাল চলাকাল...
22/06/2026

দেবী ঋতুচক্র পবিত্র, অথচ সাধারণ নারীদের এই একই ঋতুচক্র অশুচি মানা হয়।'
মহিলাদের ঋতুচক্র অশুচি মানা ও তৎসংলগ্ন কাল চলাকালীন নানা বিধিনিষেধের বিশেষ কিছু দর্শন ও কারণ আছে। এই সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে নারীরা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও ক্লান্ত থাকেন। তাঁদের পক্ষে যেকোনো প্রকারের কার্যই যথাপূর্বক সম্পন্ন করা কঠিনতর হয়। তাই মাসব্যাপী টানা সংসারের কাজকর্ম থেকে তাঁদের কিছুদিন বিশ্রামের কথা মাথায় রেখেই উক্ত সময়কালে নানা নিয়ম-নিষেধ কার্যকর করা হয়েছিল প্রাচীন সময় থেকে।
ক্রমে কালান্তরে অজ্ঞানী মানুষজন এর আসল অর্থ উদ্ঘাটন না করে সেগুলিকে শুচি-অশুচি, পবিত্র-অপবিত্রের মাপকাঠিতে তুলনা করে নিম্ন সংস্কারের ভিত্তিতে সমাজে কুরূপে ছড়িয়ে দেয়। অবশ্য এসব ছাড়াও ইহার কিছু যথাযথ নিয়মসম্মত কারণও উপস্থিত, তা ক্রমে আলোচনা সাপেক্ষ:
প্রথমত: মহিলাদের ঋতুচক্রের সময় দেব-মন্দিরে যাওয়া অথবা শুচি-শুদ্ধ কোনো কাজকর্মে ব্রতী হওয়া শাস্ত্রবিরুদ্ধ। বিজ্ঞানসম্মতভাবেই ধরে নেওয়া যায়, এই সময়ে তাঁদের শরীরের দূষিত রক্ত, মৃত কোষ, অনিষিক্ত ডিম্বাণু রজঃস্রাবের মধ্যে দিয়ে নির্গত হয়। ফলস্বরূপ কোনো পূজাপাঠ বা শুভানুষ্ঠানে তাঁদের শুদ্ধ শরীরে অংশ নেওয়া কার্যত অসম্ভব। কিন্তু শুদ্ধ মনের ভক্তির কাছে কি আর শরীরের বিশুদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ? শাস্ত্র বলছে, বাহ্যিক শরীর ধীর ও অনড় না হলে মনের বিচলন ঘটতে বাধ্য। তাতে ভক্তি ও সমর্পণের পথে বাধা আসাটা অসম্ভব নয়। তৈলাধার স্থির না হলে যেমন প্রদীপ শিখা স্থির হতে পারে না, এক্ষেত্রেও সেইরূপ ধরা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত: সাধারণ মহিলারা যখন রজঃস্বলা হন, তখন তাঁকে দেবীশক্তি তথা মাতৃশক্তিরই পূর্ণ অংশ ধরে নেওয়া হয়। অর্থাৎ এই সময়ে স্বয়ং মা মহামায়া সেই নারীর মধ্যে অবস্থান করেন। ধরা যাক, কোনো পুরুষ দেবতার মন্দিরে সেই নারী উক্ত কালে প্রবেশ করলে সেই দেবতার ধ্যানস্থিতি ও সংযম ভঙ্গ হয়ে দেবত্ব খণ্ডিত হয়। আর কোনো দেবী মন্দিরের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি এক। সেখানে মা তখন তাঁর কন্যার মধ্যে নিজেকে প্রকাশিত করেন, ফলস্বরূপ স্বয়ং দেবীমূর্তি বা পীঠের দেবীত্ব ভগ্ন হয়। এই কারণে উক্ত সময়কালের সীমারেখায় নারীদের জন্য মন্দিরের বিশেষ বিধিনিষেধ।
তৃতীয়ত: যেকোনো দেবদেবীর মন্দির বা পীঠস্থানের মাহাত্ম্য মূলত সেই স্থানে সুদীর্ঘকাল যাবৎ অগণিত মানুষের জপতপ, পূজা ও ভক্তি নিবেদনের মধ্যে সংযোজিত থাকে। এই পরিবেশের স্পর্শ মানুষের ভিতর সুপ্ত প্রজ্ঞাশক্তিকে ঊর্ধ্বগামী করে তোলে। অন্যদিকে রজঃস্বলা নারীদের মাসিকের সময় তাঁদের শক্তি নিম্নগামী থাকে। ফলে যাতে বিপরীত শক্তির সংঘর্ষের কারণে তাঁদের কোনোরূপ ক্ষতি না হয়, তাই এতৎকালে তাঁদের মন্দিরে যাওয়া শাস্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উক্ত কারণসমূহ ছাড়াও, এই সময়ে নারীরা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় সংসারের কাজকর্ম থেকে (তথাকথিত ভারী কাজ থেকে তো অবশ্যই) বিরত রাখা, দৈহিক অশুচিতার কারণে রন্ধনে অংশগ্রহণ না করা, স্বামী সংসর্গ দূরীকরণের জন্য পৃথক কক্ষে তাঁদের বিশ্রাম ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি হরমোনজনিত ভারসাম্যহীনতার জন্য তাঁদের আবেগ ও মেজাজ বিরূপ হওয়ার নানা লক্ষণ দেখে সুস্থ জীবনযাত্রা নির্বাহের নিমিত্ত তাঁদের পৃথকীকরণের কথা গ্রাহ্য হয়েছে।
তবে সবসময় যে এই রজঃ অপবিত্রই ধরা হয়, তা নয়। কিছু বিশেষ পূজা পদ্ধতিতে (প্রধানত তান্ত্রিক আচারে) মহিলা যোনিরক্তকে পুষ্পার্ঘ্য হিসেবে মানা হয় ও দেবীকে তা নিবেদন করা হয়ে থাকে।
দেবীর ঋতুচক্র পবিত্র বলে মানা হয়, কারণ তিনি স্বয়ং দেবী, জগৎ প্রসবকারিণী আদ্যাশক্তি। তাঁর এই চক্র গ্রহ-নক্ষত্রাদি যোগাদিষ্ট তথা ভৌগোলিক ও প্রকৃতিজাত মহিমার চিরন্তন সত্তা। তাঁর অঙ্গ, বস্ত্র, শোভা, অস্ত্রের ন্যায় ঋতুমতী হওয়া তো অত্যন্ত স্বাভাবিক ও পবিত্র হতেই হবে। কিন্তু হীন মানবসন্তান ভুলে যান যে তার ঘরেই স্বয়ং মা জগদম্বা নানান রূপে বর্তমান। কখনো মা, ভগিনী, কন্যা কখনো বা তার অর্ধাঙ্গিনীর বেশে। আর তার গর্ভমধ্যেও যে প্রাণ-বীজধারী জীবনদায়িনী শক্তি তথা বিশ্বজননীর ক্ষুদ্র প্রকাশ লুকিয়ে আছে, সেই কথা স্মরণ করিয়ে দেবার জন্যই এই বিশেষ তিথির পালন।

"যত্র নার্য্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ।"
— (মনুস্মৃতি, ৩/৫৬)
অর্থ: যেখানে নারীদের সম্মান ও পূজা করা হয়, সেখানে দেবতারা সানন্দে অবস্থান করেন।

• কলমে — সপ্তর্ষি রাজন আচার্য্য
ছবি সংগৃহীত
সৌজন্যে অচেনা path

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when অচেনা path posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share