05/08/2023
শুভশ্রী পালের লেখা....🙂
বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ গুনগুন নন্দী ❤️
নারীস্তন যে কত রোম্যান্টিক এবং শৈল্পিক ভূমিকা পালন করে তা গড়পড়তা পুরুষ কোনওদিন উপলব্ধিই করতে পারল না। বছরের পর বছর সেই এক জিনিস, ভীড় বাস হোক বা ভীড় স্টেশন কনুই মেরে যাওয়া। কী যে সুখ পায় তা নিজেও বলতে পারবে না হয়ত। এখন অবশ্য বেশ কিছু দিন অন্য ধারা লক্ষ্য করেছি৷ পিছন থেকেই টার্গেট করে নেয় কোনও ধীর গতির বা ক্লান্ত হেঁটে চলা কাউকে, তারপর তার পাশে এসে খুব নিপুণ ভাবে বাইসেপস এর প্রায় পুরোটা ডুবিয়ে তাড়াহুড়ো করে খানিক এগিয়ে যাওয়া।
হ্যাঁ আমি আমার চারপাশের সব কিছুর মতই এসবও এখন অবজার্ভ করি৷ নিজের মতো করে প্রশ্ন সাজাই,উত্তর খুঁজি। কলকাতায় বছর আটেক থাকা কালীন সময়ে এসব ক্ষেত্রে খুবই প্রতিবাদী ভূমিকা নিতাম। এখন দিনগত পাপক্ষয়ের দিনলিপি লেখার পর রাগ করতেও ক্লান্ত লাগে৷ মনে হয় ওটুকু এনার্জি বাঁচিয়ে রাখলে দুপাতা বই পড়া হয়ে যাবে।
এই কনুইবাজ দলের বয়স সাধারণত চল্লিশের উপরেই। এই খাবলানো স্পর্শ দেখেই আন্দাজ করি এরা কখনও অঙ্কশায়িনীর স্তনকে সেভাবে আদরই করতে শেখেনি। অবশ্য অধিকাংশ পুরুষই এই ব্যাপারে অপটু বলেই আমার ধারণা। এইসব মাঝবয়সী (মলেস্টার বলা যাবে? ওই টুকু ক্লাসি সফো ব্যাপারও নেই এদের৷ কনুইবাজই বলি।) কনুইবাজদের দেখে মায়া হয়। বোঝার চেষ্টা করি এদের এই হ্যাংলাপনাকে। মনে হয় দীর্ঘদিন একঘেয়েমিতে ভরা যৌনতার কারণেই হয়ত এই ক্ষণিকের উত্তেজনা কুড়িয়ে নিয়ে যায়, নিজেকে উত্তেজিত করার কাজে লাগাবে বলে। অথবা অনেকদিন হল কেউ শুতে দেয় না। অবশ্য দেবেই বা কেন? ভাল না শুলে শুতে দেওয়া উচিতও নয়। আমি যেমন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, সারাজীবন শোব না সেও ভাল কিন্তু বাজে শোবো না। এই চয়েজ বা রিজিডিটিটাই অনেকে দেখায় না।
আমাদের দেশের মহিলারা জীবনের বড় সময়টা বাজে শুয়ে এবং তারপর সংসারের চাপে শোওয়াকে এড়িয়ে অস্বীকার করেই কাটিয়ে দেয়। পার্টনারের কাছে মুখ ফুটে নিজেদের দাবী দাওয়াও বলে উঠতে পারে না। নিজেদেরও এক্সপ্লোর করতে পারে না। তার ফল এইসব মাঝবয়সী ফ্রাস্ট্রেটেড কনুইবাজরা।
আমার তো খুবই সমাজসেবার উদ চাপে মাঝে মাঝে। ভাবি এদের ধরে ধরে একটা হারেমে রাখব। তারপর এইসব লোককে ভাল করে পারফর্ম করার ট্রেনিং দেব। তারপর এরা ওই হাঁ করা বোয়ালমাছও সুন্দর করে গার্নিশ করা শিখে গেলে আর এই ক্লান্ত,শ্রান্ত,ডেলি প্যাসেঞ্জারদের গোঁতা মারতে আসবে না। PMS চললে খুবই ব্যথা লাগে মাইরি। আমার মাথার টিউমারের কারণে হরমোনাল ইমব্যালেন্স বেশি হয়। ওই সময় আচমকা ধাক্কায় কিছু বোঝার আগেই ব্যথায় চোখে জল চলে আসে। আজকাল আর রাগ হয় না, আগের মতো শিক্ষা দিই না ধরে।