12/07/2026
:ডাউহিল অভিযান:-দ্বিতীয় পর্ব
এরপর যখন চোখ খুললো তখন ভোর ছটা, ট্রেন কিষানগঞ্জ ঢুকছে, নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সোহম আর সুজয় দুজনে জানালার দিকে তাকিয়ে বসে আছে, বিকাশ আমার উলটো দিকের উপরের বার্থে এখনো ঘুমাচ্ছে, অয়ন দেখলাম বাথরুম দিয়ে নিজের সিটে এসে বসলো কিন্তু সুমনকে দেখতে পেলাম না, উপর থেকে নিচে নেমে এসে ব্রাশ টা বার করে বাথরুম এর দিকে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখলাম সুমন দরজার ধারে দাড়িয়ে আছে, পিছন দিয়ে গিয়ে সুমনকে গিয়ে ডাকতে ও চমকে গেল, আমি বললাম কিরে কী ভাবছিলি চমকে গেলি যে, তখন সুমন বললো যে ভাই কার্শিয়াং এর একটা জায়গা আছে শুনেছি নাকি ভুতূরে ওখানে যাবি? আমি অবাক হয়ে বললাম সারারাত কী না ঘুমিয়ে এই সব ভাবছিলি? তখন সুমন বললো তুই যাবি কী না বল, আমি বললাম যদি সবাই যায় আমিও যাব, শুনেছি কার্শিয়াং এর ঐ ভূতুড়ে জায়গাটার নাম ডাউহিল ফরেস্ট, ব্রাশ করে নিজের সিটে গিয়ে বসতে গিয়ে দেখলাম বিকাশ ও এতক্ষনে উঠে পরেছে, ট্রেনের কামাড়ায় চা আসতে দেখে সবাই এককাপ করে চা খেয়ে নিলাম এরপর আটটা নাগাদ ট্রেন নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশনে ঢুকলো, ট্রেন থেকে নেমে ষ্টেশনের বাইরে এসে সবাই একটা করে সিগারেট আর চা খেয়ে গাড়ির খোঁজে গেলাম কারন নিউজলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং যেতে গেলে এই গাড়ি ছাড়া উপায় নেই, আমরা দুজন করে তিনটে গ্রুপে ভাগ হয়ে গিয়ে গাড়ি খুজতে লাগলাম, শেষে একটা শেয়ার গাড়ি পেলাম কিন্তু ড্রাইভার বললো যে দশজন না হলে ছাড়বে না আর ছাড়লে বাকি সবার টাকাই আমাদের দিতে হবে, অগ্যতা কিছু করার নেই অপেক্ষা করা ছাড়া, এই ভাবেই আরো আধা ঘন্টা কেটে গেলো, এদিকে অয়ন আর সুমন সিগারেটের পর সিগারেট শেষ করছে কিন্তু শেষে একটা মেয়েদের চারজনের গ্রুপ এলো আমাদের শেয়ার গাড়ির কাছে, এবং মেয়ে গুলোকে আস্তে দেখেই আমি ছাড়া আমার বাকি বন্ধুদের আনন্দের আর শেষ নেই, কারন আমি ছাড়া আমার বাকি সববন্ধুরাই সিঙ্গেল কিন্তু মেয়েগুলো এতগুলো ছেলের মাঝে বসতে একটু ইতস্তত বোধ করলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাধ্য হলো কারন তাদেরও তাড়া ছিল কারন দার্জিলিং পৌছাতে ৪-৫ ঘন্টা লাগছে, এখন প্রায় দশটা বাজে দার্জিলিং পৌছাতে ৩ টে বেজে যাবে তাই কোন উপায় না দেখে বসতে বাধ্য হলো কিন্তু ড্রাইভার বুদ্ধি করে মাঝের সিট গুলো মেয়েগুলোকে দিয়েছিল যাতে কারোর কোন অসুবিধা না হয় এরপর গাড়ি চলতে শুরু করলো, আমি আর অয়ন সামনে বসলাম ড্রাইভার দাদার পাশে মাঝখানে মেয়েগুলো আর শেষে বাকি চারজন, এইবার আমাদের গাড়ি আসতে আসতে পাহাড়ে উঠতে শুরু করলো চারিদিকে সবুজে ঘেরা পাহাড়ের গা বেয়ে আমাদের গাড়ি উঠছে পিছনে শুনতে পাচ্ছি সুমন আর সুজয় মেয়েগুলোর সাথে ভাবজমাতে ব্যস্ত ওদের কথাবার্তায় শুনতে পেলাম মেয়েগুলোও সবাই কোলকাতা ও তার আশেপাশে থাকে, কলেজে পড়ে, পরীক্ষা শেষে আমাদের মতই ঘুরতে এসেছে, প্রায় ঘন্টা দেড়েক গাড়ি চলার পর পাহাড়ের কোলে গাড়িটা দাড়ালো, ড্রাইভার ভালো বাংলা বোঝে না, হিন্দিতেই বললো "ইহাপে গাড়ি কুছদের রুকেগা, জিসকো খানা পিনা হে অর বাথরুম জানা হে সবকুছ কার লিজিয়ে ইসকাবাদ নেহি রুকেগা", আমি ও আমার বন্ধুরা গাড়ি থেকে নেমেই সবাই সিগারেট ধরাতে ব্যস্ত, আমাদের সিগারেট ফুকতে দেখে একটা মেয়ে এগিয়ে এসে সিগারেট চাইলো, সাথে সাথেই সুমন এগিয়ে গিয়ে সিগারেট বার করে দিলো, মেয়েটি আমাদের সবার সাথে আলাপ করলে জানতে পারলাম মেয়েটির নাম অনিন্দিতা, বাড়ি দমদম, সুমনের সাথে দেখলাম ভালোই বন্ধু হয়ে গেছে ওরাও সবাই দার্জিলিং যাচ্ছে, এরপর আবার গাড়ি চলতে শুরু করলো, দেখতে দেখতে কার্শিয়াং এসে গেলো, কারন দার্জিলিং যেতে গেলে কার্শিয়াং এর উপর দিয়ে যেতে হয়, কার্শিয়াং আসতেই সুমন আমায় ডাউহিল ফরেস্ট এর কথা ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করতে বললো, ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসা করাতে যা বললো তাতে কিছুটা চমকে গেলাম, ড্রাইভার বললো "দেখিয়ে হামনে ভি সুনা হে অস জাঙ্গাল মে কুছ তো আজিব চিস হোতা হে, ইতনা ঘনা জাঙ্গাল কি সুভামেভি অন্ধেরা হোতাহে অর সাম ঢালনকে বাদ তো কোই নেহি রাহেতা, রাতকো কুছ গারবার হে উস জাঙ্গালমে, সুনাহে রাতমে আত্মা ঘুমতা হে পার হাম কাভি কুছ নেহি দেখা" শুনেই পিছন থেকেই সবাই হেসে উঠলো সুমন আর সুজয় বললো ওই সব আত্মা বলে কিছু হয় না, বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়াতে আমারও ভূতের সেরম বিশ্বাস নেই কিন্তু কৌতুহল আছে খুব, তখনই ঠিক হলো ফেরার পথে একদিন আমরা থাকবো কার্শিয়াংএ আর ডাউহিল অভিযান করবো, আমাদের কথা এতক্ষন মেয়ে গুলো শুনছিল চুপ করে এবার তারাও বললো তারাও নাকি আমাদের সাথে থাকবে, আর শুধু তাই নয় নাকি পুরো টুরেই আমাদের সাথে থাকবে, শুনে আমরা ছেলেরাও খুশি হয়ে গেলাম যাক এবার একটা দারুন আ্যডভেন্চার হবে।
পরর্বতী পর্বের জন্য চোখ রাখুন আমাদের পেজে আর লাইক করুন এই পেজটি