18/07/2026
কেউ চিতায় শুয়ে। কেউ ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায়। কেউ গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাঁড়িয়ে। ওরা মরেনি। তবে মরে যাবে। ঘর ছাড়া, জমি ছাড়া হলে বেঁচে লাভ কী ? মৃত্যুর সমান। এমনই বলছিলেন
মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর ও পান্না জেলার বিক্ষুব্ধ আদিবাসী মানুষজন (কোল ও গোন্ড উপজাতি)। তাই এটাই তাদের প্রতিবাদের ভাষা। আর এতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন মহিলারা। এসব নিয়ে খবর হবে না। সময় নেই কারও। মজার বিষয় হল শুধু নিজের বাস্তু, জমি বাঁচানোর লড়াই নয়। ওদের লড়াই অনেক বড়।
সরকার এক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কেন - বেতওয়া রিভার লিঙ্ক প্রজেক্ট। এতে লাভ কী ? সরকার স্বাধীনতার পর থেকেই শুধুই উন্নয়ন করে চলেছে। উচ্ছেদ চলছে। প্রকল্পের, প্রতিশ্রুতির বন্যা বইছে। আদিবাসী, গাঁয়ের মানুষ এখন সব লন্ডনের মতো জীবনযাপন করছে। বাদ দিলাম সে কথা। সরকারের দাবি, এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ১০.৬২ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচ এবং ৬২ লক্ষ মানুষকে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকৃত হবে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ। কবে হবে ঠিক নেই। হয়তো হবে। যাক গে সে বিতর্ক।
উন্নয়ন করতে গিয়ে বলি :
• আদিবাসী মানুষজনের ঘরবাড়ি, জমি, জীবন, সংস্কৃতি বিপন্ন। •২০ লক্ষের বেশি গাছ ধ্বংস হবে। হারাবে বিস্তীর্ণ বনভূমি, বাস্তুতন্ত্র।
• জলবায়ু, আবহাওয়া, পরিবেশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
•পান্না টাইগার রিজার্ভের বড় অংশ শেষ হয়ে যাবে।
• বাঘ, ঘোড়িয়াল এমনকী শকুনের মতো লুপ্তপ্রায় প্রাণীর জীবনও সংকটে পড়বে।
•২১টি গ্রাম হারিয়ে যাবে।
• আগে সরকার ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিছুই করেনি। ঠকিয়েছে। তাই তারা ফের প্রতিবাদে নেমেছে।
দাবি একটাই - অন্তত সঠিক ক্ষতিপূরণ দিক। পুনর্বাসন দিক। একটু ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নিক। এত গাছপালা, বন্যপ্রাণী সব হারিয়ে যাবে। বিকল্প কিছু ব্যবস্থা নিক। ওরা আমাদের মতো ফ্ল্যাটে থাকে না। শহরে থাকে না। শিক্ষিত নয়। চালাক নয়। সহজ সরল নয়। তাই পরিবেশ, গাছ, বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি এসব নিয়ে একটু বেশি ভাবে।
বক্তব্য একটাই - উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিতে হবে। উচ্ছেদ মেনে নিতে হবে। কিন্তু যথাযথ পুনর্বাসন জরুরি। এক্ষেত্রে পঞ্চায়েত (এক্সটেনশন টু সিডিউলড এরিয়াজ) অ্যাক্ট, ফরেস্ট রাইটস অ্যাক্টের কথা মাথায় রাখতে হবে। মানুষ, বন্যপ্রাণী, বাস্তুতন্ত্রের কথা মাথায় রেখে সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা করতে হবে। নতুন কিছু করলাম কিন্তু প্রকৃতির এত বড় ক্ষতি করলাম। চলবে না। একদিন একটা বিপর্যয়ে সব শেষ হয়ে যাবে। প্রকৃতি বদলা নেবেই। এত ক্ষতি করে প্রজেক্ট করতে হবে না। করতে হলে যাবতীয় ব্যবস্থা নিয়ে করতে হবে। বিকল্প ভাবনা চিন্তা করতে হবে।
ও হ্যাঁ এদের চিনতে পারলেন না। এদের আঁকা ছবি মেলায়, বড় বড় ফ্ল্যাটে থাকে। সেই ছবিও একটি দিলাম। ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। গোন্ড লোকচিত্র। সেখানেও এরা গাছপালা, প্রাণী, মানুষ, প্রকৃতি তথা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বলে।
✍️ সংগৃহীত ।।