26/05/2026
ভেবেছিল জলহস্তী, তারাই বনের শেষ কথা,
হরিণদের জব্দ করতে ছকেছিল সব প্রথা।
নতুন হায়না ডেকে এনে মেতেছিল উল্লাসে,
ভাবেনি তো সেই হায়নাই থাবা দেবে নিজ বাসে!
হায়না শাসিত বনের জলহস্তীরা হাতজোড় করে বলেছিল—
"যে ভুল আমরা করেছি, তোমরা করো না কোনো মতে,"
অনলাইনেও কেঁদে কেঁদে সাবধান করেছিল তারা,
"শিকারীকে ডেকে আনলে হবে যে ছারখার সারা।"
তবুও তো অন্ধ মোহে মেতেছিল সবাই ভাই,
পরের ঘরটা ভাঙার সুখে নিজের চেতনা নাই!
জলহস্তীরা ভেবেছিল সংখ্যায় আমরা ভারী,
আইন তো চলবে আমাদের ইশারায়, আমরাই জিতবো বাজি,
বোঝেনি তো জলহস্তী সরল এই গণিত ভাই,
আইনের কোপ সমান হলে, জলহস্তীর রক্ষা নাই!
অন্য বনের জলহস্তীদের ঘর যেভাবে ভাঙলো রে,
আজ এ বনের জলহস্তীই কাঁদছে ঘরের অন্দরে!
পুরনো নেকড়ে দলও কম কিছু করেনি তো ভাই,
পনেরোটা বছর ধরে লুটেপুটে খেয়েছে সদাই।
কাজ যদি ভালো হতো, শাসন কি যেত চলে?
জনগণের ক্ষোভ দেখে আজ ওরাও হাসে কোন ছলে!
হরিণদের জব্দ করতে চেয়েছিল যারা রোজ—
ওদের আহার, ওদের ডাক বন্ধেরই নিত খোঁজ!
আজ আইন যখন এল বনের বুকে সমান তালে,
নিজেদের উৎসবই স্তব্ধ হলো আড়ালের জালে!
হরিণেরা তো বছরে দু-দিন মাঠ চরে যেত শুধু,
তাতেই হিংসুকদের বুকে রাগ জ্বলত ধুধু।
আজ জলহস্তীর দল রাস্তা জুড়ে বসে যখন,
আইনের কোপটা এসে নিজেদেরই ধরে গলা তখন!
হরিণদের আহার রুখতে আইন আনল যারা,
ব্যবসায় টান পড়তে আজকে কাঁদছে দেখ তারা!
হরিণদল বুক ফুলিয়ে বলছে— "ছেড়েছি আশা এবার,
বিতর্কিত বা অন্যের যত্নের ফল ছোঁব না তো আর!
ঘাস-পাতা সব খেয়েই মোরা কাটাব দিনকাল,
বনের ফল-কন্দকেই সেরা বলো চিরকাল!"
জলহস্তী চাষ করে যে বনের ফল ও কন্দ,
হরিণ যদি তা না কেনে, ব্যবসা তবে বন্ধ!
বলছে তারা— "ওরা না খেলে মরব মোরা ভুখেই এবার,
আমাদের বাঁচাও এসে, উপায় তো নেই অন্য দেবার!"
কাউকে তুমি জব্দ করতে খুঁড়লে যে এক গর্ত,
আজ নিজেরা ওখানেই মরছ, বুঝলে না তো শর্ত।
অন্যের ঘর ভাঙতে গিয়ে নিজের ঘরই ভাঙলে শেষে,
অন্ধ মোহে নিজের পায়ে কুড়াল কেন মারলে হেসে