28/07/2026
ভ্রষ্ট - চারিত্রিক ২
- ঐশী অধিকারী
ইতিমধ্যে পুনম কিছুটা বড় হয়েছে ঐ ৭-৮ বছর বয়স হবে তাও। কৃষ্ণপুর ছেড়ে ওর এখানকার অস্তানা ১০/৬৬১ নন্দীপাড়া। পছন্দ বলতে একটা চূড়ান্ত মাটি ঘাটা পাড়ার এক মাত্র প্রিয় বান্ধবীর সাথে বাড়ি বাড়ি ঢুকে সেই রান্নার বাজার করে আনা আর বাকি সময়টা পুতুলের জামা বানানো নতুন নতুন নাম দিয়ে পুতুল খেলে সময় কাটানো। অবশ্য আরও কিছু কাজের মধ্যে পড়ে বেকার কাকার সাথে মাঝে মধ্যে চানাচুর এর কৌটো নিয়ে ঝগড়া করা , কেউ টিভি দেখতে চাইলে রিমোট নিয়ে বাথরুমে ঢুকে পড়া এই পর্যন্ত। চোখের পাতা গুলো খুলেই রাখতে হবে নাহলে ডোরেমনের একটা সিন যদি মিস হয়ে যায় তাহলেই বিপদ । বাবা মা তখনও আসেনি দিদুন এখন পুনমের সাথেই থাকে পুনমকে খাওয়ানো স্নান করানো ঘুম পাড়ানোর দায়িত্ব এখন পুরোপুরি দিদুনের । রোজ ঘুমোতে যাওয়ার সময় পুনম বায়না করে "ও দিদুন কৃষ্ণর গল্প টা শোনাও নাহ " । দিদুন তাইই শোনায় রোজকার রোজ, আর মা বাড়িতে আসলেই শুরু হয় নালিশের বন্যা - " তোমার মেয়ে আজ লুকিয়ে লুকিয়ে বরফ খেয়েছে , দুপুরে একটুও ঘুমায়নি" । মা আসলে চোখ বন্ধ করে হাত পাতার অভ্যেসটা অবশ্য পুনমের এখনও রয়েই গেছে। পুনম মনের সুখে টিভি দেখছিলো হঠাৎ দেখলো গেটে একটা আওয়াজ হলো - রমেন ঢুকছে । পুনম হাসলো নাহ প্রণাম করলো, কারণ বাবা বলেছে বয়সে বড় কেউ এলে তাকে প্রণাম করতে হয় , আর বড়দের কথা শুনতে হয় । যথারীতি প্রত্যেক বারের মতো একটা অত্যন্ত বড় সাইজের মিলিটারি ছাপা ব্যাগ নিয়ে রমেন এলো । কোনো প্রশ্ন নেই উত্তরও নেই পুনমকে কোলে তুলে সিঁড়ি ঘরে নিয়ে গেলো রমেন সিঁড়ির দেওয়ালের কোণে একদম ঠেকিয়ে দিয়ে হাত পাততে বললো পুনমকে, পুনম হাত পাতলো আর তারপর হাফ প্যান্টের গার্ডার খুলে কিছু একটা ধরিয়ে দিলো হাতে তারপর বললো নে খেল। পুনম জিজ্ঞেস করলো এটা কি ? রমেন উত্তরে বললো খেলনা , ঠিক তোর মতো , নে খেল। তারপর পুনমকে সিঁড়ির উপর বসিয়ে রমেন নিজের নোংরা হাত গুলো চাটতে লাগলো, পুনমের মনে পড়লো মাকে লুকিয়ে ও তেঁতুল খেলে ঠিক এরকম ভাবেই চেটে নেয় আঙুল গুলো । পুনমকেও জিজ্ঞেস করলো রমেন - খাবি? পুনম উঠে ছাদের দরজা খুলে আম গাছের ডালের তলায় চুপ পা গুটিয়ে চুপ করে বসে পড়লো। পাশের বাড়ির কাকু দুটো তখন ছাদে সিগারেট ফুঁকছে। ছাদ থেকে সিঁড়ি ঘর স্পষ্ট দেখা যায় ! পুনম দেখলো রমেন হন্ত দন্ত হয়ে উঠে এসে ভেতর থেকে সিঁড়ির দরজা লাগিয়ে দিলো। পুনম হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলো কারণ ছাদ থেকে নিচে যাওয়ার ওটাই একমাত্র রাস্তা , নিজের গায়ের জোরের সর্বস্ব দিয়ে পুনম দরজা ধাক্কাতে লাগলো কিছুতেই খুললো নাহ রমেন। ছাদে গিয়ে দেখলো দিদা সবে স্নান করে বেরিয়েছে কুয়োর কাছে নিচে ঝুঁকে একটা পেঁপের ডগা ফেলে ও দিদুন কে ডাকলো শুধু বললো ছাদে এসো একবার । তারপর দিদা সিঁড়ি ঘর অবধি নাহ পৌঁছাতেই রমেন দরজা টা খুলে দিলো পুনম শব্দ শুনেই এক ছুটে দরজার সামনে । দিদা বললো এই তো দরজা তো খোলাই ওদিক থেকে উত্তর এলো ও'ই তো লাগিয়েছিলো দরজা ওপাশ থেকে । দিদা উল্টে পুনমকে বকে দিলো " রমেন কি তাহলে মিথ্যে বলে নাকি ? দেখো এইরকম দুষ্টুমি করলে কিন্তু মা আসলে পার, মা'রে কবো " । পুনম চুপ করে গেল , দিদা সিঁড়ি থেকে নেমে যেতে লাগলো পুনমও পিছু নেবে তার মধ্যেই রমেন ওর পেটের কাছ টা টেনে ধরলো , নিজের মাথা টা নিচে ঝুঁকিয়ে বললো একদম চালাকি করবি নাহ , আর কোনোদিন আমাকে না বলে ছাদের দরজা খুলবি না, তাহলে ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবো ।" সেদিন আর কিচ্ছু হলোনা, দিদা স্নান করিয়ে দিলো সাবান দিয়ে , খাইয়েও দিলো ঘুম পারালো, রাতে মা আসলো দিদা মাকে বললো "রিনা দেখিস তো , দেখে মনে হয় ওর বুকে কেউ কামড়ায় " । পরের দিন ছিলো রবিবার বাড়ীতে ঈশানী দিদি এসেছে পুনম ঘর অন্ধকার করে ভূত- ভূত খেলবে বলেই দরজাটা লাগিয়েছিল। দরজায় দুটো খিড়কি রয়েছে সেটা খুলে খুলে মাঝে মধ্যে ওই টর্চের আলো নিয়ে বেশ একটা অন্যরকম খেলা । হঠাৎ পিছন থেকে মা এসে একটা ধমক দিলো, " যা খেলার সবার সামনে খেলবি দরজা খুলে , দরজা লাগানো চলবে না ।" ব্যাস খেলা পণ্ড।
( ক্রমশ প্রকাশ্য! Stay tuned )