09/07/2026
বিগত ২৪ ঘণ্টায় মোটামুটি যা বুঝলাম!
১. লিওনেল মেসি পৃথিবীর সবথেকে বড় মাফিয়া এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল টিম তার মাফিয়া গ্যাং! এরা এসকোবারের ঠাকুর্দা! এরা ফিফা, আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজি, nato, ব্রিকস ইত্যাদিকে পকেটে রাখে।
২. ২০২৬ বিশ্বকাপে একমাত্র আর্জেন্টিনার ম্যাচ ছাড়া অন্যান্য কোন ম্যাচেই রেফারিং নিয়ে বিশেষ কোন বিতর্ক নেই, থাকলেও সেগুলো চোখের ভুল, আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু আর্জেন্টিনা ম্যাচের ডিসিশন গুলো মাফিয়া মেসির কারসাজি!
৩. মোটামুটি ২০০২ সাল অব্দি বিশ্ব ফুটবল ছিল পবিত্রতার নজির, তারপর ২০০২ থেকে ২০১৮ অব্দি কিঞ্চিৎ অপবিত্র, তবুও বিশুদ্ধতার উপর প্রশ্ন তোলা যায় না! কিন্তু ২০২২ সালের পর থেকেই ফুটবলে চলে মাফিয়ারাজ, ক্রণি ক্যাপিটালিজমের স্বর্গরাজ্য, তার মূল কিং পিন সেই.... মাফিয়া মেসি! এর মাঝে দু বার ফুটবল আবার অপবিত্র হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য, ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬! পুনরায় ১৯৯৪ তে ফুটবল আবার পবিত্রতা ফিরে পায় এবং দেবশিশুরা মাঠে বিচরণ করতে শুরু করে!
৪. ফুটবল ইতিহাসের বইতে বিতর্কের চ্যাপ্টারে শুধু একটিই গল্প আছে, hand of God ১৯৮৬ এবং holy water ১৯৯০! বাকি বিতর্ক গুলো কেউ বা কারা ছিঁড়ে ফেলে গপগপিয়ে গিলে খেয়েছে!
এটাই মোদ্দা কথা, বুইলেন কিনা!
কিন্তু মুশকিল হল যুগ ভালো নয়! কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরোয়! কিভাবে বেরোয়?
শেষ পবিত্রতম বিশ্বকাপ ২০০২ এ, রাউন্ড অফ ১৬ এ বেলজিয়াম ম্যাচ, বিপক্ষে দেবশিশুরা। বেলজিয়াম প্রথম গোল করলো, এগিয়ে গেল, কিন্তু তারপরেই গোল বাতিল হল, কেন? বেলজিয়ামের মার্ক উইলমত, দেবশিশু একাদশের গোল কিপার কে ফাউল করেছিলেন নাকি! সমস্ত টিভি রিপ্লে তে কমেন্টেটররা বললেন, গোল বাতিল সঠিক সিদ্ধান্ত নয়! যাই হোক, দেবশিশুরা পবিত্রতার নজির সৃষ্টি করে ২-০ এ ম্যাচ জিতলেন!
আবার ঐ বিশ্বকাপেই, গ্রুপ স্টেজের ম্যাচ, দেবশিশু একাদশ বনাম তুর্কি! দেবশিশু একাদশের লুইসাও কে পেনাল্টি বক্সের বাইরে ফাউল করা হলেও, একটি ছোট্ট পেনাল্টি কিক উপহার দেওয়া হল এবং ওনারা ২-১ এ জিতলেন!
উপরিউক্ত নজির ছাড়াও, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, এই বিশ্বকাপ গুলিতেও এরকম বেশ কিছু নজির আছে। সব কিছু গপগপিয়ে গিলে খাওয়া যায় নি! ওহ, এর মধ্যে একটা উল্লেখ না করলেই নয়, ১৯৬২ র সেমি ফাইনালে চিলের বিরুদ্ধে দেবশিশুরা সত্যিই দারুন খেলে জেতে। ম্যাচের শেষের দিকে চিলিয়ান ফরোয়ার্ড এর সঙ্গে মারামারি হয় গারিঞ্চার, রেফারি সোজা রেড কার্ড দেখায় দুজনকে। সেই সময়ে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী রেড কার্ড মানেই পরের ম্যাচে নামতে পারবে না, এমনটা ছিল না। ফিফা এক্ষেত্রে রেফারির বয়ান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিত। কিন্তু ফাইনালের আগেই, সেমিফাইনাল ম্যাচের রেফারি হঠাৎ বিশ্বকাপ ছেড়ে, হাওয়া হয়ে যান কোন ব্যক্তিগত কাজে! অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির বয়ান অনুযায়ী পরের ম্যাচে অর্থাৎ ফাইনালে গারিঞ্চা কে খেলতে দেয় ফিফা। সেই সময় পেলে চোট পেয়ে বিশ্বকাপের বাইরে, গারিঞ্চা তুখোড় ফর্মে, অনেক কাগজেও লেখালেখি হয়, সেই সময় পৃথিবীর দুজন সেরা ফুটবলারের মধ্যে একজন পেলে, আরেকজন গারিঞ্চা! দুজনের একজনও যদি ফাইনালে না থাকে, ফাইনালের জৌলুস অনেক কমে যাবে, তাই হয়তো এই সিদ্ধান্ত এবং আমার মতে খুব স্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত!
আচ্ছা, এতো গেল এক দেবশিশু দলের কথা! এবার আরেক দেবশিশু দলের কিছু কথা বলি! ১৯৯০ বিশ্বকাপ, ফাইনাল ম্যাচ, মুখোমুখি ইউরোপিয়ান দেবশিশু একাদশ বনাম মাফিয়া মারাদোনার দেশ! ০-০ চলছে। প্রচন্ড হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! হঠাৎ ইউরোপিয়ান দেবশিশু দের একটি পেনাল্টি কিক উপহার দেওয়া হয়! মোটামুটি একটু ঘাঁটাঘাঁটি করুন, দেখবেন সেই পেনাল্টি কিক টি আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবথেকে বিতর্কিত পেনাল্টি! ম্যাচের পর ম্যারাডোনা প্রেস কনফারেন্সে কি বলেছিলেন, সেটা পারলে শুনবেন!
আবার এই বিশ্বকাপেই, আরেকটি হিলারিয়াস ঘটনা আছে। সেটার একটি গালভরা নামও আছে, হোলী ওয়াটার কেলেঙ্কারি! বাপ্রে! কি ব্যাপার? মাফিয়া ম্যারাডোনার টীম খেলছে লাতিন দেবশিশু একাদশের বিরুদ্ধে। ৩৯ মিনিটের মাথায় মাফিয়াদের টীমের একজন চোট আঘাত পায়, খেলা অল্প কিছুক্ষণ বন্ধ, এক লাতিন দেবশিশু ব্রানকো, কি কুক্ষণে মাফিয়াদের টীমের কারোর থেকে জল চায়! ব্যাস, জল খাওয়ার পরই নাকি তার মাথা ঝিমঝিম, গা ড্রিম ড্রিম করতে শুরু করে! কিন্তু অজ্ঞাত কারণে, নাকি সে তার কোচ কে সেটা বলে না, দেবশিশু কোচও তাকে বদলে অন্য প্লেয়ার নামায় না এবং সে মাঠে থাকা সত্ত্বেও হঠাৎই একটি উটকো প্লেয়ার মারাদোনা একটি অনবদ্য থ্রু বারায় আরেক উটকো প্লেয়ার ক্যানিজিয়া কে, গোল! দেবশিশু একাদশ হেরে যায়! এ পাপ ধম্মে সয়!
আচ্ছা, শেষ একটা, এটা আসলে নিজের চোখে দেখা কিনা! ২০১৪ র বিশ্বকাপ ফাইনাল! ইউরোপিয়ান দেবশিশু একাদশ বনাম মাফিয়া মেসির টীম। মাফিয়া মেসির পেঁচি স্ট্রাইকার হিগুইনকে দেবাধিদেব মানুয়েল নয়ার বক্সের বাইরে ফাউল করেন, পুরো স্ট্রাইকিং পজিশন থেকেই, কিন্তু রেফারি এখানে দেবাদিদেব কে লাল কার্ড না দেখিয়ে, তার টিম কে একটি ফ্রী কিক উপহার দেন! আবার ঐ ম্যাচেই ফার্স্ট হাফে, আবার হিগুইন কে বক্সের মধ্যে উইদাউট বল, ট্যাকল ফ্রম বিহাইন্ড করে এক ইউরোপিয়ান দেবশিশু, বেনেডিক্ট! পেনাল্টি তো দূর, রেফারি ফিরেও তাকায় নি! পোস্ট ম্যাচ অ্যানালিসিসএ সমস্ত প্রাক্তনরা বলেন, সেটা অবশ্যই পেনাল্টি অফেন্স ছিল! মাফিয়া মেসি হেরে গেল, বিশ্বকাপের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল! ভালো লাগলো না বেশ!
এরপর মাফিয়া মেসি কে মাসী বলে ডাকা হত বঙ্গীয় ফুটবল ফ্যানদের দ্বারা! ২০১৬ র কোপার পর কান্নাভেজা চোখ দেখে আমাদের এত হাসি পেল, কি আর বলবো! মজা হয়েছিল তো!
তারপর ২০২২, জঘন্য শুরু থেকে হাতে বিশ্বকাপ!
এখন ২০২৬, মাফিয়ার বয়স ৩৯! মাফিয়ার কাছে এখন পৃথিবীর সব রেকর্ড আছে! মাফিয়া মেসি ছুটছে এখনও প্রতি ম্যাচে! ২৩-২৪ বছরের এম্বাপে আর হালান্ড এর সাথে সমানে টক্কর দিচ্ছে মাফিয়া মেসি! এই বিশ্বকাপে ৮ টা গোল, মোট ২০ টা! মাফিয়া মেসি ২-০ এ হারতে হারতেও ৫ মিনিটে খেলা ঘুড়িয়ে দিচ্ছে, ৭৯ মিনিটের ২-০ ম্যাচ, ৯২ মিনিটে শেষ হচ্ছে ৩-২ তে! দেখেছেন জীবনে এসব!
ছাড়েন! মাফিয়া মেসি আছে এখনও মাঠে! আর কতক্ষন আছে জানিনা, তবে যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ সারা দুনিয়াকে যেটা দেখিয়ে যাবে, সেটাকে একটা শব্দে "ম্যাজিক" বলে! ম্যাজিক দেখুন, পারলে কূটকচালি ছেড়ে উপভোগ করুন, না পারলে খেউর করুন! কিন্তু তবুও এই ৩৯ এর বুড়ো মাফিয়া মেসি কে দেখুন, এ জিনিস আর দেখতে পাবেন না, এর আগেও কোনোদিন কেউ দেখতে পায়নি!
নমস্কার।
Collected 🙏