14/01/2026
একজন দর্শকের কলমে
সুকুমার রায়ের আবোল তাবোল পড়েনি এমন কোনও বাঙালি নেই। আবোল তাবোল পড়ে দু'চার লাইন মনে রাখেনি এমন যদি কেউ হয়, তবে সে বাঙালিই নয়। আপাত দৃষ্টিতে ছড়াগুলো মজার, কিন্তু সেই মজার আড়ালে প্রচ্ছন্ন রয়েছে সমাজের প্রতি খর বিদ্রূপ।
গতকাল কোচবিহার শিশু-কিশোর সংস্থার পঞ্চদশ বর্ষের নাট্যোৎসবে আমন্ত্রিত দল ছিলেন জলপাইগুড়ি কলাকুশলী নাট্যদল। কোচবিহার রবীন্দ্রভবনে তাঁদের নিবেদিত নাটক আবোল তাবোল দেখতে গিয়ে এই ভাবনাটির সার্থক রূপায়ন ঘটতে দেখলাম আবার। তাঁরা অনেকগুলো ছড়া বেছেচেন, তার সঙ্গে ছোট-বড় সকলে মিলে কখনও সম্মিলিতভাবে, কখনও এককভাবে ছড়া আউড়ে অভিনয় করছেন যখন, তখন সেটি একটি নাটকের আবহ তৈরি করছে ছন্দে সংলাপ বলার মত করে। সঙ্গে রয়েছে তালবাদ্য। মঞ্চের উপকরণ যৎসামান্য, সামান্য ক'টি টুল নিয়ে, ক'টি চৌকো কাঠের ফ্রেম নিয়ে অপূর্ব মুন্সিয়ানায় তাঁরা অভিনয় করছেন। আমরা হাসছি, আবার সমাজের প্রতি ব্যঙ্গ করে যে চরম সত্যগুলো শিল্পের আড়ালে বলা হয়েছে, সেই শানিত কষাঘাত হৃদয়ে অনুভব করছি, একটু দুঃখ পাচ্ছি, আবার হেসে উঠছি। হেড অফিসের বড়বাবু হয়েছেন একজন বেশ লম্বা-চওড়া রাগী পুরুষ, তিনি গোঁফ চুরি হয়ে গেছে বলে রেগে যাচ্ছেন অকারণ, কেউ তাঁকে কিছু বোঝাতে পারছে না ---এই ছড়াটিকে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে, ছন্দের মধ্যে দিয়ে, কিছু তালসমন্বিত পদক্ষেপ জুড়ে এত সুন্দর করলেন ওঁরা, যা এককথায় অনবদ্য। এরপরেই তাঁরা করেছেন কুমড়ো পটাশ।
এরকম করেই খুড়োর কল, ছায়াবাজি, ন্যাড়া বেলতলায় যায় কবার ইত্যাদি বিখ্যাত ছড়াগুলো একটির সঙ্গে আরেকটির সাজুয্য রেখে ছন্দে-তালে অভিনীত হতে লাগল, সূত্র হিসেবে জুড়ে থাকলো সঙ্গীত। বহু পরিশ্রম, বহু চিন্তা ও অধ্যবসায়ের ফল এই নাটক, যেটি আমাদের ছেলেবেলাকে মনে করায়, বড়বেলাটাকেও ভাবিয়ে তোলে, আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমাদের শিক্ষা ও চেতনালোপের দুঃসময়কে।
ব্যক্তিগতভাবে আমার খুব ভালো লেগেছে একুশে আইন, বিজ্ঞান শিক্ষা এবং বুঝিয়ে বলা। অনবদ্য অভিনয় ও নির্মাণ। অনেক শুভেচ্ছা রইল জলপাইগুড়ি কলাকুশলী দলের প্রতি। 🙏🌻
মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ী
কোচবিহার