Ovro Tushar: Ink & Imagination

Ovro Tushar: Ink & Imagination Ovro Tushar: part-time writer, full-time dreamer.

04/01/2025

তোমাদের প্রথম দেখেছিলাম
এক বিধবা জননীর শেষকৃত্যে,
মানুষের আজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নাকি
তোমরা আকাশে ওড়ো।
সত্যি নাকি?
দুই চোখ তখন সুস্থির
হয়ত জল কালি ফেলেছে তখন চোখে।
মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখছি
পুড়ে যাচ্ছে আমার প্রিয়জন-
আর কী উল্লাস তখন তোমাদের!
আচ্ছা আগুন-মাছি,
ধোঁয়ার রুট ধরে
তোমরা কি স্বর্গে উড়ে চলো?
তোমাদের সেই স্বর্গে কি
ঈশ্বর নামের কেউ থাকে?
থাকলে তাকে বোলো-
স্বর্গ চাইনে আমি
পারলে আমার কষ্টের দাম দিও।
*****************
আগুন মাছি

21/12/2024

আমাদের জীবনটা ছিল যান্ত্রিক, গদবাঁধা আর একঘেয়ে। সকালটা শুরু হতো এলার্ম ঘড়ির কর্কশ শব্দে। তারপরেই শুরু হতো গতির জীবন।ছোটো....ছোটো আর ছোটো। কখনো আঁধপেটা খেয়ে, কখনো-বা না খেয়েই ছুটতাম ক্যাম্পাসে। অধিকাংশ সকালটাই না খেয়ে থাকতে হতো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো সেরে যখন ফেরার সময় হতো, বেলা তখন পড়ে এসেছে হয়তো। পাখিদের সাথেই ফিরতাম নীড়ে। কিন্তু সান্ধ্যকালীন চায়ের পেয়ালায় টুংটাং শব্দে ব্যালকনীতে যে অবসর, তা ছিলনা আমাদের জীবনে। মধ্যবিত্ত জীবনের চিরন্তনী চক্রে, জীবনের তাগিদে ছুটতে হতো টিউশন-এ। আমাদের জীবনটাও এর ব্যতিক্রমী ছিলনা...
যান্ত্রিক গদবাঁধা আর একঘেয়ে।

শখের ভেতর ছিল গান। নিজের জগতে, নিজের সেই গানগুলো যেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিল্পীকেও হার মানাত একলা পথে হাটতে হাটতে...শহরের শেষের সেই নির্জন রাস্তায়। আর ছিল অবান্তর কিছু কবিতা।

ক্যাম্পাসে অনেকে অনেক কথাই বলতো। সহপাঠীদের কল্যাণে তা কানে আসতেও নিতান্ত কোন বাঁধা পেত না সেই সময় গুলোতে। কেউ বলত 'শান্তি নিকেতনী', কেউবা 'রোবোটিক'; আর জনা কয়েক আদর করে ডাকত 'বিচ্ছু' বলে। অনুভূতিগুলো ছিল নির্বিকার, তাই ঢেউ উঠত না সেই সামান্য স্রোতের।

দিনের শেষে এই 'আমরা' গুলোই যখন 'আমি' তে পরিণতি পেতলতো, তখন ওই কথাটাকেই ধ্রুব সত্যি বলে মনে হতো,

"দিনের শেষে সবাই একা।"

একলা জীবনে তাই বুঝি গতি হারাচ্ছিলাম। অর্থহীন সেই জীবনে হয়তো মরে যাচ্ছিল আত্মাটা।

যান্ত্রিক, গদবাঁধা আর একঘেয়ে-সেই জীবনে।

(অসমাপ্ত অণু-আত্মকথা)

09/12/2024

বেজবাবা সুমন-এর 'অন্বেষণ গানটা শুনলেই আমার ২০০৯-১০ সালের কথা মনে পড়ে যায় ভীষণ। জীবন তখন সহজ ছিল অনেক। ছিল সাঁধের সেন্ট জোসেফ'স স্কুল, বাড়ির উঠোনে ক্রিকেট-ব্যাডমিন্টন খেলা আর এমন ডিসেম্বরের কোনো এক বিকেলে শেষ হয়ে যাওয়া ফাইনাল পরীক্ষায় একটা ভালো রেজাল্ট করা, এইতো।

13/11/2024

কাল সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠেই অদ্ভুত দৃশ্যটা চোখে পড়লো অভির। মাথা থেকে চুল ঝরে পড়তেই জ্যান্ত হয়ে যাচ্ছে সেগুলো।

#অণুগল্পঃ 'চুল'

10/11/2024

ওর নরম গলায় চকচকে ধারালো ছুরিটা সজোরে চালিয়ে দেয়ার ঠিক আগ মুহুর্তে মেয়েটা চোখে রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে অস্ফুটভাবে একটা শব্দই বলেছিল শুধু,..."বাবা???!!!"
কিন্তু এ ছাড়া আমার আর যে কোনো উপায়ও ছিল না; নাহলে,গত ছ'মাস ধরে গুপ্ত কুঠুরির ফ্রিজে রাখা ঊনিশটা মাথার উপর বড্ড অবিচার করা হয়ে যেত যে।
#ফ্লাসস্টোরিঃ'নেশা'

10/11/2024

নিভৃত রাস্তাটা দিয়ে হেটে যাবার সময় যখন
দিগন্ত বিস্তৃত মুক্ত আকাশটার দিকে তাকাই,
তখন মনে হয়-
এই সময়টা আসলে আমার নয়,
না আমি এই সময়ের-
যেন আমি সময়ের পরিব্রাজক এক;
আমি অতীতকে আঁকি তুলিতে,
ভবিষ্যৎ-কে ছুঁই কালিতে
আর বর্তমানকে দেখি দু' চোখ ভরে।
আর তারপর তুলি-কালি মিশে হয় একাকার,
চেনা বর্তমান মাথা নত করে অতীতের পায়ে,
ভবিষ্যৎ ঘুমায় বর্তমানের কোলে-
আর আমি বাষ্পরথে চেপে মহাকাব্য লিখি তখন..
ডাইমেনশন থেকে ডাইমেনশনে ছুটে-
খুঁজে পাইনা তল,
না, সময়ের না..আমার নিজের।
নিঃশব্দ চিৎকারে তখন বলি,
"না আমি অতীত, না বর্তমান.. না ভবিষ্যৎ-এর"
আমিই সেই নির্বোধ শিশু
যে অনন্তকাল ধরে হামা দিয়ে চলেছে
এই মহাবিশ্বের পথে।

09/11/2024

"এখনো যখন মধ্যরাতে তীব্র এমোনিয়ার গন্ধ এসে নাকে ঠোকর বসায়,তখন মনে পড়ে যায়...ওরা সেদিন আমায় এই এঁদো নালাটার পাশে এলোপাথাড়িভাবে পুতে রেখে পালিয়েছিল।"

#ফ্লাসস্টোরিঃ 'বেওয়ারিশ'

26/10/2024

একটা মেয়ে ছিল
অপরিচিতা সে,
করিডোরে আমার শত স্তব্ধতার
সুতো ধরে টান দিয়ে
নিমেষে পালিয়ে যেত।
বিমূঢ় আমি ভাবতাম
কেন এমনটা করে অপরিচিতা?
ভালবাসে?
স্নেহলীলা?
নাকি নেহাত সময় বয়ে আনে
এই ভাললাগার ছেলেমানুষি?
কিন্তু ও তো সত্যি সত্যিই
আমার অপরিচিতা নয়-
হাসিমুখ আর ভরাটচোখে যে আমি
বহুবার দেখেছি নিজেকে।
তবে?
তবেটা নাহয় পড়েই থাক রিসাইকেলবিনে
আর বেঁচে থাক
আমার করিডোর সুন্দরী।
*****************
কবিতাঃ করিডোর সুন্দরী

20/10/2024

সাত সকালে পড়তে বসেছি। প্রকৃতি তার সলীল শীতল হাত ক্ষণে ক্ষণে বুলিয়ে দিচ্ছে বাতাসে। ফ্লুরোসেন্ট বাতির আলো এখনো মিলিয়ে যায়নি। আর সেই সাথে দূর থেকে ভেসে আসা রবীন্দ্রসংগীতের সুর যেন অন্য এক জগতের মায়া নিয়ে এসেছে, আচ্ছন্ন করেছে টুটপাড়ার ঠাকুরবাড়ি।

মা গাইতে পারে না এখন আর, তাই মোবাইলটাই যা ভরসা। ঠাকুমা থাকতে সাত সকালে রেওয়াজ করাও বালাই ছিল এক। কালক্রমে ঠাকুমা এবং হারমোনিয়াম যন্ত্রের অন্তর্ধানে ব্যাপারটা এখন নীল কষ্টের মতোই প্রতিভাত হয় মাঝে মাঝে মনে। তবে যান্ত্রিক হোক বা প্রকৃত, এমন একটা সকালের জন্য যে বছরের আর ৩৬৪টা দিনকে বাতিলের খাতায় তুলে দেওয়া যায় অবলীলায়। মা'কে ধন্যবাদ তার অবচেতনেই এমন একটা সকাল উপহার দেওয়ার জন্য, আমার ঘুম ভেঙেছে। ☺

#স্মৃতিতে: আজ, অক্টোবর'১৯

19/10/2024

লেজারবৃষ্টি শুরু হতে আর বেশি একটা দেরী নেই। নিভৃত এই শীতল প্রকোষ্ঠে আমার সাথে আমার সহযোদ্ধারা বসে আছে সব। না, ওরা ঠিক যোদ্ধা নয়, তবে আমার ভাবতে ইচ্ছে করছে এমনটা।

কারো শরীর থেকে ভেসে আসছে একটা মিষ্টি সুগন্ধির সুবাস। আর সেই সাথে কানে বাজতে থাকা 'Cradled in love' যেন আমায় এনে দিচ্ছে পিকনিক করতে যাবার অনুভূতি। এই গানটা আমার প্রিয় এক পূর্বসূরি বুড়োর খুব পছন্দ ছিল। আমার ২৩তম জন্মদিনে শুনতে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিল বুড়োটা।

সবাই খুব হাসছে আজ। আমি আমার জীবনের শেষ গানটা শুনছি হয়তো এখন। আচ্ছা, সুখী এই মানুষগুলো কি জানে যে কালকের সকালটা আর হবেনা?

#অণুগল্পঃ 'অপেক্ষা'

Adresse

Cottbus
03046

Benachrichtigungen

Lassen Sie sich von uns eine E-Mail senden und seien Sie der erste der Neuigkeiten und Aktionen von Ovro Tushar: Ink & Imagination erfährt. Ihre E-Mail-Adresse wird nicht für andere Zwecke verwendet und Sie können sich jederzeit abmelden.

Teilen

Kategorie