Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন

Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন, Barpather, Bongaigaon.

Juli Yesmin Writer🖋️📖
সব কষ্ট প্রকাশ করা যায় না,
কিছু কষ্টের কোনো ভাষা থাকে না।
তখন মানুষ কথা বলা কমিয়ে দেয়,
আর নিজের ভেতরেই একটা পৃথিবী বানিয়ে নেয় 🫀
আমি সেই নীরব পৃথিবীরই বাসিন্দা—
যেখানে না-বলা কথারা গল্প হয়,
অপ্রকাশিত অনুভূতিগুলো চরিত্র হয়

 #হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ   #পর্ব_২ #জুলি_ইয়াছমিন         {🚫কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ🚫}আহমেদ সিদ্দিক সাহেব ডাইনিং টেবিল থে...
30/08/2026

#হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ #পর্ব_২
#জুলি_ইয়াছমিন
{🚫কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ🚫}
আহমেদ সিদ্দিক সাহেব ডাইনিং টেবিল থেকে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন,,

"হ্যাঁ, আসাদ, আজই মেকানিক ডেকে এশার রুমের এসিটা ঠিক করাও। আর রুমা, রান্নাবান্নার দিকে একটু খেয়াল রেখো, গরমে সবার শরীর খারাপ হতে পারে।"

"আচ্ছা,"__বলে রুমা কাকিমা মাথা নিচু করে নিলেন, কিন্তু তাঁর ভেতরের হিংসার আগুনটা সামিলের ওপর আরও দ্বিগুণ হয়ে জ্বলে উঠল। সামিল টেবিল থেকে ওঠার আগে এশার দিকে তাকাল। এশা তখনো মাথা নিচু করে বসে আছে, তার চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারছে, এই বাড়িতে কাকিমার এত ঘৃণার মাঝেও সামিল নামের এই মানুষটিই তার একমাত্র ঢাল, তার পরম আশ্রয়।🏡

দুপুর তখন : ২:৩০

এশা এইবার কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে কিন্তু কলেজ গরমের বন্ধ দেওয়ায় বাড়িতে থাকতে আর ভালো লাগেনা এই বাড়িতে তার সমবয়সী আর মেয়ে মানুষ শুধু একজনই আছে সে হলো আনিকা । আনিকার সাথে তার অনেক ভাব কিন্তু তার সাথেও অল্প গল্প করতে পারেনা আনিকার মা রুমা ধমক দেয় নাহলে কথা শোনায় কিন্তু তবুও আনিকা লুকিয়ে হলেও দিনে ২-৩ বার তার সঙ্গে আড্ডা দিতে আসে এশা এখন ছাদের রেলিং হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে দূরে আকাশে দেখছে আজ বোধহয় রাতে বৃষ্টি আসবে আকাশটা মেঘে ঢেকে কালো হয়েছে হঠাৎ করেই তার পেছনে কারো উপস্থিত টের পায়

পেছনে তাকাতেই এশা দেখল তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে সামিল।সামিল এগিয়ে এসে গভীর চোখে তাকাল। তার গলা স্পষ্ট সে নরম সুরে জিজ্ঞেস করল,

“শরীরটা এখন কেমন রে তোর, এশা?”

সামিলের প্রশ্নটা শুনেই এশার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। লজ্জায় আর সংকোচে সে নিজের চোখ দুটো নামিয়ে নিল। সামিলের মুখের দিকে তাকানোর মতো সাহস তার হচ্ছিল না। কারণটা সে খুব ভালো করেই জানে।গত রাতে প্রচণ্ড গরম ছিল। আর ওই তীব্র গরমে এশার সেই চেনা পুরোনো অসুখটা চাড়া দিয়ে উঠেছিল—'থার্মোফোবিয়া'। এই অদ্ভুত রোগটি হলে অতিরিক্ত গরমে এশার মানসিক নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে না। সে পুরোপুরি এক নেশাগ্রস্ত বা মাতাল মানুষের মতো আচরণ শুরু করে। তখন সে নিজে কী বলছে, কার সাথে কী করছে, তার কোনো হুঁশ থাকে না।

ভাগ্যিস ওই রাতে ঘরে সামিল ছাড়া আর কেউ ছিল না! সামিল যদি তখন তাকে সামলে না নিত, তবে কত বড় কলঙ্ক হয়ে যেত!লজ্জার তীব্র একটা অনুভূতি এশার কান-মাথা গরম করে দিল। তার স্পষ্ট মনে পড়ছে, গত রাতে সামিলের ঘরে ঢুকে সে কতটা কাছে চলে গিয়েছিল তার। নেশার ঘোরে সামিলকে জড়িয়ে ধরে উল্টোপাল্টা কীসব আবোলতাবোল কথা বলেছিল! অথচ সামিল পরম যত্নে, কোনো রকম সুযোগ না নিয়ে তাকে আগলে রেখেছিল।

সামিল আরেকটু এগিয়ে এসে এশার কপালে তার ডান হাতের উল্টো পিঠটা ঠেকাল। তার হাতের ঠান্ডা স্পর্শটা এশার তপ্ত চামড়ায় লাগতেই এশা শিউরে উঠল। লজ্জায় সে আরও আড়ষ্ট হয়ে এক কদম পিছিয়ে গেল।সামিল হাতটা নামিয়ে নিয়ে মৃদু স্বরে বলল, “গা তো এখনো বেশ গরম। রাতে তো পুরো জ্বর চলে এসেছিল। ওষুধটা খেয়েছিস দুপুরে?”

এশা নিচের দিকে তাকিয়ে পায়ের আঙুল দিয়ে ছাদের মেঝে ঘষতে ঘষতে ফিসফিস করে বলল,

“হুঁ, খেয়েছি। এখন একটু ভালো লাগছে।”

“ভালো লাগছে?” সামিল একটু বাঁকা হাসল, তবে সেই হাসিতে কোনো উপহাস ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত মায়া। সে গলার আওয়াজ আরও নামিয়ে বলল,

“রাতে যা করছিলি, সকালে উঠে সব মনে পড়েছে তো? নাকি মাতলামির পার্ট টু এখনো বাকি আছে?”

এই কথায় এশার ফর্সা মুখটা মুহূর্তে টকটকে লাল হয়ে উঠল। সে দুই হাতে মুখ ঢেকে বলল, “প্লিজ সামু, আর বোলো না! আমি ইচ্ছে করে ওসব করিনি। আমার মাথা একদম কাজ করছিল না। আমি... আমি খুব লজ্জিত।”

সামিল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চারপাশটা দেখে নিল। তারপর এশার আরও কাছে এসে নিচু গলায় বলল,

“আমি জানি তুই ইচ্ছে করে করিসনি। থার্মোফোবিয়া হলে তোর নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না, সেটা আমি বুঝি। কিন্তু এশা, তুই কাল রাতে আমার এত কাছে চলে এসেছিলি... আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলি, হাত ছাড়তে দিচ্ছিলিস না। ওসব কথা যদি আজ বাড়ির অন্য কেউ জানত? মেজাজ ঠিক রাখতে না পেরে যদি আমি অন্য কিছু করে ফেলতাম? কতটা রিস্ক ছিল বল তো?”

এশা এবার মুখ থেকে হাত সরিয়ে সামিলের

দিকে তাকাল। তার চোখে জল টলমল করছে। সে অপরাধীর মতো বলল,

“আমি জানি সামু। তুমি কাল রাতে না থাকলে আমার কী হতো আমি জানি না। বাড়ির সবাই আমাকে ভুল বুঝত। তুমি... তুমি রাগ করেছ আমার ওপর?”

সামিল এশার চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,

“রাগ করিনি রে, ভয় পেয়েছিলাম। তোকে নিয়ে ভয়, তুই তো জানিস আমি তর আংকেল হোই।এই শব্দটাই আমাকে অনেক বাঁধা দেয় তুই তো আমি ভাতিজি।”

ঠিক তখনি ছাদের দরজার ওপাশে একটা হালকা খসখস শব্দ হলো।

আসলে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে আনিকা এশাকে খুঁজতে এই ছাদেই আসছিল। দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হুট করেই সামিল আর এশার গলার আওয়াজ তার কানে আসে। ‘জড়িয়ে ধরা’, ‘কাছে আসা’ আর ‘ভুল বোঝা’র মতো শব্দগুলো শুনেই থমকে যায় আনিকার পা।

সে ছাদের দরজার আড়ালে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে পড়ল। নিজের অজান্তেই তার এক হাত মুখের ওপর চলে গেল। দরজার সামান্য ফাঁক দিয়ে সে দেখল, সামিল আর এশা একদম গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। এশার চোখে জল, আর সামিলের চোখে অন্যরকম এক গভীরতা।

আনিকা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেল। তার প্রিয় বান্ধবী এশা আর তার নিজের চাচাত ভাই সামিলের মধ্যে এমন কী গোপন কথা, যা বাড়ির কেউ জানে না? গত রাতে আসলে কী হয়েছিল?

বিকেলের রোদের পর রাত নামতেই পুরো সিদ্দিক বাড়িতে এক থমথমে নীরবতা নেমে এসেছে।

তাদের কথোপকথন পুরোটা শুনে আনিকা নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি। সে কোনো শব্দ না করে পা টিপে টিপে ছাদ থেকে নিচে নেমে গিয়েছিল।

তাদের চাচাতো বড় ভাইয়ের মেয়ে হলো এশা। সম্পর্কে এশা সামিলের ভাতিজি

আনিকা আর এশা ফুপি-ভাতিজি কিন্তু সমবয়সী হওয়ায় তাদের সম্পর্কটা ছিল একদম পিঠাপিঠি দুই বান্ধবীর মতো।

________

রাত তখন ৯:৩০।

এশা নিজের ঘরের পড়ার টেবিলে বই খুলে বসেছে। কিন্তু পড়ার পাতায় তার মন নেই, বারবার দুপুরের সেই অস্বস্তিকর মুহূর্ত আর সামুর সেই গভীর চোখের চাউনি তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। ঠিক তখনি ঘরের দরজাটা হালকা ঠেলে ভেতরে ঢুকল আনিকা। মায়ের কড়া নজর এড়িয়ে সে এই রাতে এশার ঘরে এসেছে, তবে তার চোখে-মুখে আজ রোজকার সেই চঞ্চলতা নেই। এক অদ্ভুত গম্ভীরতা।

আনিকা এসে সরাসরি এশার খাটের ওপর বসল। এশা বই থেকে মুখ তুলে আনিকাকে দেখে একটু অবাক হয়ে হাসার চেষ্টা করল। “কী রে আনিকা?দাদি আজ তোকে ছাড়ল কীভাবে? তুই তো দুপুরেও আসিসনি।”

আনিকা কিছুক্ষণ চুপ করে এশার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিচু কিন্তু শক্ত গলায় বলল,

“দুপুরে আমি ছাদে গিয়েছিলাম, এশা।”

কথাটা শুনেই এশার হাতের কলমটা টেবিলের ওপর পড়ে গেল। তার গায়ের রক্ত যেন মুহূর্তে হিম হয়ে গেল। সে তোতলামি করে বলল, “ছ... ছাদে? তুই...”

আনিকা সোজা হয়ে বসল

"হ্যাঁ, আমি সব শুনেছি,তুই আর সামিল ভাই... থার্মোফোবিয়া, গত রাতে তোকে আগলে রাখা, জড়িয়ে ধরা... সব শুনেছি। এশা, তুই আমার কাছে এত বড় একটা কথা লুকিয়ে গেলি? তোর এই চেনা বেমারের কথা বাড়ির কেউ জানে না, এমনকি আমিও না?”

এশা দুই হাতে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলল। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগল। সে ফুঁপিয়ে উঠে বলল,

“আমি তোকে বলতে চেয়েছিলাম আনিকা। কিন্তু লজ্জায় আর ভয়ে বলতে পারিনি। বাড়ির সবাই জানে তুই বাদে? এই রোগের ওপর তো আমার হাত নেই। আর সামু... সামু যদি কাল রাতে না থাকত, আমি হয়তো নিজেকে শেষ করে দিতাম।”

এশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, “তুই কাঁদিস না এশা। আমি তোকে ভুল বুঝিনি। কিন্তু তুই আমাকে বলতে পারতিস। আমরা কতটা ক্লোজ তুই জানিস না?”

চলবে,,,,,
(সম্পূর্ণ গল্প অ্যাপ এ পড়ুন)

    #পর্ব_৪       {🚫কপি করা ❌সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫}একটি বিশাল, চোখ ধাঁধানো হল রুম। রুমটির ভেতরের প্রতিটি আসবাবপত্র, দেয়াল, ...
30/08/2026

#পর্ব_৪


{🚫কপি করা ❌সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫}
একটি বিশাল, চোখ ধাঁধানো হল রুম। রুমটির ভেতরের প্রতিটি আসবাবপত্র, দেয়াল, পর্দা থেকে শুরু করে প্রতিটি সূক্ষ্ম বস্তুর রঙ কুচকুচে লাল।যার নাম রাখা হয়েছে (রেড হাউচ)

এই রক্তিম আভার মাঝখানে একটি রাজকীয় চেয়ারে দুই পায়ের ওপর পা তুলে রাজার মতো আয়েশ করে বসে আছে সেই কালো স্যুট পরা যুবক—সৈয়দ শাহজিল জাওয়াদ ওরফে 'রেড শ্যাডো'।

তার এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট।🚬

তার পেছনেই শাড়ি শাড়ি হাত সোজা করে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে অনেক কালো পুষাকধারী গার্ড তাদের সামনেই অনেক মেয়ে হাত মুখ বাধা অবস্থায় ছটফট করছে

শাহজিল অত্যন্ত নিস্পৃহভাবে সিগারেটে শেষ টান দিয়ে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে জুতো দিয়ে পিষে দিল।

তারপর চেয়ার থেকে ঝটকা দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তার চোখেমুখে চরম বিরক্তি। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রধান গার্ডের দিকে তাকিয়ে সে কঠোর গলায় বলল,,

"এই মেয়েগুলোকে যেখান থেকে তুলে এনেছিলে, ঠিক সেখানেই আবার ফেরত দিয়ে এসো! কিন্তু খেয়াল থাকে যেন, এই খবর যেন বাইরে কেউ টের না পায়। শুধু শুধু এই ফালতু মেয়েগুলোর পেছনে আমার জীবনের দুটো সপ্তাহ নষ্ট হলো!ডিসগাস্টিং!"

এই বলেই সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না। রাগে হনহন করে সেই লাল রঙের অদ্ভুত প্রাসাদ 'রেড হাউস' থেকে বাইরের করিডোরে বেরিয়ে এল।

ঠিক তখনই এক সুদর্শন, লম্বা যুবক অত্যন্ত হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে তার দিকে এগিয়ে এল। তার চোখেমুখে চরম অস্থিরতা। সে রেড শ্যাডোর একদম কাছাকাছি এসে প্রায় ফিসফিস করে বলল,,

"বস! আলেক্স মাত্রই প্যারিস থেকে ফোন করে জানাল, তার আস্তানায় নাকি মোট ১০৪ জন ('জেনি')নামের মেয়েকে ধরে রাখা হয়েছে! সে আপনাকে আগামী দুদিনের মধ্যে যেকোনো উপায়ে প্যারিসে পৌঁছাতে বলেছে।"

এই লম্বা সুদর্শন পুরুষটি আর কেউ নয়,সে হলো রেড শ্যাডোর সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ইমরান।

'জেনি' নামটা শোনা মাত্রই রেড শ্যাডোর চোখে এক তীব্র স্বস্তির আভাস ফুটে উঠল।

সে একটি গভীর ও দীর্ঘ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইমরানের দিকে তাকিয়ে আদেশসূচক গলায় বলল,,

"তাহলে আর এক মুহূর্তও দেরি নয়! আজ রাতের মাঝেই প্যারিস যাওয়ার ভিআইপি ফ্লাইটের টিকিট বুক করো।"

শাহজিল দুই পা এগিয়ে গিয়ে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। তার মাথায় যেন নতুন কোনো চাণক্য বুদ্ধি খেলে গেল। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানকে বলল,,

"আর শোনো! ওই যে মেয়েটি... লিউ, ওর সেই চাচাতো বোন, কী যেন নাম ছিল তার? হ্যাঁ, ইমাইরা! তাকে আজ রাতের ভেতরেই যেভাবেই হোক, যেখান থেকে পারো তুলে নিয়ে আসো। আর শোনো, তার একটা ডুপ্লিকেট পাসপোর্ট এবং প্যারিসের ভিসা তৈরি করো। আমরা ওকেও সাথে নিয়ে যাব। তবে সাবধান ইমরান! এই ঘরের ভেতর বন্দি থাকা লিউ নামের মেয়েটি যেন এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র কোনো কিছু জানতে না পারে!"

ইমরান বসের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বলল,,

"জি বস, এখনই সব ব্যবস্থা করছি।"

*****

গভীর রাত

সাইফুল ইসলামের বাড়ির সবাই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, তখন কয়েকজন কালো স্যুট পড়া পুরুষ বাড়ির ভেতরে ঢুকে

ইমরান তার চাল চালল। সে কোনো হইচই না করে, ভেন্টিলেটর দিয়ে অত্যন্ত নিঃশব্দে এক বিশেষ ধরনের ক্লোরোফর্ম গ্যাস

--'(স্লিপিং স্প্রে') ঘরের ভেতরে পুশ করে দিল। এই গ্যাসের প্রভাবে বাড়ির বাকিরা এমন এক গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল যে, ডিনামাইট ফাটলেও তাদের ঘুম ভাঙবে না!

ইমরান ও তার ব্ল্যাক স্কোয়াডের নিখুঁত পেশাদার গার্ডরা অত্যন্ত সাবধানে ইমাইরার ঘরে ঢুকল।

ঘুমন্ত ইমাইরাকে তারা আলতো করে তুলে নিয়ে পেছনের জানালার অন্ধকার পথ দিয়ে বেরিয়ে গেল। বাইরে পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু ইমরান মাফিয়াদের বিশেষ 'ব্ল্যাক-আউট' ভ্যান ব্যবহার করেছিল, যার নম্বর প্লেট প্রতি পাঁচ কিলোমিটার পর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে, শহরের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে, ইমরান ঠিকই ইমাইরাকে অক্ষত অবস্থায় তুলে নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টের দিকে রওনা দিল।

রাতের মাঝেই ইমরানের দক্ষ হ্যাকার দল ইমাইরার একটি নিখুঁত ডুপ্লিকেট পাসপোর্ট এবং প্যারিসের ভিআইপি ভিসা তৈরি করে ফেলল। সবকিছু এত দ্রুত আর নিখুঁতভাবে করা হলো যে সকালের আলো ফোটার আগেই ইমাইরাকে নিয়ে রেড শ্যাডোর প্রাইভেট জেট প্যারিসের উদ্দেশ্যে উড়াল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল।....✈️

*****

শাহজিলের সেই বিশাল ডুপ্লেক্স প্রাসাদের রাজকীয় মাস্টার বেডরুমে লিউ তখনো এক তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় বন্দি। শাহজিল নিজের ঘরে এসে লিউকে খুবলে খাওয়া দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে আরও কয়েকটা কড়া কথা শোনাল, যাতে লিউ মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং তার পুরো মনোযোগ শুধু নিজের কান্নাকাটির ওপরই থাকে। শাহজিল রুমের দরজা বাইরে থেকে এমনভাবে লক করে দিল এবং তার গার্ডদের কড়া নির্দেশ দিল

—"লিউ যেন এই ঘরের জানালার পর্দা সরানোরও অনুমতি না পায়।"

ইমাইরাকে যখন এই ডুপ্লেক্স বাড়ির অন্য একটা গোপন বেজমেন্টে সরাসরি এয়ারপোর্টের ভিআইপি লাউঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, লিউ তখন নিজের ঘরের বিছানায় হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছিল।

শাহজিল ধীর পায়ে ঘরের ভেতরে ঢুকল। লিউ তখন বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে ছিল। শাহজিলকে দেখামাত্রই সে সমস্ত ভয় দূরে ঠেলে উঠে দাঁড়াল এবং আকুল কণ্ঠে বলল,,

"দয়া করে আমাকে ছেড়ে দিন! আমি আপনার কোনো ক্ষতি করিনি। কেন আমাকে এভাবে আটকে রাখছেন? আমি অনাথ সত্যি বলছি আমার কিছুই নেই, আমাকে যেতে দিন! দোহায় লাগে"

লিউয়ের মুখে এই মুক্তির আকুতি শোনা মাত্রই শাহজিলের চোখ দুটো রাগে চকচক করে উঠল। সে এক ঝটকায় লিউয়ের একদম কাছে এসে তার ফর্সা গলাটা নিজের শক্ত হাত দিয়ে চেপে ধরল! লিউয়ের দম আটকে আসতে লাগল, সে যন্ত্রণায় শাহজিলের হাতটা খামচে ধরার চেষ্টা করল।শাহজিল নিজের দাঁত কটমট করে, লিউয়ের মুখের একদম কাছে এসে হিংস্র গলায় বলল,

"ছাড় পাওয়ার আশা এই জন্মে আর করো না! ভালো করে চিনে রাখো আমাকে—আমি সৈয়দ শাহজিল জাওয়াদ, নিজের ইচ্ছায় রাজত্ব করি আমি! আমার ওপর কথা বলার বা আমাকে অর্ডার দেওয়ার সাহস এই পৃথিবীতে কারো নেই! আর শোনো, তোমার এই সস্তা কান্নার যত ড্রামা আছে, সব এই দেশেই ফেলে রেখে যাও। কারণ আমরা প্যারিস যাচ্ছি! সেখানে তোমার এই চোখের জলের কোনো দাম নেই। তুমি অনাথ বলেই তো তুমাকে বন্দী করে রেখেছি এই পৃথিবীতে অনাথ দের ওপর মায়া দেখানো কেউ নেই কেউ তোমার খোজ অব্দি নেবে না "

এই বলেই সে লিউকে এক ঝটকায় বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। লিউ ফুপিয়ে উঠলো।

******

শাহজিলের নির্দেশে লিউ এবং ইমাইরাকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়েছিল। লিউকে প্রাইভেট জেটের একটি বিশেষ কেবিনে রাখা হয়, যেখানে ইমাইরাকে রাখা হয়েছিল অন্য একটি বেড-কেবিনে।

*******

বেশ কিছুক্ষণ পর, ইমাইরার চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে খুলে গেল। ক্লোরোফর্মের রেশ তখনো পুরোপুরি কাটেনি। সে নিজেকে আবিষ্কার করল একটি অত্যন্ত নরম আর বিলাসবহুল বিছানায়। তার চারপাশটা একদম অচেনা। ঘরের ঠিক পাশেই একটি মস্ত বড় কাঁচের জানালা।তীব্র এক অজানা আশঙ্কায় ইমাইরার বুক কাঁপতে লাগল। সে বিছানা থেকে নেমে অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে ধীর পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেল। বাইরে কী আছে দেখার জন্য সে জানালার কাঁচ দিয়ে নিচে উঁকি দিল।কিন্তু নিচে উঁকি দেওয়া মাত্রই ভয়ে তার আত্মা শুকিয়ে গেল, শরীর অবশ হয়ে এল! কারণ নিচে কোনো রাস্তা, গাড়ি বা গাছপালা ছিল না; চারপাশে কেবল সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে! সে বুঝতে পারল এটা কোনো সাধারণ ঘর বা বাড়ি নয়—এটা একটা চলন্ত ভিআইপি ফ্লাইট, যা হাজার হাজার ফুট ওপর দিয়ে মেঘ চিরে উড়ে চলেছে!আতঙ্কে ইমাইরা নিজের মুখে হাত দিয়ে জানালার পাশে ধপ করে বসে পড়ল। সে কিছুতেই মেলাতে পারছিল না যে কাল রাতে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটি আজ কীভাবে আকাশের বুকে এক রহস্যময় ফ্লাইটের ভেতর বন্দি হয়ে গেল!

********

লিউকে হারিয়ে আসলামের অবস্থা এখন এক হিংস্র ও উন্মাদ পশুর মতো।

তার ওপর এখন জানতে পারল ইমাইরাকে বাড়ি থেকে মাঝরাতে কেউ কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে লিউয়ের নিখোঁজ হওয়ার ধাক্কা সে সামলাতেই পারছিল না, তার ওপর সকাল হতেই যখন খবর এলো নিজের ঘর থেকে কে বা কারা উধাও করে দিয়েছে, আসলামের পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল।

সে নিজের বিলাসবহুল ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুই হাতে মাথা চেপে ধরে রাগে কাঁপতে লাগল।

চলবে....
{সম্পূর্ণ গল্প (ami poddoja app) (pratilipi app) (juli yesmin page ) পড়ুন।

 #চেনা_ঘ্রাণের_অবাধ্য_স্পর্শ #জুলি_ইয়াছমিন🚫কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ 🚫"নিখিল ভাই ঘুমিয়েছেন?"আয়না প্রায় আধঘন্টা যাব...
29/08/2026

#চেনা_ঘ্রাণের_অবাধ্য_স্পর্শ
#জুলি_ইয়াছমিন
🚫কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ 🚫

"নিখিল ভাই ঘুমিয়েছেন?"

আয়না প্রায় আধঘন্টা যাবৎ মাথা টিপে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো

নিখিল অল্প হাসলো চোখ বন্ধ করেই বলল "না, কিন্তু তুই যেতে পারিস"

আর কোনো কথা বললনা আয়ানা অনুমতি পেয়েই নিজের রুমে চলে গেলো।

তাঁরা মামার বাড়ি আসলে আয়ানার সাথেই ঘুমায় আর ফাহিয়া আরশিয়ার সাথে থাকে ৩ নম্বর ফ্লোরে ৪টা গেস্ট রুম আছে। ওপরে কেউ থাকেনা কিন্তু নুশিমা, নাদিমা, নিখিল আসলে সেখানেই থাকে ।

২নম্বর ফ্লোরে চিকন লম্বা বারান্দা এক সাইড তিন মেয়ের রুম তাদের সম্মুখে ছেলেদের,

কিন্তু ২টো ছেলের রুম খালি পড়ে আছে একটা আয়ানার সামনের টা খালি যেখানে শিফাত থাকত অন্যটা বেলিনার রুমের সম্মুখেরটা খালি যেখানে রিফাত থাকতো ২দিন পর তারা আসবে তাই রুম আজকেই পরিষ্কার করা হয়েছে গুছিয়ে দিয়েছে ।

আসলে তাদের বাড়ি অনেক বড় ৫তালা বাড়ি বাড়ির সামনে বড় মেইন গেট ভেতরে ঢুকল আরও একটা ছোটো লোহার গেট

****

🎉🥳আরশ বাড়ীতে আজকে সকাল থেকে কোলাহল বাচ্চারা সবাই আনন্দ আত্মহারা মহিলারা সকাল থেকে এত ব্যস্ত শ্বাস নেওয়ার সময় নেই আজকে এত আয়োজন তাই আজ পুরুষেরাও অফিস ছুটি নিয়েছে সবাই লিভিং রুমে বসে আছে বাচ্চারাও সেখানেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে

আজকে এত বছর পর বাড়ির বড় ছেলে এবং নতিদেরমুখ দেখবে মোহিনী,

কিন্তু সবার মাঝে একমাত্র বিরক্ত আয়ানা আয়ানা আজকে নিজের রুম থেকেই বাইরে আসেনি তার এমন কান্ড সকলের জন্য ভালো হয়েছে কারন এই মেয়ে যদি বের হয় বারি মাথায় তুলে নাচবে তাই কেউ তাকে আসতে জোর করেনি ।

*****

দুপুর তখন ১.৩৮

গাড়ীর শব্দ পেয়ে সকলে সদর দরজার সামনে দাঁড়ায় দরজা খুলতেই বাড়ীর করতারা ভেতরে ঢুকে তাদের পিছু দুই হ্যান্ডসাম যুবক সবাইকে জড়িয়ে ধরে মোহিনী নাতিদের চুমু খায় মেহদুল ছেলেদের বলে

"তুমরা নিজেদের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো"

এরা হলো বড় আব্বুর দুই ছেলে বড় ছেলে শিফাত ছোট ছেলে রিফাত

"আচ্ছা পাপা, কিন্তু রুম কোথায়?"

মোহিনী বারুনউদ্দ্যেশ্য করে বলল

"যা তো তাদের রুম দেখিয়ে আয়"

"ভাইয়া আসো আমার সাথে"

বারুনের পিছু পিছু শিফাত সিঁড়ি দিয়ে উঠে নিজের রুমে পা বাড়াবে তখনি সামনের রুম থেকে মেয়েলী কন্ঠ শুনে দাড়িয়ে পড়ল শিফাত।

আযানাকে ডাকতে এসেছিল আরশি আয়ানা আরশিকে বলল

"আমি বিড়াল হয়ে এদুরের সাথে কথা বলতে যাবো কেনো?"

"কি বলছিস তুই? তর পেচ-গোচ কথা এতো বুঝিনা, বড় আব্বু তোকে দেখবে ,জেদ করিসনা চল "

"আমার এগুলো বালের ঢং সহ্য হয়না যা তো আমি যাবনা যা সর শালী "

"মুখে লাগাম দে আয়ু আমি তোর শালি? বেয়াদব মেয়ে কোথাকার"

"তুই আমার রুম থেকে বের হ বাল"

রিফাত নিজের রুমে চলে গেছে শিফাত কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বারুন বলল

"বড় ভাইয়া ওখানে দাড়িয়ে আছো কেনো? তোমার রুম তো সামনেরটা "

শিফাত নিজের রুমে ঢুকে বারুণ কে সামনের রুম ইশারা করে বলল

"ওই রুমে কে থাকে ? "

"ওই রুমে বাড়ীর বাঁদর থাকে তার সামনে যেও না সে কিন্তু অনেক বেয়াদব 🙂"

শিফাত অবাক হলো সে স্বাভাবিক কন্ঠ বলে

"তাকে বলে দিশ এত জোড়ে জোড়ে কথা না বলতে আর মুখের ভাষা ঠিক করতে "

"🥲 আচ্ছা ভাইয়া "

বারুণ চলে যেতে যেতে নিজের মাঝেই বিড়বিড় করে বলল

"এই মেয়ে বড়দের কোথায় শুনেনা আর তোমার কথা শুনবে ? হাহা "🥲😅

• বাড়িতে এতবছর পড় অনেক আনন্দ কোলাহল সবাই খেয়ে নিজেদের রুমে চলে যায় আয়ানা আজকে সন্ধ্যাতেই খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে যেন কারো সাথে দেখা না হয় ,তাই মাঝরাতে ঘুম ভেংগে যায়।

****

ঘরীর কাটায় তখন রাত ১২.৪৫ ~

আয়ানা নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আরশির রুম পার হয়ে অন্ধকারের অস্পষ্ট আলোয় আন্দাজ করতে করতে সিঁড়ি করে নামল আর তিনটে মাত্র সিঁড়ি পার হলেই লিভিং রুম কিন্তু পেছনে কারো পায়ের শব্দ পেয়ে দাড়িয়ে পড়লো মনে হচ্ছে কোনো পুরুষ হবে পেছনে ঘুরতে যাবে ঠিক তখনি নিজের পায়ে পা লেগে হুমড়ি খেয়ে পড়তে নিল তার আগেই পুরুষালি হাতের বাঁধনে বেছে গেলো পুরুষটিকে দেখতে পেছনে ঘুরবে দেখা আর হলোনা সামনে থেকে চিরচেনা বয়স্ক কাপা কন্ঠ শুনে সামনে তাকাতেই পুরুষটির বাঁধন খুলে গেলো মোহিনী আয়ানার কাছে এসে ভ্রু কুচকে বলল

"এই বিড়াল এত রাতে আবার কোন মাছ চুর করার প্লেন করছিস ? আর আমার নাতির লগে জোড়াজড়িয করছিস কেনো?"

আয়ানা বিরক্ত হয়ে বলল

"এই বুড়ি কি বলছ? ছিঃ এত বয়স হওয়া সত্ত্বেও এমন কথা বলতে লজ্জা লাগেনা ?"

মোহিনী আয়ানার নাক চেপে বলল

"😒 তুই যে করছিস এই খোলা বাড়িতে তখন লজ্জা লাগেনা?"

আয়ানা তার দাদির হাত ছাড়িয়ে হেসে উঠে

"😂 দাদিমা তুমি স্বপ্ন দেখছ নাকি? আসলে কি জানো? বয়স হলে চোখের পাওয়ার কমে যায় চিন্তা করনা আমি আছি না ?কালকে তুমাকে নতুন চশমা এনে দেবো"😁

"😒 এ..এ তর সাথে কথায় তো কোনদিন পারা যাবেনা"

"বুঝতে পেরেছ? তাহলে যাও ঘুমাবে"

আয়ানা মোহিনীকে আর কোনো কথা বলতে দিলনা নিজের রুমের দিকে একপ্রকার দৌড়েই চলে গেল তার কতক্ষণ আগেই সেই পুরুষটি চলে গেছে তাই দুজনের দেখা আর হয়না।

পরদিন সকাল ৬:৩০

সেই কখন থেকে ঈশানের মবাইল ভাইব্রেশন হচ্চে ইশান নিজের সাথে মিশে থাকা আরশিকে একবার দেখে নিজের ফন হাতে নিলো এত সকাল সকাল শিফাতের কল আসতে দেখে ভ্রু কুঁচকে রিসিভ করে ওপাশ থেকে শিফাত বলে উঠল

"ফোন রিসিভ করছিস না কেনো ইশান? আর তুই এখন কোথায় ? "

ঈশান বিরক্তকর এক শ্বাস নিয়ে জিজ্ঞেস করে

"কেনো ভাই? এতো সকাল সকাল ঘুম হারাম করে বলছিস আমি কোথায়?"

"আমি যেটা বলেছি উত্তর দে কোথায় তুই?"

"আমি আমার বউ কে কলে নিয়ে ঘুমাচ্ছি এখন রাখ ডিস্টার্ব করিসনা তো "

"বউকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিস মানে কি ? তুই বিয়ে কবে করলি ? আচ্ছা বাদ দে তুই এটা বল তুই আমার বাড়ির সামনে কি করছিস?"

ইশান চমকে উঠল আসে পাসে চোঁখ বুলিয়ে একবার দেখে নিল শিফাত কোথায় কিন্তু রাস্তা অথবা আশে পাশে কেউ নেই

"ভাই তুই এত শিকল নেশা করেছিস নাকি ?তর বাড়ি আমি কি করে জানবো? আমি তো আমার হবু শশুর বাড়ীর বাইরে গাড়িতে বউ নিয়ে ঘুমিয়ে আছি 😅"

"তাহলে আমি যা বলছি সেটা সত্যি? Omg তর বউ কে ? তুই গাড়ি থেকে বাইর বেরহ এক্ষনি আমি আসছি ওখানেই থাক "

"আমি তোকে দেখতে পারছিনা। তাহলে আয় আমি গাড়ি থেকে বেরোচ্ছি।

কল কেটে দিয়ে আরশিকে ডাকলো আরশির চোখ ডলতে ডলতে উঠে নিজের চিটে বসে বলে

"তুমি আমাকে ডাকনি কেনো এখন আমি ভেতরে কি করে যাবো? কেও যদি দেখে নেয়? "😫

"কেও উঠেনি মনে হয় আর যদিও উঠে থাকে তাহলে তুমি বাগান দিয়ে যাও কেও জিজ্ঞেস করলে বলবে হাটছিলে যাও এখন"

আরশি দরজা খুলে বেড়িয়ে ঈশানের পাশে আসলো ইশান তার কপালে একটা শুকনো চুমু দিল তার পর গাড়িতে হেলান দিয়ে দাড়ালো আরশি গেটের পাশে যেতেই চমকে উঠে শিফাতকে দেখে দুজনেই দুজনকে দেখে অবাক হয় সিফাত বলে

"তুই এখানে কি করছিস? এতো সকাল বাইরে বের হয়েছিস কেনো ? "

আরশি কাপছে কিছু বলতে পারছেনা দূর থেকে তাদেরকে দেখে ইশান বুঝে গেলো আসলে আরশিযার বাড়ি আর শিফাতের বারি একটাই সে তড়িঘড়ি করে এসে তাদেরকে বলল

"কি হলো দুজনে এরকম করে দাঁড়িয়ে আছিস যে ? আরশি তুমি ভেতরে যাও। শিফাত তুই এখানে আয়"

ঈশান সিফাতকে কিছু বলতে না দিয়ে তাকে টেনেই গাড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়ালো আরশিয়া ভয়ে দৌড়েই বাড়ির ভেতর ঢুকে গেলো । শিফাত রাগী চোখে তাকিয়ে আছে ঈশানের দিকে আসলে তারা দুজন আগে থেকেই ফ্রেন্ড তবে ঈশান কখনোই শিফাতের বারি আসেনি ।

ঈশানের মনে পড়ে গেলো আরশি তাকে বলেছিল তার চাচাতো ভাইয়েরা আসছে তার মানে সিফাত তার ভাই? আর শিফাতো বলেছিল তাদের বাড়িতে অনেক সদস্য এখন কি হবে ? ইশান হঠাত কেশে উঠলো তার পর নিজেকে শান্ত করে বলল

"দেখ ভাই আমি সত্যি জানিনি আরশি যে তর বন সরি ভাই "

"তুই এভাবে আরশি কে রাতে ডেকে নিয়ে আসিস?কি করেছিস তার সাথে সত্যি করে বল?তাও বাড়ীর সামনে?তর ভয় লাগেনা?"

ঈশান স্বাভাবিক কন্ঠ বলে

"😳🙄ভাই বিশ্বাসকর আমি কিছু করিনি শুধু ৫-৬ টা চুমু খেয়েছি আর আমার কোলে নিয়ে ঘুমিয়েছি"

"আমি আরশির বড় ভাই অভদ্র। আমকে এভাবে বলতে লজ্জা করেনা..?"

"ওপস সরি সম্বন্ধ এখন লজ্জা করছে "

"হয়েছে বাদ দে কিন্তু শুনে রাখ এরকম আর যাতে না হয় তুই কি তাকে ভালবাসিস ?"

ঈশান এইবার সিরিয়াস হয়ে বলে

"হ্যাঁ অবশ্য ভালবাসি আর আমি বিয়ে করবো তাকে আমি বিয়ে না করলে কে বিয়ে করবে ? কার এত সাহস?"

"তাহলে তুই বাড়ীতে প্রস্তাব নিয়ে আয় আমি আছি তোর সাথে এখন যা "

"আহ হা এটাই তাহলে হলো আমার দোস্ত আসি তাহলে সম্বন্ধী...উম্মাহ😘"

চলবে,,,,,

 #চেনা_ঘ্রাণের_অবাধ্য_স্পর্ষ   #পর্ব_৩ #জুলি_ইয়াছমিন🚫 কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ 🚫সকাল ১০:৪৬~🌅আজকে রবিবার স্কুল, কলেজ ...
29/08/2026

#চেনা_ঘ্রাণের_অবাধ্য_স্পর্ষ #পর্ব_৩
#জুলি_ইয়াছমিন
🚫 কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষেধ 🚫

সকাল ১০:৪৬~🌅

আজকে রবিবার স্কুল, কলেজ ,অফিস বন্ধ লিভিং রুমে সকল কর্তা এবং মহিনী ও তার দুই মেয়ে। সবাই বসে আছে ,ভাই বনেরা গল্প করছে বাচ্চারা সবাই বাইরে খোলা ঘাষে বসে আছে ,চার কর্তী বাগানে হাঁটছে ,আয়ানা এলোমেলো হয়ে চোখ ডলতে ডলতে লিভিং রুম পেরিয়ে যেতে নেই ঠিক তখনি তার পা থেমে যায় যেই ভয়ে ছিল সেটাই হলো ভেবেছিল সবাই হয়তো বাইরে কোথাও থাকবে তাই সে একটু বেরিয়েছিল মেহদুল আয়ানাকে দেখেই তাকে ডাক দিলো আর আয়ানা বেচারি জোরপূর্বক নাটক করতে হলো যে সে তাদেরকে দেখে খুশি হয়েছে এমন নাটক সালাম দিল

"আসসালামু আলাইকুম বড় আব্বু কেমন আছ?🙄

"ওয়ালাইকুম সালাম আম্মু আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি

তুমাকে তো সেই কালকে থেকে একবারও দেখিনি কত ডাকলাম আসলেনা কেনো ?"

"🙂 আসলে শরীর অল্প খারাপ ছিল"

"কি হয়েছে ?এখন ভালো আছো তো ? "

"🥲😅 না তেমন কিছু নয় এখন ভালো আছি আচ্ছা তুমরা গল্প কর আসি"

আয়ানা চলে যেতে নিলো কিন্তু আবারও থামতে হলো পেছন থেকে তার বড় ফুপি নুসিমা খোসা মেরেই বলে

"জীবনে জে ভালো হবিনা সেটা লিখে রেখেছিস? চুলগুলোর কি অবস্থা অল্প পিটপিটে থাকতে পারিসনা এলো মেলো হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিস কেনো ?"

পাশথেকে মহিনী ভাব নিয়ে বলল

"তুই কাকে কি বলছিস ? সে আদৌ তোর কথা কানে নিচ্ছে ? এই মেয়েকে যেতই বল না কেনো কারো কথা কি তার গায়ে লাগে নাকি ? "

পাশে বসা নাদিমা তাদের শান্ত করিয়ে বলল "আরে এতো বকছো কেনো? বাড়িতেই তো আছে,তাহলে এত সাজু গুজো করার কি আছে ,যা মা তুই বাইরে যা ..."

******

লেমন , আরশি, ফাহিয়া, রিফাত,তাঁরা, গোল করে বসে গল্প করছিল আয়ানা দুর থেকে তাদের দেখেই বাঁদরের মত এক দৌড়ে লেমনের পিঠের ওপর আছড়ে পরে লেমন বিরক্ত হয়ে আয়ানাকে সরিয়ে দিলো তবে আয়ানা করো কথা বুঝার বা শোনার মেয়ে নয় সে তার গা ঘেঁষে বসে পড়ল লেমন তার ডানা ঠেলে সরাতে চাইলো

"তুই বাঁদরের মতো লাফালাফি করছিস কেনো?বাল যা সর তো কালি 😒"

আয়ানা লেমনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে তার পেটের উপর চড়ে বসে এবং চুল ধরে টানতে টানতে রেগে দাঁত কামড়ে বলে উঠে

"শালা লেবুর বাচ্চা তুই আমাকে কালি বলার সাহস কোথায় পেলি? এতো সুন্দর একটা মেয়েকে তোর চোখে কালি মনে হচ্ছে ? 😡😤"

লেমন আয়ানাকে নিজের ওপর থেকে সরানোর চেষ্টা করে

"আহহ কালি উঠ বলছি, আমার পেট ফেটে গেলো গা মা গো "

আয়ানা আরও শক্তি দিয়ে করে বসে

"😤😒 আগে বল আমার মতো সুন্দর এই পৃথিবীতে নেই,বল তার পর উঠবো "

সামনে থাকা সবাই পেট চেপে হাসছে তাদের ঝগড়া দেখে মজা নিচ্ছে কেউ ছাড়াচ্ছে না লেমন বলল

"নিজের প্রশংসা করতে লজ্জা লাগেনা?"

আয়ানা ভাব নিয়ে বলল

"😉😏আমি এত ছোটলোক নই যে লজ্জা লাগবে।লজ্জা তো ছোটলোকের থাকে 😎"

ঠিক সেই সময় বাগান থেকে কবিতা আর রাইফা,শিফাতের মা আসছিল তাদেরকে এমন মাটিতে পড়ে ঝগড়া করতে দেখে তারা দুজন দৌঁড়ে এসে ছাড়িয়ে দিলো আয়ানার মা কবিতা পাত্তা না দিয়ে বাড়ির ভেতর চলে গেলো রাইফা বললো

"আরে তোরা কি বাচ্চা নাকি এভাবে কেউ ঝগড়া করে ?"

লেমন ভাব নিয়ে বলে

"আমি না তো আয়ানা আগে শুরু করেছে এই কালি সারাক্ষণ লেগে থাকে বড় মামী তাকে বিয়ে দিয়ে দাও তো 🙄"

আয়ানা চোখ রাগিয়ে লেমনের দিকে তাকায় ঠোঁট উল্টে রাইফাকে বলল

"বড় আম্মু দেখেছো 😒"

রাইফা হাসলো বললো

"ঠিকই তো বলেছে বিয়ে দিতে হবে হ্যাঁ রে লেমন টতুই যখন বলছিস তাহলে তোর সঙ্গেই বিয়েটা দিলে খারাপ হয়না বিয়ের পর সারাক্ষণ ঝগড়া করতে পারবি😅"

দুজনেই চিৎকার করে বলল

"ইইউ চি কোনোদিনও নাহহ....."

****

বিকেল গড়িয়ে তখন সাঁঝের আলো ফুটছে। পশ্চিম আকাশে সূর্যের লালচে আভা ম্লান হয়ে আসছে, আর চারপাশটা মুড়িয়ে নিচ্ছে এক শান্ত, অলস স্তব্ধতায়। হালকা হিমেল হাওয়া এসে ঘরের হালকা পর্দাটাকে মৃদু দোলা দিয়ে যাচ্ছে।

আরশিযা নিজের জানালার পাশে এসে বসল। বাইরের গাছগুলোর পাতায় বাতাসের ঝিঁঝিঁ শব্দ ছাড়া আর কোনো আওয়াজ নেই। কিন্তু তার মনের ভেতর তখন অন্য এক ঝড়।

তার চোখজোড়া জানালার বাইরে দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলেও, মনটা পড়ে রয়েছে কালকের সেই অদ্ভুত রাতটায়।

কাল রাতের প্রতিটি মুহূর্ত এখন সিনেমার মতো তার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।

______

মাঝরাতে মোবাইলের টুং টুং শব্দ বিরক্ত হয়ে আরশির ঘুম ভেংগে গেল ঘোলাটে চোখ নিয়ে মোবাইলের স্কীন চোখ পড়তেই সে লাফিয়ে বেড থেকে উঠে বসে এবং ভালো করে চোখ ডলে আবারো নোটিভিকিশন টা দেখলো সেভ করা নাম্বার থেকে এসেছে

মেসেস 💌[২মিনিটের ভেতরে রাস্তায় আয় আমি তোর বাড়ীর ম্যান গেটের এখানে দাড়িয়ে আছি যদি না আসিস তাহলে তুই ভালো করেই জানিস আমি কি করবো"]

আরশি মোবাইলটা রেখে তাড়াহুড়ো করে পাশে থাকা তার ওড়না গায়ে ভালো করে জড়িয়ে নিলো এবং কি মুখ ঢেকে নিলো যাতে বাইরে গেলে কেউ দেখতে না পায়

ঘড়ির কাঁটায় তখন ২:৪৫

আরশিয়ার ভয়ে হৃদয়ের গতি সাধারণের চেয়ে দ্বিগুণ চলছে সে পা টিপে টিপে সদর দরজা পেরিয়ে এক দৌঁড়ে ম্যান গেট পৌঁছালো মেন গেট আগে থেকেই খোলা ছিল সে অবাক হলো না কারণ এটা ইশান করেছে তার বিশ্বাস

বাইরে যাওয়ার সাথে সাথে কেউ একজন খপ করে এসে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আচমকা জড়িয়ে ধরায় সে দুকদম পিছিয়ে যায় ঈশান এতই করে জড়িয়ে ধরেচে যে সে ভালো করে শ্বাস অব্দি নিতে পারছেনা এতক্ষণ ছড়ানো চেষ্টা করলেও এখন আর করলো না ইশান নিজেই ছেড়ে দিয়ে আরশির ঠোঁট আঁকড়ে ঈশান নিজের ওষ্ঠ আরশিযার নরম ঠোঁটের ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় প্রায় মিনিট পর আবারো ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে গেল

"আরশি আ..আরশি শোনা আমার

বেবি জান হার্টবিট শুন আমাকে একবার জড়িয়ে ধর না সুনু"

আরশি ঈশানের কোথায় সামান্য ভরকে গেল এই কি সেই ঈশান যে কি না একটু আগেই মেসেজে রাগ দেখিয়ে কথা বলছিল ? কিন্তু এখন এগুলো ভাবার সময় না কারণ ঈশানের চোখদুটো কেমন লালা হয়ে আছে তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা ক্লান্ত সে , আরশিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো ঈশানের শরীর কাপছে সেটা দেখে আরশি চমকে উঠল কিন্তু ভয় পেলনা নিজের দুই হাত দিয়ে ইশানকে জড়িয়ে ধরে মিনমিনিয়ে বলল

"তুমার শরীর এমন কাপছে কেনো?তুমার কি শরীর খারাপ ? "

ইশান আরশিকে নিজের থেকে ছড়িয়ে দূরে সরে গিয়ে তার কথার জবাব না দিয়ে উল্টো শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করে

"আরশি আমাকে বিশ্বাস করো ? আমাকে তুমি কতটা ভালোবাসো?"

আরশী অবাক হলো হঠাৎ সে এই প্রশ্ন কেনো করছে ? কিন্তু প্রতিক্রিয়ায় না করে সে সোজা জবাব দিলো

"আমি সবার প্রথম তুমাকে বিশ্বাস করি এই পৃথিবীও যদি আমকে তুমার কথা সত্যি কিছুও বলতে চায় তবুও আমি বলব আমি আগে তুমাকে জিজ্ঞেস করবো আমি আমার জন্মদত্রী মা বাবা সবার থেকে এবং কি নিজের থেকেও বেশি তুমাকে বিশ্বাস করি ঈশান ! নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি "

ঈশান এক দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল

"তাহলে গাড়িতে গিয়ে বসো"

আচমকা এমন কোথায় আরশি ভরকে যায়

"কি.. কিন্তু কেনো ?"

"তুমি না বললে আমাকে নিজের থেকেও বেশি বিশ্বাস করো ?নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসো ? তাহলে আমি না ফেরার পথে গেলেও তুমি কোনো প্রশ্ন কোনো ভয় ছাড়াই আমার সাথে যেতে হবে তোমায় "

আরশি কোনো কথা না বলে গাড়ির সামনের ডর খুলে বসে পড়ল ইশান আরশির ডর খুলে জিজ্ঞেস করলো

"এখানে কেনো বসলে ? "

"তুমিই না বললে গাড়িতে বসতে ?"

"হ্যাঁ বলেছি কিন্তু সামনের সিটে নয় ব্যাক সিটে আসো "

আরশি বুঝতেই পারছেনা এই ছেলেটি কি পাগল হয়ে গেছে ? সোজা কথা বললেই তো হয় একবার বলছে এখানে যাও আবারও ওখানে না এখানে আসো ,কি যে ছেলে রে বাবা উফ, আরশি পেছনের সিটে গিয়ে বসলো ইশানো পেছনের সিটে এসে আরশীর পাশে বসে ডর লাগিয়ে দিলো

"আচ্ছা শুনো .."

আরশী কথাটা সম্পূর্ণ করতেই পারলনা ঈশান আরশির মুখে হাত রেখে চুপ করিয়ে দিলো ঈশান আরশির অনেক কাছে এসেছে ঈশান নেশময় কন্ঠে বলল

"হুশ 🤫 এখন আর কোনো কথা নয় শুধু আমি বলব তুমি শুনবে"

ঈশান হঠাৎ আরশীকে নিজের কলের ওপর ছড়িয়ে বসিয়ে দেয় কিন্তু আরশি কোনো প্রতিক্রিয়া করলনা তার স্বাভাবিক মনে হলো আরশিয়ার ঘাড়ের চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে তার গলায় ছোটো ছোটো চুমু একে দিল এর পর আরশির ঠোঁঠে নিজের ঠোঁট মিশিয়ে নিলো প্রায় মিনিট পাঁচেক তার ঠোঁট ছেড়ে আরশি কে নিজের সাথে মিশিয়ে জড়িয়ে ধরে ধীর কন্ঠে বলল

"You cannot imagine how much I love you. তুমাকে ছাড়া আমার প্রতিটি মুহূর্ত অনেক কষ্ট হয় আরশি"

কথাটা শেষ করেই আরশিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার ঘারে থুতনি রেখে চোখ বন্ধ করে নিল আরশিও আবেশে চোখ বন্ধ করে নিল।

চলবে,,,,,,,
#সম্পূর্ন_গল্প_অ্যাপ_অথবা_পেজে_পড়ুন

 #হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ   #পর্ব_১ #জুলি_ইয়াছমিন{সতর্ক বার্তা:🚫কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষিদ্ধ ❌}গভীর রাত।চারদিক নিস্তব্...
29/08/2026

#হৃদয়ের_নিষিদ্ধ_ব্যাকরণ #পর্ব_১
#জুলি_ইয়াছমিন
{সতর্ক বার্তা:🚫কপি করা সম্পূর্ন ভাবে নিষিদ্ধ ❌}

গভীর রাত।

চারদিক নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। সিদ্দিক পরিবারের দোতলা বাড়িটির ড্রয়িংরুমের আবছা আলোয় এক অদ্ভুত নীরবতা। সোফার ওপর ধপ করে বসে পড়ল

এশা ইয়াসমিন। 👩🏻

ক্লান্তি আর এক তীব্র, অস্বস্তিকর অবসাদে এশার শরীরটা ভেঙে পড়ছিল। সোফায় বসা অবস্থাতেই তার চোখ দুটো জড়িয়ে আসছিল, যেন অবশ হয়ে আসছে পুরো চেতনা। ঠিক তখনই সদর দরজা খোলার খটকা শব্দ হলো।

শার্টের ওপরের বোতামগুলো একে একে খুলতে খুলতে ড্রয়িংরুমে ঢুকল এই বাড়ির বড় ছেলে সামিল সিদ্দিক।🧑🏻

প্রচণ্ড ক্লান্ত শরীর নিয়ে সে চারপাশের কোনো কিছুর দিকে না তাকিয়ে সোজা ওপরের ঘরের সিঁড়ির দিকে এগোতে লাগল। কিন্তু সিঁড়ির কয়েক ধাপ উঠতেই হঠাৎ নিচের ড্রয়িংরুম থেকে একটা তীক্ষ্ণ 'ঝনঝন' শব্দে কাঁচের গ্লাস ভাঙার আওয়াজ হলো।চমকে উঠে দ্রুত পেছনে ফিরে তাকাল সামিল। নিচের দৃশ্যটা দেখেই তার বুকের ভেতর একটা অজানা ভয় দলা পাকিয়ে উঠল।সোফায় এশা আধশোয়া হয়ে উথাল-পাথাল ছটফট করছে। তার চোখ-মুখে এক অদ্ভুত নেশার মতো ঘোর। প্রচণ্ড গরমে অস্থির হয়ে সে নিজের গায়ের ওড়নাটা টেনে একপাশে ছুঁড়ে ফেলে দিল। ওড়নার টানেই পাশে থাকা কাঁচের গ্লাসটি মেঝেতে পড়ে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেছে। এশা নিজের গলা খামচে ধরে জড়ানো, অস্থির কণ্ঠে বিড়বিড় করছে,

"আ... আমি আর পারছিনা! এত গরম কেন এখানে? উফ না...!"

এশার এই অবস্থা দেখে সামিল আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। সিঁড়ি দিয়ে প্রায় লাফিয়ে নেমে সে দ্রুত এশার পাশে এসে বসল। এশার কপালে হাত দিতেই দেখল শরীরটা জ্বরের মতো পুড়ছে। সামিল অত্যন্ত উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

"এশা! অনেক গরম লাগছে? নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো দেখি। একটু ওঠো, আমরা এসি রুমে যাব।"

এশা শুধু চোখ বুজে তার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল, কিন্তু তার এই আকস্মিক অস্থিরতার পেছনের কারণটা সামিলের মাথায় কিছুতেই খেলছিল না।

এই বাড়ির সবার রুমেই এসি আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এশার রুমের এসিটা দুদিন ধরে নষ্ট। এত রাতে বাড়ির কাউকে ডেকে হট্টগোল করাও সম্ভব নয়। কোনো উপায় না পেয়ে সামিল এশাকে পাজকোলা করে তুলে নিজের বেডরুমের দিকে রওনা হলো। এশার শরীরটা গরমে আর এক অজানা ঘোরে পুরো ছেড়ে দিয়েছে।

রুমে ঢুকে এসিটা ফুল স্পিডে ছেড়ে দিল সামিল। এরপর এশাকে সাবধানে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সে যেই একটু সরে যেতে চাইল, অমনি এশা খপ করে সামিলের শার্টের হাতা চেপে ধরল। নেশার ঘোরে তার চোখ দুটো আধবোজা, ঠোঁটের কোণে এক অদ্ভুত, অবুঝ হাসি।এশা বিছানা থেকে উঠে ঢুলতে ঢুলতে সামিলের একদম বুকে এসে আছড়ে পড়ল। তার এই আকস্মিক আচরণে সামিল পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল। এশা সামিলের বুকের বোতামহীন অংশে হাত রেখে জড়িয়ে জড়ানো কণ্ঠে বলতে লাগল,,

"সুমু... এত ছটফট লাগছে কেন আমার? তুমি কোথাও যেও না। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, তুমি একটু কাছে বোসো না..."🥵🫩

সামিলের বুকের ভেতর তখন ঝড় বইছে। এশা তার নিজের আপন চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে, সম্পর্কের দিক থেকে (ভাতিজি)। ছোট থেকে তাকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছে। অথচ আজ এক অজানা নেশার ঘোরে মেয়েটা কী করছে, কী বলছে, তার কোনো হুঁশ নেই!

সামিল নিজের ভেতরের পুরুষালি আবেগ আর কাঁপনিকে তীব্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করল। সে নিজেকে শক্ত করে মনে মনে বলল,

"না, সামিল! ও এখন সুস্থ নেই। ও তোর ছোট্ট এশা।তর ভাতিজি"

••• হালকা পরিচয় •••

এশা বাড়ির মেজো ছেলের ছোট মেয়ে সে। কিন্তু এশার বাবা মা এখানে থাকেনা সে এখানে থেকেই পড়াশোনা করে। বাড়ির সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসলেও, শুধু সামিল সিদ্দিকের ছোট কাকীমা তাকে একদম চোখে দেখতে পারেন না। অথচ ছোট থেকেই এশাকে সবচেয়ে বেশি আগলে রাখে, যত্ন করে সামিল। সামিল তার চেয়ে মাত্র ৩ বছরের বড়। একসাথে বড় হওয়ার কারণে কোনোদিন 'চাকচু' বা 'আঙ্কেল' বলে ডাকা হয়ে ওঠেনি, ছোটবেলার অভ্যাস মেনে সে সামিলকে 'সুমু' বলে ডাকে।

সামিল আলতো করে এশাকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে বিছানায় বসানোর চেষ্টা করল। কিন্তু এশা আজ বড্ড অবাধ্য। সে সামিলের গলা জড়িয়ে ধরে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,,

"তুমি সবসময় এত দূরে দূরে কেন থাকো সুমু? আজ একটু জড়িয়ে ধরে রাখলে কী হয়? চাচ্ছুই বললে জড়িয়ে ধরবে?"

বলতে বলতেই সে সামিলের গাল ছুঁয়ে দিল।সামিল এবার একটু কঠোর হওয়ার চেষ্টা করে বলল,

"এশা! কী করছিস এসব? তুই অসুস্থ। চুপচাপ শুয়ে থাক।"

কিন্তু এশা শুনলে তো! সে সামিলের শার্টের বাকি বোতামগুলো ধরে টানতে লাগল। গরমে ঘোরের চোটে তার এই ছটফটানি আর বাঁদরামি সামিলকে এক চরম পরীক্ষা আর সংকটের মুখে ফেলে দিল। সামিল কোনোমতে তার হাত দুটো চেপে ধরে খাটে শুইয়ে দিল এবং মাথায় ঠান্ডা হাত বুলাতে লাগল। এশা বিছানায় ছটফট করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে চোখ বুজল, কিন্তু সামিলের রাতের ঘুম ততক্ষণে উড়ে গেছে। সে শুধু ভাবছে, এশার এই অবস্থার পেছনে আসল রহস্যটা কী?

পরদিন সকালবেলা।

সিদ্দিক পরিবারের ডাইনিং টেবিলে একে একে সবাই এসে বসেছে। এই বাড়ির প্রধান মুরুব্বি, যাঁর একক কথায় পুরো বাড়ি চলে, তিনি হলেন____( আহমেদ সিদ্দিক) 👳🏻

তিনি সামিল এবং সায়ফানের আব্বু। সায়ফান হলো সামিলের চেয়ে দুই বছরের ছোট ভাই। 🤵🏻

তাদের পাশে বসে আছেন আম্মু

__(সামিনা বেগম।)🧕🏻

মেজো কাকা আর কাকিমা স-পরিবারে অন্য রাজ্যে থাকেন, সেখানে তাঁদের নিজেদের বড় ব্যবসা ও অফিস রয়েছে।______

(তারাই হলো এশার আব্বু এবং আম্মু )

বাড়ির দাদীমাও আপাতত মেজো কাকার ওখানেই আছেন।

টেবিলে আরও বসে আছেন ছোট চাকা (আসাদ সিদ্দিক👳🏻)তাঁর স্ত্রী

__(রুমা কাকিমা)🧕🏻 এবং তাঁদের একমাত্র মেয়ে___(আনিকা সিদ্দিক👩🏻)

আনিকা এশার চেয়ে এক বছরের ছোট হলেও দুজনের মধ্যে ভীষণ ভাব। তবে রুমা কাকিমা এশাকে একদম সহ্য করতে পারেন না, এটা বাড়ির ভেতরের এক অলিখিত সত্য।টেবিলের এক কোণায় চুপচাপ বসে আছে এশা।

________

রাতের সেই ভয়াবহ ঘোরের পর তার শরীরটা এখনো বেশ দুর্বল, চোখ দুটো কিছুটা লালচে। সামিল ডাইনিং টেবিলে এসে বসে সবার দিকে একবার চোখ বুলালো। বিশেষ করে রুমা কাকিমার মুখে এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি দেখে সামিলের ভেতরের রাগটা চাড়া দিয়ে উঠল।সামিল চামচ দিয়ে প্লেটে সামান্য শব্দ করে হঠাৎ বেশ গম্ভীর গলায় বলল,,

"ছোট কাকীমা, কাল রাতের খাবারটা তো তুমি একাই তৈরি করেছিলে, তাই না?"

সামিলের এমন আচমকা প্রশ্নে টেবিলের সবাই একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল। রুমা কাকিমা চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়েও থমকে গেলেন। তবে নিজেকে সামলে নিয়ে একটু তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন,,

"হ্যাঁ বাবা, কেন বলো তো? খাবারে কোনো সমস্যা ছিল নাকি? তরকারিতে নুন-ঝাল কম হয়েছে?"

সামিল বাঁকা হেসে সরাসরি কাকিমার চোখের দিকে তাকাল। সেই চাহনিতে কোনো প্রকাশ্য চিৎকার ছিল না, কিন্তু ছিল এক তীব্র ঠান্ডা হুমকি। সামিল শান্ত গলায় বলল,,

"না কাকীমা, নুন-ঝাল ঠিকই ছিল। তবে মনে হলো কালকের খাবারে অন্য কোনো... 'স্পেশাল উপাদান' মেশানো ছিল। যেটা খাওয়ার পর মানুষের মাথা ঠিক থাকে না, শরীর কেমন যেন অবশ আর নেশাগ্রস্ত হয়ে যায়।"

কাকীমার মুখের রঙ মুহূর্তের মধ্যে চট করে বদলে গেল। তিনি আমতা আমতা করে বললেন,,

"কী... কী বলছ এসব সামিল? আমি খাবারে কী মেশাব!"

ছোট চাচা আসাদ সিদ্দিক স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন,,

"কী ব্যাপার রুমা? সামিল কী বলছে এসব?"

আম্মু সামিনা বেগমও চিন্তিত মুখে বললেন, "হ্যাঁ রে সামিল, তুই এমন কথা কেন বলছিস?"

বাড়ির প্রধান আহমেদ সিদ্দিক গম্ভীর গলায় বললেন,,

"সামিল, পরিষ্কার করে বলো, কী হয়েছে?"

সামিল বড়দের দিকে তাকিয়ে নিজের রাগটা আড়াল করল। কারণ সে চায় না সবার সামনে এখনই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি হোক, কিন্তু রুমা কাকীমাকে সে বুঝিয়ে দিতে চায় যে সে সব ধরে ফেলেছে। সামিল বলল,,

"না আব্বু, তেমন কিছু না। আসলে কাল রাতে এশার শরীরটা হঠাৎ খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। প্রচণ্ড ছটফট করছিল ও।

আপনারা তো সবাই জানেনই

(এশার থার্মোফোবিয়া আছে )🔥

কাকতালীয়ভাবে কালকেই আবার এশার রুমের এসিটাও নষ্ট হয়ে যায়। একটা মেয়ে বন্ধ ঘরে গরমে আর তীব্র অসুস্থতায় ছটফট করবে, আর রাতে ভুলবশত ঘর থেকে বেরিয়ে কোনো অঘটন ঘটাবে—এমনটাই তো হওয়া স্বাভাবিক ছিল, তাই না কাকীমা?"

রুমা কাকিমা এবার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। তিনি মনে মনে এশাকে নেশাগ্রস্ত করে, এসি নষ্ট করে একটা নোংরা ফাঁদ পেতেছিলেন, যাতে রাতে এশা উন্মাদের মতো কোনো আচরণ করে সবার চোখে অপরাধী হয়ে এই বাড়ি থেকে বিদায় হয়।

কিন্তু সামিল যে মাঝরাতে এসে সব ভণ্ডুল করে দেবে এবং সকাল হতেই এভাবে ইঙ্গিতে তাঁর দিকে আঙুল তুলবে, সেটা তিনি ভাবতেও পারেননি।

সামিল আর কাকিমার চোখের মাঝখানে তখন এক অদৃশ্য, ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। কেউ মুখে কিছু বলছে না, কিন্তু কাকিমা বেশ ভালোই বুঝতে পারলেন—সামিল তাঁর সব চাল ধরে ফেলেছে।

সামিল কাকিমার দিকে তাকিয়ে শীতল কণ্ঠে বলল,

"মানুষের ঘরের এসি নষ্ট হতেই পারে, কিন্তু মানুষের মনটা যেন নষ্ট না হয়, সেটাই বড় কথা। আজ বিকেলের মধ্যেই এশার এসি ঠিক করার ব্যবস্থা করছি আমি। আর হ্যাঁ কাকিমা, আজকের পর থেকে এশার খাবার-দাবার, ওর দেখভাল—সব আমি নিজে তদারকি করব। অন্য কাউকে আর কষ্ট করতে হবে না।"

চলবে,,,,,,,,,

Address

Barpather
Bongaigaon
783381

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Juli yesmin জুলি ইয়াছমিন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share