12/05/2024
"দাবাড়ু" basically নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে এই সিনেমাটা দাবা খেলার উপর ভিত্তি করে Windows Production House পরিচালনায় এক বঙ্গসন্তান ও বাঙালির গর্ব সূর্যশেখর গাঙ্গুলীর বায়োপিক।
এক অভাবী পরিবারে জন্মানোর ডানপিটে ছেলে তার দাদুর কাছে দাবার বোর্ড দেখে কৌতূহলের বসেই দাবা খেলা শিখতে চায় আর সেখান থেকেই শুরু হয় এক নক্ষত্রের উত্থান। পাড়ায় ক্রিকেট খেলতে খেলতে যখন পাড়ার রকে দাবা খেলতে বসা দুজন বৃদ্ধের কাছে বল চলে যায় তখন এক বৃদ্ধ তাকে বলেন যে তাদের বিরক্ত না করতে,কারণ তারা বুদ্ধির খেলা দাবা খেলছেন। আর তা শুনেই ছেলের উত্তর দাবা খেলা তো খুব সহজ, তার দাদু তাকে এই খেলা খেলতে শিখিয়েছে। এটা শুনেই সেই দুজনের একজন তাকে খেলায় আমন্ত্রণ জানান এবং আশ্চর্যের বিষয় যে সেই আয়োজককারীই ওই ছোট্ট ছেলের কাছে পরপর তিনবার হেরেছেন। আর সেই যে সে একবার জিততে শুরু করল তারপর আর কখনো কেউ তাকে হারাতে পারলো না। ছেলেটি বিভিন্ন দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হতে শুরু করল আর এমনই এক প্রতিযোগিতায় ছেলেটিকে দেখে হীরে চিনতে ভুল করেননি প্রসিদ্ধ দাদা প্রশিক্ষক রথীজিৎ বাবু। শিক্ষক রথীজিৎ বাবু আর তার দাদু মিলে তাকে দাবা খেলার grandmaster হওয়ার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলো, আর তাদের সৌর র সেই স্বপ্নের গাছকে মহীরুহ হতে তাদের সঙ্গে ছিলেন সৌর র মা। ব্যাস তারপর আরও কত national আর international টুর্নামেন্ট খেলতে যায় সূর্যশেখর ওরফে সৌর। কিন্তু অভাবী সংসারে জন্মানো ছেলের ঘরে যখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তখন travel expense এর খরচাটুকু জোগানোর সামর্থ্যও তাদের ছিল না। আর সেখান থেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বুদ্ধিবলে সে সব মুশকিল আসান করতে লাগলো। একা 1 vs 16 ম্যাচে জিতে সে সকলকে চমকে দিয়ে জানান দিল তার বিস্ময়কর প্রতিভার কথা। তার প্রতিভায় অভিভূত হয়ে government তার travel expense এর দায়িত্ব নিলো আর সে ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট জিততে শুরু করলো। সে বাঙালিকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করল যে "নর্থ ক্যালকাটা রকে বসেও বিশ্বশাসন করা যায়।" কিন্তু বাড়ন্ত বয়সের success একটা সময় কনফিডেন্সকে ওভার কনফিডেন্স এ পরিণত করতে পারে আর সৌর র ক্ষেত্রেও তাই হলো। এবং এরই মাঝে রথীজিৎ বাবুর বদলে সমীরণ স্যার সৌর র কোচিং শুরু করালে তিনি সৌরকে তার সহজাত খেলা বদলাতে জোর করতে থাকেন এবং তাতে সৌর একের পর এক ম্যাচ হারতে শুরু করে,এমনকি সে প্র্যাকটিস ম্যাচেও হারতে শুরু করে। এতে সৌরর মনের মধ্যে চাপ সৃষ্টি হয় এবং তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাবের ছাপ পড়তে শুরু করে। এতে সৌর বদমেজাজী হতে থাকে আর, এরই মধ্যে তার দাদুর মৃত্যু। এই সব কিছুতে ভেঙে পড়া সৌর যখন রথীজিৎ বাবুকে সব কথা জানায়, তখন রথীজিৎ বাবু তাকে তার সহজাত খেলা অর্থাৎ যা তিনি আর সৌর র দাদু মিলে তাকে শিখিয়েছেন তা চালিয়ে যেতে বললেন। আর পুরনো চাল ভাতে বাড়ার মতোই সে তার, তার দাদুর, রথীজিৎ স্যারের, তার মা এবং বাবার স্বপ্ন পূরণ করে grandmaster খেতাব অর্জন করে। এ যেন এক রূপকথার গল্প, যাকে বর্ণনা করতে গেলে শাহরুখ খানের সিনেমা Om Shanti Om এর কালজয়ী ডায়লগ - "agar kisi cheez ko dil se chaaho to puri kayanat usey tumse milane ki koshish mein lag jaati ha" কে স্মরণ করতে হয়।
এই পুরো ২ ঘণ্টা ১১ মিনিটের সিনেমা থেকে তিনটে জিনিস খুব ভালোভাবে শেখা যায়।
আর সেই তিনটা হলো -
1. "22 tak padhrai, 25 pe naukri, 26 pe chokri, 30 pe bacche, 60 pe retirement aur phir maut ka intezaar." মধ্যবিত্তের রোজকার এই ইঁদুর-দৌড় রেসের বাইরেও যদি গোটা পরিবার মিলে একটাই স্বপ্ন দেখে এবং যে দেখছে তাকে তার লক্ষ্য পূরণের জন্য সহযোগীতা করতে থাকে তাহলে অবশ্যই একদিন তাদের স্বপ্ন বাস্তব হবে।
2. শিষ্যকে অর্জুন বানাতে হলে গুরুকেও আগে দ্রোণাচার্য হতে হবে।
3. জীবন সবসময় এক ভাবে চলে না। মাঝে মাঝে মানুষকে আরও দৃঢ় করতে,সংযত করতে জীবনে অনেক downfall আসে, distraction আসে। আর যে এই সবকিছুকে a part of life হিসেবে স্বীকার করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়, ইতিহাসের পাতায় নাম লেখে।এটাকে জীবনের পরীক্ষাও বলা যেতে পারে।
অবশেষে এই কথাটা বলে যেতেই পারে যে,এটা একটা খুব সুন্দর ফ্যামিলি মুভি এবং এটা সকল বয়সের মানুষদের দেখা অবশ্যই দরকার। এই সিনেমা দেখে দাবা খেলাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিনা, তবে এই সিনেমা থেকে একটা জীবনদর্শন সবাই পেতে পারেন এবং যা নিজেদের জীবনে কাজে লাগাতেও পারেন।
জীবনে প্রথমবার কোনো movie review লিখলাম। জানিনা কতটা ঠিকঠাক লিখেছি তাই কিছু ভুল থাকলে অবশ্যই সেটা ধরিয়ে দেবেন।
কলমে - অর্পণ চ্যাটার্জী