21/12/2024
আমাদের জীবনটা ছিল যান্ত্রিক, গদবাঁধা আর একঘেয়ে। সকালটা শুরু হতো এলার্ম ঘড়ির কর্কশ শব্দে। তারপরেই শুরু হতো গতির জীবন।ছোটো....ছোটো আর ছোটো। কখনো আঁধপেটা খেয়ে, কখনো-বা না খেয়েই ছুটতাম ক্যাম্পাসে। অধিকাংশ সকালটাই না খেয়ে থাকতে হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো সেরে যখন ফেরার সময় হতো, বেলা তখন পড়ে এসেছে হয়তো। পাখিদের সাথেই ফিরতাম নীড়ে। কিন্তু সান্ধ্যকালীন চায়ের পেয়ালায় টুংটাং শব্দে ব্যালকনীতে যে অবসর, তা ছিলনা আমাদের জীবনে। মধ্যবিত্ত জীবনের চিরন্তনী চক্রে, জীবনের তাগিদে ছুটতে হতো টিউশন-এ। আমাদের জীবনটাও এর ব্যতিক্রমী ছিলনা...
যান্ত্রিক গদবাঁধা আর একঘেয়ে।
শখের ভেতর ছিল গান। নিজের জগতে, নিজের সেই গানগুলো যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পীকেও হার মানাত একলা পথে হাটতে হাটতে...শহরের শেষের সেই নির্জন রাস্তায়। আর ছিল অবান্তর কিছু কবিতা।
ক্যাম্পাসে অনেকে অনেক কথাই বলতো। সহপাঠীদের কল্যাণে তা কানে আসতেও নিতান্ত কোন বাঁধা পেত না সেই সময় গুলোতে। কেউ বলত 'শান্তি নিকেতনী', কেউবা 'রোবোটিক'; আর জনা কয়েক আদর করে ডাকত 'বিচ্ছু' বলে। অনুভূতিগুলো ছিল নির্বিকার, তাই ঢেউ উঠত না সেই সামান্য স্রোতের।
দিনের শেষে এই 'আমরা' গুলোই যখন 'আমি' তে পরিণতি পেতলতো, তখন ওই কথাটাকেই ধ্রুব সত্যি বলে মনে হতো,
"দিনের শেষে সবাই একা।"
একলা জীবনে তাই বুঝি গতি হারাচ্ছিলাম। অর্থহীন সেই জীবনে হয়তো মরে যাচ্ছিল আত্মাটা।
যান্ত্রিক, গদবাঁধা আর একঘেয়ে-সেই জীবনে।
(অসমাপ্ত অণু-আত্মকথা)