Nuruzzaman Moni

Nuruzzaman Moni Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Nuruzzaman Moni, Poet, Manchester.

03/08/2025

অদেষ্টের এক করুণ পরিহাস
নূরুজ্জামান মনি

এই মানুষের বাঁকানো পিঠ হবে কি আর সোজা,
দিন রাত্তির কান্ধে পিঠে বাড়ছে ঋণের বোঝা।
গাধার মতোন টানছে ঘানি নুইয়ে পাঁজর-ঘাড়,
মড়মড়িয়ে যাচ্ছে ভেঙে বুকের ক'খান হাড়।

মুগুর ওঠে মুগুর নামে এই মানুষের হাতে,
এই মানুষই রেল-সড়কের পাশে ঘুমোয় রাতে।
এরাই কুলি এরাই মেথর এরাই মজুর মুটে,
এই দুনিয়ার বোঝা কাঁধে দিনরাত্তির ছোটে।

এই মানুষের শ্রমে ঘামে ক্ষেতে ফসল ফলে,
পায় না খেতে পেটের ভেতর ক্ষিধের আগুন জ্বলে।
এই মানুষের ক্ষেতের ফসল দস্যুরা নেয় লুটে,
ভাগ্য মেনেই মলিন হাসি ঝুলিয়ে রাখে ঠোঁটে।

এই মানুষের হাতেই ঘোরে উন্নয়নের চাকা,
দিনগুলো রয় সকল সময় ঘোর আঁধারে ঢাকা।
উচ্চাসনে বসে যারা তাদের কি আর কই,
নিত্য ওরা দিচ্ছে এদের পাকনা ধানে মই।

পরিশ্রমে ভাগ্য ফেরে সত্যিই কি তাই,
তবে কেন ভাগ্যে এদের সুখের দেখা নাই?
বেতন-বোনাস পায় না এরা খাটে বারো মাস,
জীবন এদের অদেষ্টের এক করুণ পরিহাস।

২১/০৬/২৫
ম্যানচেস্টার
ইউকে

12/07/2025

রাজক্ষমতার স্বাদ
নূরুজ্জামান মনি

রাজক্ষমতায় ভাগ বসাতে বইছে জিভে জল,
বলছে ওরা আর কতদিন রাখবি দূরে বল্,
লাত্থি মেরে বন্ধ ঘরের দুয়ার খুলি চল্।

আজ দিবি কাল দিবি করে দেখাস্ কেন লোভ?
নির্বাচনের জন্য দেশে যাচ্ছে বেড়ে ক্ষোভ,
রইবো না আর অন্ধকারের গুহায় দিয়ে ডুব।

তাড়াতাড়ি দে রে তোরা নির্বাচনের ডাক,
বুভুক্ষুরা ভোটে জিতে হাতের কাছে পাক,
চুষে খেতে রস টসটস মিষ্টি মধু’র চাক।

রাজক্ষমতার চাটতে মধু তর কি অধিক সয়,
শঙ্কাভয়ে বুক দুর দুর কখন কি যে হয়,
ভাগ্যে কি আর ছিঁড়বে শিকে হচ্ছে মনে ভয়।

সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে সাধবি কেন বাধ,
বলছে, দে রে শীঘ্র পেতে রাজক্ষমতার স্বাদ,
ক্ষমতালোভী বলে শুধু দিসনে অপবাদ।

নির্বাচনে এবার হবে ফাঁকা মাঠে গোল,
যদি না হয় ফর্মুলাতে কোনো গণ্ডগোল,
নেতার মুখে দেঁতো হাসি পড়ছে গালে টোল।

বলছে,তোরা নিধিরাম ঢাল তলোয়ার নাই,
আর দেরি নয় তোদের কিন্তু লেজ গুটানো চাই,
উল্টোসিধে করলে হবে লাল দালানে ঠাঁই।

টাকার পাহাড় বানিয়ে যারা ছিল রাজার হালে,
মস্ত চোয়াল রাঘব বোয়াল আটকে গেছে জালে,
নেশায় মত্ত মউ-লোভীদের লাগলো হাওয়া পালে।

আমজনতা দাঁড়িয়ে দূরে দেখছে মজার খেল,
কাকের ভাগে পড়বে কি আর পাকলে গাছে বেল।
আশার কুপি জ্বলছে না তো ফুরিয়ে গেছে তেল।

২৬/১১/২৪
ম্যানচেস্টার
ইউকে

11/07/2025

দেশটা তোমার কই
নূরুজ্জামান মনি

রূপকুমারী রূপের রাণী
দেশটা তোমার কই,
কে গো তোমার বন্ধু-মিতে
কেইবা তোমার সই।

পরলে নাকে সোনার নোলক
তুললে হাওয়ায় ঢেউ,
রূপকুমারী আমার মতো
ডাকলো কি আর কেউ?

স্বর্গ থেকে নামলে যেন
উর্বশী অপ্সরা,
কী যে মোহন মায়ায় দিলে
এই ধরাতে ধরা।

অঙ্গ যেন রঙ্গে ভরা
সুবাস মাখা ফুল,
দেবাদিদেব মহাদেবও
করতে পারে ভুল।

ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীও
বারেক তোমায় দেখে,
ধ্যান ভেঙে চমকে উঠে
বলতে পারে, এ কে!

পথের বাউল পথ করে ভুল
পথেই যাবে থেমে,
বলবে এ কি এলো সে কি
স্বর্গ হতে নেমে।

২৫/০৪/২৪
ম্যানচেস্টার
ইউকে।

24/05/2025

বিলেত যাবে বলে
নূরুজ্জামান মনি

বিলেত যাবে বিলেত যাবে বলে,
হাবুল মিয়ার যাচ্ছে বয়স চলে।
চব্বিশে সে পাশ করেছে বি,এ,
ইচ্ছে ছিল ফেলবে করে বিয়ে।

ভাগ্যে যদি ব্রিটিশ কনে মেলে,
করবে বিয়ে পয়সা-কড়ি ঢেলে।
টেমস নদী যে দু'হাত তুলে ডাকে,
যে করে হোক যেতেই হবে তাকে।

গাঁটের টাকার শ্রাদ্ধ করে রোজ,
যায় ছুটে সে পেলেই কনের খোঁজ।
সোনার হরিণ পাত্রী কি যায় ধরা
কেবল জুতোর সুখতলা ক্ষয় করা।

ভাগ্যে বুঝি ছিঁড়বে না আর শিঁকে,
স্বপ্নগুলো যাচ্ছে হয়ে ফিকে।
বয়সটাও যাচ্ছে বেড়ে তার,
ব্রিটিশ কনে বুঝি মেলা ভার।

তবুও সে তো দেয় না ছেড়ে হাল,
আজ হয়নি হবেই হবে কাল।
এমনি করে স্বপ্ন বুনে চলে,
বুকের কোণে আশার বাতি জ্বলে।

ফুরিয়ে এলো গাঁটের সকল পুঁজি,
সোনার হরিণ রয় অধরাই বুঝি।
হাবুল মিয়া ভাবে হলো এ কি,
দিনের পথে দিন চলে যায় দেখি।

স্বপ্নটা যে স্বপ্নই রয়ে গেল,
ভাবনা এখন ভীষণ এলোমেলো।
বয়সটাও চল্লিশে ছুঁই ছুঁই,
বন্ধুরা কয়, করবি কি রে তুই।

ঐ চেয়ে দ্যাখ্ ধরলো চুলে পাক
স্বপ্নগুলো শিঁকেয় তুলে রাখ্।
হাবুল মিয়ার পড়লো মাথায় বাজ,
পথের খোঁজে নিঃস্ব ফতুর আজ।

ভাবছে বসে করলো কি যে ভুল,
দুঃখে-ক্ষোভে ছিঁড়ছে মাথার চুল।
হাবুল মিয়া হারিয়ে পথের দিশে,
ভাবছে এখন শোধরাবে সে কিসে!

ম্যানচেস্টার
ইউকে।

21/05/2025

দূর হোক কূটচাল
নূরুজ্জামান মনি

বলেছিল বদলাবে সব খোল নলচে,
আজও দেখি সবকিছু একই তালে চলছে।
বোতলে লেভেল শুধু হয়েছে বদল
বুদ্ধিমানের দেখে পিত্তিটা জ্বলছে।

থোড় বড়ি খাড়া সেই খাড়া বড়ি থোড়,
পিঁপড়েরা চেটে খায় মুনাফার গুড়।
ক্ষমতার চটচটে রসময় হাঁড়ি
টান মেরে চায় ওরা করতে উপুড়।

আর কিছু নয় শুধু ক্ষমতাই লক্ষ্য,
হানাহানি কানাকানি ডানে বামে ঐক্য।
নকুল আর অহিরূপে ছিল যারা বৈরী,
বৈরিতা ভুলে আজ তারা গড়ে সখ্য।

গেল দিন ভালো দিন আসে দিন মন্দ,
বাতাসে কেবলই ভাসে কটু দুর্গন্ধ।
দুই চোখ আছে বটে দেখবার
চাই না দেখতে কিছু হয়ে থাকি অন্ধ।

তবে কি রে গুড়েবালি হয়ে যাবে সব?
জানিই তো এই দেশে সবই সম্ভব।
নিরাশার জলে তবু ডুবে যেতে চাই না
হাতে হাতে পেতে চাই হৃত গৌরব।

দূর হোক কূটচাল সব ষড়যন্ত্র,
রেষারেষি শেষ হোক চাই গণতন্ত্র।
হাতে হাত রেখে আজ এই পণ করছি
তুলবো না কানে আর কারো কানমন্ত্র।

২৫/০৪/২৫
ম্যানচেস্টার
ইউকে

03/03/2025

তুমি যেন শিশিরকণা
নূরুজ্জামান মনি

নিত্য তুমি আমার মনে
কুসুম হয়ে ফোটো,
আমার ভোরে রাঙিয়ে আকাশ
সূর্য হয়ে ওঠো।

নিত‍্য আমার মনের মাঝে
চাঁদের কিরণ ঢালো,
তোমার হাসি মুক্তো রাশি
আমার পথের আলো।

অন্ধকারের বন্ধ দুয়ার
ভাঙবো আমি হেসে,
তোমার আপন হয়েই আমি
রইবো অবশেষে।

তোমার কথাই মনে রেখে
পাবো পথের দিশে,
তুমি যেন শিশিরকণা
একটি ধানের শিসে।

০৩/০৩/২৫
ম‍্যানচেস্টার
ইউকে

19/12/2024

আকাশে উঁচিয়ে ধরো অবলার হাত
নূরুজ্জামান মনি

পৃথিবীটা এখনো তো পুরুষের মুঠোয়,
নারীদের সম্ভ্রম পথেই লুটোয়।
কত সম্ভ্রমহীনা হবে বলো আর,
উঠছে না কেন ঝলে ঢাল তলোয়ার।
নাকছাবি খুলে ফেলো ছিঁড়ে ফেলো হার
নাগবালা শৃঙ্খল পরবে না আর।
ভাঙো ভাঙো বাজুবন্দ মুক্তির খোলো দ্বার,
অসুরের বুকে হানো বল্লম ক্ষুরধার।

কেন সব দায় তুলে নিতে হবে কাঁধে,
অকারণে কেন মন ভরাবে বিষাদে?
গেয়ে ওঠো নির্ভয়ে মুক্তির গান,
দুঃসহ রাত্রির হোক অবসান।
ঐ শোনো ডেকে যায় সোনালি প্রভাত,
আকাশে উঁচিয়ে ধরো অবলার হাত।

নর বায় হাল আর নারী ঢালে জল.
তবেই তো সেজে ওঠে এই ধরাতল।
ফুল ফোটে বলেই তো ফল গাছে ধরে,
কেন তবে ব্যবধান একে অপরে?
নারী মানে ধরণীর সৃষ্টির আদি,
নইলে এ ধরাতল হতো অনাবাদি।
কেন তবে পিঠে নেবে অবলার ছাপ?
জানোই তো অবিচার সওয়াও যে পাপ।

৩০/০৭/২৩
ম্যানচেস্টার
ইউকে

15/12/2024

আমেরিকা প্রবাসী ছড়াকার স্নেহভাজন সুফিয়ান আহমদ চৌধুরীর সম্পাদনায় ছড়া বিষয়ক অনলাইন প্রকাশনা "টাপুর টুপুর" এ আমার এই ছড়াটি ছাপা হয়েছে।ধন্যবাদ জানাই সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে

এইটাই সেই বধ্যভূমিনূরুজ্জামান মনি ওগো পথিক ওগো পথিকএকটু ধীরে যাওখানিক ফিরে চাও,এইখানে সেই বধ্যভূমিএকটুখানি থামো তুমি।শুন...
14/12/2024

এইটাই সেই বধ্যভূমি
নূরুজ্জামান মনি

ওগো পথিক ওগো পথিক
একটু ধীরে যাও
খানিক ফিরে চাও,
এইখানে সেই বধ্যভূমি
একটুখানি থামো তুমি।
শুনতে কি পাও কিছু?
ঘাড়টা করো নিচু।
এইখানে এই বেদীর তলে,
প্রতিশোধের আগুন জ্বলে।
আস্তে রাখো পা এখানে
স্মৃতির বেদীমূল যেখানে।

কালের ধুলোর স্তরে স্তরে,
স্মৃতির পলাশ শিমুল কুসুম
অশ্রু হয়ে ঘোর বিষাদে
পড়ছে ঝরে ঝরে।
দাঁড়াও পথিক দাঁড়াও তুমি
এইটাই সেই বধ্যভূমি।

স্বপ্ন যারা দেখেছিল
রাঙা একটি নতুন ভোরের,
গাইছিল গান
দু'কূল ভাঙা ছন্দ সুরের।
যুদ্ধে যারা সাহস দিতো
তাদের দেহ এইখানে,
ঠিক এইখানে এই বেদীর মূলে
সমাহিত।

একটু দাঁড়াও ওগো পথিক
শুনতে কি পাও কিছু?
ঘাড়টা করো নিচু।
তোমার পায়ের শব্দ শুনে
ঘুম যেন না ভাঙে ওদের।

দাঁড়াও পথিক দাঁড়াও তুমি
এইটাই সেই বধ্যভূমি।

১৪/১২ /২৪
ম্যানচেস্টার
ইউকে

ছবি: ইন্টারনেট

ডিসেম্বর'৭১নূরুজ্জামান মনি সেদিন ছিল ডিসেম্বরের রাত সূর্যোদয়ের তিলেকমাত্র বাকি,আকাশপারে চাঁদটা ছিল কাৎভোর জাগাতে ডাকছিল...
09/12/2024

ডিসেম্বর'৭১
নূরুজ্জামান মনি

সেদিন ছিল ডিসেম্বরের রাত
সূর্যোদয়ের তিলেকমাত্র বাকি,
আকাশপারে চাঁদটা ছিল কাৎ
ভোর জাগাতে ডাকছিল কি পাখি?

পেরিয়ে এলাম ভয়াল ক'টি মাস
কি করে যে পার হলো সব দিন,
প্রাণটা বুকে করছিল হাঁসফাঁস
স্বপ্ন ছিল ঘোর আঁধারে লীন।

ঘুম ছিল না এক ফোঁটা দুই চোখে
কখন জানি মরণ নেমে আসে,
তবুও ছিলাম স্বপ্ন ধরে বুকে
জাগবে জীবন আনন্দ-উল্লাসে।

হঠাৎ শুনি ভেঙে রাতের আঁধার
ফুটুস ফাটুস ফুটছে গুলির খৈ,
ছন্দে শুনি পদধ্বনি কার
এগিয়ে কারা আসছে ছুটে ওই।

বয়স আমার কতই হবে আর
সদ্য কিশোর, স্বপ্ন হাজার চোখে,
ভাবছি কখন খুলবে ভোরের দ্বার
মেলবো দু'চোখ নবীন আলোর সুখে।

তাকিয়ে দেখি পূবের আকাশ ছেয়ে
একদলা লাল সূর্য রক্তমুখি,
মেঘেরা সব রোদের আলোয় নেয়ে
পাতার ফাঁকে মারছে উঁকি ঝুঁকি।

খাঁচার দুয়ার আপনি গেল টুটে
আপনি তো নয়, কে টোটালো জানো?
বিচ্ছুদলের ভীষণ মারের চোটে
লেজ গুটিয়ে পালালো দেও-দানো।

সেদিন ছিল ডিসেম্বরের ভোর
জয়ের নিশান উঁচিয়ে ধরার কাল,
দুর্ভাবনার মেঘ পালালো দূর
সাগর নদী আনন্দে উত্তাল।

০৩/১২/১৯
ম্যানচেস্টার
ইউকে

Address

Manchester

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nuruzzaman Moni posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category