01/09/2026
"এক বিলুপ্ত নগরীর কথা"
কাল তুমি নিশ্চিত পড়বে জেনেই আজ ডায়েরিতে
ধরে রাখছি সোনারোদ মেঘলা আকাশ
দখিনের ঝিরঝিরে হাওয়া এবং
নিবুম দুপুরের দমবন্ধ প্রতীক্ষাগুলি। মাছরাঙার
সুশোভন পালকসমূহ ঝুপ ঝুপ করে
ছড়িয়ে পড়ে শব্দের পরতে পরতে। তুমি নিশ্চিত
পড়বে জেনেই বাক্যবালিকারা
অলৌকিক প্যারাট্রুপার হয়ে আকাশ থেকে
নেমে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে।
তোমার চিবুকে একটি
মুগ্ধ প্রহর দেখব বলে আধুনিক অলিম্পিকের এক
বর্ণাঢ্য প্রারম্ভিক অনুষ্ঠান
আমি বসিয়ে দিয়েছি ডায়েরির
ধূসর জমিনে। মনোরম ডিসপ্লের
প্রতিবিম্ব পড়ে তোমার ফর্সা গালে বর্ণের মোহনীয়
উৎসব। দিনের পর দিন এভাবেই এক
পাতানো খেলায় মগ্ন থেকে ভেঙে গেছি
সময়ের সিঁড়ি। খেলতে খেলতে খেলতে
আমরা নেমে
গিয়েছিলাম কতটুকু আলোকিত গহ্বরে; উঠে
গিয়েছিলাম কতটা উপরে,
ছুঁয়েছিলাম কতটা নীল, তা নির্ণয়ের ভার না হয়
থেকে যাক আগামী দিনের গবেষকের জন্য।
যে নদী একদিন খরস্রোতা ছিল, নীল জলে সাঁতার
কেটেছে রাজহাঁস, মাছের পেছনে
ছুটেছে মাছ, নদীর চরণে ছিল নর্তকীর
মায়াবী ঘুঙুর। রাত নিশীথে মাঝির ভাটিয়ালি
সুরে নিমাইর বিরহ আর
রাই-কালিয়ার
রতিবিলাস মিশে গেছে একাকার হয়ে। জানি সে নদীটি
এখন নেই, জল নেই
স্রোত নেই মাটির ভেতরে বন্দি
শামুক আর ঝিনুকের খোসা, আটকে পড়া মাছদের
সরল কঙ্কাল।
তবু এখানেই শেষ নয় জেনো। মাটির কি ক্ষমতা আছে
আটকে রাখে সময়ের ধ্বংসাবশেষ?
দেখো তোমার-আমার সেই মুগ্ধ সময়ের ফসিল নিয়ে
গবেষণা করবে পুরাতত্ত্ববিদ;
ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকাহিনিতে উঠে আসবে সেই
বিলুপ্ত সভ্যতার কথা।
আমরা আবার আসব ফিরে ফিরে, দখিন হাওয়ায়, আবার
সে নদী খরস্রোতা হবে
নীল জলে পূর্ণ হবে মাছের যৌবন।
---
অসাধারণ একটি কবিতা.!!♥️