27/09/2025
পশ্চিমবঙ্গের রেলস্টেশনগুলোর মধ্যে কিছু স্টেশন তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য রাজ্য ও দেশের পর্যটক ও যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ইতিহাস, রহস্যময়তা এবং অব্যবস্থা—সবকিছু মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রেলযাত্রা এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। নিচে তিনটি বিশেষ রেলস্টেশনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।
✅ পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পরিষ্কার রেলস্টেশন – দুর্গাপুর
দুর্গাপুর শহর পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র, এবং এখানকার রেলস্টেশনটিও একই রকমভাবে আধুনিক ও উন্নত পরিষেবার জন্য পরিচিত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য এই স্টেশনটি বারবার জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। উন্নত অবকাঠামো, আধুনিক টয়লেট, জলের সুব্যবস্থা ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাত্রীদের কাছে দুর্গাপুর রেলস্টেশনকে এক অন্যতম পছন্দের জায়গায় পরিণত করেছে।
i. দুর্গাপুর রেলস্টেশনকে ভারতের রেলওয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্টেশনগুলোর তালিকায় একাধিকবার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
ii. স্টেশনটিতে রয়েছে উন্নত ওয়েটিং রুম, আধুনিক টয়লেট, ফুড কোর্ট ও ই-টিকিট কাউন্টার।
iii. প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন, যা এটিকে অন্যতম ব্যস্ততম স্টেশন করে তুলেছে।
iv. 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান' প্রকল্পের আওতায় এটি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করছে।
v. শিল্পশহরের মান বজায় রাখার জন্য স্টেশনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
✅ পশ্চিমবঙ্গের ভুতুড়ে রেলস্টেশন – বেগুনকোদর
পুরুলিয়া জেলার বেগুনকোদর স্টেশন পূর্ব ভারতের সবচেয়ে রহস্যময় রেলস্টেশনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৬০-এর দশকে আত্মার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে এই স্টেশন বন্ধ ছিল। যদিও পুনরায় চালু করা হয়েছে, তবু আজও এটি ভয়ের প্রতীক হয়ে রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ একে কুসংস্কার বললেও, বেগুনকোদরের রহস্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে চলেছে।
i. ১৯৬০-এর দশকে আত্মার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়।
ii. প্রায় ৪২ বছর বন্ধ থাকার পর ২০০৯ সালে পুনরায় চালু হয়।
iii. স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাতে ট্রেন দাঁড়ালেও কেউ নামেন না।
iv. কর্মীরাও সচরাচর রাতের ডিউটি এড়িয়ে চলেন।
v. আজও এটি ভারতের অন্যতম ভুতুড়ে রেলস্টেশন হিসেবে পরিচিত।
✅ পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে অপরিষ্কার রেলস্টেশন – পার্কসার্কাস
কলকাতার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পার্কসার্কাস রেলস্টেশন যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিচ্ছন্নতার অভাবে এটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। ময়লা, দুর্গন্ধ, টয়লেটের খারাপ অবস্থা এবং পানীয় জলের সংকট যাত্রীদের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে। উন্নত অবকাঠামোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো এখানে বিশেষভাবে জরুরি।
i. প্ল্যাটফর্মে ময়লা, বর্জ্য ও দুর্গন্ধের সমস্যা প্রায়শই দেখা যায়।
ii. টয়লেটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এবং জলের ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত।
iii. অপর্যাপ্ত আলো ও পুরনো প্ল্যাটফর্ম যাত্রীদের অসুবিধা বাড়ায়।
iv. নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এখানে স্পষ্ট।
v. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রয়োজনীয়।
✅ উপসংহার
এই তিনটি রেলস্টেশন পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিষেবার বৈচিত্র্য ও বৈপরীত্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। একদিকে উন্নত ও পরিচ্ছন্ন দুর্গাপুর, অন্যদিকে রহস্যে ঘেরা বেগুনকোদর এবং চরম অব্যবস্থার শিকার পার্কসার্কাস—সব মিলিয়ে বোঝা যায় যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় উদ্যোগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সচেতনতা কতটা জরুরি।