Katha O Kaahini - Sutapa Sengupta

Katha O Kaahini - Sutapa Sengupta Cultural enrichment is main objective of page katha o kaahini through..recitation ..narration .music

05/05/2026

আজও শাসক আর শোষকের চোখের ঘুম কেড়ে নেয় একটি মতবাদ। প্রতিনিয়ত কুৎসা আর মিথ্যায় তাকে মসীলিপ্ত করতে হয়। কারণ একে যুক্তি, তথ্য, তত্ত্বে পরাস্ত করার সাধ্য নেই ওদের।
১৮১৮র ৫ মে জার্মানির ত্রিয়ের শহরে জন্মানো এই মানুষটিই সারা পৃথিবীর শোষিত মানুষের কাছে মুক্তির দিশা আজও। সারা পৃথিবীর শোষিত মানুষকে তিনিই দেখালেন মানবসভ্যতার ইতিহাস আসলে শ্রেণীসংগ্রামের ইতিহাস। দেখালেন এই পৃথিবীকে শুধু ব্যাখ্যা করাই যথেষ্ট নয়। দরকার একে বদলে দেওয়া। আর সে কাজ করতে পারে শুধুই সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণী। কারণ তার কায়িক শ্রম ছাড়া বিক্রি করার কিছু নেই আর সেজন্যই সে সর্বহারা আর সেজন্যেই সে সবচেয়ে বিপ্লবী।
তার হাতেই ইতিহাসের চাকা। সেই বদলাতে পারে পৃথিবীর ইতিহাস।
তিনিই ডাক পাঠালেন সারা বিশ্বের মেহনতি মানুষকে, ডাক পাঠালেন একজোট হতে, কারণ শোষণের কোনো দেশকালের সীমানা নেই। বললেন সর্বহারার শৃঙ্খল ছাড়া কিছুই হারাবার নেই। জয় করে নেবার জন্য আছে গোটা পৃথিবী। আর এই শ্রেণীযুদ্ধে সংগঠন ছাড়া সর্বহারার হাতে আর কোনো অস্ত্র নেই।
পুঁজিবাদ সম্পর্কে তাঁর অব্যর্থ বিশ্লেষণ আজ আবার সাগ্রহে পড়ে দেখছে মন্দায় আক্রান্ত পৃথিবী, পড়ে দেখছে পরিত্রাণের আশায়।
পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে যখনই সমাজ এক পা এগোয়, আরও একবার প্রমাণিত হয় মার্কসের ঐতিহাসিক বস্তুবাদের সত্যতা (যদিও মার্কস নিজে ঐতিহাসিক বস্তুবাদ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেননি, সেটা পরবর্তী মার্কসবাদীরা ব্যবহার করেছেন)।
যতবার পাড়ার ছোট মুদির দোকানের ব্যবসা বিগ বাজারের কাছে মার খায়, যতবার আদিবাসীরা জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ হয় মাটির নিচে থাকা খনিজ সম্পদে বৃহৎ পুঁজির লালসা মেটাতে, ততবার সত্যি হয়ে ওঠে মার্কসের ভাষায় পুঁজির আদিম সঞ্চয়ের তত্ত্ব।
প্যারি কমিউন থেকে পেত্রোগ্রাদ হয়ে কিউবা যেখানেই মানুষ ইতিহাসের ধারা বদলে দেয়, মার্কস ততবার জীবন্ত হয়ে ওঠেন। আর ততই ভয় পায় শ্রেণীশত্রু। তাই আগরতলার নতুননগরে, কলকাতায় কিংবা লন্ডনে মূর্তি ভেঙে, সমাধিফলক নষ্ট করে সে ভূত তাড়াতে চায়।
কিন্তু জন্মদিনের পর জন্মদিনে মার্কস চিরনতুন হয়ে ওঠেন। যেমনটা বলেছিলেন মার্কসের প্রিয় বন্ধু ও সহযোদ্ধা এঙ্গেলস, "তাঁর কাজের মতোই, যুগ যুগ বেঁচে থাকবে তাঁর নামও"।
শুভ জন্মদিন কমরেড কার্ল মার্কস।

তমজিৎ গাঙ্গুলী✍️ প্লেটো যাকে দেখেছিলেন, তুমি এখনো সেটাকেই পূজা করছ—এইটাই ট্র্যাজেডি। সভ্যতা বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কি...
01/05/2026

তমজিৎ গাঙ্গুলী✍️ প্লেটো যাকে দেখেছিলেন, তুমি এখনো সেটাকেই পূজা করছ—এইটাই ট্র্যাজেডি। সভ্যতা বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু ‘জনতা’র মস্তিষ্কের সফটওয়্যার আপডেট হয়নি। শুধু এখন তারা হাতে স্মার্টফোন পেয়েছে, আর নিজেদের অজ্ঞতাকে আরও দ্রুত ছড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।

প্লেটো যে ‘শিপ অফ স্টেট’-এর কথা বলেছিলেন, সেটা কোনো রূপক না, সেটা একটা এক্স-রে। তোমাদের সম্মিলিত বোকামির একেবারে ভিতরটা দেখিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। একটা জাহাজ, যেখানে দিকনির্দেশনার জন্য দরকার জ্যোতির্বিজ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা—কিন্তু সেখানে হাল ধরতে আসে সেই লোক, যে সবচেয়ে জোরে চেঁচাতে পারে। আর বাকিরা হাততালি দেয়, কারণ তারা নিজেরাও জানে না কীভাবে জাহাজ চালাতে হয়। অজ্ঞতা যখন সংখ্যায় বড় হয়, তখন সেটাই হয়ে যায় ‘মতামত’। আর সেই মতামতকে বলা হয় ‘জনমত’। কী সুন্দর নামকরণ, তাই না? বিষকে মধু বলে বিক্রি করার মতো।

তুমি ভাবছো গণতন্ত্র মানে স্বাধীনতা। আসলে এটা একটা সাজানো মঞ্চ, যেখানে অযোগ্যরা নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকতে সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তুমি ভোট দাও, কিন্তু তুমি জানো না তুমি কীসের জন্য ভোট দিচ্ছ। তুমি শুধু একটা অনুভূতি কিনছো—একটা স্লোগান, একটা মুখ, একটা আবেগ। আর তারপর তুমি বিশ্বাস করো, তুমি ‘দায়িত্ব’ পালন করেছ। সত্যি বলতে কী, তুমি শুধু নিজের বোকামিকে বৈধতা দিয়েছ।

Socrates-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল যে সমাজ, তারা ভাবেনি তারা ভুল করছে। তারা ভেবেছিল তারা ন্যায়বিচার করছে। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই বলেছিল। এখানে সমস্যা গণতন্ত্র না, সমস্যা ‘সংখ্যা’র ওপর অন্ধ বিশ্বাস। তুমি ধরে নিয়েছো, বেশি মানুষ মানেই বেশি সত্য। অথচ বাস্তবটা ঠিক উল্টো—যত বেশি মানুষ, তত বেশি গড় মানের বুদ্ধি। আর সেই গড় মানের বুদ্ধি যখন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সেটার ফলাফল গড়েরও নিচে নেমে যায়।

প্লেটো যে ভয় পেয়েছিলেন, সেটা কোনো শাসনব্যবস্থা নিয়ে ছিল না। সেটা ছিল মানুষের মন নিয়ে। তুমি যখন এমন একটা সিস্টেম বানাও, যেখানে দক্ষতা আর জ্ঞানের কোনো মূল্য নেই, তখন তুমি নিজের হাতেই নিজের কবর খুঁড়ছ। কারণ ক্ষমতা তখন চলে যায় তাদের হাতে, যারা জানে না তারা কী করছে—আর আরও ভয়ঙ্কর, তারা জানেই না যে তারা জানে না।

আজকের পৃথিবীতে দেখো—রাজনীতি একটা সার্কাস। নেতারা ক্লাউন, আর জনতা দর্শক না, তারাও ক্লাউনের অংশ। কেউ কাউকে প্রশ্ন করে না, কারণ প্রশ্ন করার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছে। সবাই শুধু স্লোগান রটায়, ট্রেন্ড ফলো করে, আর নিজের অজ্ঞতাকে ‘অধিকার’ বলে দাবি করে। তুমি যদি একটু আলাদা কথা বলো, একটু গভীর কিছু বোঝার চেষ্টা করো, তখন তোমাকে বলা হয় ‘এলিটিস্ট’। কারণ তুমি তাদের আরামদায়ক বোকামিকে ভেঙে দিচ্ছ।

প্লেটো বলেছিলেন, প্রথমে আসে নীতিহীন স্বাধীনতা। আজ তুমি সেটাই দেখছ। সবাই স্বাধীন, কিন্তু কেউ দায়িত্ববান না। সবাই মতামত দিচ্ছে, কিন্তু কেউ জ্ঞান অর্জন করছে না। এরপর আসে বিশৃঙ্খলা। কারণ যখন সবাই ক্যাপ্টেন হতে চায়, তখন জাহাজ চালানোর কেউ থাকে না। আর ঠিক তখনই আসে সেই ‘মেসায়া’—যে বলে, “আমি সব ঠিক করে দেব।” জনতা ক্লান্ত, তারা বিশৃঙ্খলা থেকে পালাতে চায়, তাই তারা সেই মিথ্যা ত্রাণকর্তাকে ক্ষমতা দেয়। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় স্বৈরতন্ত্র।

তুমি ভাবছো তুমি স্বাধীন, কিন্তু তুমি আসলে প্রোগ্রামড। তোমার চিন্তা, তোমার মতামত, তোমার রাগ—সবই ইনপুটের ফল। তুমি নিজের মাথা ব্যবহার করো না, তুমি শুধু প্রতিক্রিয়া দাও। আর সেই প্রতিক্রিয়াকেই তুমি বলো ‘মতামত’। এটা কোনো গণতন্ত্র না, এটা একটা বিশাল ইকো-চেম্বার, যেখানে সবাই একই বোকামি বারবার রিপিট করে।

প্লেটো গণবিরোধী ছিলেন না। তিনি জানতেন, জনতা নিজেরা নিজেদের শত্রু হতে পারে। তিনি বুঝেছিলেন, সবাই সমান না—কমপক্ষে জ্ঞান আর দক্ষতার দিক থেকে তো নয়ই। কিন্তু তুমি এই কথাটা শুনলেই আহত হও। কারণ তুমি সমান হতে চাও, কিন্তু তুমি সমান পরিশ্রম করতে চাও না। তুমি সম্মান চাও, কিন্তু তুমি যোগ্যতা অর্জন করতে চাও না।

এই যে ‘শিপ অফ স্টেট’, এটা এখন আর মাঝসমুদ্রে না—এটা প্রায় ডুবে গেছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার, যাত্রীরা এখনো তর্ক করছে কে ক্যাপ্টেন হবে। কেউ দিক দেখছে না, কেউ মানচিত্র পড়ছে না, কেউ ঝড়ের ভাষা বুঝতে চাইছে না। তারা শুধু চেঁচাচ্ছে, হাততালি দিচ্ছে, আর নিজেদের বোকামিকে উদযাপন করছে।

তুমি যদি সত্যি দেখতে চাও, তাহলে একটা প্রশ্ন করো নিজেকে—তুমি কি জানো তুমি কীসের জন্য সিদ্ধান্ত নিচ্ছ? নাকি তুমি শুধু ভিড়ের অংশ? কারণ ভিড়ের একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে—ওরা কখনো ভাবে না, ওরা শুধু চলে। আর সেই চলার দিকটা ঠিক করে দেয় সবচেয়ে জোরে চেঁচানো লোকটা।

শেষ পর্যন্ত, প্লেটোর সতর্কবার্তা কোনো তত্ত্ব না, এটা একটা ভবিষ্যদ্বাণী। আর তুমি সেই ভবিষ্যতের ভেতরেই বাস করছ। পার্থক্য শুধু এই—তিনি এটা দেখে ভয় পেয়েছিলেন, আর তুমি এটাকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নিয়েছ।

জাহাজ ডুবছে।
আর তুমি এখনো ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছ।(Collected)

30/04/2026

"মানুষ"
--সলিল চৌধুরী

সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ
তার স্বাধীনতা হারিয়েছে।
তাকে শাসন করে আসছে
প্রথা, রীতি, নীতি, ধর্ম, মতবাদ
ইত্যাদির মুখোশপরা শাসকগোষ্ঠী।
যতবার সে মাথা তুলে বিপ্লব করেছে ততবারই সেই বিপ্লবের নেতারা
মতবাদের ধ্বজা উড়িয়ে
আবার তাকে বেঁধে ফেলেছে।
'ব্যক্তি' বারবার 'যৌথ' নামক
হাজার মাথার হাত পা-ওয়ালা
আদিম এক জানোয়ারের কাছে
হার মেনে দাসত্ব করে এসেছে।

এর থেকে মুক্তি পেতেই বোধহয়
বুদ্ধ যিশু চৈতন্যরা সন্ন্যাস অবলম্বন করেন কিন্তু শাসকরা তাঁদের পিছু ছাড়েনি
তাঁদেরই গুরু বানিয়ে
ধর্মমতের ধ্বজা উড়িয়ে
আবার তারা মানুষকে বেঁধে ফেলেছে
তার ফলে বুদ্ধের বৌদ্ধত্ব
যিশুর যিশুত্ব বারবার হার মেনে এসেছে।

তবু একটা কথা মানুষ যুগযুগ ধরে
প্রমাণ করে এসেছে
মতবাদ ধর্ম রীতি নীতি প্রথা
এ সবের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে
অনেক বড় সে
তাই ফ্যাসিবাদের মতো ঘৃণ্যতম মতবাদের মধ্যে দিয়েও দেখি ব্যক্তি বৈজ্ঞানিক আণবিক বিজ্ঞানের জন্ম দিচ্ছে
অন্তরীক্ষ জয় করার বুনিয়াদ তৈরি করছে মতবাদ মানুষের সৃষ্টি-
মানুষ তার সৃষ্টির চেয়ে মহত্তর।

আমরা যতক্ষণ সচেতনভাবে শ্বাস টানি তার প্রতি মুহূর্ত কাটে আমাদেরই
সৃষ্ট বন্ধন থেকে
মুক্তির আপ্রাণ প্রচেষ্টায়
যুগযুগ ধরে সঞ্চিত আবর্জনার
নিচে চাপা থেকে একটু মুক্ত বাতাস সেবনের আকাঙ্ক্ষায়।

কথোপকথন –৪ –পুর্ণেন্দু পত্রী যে কোন একটা ফুলের নাম বল– দুঃখ ।– যে কোন একটা নদীর নাম বল– বেদনা ।– যে কোন একটা গাছের ন...
14/03/2026

কথোপকথন –৪
–পুর্ণেন্দু পত্রী


যে কোন একটা ফুলের নাম বল
– দুঃখ ।
– যে কোন একটা নদীর নাম বল
– বেদনা ।
– যে কোন একটা গাছের নাম বল
– দীর্ঘশ্বাস ।
– যে কোন একটা নক্ষত্রের নাম বল
– অশ্রু ।
– এবার আমি তোমার ভবিষ্যত বলে দিতে পারি ।
– বলো ।
– খুব সুখী হবে জীবনে ।
শ্বেত পাথরে পা ।
সোনার পালঙ্কে গা ।
এগুতে সাতমহল
পিছোতে সাতমহল ।
ঝর্ণার জলে স্নান
ফোয়ারার জলে কুলকুচি ।
তুমি বলবে, সাজবো ।
বাগানে মালিণীরা গাঁথবে মালা
ঘরে দাসিরা বাটবে চন্দন ।
তুমি বলবে, ঘুমবো ।
অমনি গাছে গাছে পাখোয়াজ তানপুরা,
অমনি জোৎস্নার ভিতরে এক লক্ষ নর্তকী ।
সুখের নাগর দোলায় এইভাবে অনেকদিন ।
তারপর
বুকের ডান পাঁজরে গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে
রক্তের রাঙ্গা মাটির পথে সুড়ঙ্গ কেটে কেটে
একটা সাপ
পায়ে বালুচরীর নকশা
নদীর বুকে ঝুঁকে-পড়া লাল গোধূলি তার চোখ
বিয়েবাড়ির ব্যাকুল নহবত তার হাসি,
দাঁতে মুক্তোর দানার মত বিষ,
পাকে পাকে জড়িয়ে ধরবে তোমাকে
যেন বটের শিকড়
মাটিকে ভেদ করে যার আলিঙ্গন ।
ধীরে ধীরে তোমার সমস্ত হাসির রং হলুদ
ধীরে ধীরে তোমার সমস্ত গয়নায় শ্যাওলা
ধীরে ধীরে তোমার মখমল বিছানা
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে, ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিতে সাদা ।
– সেই সাপটা বুঝি তুমি ?
– না ।
– তবে ?
– স্মৃতি ।
বাসর ঘরে ঢুকার সময় যাকে ফেলে এসেছিলে
পোড়া ধুপের পাশে ।
#বাংলাকবিতা

তিনি চাইতেন কি চাইতেন না নিজের অজান্তে হয়ে  উঠেছিলেন বাঙালির আইকন৷ সৌজন্য বজায় রেখেই স্পষ্ট করে বলা বাঙালি বিশ্ববিদ্যাল...
05/02/2026

তিনি চাইতেন কি চাইতেন না নিজের অজান্তে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আইকন৷ সৌজন্য বজায় রেখেই স্পষ্ট করে বলা বাঙালি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন, পাণ্ডিত্যের অহমিকা কোনও দিন স্পর্শ করতে পারেনি । স্বল্পভাষী,বলতেন কম শুনতেন বেশি৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বরাবরই গর্জে উঠেছে তাঁর কলম। তিনি ছিলেন আজকের বাঙালির জাগ্রত বিবেক৷ তিনি জেগেই ছিলেন, নিজের মত করে বলেছেন, চুপ করে থেকেছেন৷ যখন বলার দরকার তখন প্রতিবাদে ঝলসে উঠেছে তাঁর কলম৷ আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। আবালবৃদ্ধবনিতা তাঁকে চেনেন কবি শঙ্খ ঘোষ নামে।
© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

ধুতি-পাঞ্জাবি পরা বাঙালিত্বের বাইরে কদাচিৎ পদার্পণ।পোশাকে যেমন, স্বভাবেও কোনো নাটকীয়তা ছিল না।তাঁর অসামান্য অধ্যাপনার কথা ছাত্রছাত্রীদের স্মৃতিচারণে পাওয়া যায়। শঙ্খ ঘোষ মনে করতেন কবিতা লেখার অর্থ সত্য কথা সবার কাছে বলা।তিনি প্রতিবাদ করেন কবিতায়, প্রতিবাদ করেন গদ্যে, প্রতিবাদ করেন স্বাক্ষরে, প্রতিবাদ করেন মিছিলে হেঁটে। কিন্তু তার বাইরেও পড়ে থাকে বিশাল এক ব্যক্তি শঙ্খ ঘোষ। আর গদ্যরচনা বোধহয় তাঁর কবিতার চেয়েও বেশি। তাঁর গদ্যের মধ্যেও একটা মায়া আছে।

রাজনীতি নিয়েও সরব হয়েছে শঙ্খ ঘোষের কবিতা।
স্বাধীনতার পরে কোচবিহারের খাদ্য আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলি চালানো এবং কিশোরী হত্যার প্রতিবাদে শঙ্খ ঘোষ লিখলেন, 'যমুনা তার বাসর রচে বারুদ বুকে দিয়ে, বিষের টোপর নিয়ে…।' কবিতার মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন করেন, 'এ কোন দেশ?

'মুক্ত গণতন্ত্র’ কবিতায় শঙ্খ ঘোষ লিখেছিলেন—


'দেখে খুলে তোর তিন নয়ন
রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে
দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।

সবাই আমার কর‌ তোয়াজ-
ছড়িয়ে যাবে দিগ্ বিদিকে
মুক্ত গণতন্ত্র আজ'। সেই কবিতাটি রাজনৈতিক বিতর্কের শিখরে ওঠে এমনকি শাসক দলের এক নেতা সেই কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁকে কটাক্ষ করেছেন

© ধ্রুবতারাদের খোঁজে

১৯৩২ সালে অবিভক্ত বাংলার চাঁদপুরে শঙ্খ ঘোষের জন্ম। প্রেসিডেন্সি কলেজে থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। অধ্যাপনাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।
পড়িয়েছেন কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ, সিটি কলেজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিখ্যাত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
'কৃত্তিবাস' পত্রিকায় প্রকাশিত হয় শঙ্খ ঘোষের প্রথম কবিতা 'দিনগুলি রাতগুলি'। ১৯৫৬ সালে ওই শিরোনামেই তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি হয়ে ওঠেন সাহিত্য সমালোচকও। একই সঙ্গে নিরন্তর চালিয়ে গিয়েছেন রবীন্দ্র চর্চা।

কলকাতার সেনেট হলে ১৯৫৪এর কবি সম্মেলনে অগ্রজ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে শেষ পর্যন্ত পালাতে পেরেছিলেন সম্মেলনে নিজের কবিতা পড়বেন না পণ করে,কিন্তু ২১এপ্রিল ২০২১ সেই তিনি ফাঁকি দিয়ে পালালেন গোটা বাঙালি জাতিকে কাঁদিয়ে, সেদিন বাঙালি আরও একবার যন্ত্রনাবিদ্ধ হয়েছে তাঁকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে। আজ কবি শঙ্খ ঘোষের জন্মদিবস আমরা তাঁকে স্মরণ করি শ্রদ্ধায় আমাদের আবেগে।
©ধ্রুবতারাদের দেশে











ঋণ , কৃতজ্ঞতা স্বীকার,কালি কলম, পবিত্র সরকারের নিবন্ধ

03/02/2026

২০২০র লেখা..

। বিক্রীবাটা

শিরদাঁড়াটা বিক্রী আছে , কেউ নেবে কি?
মূল্য পেলেই চাইবে যেদিক সেদিক বেঁকি।

যারাই দাঁড়ান দুঃসাহসে এখন সটান,
ঘাড় নোয়াতে রাষ্ট্র যা সব কাণ্ড ঘটান,
নানান রকম মামলা বেঁধে তাদের পিঠে,
অভিযোগের বন্যা বওয়ান যে চার্জশিটে,
জমা সেটা আদালতে পড়েই না আর,
জুডিসিয়াল কাস্টডি তাই বিনা বিচার।
অশীতিপর ভারভারা রাও জেলে আজও
বছর দুয়েক আছেন সুধা ভরদ্বাজও।
এমন আরো নাম কত যে গারদ ঘরে,
জামিন চেয়ে উকিল মিছেই লড়াই করে।

তার চেয়ে ভাই চশমা পরে নিকষ কালো
‘সব ঠিক হ্যায়’ কোরাস গেয়ে বাঁচাই ভালো।
মিথ্যে তালে ফাটাচ্ছে কান লক্ষ ঢাকী,
বোকার মতন সত্যি বলে মরবো নাকি,
এই দেখেছো! বদভ্যাসে বেফাঁস বলি
আর হবে না, নাকখত দিই , দুকান মলি,
সত্যি ছেড়ে ভজবো তাকেই দাম দেবে যে,
তার স্তুতিতেই কলম আমার উঠবে বেজে,
যেমন করে এড়িয়ে প্রধান ফাটলগুলো
মিডিয়া দেয় চোখে সবার মোহন ধুলো,
তেমনি করেই দেখবো না আর ধান্দাবাজি
ধর্ম দিয়ে দেশকে কাটে কোন সে পাজি,
বলবো না আর স্তম্ভগুলো কার দখলে,
কোন ঘোড়া কী জাবনা চেবায় আস্তাবলে,
দেশসেবা আর রাজনীতি কয় যোজন তফাত
জনগণের পকেট কাটে কোন কালো হাত,
পাঁচনম্বর ধনী লোকের দেশ যে ভুখা,
এসব ভুলে ভাড়ায় দেবো কশেরুকা।

এই মরেছে! আনাপ সানাপ এসব বকে,
জল ঢেলে দিই শিরদাঁড়াটি বেচার ছকে,
দেশের কাছে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে,
কলম-কথা স্রোত-বিপরীত যাচ্ছে বয়ে,
এ রোগ শেষে নিয়ে যাবে জেলখানাতে,
বন্ধুরা সব ভুল করে না তা জানাতে,
কোন প্রতীকের লাগলো আঁতে থোড়াই কেয়ার
এমন বোকা শিরদাঁড়াকে কিনবে কে আর।

কিনলো না কেউ সাহস করে এই জেদীকে
সন্দেহতে সবাই তাকায়, যাই যে দিকে,

মানুষকে তাই মাগনা দিলাম সত্ত্ব লিখে..

আর্যতীর্থ

"স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই"(হে সময় অশ্বারোহী হও) – পূর্ণেন্দু পত্রী  তুমি বললে, রৌদ্র যাও, রৌদ্রে তো গেলামতুমি বললে, অগ...
02/02/2026

"স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই"
(হে সময় অশ্বারোহী হও)
– পূর্ণেন্দু পত্রী

তুমি বললে, রৌদ্র যাও, রৌদ্রে তো গেলাম
তুমি বললে, অগ্নিকুণ্ড জ্বালো, জ্বালালাম।
সমস্ত জমানো সুখ-তুমি বললে, বেচে দেওয়া ভালো
ডেকেছি নীলাম।
তবু আমি একা।
আমাকে করেছ তুমি একা।
একাকিত্বটুকুতেও ভেঙে চুরে শত টুকরো করে
বীজ বপনের মতো ছড়িয়ে দিয়েছ জলে-স্থলে।
তুমি বলেছিলে বলে সাজসজ্জা ছেড়েছি, ছুঁড়েছি।
যে অরণ্য দেখিয়েছ, তারই ডাল কেটেছি, খুঁড়েছি।
যখনই পেতেছ হাত দিয়েছি উপুড় করে প্রাণ
তবু আমি একা।
তবুও আমার কেউ নও তুমি
আমিও তোমার কেউ নই।
আমাদের অভ্যন্তরে স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই।

বাঁশিওয়ালা___শুভ দাশগুপ্তএক বাঁশিওয়ালা এসেছিল.....তখন ফাল্গুন মাসগাছে গাছে কত রঙ কত শোভা,কত পাখির কলতান। নদীতে কী অপরূপ ...
21/01/2026

বাঁশিওয়ালা
___শুভ দাশগুপ্ত

এক বাঁশিওয়ালা এসেছিল.....

তখন ফাল্গুন মাস
গাছে গাছে কত রঙ কত শোভা,কত পাখির কলতান। নদীতে কী অপরূপ ছায়াময় ঢেউ
দূরপথে কী মায়াবী আলো
বাতাসে কী সুগন্ধ

এক বাঁশিওয়ালা এসেছিল
তাঁর বাঁশির সুর মোমের আলোর মত স্নিগ্ধ
তাঁর বাঁশির শব্দ পাতা পাতা ঝরার মতো পেলব
তাঁর বাঁশি কী করুণ
কী মোহময়!

সে এসেছিল জানলার পর্দা উড়লো হাওয়ায়
দুয়ারের আগল গেল খুলে
বাগানের গাছের পাতার ডালে
ছড়িয়ে পড়ল প্রজাপতির মতো রঙিন গান

আমার তখন অনেক কাজ।অনেক
ঘর সংসার সমাজ পরিবার দায়দায়িত্ব
অনেক অনেক।
মনটা আনচান করে উঠল
ভেতর থেকে কে যেন ঠেলা লাগালো....যাও যাও
দেরি কোরো না

কিন্তু আমার দেরি হয়ে গেল।
আমার পুজো,আমার গেরস্থালি,আমার কর্তব্য
আমার নিত্যদিনের
সাত-সতেরো ঝামেলা...
আমার দেরি হয়ে গেল।

যখন সব সেরে, সব চুকিয়ে ছুটে গেলাম
বাইরে বড় দরজাটারও বাইরে
রাঙাধুলোর বিষণ্ণ পথে
তখন বাঁশিটি পড়ে ছিল..ভাঙা, সুরহীন,স্তব্ধ
গোধূলির সোনালি আলোয়
বাঁশিটিকে মনে হল
যেন এক ঝরাপাতা বুঝি

আমি আমার সবটুকু দিয়ে বাঁশিওয়ালাকে খুঁজলাম।
সন্ধ্যালগনে আকাশে ফুটে ওঠা
প্রথম তারাটি বলল.....আমি এখানে।

#বাংলাকবিতা

বিবেকানন্দগেরুয়া পরেছেন ঠিক, কিন্তু আপনি আসলে সন্ন্যাসী নন। রাজনীতিকের কাছে আপনি একজন রাজনীতিক।যুক্তিবাদীর কাছে একজন যু...
18/01/2026

বিবেকানন্দ
গেরুয়া পরেছেন ঠিক, কিন্তু আপনি আসলে সন্ন্যাসী নন। রাজনীতিকের কাছে আপনি একজন রাজনীতিক।
যুক্তিবাদীর কাছে একজন যুক্তিবাদী।
দলিতের কাছে একজন দলিত।
বিপ্লবীর কাছে একজন বিপ্লবী।
আপনারই শেখানো পথে আজও জনসভায়
রাজনীতিক সম্বোধন করেন পুরুষ ও নারীদের।
আপনারই শেখানো পথে আজও পথসভায়
যুক্তিবাদী বলেন,
নিজে চোখে না-দেখে কিচ্ছু বিশ্বাস করবেন না।
আপনারই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে একজন চণ্ডাল
একজন বামুনকে মনে করে তার ভাই।
আপনারই মতো ঘর ছেড়ে যাওয়ার পরেও একদিন হঠাৎ
ঘরে ফিরে এসে মায়ের সামনে এক থালা গরম ভাতের আশায় বসে পড়ে বিপ্লবী,
তার ক্লাসমেট খেতরির মহারাজা দীননাথকে চিঠি লেখে, মাকে দেখিস।
গেরুয়া পরেছেন ঠিক, কিন্তু আপনি আসলে সন্ন্যাসী নন।
আপনিই দেখিয়েছেন, গেরুয়া মানে বর্জন নয়, গ্রহণ; ধ্যান নয়, কাজ;
সংসার ত্যাগ নয়, এক ছোটো সংসার থেকে আর এক বড়ো সংসারে প্রবেশ।
হিন্দু ধর্মের সহিষ্ণুতার কথা আপনার আগে ও পরে বলেছেন আরও অনেকে।
কিন্তু আর কারও স্পর্ধা হয়নি এক হাতে গীতা নিয়ে
অন্য হাত পাঁঠার মাংসের ঝোলে ডোবানোর।
আপনি প্রমাণ করেছেন একজন সন্ন্যাসী সবার আগে একজন মানুষ।
তাই মায়ের কাছে আপনি ছেলে,
ছোটোভাইয়ের কাছে বড়োদাদা, দিদির কাছে ছোটোভাই,
জীবনের কাছে রবীন্দ্রনাথের গান।
গেরুয়া পরেছেন ঠিক, কিন্তু আপনি আসলে সন্ন্যাসী নন।
সন্ন্যাসীদের তো আমরা শ্রদ্ধা করি
কিন্তু আপনাকে আমরা ভালোবাসি, বিবেকানন্দ।
✒️ অংশুমান কর। Angshuman Kar
#স্বামীবিবেকানন্দ

15/01/2026

। জায়গাটা রেখো।

মেয়েটার ফেরার একটা জায়গা রেখো।
বিনা প্রশ্নে, যখন তখন , দরজা খুলে ওকে দেখেই যেন বলতে পারো
আয়,
হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে
মুখে কিছু দে,
তারপর শুনছি এমন ঝোড়ো চেহারা কেন।

মেয়েটা বাইরে গিয়ে বারবার ঠোকর খাবে,
ভুল পথে চলে গিয়ে ফেরবার পথ হাতড়াবে।
সে ব‍্যাপারে তোমার কিছু করার নেই।
সে ব‍্যাপারে কারোরই কিছু করার নেই।

স্কুলে বাড়িতে বা পাড়ায় খুব,
খুউব চেনা কেউ তাকে ভুলভাবে ছুঁলে,
মনকে কুঁকড়ে যে মেয়েটা গুটিয়ে ঘরের কোণে সিঁটিয়ে যাবে,
তাকে সেই বিষাদ-পরিখা থেকে বেরোবার একটা ব্রিজ দিও,
যেখান দিয়ে হেঁটে আলোতে এসে ও উলঙ্গ করে দেবে সেই সব ভদ্রমুখোশ,
সটান বলবে ‘ তুমি কী করতে চাইছো আমি বুঝেছি
মাম্পিদিদি জানে তার বাবা খারাপ লোক?

এককম আলোয় ফেরার ব্রিজ হওয়া সোজা।
অন্ধকারের গর্ত থেকে সে তো বেরোতেই চাইছে,
তোমার শুধু আয় মা বলে আশ্রয় হতে হবে।
ঘরে আয়না থাকলে এটুকু তো করতেই হয় ।

কিন্তু সবসময় তো এমন হবে না,
সহজ প্রশ্নপত্র সব পরীক্ষায় কে আর পায়!

মেয়েটা পরীক্ষাতে ফেল করবে, পড়াশোনা না করে রিল দেখে।

মেয়েটা প্রেমে ভুল করবে, সেই বদমাস ওকে নিভৃত ছবি ভাইরাল করার ভয় দেখাবে।

মেয়েটা মদ খাবে, সিগারেট-ও, বেমক্কা একটা উদ্ভট উল্কি করে আসবে দৃশ‍্যত অস্বস্তিকর জায়গায়।

মোটের ওপর, ‘ভালো’ মেয়েরা যা করে না,
সেইসব অনায়াসে করবে ,
ব‍্যক্তিগত পরিসরের
দরজায় কষে তালা লাগিয়ে
চাবিটা রাখবে একান্ত নিজের কাছে।

তুমি বোঝাবে, হেরে যাবে।
তুমি বকবে, মুখে মুখে তর্ক শুনবে।
তুমি রাগ করবে , ফল হবে না।
তুমি চোখের সামনে দেখবে,
রাশ আলগা হয়ে সে ভেসে যাচ্ছে বে-দিকে,
নিশ্চিত সর্বনাশের পথে,
তোমার বারণে কর্ণপাত না করে।

এই সব যদি হয় , প্রস্তুত থেকো।
কাল, পরশু, পরের মাস বছর বা দশকে,
এক অপ্রত‍্যাশিত তারিখে তোমার দরজায় একটা দ্বিধাভরা টোকা পড়বে।
তুমি হঠাৎ করে দেখতে পাবে,
তোমার এতদিনের ব্লক থাকা নম্বরে আবার তার ছবি দেখা যাচ্ছে।
অথবা দুম করে একটা ফোন পাবে , ‘ তোমার কাছে আসছি।’

সেসময়, ফেরবার জায়গাটা রেখো।
বিনা প্রশ্নে, বিনা অভিমানে , ব‍্যাখ‍্যা না চেয়ে
বুকের কপাট খুলে যেন এতদিন কিছুই হয়নি
ভান করে মেয়েটাকে বোলো,
‘ ও ছিরির কথা পরে বলবি , যা হাত মুখ ধুয়ে আয়,
একসাথে খাবো।
তারপর ঝুলি উপুড় করিস, এতটুকু বাকি না রেখে।

যা কিছু হয়ে যাক,
অশর্ত ফেরবার একটা জায়গা আছে,
সেটা যেন জেনে যায় মেয়ে প্রত‍্যেকে।

হয়তো তবেই আর খবরে থাকবে না,
দৈনিক হাল ছেড়ে চলে গেলো কে কে ।

আর্যতীর্থ

14/01/2026

যেখানে স্বামীজী, সেখানেই বিপ্লব
— এক কিশোর সুভাষচন্দ্রের অন্তরের সাক্ষ্য

সুভাষচন্দ্র বসুর কৈশোর।
জানকীনাথ বসুর বাড়িতে একদিন আগমন ঘটল তাঁর এক দূর সম্পর্কীয় মামার— যিনি ইংরেজ পুলিশের অধীনে কর্মরত।

সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হলো।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই গেল—
“সুভাষ কোথায়?”

মামা নিজেই ঢুকে পড়লেন সুভাষচন্দ্রের পড়ার ঘরে।
ঘরে ঢুকেই তিনি চমকে উঠলেন—

— সুভাষ! এ কাদের ছবি টাঙিয়ে রেখেছিস?

সুভাষ শান্তভাবে উত্তর দিল—
— কাছে গিয়ে দেখুন, চিনতে পারবেন।

মামার চোখ কপালে—
— সর্বনাশ! এ তো অরবিন্দ, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, কানাইলাল!
এদের ছবি কেউ ঘরে রাখে? এরা সবাই রাজদ্রোহী, ফাঁসির আসামি!
— আর এদিকে দেখছি… স্বামী বিবেকানন্দের ছবি!

কথা শেষ হওয়ার আগেই দৃঢ় কণ্ঠে সুভাষ বলল—
— উনি তো সন্ন্যাসী।

— সন্ন্যাসী?!
মামা ক্ষুব্ধ—
— উনিই আসল বিপ্লবীদের গুরু! যাকে ধরো, তার পকেটে বিবেকানন্দ!
এসব ছবি ভালো নয়, সব নামিয়ে ফেল।

রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে তিনি গেলেন জানকীনাথ বসুর কাছে—
— আপনার বাড়িতে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে। শুধু রাজনীতি নয়, একেবারে রাজদ্রোহ!

সব শুনে জানকীনাথ বসু প্রথমে বিস্মিত, তারপর হেসে বললেন—
— ছেলেমানুষ আর কাকে বলে!
তবু আশ্বাস দিলেন—
— হ্যাঁ, ছবিগুলো সরিয়ে দেওয়া হবে।

সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে সুভাষচন্দ্র দেখলেন—
দেয়াল ছবি-শূন্য।
সব ছবি সরানো হয়েছে।

সব?
না।

একটি ছবি রয়ে গেছে।
স্বামী বিবেকানন্দের ছবি।

সুভাষ স্তব্ধ হয়ে সেই ছবির সামনে দাঁড়ালেন।
অন্তর থেকে উচ্চারিত হলো তাঁর প্রার্থনা—

“যাক, তুমি আছো। তুমি থাকলেই হল।
তুমিই বিপ্লব-মহেশ্বর।
আমি আর কিছু জানি না— আমি শুধু তোমাকেই জানি।
তুমি সন্ন্যাসী হয়েছো শুধু নিজের মুক্তির জন্য নয়,
দেশের মুক্তির জন্য, মানুষের মুক্তির জন্য।
তুমি আমাকে শক্তি দাও… আমাকে আশীর্বাদ করো।”

সেই কিশোরই একদিন হয়ে উঠলেন
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু।
আর তাঁর অন্তরের দীপশিখা ছিলেন—
স্বামী বিবেকানন্দ।

আজ স্বামী বিবেকানন্দের পবিত্র জন্মদিবসে
এই ঘটনাই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—
একজন সন্ন্যাসী কীভাবে একটি জাতির বিপ্লবের প্রাণশক্তি হয়ে ওঠেন।

🙏 বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি 🙏

তথ্যসূত্র :
📘 বিবেকানন্দের আলোকে সুভাষচন্দ্র
✍️ শঙ্করীপ্রসাদ বসু

Address

Dhanbad

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Katha O Kaahini - Sutapa Sengupta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Katha O Kaahini - Sutapa Sengupta:

Share