Mytinytells

Mytinytells Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Mytinytells, KOLKATA.

MyTinyTells - হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প, মন ভালো করে দেওয়া উক্তি, এবং জীবনের সাথে আপনার যোগ স্থাপন করার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম। Lavanya-এর দেওয়া এই ছোট্ট ছোট্ট কাহিনী আপনার দিনকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

19/05/2025

কিছু ভালোবাসা অস্তিত্ব চায় না, আদর চায় না, আরাম চায় না। তারা এমনিই থেকে যায়... নিঃশব্দে, গোপনে। যেন এক দীর্ঘশ্বাস, যা বুকের গভীরে লুকিয়ে থাকে, না যায় বলতে, না যায় সইতে। তারা কোনো হিসেব খোঁজে না, কোনো প্রতিদান চায় না। তারা শুধু জানে, তারা আছে... সবসময়।
যেমন দূর আকাশের তারা, যাদের আলো হয়তো আমরা দেখি না, কিন্তু তারা তো থাকে... তেমনি কিছু ভালোবাসা আমাদের মনের ভেতরে জেগে থাকে, কোনো রূপ ছাড়াই, কোনো স্পর্শ ছাড়াই। তারা আমাদের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়, আমাদের কষ্টের সান্ত্বনা হয়। তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা একা নই, আমরা পরিত্যক্ত নই।
এই ভালোবাসা হয়তো আমাদের জীবনে কোনো বড় পরিবর্তন আনে না, হয়তো কোনো রংধনুও ফোটায় না। কিন্তু তারা থাকে... যেমন মরুভূমিতে পথ হারানো পথিক দেখে দূর আকাশে এক চিলতে মেঘ, যা জানান দেয়, সে একা নয়। এই ভালোবাসা হয়তো এমনই... এক অব্যক্ত আশ্বাস, এক নীরব প্রতিজ্ঞা।
#মনকথা #ভালোবাসা #দূরত্ব

ধূসর রাতের পর্দা সরিয়ে,আলো ঝলমলে দিনের আগমন।ক্লান্ত শহরের বুকে জেগে ওঠে প্রাণ,সকাল মানেই নতুন শুরুর গান।   #সুপ্রভাত
17/05/2025

ধূসর রাতের পর্দা সরিয়ে,
আলো ঝলমলে দিনের আগমন।
ক্লান্ত শহরের বুকে জেগে ওঠে প্রাণ,
সকাল মানেই নতুন শুরুর গান।
#সুপ্রভাত

09/05/2025

ওরা অনেকটা সময় আলাদা ছিল।
শুধু শহর বা সময় না, ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল সম্পর্কের ভাষাও।

তবুও, ওরা বলত—
"ভালোবাসা দূরত্ব বোঝে না।"
হয়তো ঠিকই বলত।
কিন্তু বোঝে না বললেই, সেই দূরেত্বে থাকাটা বন্ধ হয়ে যায়?

রাত গভীর হলে সে মেসেজ করত—
"ঘুমোচ্ছ?"
উত্তর আসত ঘন্টা দেড়েক পরে—
"অফিস থেকে ফিরলাম, আজ খুব ক্লান্ত।"

সেই উত্তরের মধ্যেও মেয়েটা খুঁজে নিত ভালোবাসা।
তবুও একদিন, সব চুপচাপ হয়ে গেল।
না বলা কথাগুলো, না ফেরা উত্তরগুলো—
সব মিলে দূরত্বটাকে আরো গাঢ় করে তুলল।

ভালোবাসা তখনও ছিল,
তবে তার গায়ে জমে গেছিল নীরবতার বরফ।

ভালোবাসা দূরত্ব টের পায় না—
এই কথাটা যতটা রোমান্টিক শোনায়,
বাস্তবে তা ধরে রাখতে লাগে সাহস।

সবাই পারে না।

---

| #মনকথা | #ভালোবাসা | #দূরত্ব | |

হাজার বছর বাঁচতে চাই  #কবিতা  #বাংলাকবিতা  #মনস্তাত্ত্বিক
08/05/2025

হাজার বছর বাঁচতে চাই
#কবিতা #বাংলাকবিতা #মনস্তাত্ত্বিক

❤️🌹 #কবিতা
07/05/2025

❤️🌹
#কবিতা

শিরোনাম: ছায়া সঙ্গীKolome - লাবণ্যঅরিত্র যখন ছোট ছিল, তখন তার একটি কাল্পনিক বন্ধু ছিল – যার নাম সে দিয়েছিল ‘ছায়া’। ছায়া ...
02/05/2025

শিরোনাম: ছায়া সঙ্গী
Kolome - লাবণ্য
অরিত্র যখন ছোট ছিল, তখন তার একটি কাল্পনিক বন্ধু ছিল – যার নাম সে দিয়েছিল ‘ছায়া’। ছায়া সবসময় অরিত্রের পাশে থাকত, তার সাথে খেলত, গল্প করত, এমনকি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ও সে অরিত্রের ঘরের এক কোণে চুপ করে বসে থাকত। অরিত্র ছাড়া আর কেউই ছায়াকে দেখতে পেত না।
ধীরে ধীরে অরিত্র বড় হলো, স্কুলের গণ্ডি পেরোল, কলেজে ভর্তি হলো। বাস্তব জীবনের চাপে এক সময় সে তার ছায়া বন্ধুর কথা ভুলেই গেল। এখন তার অনেক বন্ধু, কাজ, আর নিজের একটা জগৎ তৈরি হয়েছে।
একদিন অরিত্র তার পুরনো দিনের জিনিসপত্র ঘাঁটতে গিয়ে তার ছোটবেলার আঁকা কিছু ছবি খুঁজে পেল। একটি ছবিতে দেখা গেল একটি ছোট ছেলে, যার পাশে লম্বা, আবছা একটি অবয়ব দাঁড়িয়ে – ছায়া। ছবিটি দেখে অরিত্রের পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে গেল, তবে এখন সে বুঝতে পারে ওটা শুধুই তার মনের ভুল ছিল, ছোটবেলার কল্পনা।
কয়েক বছর পর অরিত্র একটি পুরনো বাংলোতে একা থাকতে শুরু করে। বাংলোটি নির্জন, শহরের কোলাহল থেকে দূরে। প্রথম কয়েক দিন সব শান্ত ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে অরিত্র অনুভব করতে শুরু করলো যেন তার আশেপাশে সবসময় কেউ আছে। রাতে সে অস্পষ্ট পায়ের শব্দ শুনতে পায়, কখনো মনে হয় কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে।
প্রথমে সে ভেবেছিল এটা তার মনের ভুল, একাকিত্বের ফল। কিন্তু অনুভূতিটা ক্রমশ জোরালো হতে থাকে। একদিন রাতে যখন সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছিল, হঠাৎ তার পাশে একটা ঠান্ডা স্রোত অনুভব করলো। সে চমকে ঘুরে দেখলো – কেউ নেই।
পরের দিন সকালে অরিত্র তার ঘরের পুরনো একটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ আয়নার কাঁচের ভেতর সে নিজের প্রতিচ্ছবির পাশে আরেকটি আবছা অবয়ব দেখতে পেল – লম্বা, পাতলা, যেন এক টুকরো অন্ধকার। অরিত্রের বুক ধক করে উঠলো। অবয়বটা… ছায়ার মতো!
অরিত্র দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। তার মনে ভয় আর বিস্ময়ের ঝড় উঠেছে। ছোটবেলার সেই কাল্পনিক বন্ধু কি সত্যিই কোনো অস্তিত্ব ছিল? আর এখন কেন সে ফিরে এসেছে?
কয়েক দিন পর অরিত্রের এক পুরনো বন্ধু, মনোবিজ্ঞানী সোমনাথ, তার সাথে দেখা করতে এলো। অরিত্র তাকে তার অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা খুলে বলল। সোমনাথ প্রথমে বিষয়টিকে অরিত্রের মানসিক চাপ বা একাকিত্বের ফল বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু অরিত্র যখন সেই ছোটবেলার আঁকা ছবিটা দেখালো, সোমনাথের মুখও গম্ভীর হয়ে গেল।
সোমনাথ বাংলোটির ইতিহাস ঘাঁটতে শুরু করলো। জানতে পারলো, বহু বছর আগে এই বাড়িতে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল। বাড়ির মালিকের এক ছেলে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়, তার কোনো খোঁজ আর পাওয়া যায়নি। শোনা যায়, ছেলেটি একা থাকত এবং তার নাকি একটি কাল্পনিক বন্ধু ছিল।
একদিন রাতে অরিত্র ঘুমোতে পারছে না। বাংলোর বাইরে ঝিঁঝি পোকার ডাক আর বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ। হঠাৎ সে তার ঘরের দরজার কাছে আবছা একটি ছায়া দেখতে পেল। ছায়াটা ধীরে ধীরে দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। অরিত্র ভয়ে জমে গেল, নড়াচড়া করার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছে।
ছায়াটা তার বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো। অরিত্রের মনে হলো যেন এক শীতল হাত তার দিকে বাড়ছে। সে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
পরের দিন সকালে সোমনাথ যখন অরিত্রের ঘরে ঢুকলো, সে যা দেখলো তার জন্য বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিল না। অরিত্র বিছানায় শান্তভাবে ঘুমোচ্ছে, তবে তার পাশে… আর একটি আবছা অবয়ব শুয়ে আছে, ঠিক যেন ছোটবেলার সেই ছবিতে দেখা ছায়া।
কিন্তু অপ্রত্যাশিত টুইস্টটা হলো – এতদিন শুধু অরিত্র দেখছিলো, এখন সোমনাথও সেই ছায়াটাকে দেখতে পাচ্ছে! এবং ছায়াটা অরিত্রের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছে – ঠিক যেন বহুদিনের চেনা কেউ।
কে এই ছায়া? এটা কি সত্যিই অরিত্রের কাল্পনিক বন্ধু, নাকি সেই নিখোঁজ ছেলেটির আত্মা? আর সোমনাথই বা কেন এখন ছায়াটাকে দেখতে পাচ্ছে?

#ছায়াসঙ্গী #অপ্রত্যাশিত #রহস্য #ভয় #গল্প #বাংলাগল্প #ফ্যান্টাসি #মনস্তাত্ত্বিক #কাল্পনিকবন্ধু #ছোটবেলারস্মৃতি #পুরনোবাংলো #অশরীরী #আত্মা #আয়না #মনোবিজ্ঞান #নিখোঁজ #ঘুমেরমধ্যে

জলছবি কলমে - পারিজাতএকদিন, এক ফোঁটা জল মেঘের বুক থেকে টুপ করে মাটিতে পড়ল। প্রথমে সে ভয় পেয়েছিল, একা আর নতুন একটা দুনি...
02/05/2025

জলছবি
কলমে - পারিজাত

একদিন, এক ফোঁটা জল মেঘের বুক থেকে টুপ করে মাটিতে পড়ল। প্রথমে সে ভয় পেয়েছিল, একা আর নতুন একটা দুনিয়া। কিন্তু মাটি তাকে টেনে নিল, মিশে গেল নরম কাদামাটির সাথে। সেই ছোট্ট জলবিন্দু ভাবতেও পারেনি, এটাই তার জীবনের শুরু।
কাদা মেখে সে দেখল, তার পাশে আরও কত বন্ধু। ছোট ছোট ঘাসের শিকড় তাদের জড়িয়ে ধরল, সূর্যের আলো তাদের উষ্ণ করল। তারা একসাথে স্বপ্ন দেখল, একদিন তারা আকাশ ছুঁয়ে দেখবে।
সময় গড়াল। বৃষ্টি এল, বন্যা এল। ছোট্ট জলবিন্দু কখনও স্রোতের সাথে ভেসে গেল, কখনও শুকনো মাটিতে মিশে গেল। কিন্তু হার মানল না। প্রতিবার নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করল।
একদিন, সে দেখল তার পাশে ছোট্ট একটা চারাগাছ মাথা তুলছে। জলবিন্দু খুশি হল। সে তার সবটুকু রস দিল চারাগাছটিকে। দিনের পর দিন, তারা একসাথে বড় হতে লাগল। চারাগাছটি ডালপালা মেলল, সবুজ পাতায় ভরে গেল।
একদিন, এক ঝড় এল। গাছটির একটা ডাল ভেঙে গেল। জলবিন্দু খুব কষ্ট পেল। মনে হল, তার এতদিনের স্বপ্ন ভেঙে গেল। কিন্তু গাছটি তখনও দাঁড়িয়ে ছিল, বুক চিতিয়ে লড়াই করছিল।
ধীরে ধীরে ঝড় থামল। আকাশ আবার পরিষ্কার হল। ভাঙা ডালের পাশে নতুন কুঁড়ি গজালো। জলবিন্দু দেখল, জীবন থেমে থাকে না। ঝড় আসে, কষ্ট আসে, কিন্তু তার পরেও আবার নতুন করে শুরু করা যায়।
তারপর একদিন, গ্রীষ্মের দুপুরে, জলবিন্দু দেখল সেই গাছটিতে সুন্দর ফুল ফুটেছে। রঙিন পাপড়ি মেলে সে হাসছে। জলবিন্দুর চোখে জল এল। এ কান্না কষ্টের নয়, আনন্দের। সে বুঝতে পারল, তার জীবন সার্থক।
সেদিনের সেই ছোট্ট জলবিন্দু আজ আর একা নয়। সে মিশে আছে সেই গাছের প্রতিটা পাতায়, প্রতিটা ফুলে। জীবনের মানে শুধু বয়ে যাওয়া নয়, কখনও কখনও এক জায়গায় দাঁড়িয়েও অনেক সুন্দর স্বপ্ন বোনা যায়।
#আবেগ

কৃষ্ণচূড়ার সাক্ষী কলমে - Reha Arya ফাল্গুনের প্রথম স্পর্শে প্রকৃতি যখন নবীন পাতায় সেজে ওঠে, ঠিক সেই সময় শহরের কোণে পুর...
01/05/2025

কৃষ্ণচূড়ার সাক্ষী
কলমে - Reha Arya
ফাল্গুনের প্রথম স্পর্শে প্রকৃতি যখন নবীন পাতায় সেজে ওঠে, ঠিক সেই সময় শহরের কোণে পুরনো দিনের এক বাড়িতে, আলমারির তাকে প্রায় তিন যুগের বেশি সময় ধরে বন্দি হওয়া একটা হলুদ শাড়ি নিরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। খাঁটি সিল্কের শাড়ির উপর জরির হালকা কাজ। সময়ের স্রোতে উজ্জ্বল্য কিছুটা হয়তো ফিকে হয়ে গেছে, তবুও তার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে এক মায়াবী গল্প, একটা পুরো ইতিহাস।

শুভ্র প্রথম উপার্জন- ছাত্র পড়ানো টাকায় এই শাড়িটি কিনে দিয়েছিল সে তার বছর কুড়ির তরুণী প্রেমিকা মাধবীকে। এই শাড়িটি মাধবীরও প্রথম ভালোবাসার উপহার। সে ছিল শান্ত, স্নিগ্ধ তার চোখে ছিল স্বপ্ন ঠোটে ছিল মিষ্টি হাসি। এক সোনালী দুপুরে কৃষ্ণচূড়ার তলায় দাঁড়িয়ে শুভ্র তার হাতে তুলে দিয়েছিল এই উপহারটি।
শুভর কন্ঠে ছিল সুর, আর চোখে ছিল ভবিষ্যতের হাতছানি। এই হলুদ রং তাদের জীবনে এনে দিয়েছিল একরাশ সোনালী রোদ আর, ভালোবাসার উষ্ণতা। এই শাড়ি পরেই মাধবী অজস্র বসন্তের দুপুরে শুভ্রর হাত ধরে হেঁটেছে শহরের-অলি-গলি-পথে, নদীর ধারে। কত সন্ধ্যায় যে অসাবধানতায় তার আঁচলটা ছুঁয়েছে শুভ্রর উদাসী মুখ, তার কোন হিসেব নেই। শুভ্র বলতো, "মাধবী এই হলুদ রং তোমার হাসির মতো উজ্জ্বল। আমার জীবনের আলোর মতো মূল্যবান।"
তাদের এই সুন্দর ভালবাসার আকাশে হঠাৎ ঘনিয়ে এলো এক কালো মেঘ। এক দুরারোগ্য ব্যাধি দিনে দিনে গ্রাস করে চলেছে শুভ্রর সারাটা শরীর। বাঁচার আশা ক্ষীণ। এই ভয়ংকর সত্যটির সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিয়েছিল শুভ্রকে।
তবু সে মাধবীকে তার এই অসুস্থতার কথা জানাতে যথেষ্ট দ্বিধাবোধ করলো। এই কঠিন সত্যটা জানলে, মাধবী নিমেষেই শেষ হয়ে যাবে। তার কোমল হৃদয় এই আঘাত কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না। তাই সেদিন শুভ্র এক ভীষণ কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মাধবীকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
মাধবীকে সে জানালো, সম্পর্কটা আগে নিয়ে যাওয়া তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। মিথ্যে অজুহাত দিল, অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ভান করলো সে। বলল, আগামী শীতে তার বিয়ে, বাড়ি থেকে ঠিক হয়েছে।
মাধবী সরল বিশ্বাসে আঘাত হানল শুভ্রর এই নিষ্ঠুর অভিনয়। স্বপ্ন ভেঙে গিয়ে তছনছ হয়ে গেল মাধবীর ভালোবাসার এই ছোট্ট বাগান। হলুদ সিল্কের শাড়িটি ও মুখ বুজে পড়ে রইল আলমারির এক কোনে, তার রং যেন আরো মলিন হয়ে গেল বেদনার ছোয়ায়।
বছর ৩৫ পার হয়ে গেছে। মাধবী চোখের কোনে পড়েছে ক্লান্তির ছাপ আর চুলে মিশেছে রুপোলি আভা। তার বুকের ভেতর সেই পুরনো ভালবাসার ক্ষত ভীষণ দগদগে আজও। সেদিন পুরনো আলমারি গোছাতে গিয়ে মাধবীর হাত পরল সেই হলুদ শাড়িটির উপর। বহুদিনের স্পর্শ না পাওয়া কাপড়টি যেন একটু কেঁপে উঠল তার ছোঁয়ায়।
শাড়িটি বের করে আনলো। মলিন হয়ে আসা হলুদ রঙে তারুণ্যের দিনের ছবি যেন ভেসে উঠলো। শুভর মুখের হাসি, কৃষ্ণচূড়ার লাল রং, সব যেন জীবন্ত হয়ে উঠল তার চোখের সামনে। বুকের ভিতর চিনচিনে ব্যথা অনুভব করল মাধবী। কেন যে শুভ্র তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, এতো ভালোবাসা সত্বেও, সেই রহস্য আজও তার মনে কাঁটার মত বিঁধে আছে- "হয়তো স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালোই আছো শুভ্র, তাদের জীবন অক্ষয় হোক।"
মাধবী অবশ্য বিয়ে করেছিল বাড়ির Only। আজ তার সংসার, সন্তান, নাতি-নাতনি সবই আছে।
হঠাৎ তার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। তার নাতি"ঐতিহ্য" এসেছে। সঙ্গে একটি বয়েস কুড়ির মেয়ে, নাম - মধুশ্রী।
মাধবী নামটি শুনে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। সে আর শুভ্র ঠিক করেছিল তাদের কন্যা সন্তান হলে নাম রাখবে মধুশ্রী।
মিষ্টি স্বভাবের মেয়েটির হাতে কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া ফুল। মেয়েটি ও মাধবীকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। মাধবীর মুখের আদল অনেকটা তার দাদুর ঘরে রাখা ছবিটির মতোই। তবে কি শুভ্র বিয়ে করেছিল? না মধুশ্রী তার নিজের নাতনী নয়, তার বোনের ঘরের নাতনি। সেই বোন যে সবটা জানতো। সেই বোন, যার শেষ যত্নে শুভ্র শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পেরেছিল। খালি যাওয়ার আগে একবার বলে গিয়েছিল মেয়ে হলে নাম রাখিস মধুশ্রী। বোনের মেয়ে তো হয়নি, হয়েছিল ছেলে। তবুও সে কথা রেখেছিল, ছেলের ঘরে মেয়ে হলে নাম রেখেছে মধুশ্রী। শুভ্রর বোন তনিমা, গুছিয়ে রেখেছিল শুভ্রর সমস্ত স্মৃতি, টুকরো টুকরো আবেগ। আর সেই স্মৃতিরই একটা অংশ ছিল মাধবীর একটা ফটো।
মেয়েটি অস্ফুটসরে বলে উঠেছিল মধু দিদা না? তাইতো, শুভ্র ভালবেসে মাধবীকে মধুই তো ডাকতো।
জানো তো মধু দিদা, মা বলেছে আমার দাদুর শেষের ইচ্ছে ছিল বাড়িতে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানো। তাই দাদু যেদিন চলে গেল সেদিনই মা একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগিয়েছিল বাড়ির পেছনের বাগানে। সেই গাছের তলায় রোজ অজস্র ফুল পড়ে থাকে। এই ফুল কটা সেখান থেকেই তোলা।
এই বলে মধুশ্রী মাধবীর শাড়ির কোচে ফুল কটা অগোছালো ভাবে ফেলে দিল।
শুনেছি দাদু শেষ দিন পর্যন্ত তোমাকে ভালবেসেছিল।
মাধবীর চোখে বাঁধ ভাঙলো , এত বছর পর শুভ্রের ভালবাসার গভীরতা সে উপলব্ধি করতে পারল। যে হলুদ শাড়ি এতদিন বেদনার প্রতীক ছিল, আজ থেকে সেই শাড়ি শুভ্রর নীরব ভালোবাসার বার্তা বহন করবে।
তাই শাড়িটি উজ্জ্বল না হলেও তার মায়া কিন্তু আজও অমলিন। এখানে জড়িয়ে আছে এক গভীর ভালবাসার আত্মত্যাগের গল্প। ফাল্গুনের রঙিন স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে মধুর ক্লান্তি। আজ থেকে সেই মায়া, সেই ক্লান্তি বহন করে চলবে মাধবী, তার অশ্রুসিক্ত হৃদয়ের গভীরে।
আজ এই হলুদ শাড়িটি তার কাছে এক নীরব স্বীকারোক্তি, "সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না, শুধু পরিস্থিতি তাকে ভিন্ন রূপ দেয়।"

সমাপ্ত

#হলুদস্মৃতি #বিরহীভালোবাসা #কৃষ্ণচূড়ারগান #ফাল্গুনেরমায়া #অসমাপ্তপ্রেম #নীরবতা #গভীরঅনুভূতি #বাংলাগল্প #ভালোবাসা #স্মৃতি

"সবকিছু ঠিক হয়ে যায়—কিন্তু ঠিক হতেই যে সময়টা লাগে, সেটা কেউ বুঝতে চায় না।"
29/04/2025

"সবকিছু ঠিক হয়ে যায়—কিন্তু ঠিক হতেই যে সময়টা লাগে, সেটা কেউ বুঝতে চায় না।"

29/04/2025

এমন অনেক কিছু জানার আছে, অনেক কিছু শেখার আছে।
বন্ধু হলে, ভাগ্য করে নেবো সব।
🙏🙏🙏
পাশে থাকবেন।
Whenever you see the Stars icon, you can send me Stars!

Address

Kolkata

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mytinytells posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Mytinytells:

Share