29/03/2026
হাজার বছর ধরে যে মিনারগুলো আকাশ ছুঁয়ে আছে..
এটি ছিল একজন সেনাপতির কল্পনা মাত্র.. যা আজ উম্মাহর বাতিঘরে পরিণত হয়েছে।
একটু কল্পনা করুন:
সাল: ৯৭০ খ্রিস্টাব্দ।
স্থান: ফাতেমীয় কায়রোর কেন্দ্রস্থলের একটি ফাঁকা জায়গা।
সেনাপতি জওহর আল-সিকিল্লী বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন, হাতে একটি শহরের মানচিত্র যা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
তিনি একটি মসজিদ নির্মাণের কথা ভাবছেন। তবে সেটা কেবল ইবাদতগাহ নয়; বরং নতুন শহরের একটি "স্পন্দনশীল হৃদপিণ্ড"। যা হবে ফাতেমীয় খেলাফতের রাজধানী "আল-কাহিরা আল-মাহরুসা" (সুরক্ষিত কায়রো)-এর কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ইবাদতের সুবাস আর জ্ঞানের আলো—উভয়ই মিলেমিশে একাকার হবে।
২৪ জমাদিউল আউয়াল, ৩৫৯ হিজরী। এদিন "জামিউল কাহিরা" (জামিউল আজহারের প্রাচীন নাম)-এর প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রতিটি পাথর স্থাপনের সাথে সাথে দোয়া করা হচ্ছিল, আল্লাহ যেন এই স্থাপনায় বরকত দেন।
সেই সময়ের মানদণ্ডে এত বড় একটি স্থাপনা নির্মাণের জন্য রেকর্ড পরিমাণ সময়, প্রায় দুই বছর তিন মাস দিনরাত কাজ চলে। দক্ষ মিশরীয় কারিগর ও বিশেষজ্ঞদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে দেয়ালগুলো গড়ে ওঠে। পাশাপাশি চমৎকার খত্বে কূফি (কুফিক লিপি)-তে সেগুলো সজ্জিত হয়।
অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি আসে।
৩৬১ হিজরির ৭ই রমজান, শুক্রবার। প্রথমবারের মতো এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। মুসল্লিরা মসজিদের উন্মুক্ত চত্বরের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে যান, যা চাঁদের আলো প্রতিফলন করছিল। সেখানে প্রথম আনুষ্ঠানিক জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সেই রাত থেকে আজ পর্যন্ত এর রুয়াকগুলোতে জ্ঞানের প্রদীপ কখনো নেভেনি, বন্ধ হয়নি কোনো তালিবুল ইলমের জন্য এর উন্মুক্ত দুয়ার ।
(রুয়াক সম্পর্কে জানতে কমেন্ট চেক করুন।)
কমেন্ট ১
রুয়াক সম্পর্কে জানুন:
https://www.facebook.com/share/18K9CF4LF4/
এভাবে অল্পদিনেই এটি ধর্মীয় ও ভাষাতাত্ত্বিক শিক্ষার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় এবং সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের জন্য "জ্ঞানের কাবা" বা কা'বাতুল ইলম হিসেবে পরিচিতি পায়।
মসজিদের নকশায় স্থপতিরা তিউনিসিয়ার কায়রওয়ান এর "জামি' উকবা বিন নাফি" এবং সুসা এর “জামি' সূসা" থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তবে তাতে মিশরীয় ফাতেমীয় শৈলীর সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। এই মসজিদ দুটির বর্তমান আকৃতি ৮ম ও ৯ম শতকে তৈরি করা হয়েছিল।
(সংযুক্ত ছবি দ্রষ্টব্য)
মসজিদের নাম “আল-আযহার" হওয়ার একাধিক কারণ উল্লেখ করা হয়। তবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মতানুসারে: "আল-আযহার" নামটি রাখা হয়েছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর কন্যা হযরত ফাতিমা আয-যাহরা (রা.)-এর সম্মানে এবং তাঁর বংশ ও জ্যোতির বরকত লাভের আশায়।
তাছাড়া লকমসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শাসকগোষ্ঠী ফাতিমীদের হযরত ফাতিমা রা. এর প্রতি অতিরিক্ত মহাব্বতও এই মতকে শক্তিশালী করে।
আল-আজহার মসজিদ এমন এক প্রাচীন ফাতেমীয় নিদর্শন যা যুগ যুগ ধরে কোনো ধ্বংসযজ্ঞ বা চরম অবহেলার শিকার হয়নি। বরং পরবর্তী প্রত্যেক সুলতান এতে নতুন মিনার বা মাদ্রাসা যুক্ত করে এর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে সম্মানিত বোধ করেছেন।
একইসাথে, শাসকের সদিচ্ছা ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত উম্মাহর কী অকল্পনীয় উপকার সাধন করে— জামিউল আযহার তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত!
(তিউনিসিয়ার কায়রওয়ান এর "জামি' উকবা বিন নাফি" এবং সুসা এর “জামি' সূসা" সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য কমেন্ট বক্সে।)
#আযহার #الأزهر #ইতিহাস