জয়ীর বৈঠকী আসর

জয়ীর বৈঠকী আসর Personal experience sharing, story telling etc

21/06/2026

Tribute to World Music Day

21/06/2026

বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সবাই যখন নিজের নিজের মত করে সুরের মূর্ছনায় ভেসে যাচ্ছে , তখন এটাই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য আমার বাবার প্রতি, সঙ্গীতের প্রতি 🙏

28/01/2026

মাত্র দিন দুয়েক হলো আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে গেল যার হল্কা এখনও আমাদের পোড়াচ্ছে। কত মানুষ নিজেদের আত্মীয়, বন্ধু, পরিজনের খোঁজে হাহাকার করছেন। নিয়ম মেনে যথারীতি রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়ে গেছে। এরই মধ্যে আজ সকালেই প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় যে বড় ছবিটি সহ এই বিষয়ক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, সেটা আর যাই হোক, কখনই কাম্য নয়। না, তার গুণগত মান নিয়ে বলছি না, বলছি তার অমানবিক দিক নিয়ে। ভাবুন তো একবার, যে মানুষটি এমন ভয়ঙ্কর মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করে চলেও গেলেন, যাঁর কাছের মানুষ ফোনে শেষ বলা কথাগুলো এখনও শুনতে পাচ্ছেন, যাঁদের শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য, থানা থেকে পাওয়া হলুদ স্লিপ ভরসা DNA টেস্টের জন্য, সেই মানুষগুলি এই ছবিটি দেখে আরোও কতটা যন্ত্রণা পাবেন!! হয়তো এই ছবি ঘটনার ভয়াবহতাকে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু সেটা কি মানবিক দিককে কম গুরুত্ব দিয়ে সাধন করা যায় ? সংবাদমাধ্যম একটি সমাজের দর্পণ, তাই তাকে আরো সংবেদনশীল হতে হবে বিশেষ করে যে সমাজ এক অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানবিকতা মুখোশের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে, যেখানে বাহুবলই রাজত্ব করার একমাত্র হাতিয়ার, সেখানে সাধারণ মানুষের যন্ত্রণাকে যন্ত্রণা হিসেবেই তুলে ধরতে হয়, পত্রিকার বিজ্ঞাপনী ভাবনা, বাজারে বিক্রি বেশি হবে এই ভাবনাগুলোকে না হয় তুলে রাখা থাক অন্য কোনো বিষয়ের জন্য।

আজ আমাদের মা শ্রীমতি ইরা বসু গুটি গুটি পায়ে ৭৯তে পা দিলেন। আমার দাদু দিদার কল্যাণে ছোটখাটো শান্তশিষ্ট মানুষটির ডাকনাম ব...
27/01/2026

আজ আমাদের মা শ্রীমতি ইরা বসু গুটি গুটি পায়ে ৭৯তে পা দিলেন। আমার দাদু দিদার কল্যাণে ছোটখাটো শান্তশিষ্ট মানুষটির ডাকনাম বুড়ি হলেও মা কিন্তু এখনো শিশুসুলভ মন নিয়েই দিব্যি এতগুলো বসন্ত পার করে ফেললেন এই জটিল জীব জগতে। সূচি শিল্পে দক্ষ, রন্ধন পটিয়সী, C sharp এ অবলীলায় গান গেয়ে ফেলা মা এখন একটু রোগে জরাজীর্ণ হলেও মনে আনন্দের খামতি নেই। নিজের হোক বা অন্যের জন্মদিন, মায়ের আনন্দ একই রকম থাকে।

গতকাল ১৮ই জানুয়ারি ২০২৬, আমাদের বাবা শ্রী দীপক কুমার বসু হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৯০তে পৌঁছলেন। চির তরুণ বাবার জীবনের আরও ...
19/01/2026

গতকাল ১৮ই জানুয়ারি ২০২৬, আমাদের বাবা শ্রী দীপক কুমার বসু হাঁটি হাঁটি পা পা করে ৯০তে পৌঁছলেন। চির তরুণ বাবার জীবনের আরও অনেক গল্প নিয়ে শিগগির আসছি...

24/09/2025

জন্মদিনের শুভেচ্ছা 🎂

খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত যৌথ পরিবারে আমাদের জন্মদিন সেইভাবে কখনোই "পালিত" বা বলা ভালো উদযাপিত হতো না। সকালে উঠে সব বড়দের পেন্নাম করা বাধ্যতামূলক 😁। আর নিয়ম করে কালীঘাটে পুজো দিয়ে বাবা শালপাতার টুকরি নিয়ে বাড়ি ফিরলে অপেক্ষা করতাম কতক্ষণে সেই সুস্বাদু পেঁড়া নামক মিষ্টিটি মুখে ঢোকাবো। কপালে ফুল বেলপাতা ছোঁয়ানোর আগেই হাত পাতা হয়ে যেত। বাড়ির সকলের জন্য একটা করে পেঁড়া, কপাল ভালো হলে আর একটু ভগ্নাংশ পেলেও পেতে পারো। তারপর মানা (পিসি) কিংবা মায়ের বানানো পায়েস। ব্যস, অতটুকুই আমাদের জন্মদিন পালন কিন্তু অফুরন্ত আনন্দ ছিল আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার। আর হ্যাঁ, সেদিন লেখাপড়া একটু কম করলেও কেউ বকতো না 🤓

আজও মনে পড়ে না কখনও কিছু চেয়েছি বলে। একবার বাবা নিজের ইচ্ছেতেই অনেক কষ্টে (আমি জানি) একটি চোখ খোলা, বন্ধ হওয়া Doll কিনে এনেছিল আমার জন্য। উফ্ সে কি আনন্দ। মনে হয়েছিল যেন গুপ্তধন পেয়েছি আমি। অপার বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। খুব সাবধানে, আলগোছে রাখতাম যেন একটু জোরে ধরলেই পুতুলটা নষ্ট হয়ে যাবে। বহু বছর সেই পুতুল আমার সঙ্গী হয়ে আমার সাথেই বেড়ে উঠেছিল।

স্কুলে বন্ধুরা কখনও কখনও কাগজে কিছু এঁকে উপহার দিত। সেটাও ছিল পরম পাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে greetings card এর চল ছিল আর তখন বুঝতাম, আমার বন্ধুরা আমায় বেশ ভালোবাসে 😄। কার্ডের সাথে পাঁচ টাকার কাপ কেক কিনে তার ওপর দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে, ব্লেড দিয়ে কেক কেটেও আমার জন্মদিন পালন করেছে আমার সেই মিষ্টি বন্ধুগুলো। সত্যিই এইসব কিছুই দুর্মূল্য।

শেষ কিছু বছরে একটু আধটু জন্মদিন পালিত হয়, সেটাও একেবারে ঘরোয়া পদ্ধতিতে। পুঁচকী একটা কেক, একটাই মোমবাতি যেটা দিদি, আমি, গোরা, মা, বাবা মানে পরপর যারা জন্মানোর লাইনে থাকে তাদের সকলের জন্মদিনে জ্বালানো (সেই মোমবাতি সামলে রাখার দায়িত্ব আমার থাকে 😂), একটু পায়েস আর একটা কোনো ভালো রান্না। এর সাথে থাকে কিছু মানুষের ফোনে শুভেচ্ছা জানানো আর সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পাঠানো। এইভাবেই পালিত হয় জন্মদিন।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, আমার স্কুলের কয়েকটা "তার কাটা" বন্ধু ঠিক করেছিল কলকাতায় আমরা যারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখি, তারা সবাই মিলে যার জন্মদিন তার জন্য কোনো উপহার পাঠাবে সারপ্রাইজ দিতে বা নিজেরাই স্বশরীরে হাজির হবে তার বাড়িতে চমক দিতে। সত্যিই এটা যে কি সুন্দর ভাবনা আমি নিজে সেটা অনুভব করেছি। গোরার সাথে ষড়যন্ত্র করে আমার তিনটি এই রকম " তার কাটা" বন্ধু 💖💖 বছর দুয়েক আগে যখন হানা দেয়, আমি তো আকাশ থেকে সোজা মাটিতে ধড়াম। তারা এসে আমার বেশভূষা পাল্টিয়ে সভ্য সমাজের উপযোগী করে, গান গেয়ে কেক কাটিয়ে, হৈচৈ করে আমাকে একেবারে নাস্তানাবুদ করে ফেলেছিল। সেদিন যে কি ভালো লেগেছিল সেটা ওদের বেশি বলিনি অবশ্য তবে এটা অবশ্যই বলবো যে সকলের যেন এমন কিছু ক্ষ্যাপা বন্ধু থাকে। ভালো বন্ধু পাওয়া, সেই বন্ধুত্ব থাকা আমাদের জীবনে আশীর্বাদ।

মা, বাবা যাঁদের জন্মদিন কোনোদিন পালিত হয়নি, যাঁরা কখনও নিজেদের আনন্দের কথা ভাবেননি, তাঁদের জন্য এখন আমরা কেক আনি, আর গান গেয়ে কেক কাটাই, কি যে এক অপূর্ব হাসি থাকে তাঁদের মুখে, সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। সকলের একসাথে মিলেমিশে থাকাটাই একটা বড় আনন্দ আর সেটাই একটা অনুষ্ঠান।

আমার এই বারের জন্মদিন মোটামুটি কুমির ডাঙ্গা খেলে কাটানো গেল। কারণটা সকল কলকাতাবাসী জানেন। আর এর মধ্যেই সবচেয়ে সুন্দর অমূল্য উপহার আমার ৮৯ বছরের তারুণ্যে ভরপুর বাবার গান। নিজের আনন্দে রবি ঠাকুরকে প্রাণের ঠাকুর বানিয়ে যিনি জীবনের সব সংগ্রামকে হাসি মুখে বরণ করে অতিক্রম করে ফেলেন।

সবাই ভাল থাকবেন 🙏

শিক্ষক দিবস -শেষ পর্বস্কুলে থাকতেই একটু আধটু অভিনয় করতাম, তবে যাদবপুরে পুনর্মিলন উৎসব উপলক্ষে মঞ্চস্থ হলো "ভুশুন্ডির মা...
08/09/2025

শিক্ষক দিবস -শেষ পর্ব

স্কুলে থাকতেই একটু আধটু অভিনয় করতাম, তবে যাদবপুরে পুনর্মিলন উৎসব উপলক্ষে মঞ্চস্থ হলো "ভুশুন্ডির মাঠ " যেখানে আমার প্রথম পরিচালক ছিলেন সুদর্শনদা। অসম্ভব ধৈর্য আর অধ্যাবসায় নিয়ে তিনি প্রতিটি অভিনেতাকে অভিনয় শেখাতেন। আমি ছিলাম নেত্যকালী আর যাঁরা এই গল্পটি পড়েছেন, তাঁরা জানেন, কি প্রবল প্রতাপের দজ্জাল চরিত্র এই নেত্যকালী। নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার পরে যে হাত তালির ঝড় বয়েছিল, আমি আনন্দে সুদর্শনদাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম আর তিনি পরম স্নেহে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন। ওই নাটকের রেশ আরও বেশ কিছু বছর ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে থেকে গেছিল; এমনকি প্রফেসররা আমায় নেত্যকালী বলেও সম্বোধন করতেন। আমি জানি, এর পুরো কৃতিত্ব আমার প্রথম গুরুর।
থিয়েটারে যখন হাতেখড়ি দিলাম তখন বিপ্লবদাকে (শ্রী বিপ্লব বোস) পেলাম। প্রথম দিন থেকেই দাদা আমাকে কেন জানিনা কন্যাসম দেখত যদিও তখন দাদা একেবারে যুবক। সেই যে পুঁচকি বলা শুরু করলো, আজও সেটাই বরাদ্দ আছে। নাহ্, বড় হওয়া আমার আর হলো না!! অথচ আমার প্রথম মঞ্চস্থ হওয়া নাটকে বিপ্লবদা আমাকে এক ৬০ বছরের মহিলার রোল দিয়েছিল। কারণ দাদা জানত , ১৮ বছরের আমি এটা পারবো। গুরুই হয়তো এগুলো বুঝতে পারে। এরপর এলো সৈকতদা (শ্রী সৈকত মুখোপাধ্যায়)। সৈকতদা আর পুরো গ্রুপ আমায় ছুটকি বলতো কিন্তু ভারী রোল দিত। কি অদ্ভুত ব্যবস্থা ভাবো একবার! কিন্তু ওই যে বললাম, গুরুই হয়তো বোঝেন কে কতটা পারবে।
আরও দুইজন মানুষের নাম নিয়ে এই প্রসঙ্গ শেষ করব। আমার আরও দুই পরিচালক শ্রী রূপঙ্কর সরকার আর শ্রী কাশীনাথ চক্রবর্তী। দুই জনেই অনেক সিনিয়র কিন্তু মাটির উপর দিয়ে চলা মানুষ। কাশীদাকে আমরা জুলাই মাসে হারিয়েছি। যোগাযোগ ছিল what's app এ, কখনও সুন্দর গান, কখনও বাড়ির সমস্যা, কখনও শরীরের গোলযোগ এইসব কথা দিয়ে। কিন্তু তেমন কিছু আর আসবে না জানি।

চাকরি থেকে ছুটি নেওয়ার পরেই সুযোগ এসে গেছিল bridal কলকা শেখার। শিক্ষিকা শ্রীমতি পূজা অধিকারী থাকেন সেই মহেশতলায়, আমার বাড়ি থেকে অনেক দূরে। তবু চলে যেতাম নিয়ম করে ক্লাস করতে। পূজা বয়সে আমার থেকে অনেকটাই ছোট কিন্তু আমার কাছে শিক্ষকের বয়স গুরুত্বপূর্ণ নয়। যাই হোক, আমার চেহারার কারণেই হয়তো, পূজা আমায় অনেক ছোট ভেবেছিল এবং আমায় নাম ধরেই ডাকত আর আমিও কিছু বলিনি। কোনো এক ক্লাসে আচমকাই সে জানতে পারে আমার আসল বয়স এবং সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে দিদি বলে সম্বোধন করা শুরু করে। শিক্ষা যে মানুষকে বিনয়ী করে, পূজা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তার সাথে শিক্ষক আর ছাত্রের এই পারস্পরিক সম্মানও একটা সম্পর্কের ভিতকে অনেক মজবুত করে। পূজার কাছে পরে আমি অনলাইন রেসিনও শিখেছি। কি অসীম ধৈর্য আর আগ্রহ নিয়ে ও প্রতিটি ছাত্রকে কাজ শেখায় সেটাও শিক্ষণীয়।

অনেক কিছু লিখে ফেললাম আবার হয়তো কেউ বাদ গেলেন। শেষটুকু বলে যাই, কে বলতে পারে হয়তো এটাই show stopper হয়ে যাবে।
ছোট থেকেই আমার এক "বিটকেল" স্বভাব, কিছুতেই আমি সব প্রশ্নের উত্তর লিখতাম না। উত্তর জানি, প্রশ্ন common তবু লিখব না। কারণ আমার ভালো লাগছিল না বা আমার হাত ব্যথা করছিল ইত্যাদি ইত্যাদি। নিচু ক্লাসে বুদ্ধি যখন কাঁচা, তখন শুধু যে যে প্রশ্ন লিখেছি তাতে tick mark দিতাম। স্কুল থেকে বেরোলে বা বাড়ি ফিরলেই মাতৃদেবীর interrogation শুরু। প্রশ্ন কেমন ছিল, কত উত্তর দিয়েছি ইত্যাদি ইত্যাদি। এই বার যখন প্রশ্নপত্র মিলাতে বসেছে, tick mark আর আমার দেওয়া উত্তরে গোঁজামিল ধরা পড়ে গেছে। ব্যস, হাড়ে মজ্জায় টের পাওয়া সেই প্রবচন " চুরি বিদ্যা মহা বিদ্যা, যদি না পড় ধরা"। যখন বুদ্ধির চুল পাকলো, তখন উত্তর লেখার অভ্যেস বজায় রেখে tick mark দেওয়ার কায়দা পাল্টে ফেললাম। অর্থাৎ, সব উত্তর দিয়েছি। ব্যস এবার কত জেরা করবে করো। কিন্তু ভুলে যেতাম, একে ইনি আমার জন্মদাত্রী, আমি ওনার নই, তার ওপর আবার উনি সম্ভবত শার্লক হোমসের দত্তক প্রপৌত্রী। তাই স্কুলে খাতা দেখালে, বাবা বা মায়ের সই করে নিয়ে যাওয়ার বা রেজাল্ট বেরোনোর সময় মা আরামসে ধরে ফেলতেন আমার গুলগুলো। ভাগ্যিস তখন আলাদা গুল কেনা হত উনুন জ্বালানোর জন্য আর কেরোসিন স্টোভেও রান্না হত নাহলে যে কি হতো!
এছাড়াও ছিল মায়ের পড়া ধরা। বিশ্বাস করবে তোমরা, মাস্টার ডিগ্রী পর্যন্ত মা আমার পড়া ধরতেন। সেটা ক্লাস টেস্ট না ফাইনাল, দেখার দরকার নেই। রাতের বেলায় সমস্ত পড়া মাকে দিতে হতো। ছোট, মেজো, সেজো, কুটটি এমনকি রচনাভিত্তিক। শুধু MBA-র সময় আমি রেহাই পেয়েছিলাম আর মা দুঃখ। তাও মা আমায় বারবার জিজ্ঞাসা করেছিল, ওই বিষয়ে পড়া ধরা যাবে কিনা। বলেছিলাম, মা এবারটা ছেড়ে দাও, আমি ম্যানেজ করে নেবো! কিন্তু ওই যে সব প্রশ্নের উত্তর না দেওয়ার আমার অভ্যেস মাকে যে মানসিক ভাবে কত ভীত করে দিয়েছিল সেটা আগে বুঝিনি। তাই মা আমার উচ্চ মাধ্যমিকের পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ বছর, MBA এর ১ বছর এবং গানের পরীক্ষার ৮ (৫+৩) বছর, প্রতিটা পরীক্ষা দিয়ে বেরোনোর পর প্রথম প্রশ্ন করে," সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিস? কোনোটা ছাড়িসনি তো?" তার পরে জিজ্ঞেস করে পরীক্ষা কেমন হয়েছে। তোমরাই বুঝে দেখ, এইভাবে কি ছাত্রদশা ঘোচানো যায়!!!!

**অনিল স্যার,বোচনদি আর সুদর্শনদার ছবিও আমার কাছে নেই। সৈকতদা আর রূপঙ্করদার ছবি fb থেকে ধার করলাম, আশা করি ওনারা মার্জনা করবেন ।

শেষ!!

শিক্ষক দিবস - পর্ব ২এরপর যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হলাম, মনে হলো সাগরে এসে পড়লাম। হতে পারে আমি শহ...
07/09/2025

শিক্ষক দিবস - পর্ব ২

এরপর যখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হলাম, মনে হলো সাগরে এসে পড়লাম। হতে পারে আমি শহুরে মেয়ে কিন্তু সেই তথাকথিত "বাঙলা মিডিয়াম"। ইতিহাসের পাতায় অচেনা সব ইংরেজি শব্দ যার অর্থ খুঁজতে প্রায় প্রতি মুহূর্তে অভিধান খুলতে হয় (তখন গুগল বাবা ছিলেন না)। ক্লাসের প্রায় ৫০% ছাত্র ছাত্রী ছিলাম আমরা বাংলা মাধ্যম স্কুলের আর তার মধ্যেও বেশ কিছুজন মফস্বল বা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা। ওদিকে এমন এক বিষয়ে লেখাপড়া করছি যার বেশিরভাগ বই ইংরেজিতে অর্থাৎ "শিখতে তোমায় হবেই।" এইসময় যে শিক্ষক শিক্ষিকা আমাদের পড়াতেন, তাঁদের মধ্যেও হয়তো অনেকেই বাংলা মাধ্যম থেকেই এসেছেন (এটা আমার এখনের ভাবনা). তাই তাঁরা আমাদের অসুবিধাগুলো বুঝতে পারতেন খুব ভালো করেই আর সেই জন্য ক্লাসে অদ্ভুত এক ভারসাম্য বজায় রেখে ইংরেজি ও বাংলা দুটি ভাষাতেই পড়াতেন। যেদিন তাঁদের এই মানবিকতা ও সহমর্মিতার স্পর্শ পেলাম, নাহ্, সেদিন থেকে ভালোবাসার বিষয়টিকে আর অত কঠিন মনে হয় নি।

তখন বাড়ির কাছেই এক সিনিয়র দাদাকে ধরে পড়লাম, একটু গাইড করার জন্য। সেই অর্ঘ্যদা (শ্রী অর্ঘ্য শিকদার) তখন নিজের ভবিষ্যত তৈরি করার জন্য আদা জল খেয়ে লেখাপড়া করছে। কিন্তু আমি আর আমার মত আরও কয়েকটা নচ্ছার প্রাণী (পিয়া বাদে) তখন দাদার এক চিলতে ভাড়া ঘরের মধ্যে পিলপিল করছে আর বেচারা অর্ঘ্যদা প্রাণপণ নিজের কেল্লা বাঁচানোর চেষ্টা করছে। হতে পারে যুদ্ধে দাদা বেশি প্রশিক্ষিত কিন্তু আমরাও তো কচি সংসদ নই। অগত্যা!! দাদার শর্ত no বাঁদরামি অর্থাৎ চেঁচামেচি, হট্টগোল চলবে না আর নিয়ম করে পরীক্ষা দিতে হবে। তথাস্তু! কিন্তু আমরাও পাল্টা শর্ত দিলাম, যেদিন পরীক্ষা নেবে, আমরা যেহেতু কষ্ট করে পরীক্ষা দেবো, তাই শাস্তি স্বরূপ সেদিন দাদা হয় রান্না করে না হয় নিজের পয়সায় খাওয়াবে। সে চাউমিন, এগরোল যা খুশি কিন্তু ভালো খাবার। এইভাবে দুই যুযুধান প্রতিপক্ষের সন্ধি স্বাক্ষরিত হলো।

আমার মা বাবা কখনও কোনো খামতি রাখেননি এবং যতটা সম্ভব সংস্কৃতির বিভিন্ন আঙিনায় আমাদের পরিচয় ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। আমার নাচের হাতেখড়ি সেই বছর আড়াই বয়সে যখন আমি পর্দার আড়াল থেকে দিদিকে দেখে নাচ করার চেষ্টা করতাম। আন্টি (শ্রীমতি লক্ষ্মী দাস) বাবাকে বললেন আমাকেও ওনার ছাত্রী করবেন। সেই শুরু করেছিলাম, তারপর ১৩ বছর বয়সে কঠিন রোগের সাথে লড়াই আর ডাক্তারদের নিষেধ আমায় আর নিয়মিত নাচ করতে না দিলেও, আন্টির শেখানো নাচ আর তার প্রতি প্রেম আমার আজও একইরকম অটুট। আর তাই আজও সুযোগ পেলেই সেই ইচ্ছের সদ্ব্যবহার করি।

আমার গানের প্রথম শিক্ষক আমার বাবা শ্রী দীপক কুমার বসু আর এখন যাঁর কাছে গান শিখি তিনি শ্রীমতি দেবশ্রী বিশি। তথাকথিত তালিম নেওয়া যাকে বলে অর্থাৎ শেখা, পরীক্ষা দেওয়া এইসব আমার ধাতে ছিল না তাই বাবা মায়ের ধ্যাতানি খেলেও ফাঁকিবাজিটাই প্রাধান্য পেয়েছিল। অবশেষে প্রায় ৩৮/৩৯ বছর বয়সে এসে ভর্তি হই দেবশ্রীদির কাছে তাও মূলত মায়ের ইচ্ছে পূরণের জন্য । দেবশ্রীদি শুধু বলেছিলেন, স্বরলিপির বাইরে আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখাই না আর আমিও বলেছিলাম, শুধু এটার জন্যই আমি তোমার কাছে শিখবো। কারণ সেই ছোট্টবেলা থেকেই কানের হাতেখড়ি হয়েছে বাবার গলায় রবি ঠাকুরের গান শুনে আর আমার বাবা সাক্ষাৎ শ্রী শৈলজারঞ্জন মজুমদারের ছাত্র। তাহলেই বুঝে দেখ, কেন এই আপোষহীন মানসিকতা। যাই হোক, আমি দিদির কাছে গান শিখতে গিয়ে তাঁর আরও অনেক গুণের সন্ধান পেলাম আর বলাই বাহুল্য, ঝুলে পড়লাম তাঁর হাত ধরে যদি আরও কিছু পাওয়া যায়। শুরু করলাম আবার নতুন করে সেলাই শেখা (প্রথম মা)। এখনও চেষ্টা করে চলেছি যদি আমার বাবা, মা, দিদি সকলের থেকেই একটু প্রসাদ পাওয়ার।

সম্প্রতি আমার এক বন্ধু শ্রীমতির দৌলতে যোগাযোগ হলো লোকশিল্পী শ্রীমতি জ্যোৎস্না মন্ডলের সাথে। তিনি প্রায় একক চেষ্টায় আমাদের মত কলকাতা ও তার আশেপাশের অঞ্চলের প্রায় ১৪০ জনকে নিয়ে মঞ্চস্থ করলেন "শতকন্ঠে লোকগান।" লোকগীতির ক্ষেত্রে এমন অনুষ্ঠান এই প্রথম। সেখানে দেখেছি, video call - এ, audio পাঠিয়ে, নিজের বাড়ির ছাদে মহড়া দিয়ে এতগুলো মানুষকে একসূত্রে গেঁথে ফেলার কি অদম্য প্রয়াস আর কি সাংঘাতিক ধৈর্য। শিক্ষক তো এমনই হন, তাই না!

*** লক্ষ্মী আন্টির কোনো ছবি আমার কাছে নেই। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরদের ছবি যে কটি নিজের কাছে পেলাম আর বন্ধুদের কাছে ধার করা

চলবে...

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জয়ীর বৈঠকী আসর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category