21/08/2026
ঝিলমিল কলেজ থেকে বাড়ি এসেছে বাসের ঝাঁকুনি খেতে খেতে... তাই আর ফোনটা খোলেনি।
বাড়ি ফিরে, ফোনটা নিয়ে বসেছে ... কি যেন !কি যেন হ্যাঁ রাইট 'Astro rubbish'; গুগল খুলেই সার্চ দিলো, ডাউনলোড করে নিজের মেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ করলো।
'Astro rubbish' হলো এখনকার ভীষণ জনপ্রিয় একটা আস্ট্রোলজি অ্যাপ ফ্রী তে এআই জ্যোতিষী ছাড়াও এই অ্যাপ নাকি প্রিমিয়াম ইউজারস দের জন্য রেখেছে বড়ো বড়ো এক্সপেরিয়েন্সড জ্যোতিষী। বাসে ট্রেনে যার ফোনেই উঁকি দিয়েছে ঝিলমিলের চোখে পড়েছে এই অ্যাপটা ,মাত্র কয়েকজন ছাড়া। বড়ো বড়ো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ও এই অ্যাপের অ্যাডে ভরে গেছে।
ঝিলমিল আরেকবার অ্যাড গুলোয় চোখ বোলাচ্ছিল।
বিজ্ঞাপন ১:
আমি সোহেল , বেশ কিছুদিন ধরে আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ইগনোর করছে।আমার মনে হয় ও অন্য কারোর সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
টিকটিক শব্দ করে, জ্যোতিষীর রিপ্লাই এলো,
আমি বুঝতে পারছি আপনার অবস্থাটা।আপনাদের রিলেশন টু মান্থস তো?
সোহেল উত্তর দিলো, হ্যাঁ।আপনি জানলেন কি করে...এখন আমার কি করা উচিত বলুন?
জ্যোতিষীর রিপ্লাই এলো আবার, আপনি শান্ত ভাবে বোঝান ,আপনার গার্লফ্রেন্ড ইন্সিকোরিটি ফিল করছে এটা আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে অতিরিক্ত পোসেসিভ হবেন না গার্লফ্রেন্ডের প্রতি ।এক মাসের মধ্যে আপনাদের সমস্যা মিটে যাবে।
শেষে সোহেল বলেছে, একমাসের মধ্যে আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ঘণ্টায় একবার করে মেসেজ করে খোঁজ নেয়।...
ঝিলমিলের আরেকটা অ্যাড চোখে পড়ছিল, তবে দেখলো না.... মনে মনে ভাবলো, আচ্ছা আমি তো সিঙ্গেল ,আমার জীবনে কবে কেউ আসবে,কেমন হবে সে,আমার প্রতি তার ফিলিংস কেমন আমার তো সেগুলোই জানার দরকার।
এখানে তো সেরকম কোনো অ্যাড পাচ্ছি না।
ঝিলমিল ভাবতে ভাবতে বিছানায় শুয়ে এপাশ - ওপাশ করছিল।
ঝিলমিলের মা মিতা দেবী এসে বললেন,"আবার কোন ভূত চেপেছে ঝিল তোর মাথায়? ছটপট করছিস কেন? কাউকে আবার ভালো টালো বেসে ফেলেছিস ;বলতে পারছিস না নাকি?"
ঝিলমিল মায়ের কাছে একদম প্রাণ-খোলা ," মা উফ্ তুমিও না।ভালো লাগছে না খেতে দাও তো।"
এরই মাঝে শুভ্রর ফোন এলো, ঝিলমিল ধরবে না কেটে দেবে সেটা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়লো, তারপর ধরলো,
"কিরে বাড়ি গেছিস? রাস্তায় সিগারেট খাওয়া নিয়ে যা কীর্তি করলি তুই... এখনো হারু কাকার দোকান যেন থমথমে।আমার সিগারেট খাওয়া নিয়ে একটা দিন - আনা লোকের ভাত মারলি তো!"
ঝিলমিল চেঁচিয়ে মেচিয়ে বললো,"আমি কারোর ভাত মারিনি।ওনার সিগারেট বিক্রির দরকার কি!উনি না বেচলে তোমরা কিনবে না খাবেও না সিম্পল।"
মিতা দেবী খাবার টা নিয়ে ঢুকছিলেন, কথাটা কানে যেতেই বললেন....,"ওরা না কিনলে তো এমনিই লোকটা বিক্রি করা বন্ধ করে দেবে সেটা তো ভাবছিস না ঝিল।ওরা দোকানদার ,দোকানদারি করে সংসার চালায়... লোকে যা কিনবে বেশি যেখানে ওদের লাভ বেশি ওরা সেটাই বেচবে।
আর দোকানে বেচা বন্ধ করলেই লোক খাবে না, তাহলে তো ব্ল্যাক মার্কেট থাকতোই না ।যাদের খাওয়ার তারা ঠিক খুঁজে খাবে।এখানে নাহোক সেখানে ,সেখানে না হোক অন্য কোথাও।"
ঝিলমিলের সব রাগ গিয়ে পড়লো শুভ্রর উপর, "কাজ নেই খেয়ে-দেয়ে ,আমায় ফোন করে জ্ঞান না দিয়ে সিগারেট খেয়ে ওই কাকুর ভাতটা জোটাও।"
বলেই কেটে দিলো ফোনটা ঝিলমিল।রাগ দেখিয়ে বিছানার উপর ফোনটা রেখে খাবার খেতে বসলো ঝিলমিল।...
শুভ্র ঝিলমিলদের কলেজের ইউনিয়নের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।কম বেশি সবাই চেনে শুভ্রকে... ছেলেটা সিক্সথ সেমিস্টারের আর ঝিলমিল সেকেন্ড সেমিস্টারের।
ইউনিয়ন রুমের সামনে শুভ্র বসে আছে, অঙ্কন ওকে গুঁতো দিয়েই চলেছে... শুভ্র চুপ।
"আরে শালা ষাঁড়ের মতো গুঁতো দিচ্ছিস কেন তখন থেকে ...আমার ঝাঁট না জ্বালিয়ে নিজের চরকায় তেল দিগে যা।"
পাশ থেকে সাগর বললো,"কেন বে হ্যাটা দিয়ে চলে গেছে নাকি কেউ ,আমাদের উপর ঝাড়ছিস সেই রাগ।"
শুভ্র বিরক্ত হয়ে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বললো ,"থাকবোই না থাক তোরা।"
কলেজের উল্টোদিক টায় হারু দার দোকান।শুভ্র যাচ্ছিলো... পকেটের সিগারেট টা জ্বালাবে বলে কিন্তু কি ভেবে সোজা রেন্ট হাউসের দিকে যাবে বলে বাসস্ট্যান্ডের দিকে হাঁটা লাগালো।
...
ঝিলমিল খেয়ে দেয়ে উঠে খুললো 'Astro rubbish' অ্যাপটা।
এআই ফ্রী চ্যাট দশ মিনিট দেখে প্রথম প্রশ্ন করলো,
আমার জীবনে লাইফ পার্টনার কবে আসবে?
এআই জ্যোতিষীর রিপ্লাই এলো, আমি আপনার জন্মতারিখ থেকে যা বুঝতে পারছি ,আপনি এখন ভীষণ ডিস্টার্ব আছেন।আজ থেকে তিন চার মাসের মধ্যে,আমি যা দেখতে পাচ্ছি আপনার কুণ্ডলীতে প্রথমে দুবার ব্রেকআপ আছে আর তারপর আপনার ভালোবাসার উপর ভরসাটাই উঠে যাবে আর আপনার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ টাই হবে বলে মনে হচ্ছে।
ঝিলমিল মনে মনে ঠিক করে নিলো, আমি কারোর প্রেমেই পড়বো না ব্যাস আমার কোনো ব্রেক আপ হবে না ,আমি একেবারে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করবো।
ঝিলমিল ভাবতে ভাবতেই টাইপ করলো, ছেলেটা কেমন হবে .... মানে আমার প্রতি তার ফিলিংস কেমন এগুলো যদি জানা যেত।
এ আই জ্যোতিষী উত্তর দিলেন, আপনার লাইফে আসল প্রেম ধীরে আসবে।সেটা হবে নিশ্চয়তার আর ভরসার, যেমনটা আপনি মন থেকে চাইছেন।
আর আপনার পার্টনার আপনাকে নিয়ে ভীষণ সিনসিয়ার হবেন... আপনার যত্ন নেবেন।
আপনি কি জানতে চান, যত্নের ধরনটা কেমন হবে?
উত্তরে ঠোঁটে হাসি ফুটেছে ঝিলমিলের , ও আবার টাইপ করলো, নিশ্চই বলুন।
চ্যাট এন্ড... কিছুক্ষণ পরে আবার এ আই জ্যোতিষীর একটা মেসেজ এলো... বিকেলের পড়ন্ত রোদে, সে আপনাকে যত্ন করে বসিয়ে বলবে, চুপটি করে বসো ... আমি চুলটা বেঁধে দিচ্ছি ।
ফ্রী চ্যাট শেষ হওয়ায় ঝিলমিলের খারাপ লাগাটা , এই উত্তরটার কাছে ধোপে টিকলো না।ঝিলমিল ফোনটা বন্ধ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো।...
কলেজে শুভ্রর ব্যবহার একটু অন্যরকম লাগে ঝিলমিলের তবে ও অবাক হয় প্রত্যেকবার নিজের প্রতি... শুভ্র ওকে ফোন না করলে ,ও শুভ্রকে রাগ দেখায়,ঝগড়া করে অথচ ফোন করলেও বলে... কেন ফোন করেছ?
শুভ্র জানেই, মেয়েটা কখন কি বলে ঠিক - ঠিকানা নেই... তাই শুভ্রর কোনো আপত্তি ও থাকে না।ও প্রায় দিনই ঝিলমিলের ফেরার সময় এগিয়ে দেয়... ঝিলমিলের ঝাড় তো কখনও আবার শোনে," তুমি না সত্যিই খুব ভালো; শুধু অসভ্য ব্যাপার হলো সিগারেট খাও।"
শুভ্র হেসে বললো, "কি সিগারেট খেলে আবার মানুষ অসভ্য হয়!!"
ঝিলমিল মুখ বেঁকিয়ে বললো,"হুঁ তুমি যাও তো।"
ঝিলমিল বাসে উঠেই হেসে ফেলে নিজের মনে, আবার নিজেকেই প্রশ্ন করে, আমি কেন করছি শুভ্রর সাথে এরকম?
আবার নিজেকেই বোঝায়, দূর আমি তো এমনিই কথা বলি।আমার তো ভালো লাগে ওর সাথে কথা বলতে।
...
সেদিন ও ঝিলমিল আর শুভ্র একসাথেই আসছিলো, বাসস্ট্যান্ডের দিকে।
শুভ্র হঠাৎ বললো, "একটা কথা বলবো?
তুই সবসময় এতো রাগ ঝাঁঝ না দেখিয়ে ভালো ভাবে থাকতেও পারিস।সেই তো আমি না থাকলে আবার খুঁজিস, থাকলেও খ্যাঁক শিয়ালের মতো খ্যাঁক খ্যাঁক করিস।
বলছি আমি যদি তোর কথা অনুযায়ী অসভ্য সিগারেট কে ছেড়ে দিই তাহলে তুই থাকবি তো সবসময় আমার সঙ্গে?"
ঝিলমিল চমকে তাকালো, "আমি কেন থাকতে যাবো তোমার সঙ্গে সবসময়... আমি কি তোমায় ভালবাসি নাকি!"
শুভ্র বললো,"চল ওখানে বসি।তোর তো বাস আসার দেরি আছে... বলছিস বাসিস না তাই তো?"
ঝিলমিল এবার বললো,"কি জানি ,হয়তো বাসি বা বাসি না।কিন্তু আমি কাউকে ভালবাসতে পারিনা কারণ তাহলে আমার ব্রেক আপ হয়ে যাবে... আমার কপালে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ আছে আমি জানি।"
শুভ্র হা হয়ে বললো,"কি তুই আবার ঝগড়ুটে থেকে ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ও হয়ে গেলি?"
ঝিলমিল এবার বললো,"আমি কেন ভবিষ্যৎ দেখতে যাবো, আমি তো 'Astro rubbish' থেকে জেনেছি।আমাকে জ্যোতিষী বলেছে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হলে তিনি আমার প্রতি খুব যত্নবান হবেন... আমাকে বসিয়ে চুল বেঁধে দেবেন।"
"বাহ্.... ভালো।ওই দেখ তোর বাস এসে গেছে।"
শুভ্রর মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো।ও আর কলেজে না গিয়ে সোজা রেন্ট হাউসের দিকে এগোলো।...
একমাস হতে চললো, শুভ্র... ঝিলমিলকে দেখলে হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করে, "কি রে কি ক্লাস আছে?"
ঝিলমিল উত্তর দেয় এটুকুই।
কিন্তু ঝিলমিল নিতে পারছে না শুভ্রর এই ব্যবহার।
বাড়ি ফিরে, ঝিলমিল রাগ করে বালিশে ঘুঁষি মারলো কয়েকটা।
ফোনটা বাজছে , অস্মিকার ফোন দেখে রেগে ধরলো।
"বল।"
অস্মিকা বললো,"রাগ দেখাবি না একদম। একটা ভালো খবর ছিলো, তোর ওই শুভ্র কে না সহ্য হতো না, আজ জানিস ইউনিয়ন রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শুনলাম ,ওই ছেলেটা কলেজ ছেড়ে দিচ্ছে।কোন একটা ভালো ইনস্টিটিউটে চান্স পেয়েছে অনার্স ছেড়ে দেবে।"
ঝিলমিল রাগ চেপে হেসে বললো,"ঠিক হয়েছে ।বিদায় হোক।আমি গঙ্গায় গিয়ে ডুব দিয়ে আসবো।"
ফোন রেখে রেগে চিৎকার করে বললো,"হুঁ হুঁ এতো কিছু বলতো।আর এটা আমাকে জানালো না। যাও যেখানে ইচ্ছা যাও, কি এমন বলেছি... যে আমায় আর ফোন করা যাবে না; আমার সঙ্গে গল্প করা যাবে না।আজকে ফোনে না পেলে আমি কালকে গিয়ে যদি তোমার ঘরের সব উলটপালট না করে দিয়ে এসেছি।
কি ভাবো তুমি আমাকে!!"
তিনবার ফোন করলো, রিসিভ করলো না শুভ্র... মিনিট দশেক বাদে মেসেজ করলো, "বিজি আছি।কাল ফোন করিস।"
ঝিলমিল রাগে চেঁচালো।কিন্তু মা নেই আর বাইরে দরজা লাগানো তাই কেউ শুনতেও পেলো না।
"সব এই ধ্বজা অ্যাপের জন্য।এদের অতি বিশ্বাস করতে গিয়ে আমার এই অবস্থা।"
আবার ফোন করলো ঝিলমিল, এবার রিসিভ করলো শুভ্র।
"আমি ঘুমাচ্ছিলাম, দিলি তো ঘুমের বারোটা বাজিয়ে..."
"তোমার রেন্ট হাউসের এড্রেস লাগবে আমার ?"
শুভ্র নড়েচড়ে বসে বললো,"কি ... কেন রে কি করবি?ঝগড়া করতে আসবি?"
শুভ্র এখনো বাইরে যাওয়ার কথাটা বলছে না দেখে ঝিলমিল চেঁচিয়ে বললো,"তুমি কোথায় যাবে?"
"সে কি তুই জানিস... ওই একটা জায়গায় চান্স পেয়েছি তাই..."
কথা শেষ হয়নি শুভ্রর, "আমাকে কেন বলোনি?"
ঝিলমিল কেঁদে উঠলো।
"যা.... তোর সাথে দেখা হলে তো বলবো।দেখা কই হলো।আর তুই তো আমার ফোন করা পছন্দ করিস না, আর আমার কথা জানার এতো আগ্রহ থাকবে জানলে আমি চান্স পেয়েই তোকে অ্যালোটমেন্ট লিস্ট পাঠাতাম।"
"আমার তোমার সাথে কথা আছে , এসো।"
"কোথায় যাবো, আমি এখন যেতে পারবো না, আমার কি কাজ নেই নাকি!", শুভ্র বললো।
ঝিলমিল কাঁদতে কাঁদতে বললো,"আমি থাকবো তোমার সাথে ।তুমি এসো, আমার খুব রাগ হচ্ছে নিজের উপর।আমি লাভ ম্যারেজই করবো।"
"আচ্ছা, রাগ করতে হবে না।আজ রাত হয়ে গেছে কাল কলেজে আসার সময় একটু আগে আসিস বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াবো আমি।"
ঝিলমিল তাড়াতাড়ি করে বললো,"না না কিচ্ছু হবে না ,আমি যাচ্ছি।তুমি যদি কাল ফোন না ধরো।"
শুভ্র হেসে বললো,"না না এবার ধরবো।পাগলামি করিস না ঝিল।রাত হয়ে গেছে... কাকিমা নেই?"
"আচ্ছা, তুমি কিন্তু দাঁড়াবে। মা বাড়ি আসেনি এখনো।"...
ঝিলমিল বাস স্ট্যান্ডে ন'টা থেকে দাঁড়িয়ে আছে, আর চোদ্দ বার ঘড়ি দেখছে আর বিরক্ত হচ্ছে।
সাড়ে নটার সময় শুভ্র এসে অবাক হয়ে বললো,"এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছিস.... ক্লাস তো সাড়ে এগারোটা থেকে?"
"হ্যাঁ যদি তুমি বেশিক্ষণ না দাঁড়াও।আগে বলো , তুমি চলে যাচ্ছ কোথাও?"
শুভ্র বসে বললো,"আগে বসবি তো।"
"না তুমি বলো, আমার বসা লাগবে না।তুমি আর আমার সঙ্গে এরম করবে না।রোজ কথা বলবে... আমি তোমাকে কতদিন বলতে গেছি, জানো!বললো, তুমি নাকি নেই।
সবাই কেমন করে তাকাচ্ছিলো!"
শুভ্র বললো,"তাহলে তোর ভবিষ্যৎবাণী?"
"ওসব যা পারে হোক।আমার অত যত্ন আত্তি চাই না..."
শুভ্র এবার হেসে বললো,"আচ্ছা আমি আজকেই তোর চুল বেঁধে দেবো।তুই ওসব ভবিতব্য ভাবা ছাড়।ভাবিস না আবার ওই জ্যোতিষী বলেছে বলে, তুই ভালবাসিস বলে শুধু।"
ঝিলমিল উঠে বললো,"চলো কলেজে যাবো। অতো বাঁধতে হবে না এখানে, পরে বেঁধে দিও।আর সিগারেট খেতে দেখলে তোমার খবর আছে।
ও কোথায় চলে যাবে তুমি?"
"চাপ নেই বেশি দূর না রোজ যাতায়াত করবো।আর তোর চুল বেঁধে দেওয়ার জন্য তো আমাকে থাকতেই হবে... আর তুই ভবিষ্যৎ দেখা ছেড়ে কাজে মন দে।"
কলমে : কোয়েল