বিসর্জন - Bisharjon

বিসর্জন - Bisharjon বিসর্জন : শূন্যের পথে যাত্রা
(5)

ঝিলমিল কলেজ থেকে বাড়ি এসেছে বাসের ঝাঁকুনি খেতে খেতে... তাই আর ফোনটা খোলেনি।বাড়ি ফিরে, ফোনটা নিয়ে বসেছে ... কি যেন !কি...
21/08/2026

ঝিলমিল কলেজ থেকে বাড়ি এসেছে বাসের ঝাঁকুনি খেতে খেতে... তাই আর ফোনটা খোলেনি।

বাড়ি ফিরে, ফোনটা নিয়ে বসেছে ... কি যেন !কি যেন হ্যাঁ রাইট 'Astro rubbish'; গুগল খুলেই সার্চ দিলো, ডাউনলোড করে নিজের মেইল আইডি দিয়ে সাইন আপ করলো।

'Astro rubbish' হলো এখনকার ভীষণ জনপ্রিয় একটা আস্ট্রোলজি অ্যাপ ফ্রী তে এআই জ্যোতিষী ছাড়াও এই অ্যাপ নাকি প্রিমিয়াম ইউজারস দের জন্য রেখেছে বড়ো বড়ো এক্সপেরিয়েন্সড জ্যোতিষী। বাসে ট্রেনে যার ফোনেই উঁকি দিয়েছে ঝিলমিলের চোখে পড়েছে এই অ্যাপটা ,মাত্র কয়েকজন ছাড়া। বড়ো বড়ো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ও এই অ্যাপের অ্যাডে ভরে গেছে।

ঝিলমিল আরেকবার অ্যাড গুলোয় চোখ বোলাচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন ১:

আমি সোহেল , বেশ কিছুদিন ধরে আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ইগনোর করছে।আমার মনে হয় ও অন্য কারোর সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

টিকটিক শব্দ করে, জ্যোতিষীর রিপ্লাই এলো,
আমি বুঝতে পারছি আপনার অবস্থাটা।আপনাদের রিলেশন টু মান্থস তো?

সোহেল উত্তর দিলো, হ্যাঁ।আপনি জানলেন কি করে...এখন আমার কি করা উচিত বলুন?

জ্যোতিষীর রিপ্লাই এলো আবার, আপনি শান্ত ভাবে বোঝান ,আপনার গার্লফ্রেন্ড ইন্সিকোরিটি ফিল করছে এটা আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে অতিরিক্ত পোসেসিভ হবেন না গার্লফ্রেন্ডের প্রতি ।এক মাসের মধ্যে আপনাদের সমস্যা মিটে যাবে।

শেষে সোহেল বলেছে, একমাসের মধ্যে আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে ঘণ্টায় একবার করে মেসেজ করে খোঁজ নেয়।...

ঝিলমিলের আরেকটা অ্যাড চোখে পড়ছিল, তবে দেখলো না.... মনে মনে ভাবলো, আচ্ছা আমি তো সিঙ্গেল ,আমার জীবনে কবে কেউ আসবে,কেমন হবে সে,আমার প্রতি তার ফিলিংস কেমন আমার তো সেগুলোই জানার দরকার।
এখানে তো সেরকম কোনো অ্যাড পাচ্ছি না।

ঝিলমিল ভাবতে ভাবতে বিছানায় শুয়ে এপাশ - ওপাশ করছিল।
ঝিলমিলের মা মিতা দেবী এসে বললেন,"আবার কোন ভূত চেপেছে ঝিল তোর মাথায়? ছটপট করছিস কেন? কাউকে আবার ভালো টালো বেসে ফেলেছিস ;বলতে পারছিস না নাকি?"

ঝিলমিল মায়ের কাছে একদম প্রাণ-খোলা ," মা উফ্ তুমিও না।ভালো লাগছে না খেতে দাও তো।"
এরই মাঝে শুভ্রর ফোন এলো, ঝিলমিল ধরবে না কেটে দেবে সেটা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়লো, তারপর ধরলো,
"কিরে বাড়ি গেছিস? রাস্তায় সিগারেট খাওয়া নিয়ে যা কীর্তি করলি তুই... এখনো হারু কাকার দোকান যেন থমথমে।আমার সিগারেট খাওয়া নিয়ে একটা দিন - আনা লোকের ভাত মারলি তো!"

ঝিলমিল চেঁচিয়ে মেচিয়ে বললো,"আমি কারোর ভাত মারিনি।ওনার সিগারেট বিক্রির দরকার কি!উনি না বেচলে তোমরা কিনবে না খাবেও না সিম্পল।"

মিতা দেবী খাবার টা নিয়ে ঢুকছিলেন, কথাটা কানে যেতেই বললেন....,"ওরা না কিনলে তো এমনিই লোকটা বিক্রি করা বন্ধ করে দেবে সেটা তো ভাবছিস না ঝিল।ওরা দোকানদার ,দোকানদারি করে সংসার চালায়... লোকে যা কিনবে বেশি যেখানে ওদের লাভ বেশি ওরা সেটাই বেচবে।
আর দোকানে বেচা বন্ধ করলেই লোক খাবে না, তাহলে তো ব্ল্যাক মার্কেট থাকতোই না ।যাদের খাওয়ার তারা ঠিক খুঁজে খাবে।এখানে নাহোক সেখানে ,সেখানে না হোক অন্য কোথাও।"

ঝিলমিলের সব রাগ গিয়ে পড়লো শুভ্রর উপর, "কাজ নেই খেয়ে-দেয়ে ,আমায় ফোন করে জ্ঞান না দিয়ে সিগারেট খেয়ে ওই কাকুর ভাতটা জোটাও।"
বলেই কেটে দিলো ফোনটা ঝিলমিল।রাগ দেখিয়ে বিছানার উপর ফোনটা রেখে খাবার খেতে বসলো ঝিলমিল।...
শুভ্র ঝিলমিলদের কলেজের ইউনিয়নের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।কম বেশি সবাই চেনে শুভ্রকে... ছেলেটা সিক্সথ সেমিস্টারের আর ঝিলমিল সেকেন্ড সেমিস্টারের।
ইউনিয়ন রুমের সামনে শুভ্র বসে আছে, অঙ্কন ওকে গুঁতো দিয়েই চলেছে... শুভ্র চুপ।
"আরে শালা ষাঁড়ের মতো গুঁতো দিচ্ছিস কেন তখন থেকে ...আমার ঝাঁট না জ্বালিয়ে নিজের চরকায় তেল দিগে যা।"

পাশ থেকে সাগর বললো,"কেন বে হ্যাটা দিয়ে চলে গেছে নাকি কেউ ,আমাদের উপর ঝাড়ছিস সেই রাগ।"
শুভ্র বিরক্ত হয়ে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে বললো ,"থাকবোই না থাক তোরা।"

কলেজের উল্টোদিক টায় হারু দার দোকান।শুভ্র যাচ্ছিলো... পকেটের সিগারেট টা জ্বালাবে বলে কিন্তু কি ভেবে সোজা রেন্ট হাউসের দিকে যাবে বলে বাসস্ট্যান্ডের দিকে হাঁটা লাগালো।
...
ঝিলমিল খেয়ে দেয়ে উঠে খুললো 'Astro rubbish' অ্যাপটা।
এআই ফ্রী চ্যাট দশ মিনিট দেখে প্রথম প্রশ্ন করলো,
আমার জীবনে লাইফ পার্টনার কবে আসবে?

এআই জ্যোতিষীর রিপ্লাই এলো, আমি আপনার জন্মতারিখ থেকে যা বুঝতে পারছি ,আপনি এখন ভীষণ ডিস্টার্ব আছেন।আজ থেকে তিন চার মাসের মধ্যে,আমি যা দেখতে পাচ্ছি আপনার কুণ্ডলীতে প্রথমে দুবার ব্রেকআপ আছে আর তারপর আপনার ভালোবাসার উপর ভরসাটাই উঠে যাবে আর আপনার অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ টাই হবে বলে মনে হচ্ছে।
ঝিলমিল মনে মনে ঠিক করে নিলো, আমি কারোর প্রেমেই পড়বো না ব্যাস আমার কোনো ব্রেক আপ হবে না ,আমি একেবারে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করবো।

ঝিলমিল ভাবতে ভাবতেই টাইপ করলো, ছেলেটা কেমন হবে .... মানে আমার প্রতি তার ফিলিংস কেমন এগুলো যদি জানা যেত।

এ আই জ্যোতিষী উত্তর দিলেন, আপনার লাইফে আসল প্রেম ধীরে আসবে।সেটা হবে নিশ্চয়তার আর ভরসার, যেমনটা আপনি মন থেকে চাইছেন।
আর আপনার পার্টনার আপনাকে নিয়ে ভীষণ সিনসিয়ার হবেন... আপনার যত্ন নেবেন।
আপনি কি জানতে চান, যত্নের ধরনটা কেমন হবে?

উত্তরে ঠোঁটে হাসি ফুটেছে ঝিলমিলের , ও আবার টাইপ করলো, নিশ্চই বলুন।

চ্যাট এন্ড... কিছুক্ষণ পরে আবার এ আই জ্যোতিষীর একটা মেসেজ এলো... বিকেলের পড়ন্ত রোদে, সে আপনাকে যত্ন করে বসিয়ে বলবে, চুপটি করে বসো ... আমি চুলটা বেঁধে দিচ্ছি ।

ফ্রী চ্যাট শেষ হওয়ায় ঝিলমিলের খারাপ লাগাটা , এই উত্তরটার কাছে ধোপে টিকলো না।ঝিলমিল ফোনটা বন্ধ করে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লো।...

কলেজে শুভ্রর ব্যবহার একটু অন্যরকম লাগে ঝিলমিলের তবে ও অবাক হয় প্রত্যেকবার নিজের প্রতি... শুভ্র ওকে ফোন না করলে ,ও শুভ্রকে রাগ দেখায়,ঝগড়া করে অথচ ফোন করলেও বলে... কেন ফোন করেছ?
শুভ্র জানেই, মেয়েটা কখন কি বলে ঠিক - ঠিকানা নেই... তাই শুভ্রর কোনো আপত্তি ও থাকে না।ও প্রায় দিনই ঝিলমিলের ফেরার সময় এগিয়ে দেয়... ঝিলমিলের ঝাড় তো কখনও আবার শোনে," তুমি না সত্যিই খুব ভালো; শুধু অসভ্য ব্যাপার হলো সিগারেট খাও।"

শুভ্র হেসে বললো, "কি সিগারেট খেলে আবার মানুষ অসভ্য হয়!!"
ঝিলমিল মুখ বেঁকিয়ে বললো,"হুঁ তুমি যাও তো।"

ঝিলমিল বাসে উঠেই হেসে ফেলে নিজের মনে, আবার নিজেকেই প্রশ্ন করে, আমি কেন করছি শুভ্রর সাথে এরকম?
আবার নিজেকেই বোঝায়, দূর আমি তো এমনিই কথা বলি।আমার তো ভালো লাগে ওর সাথে কথা বলতে।
...
সেদিন ও ঝিলমিল আর শুভ্র একসাথেই আসছিলো, বাসস্ট্যান্ডের দিকে।
শুভ্র হঠাৎ বললো, "একটা কথা বলবো?
তুই সবসময় এতো রাগ ঝাঁঝ না দেখিয়ে ভালো ভাবে থাকতেও পারিস।সেই তো আমি না থাকলে আবার খুঁজিস, থাকলেও খ্যাঁক শিয়ালের মতো খ্যাঁক খ্যাঁক করিস।
বলছি আমি যদি তোর কথা অনুযায়ী অসভ্য সিগারেট কে ছেড়ে দিই তাহলে তুই থাকবি তো সবসময় আমার সঙ্গে?"

ঝিলমিল চমকে তাকালো, "আমি কেন থাকতে যাবো তোমার সঙ্গে সবসময়... আমি কি তোমায় ভালবাসি নাকি!"

শুভ্র বললো,"চল ওখানে বসি।তোর তো বাস আসার দেরি আছে... বলছিস বাসিস না তাই তো?"

ঝিলমিল এবার বললো,"কি জানি ,হয়তো বাসি বা বাসি না।কিন্তু আমি কাউকে ভালবাসতে পারিনা কারণ তাহলে আমার ব্রেক আপ হয়ে যাবে... আমার কপালে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ আছে আমি জানি।"

শুভ্র হা হয়ে বললো,"কি তুই আবার ঝগড়ুটে থেকে ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা ও হয়ে গেলি?"

ঝিলমিল এবার বললো,"আমি কেন ভবিষ্যৎ দেখতে যাবো, আমি তো 'Astro rubbish' থেকে জেনেছি।আমাকে জ্যোতিষী বলেছে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হলে তিনি আমার প্রতি খুব যত্নবান হবেন... আমাকে বসিয়ে চুল বেঁধে দেবেন।"

"বাহ্.... ভালো।ওই দেখ তোর বাস এসে গেছে।"

শুভ্রর মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো।ও আর কলেজে না গিয়ে সোজা রেন্ট হাউসের দিকে এগোলো।...
একমাস হতে চললো, শুভ্র... ঝিলমিলকে দেখলে হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করে, "কি রে কি ক্লাস আছে?"
ঝিলমিল উত্তর দেয় এটুকুই।

কিন্তু ঝিলমিল নিতে পারছে না শুভ্রর এই ব্যবহার।
বাড়ি ফিরে, ঝিলমিল রাগ করে বালিশে ঘুঁষি মারলো কয়েকটা।
ফোনটা বাজছে , অস্মিকার ফোন দেখে রেগে ধরলো।
"বল।"
অস্মিকা বললো,"রাগ দেখাবি না একদম। একটা ভালো খবর ছিলো, তোর ওই শুভ্র কে না সহ্য হতো না, আজ জানিস ইউনিয়ন রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শুনলাম ,ওই ছেলেটা কলেজ ছেড়ে দিচ্ছে।কোন একটা ভালো ইনস্টিটিউটে চান্স পেয়েছে অনার্স ছেড়ে দেবে।"

ঝিলমিল রাগ চেপে হেসে বললো,"ঠিক হয়েছে ।বিদায় হোক।আমি গঙ্গায় গিয়ে ডুব দিয়ে আসবো।"

ফোন রেখে রেগে চিৎকার করে বললো,"হুঁ হুঁ এতো কিছু বলতো।আর এটা আমাকে জানালো না। যাও যেখানে ইচ্ছা যাও, কি এমন বলেছি... যে আমায় আর ফোন করা যাবে না; আমার সঙ্গে গল্প করা যাবে না।আজকে ফোনে না পেলে আমি কালকে গিয়ে যদি তোমার ঘরের সব উলটপালট না করে দিয়ে এসেছি।
কি ভাবো তুমি আমাকে!!"

তিনবার ফোন করলো, রিসিভ করলো না শুভ্র... মিনিট দশেক বাদে মেসেজ করলো, "বিজি আছি।কাল ফোন করিস।"

ঝিলমিল রাগে চেঁচালো।কিন্তু মা নেই আর বাইরে দরজা লাগানো তাই কেউ শুনতেও পেলো না।
"সব এই ধ্বজা অ্যাপের জন্য।এদের অতি বিশ্বাস করতে গিয়ে আমার এই অবস্থা।"

আবার ফোন করলো ঝিলমিল, এবার রিসিভ করলো শুভ্র।
"আমি ঘুমাচ্ছিলাম, দিলি তো ঘুমের বারোটা বাজিয়ে..."

"তোমার রেন্ট হাউসের এড্রেস লাগবে আমার ?"

শুভ্র নড়েচড়ে বসে বললো,"কি ... কেন রে কি করবি?ঝগড়া করতে আসবি?"

শুভ্র এখনো বাইরে যাওয়ার কথাটা বলছে না দেখে ঝিলমিল চেঁচিয়ে বললো,"তুমি কোথায় যাবে?"

"সে কি তুই জানিস... ওই একটা জায়গায় চান্স পেয়েছি তাই..."
কথা শেষ হয়নি শুভ্রর, "আমাকে কেন বলোনি?"

ঝিলমিল কেঁদে উঠলো।
"যা.... তোর সাথে দেখা হলে তো বলবো।দেখা কই হলো।আর তুই তো আমার ফোন করা পছন্দ করিস না, আর আমার কথা জানার এতো আগ্রহ থাকবে জানলে আমি চান্স পেয়েই তোকে অ্যালোটমেন্ট লিস্ট পাঠাতাম।"

"আমার তোমার সাথে কথা আছে , এসো।"

"কোথায় যাবো, আমি এখন যেতে পারবো না, আমার কি কাজ নেই নাকি!", শুভ্র বললো।

ঝিলমিল কাঁদতে কাঁদতে বললো,"আমি থাকবো তোমার সাথে ।তুমি এসো, আমার খুব রাগ হচ্ছে নিজের উপর।আমি লাভ ম্যারেজই করবো।"

"আচ্ছা, রাগ করতে হবে না।আজ রাত হয়ে গেছে কাল কলেজে আসার সময় একটু আগে আসিস বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াবো আমি।"

ঝিলমিল তাড়াতাড়ি করে বললো,"না না কিচ্ছু হবে না ,আমি যাচ্ছি।তুমি যদি কাল ফোন না ধরো।"

শুভ্র হেসে বললো,"না না এবার ধরবো।পাগলামি করিস না ঝিল।রাত হয়ে গেছে... কাকিমা নেই?"

"আচ্ছা, তুমি কিন্তু দাঁড়াবে। মা বাড়ি আসেনি এখনো।"...
ঝিলমিল বাস স্ট্যান্ডে ন'টা থেকে দাঁড়িয়ে আছে, আর চোদ্দ বার ঘড়ি দেখছে আর বিরক্ত হচ্ছে।
সাড়ে নটার সময় শুভ্র এসে অবাক হয়ে বললো,"এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছিস.... ক্লাস তো সাড়ে এগারোটা থেকে?"

"হ্যাঁ যদি তুমি বেশিক্ষণ না দাঁড়াও।আগে বলো , তুমি চলে যাচ্ছ কোথাও?"

শুভ্র বসে বললো,"আগে বসবি তো।"

"না তুমি বলো, আমার বসা লাগবে না।তুমি আর আমার সঙ্গে এরম করবে না।রোজ কথা বলবে... আমি তোমাকে কতদিন বলতে গেছি, জানো!বললো, তুমি নাকি নেই।
সবাই কেমন করে তাকাচ্ছিলো!"

শুভ্র বললো,"তাহলে তোর ভবিষ্যৎবাণী?"

"ওসব যা পারে হোক।আমার অত যত্ন আত্তি চাই না..."

শুভ্র এবার হেসে বললো,"আচ্ছা আমি আজকেই তোর চুল বেঁধে দেবো।তুই ওসব ভবিতব্য ভাবা ছাড়।ভাবিস না আবার ওই জ্যোতিষী বলেছে বলে, তুই ভালবাসিস বলে শুধু।"

ঝিলমিল উঠে বললো,"চলো কলেজে যাবো। অতো বাঁধতে হবে না এখানে, পরে বেঁধে দিও।আর সিগারেট খেতে দেখলে তোমার খবর আছে।
ও কোথায় চলে যাবে তুমি?"

"চাপ নেই বেশি দূর না রোজ যাতায়াত করবো।আর তোর চুল বেঁধে দেওয়ার জন্য তো আমাকে থাকতেই হবে... আর তুই ভবিষ্যৎ দেখা ছেড়ে কাজে মন দে।"
কলমে : কোয়েল

“আমি আর পারছি না।”মেঘলার কথাটা শুনে অর্ণব কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ঘড়িটার টিকটিক শব্দটাও য...
19/08/2026

“আমি আর পারছি না।”

মেঘলার কথাটা শুনে অর্ণব কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা ঘড়িটার টিকটিক শব্দটাও যেন হঠাৎ খুব জোরে শোনা যাচ্ছিল।

“কী পারছিস না?”
“এই সম্পর্কটা।”

অর্ণব ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল।
“আবার শুরু করলি?”
“আবার?” মেঘলা হেসে ফেলল।

“তোর কাছে সবকিছুই ‘আবার’।”
“কারণ একই কথা নিয়ে আমরা কতবার ঝগড়া করেছি বল তো?”
“ঝগড়া আমি করি?”
“না, আমি করি। সবসময় আমি-ই করি।”
“তুই আবার সেটা নিয়ে সারকাজম করছিস!”
“আমি সারকাজম করছি না। সত্যি বলছি।”
“সত্যি?” মেঘলা চোখ বড় বড় করে তাকাল।

“তুই আজ তিন ঘণ্টা আমার ফোন ধরিসনি।”
“অফিসে ছিলাম।”
“একটা মেসেজ করতে পারিসনি?”
“পারিনি।”
“কেন?”
“কারণ সবসময় তোকে report করতে ভালো লাগে না আমার।”
কথাটা মুখ থেকে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই অর্ণব বুঝতে পারল, ভুল হয়ে গেছে।
মেঘলা চুপ করে গেল।

“Report?” সে আস্তে বলল।
“মেঘলা, আমি ওইভাবে বলিনি।”
“কীভাবে বলেছিস সেটা বুঝেছি।”
“তুই কথাটা ঘুরিয়ে—”
“আমি কিছু ঘোরাচ্ছি না।”

মেঘলা টেবিলের ওপর রাখা ফোনটা তুলে নিল।
“তুই জানিস, আমি সারাদিন কী করি?”
“জানি।”
“না, জানিস না।”
“তাহলে বল।”
“সকাল থেকে কাজ, তারপর বাড়ির হাজারটা ঝামেলা, তারপর তোকে একটা ফোন করি। তুই ধরিস না। আবার ফোন করি। ধরিস না। তারপর একটা মেসেজ করি—‘ফ্রি হলে call করিস।’ তারপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করি।”
অর্ণব কিছু বলল না।

“আর তুই?”
মেঘলার গলা কেঁপে উঠল।

“তুই যখন সময় পাস, তখন একটা ‘কী করছিস?’ লিখে দিস। যেন আমি তোর জীবনের একটা notification।”
“এটা ঠিক না।”
“তাহলে কী ঠিক?”
অর্ণব এবার একটু জোরে বলল,
“সবকিছুকে এত বড় করে দেখিস না!”
মেঘলা থমকে গেল।
“আমার কষ্টটা তোর কাছে ছোট?”
“আমি সেটা বলিনি।”
“বলেছিস।”
“না।”
“বলেছিস।”
দুজনেই চুপ।
কিছুক্ষণ পর মেঘলা খুব শান্ত গলায় বলল,
“তুই আমাকে আর ভালোবাসিস না, তাই না?”
অর্ণব তাকিয়ে রইল।
“এই প্রশ্নটা করিস না।”
“কেন?”
“কারণ উত্তরটা তুই জানিস।”
“আমি জানি না।”
“জানিস।”
“তাহলে বল।”
অর্ণব দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“ভালোবাসি।”
মেঘলার চোখে জল এসে গেল।
“তাহলে এত কষ্ট দিস কেন?”
অর্ণবের মুখটা নরম হয়ে গেল।
“কারণ আমি perfect না।”
“আমি perfect চাইনি।”
“তাহলে?”
“আমি শুধু চাইছিলাম, তুই একটু বুঝিস।”
“আমি বুঝি।”
“না, বুঝিস না।”
“তুইও তো আমাকে বুঝিস না।”
“আমি কী বুঝি না?”
“আমি সারাদিন কীসের মধ্যে থাকি, সেটা। অফিসের চাপ, বাড়ির চিন্তা, ভবিষ্যৎ নিয়ে tension—সবকিছু সামলাতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমি নিজেই জানি না আমি কী করছি।”

মেঘলা কিছু বলল না।
অর্ণব একটু কাছে এসে বলল,
“তখন তুই যখন একের পর এক প্রশ্ন করিস, আমার মাথা আরও গরম হয়ে যায়।”
“তাহলে আমাকে বলিস।”
“বললে তুই ভাববি আমি তোকে এড়িয়ে যাচ্ছি।”
“আর না বললে?”
“তুই ভাবিস আমি তোকে ভালোবাসি না।”
দুজনেই হেসে ফেলল।
খুব সামান্য।
খুব ক্লান্ত একটা হাসি।
মেঘলা চোখ মুছে বলল,
“আমরা দুজনেই বোধহয় বড্ড বোকা।”
“হ্যাঁ।”
“তুই বেশি।”
“এবার আবার শুরু করলি!”
“চুপ কর।”
আবার একটু নীরবতা।
তারপর মেঘলা বলল,
“অর্ণব।”
“হুম?”
“যদি একদিন সত্যিই আমি চলে যাই?”

অর্ণব এবার আর হাসল না।
“কোথায় যাবি?”
“জানি না।”
“আমাকে ছেড়ে?”
“হ্যাঁ।”
“কেন?”
“কারণ তোর সঙ্গে থাকতে থাকতে যদি প্রতিদিন মনে হয় আমি একা, তাহলে একা থাকাই ভালো।”

অর্ণব কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থাকল।
তারপর খুব আস্তে বলল,
“তুই চলে যেতে চাইলে আমি তোকে আটকাব না।”
মেঘলার চোখ বড় হয়ে গেল।
“সত্যি?”
“হ্যাঁ।”
“এত সহজে?”
“সহজ না।”
“তাহলে?”
“তুই যদি সত্যিই সুখী হতে পারিস আমাকে ছাড়া, তাহলে আমার কষ্ট হলেও তোকে আটকে রাখার অধিকার আমার নেই।”

মেঘলা এবার আর চোখের জল আটকাতে পারল না।
“আর যদি সুখী না হই?”
অর্ণব এক পা এগিয়ে এল।
“তাহলে ফিরে আসবি।”
“তুই নেবি?”
“দরজা বন্ধ করব না।”
“আমি যদি অনেক দেরি করে ফিরি?”
“অপেক্ষা করব।”
“যদি রাগ করে ফিরি?”
“ঝগড়া করব।”
“যদি বলি, তোকে আর সহ্য হয় না?”
অর্ণব হেসে ফেলল।
“সেটা তুই প্রতি সপ্তাহেই বলিস।”
মেঘলা কাঁদতে কাঁদতেই হেসে ফেলল।
তারপর আবার বলল,
“আমি কিন্তু সিরিয়াস।”
“আমিও।”
“আমি সত্যিই চলে যেতে পারি।”
“যা।”

মেঘলা দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল।
এক পা।
দুই পা।
তিন পা।
অর্ণব নড়ল না।
দরজার কাছে গিয়ে মেঘলা থামল।
পেছনে তাকাল।
অর্ণব এখনও দাঁড়িয়ে।
“একবারও আটকাবি না?”
“তুই তো বলেছিলি চলে যাবি।”
“হুম।”
“তাহলে যা।”

মেঘলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর দরজাটা খুলে বাইরে গেল।
দুই সেকেন্ড।
পাঁচ সেকেন্ড।
দশ সেকেন্ড।
অর্ণব দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোফায় বসে পড়ল।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে মেঘলার গলা—
“অর্ণব!”
সে উঠে দাঁড়াল।
দরজার কাছে গিয়ে দেখল, মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে।
“কী?”
মেঘলা চোখ মুছে বলল,
“আমি একটা জিনিস নিতে ভুলে গেছি।”
“কী?”
“আমাকে।”
অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেলল।
“তুই আসলেই একটা পাগল।”
মেঘলা ভেতরে এসে বলল,
“আর তুই একটা গাধা।”
“তবুও?”
“তবুও।”
“তাহলে ব্রেকআপ?”
মেঘলা মাথা নাড়ল।
“হবে।”
“কীভাবে?”
“আজকের ঝগড়াটা এখানেই শেষ। কাল আবার নতুন করে ঝগড়া করব।”
অর্ণব হাসতে হাসতে বলল,
“ডিল।”
মেঘলা এগিয়ে এসে তার হাতটা ধরল।
“একটা কথা?”
“বল।”
“আমাদের যদি কখনও সত্যিই ব্রেকআপ হয়?”
অর্ণব তার দিকে তাকিয়ে বলল,
“তাহলেও একটা সমস্যা আছে।”
“কী?”
“আমরা তো একই বাড়িতে থাকি।”
মেঘলা ভুরু কুঁচকে তাকাল।
“হ্যাঁ?”
অর্ণব এবার হেসে বলল,
“কারণ ম্যাডাম, আপনি আমার স্ত্রী।”

মেঘলা এক মুহূর্ত থমকে থেকে বালিশটা তুলে অর্ণবের দিকে ছুড়ে মারল।
“তুই আবার আমাকে বউ বলছিস কেন?”
“কারণ তুই বউ।”
“আমি তোকে ডিভোর্স দিয়ে দেব!”
“দে।”
“সত্যি দেব!”
“দে।”
“তুই আটকাবি না?”
অর্ণব হেসে তার হাতটা ধরে বলল,
“না। কারণ ডিভোর্সের পরেও তোকে বাড়ি পৌঁছে দিতে আমাকেই আসতে হবে।”
মেঘলা হেসে মাথা নাড়ল।
“তুই একটা অসহ্য মানুষ।”
“জানি।”
“তবুও তোকে ছাড়া থাকা যায় না।”
অর্ণব এবার মৃদু গলায় বলল,
“আমারও যায় না।”
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল।
আর ঘরের ভেতর দু'জন মানুষ আবারও ঝগড়া ভুলে পাশাপাশি বসে ছিল।
কারণ তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সত্যিটা ছিল খুব সহজ—
তারা রাগ করতে পারে।
অভিমান করতে পারে।
এমনকি হাজারবার ‘ব্রেকআপ’ বলতে পারে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত দু'জনের বাড়ি একটাই।
আর সেই বাড়ির ঠিকানাটাও—একে অপরের কাছে।
কলমে - শ্রেয়া

আজকের দিনে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, শুভ পয়দা দিবস কিপটে ফাউন্ডার 😁 বেশি করে কিপটামি করুন আর ...
18/08/2026

আজকের দিনে এই ধরাধামে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, শুভ পয়দা দিবস কিপটে ফাউন্ডার 😁 বেশি করে কিপটামি করুন আর পকেট ভরুন তারপর ওই টাকা দিয়ে আমাদের ট্রিট দেবেন 🥹

শুভ জন্মদিন, শ্রদ্ধেয় গুরুদেব!মানুষের জীবনে কিছু মানুষ আসে, যাদের ঠিক কী বলে ডাকতে হয়, সেটা বোঝা যায় না। দাদা বললে সম্প...
18/08/2026

শুভ জন্মদিন, শ্রদ্ধেয় গুরুদেব!

মানুষের জীবনে কিছু মানুষ আসে, যাদের ঠিক কী বলে ডাকতে হয়, সেটা বোঝা যায় না। দাদা বললে সম্পর্কটা পুরো বোঝানো হয় না, আর শুধু গুরু বললে মনে হয়—আহা, লোকটা এতটা গম্ভীরও তো না!

তাই তোমাকে আমি গুরুদেবই বলি।
কারণ তুমি আমার গুরু। ব্যস। এটার আর কোনো পরিসংখ্যানগত ব্যাখ্যা নেই। 😌

তুমি একই সঙ্গে লেখক, সব্যসাচী, পরিসংখ্যানের মানুষ এবং বিসর্জনের ফাউন্ডার-এডমিন...এতগুলো পরিচয় একজন সাধারণ মানুষের জন্য একটু বেশিই হয়ে যায়। তবে তুমি তো আর সাধারণ মানুষ নও, তুমি সব্যসাচী!

লেখালেখিতে তোমার যে জায়গা, সেটা নিয়ে বেশি কিছু বলব না। কারণ গুরুর সামনে শিষ্য বেশি কথা বললে ভালো দেখায় না। তবে এটুকু বলতেই হয়—তোমার লেখা পড়লে মাঝে মাঝে মনে হয়, কিছু মানুষ সত্যিই শব্দের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে জন্মায়।

তোমাকে গুরু মানি—এটা কোনো নতুন ইশতেহার না। সত্যি সত্যিই মানি। তোমার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, হয়তো সামনে আরও অনেক কিছু শিখব। আর শিষ্য হিসেবে আমার দায়িত্ব হলো মাঝেমধ্যে গুরুদেবকে ২৪ ঘণ্টায় ৪৮টা reels পাঠানো, বিরক্ত করা, অযথা প্রশ্ন করা, বকুনি খাওয়া এবং তারপরও আবার গিয়ে হাজির হওয়া। আশীর্বাদ করো, এই দায়িত্ব আমি বেশ নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করে যাব। 😌

তবে জন্মদিনে গুণগান করতে গিয়ে একটা দুঃখের কথা মনে পড়ে গেল...

মেঘাদ্রিতার কোনো গুরুমা নেই।
বিসর্জনেরও কোনো মা নেই।

এই জায়গাটায় এসে সায়েন্স ব্যর্থ। এত গুণের একজন গুরুদেবের জীবনে গুরুমার সংখ্যা শূন্য—(গোপিনীর সংখ্যা ১০০০)—এটা নিঃসন্দেহে গবেষণার বিষয়।

সংসারের এই মহাজাগতিক শূন্যতা তুমি কীভাবে এত বছর হাসিমুখে লুকিয়ে রাখলে, তা সত্যিই এক অদ্ভুত রহস্য। চারপাশের সিঙ্গেল মানুষদের দেখলে মায়া লাগে, কিন্তু নিজের গুরুদেবকে এভাবে 'সিঙ্গেল' থাকতে দেখাটা যে একজন শিষ্যের জন্য কতটা কষ্টদায়ক, তা তুমি কোনোদিন বুঝবে না!

আশা করি, জীবনের এই নতুন বছরে তোমার সমস্ত ইচ্ছে পূরণ হবে। সেই সাথে বিসর্জনের একটা মা আর আমার একটা গুরুমা’র বন্দোবস্ত যেন এই বছরটায় হয়ে যায়!

ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, আর এমনই থেকো। (তবে সিঙ্গেল থেকো না আর প্লিজ...)

ইতি,
তোমার একান্ত বাধ্যগত বেয়াদব শিষ্যা,
মেঘাদ্রিতা

জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা বিসুর বাপ🥳 আর কতদিন সিঙ্গেল থাকবেন বিসুর মাকে আনুন আমরা এবার হাঁপিয়ে উঠেছি🥲
18/08/2026

জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা বিসুর বাপ🥳 আর কতদিন সিঙ্গেল থাকবেন বিসুর মাকে আনুন আমরা এবার হাঁপিয়ে উঠেছি🥲

শুভ জন্মদিন কিপটে ফাউন্ডার 😁 আরো অনেক চমক আছে শুধু অপেক্ষা করো
18/08/2026

শুভ জন্মদিন কিপটে ফাউন্ডার 😁 আরো অনেক চমক আছে শুধু অপেক্ষা করো

দেশ স্বাধীনের পর ৭৯ টা বছর পেরিয়ে গেছে। আজ পিছনে তাকিয়ে দেখলে বুঝতে পারি খুব একটা বেশি এগোইনি আমরা। GDP অনুযায়ী ষষ্ঠ, যদ...
16/08/2026

দেশ স্বাধীনের পর ৭৯ টা বছর পেরিয়ে গেছে। আজ পিছনে তাকিয়ে দেখলে বুঝতে পারি খুব একটা বেশি এগোইনি আমরা। GDP অনুযায়ী ষষ্ঠ, যদিও দুবার পরমাণু বোমার আঘাত পাওয়া জাপান আমাদের চেয়ে এগিয়ে। Hunger Index এ আমরা 102, Human Development এ 134, Corruption Perception এ 91গতকালই ছিল ১৫ আগস্ট। দেশের নাকি উন্নতি হচ্ছে। রাজ্যের উন্নতি হচ্ছে।যাকগে এসব ভেবে আর আমাদের কী! 'আচ্ছে দিন' আসবে নিশ্চয়ই।
আজ সকাল থেকেই কলকাতার আকাশটা কেমন যেন অস্বস্তিকর। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ। দোকানের শাটার অর্ধেক নামানো। ফেসবুক, মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিও—কোথাও মিছিল, কোথাও ভাঙচুর, কোথাও উত্তেজিত মুখ। কদিন আগে অনন্ত মহারাজ বলেছেন, "শুধু মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু বা কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলেই ভারত স্বাধীন হয়েছে, এই ধারণা সঠিক নয় । কোচবিহারের মহারাজার ভূমিকাও ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি ।" তাঁর দাবি, "কোচবিহারের মহারাজা যুদ্ধ করে হিটলার এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে পরাজিত করেছিলেন ।" তিনি দাবি করেন, জার্মানির হাতে বন্দি হওয়া ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাদের নেতাজির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সেনাদের নিয়েই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠিত হয়। সেই থেকেই উত্তাল রাজনীতি, সমাজ। যারা নেতাজীকে 'তোজোর কুকুর' বলেছিলেন, তারাও পতাকা নিয়ে মাঠে নামছেন, যারা বলেছিলেন 'যুদ্ধাপরাধী' তারাও গলা ফাটাচ্ছেন। আজ আবার এইসব ঝামেলার মধ্যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডের একটা পুরোনো কলকাঠি নাড়া হয়েছে। কোথাও একটা মন্দিরে কেও মূর্তি ভেঙে রেখে গেছে।
কেউ বলছে, “এটা হিন্দুদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।”
কেউ বলছে, “মুসলমানদের শেষ করে দাও।”
এই তো স্বাধীন দেশ। যা ইচ্ছে বলো, যা ইচ্ছে করো।
--------------------
ছেলেটার বয়স সাতাশ-আটাশ হবে। কালো বুলেট বাইকটা নিয়ে সে প্রায় সারা বাংলা ঘুরে বেড়ায়। না চাকরি করে, না ব্যবসা। কেন ঘোরে, সে নিজেও খুব পরিষ্কার করে বলতে পারে না। একদিন পুরুলিয়া, একদিন মালদা, কখনও সুন্দরবন, কখনও জলপাইগুড়ি। কাল স্বাধীনতা দিবসে সে ছিল কলকাতায়। কাল দুপুরে বাইক নিয়ে ফেরার সময় রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধ পতাকা বিক্রি করছিলেন।—“বাবু, একটা নেবে?”
ছেলেটা হেলমেট খুলে বলেছিল,
—“না, কাকু।”
—“দশ টাকা।”
—“বললাম তো লাগবে না।”
বৃদ্ধ একটু হেসেছিলেন।
—“লাগবে না কেন? জানো আজ স্বাধীনতা দিবস।”
—"স্বাধীনতা...পতাকা..."
―"হ্যাঁ। অন্তত বাইকে লাগিয়ে রাখবে আজ। ভালো দেখতে লাগবে।"
―"না না থাক।"
ছেলেটা হেসে বাইক চালিয়ে চলে গিয়েছিল। পতাকা!
--------------------
দুপুরে খবর এল, শহরের একটা অংশে গোলমাল শুরু হয়েছে। দাঙ্গা।
তারপর আরেকটা।
তারপর আরও একটা।
এক জায়গায় দোকান পুড়েছে। অন্য জায়গায় মন্দিরের সামনে ভাঙচুর। কোথাও মসজিদের দেওয়ালে আগুনের দাগ। কোথাও বাড়িতে পাথর ছোঁড়া হয়েছে। সুবি বাইকটা নিয়ে বেরোল।রাস্তার ধারে একটা ছেঁড়া পতাকা পড়ে থাকতে দেখে সে হঠাৎ ব্রেক কষল। মুখে একটা অদ্ভুত হাসি। হয়ত কষ্টের। নেমে সে ওই পতাকাটা তুলে নিল। একটা ছেলে বলল,
—“ওটা নিয়ে কী করবেন দাদা? ফেলে দিন।”
ছেলেটা তাকাল।
—“কেন?”
—“নোংরা হয়ে গেছে।”
—“তাই বলে ফেলে দেব?”
—“আর কী করবেন?”
ছেলেটা পতাকাটা ঝেড়ে ভাঁজ করল।
—“যাদের জন্য তৈরি হয়েছিল, তাদের কাছে ফিরিয়ে দেব।”
অন্য ছেলেটা হেসে বলল,
—“কাকে?”
এই ছেলেটা ‌উত্তর দিল না।
--------------------
বিকেলের দিকে দাঙ্গা আরও ছড়িয়ে পড়ল। একটা দোকানে আগুন। একটা বাস ভাঙা। একটা বাড়ির জানলা ভাঙা। মানুষ মানুষকে জিজ্ঞেস করছে
“তুই হিন্দু?”
“তুই মুসলমান?”
“তোর বাড়ি কোথায়?”
ছেলেটা একটা মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
একজন লোক দৌড়ে এসে বলল,
—“ওদিকে যাবেন না! মারামারি হচ্ছে!”
—“কোথায়?”
—“সব জায়গায়!”
—“কেউ আহত?”
—“অনেক।”
—“অ্যাম্বুলেন্স?”
লোকটা চুপ।‌ ছেলেটা বলল,
—“পুলিশ?”
—“পুলিশও সামলাতে পারছে না।”
সে বাইকে উঠল।
—“আপনি কোথায় যাচ্ছেন?”
—“ওদিকেই।”
—“পাগল হয়েছেন?”
ছেলেটা হেলমেট পড়ল।
—“হ্যাঁ। সম্ভবত।”
--------------------
সূর্য তখন পশ্চিমে নেমে গেছে। আকাশে লালচে আলো। সুবি ধীরে ধীরে বাইক চালাচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে ভাঙা কাচ। পোড়া টায়ার। ছড়িয়ে থাকা জুতো। একটা স্কুলব্যাগ। হঠাৎ একটা ছোট্ট মেয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। ছেলেটা বাইক থামাল।
—“কী হয়েছে?”
—“বাবাকে খুঁজে পাচ্ছি না।”
—“বাবার নাম?”

মেয়েটি বলল। ছেলেটা কাকে যেন একটা ফোন করল। তারপর একটা দোকানের সামনে বসিয়ে বলল,
—“ভয় পেও না। আমি তোমার বাবাকে খুঁজে দেব।”
—“তুমি পুলিশ?”
—“না।”
—“তাহলে?”
ছেলেটা একটু ভেবে বলল,
—“আমার নাম মোহম্মদ জিয়াউদ্দীন।”
মেয়েটি ভয় পেয়ে গেল।
—“একটু আগে দুজন মুসলমান আমার মাকে টেনে নিয়ে গেল। ঐদিকে। তুমিও কী...”
—"আমি তেমন নই। ভয় পেও না।”
--------------------
আরও কিছুদূর গিয়ে সে দেখল রাস্তার মাঝখানে একটা পতাকা পড়ে আছে। দুপুরের মতোই। সবুজ-সাদা-কমলা মাটিতে। চাকার দাগ লেগে গেছে। জিয়াউদ্দিন বাইক থামাল। নেমে পতাকাটা তুলল।তারপর হঠাৎ পিছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর।
—“কাল তো নেননি।''
ছেলেটা ঘুরে দাঁড়াল। রাস্তার পাশে সেই বৃদ্ধ। একই সাদা পাঞ্জাবি। একই ঝোলা। কিন্তু আজ তাঁর ঝোলায় একটাও পতাকা নেই। জিয়াউদ্দিন উত্তর দিল,
―"এইজন্য নিইনি।"
--------------------
দূরে ওই দাঙ্গা লেগেছে। দিনটা বারবার মনে পড়ে ওর। উফঃ। নেহেরু! জিন্নাহ! গোপাল পাঁঠা। গান্ধী। মানুষকে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান আরো কত কী ভাবে ভাগ করেছে! ছোটো ছোটো ঘটনা, কথা থেকেই বড় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এদের মধ্যে। আর তার সুবিধা ভোগ করে ওপরতলার মানুষরা। ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট। একদল লোক-তাদের হাতে ছোরা, তরোয়াল ইত্যাদি নানা অস্ত্রশস্ত্র। তারা চিৎকার করে বলছে, 'আজ তো এক এক হিন্দুকো কোরবানী করেগা।' সবাই সন্ত্রস্ত। যেকোনো মূহুর্তে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ভয় মেয়েদের নিয়ে। একদিন দেখা গেল ছাগল-গরু কেটে যেমন হুকের সাথে ঝুলিয়ে রাখে, তেমনিভাবে হাত পা স্তন কাটা হিন্দু মেয়েদের চুল বেঁধে সব ঝুলিয়ে রেখেছে। বীভৎস আর নৃশংস সেই দৃশ্য। হিন্দুদের হত্যা, মেয়েদের ধর্ষণ, প্রাণের ভয় দেখিয়ে ধর্মান্তরের চেষ্টা, বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ এবং লুঠপাট চলতে থাকে। এভাবে গৃহহীন হয় হাজার হাজার হিন্দু। ধর্ষিতা এবং অপহৃতা মহিলাদের কোনো হিসেব ছিল না। কলকাতার রাস্তায় এখানে সেখানে জমে উঠেছিল লাশের পাহাড়। দিনগুলো মনে করলেই শিউরে ওঠে ও।
জিয়াউদ্দিন বাইকে উঠল। ইঞ্জিন স্টার্ট করল। প্রথমে শব্দটা স্বাভাবিক।
তারপর
—ঘরররররর...
ইঞ্জিনের শব্দ বদলে গেল। বাইকটা যেন কাঁপতে লাগল। চাকা দুটো ধীরে ধীরে সরু হতে শুরু করেছে। কালো রাবারের বদলে সেখানে দেখা যাচ্ছে শক্ত, পেশিবহুল পা। হেডলাইট দুটো নিভে গিয়ে জ্বলে উঠল দুটো অগ্নিময় চোখের মতো। ধাতব শরীরটা গলে যাচ্ছে না—বরং যেন জীবন্ত কোনো প্রাণীর রূপ নিচ্ছে। হ্যান্ডেলবার বাঁকতে বাঁকতে ঘোড়ার ঘাড়ের মতো হয়ে গেল। সিটটা প্রশস্ত হয়ে উঠল। ইঞ্জিনের গর্জন পরিণত হল হ্রেষাধ্বনিতে।
একটা গভীর, প্রাচীন হ্রেষাধ্বনি। ছেলেটার হাতের শিরাগুলো ফুলে উঠছে। মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন।
তার কালো জ্যাকেটটা বাতাসে উড়ছে। মুখের চামড়া যেন আগুনের আলোয় বদলে যাচ্ছে।চোখের সামনে তার মুখের পরিচিত রেখাগুলো মিলিয়ে গিয়ে ফুটে উঠল এক কঠিন, দৃঢ় মুখ।গোঁফ। চওড়া কপাল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। চুল পিছনে আঁচড়ানো। ছেলেটা আর নেই।
তার জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন এক পরিচিত অথচ অলৌকিক মানুষ। লোকে তাকে বলে মহাকাল। তিনি অমর। ততক্ষণে ঘোড়ার শরীর থেকে ধোঁয়া উঠছে। ঘোড়ার কেশর আগুনের মতো জ্বলছে। আর তার পিঠে—সামরিক পোশাক পরা এক মানুষ।মেরুদন্ড সোজা। চোখে আগুন।
একসময়ের 4th র‍্যাঙ্ক করা IAS...
দেশ তাকে মারতে পারেনি। রাশিয়া, জার্মানি এখনো তাকে শ্রদ্ধা করে। ব্রিটিশদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়া একমাত্র নেতা।
সামনে আবার একটা যুদ্ধ। দেশ স্বাধীনের পরেও তাঁকে বারবার আসতে হয়। লোকে তাঁকে তাই 'মহাকাল' বলে। এখনো দেওয়ালে লিখে রাখে,
"নেতাজী ফিরবেন..."
কলমে : সব্যসাচী
ছবি : পাপড়ি
#কালরাত্রি #বিসর্জন #রবিবারেরকালরাত্রি #কালরাত্রি_19

আগস্টের মেঘলা সকাল। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, আর তারই মাঝে সূয্যিমামা মাঝে মাঝে এসে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। কল্লোলিনী তিলোত্তমা...
15/08/2026

আগস্টের মেঘলা সকাল। আকাশজুড়ে মেঘের আনাগোনা, আর তারই মাঝে সূয্যিমামা মাঝে মাঝে এসে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। কল্লোলিনী তিলোত্তমা কলকাতার অলিগলিতে লাউডস্পিকারে বাজছে দেশাত্মবোধক গান। রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্লাস্টিক আর কাগজের জাতীয় পতাকার পসরা।

রাস্তার একপাশে জরাজীর্ণ কাঠের বাক্স ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন সত্তরোর্ধ্ব নরেনবাবু। স্বাধীনতার পরপরই জন্ম নেওয়া নরেনবাবুর কাছে এই দিনটার অর্থ বড্ড আলাদা। তাঁর বাবা এই দেশের মাটির জন্যই রক্ত দিয়েছিলেন। নরেনবাবু সারা বছর সাধারণ ফেরিওয়ালার জীবন কাটালেও বিক্রি করে দেননি বাবার শেখানো স্বাধীনতা সংগ্রামের সংজ্ঞাটুকু। পনেরোই আগস্টে রাস্তায় ছোট ছোট সুতির তৈরি পতাকা নিয়ে দাঁড়ান। বিক্রি করাটা উদ্দেশ্য নয়, দেশ মায়ের দশ লক্ষ তেত্রিশ কোটি সন্তানের রক্তে অর্জিত প্রতীকটাকে মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়াতেই তাঁর তৃপ্তি।
ঠিক এই সময়ে রাস্তার উল্টো দিক থেকে এগিয়ে আসে তরুণ চাকরিজীবী অনির্বাণ। তার চেহারার পরতে পরতে বিলাস বাহুল্যের ছাপ স্পষ্ট।
রাস্তায় কিছু দূরে একটা বেগুনি নোট পড়ে। একশ টাকার নোট। পাশেই একটা পতাকা। কেও ফেলে গেছে হয়ত।
দুজনেরই চোখ গিয়ে আটকায় ওই জায়গায়। অনির্বাণ থামে। নিচে তাকায়। দূর থেকে নরেনবাবু স্থির চোখে পুরো দৃশ্যটা দেখছেন। তাঁর মনে মনে এক অজানা আশা দানা বাঁধছে।
কিন্তু না! নরেন বাবুর সমস্ত আশা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল এক লহমায়।
অনির্বাণ এক মুহূর্তের জন্য কাদার ওপর পড়ে থাকা পতাকাটার দিকে তাকায়। তারপর কোনো রকম ইতস্তত না করে, শরীরটা সামান্য ঝুঁকিয়ে কেবল একশো টাকার নোটটি আঙুলের ডগায় আলতো করে তুলে নেয়। নোটের কাদাটা নিজের জিন্সে মুছে পকেটে পুরে ফেলে সে।
পতাকাটি পড়ে থাকে ঠিক আগের মতোই। পথচারীদের পায়ের জুতোর ছাপ আর কাদা জলের মাঝে। অনির্বাণ পা বাড়িয়ে পতাকাটা মাড়িয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সরে যায়, কিন্তু তুলে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করে না। তার কাছে কাপড়ের তৈরি ওই টুকরোটির আর্থিক মূল্য শূন্য, কিন্তু নোটে ছাপা সংখ্যার একটা নির্দিষ্ট বিনিময় মূল্য আছে।
নরেনবাবু কোনো চিৎকার করেন না, আক্ষেপ প্রকাশও করেন না। তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসেন। কাঁপানো হাত দুটি বাড়িয়ে কাদার ভেতর থেকে ভিজে যাওয়া তেরঙা কাপড়ের টুকরোটি তুলে নেন। নিজের ধবধবে সাদা ধুতি দিয়ে সাবধানে রাস্তার কাদাটুকু মুছে নেন পতাকা থেকে।
অনির্বাণ তখন কিছুটা দূরে গিয়ে একটা সিগারেট ধরাচ্ছে। নরেনবাবু ধীর পায়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়ান। বৃদ্ধের শান্ত, অথচ ধারালো দৃষ্টির সামনে এসে অনির্বাণ কেমন যেন অস্বস্তি বোধ করে।
নরেনবাবু অনির্বাণের চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় শুধোন,
— কাদা মেখে থাকা নোটটা তো অমনি পকেটে ভরলে বাবা, কিন্তু দেশটার চিহ্নটার ওপর কাদা লেগে রইল, ওটা চোখে পড়ল না?

অনির্বাণ সামান্য থতমতো খেয়েও ভ্রূ কুঁচকে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ে। বিরক্তির সুর বজায় রেখে বলে,
— আরে দাদু! রাস্তায় এমন শয়ে শয়ে কাপড়ের টুকরো, ছেঁড়া কাগজ পড়ে থাকে, সব তুলে বেড়াতে গেলে তো আমাদের প্রত্যেককেই কাগজকুড়ানি হতে হয়! আর তাছাড়া, যদি তুলেও নিই ওটা দিয়ে কী করব? সামান্য একটা কাপড়ের টুকরো, ওটা দিয়ে তো বাজারে কিছু কেনাও যাবে না, তাই না?

নরেনবাবু নিজের হাত থেকে সুতির চেনা তেরঙা কাপড়ের টুকরোটার ওপর আঙুল বোলাতে বোলাতে বললেন,
— দাম দিয়ে কি সব কিছুর বিচার হয় রে বাবা? তোমার পকেটের ওই একশো টাকায় কার ছবি আঁকা দেখেছো কখনো? গান্ধীজি! কত কষ্টেই দেশটা স্বাধীন করলেন আর সেই দেশের পতাকার এত অবহেলা!

অনির্বাণ একটু ইতস্তত করে বলে,
— তা বলে কাদার মধ্যে থেকে কাপড় তুলে জামায় মুছতে যাব নাকি? ধুলোবালি ঘাঁটার তো কোনো দরকার আছে কী?

নরেনবাবু মৃদু হাসেন। কিন্তু সেই হাসিতে কোনো অভিমান বা ব্যঙ্গ নেই, আছে এক বুকচাপা বিষাদ। নরেনবাবু কোনো উপদেশ দেন না, শুধু নিচু গলায় বলেন,
— যে দেশ তোমাকে টাকা উপার্জনের অধিকার আর সম্মান দিয়েছে, সেই দেশটার চিহ্ন যদি কাদায় পড়ে থাকে, তবে ওই টাকার কোনো মূল্য থাকে না বাবা। কাল সকাল হলেই তো দেখব হাজারটা এরকম পতাকা ডাস্টবিনে জমে আছে। কিন্তু আশি বছর আগে কষ্ট করে, রক্ত ঝরিয়ে ফিরে পাওয়া স্বাধীনতাটা ডাস্টবিনে ফেলার মতো সস্তা ছিল না, হবেও না কখনো।

কথাটা বলে নরেনবাবু পতাকাটা সযত্নে নিজের বুকপকেটে গুঁজে ক্লান্ত অবসন্ন পায়ে এগোতে থাকে।

অনির্বাণ দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক রাস্তার মাঝখানে। হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, পকেটে সেই ভিজে একশো টাকার নোট। তার মনে হয়, এত বড় শহরে এত মানুষের ভিড়ে সে ভীষণ একলা, এত বড়ো চাকরি করেও সে নিঃস্ব, আর ওই বৃদ্ধ এক বিপুল সম্পদের সম্ভার নিয়ে এগিয়ে চলেছেন আগামীর পথে।
কলমে: কৌশানী
ছবি : অর্ক

হে ভারত, এই পরানুবাদ, পরানুকরণ, পরমুখাপেক্ষা, এই দাসসুলভ দুর্বলতা , এই ঘৃণিত জঘন্য নিষ্ঠুরতা - এই মাত্র সম্বলে তুমি উচ্চ...
15/08/2026

হে ভারত, এই পরানুবাদ, পরানুকরণ, পরমুখাপেক্ষা, এই দাসসুলভ দুর্বলতা , এই ঘৃণিত জঘন্য নিষ্ঠুরতা - এই মাত্র সম্বলে তুমি উচ্চাধিকার লাভ করিবে? এই লজ্জাকর কাপুরুষতাসহায়ে তুমি বীরভোগ্যা স্বাধীনতা লাভ করিবে ? হে ভারত, ভুলিও না - তোমার নারীজাতির আদর্শ সীতা, সাবিত্রী, দময়ন্তী ; হে ভারত ,ভুলিও না - তোমার উপাস্য উমানাথ সর্বত্যাগী শঙ্কর ; ভুলিও না - তোমার বিবাহ , তোমার ধন, তোমার জীবন ইন্দ্রিয়সুখের - নিজের ব্যক্তিগত সুখের জন্য নহে , ভুলিও না - তুমি জন্ম হইতেই 'মায়ের' জন্য বলিপ্রদত্ত ; ভুলিও না তোমার সমাজ সে বিরাট মহামায়ার ছায়ামাএ; ভুলিও না- নীচজাতি, মূর্খ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই ! হে বীর, সাহস অবলম্বন করো; সদর্পে বলো- আমি ভারতবাসী, ভারতবাসী আমার ভাই। বলো - মূর্খ ভারতবাসী, দরিদ্র ভারতবাসী, ব্রাহ্মণ ভারতবাসী, চন্ডাল ভারতবাসী আমার ভাই ; তুমিও কটিমাত্র বস্ত্রাবৃত হইয়া সদর্পে ডাকিয়া বলো - ভারতবাসী আমার ভাই, ভারতবাসী আমার প্রাণ, ভারতের দেবদেবী আমার ঈশ্বর,ভারতের সমাজ আমার শিশুশয্যা, আমার যৌবনের উপবন, আমার বার্ধক্যের বারাণসী; বলো ভাই - ভারতের মৃত্তিকা আমার স্বর্গ, ভারতের কল্যাণ আমার কল্যাণ ; আর বলো দিনরাত, হে গৌ্রীনাথ, হে জগদম্বে, আমায় মনুষত্ব দাও ; মা, আমার দুর্বলতা কাপুরুষতা দূ্র করো,আমায় মানুষ করো ।

লেন্সের পিছনে- পিয়ালী ও রাজেশ্বরী

Address

Dumdum
Kolkata
700041

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিসর্জন - Bisharjon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to বিসর্জন - Bisharjon:

Shortcuts

Share