30/08/2026
#হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ #পর্ব_২
#জুলি_ইয়াছমিন
{🚫কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ🚫}
আহমেদ সিদ্দিক সাহেব ডাইনিং টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন,,
"হ্যাঁ, আসাদ, আজই মেকানিক ডেকে এশার রুমের এসিটা ঠিক করাও। আর রুমা, রান্নাবান্নার দিকে একটু খেয়াল রেখো, গরমে সবার শরীর খারাপ হতে পারে।"
"আচ্ছা,"__বলে রুমা কাকিমা মাথা নিচু করে নিলেন, কিন্তু তাঁর ভেতরের হিংসার আগুনটা সামিলের ওপর আরও দ্বিগুণ হয়ে জ্বলে উঠল। সামিল টেবিল থেকে ওঠার আগে এশার দিকে তাকাল। এশা তখনো মাথা নিচু করে বসে আছে, তার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারছে, এই বাড়িতে কাকিমার এত ঘৃণার মাঝেও সামিল নামের এই মানুষটিই তার একমাত্র ঢাল, তার পরম আশ্রয়।🏡
দুপুর তখন : ২:৩০
এশা এইবার কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে কিন্তু কলেজ গরমের বন্ধ দেওয়ায় বাড়িতে থাকতে আর ভালো লাগেনা এই বাড়িতে তার সমবয়সী আর মেয়ে মানুষ শুধু একজনই আছে সে হলো আনিকা । আনিকার সাথে তার অনেক ভাব কিন্তু তার সাথেও অল্প গল্প করতে পারেনা আনিকার মা রুমা ধমক দেয় নাহলে কথা শোনায় কিন্তু তবুও আনিকা লুকিয়ে হলেও দিনে ২-৩ বার তার সঙ্গে আড্ডা দিতে আসে এশা এখন ছাদের রেলিং হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে দূরে আকাশে দেখছে আজ বোধহয় রাতে বৃষ্টি আসবে আকাশটা মেঘে ঢেকে কালো হয়েছে হঠাৎ করেই তার পেছনে কারো উপস্থিত টের পায়
পেছনে তাকাতেই এশা দেখল তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সামিল।সামিল এগিয়ে এসে গভীর চোখে তাকাল। তার গলা স্পষ্ট সে নরম সুরে জিজ্ঞেস করল,
“শরীরটা এখন কেমন রে তোর, এশা?”
সামিলের প্রশ্নটা শুনেই এশার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। লজ্জায় আর সংকোচে সে নিজের চোখ দুটো নামিয়ে নিল। সামিলের মুখের দিকে তাকানোর মতো সাহস তার হচ্ছিল না। কারণটা সে খুব ভালো করেই জানে।গত রাতে প্রচণ্ড গরম ছিল। আর ওই তীব্র গরমে এশার সেই চেনা পুরোনো অসুখটা চাড়া দিয়ে উঠেছিল—'থার্মোফোবিয়া'। এই অদ্ভুত রোগটি হলে অতিরিক্ত গরমে এশার মানসিক নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না। সে পুরোপুরি এক নেশাগ্রস্ত বা মাতাল মানুষের মতো আচরণ শুরু করে। তখন সে নিজে কী বলছে, কার সাথে কী করছে, তার কোনো হুঁশ থাকে না।
ভাগ্যিস ওই রাতে ঘরে সামিল ছাড়া আর কেউ ছিল না! সামিল যদি তখন তাকে সামলে না নিত, তবে কত বড় কলঙ্ক হয়ে যেত!লজ্জার তীব্র একটা অনুভূতি এশার কান-মাথা গরম করে দিল। তার স্পষ্ট মনে পড়ছে, গত রাতে সামিলের ঘরে ঢুকে সে কতটা কাছে চলে গিয়েছিল তার। নেশার ঘোরে সামিলকে জড়িয়ে ধরে উল্টোপাল্টা কীসব আবোলতাবোল কথা বলেছিল! অথচ সামিল পরম যত্নে, কোনো রকম সুযোগ না নিয়ে তাকে আগলে রেখেছিল।
সামিল আরেকটু এগিয়ে এসে এশার কপালে তার ডান হাতের উল্টো পিঠটা ঠেকাল। তার হাতের ঠান্ডা স্পর্শটা এশার তপ্ত চামড়ায় লাগতেই এশা শিউরে উঠল। লজ্জায় সে আরও আড়ষ্ট হয়ে এক কদম পিছিয়ে গেল।সামিল হাতটা নামিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, “গা তো এখনো বেশ গরম। রাতে তো পুরো জ্বর চলে এসেছিল। ওষুধটা খেয়েছিস দুপুরে?”
এশা নিচের দিকে তাকিয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে ছাদের মেঝে ঘষতে ঘষতে ফিসফিস করে বলল,
“হুঁ, খেয়েছি। এখন একটু ভালো লাগছে।”
“ভালো লাগছে?” সামিল একটু বাঁকা হাসল, তবে সেই হাসিতে কোনো উপহাস ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত মায়া। সে গলার আওয়াজ আরও নামিয়ে বলল,
“রাতে যা করছিলি, সকালে উঠে সব মনে পড়েছে তো? নাকি মাতলামির পার্ট টু এখনো বাকি আছে?”
এই কথায় এশার ফর্সা মুখটা মুহূর্তে টকটকে লাল হয়ে উঠল। সে দুই হাতে মুখ ঢেকে বলল, “প্লিজ সামু, আর বোলো না! আমি ইচ্ছে করে ওসব করিনি। আমার মাথা একদম কাজ করছিল না। আমি... আমি খুব লজ্জিত।”
সামিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারপাশটা দেখে নিল। তারপর এশার আরও কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
“আমি জানি তুই ইচ্ছে করে করিসনি। থার্মোফোবিয়া হলে তোর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু এশা, তুই কাল রাতে আমার এত কাছে চলে এসেছিলি... আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলি, হাত ছাড়তে দিচ্ছিলিস না। ওসব কথা যদি আজ বাড়ির অন্য কেউ জানত? মেজাজ ঠিক রাখতে না পেরে যদি আমি অন্য কিছু করে ফেলতাম? কতটা রিস্ক ছিল বল তো?”
এশা এবার মুখ থেকে হাত সরিয়ে সামিলের
দিকে তাকাল। তার চোখে জল টলমল করছে। সে অপরাধীর মতো বলল,
“আমি জানি সামু। তুমি কাল রাতে না থাকলে আমার কী হতো আমি জানি না। বাড়ির সবাই আমাকে ভুল বুঝত। তুমি... তুমি রাগ করেছ আমার ওপর?”
সামিল এশার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“রাগ করিনি রে, ভয় পেয়েছিলাম। তোকে নিয়ে ভয়, তুই তো জানিস আমি তর আংকেল হোই।এই শব্দটাই আমাকে অনেক বাঁধা দেয় তুই তো আমি ভাতিজি।”
ঠিক তখনি ছাদের দরজার ওপাশে একটা হালকা খসখস শব্দ হলো।
আসলে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে আনিকা এশাকে খুঁজতে এই ছাদেই আসছিল। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হুট করেই সামিল আর এশার গলার আওয়াজ তার কানে আসে। ‘জড়িয়ে ধরা’, ‘কাছে আসা’ আর ‘ভুল বোঝা’র মতো শব্দগুলো শুনেই থমকে যায় আনিকার পা।
সে ছাদের দরজার আড়ালে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়ল। নিজের অজান্তেই তার এক হাত মুখের ওপর চলে গেল। দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে সে দেখল, সামিল আর এশা একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। এশার চোখে জল, আর সামিলের চোখে অন্যরকম এক গভীরতা।
আনিকা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেল। তার প্রিয় বান্ধবী এশা আর তার নিজের চাচাত ভাই সামিলের মধ্যে এমন কী গোপন কথা, যা বাড়ির কেউ জানে না? গত রাতে আসলে কী হয়েছিল?
বিকেলের রোদের পর রাত নামতেই পুরো সিদ্দিক বাড়িতে এক থমথমে নীরবতা নেমে এসেছে।
তাদের কথোপকথন পুরোটা শুনে আনিকা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। সে কোনো শব্দ না করে পা টিপে টিপে ছাদ থেকে নিচে নেমে গিয়েছিল।
তাদের চাচাতো বড় ভাইয়ের মেয়ে হলো এশা। সম্পর্কে এশা সামিলের ভাতিজি
আনিকা আর এশা ফুপি-ভাতিজি কিন্তু সমবয়সী হওয়ায় তাদের সম্পর্কটা ছিল একদম পিঠাপিঠি দুই বান্ধবীর মতো।
________
রাত তখন ৯:৩০।
এশা নিজের ঘরের পড়ার টেবিলে বই খুলে বসেছে। কিন্তু পড়ার পাতায় তার মন নেই, বারবার দুপুরের সেই অস্বস্তিকর মুহূর্ত আর সামুর সেই গভীর চোখের চাউনি তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ঠিক তখনি ঘরের দরজাটা হালকা ঠেলে ভেতরে ঢুকল আনিকা। মায়ের কড়া নজর এড়িয়ে সে এই রাতে এশার ঘরে এসেছে, তবে তার চোখে-মুখে আজ রোজকার সেই চঞ্চলতা নেই। এক অদ্ভুত গম্ভীরতা।
আনিকা এসে সরাসরি এশার খাটের ওপর বসল। এশা বই থেকে মুখ তুলে আনিকাকে দেখে একটু অবাক হয়ে হাসার চেষ্টা করল। “কী রে আনিকা?দাদি আজ তোকে ছাড়ল কীভাবে? তুই তো দুপুরেও আসিসনি।”
আনিকা কিছুক্ষণ চুপ করে এশার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিচু কিন্তু শক্ত গলায় বলল,
“দুপুরে আমি ছাদে গিয়েছিলাম, এশা।”
কথাটা শুনেই এশার হাতের কলমটা টেবিলের ওপর পড়ে গেল। তার গায়ের রক্ত যেন মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। সে তোতলামি করে বলল, “ছ... ছাদে? তুই...”
আনিকা সোজা হয়ে বসল
"হ্যাঁ, আমি সব শুনেছি,তুই আর সামিল ভাই... থার্মোফোবিয়া, গত রাতে তোকে আগলে রাখা, জড়িয়ে ধরা... সব শুনেছি। এশা, তুই আমার কাছে এত বড় একটা কথা লুকিয়ে গেলি? তোর এই চেনা বেমারের কথা বাড়ির কেউ জানে না, এমনকি আমিও না?”
এশা দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলল। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। সে ফুঁপিয়ে উঠে বলল,
“আমি তোকে বলতে চেয়েছিলাম আনিকা। কিন্তু লজ্জায় আর ভয়ে বলতে পারিনি। বাড়ির সবাই জানে তুই বাদে? এই রোগের ওপর তো আমার হাত নেই। আর সামু... সামু যদি কাল রাতে না থাকত, আমি হয়তো নিজেকে শেষ করে দিতাম।”
এশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, “তুই কাঁদিস না এশা। আমি তোকে ভুল বুঝিনি। কিন্তু তুই আমাকে বলতে পারতিস। আমরা কতটা ক্লোজ তুই জানিস না?”
চলবে,,,,,
(সম্পূর্ণ গল্প অ্যাপ এ পড়ুন)