রংচা

Call Contact the establishment

রংচা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from রংচা, Cultural Center, লাইফ লাইন, Tangail.

বড়ভাইয়ার মৃত্যুর এক-বছর পর বিধবা ভাবির সঙ্গে মেজো ভাইয়ার বিয়ে ঠিক হলো। কিন্তু ভাবি রাজি হচ্ছে না। ভাবির মা-বাবা ও আমার ব...
23/08/2026

বড়ভাইয়ার মৃত্যুর এক-বছর পর বিধবা ভাবির সঙ্গে মেজো ভাইয়ার বিয়ে ঠিক হলো। কিন্তু ভাবি রাজি হচ্ছে না।
ভাবির মা-বাবা ও আমার বাবা মা সবাই রাজি। আত্মীয় স্বজনরা বাকি যারা ছিলেন তাদের মধ্যেও কারো আপত্তি নেই। সবাই বলে বিয়ে হলে খুব ভালো হবে। আপত্তি করার কি আছে?

শুধু আপত্তি করলেন ভাবি একা।
ঘরভর্তি মানুষের মধ্যে বসে ভাবি সবাইকে বললেন তিনি মেজো ভাইয়াকে বিয়ে করতে পারবেন না। বিয়ে যদি করতেই হয় তাহলে তিনি আমাকে বিয়ে করবেন। আর নাহলে ভাবি তার বাপের বাড়ি গিয়ে এভাবেই একা একা সারাজীবন কাটিয়ে দিবেন।

আমরা তিনভাই। বড়ো ভাই মৃত রাজিব মুন্সি, মেজো ভাই নিলয় মুন্সি ও আমি রিশাত মুন্সি।
মেজো ভাইয়াও আগে বিয়ে করেছিলেন। সাত মাস আগে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মেজো ভাবি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। মেজো ভাবির মৃত্যুর পর তার সন্তানের সম্পুর্ণ দায়িত্ব বড়ভাবি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।
দেখতে দেখতে সাত মাস পার হয়েছে। বড়ভাবিই এখনো মেজো ভাইয়ের সন্তানকে দেখাশোনা করছিলেন। একদিকে বড়ভাইয়া নেই, অপরদিকে নেই মেজো ভাবি। মাঝখানে সাত মাসের বাচ্চা দুর্জয়।

যেহেতু দুজনেই পূর্বে বিবাহিত এবং প্রত্যেকের সঙ্গী পৃথিবীতে নেই। তাই মা-বাবা সবাই চাচ্ছিলেন তাদের দু'জনের বিয়ে দিবেন। এতে একসঙ্গে সংসারও করবে আবার দুর্জয়ের মায়ের অভাবটা পুরণ হবে।
কিন্তু ভাবির সোজা কথা তিনি আমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবেন না।
ভাবিকে সবাই মিলে বোঝাতে শুরু করেন। তাকে বলা হয় আমি এখনো পড়াশোনা করছি। কিছুদিন পরই মাস্টার্স পরীক্ষা দেবো। তাছাড়া বয়সে ভাবি আমার চেয়ে কয়েক মাসের বড়ো। সবমিলিয়ে আমার সঙ্গে ভাবির বিয়ে প্রায় অসম্ভব।

ভাবি তখন সবার সামনে আমাকে জিজ্ঞেস করে বললেন, রিশাত আমাকে বিয়ে করতে তোমার আপত্তি আছে? যদিও নতুন বিয়ে করে সংসার করার বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছে আমার নাই। যেহেতু সবাই চাচ্ছেন তাই আমি তোমাকে বিয়ে করার ইচ্ছে জানালাম। তুমি যদি রাজি থাকো তাহলে সবার সামনে বলো। আর যদি রাজি না হও তাহলেও সমস্যা নেই, আমি আমার মা-বাবার কাছে চলে যাবো।

ভাবির কথার পরে সবাই আমার দিকে তাকায়। আমি কোন পক্ষে কথা বলবো নিজেই বুঝতে পারছিলাম না। আমতাআমতা করতে করতে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম, মা-বাবা রাজি হলে তোমাকে বিয়ে করতে আমারও আপত্তি নেই।
ব্যাস, আর রক্ষা হয় না।
ফুফু চিৎকার দিয়ে বলে, নির্লজ্জ পোলা। নিজের চেয়ে বয়সে বড়ো ভাবিরে বিয়ে করতে চাস ক্যান? তোরে কি বিধবা বিয়ে করার লাইগা শহরের মইদ্যে পড়াশোনা করতে পাঠাইছে?

ভাবি বললেন, ফুফু ওকে বকাবকি কইরেন না। এটা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করারও দরকার নাই। আমি আর রিশাত তো রাজি আছি। আপনারা যদি চান তাহলে বিয়ে দিয়েন। আর নাহলে যেভাবে সবকিছু আছে সেভাবেই থাকুক। তবে আমার খাওয়া দাওয়া নিয়ে সমস্যা হলে আমি সংসারের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাপের বাড়ি যেতে পারবো।

ঘটনা এই পর্যন্তই রইল। মেজো ভাই তো আমারে দেখলেই এমন ভাব করে আমি তার চরম শত্রু। যেই বাড়িটা ছিল ভালোবাসায় ভরপুর, সেই বাড়িটাই এমন হয়ে গেল যে প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারো সঙ্গে কথা বলা হচ্ছিল না।
আমি থাকতাম খুলনায় ম্যাসে। বাড়ি থেকে এমন পরিস্থিতিতে যেদিন খুলনা যাচ্ছি সেদিন ভাবি আমার কাছে এসে বলেছিলেন,
❝ এই বাড়িতে মনে হয় বেশিদিন থাকতে পারবো না। যদি চলে যাই তাহলে রাগারাগি কইরো না। ❞

আমি বলেছিলাম, কেন চলে যাবেন?
ভাবি বললেন, স্বেচ্ছায় যা পাওয়া গেল না তার জন্য জোরাজুরি হবার সম্ভবনা আছে। যদি কখনো কলঙ্কের দাগ লাগে তাহলে সবাই ভুল বুঝলেও তুমি ভুল বুইঝো না।

“ ভাবি আমি তোমার কথার আগামাথা কিছু বুঝতে পারছি না। কি হয়েছে খুলে বলো প্লিজ। ”
“ দরকার নাই। তুমি তো জানো তোমাদের চেয়ে আমার বাবার সম্পত্তি কোনো অংশে কম নাই। তবুও কেন এখানে আছি? কারণ সংসারটা আমার। তোমার ভাই যদি বেঁচে থাকত তাহলে কি চলে যেতাম? কিন্তু এখন যা শুরু হয়েছে তার শেষ কীভাবে হবে আমি জানি। দুর্জয়ের জন্য খারাপ লাগে। আল্লাহ আছেন তিনি হয়তো দেখবেন।

ভাবি আর কিছু বলেন নাই। একবার যেটা বলবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন সেটা আর তাকে দিয়ে বলানো অসম্ভব। একরাশ চিন্তা নিয়ে আমি খুলনায় গেলাম। এরপর বাড়ি ফিরলাম আটদিন পর।
দুপুরের খাবার খেয়ে ম্যাসে নিজের বিছানায় শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ ভাবির ফোন। কল রিসিভ করতেই ভাবি বলেন এক্ষুনি বাড়িতে আসো।

কেন, কি কারণে, কিছুই জানি না। মা-বাবার সঙ্গে বলে কোনো লাভ কবে না এটা জানতাম। কাজেই কাউকে কিছু না বলে বাড়ি রওনা দিলাম। সন্ধ্যার বেশ পরে বাড়িতে পৌছলাম। মা আমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন কারণ গতকালই তাকে বলেছিলাম সামনে পরীক্ষা, পরীক্ষা শেষ হবার আগে আর বাড়ি যাওয়া সম্ভব না।

রাতে খাওয়া দাওয়া করে নিজের ঘরে গেলাম। যেহেতু ডিসেম্বর মাস তাই গ্রামে কনকনে ঠান্ডা। ভাবি এসে আমার বিছানা ভালো করে ঠিক করে দিয়ে গেলেন। আমি কানে ইয়ারফুন গুঁজে মুভি দেখছিলাম। মেজো ভাই তখনও বাজার থেকে বাড়ি ফেরেনি। বাজারে আমার বাবার নিজ হাতে তৈরি বিরাট মুদিখানা দোকান আছে। আগে বড়ভাই ও মেজো ভাই বাবার সাথে দোকানে বসতেন। এখন বাবার সাথে মেজো ভাই বসেন।
প্রতিদিন দোকান শেষ করে বাড়ি ফিরতে মেজো ভাইয়ের এগারোটা পার হয়ে যায়। বাবা এশার নামাজ পড়ে আর দোকানে বসেন না। মসজিদ থেকে বের হয়ে সোজা বাড়িতে আসেন৷ রাত দশটার মধ্যে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়া বাবার দীর্ঘদিনের পুরাতন অভ্যাস। আজও তার ব্যাতিক্রম নয়।

আমার ঘরের দরজা খোলা ছিল। ভাবি তখন বলে গিয়েছিলেন দরজা যেন বন্ধ না করি। হঠাৎ দেখলাম ভাবি রুমে আসলেন। খাটের কাছে এসে আমার দিকে একটা প্যাকেট এগিয়ে দিলেন। একবার দরজার দিকে তাকিয়ে আবার আমার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আস্তে আস্তে বললেন,
“ এগুলো তোমার কাছে রাখো৷ দরজা বন্ধ করার দরকার নাই। দুর্জয় আর বাড়ির সবাই ঘুমালে আমি তোমার ঘরে আসবো। জরুরি কথা আছে। ঘুমিয়ে যাও সমস্যা নেই কিন্তু দরজা বন্ধ করো না। ”

ভাবি চলে যাবার পর আমি কৌতূহল মেটাতে তার দিয়ে যাওয়া প্যাকেটটা হাতের সামনে নিলাম। প্যাকেটটা ফার্মেসির কারণ প্যাকেটের উপর আমাদের বাজারের ফার্মেসির নাম লেখা।
ভিতরে কি আছে সেটা দেখার জন্য সেগুলো হাতে নিলাম। আর সঙ্গে সঙ্গে আমার চোখ কপালে উঠে যাবার মতো অবস্থা।
দেখলাম সেখানে, এক প্যাকেট ক-ন-ড-ম ও একটা স্প্রে জাতীয় মেডিসিন। স্প্রে এর প্যাকেটের উপরের লেখা পড়ে বুঝতে পারলাম এটা মানুষের নাকের কাছে দিলে সেই মানুষটা কমপক্ষে দুই ঘন্টা অজ্ঞান থাকবে৷
কিন্তু এসব ভাবি আমার কাছে কেন দিয়ে গেল এটা কোনোভাবে মাথায় ঢুকছিল না।
ভাবনায় এতটাই ডুবে ছিলাম যে কখন মেজো ভাই ঘরে এসেছেন আমি বুঝতেই পারিনি।

“ কিরে কাউকে কিছু না জানিয়ে হঠাৎ বাড়িতে আসলি যে? কোনো সমস্যা হয়েছে? ”

মেজো ভাইয়ের প্রশ্ন শুনে চমকে উঠলাম। তাকিয়ে দেখি ভাইয়া আমার হাতে রাখা প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তাড়াতাড়ি সেগুলো কম্বলের ভেতর ঢুকিয়ে বললাম,
“ দুর্জয়কে দেখতে মন চাচ্ছিল। ”
“ ওহ্হ। দরজা খোলা রেখেছিস কেন? উঠে দরজা বন্ধ করে তারপর ঘুমা। ”
“ ঠিক আছে। ”

আমি ভাইয়ার পিছনে পিছনে দরজার কাছে এলাম ঠিকই কিন্তু দরজা বন্ধ করলাম না। যেহেতু ভাবি দরজা বন্ধ করতে নিষেধ করেছেন তাই দরজা খুলে রাখতে হবে। তাছাড়া সেবার বাড়ি থেকে যাবার সময় ভাবির রহস্যজনক কথাবার্তা, আবার আজকে হঠাৎ কল দিয়ে জরুরিভাবে আসতে বলা, এখন এই প্যাকেটের বিভিন্ন জিনিসপত্র। সবমিলিয়ে আমার কৌতূহল আকাশচুম্বী।

প্যাকেটটা বালিশের সাইডে রেখে আমি শুয়ে পড়লাম। শীতের রাতে কম্বলের নিচে গেলে ঘুম আসতে সময় লাগে না। তাছাড়া বরাবরই আমি রাত বারোটার মধ্যে ঘুমাতাম। মোবাইল হাতেই ছিল। ভাবি তার ঘর থেকে মেসেজ দিলেন।
লিখলেন,
“ প্যাকেটে কি আছে দেখেছো? ”
“ হুম। ”
“ কেন দিয়েছি জানো? ”
“ নাহ। ”
“ তুমি কি জানো তোমার মেজো ভাবি কীভাবে মারা গেছে? সরি কীভাবে তাকে খুন করা হয়েছে? ”

ভাবির মেসেজ পড়ে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। সবাই জানি মেজো ভাবি দুর্জয়কে জন্ম দিয়ে সিজারের পরদিন পৃথিবী থেকে চলে গেছেন৷ কিন্তু বড় ভাবি হঠাৎ মৃত্যুকে খুন কেন বললেন?
আমার রিপ্লাই না পেয়ে ভাবি লিখলেন,
“ দুর্জয় ঘুমালে আমি এসে সব বলবো তোমাকে। আমরা দুজন মিলে আজ একজনকে হাতেনাতে ধরবো। তোমার দরজা খোলা আছে তো? ”
“ হ্যাঁ খোলা। কোলা রাখার দরকার ছিল না। তুমি আসার সময় কল দিলেই হতো। ”
“ না হতো না। তুমি একবার ঘুমালে তোমাকে আর হাজারবার কল দিয়েও পাওয়া যায় না। ”
“ মেজো ভাবি কি সত্যি খুন হয়েছে? ”
“ হ্যাঁ তাকে খুন করা হয়েছে। ধৈর্য হারিও না রিশাত। যে কথা অনেক আগে সবাইকে বলা দরকার ছিল সেটা তোমাকে অন্তত আজ বলবো। ”
“ ঠিক আছে কখন আসবে? ”

ভাবি আর মেসেজ সিন করেন নাই। আমি তিনটা মেসেজ করি কিন্তু উত্তর নাই।
কখন ঘুমিয়েছি জানি না। হঠাৎ কিছু একটার শব্দ শুনে জেগে উঠি৷ চারিদিকে তাকিয়ে দেখি সব অন্ধকার। কিন্তু আমার মুখের উপর মশারী। হঠাৎ কি মনে করে বালিশের সাইডে প্যাকেট চেক করতে গেলাম।
কিন্তু আশ্চর্য, প্যাকেট কোথাও নাই। মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে ভালো করে খুঁজে দেখলাম কিন্তু কোথাও প্যাকেট পেলাম না।
আমি তাড়াতাড়ি ভাবির নাম্বারে কল দিলাম। নাম্বারে কল গেল ঠিকই তবে রিসিভ হলো না। পরপর চারবার কল দিলাম নো রেসপন্স। আমার কেমন সন্দেহ হচ্ছিল। ভাবি সম্পুর্ণ আমার বিপরীত। তাকে যত রাতেই কল দেই সে রিসিভ করে। হালকা মেসেজের শব্দেও তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

আমি তাড়াতাড়ি বাতি জ্বালিয়ে ভাবির ঘরের সামনে যাই। দরজায় হাত রাখতেই দরজা খুলে গেল। আমি মোবাইল বাতি অন করেই ভিতরে গেলাম। বিছানার কাছে গিয়ে ভাবি ভাবি বলে ডাকলাম কোনো শব্দ নেই। বাহিরে বিড়াল ডাকার শব্দ। গভীর রাতে বাগানে শিশির পরার শব্দও যেন ভয়ংকর।
ভাবির মুখে আলো দিলাম। কয়েকবার ডাকলাম। কোনো সাড়াশব্দ নেই। হঠাৎ পিছনে দরজায় শব্দ শুনে চমকে উঠি। তাকিয়ে দেখি মা দাঁড়িয়ে আছে। মা আমাকে দেখে অবাক হয়ে বলেন,

“ তুই এখানে কি করছিস? ”

বললাম,
“ ভাবিকে একটু ডাকো তো। আমার কেমন যেন লাগছে। তুমি একটু ভাবির মাথায় হাত দিয়ে জোরে ডাক দাও। ”

মা আশ্চর্য হলেন। আমার কথামতো বউমা বউমা বলে ডাকতে লাগলেন। কিন্তু ভাবির কোনো রেসপন্স নেই। ভাবি আর উঠলেন না। পাশের বাড়ির ডাক্তার চাচাকে ডাকা হলো। তিনি এসে ভাবিকে মৃত ঘোষণা দিলেন। আমি পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে ভাবির দিকে তাকিয়ে রইলাম।
ভাবি এভাবে হঠাৎ মরে গেল নাকি তাকে কেউ মেরে ফেলেছে? জানি না আমি। কিচ্ছু জানি না।
দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা আছে। পেইজেই পাবেন।
চলবে…

গল্প- #পারসোনাল_নোটিফিকেশন
পর্ব- এক (০১)
লেখা- রংচা

22/08/2026

২য় স্ত্রীকে নিয়ে বের হয়ছি শাড়ি কিনতে।কারন একজন রিলেটিভের বিয়ে,তাই শপিং করতে আসছে।একটা শপিংমলে ঢুকলাম দেখলাম স্ট্রাফ হলো আমার প্রাত্তন স্ত্রী মহুয়া।
তাকে দেখে চোখে চোখ রাখতে পারলাম না,কারন আমার জীবনের সবথেকে বেশী অন্যায় তার সাথে করছি।২য় স্ত্রী আমাকে বলল,আচ্ছা আপনি এত ভালো তাহলে আপনার ১ম বউ আপনাকে কেন ছেড়ে গেছে?২য় বউকে শপিং করতে বলে অতীতে ফিরে গেলাম।

অতীত~
পরিবারের পছন্দে বিয়ে হয়ছে আমার আর মহুয়ার।আমি প্রবাসী,২বছর পর পর আসি দেশে।আমাদের ৭বছরের সংসার ছিলো,কিন্তু আমার দোষে আজ সব শেষ।আমার মা ছিলো পরিবারের প্রধান,বাবার কথার কোনো দাম নাই।আমিও মা ভক্ত ছেলে,মাকে অন্ধ বিশ্বাস করতাম এটা আমার জীবনের বড় ভুল।

বিয়ের পর থেকে আমার বউয়ের আর সংসারের সব দায়িত্ব মার হাতে।আমি শুধু টাকা দিতাম আর কিছু না।আমার বউ নতুন পরিবেশে লজ্জায় খেতে পারতো না।আমাকে শুকনা খাবার আনতে বললে আনতাম না।শেষে কনসিভ করার পর যখন অনাহার তখন আনতাম কিছু।তাকে বলতাম আমার ভাবি,আর মা দেখলে মনখারাপ করবে আমি আর আনতে পারবোনা।

তারপর আমি প্রবাসে চলে গেলাম,বউকে ৩হাজার টাকা দিলাম লুকিয়ে সেটাও আমার ভাবি আমার মাকে বলে দিছে।রাতে বউ ঘুমিয়ে গেলে আমার মা চুরি করে টাকা নিয়ে নিছে।আমি তাদের বলতে বারন করছি তাই মিথ্যে বলছে এটা নিয়ে অপমান করছে।

আমার বউ আমাকে বললে আমি কানেও নিতাম না।তারপর থেকে শুরু মার অত্যাচার,সব খাবারে, বাজারে তালা মেরে রাখতো।রান্নার জন্য অল্প বের করে দিতো,কতবার বের করে দেয়নি রান্না করেনি।আমাকে বললে,আমি বকা দিতাম তাকে কারন মা ফেরেশতা।আমার বউকে চুরির অপবাদ দিছে,ঘরে কিছু হারালে দোষ বউয়ের কারন সে গরিবের মেয়ে।

আমার বাচচা হওয়ার পর একরুমে থাকতে বারন করছে আমার মা।আমিও মার ভয়ে আলাদা রুমে থাকতাম,বউ জোর করলেও আসতাম না।রাতে বাবু কান্না করলে আমার মা বউকে গালি দিতো,মাছ খাইছে তাই পেটব্যথায় কান্না করতেছে।আমিও সকালে গালাগালি করতাম,এত খাই খাই করে কেন বাবু কান্না করে।অথচ আমি বা আমার মা কেউ উকি দিয়েও দেখতাম না সে কেমনে বাচচা সামলায়।

আমার চরিত্রও খারাপ হয়ে গেছে,বউকে সবসময় আমার ভাবির ফিগার নিয়ে কথা বলতাম।শুধু ভাবি না সব মেয়েদের নিয়ে বলতাম তাকে বডিশেমিং করতাম।

সে রাগারাগি করলে কথা বলা অফ করে দিতাম,তার কিছু লাগবে বললে বলতাম আমার মাকে বলতে।আমি শুধু টাকা দিবো,আমার মা আনবে সব।কারন মা ভাববে,বউয়ের গোলাম হয়ে গেছি।

পিল থেকে শুরু করে সবকিছু আমার মা এনে দিতো।ইদে জামাও আমার মা এনে দিতো।আমার মা হিসেবি,কিন্তু বউয়ের চাহিদা বেশী।

বউ সুন্দর তাই মা বয়ষ্কদের শাড়ি,জামা আনতো কিন্তু আমার বউ পছন্দ করতো না।আমি তাকে গালি দিতাম,কল করা বন্ধ করে দিতাম।

আমার মা তালা মেরে রাখতো এটা তার সহ্য হতোনা,সে বলতো আমি কি চোর আসছি?তার যেমন সংসার আমারও সেম তাহলে তালা কেন মারবে?কোনো কথা বউকে বলতাম না,সবকিছু মার সাথে শেয়ার করতাম।মার পরামর্শে সব করতাম,মানে আমার সংসার থেকে সব আমার মার হাতে।বউয়ের কাজ বাচচা সামলানো,বাচচা নেওয়া,রান্না করা,আমার চাহিদা মেটানো।

উঠতে বসতে গালাগালি করতাম,কথায় কথায় যোগাযোগ বন্ধ করে দিতাম,যৌতুকের জন্য টর্চার করতাম,বাইরের মেয়ে নিয়ে তাকে মানসিক টর্চার করতাম,অবহেলা,অপমান তো আছে।

মানুষের সামনে তাকে অপমান করে আলাদা শান্তি পেতাম।কারন আমার মার থেকে যেন সংসার কেড়ে না নেয় তাই নিজেকে বীরপুরুষ মনে করতাম অপমান করে।সে এটা সহ্য করতে পারতোনা,বলতো আমাকে যা বলার রুমে বলো।পরিবারের সামনে নিচু কেন করো?তোমার জন্য পরিবারের কাছে দাম নাই আমার।

আমি এতটা অন্ধ হয়ে গেছি ভাবির প্রতি,ভাইয়ের পরিবারের প্রতি নিজের বউ বাচচা আছে ভুলে গেলাম।আমার মা সব করতো আমি শুধু টাকা দিলে হতো,তাই আর কি টেনশন?আর গরিবের মেয়ে এত লাই দিলে হয় নাকি?

সে আমাকে বলতো,তোমার মা ভালো না কিপটা।আমাকে কিছু কিনে দেয়না,বলে বাচচার মা ঢং করতে হবেনা আর।বউয়ের বয়স ২২ সে চাইতো বাকি মেয়েদের মত সবকিছু কিনতে।

সে বলতো,আমি বাপেরবাড়ি গেলে আমাকে কিছু টাকা দাও?আমি বলতাম আমার মা শুনলে গালি দিবে।অথচ আমি পাঠালে কেউ দেখতোনা কারন আমি প্রবাসী।একবার তাকে টাকা দিলাম,সে ৩টা জামা কিনছে।আমার মা শুনে ঘরে আগুন তুলছে।তাকে এত অপমান করছে কারন সে বলছে তার বাবা কিনে দিছে মার ভয়ে।তাই আমিও তাকে টাকা দেয়না।

তাকে নিয়ে আমি কোথাও ঘুরতে যেতাম না,তাকে বলতাম তুই খারাপ তাই নিয়ে যায়না।আমি একা ঘুরতাম তাকপ বাপেরবাড়ি পাঠিয়ে দিতাম।তাকে সহ্য হতোনা,সে না থাকলে আমার ভাইয়ের পরিবার নিয়ে সময় কাটাতাম।

শেষে আর না পেরে তার মা বাবাকে বলছে সে সুইসাইড করবে।কারন আমি তাকে অত্যাচার করি,আমার মাও করে,আমি রুমে থাকি না।তাকে সবাই অপমান করে,তাই সে সংসার করবেনা।

আমার মা তাকে অনেক খারাপ গালাগালি করছে।আমার সব টাকা আমার মার হাতে,কারন বউ বাপেরবাড়ি পাঠাই দিবে।কাকে কি দিলে আমার মা দেয় বাট বউয়ের বাপেরবাড়ি কিছু দেয়না।

আমার বউ বলে,ছেড়া জামা পড়ে বাবুকেও নাকি তেমন পড়ায়।অথচ মা বলে,তাদের জামা কিনে দেয়।আমার বউকে বিশ্বাস করিনা আমি,আমার মা আমাকে সব বলে সে কি করে?এমন মেয়ের সাথে সংসার করতে মন চাই নাকি?যে আমার ভাইয়ের বউ বাচচার প্রতি হিংসা করে,আমার মাকে হিংসা করে।

আমার ভাইয়ের ছেলেমেয়ে যা চাই আমি সাথে সাথে দিয়ে ফেলি কারন তারা বড় হয়ে আমাকে দেখবে।বাট বউয়ের পিছনে কেন খরচ করবো?কি লাভ হবে আমার?আমার বউ বলে,বাবুর জন্য সেভিংস করতে।আমি দিছি গালি,কেমন হিংসুটে?আমার মা ভাতিজা ৩জনকে ডিপিএস করে দিছে তাই সে হিংসা করতেছে।আমার ভাই আলাদা হলেও তার বাচচাকে আমি না দেখলে কে দেখবে।সবথেকে বড়কথা ভাবির প্রতি আলাদা টান আমার।

এমন অনেক কাহিনি হয়ছে,শেষমেষ সে সংসার করবেনা।কারন আমি দেশে আসলে তাকে বাপেরবাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে পরিবার নিয়ে থাকি না হয় একা ট্যুরে যায়।

তারপর ডিভোর্স হয়ে গেলো,সে সুইসাইড করবে তাও আমার সংসারে আসবেনা।আমিও না করিনি কারন টাকা থাকলে কত বউ আসবে।আমার বাবা বলে,বউ হলো পায়ের জুতা।কত আসবে যাবে,বাট মাকে ফেলা যাবেনা।সাহাবারা যেমন নবীকে মানতো তেমন আমি আমার মাকে মানতাম।

তো ৩বছর আমি বিয়ে করি,এতদিনে বুঝলাম কি হারাইছি।তাই এইবার ভাবলাম,এই বউকে এমন করবোনা।একজন দায়িত্ববান স্বামী হয়ে যাবো।তাকে ভালবাসি,কেয়ার করি,সম্মান করি,ঘুরতে নিয়ে যায়,সারপ্রাইজ দি,মাসে মাসে জামা জুতা কিনে দি,হাতখরচ দি।মানে দায়িত্বের শেষ নাই একজন আদর্শবান স্বামী হয়ে গেছি।আমার মা আমার বউ সকালে দেরিতে ঘুম থেকে উঠে এটা নিয়ে কথা শুনায়ছে তাই তার সাথে কথা বলিনা।আলাদা হয়ে গেছি যেন বউকে কেউ কিছু বলতে না পারে।ভাবির দিকে নজর দেওয়ার টাইম নাই,কারন এটাও চলে গেলে।

আমার মা এখন আফসোস করে,আমার ২য়বউ আমাকে হাত করে ফেলছে।আমি কেন তার কথামত চলি,কেন খরচ করি।তাদের কথা মানলে এটাও ডিভোর্স দিতে হবে,যা আমি চাইনা।

আমার ২য় বউ আমাকে সবসময় বলে,আমার ১মবউ কেন চলে গেছে এতসুখ পায়ে ঠেলে?সে তো অনেক ভাগ্যবতী ছিলো,আমার মত একজন আদর্শবান স্বামী পাইছে।কি কারনে ছেড়ে গেছে?তাকে তো আমার দোষগুলো বলতে পারিনা।

আমি শুধরে নিয়েছি বলে আজ তার কাছে সেরা হাজবেন্ড।আমার ১ম বউয়ের জন্য মন পুড়ে,সহ্য করলে কি হতো?কেন ডিভোর্স নিছে?ইস তার বেলায় সব জানলে আজ এইদিন দেখতে হতোনা।

আমার ২য়বউ কেনাকাটায় ব্যস্ত,প্রাত্তন স্ত্রী তাকে সব কালেকশন দেখাচ্ছে।আমার ১ম বউ আমাকে চিনলেও ২য় বউ তাকে চিনেনা কারন ছবি দেখায়নি তাকে।

আমার চোখের কোনে আসা পানি আড়ালে মুছে,শাড়ির টাকা দিয়ে বের হয়ে আসলাম।ভালো থাকুক সে,এটাই আমার চাওয়া।আমি তো সুখ দিতে পারিনি,কোনো দায়িত্ববান পুরুষের বউ হোক সে।

সমাপ্ত!!!

#রংচা

20/08/2026

আমার বিয়েতে সবচেয়ে বেশি আপত্তি যার ছিল তিনি আমার ভাবী। অবশ্য আপত্তি হবে নাই বা কেন নিজে একজন ডাক্তার হয়ে বিয়ে করেছে জেনারেল লাইনে পড়া আমার ভাইকে। যখন দেখলো আমার বর হ্যান্ডসাম, ভালো স্টুডেন্ট ,বাইরে পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে তখন তো তার একটু আতে ঘা লাগবে বৈকি । আসলে এই দুনিয়াতে কেউ কারো ভালো দেখতে পারে না। এমন কোন কাজ নেই যে সে আমার বিয়ে ভাঙার জন্য করেনি। ভাইয়া প্রথম থেকে রাজি ছিল না এটা সত্যি কিন্তু পরে আমি আর মা মিলে কনভিন্স করে ফেলেছিলাম কিন্তু তারপর ভাইয়াকে আবার কি না কি বলেছ ওই কালনাগিনী ভাইয়া আবার বেঁকে বসলো। শেষে আমার জেদের কাছে হার মানতে হয়েছে। তবে বলে দিয়েছে যদি এর ফল ভালো না হয় তাহলে তারা আমার দায়িত্ব নেবে না , আমার তাতে বয়েই গেল। আমার মা খুব ভালো করে জানতো, ওই মহিলা মানে তার একমাত্র পুত্রবধূ যদি আমার বিয়েতে উপস্থিত থাকে তাহলে কোন না কোন ভাবে আমার বিয়েটা ভেঙে দেবে তাই কড়া নির্দেশ দিয়ে তাকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আর আমার ভাই হচ্ছে বউয়ের আঁচল ধরা মানুষ সেও বিয়েতে উপস্থিত ছিল না। তার বউ বাচ্চা যেখানে নিমন্ত্রিত না সেও নাকি সেখানে থাকবে না। যতসব ফালতু সেন্টিমেন্ট।

ডাক্তার মহাশয়া নিজেকে অত্যন্ত মহাজ্ঞানী পন্ডিত মনে করে। সে ভাবে তার চেয়ে জ্ঞানীগুণী মানুষ এই দুনিয়াতে নেই কিন্তু আমি মনে মনে যেই ছক করতে পারি সে খাতা কলমেও তা করতে পারবে না। আমি দেখতে ভালো না, তবুও এই হ্যান্ডসাম ছেলেটা আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। এটাই আমার ভাবীর পছন্দ না।

অবশ্য আরো দুই একটা ছোটখাটো ব্যাপার আছে। সে নিজে আমার জন্য একটা বিয়ের প্রস্তাব এনেছিল। লোকটার বয়স প্রায় ৩৫ এর কাছাকাছি। একটা মেয়ে বাচ্চা আছে, সে দেশের বাইরে থাকে। নির্ঝঞ্ঝাট সংসার , শাশুড়ি ননদ নেই তার মতে। মানে দাঁড়াচ্ছে আমরা মা মেয়ে মিলে তাকে অনেক জ্বালাই যাইহোক ওই সংসারে নাকি আমাকে পাঠাবে। কত বড় ধৃষ্টতা, আমাকে নাকি বিয়ে দিবে একটা বিপত্নীক পুরুষের কাছে। আসলে কূটনীটা সফল হতে পারেনি তাই আমার প্রতি এত জেলাস।

অবশ্য আমার হবু শাশুড়ি ননদ যে খুব একটা রাজি তাও কিন্তু না। ওই যে বললাম আমি দেখতে তেমন একটা ভালো না যদিও সবাই বলে আল্লাহর সৃষ্টি সবই সুন্দর তারপরেও আমি কালো মোটা বেঁটে । তাই বলে কি আমার ভেতরের সৌন্দর্যটা দেখবে না? তবে ছেলের কাছে তারা হার মেনেছে। আর ঐ ছেলেকে কিভাবে হাতে রাখতে হয় সেটা তো আমি ভালো করেই জানি। ইমো আইডিতে পরিচয় হয়, তারপর যা হবার তাই হলো। সে আমাকে কি ব্ল্যাকমেইল করবে ,আমিই করেছি। এখন সে চাইলেও আমাকে ছেড়ে যেতে পারবে না।
আর তাছাড়া দুই একটা ছোটখাটো ব্যাপার তো গোপন করতেই হয়।
যেমন ছেলের চেয়ে আমি বয়সে চার বছরের বড় সেটা গোপন করে গেছি কারণ আমার ডিগ্রী পরীক্ষার সার্টিফিকেট দেখে বোঝার উপায় নেই । স্কুলে ভর্তি হয়েছি দেরি করে দুই একটা ক্লাসে ফেলও করেছি। আমি এসবের তোয়াক্কা করি না, ছেলে না জানলেই হলো।
আর হ্যাঁ ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় আমার ওভারির কোন একটা সমস্যা হয়েছিল পরে নাকি সেটা জরায়ুতেও চলে গিয়েছিল, কি করে সেসব জানিনা। মেজর একটা অপারেশন হয়েছিল, জরায়ু ফেলে দিতে হয়েছিল সেটা গোপন করে গেছি। আর আমার ভাবীর আপত্তিটা এখানেই। তার কথা হচ্ছে যদি ছেলে তোমায় সত্যি ভালোবাসে তাহলে তাকে সবটা বলে তারপরে বিয়ে করা উচিত। আচ্ছা কোন ছেলে এসব শুনলে বিয়ে করবে? তার মানে আমার বিয়েটা ভাঙার ধান্দা ছাড়া আর কিছুই না। বিয়ের পর নিশ্চয়ই আমায় ফেলে দিতে পারবে না। তাছাড়া আমার কাছে যে জিনিস আছে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য কি করে ফেলবে?

বিয়েটা আমার ভালই ভালই হয়ে গেছে। বিয়ের রাতেই রাতুলকে থেকে যেতে বললাম সেও সঙ্গে সঙ্গে রাজি। রাতুল মানে যে আমার হবু বর ছিল এখন আমার বর। মিষ্টি মধুর দিন কাটতে লাগলো। এরই মধ্যে আমার ভাবী আবার বাড়িতে ফিরে এসেছে। আমাকে ওরা শ্বশুর বাড়িতে তুলে নেয় নি। রাতুল বাইরে থেকে পড়াশোনা শেষ করে এলে তারপর রিসিপশন হবে । এখনো ওরা ওদের আত্মীয়-স্বজন কাউকে ঠিকমতো জানায়নি। রাতুল অবশ্য আসা-যাওয়া করে। আমার ওই কালনাগিনী ভাবী যখন বাড়িতে থাকে তখন রাতুল এলে ভালোই যত্ন করে ,এটা সেটা এগিয়ে দেয়, খাবার রান্না করে, নাস্তা গুছিয়ে দেয়, ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে যদিও আমার এটা একেবারে পছন্দ না, সুন্দরী মেয়ে দেখলে যে কোন ছেলের মাথা ঘুরে যেতেই পারে। সে যে তার সৌন্দর্য দিয়ে আমার জামাইকে কুপোকাত করতে চাইছে সেটা আমি ভালই বুঝতে পেরেছি। উপরে উপরে বড় বোনের মত ভাব দেখালেও চোখ দেখলেই বুঝতে পারি কি চাচ্ছে সে।
এরপর থেকে রাতুল বাড়িতে এলে সে যেন ওর সামনে না আসে তা খুব কড়া ভাষায় আমি বলে দিয়েছি ।প্রথমে ডাইনিটা অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল পরে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে দিল আর আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

রাতুল বাইরে পড়াশোনা করতে যাবে সেই জন্য বেশ কিছু টাকা-পয়সার প্রয়োজন, আমি জানি ওরা মধ্যবিত্ত। তাই ভাইয়াকে গিয়ে বলবো বলে ঠিক করলাম, ওদের তো আর আয় রোজগারের শেষ নেই। ডাক্তার বউ রাতের পর রাত নাইট ডিউটি করে । কাড়ি কাড়ি টাকা কামাচ্ছে অবশ্য ডিউটি করে না কি করে কে জানে? মেয়ে মানুষ রাতের বেলা বাড়ির বাইরে থাকছে আবার মুখে বড় বড় সতিত্বের কথা, ডাক্তার হয়ে যেন মাথা কিনে নিয়েছে।

ভাইয়া তখন ল্যাপটপে কি যেন একটা কাজ করছিল আর ডাইনিটা স্বামীর জন্য কফি বানাতে ব্যস্ত। আমি মুখে না বললে কোনদিন আমাকে বানিয়ে দেয় না অথচ আমার ভাই শ্বাস না ফেলতেই সবকিছু মুখের সামনে এসে হাজির। শুধু বিয়ে করে স্বামীর খেদমত করলেই হয় না পুরো শশুর বাড়ির খেদমত করতে হয়। এইটা বোধহয় এই মেয়েকে তার বাপ মা শিক্ষা দেয় নি। আমি ভাইয়াকে কথাটা বলতেই যাবো এমন সময় আমার শাশুড়ির ফোন। অসহ্য লাগে এই মহিলাকে আমার। কারণে অকারনে ফোন করবে।
বিরক্ত লাগলেও ফোনটা রিসিভ করলাম,
ওপাশ থেকে আমার আমার ননদের কন্ঠ , যে কিনা ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স না কি একটা সাবজেক্টে যেন পড়ে। সেও নিজেকে বিরাট জ্ঞানী মনে করে। বিয়ের দিন এসেছিল, আমার হাতে মেহেদি পরিয়ে দিতে চাইলে আমি সরাসরি না করে দিয়েছি। মেহেদি দিলে তো আমি পার্লার থেকেই দিয়ে আসতে পারতাম । অনারম্ভরভাবে বিয়ে হচ্ছে তাহলে মেহেদী পরে কি হবে? তাছাড়াও মেয়েটা কথাও বলে ফটফট। কত বড় সাহস আমাকে বলে কিনা তার চা করে দিতে মানে আমি যে মেয়ে কখনো গ্লাসে পানি ভরে খাই না সে তার জন্য চা করে দিবে কারণ তার মাথা ব্যথা করছে। কয়েকবার সে আমাকে চা করে খাইয়েছে বলে, এখন নাকি আমাকেও করতে হবে মগের মুল্লুক পেয়েছে, তাও আমারই বাড়িতে। আর এই বাড়িতে এত ঘন ঘন আসার কারণ তো বুঝি না বাপু। যাই হোক ফোন রিসিভ করে খুব বিরক্তির সরে বললাম ,
-কি হয়েছে ঐশী? কেন ফোন করেছ ?
-এভাবে কথা বলছ কেন ভাবী ,তোমাকে ফোন করতে কারণ লাগবে ? এমনি গল্প করার জন্য ফোন দিয়েছি।
-আমি ব্যস্ত থাকি, যখন তখন আমাকে ফোন করবে না
মেয়ে যেন আকাশ থেকে পরলো তুমি আবার এত কিসের ব্যস্ত ! তুমি তো আর এখন মাস্টার্স করছো না তাছাড়াও চাকরি বাকরিও করছো না এমনকি চাকরি-বাকরি করার চেষ্টাও করছো না।
-শুনো ঐশী, এখন থেকে আমার সাথে সাবধানে কথা বলবে
-তুমি এমন ব্যবহার করো কেন আমার সাথে ভাবী
-আমি ভালোভাবেই কথা বলছি হয়তো তোমার ফোনের স্পিকার নষ্ট
-আচ্ছা ভাবী আমি রাখি, ওইপাশ থেকে একটা দীর্ঘশ্বাস শুনলাম
আমার বয়েই গেছে ওর দীর্ঘশ্বাসের জন্য আমি যেন এখন আহাজারি শুরু করবো।

-কিরে কিছু বলবি ?
-ভাইয়া জানোই তো রাতুল বাইরে যাবে পড়াশোনা করতে
ভাইয়া মুখ না তুলেই বলল হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লো
-তো আমার বিয়েতে তো কোন খরচ টরচ করনি এবার তো কিছু দিতে হয় তাই না ?
কফি নিয়ে ঘরে ঢুকলো সেই সম্রাজ্ঞী ,ঢুকেই বলে বসলো
-হ্যাঁ তোমার বিয়েতে কোন ধুমধাম হয়নি সবকিছু ঠিক আছে কিন্তু আমার যত গয়না আছে সবই কিন্তু মা তোমাকে দিয়ে দিয়েছে
-কি বলতে চাচ্ছ ভাবী, মায়ের গয়নায় মেয়ের অধিকার থাকবে না?
-ওগুলো তোমার মায়ের গয়না না ওগুলো আমার বাবার বাড়ি থেকে দেয়া। মা শুধু আমাকে একটা পাতলা চেইন দিয়েছিলেন। তবুও আমি একটি শব্দ উচ্চারণ করিনি। আচ্ছা এসবে আমি না ঢুকি, দেখো তোমার ভাইয়া যা বলে ।
-ভাইয়া শোনো ওর অনেকগুলো টাকা প্রয়োজন আর ও একবার বিদেশে সেটেল হয়ে যেতে পারলে আমাকেও তো নিয়ে যাবে তাই না ?
-শোন ঋতু তোর বিয়েতে আমার কোন মত ছিল না আর এই বিয়েটা আমার ভালো লাগছে না। আমি এখন কোন প্রকার টাকা পয়সা দিবো না, সত্যি কথা বলতে কি আমার কাছে সেই পরিমাণ ক্যাশ নেই আর থাকলেও আমি দেয়ার আগে বেশ কয়েকবার ভাবতাম তবে রাতুল যখন তোকে নিয়ে যাবে তখন যা খরচ লাগে আমি দিবো কথা দিচ্ছি তোকে।
-তার মানে তোমরা কোন সাহায্য করবে না! রাতুলের সামনে আমি কি করে চেহারা দেখাবো ?
-তুই এখন ঘর থেকে যা

মায়ের কাছে গেলাম গিয়ে কেঁদে কেটে কেটে একাকার করে দিলাম।
-মা তুই চিন্তা করিস না, তোর বাবার গ্রামের বাড়ির সমস্ত সম্পত্তি আমার নামে। আমি বিক্রি করে দিলেও কেউ আমায় কিছু বলতে পারবে না, তোর চাচাদের সাথে কথা বলছি , কান্না করিস না মা।
-কিন্তু ভাইয়া যদি কিছু বলে ?
-ওইটা আমার নামে আর আমার সম্পত্তি আমি আমার মেয়েকে দিব সেখানে কে কি ভাবল তা আমার বিবেচনা করার বিষয় না
-ভাবী কোন না কোনভাবে বাগরা দিবে, দেখো
-ছাড় তো পরের বাড়ির মেয়ে, ঐসব আমি দেখে নিব ।

সত্যিই মা তেলেসমতি কান্ড করে দেখালেন। ভাইয়া ভাবী কেউ কোন কথা বললো না। কি জানি কি করে মুখে স্কচটেপ আটকে রেখেছিল। গ্রামের শুধু ভিটেমাটি ছাড়া বাকি যে সম্পদ আছে সবটা বিক্রি করে রাতুলকে দেয়া হলো। সেই রাতটা ছিল আমার জন্য স্বপ্নময় বর্ণিল একটা রাত। তবে আমি ইচ্ছে করেই দু এক রাত রাতুলকে দূরে সরিয়ে রেখেছি বলেছি, "আমার পি*রি*য়*ড হয়েছে।" না হলে হয়তো সে ব্যাপারটা ধরে ফেলবে। তবুও ইন্টিমেট সময়ে অনেক সময় উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে বসে, আমিও উল্টাপাল্টা জবাব দিই।

ইতোমধ্যে ভাবীর পোস্টিং হলো ঢাকায়। কাকে কাকে ধরে, কিসের বিনিময় বা কয় রাতের বিনিময়ে ঢাকায় গেছে কে জানে, ঢাকায় যাওয়া কি এত সহজ? উদ্দেশ্য জামাইয়ের কাছাকাছি থাকা, ভাইয়ার চাকরিটা তো ঢাকাতেই। সাপ্তাহিক ছুটি তে এখানে আসতো। এখন সারাক্ষণ আমার ভাইয়ের সাথে থাকবে আর গিলে খাবে আমার ভাইটার মাথাটা।

এদিকে রাতুলের যাবার দিন ঘনিয়ে আসছে। আমার কেমন উদাস উদাস লাগে। মনটা গোধূলির আকাশের মত ভারী হয়ে থাকে সবসময়। এক সময় রাতুল চলেও গেল।

এখন যেহেতু ভাবী ঢাকায় চলে গেছে তাই আমার ভাই এখানে আসার আর প্রয়োজন বোধ করে না। মাস শেষে অবশ্য টাকা পাঠালো। টাকা পেয়ে মায়ের চোখ তো চড়ক গাছ, মাত্র ২০ হাজার টাকা! আমরা ভাড়া বাড়িতে থাকি। এটা কি ভুল করে পাঠিয়েছে? মা তখনই ভাইয়াকে ফোন দিল
-তুই মাত্র ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিস, এই টাকায় কি হবে?
-আমার ফ্যামিলি এখন এইখানে, বাচ্চাটাকে এখানকার স্কুলে ভর্তি করাতে হয়েছে। কাজেই আমার খরচ বেড়ে গেছে আর তাছাড়া এখন তোমার একার জন্য বিশ হাজার টাকা আমি মনে করি যথেষ্ট। ছেলের এ ধরনের কথায় মা চমকে উঠলেন ।
-আমার একার জন্য মানে! তোর বোনের কি হবে ?
-তার জন্য তার স্বামী আছে
-সে তো আর ইনকাম করে না, সে পড়াশোনা করতে গেছে ,
আসল কথা হচ্ছে জায়গা জমি কিছুই তোকে না দিয়ে সব ওকে দিয়েছি এটাই তোর বউয়ের সমস্যা।
-হ্যাঁ মা সমস্যা তো বটেই তবে আমার বউয়ের না, আমার নিজেরই । তুমি যদি আমাকে বঞ্চিত করতে পারো তাহলে আমিও তো আমার ফ্যামিলির ফিউচার টা দেখবো তাই না? তবে তুমি দোষ আমাকে দিতে পারবে না যে আমি তোমাকে ফেলে দিয়েছি। একটা মানুষের চলার জন্য বিশ হাজার টাকা যথেষ্ট ।
-বাসা ভাড়াই তো ১২ হাজার টাকা চলে যায়
-গ্রামের বাড়িতে ভিটা মাটি আছে সেখানে চলে যেতে পারো মা আমি রাখি। প্রতি মাসে এর বেশি আমি আর দিতে পারবো না ।
মায়ের মুখ গম্ভীর হলো আসলেই আমাদের তখন গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। সবকিছু হয়েছে ওই অসভ্য মেয়েটার জন্য নিশ্চয়ই সারাক্ষণ আমার ভাইয়ের কানে কান মন্ত্রণা দিয়েই যাচ্ছে।

গ্রামের বাড়িতে আসার পরে আমার এডজাস্ট করতে খুব সমস্যা হচ্ছিল যদিও এখান থেকে এসএসসি পাস করার পরেই আমি শহরে গিয়েছিলাম তবুও গ্রাম তো গ্রামই। এখানে কি থাকা যায়? রাতুলকে বলতে হবে দ্রুত যেন আমাকে নিয়ে যায় কিন্তু কি করে বলবো ও ইদানিং খুব ব্যস্ত থাকে আমাকে একেবারে সময় দিতে পারেনা, দুই তিন দিন পর পর এক দুই বার চ্যাটিং হয়।

হঠাৎ এক রাতে মা কেমন অস্থির বোধ করলেন সমানে ঘামতে লাগলেন কিছু বুঝে উঠার আগেই হার্ট এটাকে মা চলে গেলেন।
পরের দিন টা পুরো বাড়ি গমগম করছিল। আমার ভাই ওই বেয়াদবটাকে সাথে করে নিয়ে এসেছে যাকে আমার মা একদম দেখতে পারত না বলাই বাহুল্য আমিও পারিনা। কি দেমাগ , দেমাগের চোটে মাটিতে পা পরে না। একবার আমার বিছানা গুছিয়ে দিতে বলেছিলাম সে তখন তাড়াহুড়ো করে হসপিটালে যাচ্ছে আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল
-এখন বড় হয়েছো, বিয়েও হয়েছে, তাছাড়া বয়সে তুমি আমার চেয়ে বড়, সম্পর্কে না হয় ছোট, নিজের কাজটুকু অন্তত করো।
ভেবেছে আমাকে এত বড় একটা কথা শুনিয়ে চলে যাবে প্রচন্ড রাগে আমার গা জ্বলে গিয়েছিল, ঠাস করে একটা থাপ্পড় মেরে দিয়েছিলাম
সেই দিনই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল আর তারপরেই তো দ্রুত ঢাকায় পোস্টিং নিল । আমার চেহারা নাকি সে আর দেখতে চায় না। আমার ভাইয়ের কম টাকা পাঠানোর পেছনেও এই ঘটনা যে দায়ী এটা খুব ভাল করেই বুঝতে পারি। তার বউ এখানে থাকবে খাবে অথচ আমার বিছানাটা গুছিয়ে দিতে পারবে না এ কেমন কথা! যত যাই হোক এই বাড়ির বউ সে । আমার শাশুড়ি আর ননদও এসেছিল আমার শাশুড়ি নানান ভাবে আমাকে সান্তনা দিচ্ছিল । মহিলাকে দেখলেই আমার গায়ে জ্বালা ধরে সারাক্ষণ আমার সামনে হাদিস ফলাতে থাকে। আমার মা মরেছে আমাকে ঠিকমতো কাঁদতেও দিচ্ছে না কোরআন শরীফ নিয়ে এসে বলে আমি নাকি এক পারা পড়ে দিতাম। সেই কোন ছোটবেলায় পড়েছিলাম তাও পুরো শেষ করিনি এখন নাকি সেটা পড়তে হবে কান্নাকাটি বাদ রেখে। রক্তিম চোখে তাকিয়ে ছিলাম বয়সে ছোট হলে তাকেও একটা থাপ্পর দিতাম। আমার মনোবৃত্তি বুঝতে পেরেই বোধ হয় ঐশী তার মাকে নিয়ে গেল। আর আমার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো। তাতে আমার বয়েই গেল তোদের টা আমি খাই না পরি? ভারী এসেছে আমার ঢাকা ইউনিভার্সিটিওয়ালী।

তিন দিনের মিলাদ শেষে ভাইয়া তার পরিবার নিয়ে চলে যাবে, তখন আমাকে নিয়ে সবার মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে।
ভাবী আমার শাশুড়ি কে উদ্দেশ্য করে বললো,
-আন্টি, আমাদের মেয়েটার একটু মাথা গরম কিন্তু মেয়ে খুব ভালো। আপনি একদম চিন্তা করবেন না আর রাতুল তো এখনো পড়াশোনা করছে, ঋতুর খরচ আমরাই দেব। আপনি শুধু ওকে আপনার কাছে নিয়ে রাখুন, ওর সিকিউরিটি আমাদের কাছে অনেক জরুরী।
আল্লাহ! এই মেয়ের মুখের বাণী শুনে সবার কাছে অমৃত লাগবে কিন্তু আমি তো জানি এটা কি জিনিস ? কি সুন্দর করেই না বুঝাচ্ছে !
আমার শাশুড়ি ও তখন সুরে সুর মিলিয়ে বললেন
-না না মা , ও তো আমার ছেলের বউ ওকে আমি আমার কাছে নিয়ে রাখবো। তোমরা কেন খরচ দিবে?
মুহূর্তে আমার মাথাটায় রক্ত উঠে গেল, মানে কি! আমি কি একবারও বলেছি আমি ওই মহিলার সাথে বসবাস করবো ?
-অসম্ভব বলে চিৎকার করে উঠলাম আমি
সবগুলো চেহারা আমার দিকে ঘুরে গেল
-আপনারা আমার মতামত না নিয়ে আমি কোথায় থাকবো না থাকবো সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
-তাহলে তুই কোথায় থাকবি? ভাইয়া গলার স্বর উচু করে বললো
-আমার পুরোপুরি অধিকার আছে তোমার সাথে থাকার, আমি তোমার বোন।
-বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি মেয়েদের ঠিকানা হয় তবুও আমি তোকে রাখতাম কিন্তু তুই আমার স্ত্রীর সাথে যে ব্যবহার করেছিস তাতে তুই ভিখারির মত আমার বাড়িতে গেলেও আমি তোকে রাখবো না
-ও ওই একটা থাপ্পরের জন্য তুমি আমাকে শাস্তি দিচ্ছো ?
-থাপ্পর! আমার শাশুড়ি আর ননদ যেন থমকে গেল
-হ্যাঁ বেয়াদবি করেছিল তাই থাপ্পর দিয়েছি তাদের দিকে ফিরে সোজা সাপ্টা জবাব দিলাম ।
-তুই যেখানে খুশি সেখানে থাক আমি আর তোর কোন দায়িত্ব নিচ্ছি না। ভাইয়া ভাবীকে ইশারা করলো আর ভাবী মেয়ের হাত ধরে বের হয়ে গেল, ভাইয়া ঘরের দিকে গিয়ে নিজেদের ব্যাগ নিয়ে রওনা হলো।
আমার শাশুড়ি এগিয়ে এসে বললেন,
- একটু আগে তুমি যা বললে সেটা কি সত্যি?
-কেন আপনার কি মনে হয় বেয়াদবি করলে আমি থাপ্পর মারতে পারি না আর আপনার কাছে জবাবদিহিতা জন্য বাধ্য নই। আমি আপনার ছেলেকে বিয়ে করেছি আপনার পুরো পরিবারকে না ।
ঠাস করে আমার গালে একটা থাপ্পড় দিয়ে দিলো উনি আমি প্রায় ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলাম দেখলাম আমার দুই চাচা দাঁড়িয়ে আছে কেউ কিছু বললো না
-শোন বেয়াদব মেয়ে, তুমি আর তোমার মা মিলে যে বিয়ের আগে এত কিছু লুকিয়েছো সেটা আমি এখানে এসে জানতে পেরেছি। তবুও তোমাকে এই পরিস্থিতিতে আমি একা রেখে যেতে চাইনি । কিন্তু তোমার যে ব্যবহার তাতে আমার ছেলেকে যত দ্রুত সম্ভব তোমাকে ডিভোর্স দিতে আমি বলবো আর আমার মনে হয় সেটা বলতে হবে না কারণ আমার ছেলেটা যথেষ্ট চালাক এবং চতুর সে আমার বা আমার মেয়ের মত নয় সে তোমাকে বিয়ে করেছে উদ্দেশ্য বোধহয় ওই একটাই ছিল তোমার কাছ থেকে টাকা হাতানো। আমরা মা মেয়ে মিলে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। তোমাকে যে ওর পছন্দ না সেটা আমরা বিয়ের পরপরই বুঝে গিয়েছি, আমাদের পরিবারে এই ডিভোর্স কালচারটা নেই আর আমরা চাইনি আমার ছেলেকে দিয়ে এটা শুরু হোক তাই ওকে অনেক বুঝিয়ে শুুঝিয়ে এখন পর্যন্ত রেখেছি কিন্তু এখন উৎসাহিত করব। ঐশী চল, বলে ঘটঘট করে অসভ্য মহিলা বের হয়ে গেল।

মায়ের জন্য খুব কান্না পেল। সত্যিই এতদিন টিভি সিনেমায় যা দেখে এসেছি তা হাড়ে হাড়ে মিলে গেছে। ননদ শাশুড়িরা এত খারাপ হয়! ছি: আজকে ওরা আমাকে ফেলে এভাবে চলে যেতে পারলো? আর ঘরে বউ আসলে ছেলে যে পর হয়ে যায় এটাও তো চোখের সামনে আমার ভাইকে দেখেই বুঝলাম। কিভাবে বউয়ের নেওটা হয়েছে, একটা থাপ্পড় দিয়েছি বলে আমাকে এত বড় শাস্তি দিল, আমি ওর মায়ের পেটের বোন।

রাতুলের কাছ থেকে কোন দেনমোহর ছাড়াই ডিভোর্স লেটার পেয়েছিলাম। কেস করলে অবশ্যই দেনমোহর পেতাম কিন্তু সেই সামর্থ্য আর লোকবল আমার ছিল না। এভাবে কেটে গেছে পাঁচ বছর। আর কখনো যোগাযোগ হয়নি কারো সাথে জানিনা হয়তো সেখানে রাতুল সেটেল হয়ে গেছে নতুন কাউকে জীবনসঙ্গী করেছে। আমি আমার এক চাচার সংসারে থাকি। চাচি প্যারালাইসিস এর রোগী। বাজার করা ছাড়া আর সব কাজই আমাকে করতে হয়। চাচাতো ভাইয়ের বউ আগেই বলে দিয়েছে
-শোনো মেয়ে আমাদের এখানে থাকতে হলে কাজ করে খেতে হবে। আমি তোমার শিক্ষিত ডাক্তার ভাবী নই যে যাই কিছু করো না কেন পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে চুপ করে থাকব ।আমি যা বলব তাই তাই করবে, মুখে মুখে তর্ক তো করবেই না তাহলে চুল ছিঁড়ে ফেলবো আর চড় থাপ্পর কয়টা খাবে তার কোন সীমা পরিসীমা নেই আমি প্রচন্ড রেগে কিছু বলতেই যাচ্ছিলাম থাকি একটা থাপ্পর খেলাম
-এইটা প্রথম কিস্তি, এরপর থেকে চলতেই থাকবে যদি ঠোঁট চলে । বলে বিশ্রী ভঙ্গি করে ভাবী চলে গিয়েছিল।

সন্ধ্যার মৃয়মান আলো, শীতকালে এমনিতেই গ্রামে তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা নামে, রাত ভোর হতে অনেক সময় নেয়। মানুষ আর এখন মানুষের কাতারে নেই। একটা লোভী মানুষকে বিয়ে করেছিলাম। ননদ আর শাশুড়ি দুটোই প*তি*তা আর ভাই তো ঢুকেছে সেই কু*ত্তি*টার আঁচলের নিচে। সবাই এত নিষ্ঠুর কেন, পৃথিবীতে আমি এক অসহায় মেয়ে ,সৃষ্টিকর্তা কি দেখেনা?

সমাপ্ত

#রংচা

Address

লাইফ লাইন
Tangail

Telephone

+8801675504333

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রংচা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to রংচা:

Shortcuts

Share