তোর আশিকি

তোর  আশিকি এক জীবনের অসমাপ্ত চাওয়া তুমি��

 #তোর-আশিকিhttps://docs.google.com/document/d/1oc3KzEpuOsAJWc8ywp7wTTuo7tXQMlhxBSlUsmUgES0/edit?usp=sharing-part1https:/...
01/07/2026

#তোর-আশিকি
https://docs.google.com/document/d/1oc3KzEpuOsAJWc8ywp7wTTuo7tXQMlhxBSlUsmUgES0/edit?usp=sharing-part1

https://docs.google.com/document/d/1v4DEpEj-GXcndlc4NjbcTuwDi_tvVQEJrBA6Wiaahi4/edit?usp=sharing-part2

https://docs.google.com/document/d/1Qh8QQlidvbzMjuNkc1VS1yXjpm6Ly-c6pYCRnqeCW60/edit?usp=sharing-part3

https://docs.google.com/document/d/13KWExXh8pfqcTb2EEqgOKAzqBfGCzoOQ2g69H_9mD2c/edit?usp=sharing-part4

https://docs.google.com/document/d/1c0N8zjXG1RBhAqsLgJkMt39-JBfjX8mLVtZ-EVSxk40/edit?usp=sharing-part5

https://docs.google.com/document/d/1DpJ9InTUSz-QVvKPexqph-mGJ-6i96nCaDgH6IUJqoA/edit?usp=sharingpart6

https://docs.google.com/document/d/1EKC7PiEipeu63xkb2h3K5zBBZRVBcwyMbRsGGVBEQQg/edit?usp=sharingpart7

https://docs.google.com/document/d/1rTTwRJ7EgOq_Ikeo8tvVEla4UCmxaAky7pWoUHJdElo/edit?usp=sharingpart8

https://docs.google.com/document/d/1_hOwBfuz6MNNZVZwiJE-5ozPhTaWv2suq0AFKgrqW1Q/edit?usp=sharing-part9

https://docs.google.com/document/d/10uQn4-XPbPduDF3tjtkFm3CpQtEAffeLW7O_dxxqbKg/edit?usp=sharing-part10

https://docs.google.com/document/d/1xmuztOuTSxWhnFauLVr457-9fuJI_SvDmphPY9qW58s/edit?usp=sharing-part11

https://docs.google.com/document/d/1nOxKcnKlJH9VT5mhrskJUuPSf5rgoDPFDcokg6DYyeg/edit?usp=sharing-part12

https://docs.google.com/document/d/1PbeIUXiNjG9HZsqVwtVTAqP34pUPP8pPhIQMf66-PHo/edit?usp=sharing-part13

https://docs.google.com/document/d/1ahfQyoCnJj__jFz0G_sBzT24-wEWQyrcvYQilpPmzCw/edit?usp=sharing-part14

https://docs.google.com/document/d/1lSRcMvBx65pcRfa27bqV44qDFLvuYOFFZulXq9aW3aU/edit?usp=sharing-part15

https://docs.google.com/document/d/1HbBmz-AQym4wVixVnwYJxlp8xeHmB_z1YP78SD9bSrk/edit?usp=sharing-part16

https://docs.google.com/document/d/1GcJjVteB04rJLz53OJuCUtOMpf3Q1w0TdhuMBFNzN6k/edit?usp=sharing-part17

https://docs.google.com/document/d/1FhIc1h_zlR-2ySmI9kfmTFLE84GkOiK1WzwyuMNldMI/edit?usp=sharing-part18

https://docs.google.com/document/d/1tvwADW3ZB0-1cFugORWy2a6fRvix9PGEIjri9xIdCtM/edit?usp=sharing-part19

https://docs.google.com/document/d/1tCb9KDudM-fpbuzeTgRfxrO0gdpEwVgEzqW1jqyz_Wo/edit?usp=sharing-part20

https://docs.google.com/document/d/1h0bByGknAnYbOzRS5Sc-b1o4Dw_Rsff7QrycTc7MUpg/edit?usp=sharing-part21

https://docs.google.com/document/d/1ZLODoLQIWMOIxTNUjh6qOOtAYSs25WQzs71CVY1kIXg/edit?usp=sharing-part22

https://docs.google.com/document/d/1YrnHs7V3HQTNGgqhDi285T-YG80VoYJ1YrSPpD6ec_4/edit?usp=sharing-part23

https://docs.google.com/document/d/1clCAkty2ZE9CJi9Q7eF1Ss8wruTzd9rthPLpD7JuIX0/edit?usp=sharing-part24

https://docs.google.com/document/d/1wcYPNnuMsW3GjV4AuJd02yRSk4LWs2PzNWEbzKUnF70/edit?usp=sharing-part25

https://docs.google.com/document/d/1-u5mDL2WJ1tm2Xp3mIGPESnprpNZNEtowoVqcUsB4cU/edit?usp=sharing-part26

https://docs.google.com/document/d/16anq3pU_xFLnxZswdcg8RL3o1jFXYGKR2dVr-g9roRQ/edit?usp=sharing-part27

https://docs.google.com/document/d/1hNsrApPXfovUYosZ4FzpP49DlYC2nQAOQp1GH3U9dbs/edit?usp=sharing-part28

https://docs.google.com/document/d/1G8BC446wbJUUAImSB8JtP4Rjrido762EpUE0qcX5MiU/edit?usp=sharing-part29

https://docs.google.com/document/d/1KXiRktpWmbzdkl1Fi7B3_VAn8XV-WF8CihiE0WK2eMo/edit?usp=sharing-part30

https://docs.google.com/document/d/18Y_qazbi60yNUenvRzUMBPpVO_0tuN29_UyXVTYyqV8/edit?usp=sharing-part31

https://docs.google.com/document/d/1y9nEkj42KLOSQXDYIKYiBShWHt12jJ3rDwe6vAmAMuM/edit?usp=sharing-part32

https://docs.google.com/document/d/10UBJFBNI2uyTiNcS_X9vFGdGPZkl02mfReKcFDbDD-w/edit?usp=sharing-part33

https://docs.google.com/document/d/1tSqvzTOgyf_O3iGhv99lngz3XVYvIgsVKZb1-DhVmWg/edit?usp=sharing-part34

https://docs.google.com/document/d/1Y67wbhOycOmSAKdmHwV4wluV3y68vkXfJcIH7QGfpA0/edit?usp=sharing-part35

https://docs.google.com/document/d/1zoC19-zXgbjKdM7aUVMr_2_XrHDgcru38AUkbxMHt0M/edit?usp=sharing-part36

https://docs.google.com/document/d/1drspf-vJrtcCzLmav9GmDvxImiHupPTsmmPLX1kq_Zw/edit?usp=sharing-end

20/06/2026

তোর আশিকি #উপন্যাস #প্রিসিলা_জাওয়াদ
#ইয়াশ❤️❤️

 #সঙ্গিন_প্রনয়াসক্তি  #উপন্যাস  #পর্ব  #দুইযাকে নিয়ে ও রোজ স্বপ্ন দেখে, সুন্দর সপ্ন। অরু জানে নিখিল ভাইয়ের সাথে কমিটমেন্...
19/06/2026

#সঙ্গিন_প্রনয়াসক্তি #উপন্যাস

#পর্ব #দুই

যাকে নিয়ে ও রোজ স্বপ্ন দেখে, সুন্দর সপ্ন। অরু জানে নিখিল ভাইয়ের সাথে কমিটমেন্ট কিংবা মুখ ফুটে দুটো কথাবলার সাহস ওও ওর নেই। তারউপর নিখিল ভাই ভার্সিটির সিনিয়র, গ্রাজুয়েশন ও এবছর শেষ তার। তবুও বেহায়া মনটা মানেনা। প্রিয় মানুষের স্কেচ বোর্ডে তার মুখটাই এঁকে ফেলে বারবার।

--কবে যে নিখিল ভাই নিজে এসে বলবে, অরু শোনো, আমি ও তোমাকে পছন্দ করি, মনের রঙ তুলির ক্যানভাসে আমিও তোমাকে আঁকি।

--সেই আশায় সেগুড়ে বালি।

পেছনে নীলিমার কাঠকাঠ প্রতিউত্তর শুনে অরুর হাসিহাসি দাঁত কপাটি বন্ধ হয়ে গেলো। মুখটা এইটুকুনি করে বললো,

তুই আমার মনের কথা শুনলি কি করে?

যেই টোনে বলছিলি, আমি কেন রিকশা ওয়ালা মামারাও শুনেছে আমি শিওর।

আপসোস শুধু নিখিল ভাইই শুনলো না।

কি করে শুনবে? তুইতো তাকে দেখলেই চোরের মতো যথাতথা লুকিয়ে পরিস।

- তা ঠিক চল ভেতরে যাই।

গেট পেরিয়ে ক্যাম্পাসে যেতে যেতে নীলিমা বলে,

আন্টির কি খবর?? এখন কেমন আছেন?

একই রকম। আজকেও আপার বকুনি খেয়ে এসেছি।

নিলীমার শান্তনার বাণী বহু আগেই ফুরিয়ে গিয়েছে, ঘটে যা ছিল সব কিছু দিয়েই অরুকে বুঝিয়েছে ও তাই এখন আর বলার কিছু নেই। শান্তনা না দিয়ে হয়ে উল্টো প্রশ্ন ছুড়লো নীলিমা।

তোর ভাইয়ার কোম্পানি থেকে ইমেইল এসেছিল??

কথাটা বলতে একটু অসস্থি হলো নীলিমার, কারন সব ব্যাপারে মুখ খুললেও এই ব্যাপারটা সবসময়ই এরিয়ে যায় অরু, খুব বেশি হলে হুম হা করে উত্তর দেয়।

এবারও তাই হলো, এদিক ওদিক মাথা নাড়িয়ে না জবাব দিলো অরু।

নীলিমার রাগ হলো কেন যেন, যদিও ব্যাপারটা সম্পূর্ণ অরুর ব্যাক্তিগত তবুও এ কেমন ছেলে?? মায়ের খোজ নেয়না, ইভেন কোনোরকম যোগাযোগ নেই পর্যন্ত। আজকালকার যুগে ইমেইলে কেউ যোগাযোগ করে?

নীলিমা রাগ সংবরণ করতে না পেরে বলেই ফেললো, কেমন ভাই তোর মাকে এভাবে দেশে ফেলে রেখে নিজে বিদেশে পরে আছে??

অরু মেকি হাসলো, হুট করেই নীলিমার রাগের কারন ধরতে পারলো না, তবুও নরম সুরে বললো,

--হি ইজ নট মাই সিবলিং।

--- তাহলে?? স্টেপ ব্রাদার, মানে আঙ্কেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে তাইতো??

অরু আবারও হাসে এই মেয়ের এতো কৌতূহল কেন?

নাহ তেমন কিছুও নয়।

তাহলে কেমন ভাই তোর??

নীলিমার কথার পেছনে অরু কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওদের মাঝে তিথি চলে আসে।

আর মি. জায়ান ক্রীতিককে নিয়ে চলমান রহস্যময় কনভারসেশনের ওখানেই ইতি ঘটে।

বসন্তের সকাল, চারিদিকে মৃদুমন্দ ঝিরিঝিরি বাসন্তিক হাওয়া বইছে, কতইবা বেজেছে দশটা কি এগারোটা তবুও মাথার উপর চলছে সূর্য্যের তান্ডব নৃত্য। শীত যাবে যাবে করে এখনো যায়নি, তার আগেই সূয্যি মামা তার প্রখরতা দিয়ে ধরনী উত্তপ্ত করে দিয়েছে।
সূর্য্যের তীর্যক রশ্মিকে পিঠে পিছলে দিয়ে একপ্রকার ছুটে বটতলার ছায়ার নিচে এসে দাঁড়ালো তিথি।

ওখানে অরু আর নীলিমা ওও ছিল।

--কিরে এভাবে ছুটে এলি কেন? কিছু হয়েছে?

তারস্বরে জিজ্ঞেস করে নিলীমা।

অরু ও প্রশ্নসূচক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।

অরুর ভার্সিটি জয়েন করার পরে পুরো বাংলা ডিপার্টমেন্টের মধ্যে এই দুটোই বন্ধু জুটেছে ওর, তার মধ্যে ওই ইন্ট্রোভার্ট, নীলিমা যাও মোটামুটি একটু চুপচাপ থাকে, কিন্তু তিথী

মোটেই চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে নয়, ভার্সিটির সব থেকে গড়ম খবরটা ওর কাছ থেকেই পায় অরুরা, হোক সেটা গসিপ কিংবা কোনো ইম্পর্টেন্ট নিউজ। এছাড়া ডিপার্টমেন্টের অন্য ব্যাচমেটদের সাথে অরুর মুখ চেনাচিনি আছে কিনা সন্দেহ, কিভাবেই বা থাকবে ভার্সিটি জীবন নড়বড়ে ওর, এটেনডেন্স এর জন্যও পর্যন্ত ভার্সিটি আসতে দেয়না অনু তবুও আপার বকুনি ঝকুনি খেয়ে মাসের মধ্যে দু'একটাবার পা রাখে ভার্সিটির চত্বরে। যদিও সেটা পড়াশোনার জন্য নয়, বরং পছন্দের শ্যাম পুরুষকে একটা নজর দেখার আশায়, সবার আড়ালে তার মুখখানা হৃদমাঝারে স্ক্যান করে নিলেই শান্তি ওর।

নীলিমার কথার প্রতিউত্তরে

তিথি হাঁপাতে হাঁপাতে বললো,পানি দে দোস্ত, তারপর সব বলছি।

নীলিমা ব্যাগ থেকে পানি এগিয়ে দিলে ঢকঢক করে পানি পান করে দম নেয় তিথি,

--আহ এতোক্ষণে প্রানটা ঠান্ডা হলো।

-- কি হয়েছে বললি নাতো? আবারও জিজ্ঞেস করে অরু।

তিথি এগিয়ে গিয়ে অরুর হাত ধরে বলে,

ওহ, হ্যা তোর কাছেই আসছিলাম অরু, কাল ভার্সিটিতে কেন এলিনা বলতো?? তাহলেই তো তো সব জানতে পারতি।
কি হয়েছে একটু খুলে বল? তাছাড়া কেন আসিনি সেটাতো তুই জানিসই, তাহলে নতুন করে কেন প্রশ্ন করছিস তিথি?

কাল নিখিল ভাইদের সমাবর্তন অনুষ্ঠান ছিল নিখিল ভাই সেরা ছাত্রত্বের পুরষ্কার পেয়েছে।

নীলিমা সস্থির নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে,

ওহ এটাতো ভালো কথা।

--তারপর আরও একটা ঘোষণা হয়, আমি পরে সিনিয়রদের থেকে জেনেছি,

অরু সচকিত হয়ে প্রশ্ন ছুড়লো,

--কি?

--নিখিল ভাই মাস্টার্স করবে না, উনি হায়ার স্টাডিসের জন্য স্কলারশিপ পেয়েছে, খুব শীঘ্রই ইউ এস এ চলে যাবে।

অরু চমকায় না, কোনো রকম প্রতিক্রিয়াও করেনা, অসস্থির লেস মাত্র নেই ওর মুখশ্রীতে। খুশি থাকার একমাত্র কারনটা হারিয়ে যাচ্ছে ও কি আদোও ঠিক আছে?? ওর ভেতরে যে অস্থির ঝড়োহাওয়া শুরু হয়ে গেছে, মনে হচ্ছে হৃদয়টা শক্ত করে খাঁ'মচে ধরেছে কেউ, গলাটা শুকনো কাঠে পরিনত হয়েছে, তবুও থমথমে মুখে ছোট্ট করে অরু জবাব দেয়,

--ওহ

এটুকু শব্দ উচ্চারণে অরুর অগ্নিস্ফুলিংঙ্গ উগরে দেওয়ার মতো কষ্ট হলো। তবুও বান্ধবীদের সামনে মুখের মিথ্যে হাসিটা ঠিকই ধরে রাখলো, কারণ আর যাই হোক একপাক্ষিক ভালোবাসা কিংবা আধুনিক শব্দে বলতে গেলে ক্রাশ কে হারানোর জন্য কা'ন্নাকা'টি করে ভাসিয়ে দেওয়া কিংবা

সবাইকে বলে বলে সিমপ্যাথী কুড়ানোর মতো আত্মসম্মানহীন মেয়ে অরু নয়।

এমনিতেই ওর মায়ের অসুস্থতা নিয়ে অনেকেই করুনা দেখাতে আসে, যা ওর শরীরে জ্ব'লন ধরিয়ে দেয়, অরুর করুনা মোটেই পছন্দ নয়, তবে নিজ অধিকারের ক্ষেত্রে সর্বদা সতর্ক ও। যা ওর সেটা ওরই।

কিন্তু নিখিল ভাই? সেতো তো ওর নয়, কোনো কালে ছিলোও না। ওই কেবল একতরফা ভালোবেসে গিয়েছে, নিখিল ভাইতো ওকে ছোট বোন ছাড়া কিছুই ভাবেনা, শুধু ওকে কেন ছাত্র নেতা হিসেবে সব জুনিয়র মেয়েরাই তার ছোটো বোনের সমতুল্য, অরু আলাদা করে তো কিছুই নয়।

- ক্যাম্পাসের দিকে দেখ নিখল ভাই আসছে।

তিথির কথায় অরুর দিবাস্বপ্নে ভাটি পরে, তরিৎ গতিতে ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে বেরিয়ে দেখতে পায় ক্যাম্পাস থেকে গেইটের দিকেই এগিয়ে আসছে নিখিল ভাই, কালো ডেনিমের সাথে নীল পাঞ্জাবীতে কি সুন্দর লাগছে তাকে, কাধে ঝুলে আছে ল্যাপটপের ব্যাগ, কানে হেটফোন।

সেদিকে একধ্যানে তাকিয়ে তিথি বলে,

--কি এতো গান শোনেন উনি??

কাঠফাটা রোদে উজ্জ্বল শ্যামলা চেহারাটা জলজল করছে তার, মুখে লেগে আছে সেই সুন্দর হাসিটা। অরু চোখ বন্ধ করে বলতে পারে এই ইনোসেন্ট দেখতে ছেলেটার প্রেমে পরে যাওয়া কোন মেয়ের জন্য চুটকির ব্যাপার মাত্র।নিখিল ভাই ওদের সামনে আসতেই সবাই একযোগে সালাম দিলো তাকে, সিনিয়র বলে কথা। সালামের জবাব দিতে নিখিল ও একটু থামলো, সামনে না গিয়ে ওদের দিকে কয়েক কদম এগিয়ে আসলো।

নিখিল ভাই ওদের দিকে আসছে দেখে অরু নীলিমার পেছনে গিয়ে গুটিশুটি হয়ে দাড়ালো।

কেঁ'টে ফেলা ডগার ন্যায় কেমন নেতিয়ে পরেছে ওর শরীরটা।

--আরে অরোরা না??

নিখিল ভাইয়ের আকষ্মিক সম্মোধনে ধরা পরে যাওয়া চোরের ন্যায় হুরমুর করে সামনে তাকায় অরু। হ্যা সূচক মাথা ঝাঁকিয়ে বলে,

--জজি ভাইয়া।

--ভালো আছো তো? এখন আর রাস্তা পার হতে ভয় নেই তো??

কি সুন্দর অমায়িক কথার ধরন, আরও একবার হোঁচট খায় অরু।

নিখিল ভাই কিছু জিজ্ঞেস করছে অরু, উত্তর দে.. তিথির ধা'ক্কায় সম্মতি ফিরে পেলো অরু।

তারপর হ্যা না দুদিকেই মাথা নাড়াতে থাকে, আসলে কি করবে কি বলবে ও কিছুই ঠাহর করতে পারছে না,

ওর অবস্থা দেখে নীলিমা তিথি দুজনই অবাক যে মেয়ে কাঠকাঠ কথার জবাব দিতে ছাড়েনা সে কিনা ভেজা বিড়ালের মতো আচরণ করছে।

জুনিয়ররা সঙ্কোচ বোধ করছে দেখে নিখিল আর দাড়ায় না, সকল কে বিদায় জানিয়ে তারাহুরো করে যায়গা ত্যাগ করে।

নিখিল চলে যেতেই নীলিমা তেঁতিয়ে ওঠে,

- স্টুপিড একটা, এটাই শেষ সুযোগ ছিল, নিখিল ভাই নিজে এসেছিল, আর তুই কি করলি?? হাবলার মতো উত্তর, দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিম মাথা ঝাঁকিয়ে গেলি?

অরু জবাব দেয়না, এই মূহুর্তে কথা বলতে ইচ্ছে করছে না, মাথাটা ভনভন করে ঘুরছে, গলাটা নিম পাতার মতো তেঁতো হয়ে এসেছে। চারিদিক ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। হয়তো প্রেশার ফল করেছে। কয়েকবার চোখের পলক ফেলে, অস্ফুটেই অরু বলে,

ভাল্লাগছে না বাসায় যাবো, আমাকে একটা রিকশা ঠিক করে দে'না তিথি।

চলে যাবি মানে এটেনডেন্সটা এটলিস্ট দিয়ে যা।

নীলিমার কথায় অরুর ভেতরের তেঁতো ভাবটা বেরিয়ে এলো, মাথাটা ঝাঁঝিয়ে উঠলো, অরু চটে গিয়ে বললো,

বলেছি তো বাসায় যাবো।

শরীর আর মনের একরাশ অসুখ নিয়ে টলতে টলতে ক্রীতিক কুঞ্জে এসে পৌঁছেছে অরু।

বিশাল সদরদরজা ঝনঝন আওয়াজ করে খুলে ভেতরে ঢুকতেই আরও বিরক্ত হয়ে যায় ও।

মামা, মামি আর একমাত্র মামাতো ভাই রেজওয়ান ওরফে রেজা এসেছে।

অরু আর অনুর জীবনের এতো এতো ঝামেলার মধ্যে উটকো ঝামেলা এই পরিবারটা। কথা নেই বার্তা নেই যখন তখন এসে হাজির। আসবে তো আসবে একটা না একটা ঝামেলা পাঁকিয়ে তারপর বিদেয় হবে।

আজমেরী শেখ যখন সুস্থ সবল ছিলেন তখন দিন রাত আগমন ঘটতো এদের, তিন বেলা ফ্রিতে রাজকীয় খাবার আর মহলের নরম গদিতে আরাম আয়েশ করে একটানা দশদিনও কাটিয়ে দিতো। বাড়ি যাওয়ার নাম গন্ধ পর্যন্ত নিতো না।

অরুর মামাতো ভাই রেজা এলাকার পাতি মা'স্তান, যার দরুন তার ছেলে পেলেদের ও নিয়ে আসতো একমাত্র ফুফুর আলীসান বাড়িতে।

অরু আর অনু এসবে বেশ লজ্জিত হতো যত যাই হোক তাদের তো এভাবে আরেকজনার অন্ন ধ্বংস করার কোনো অধিকার নেই। একমাত্র ভাই, ভাবী বলে আজমেরী শেখ তেমন কিছুই বলতেন না।

অনু, অরু একটু গাইগুই করলে ওদের কেও চোখ পাঁ'কাতেন আড়ালে।

সবকিছু এভাবেই চলছিল, কিন্তু আজমেরী হক একেবারে বিছানা সজ্জায় চলে গেলে মামা মামির আসল রূপ দেখতে পায় অরুরা।

আপন বোনকে দেখা তো দুরে থাক গত একবছরে হাসপাতালের গন্ডি অবধি মারায়নি ওদের মামা,বরং দু'দিন পরপর বউ ছেলেকে নিয়ে এবাড়িতে এসে অনুকে মানসিক অশান্তিতে ভুগিয়েছে দিনরাত। তাদের কথা একটাই,

বাবা নেই, মায়েরও ও গ্যারান্টি নেই, আজবাদে কাল মায়ের কিছু হয়ে গেলে ওদের দু বোনের কি হবে? আজ বা কাল এ বাড়ির ছোট সাহেব ঠিকই ফিরবে, তখন তো দুই বোনের কোনো গতি থাকবে না, তাই এখনই যদি তার একমাত্র সুযোগ্যপুত্র রেজার সাথে অনুর বিয়েটা হয়ে যায় তাহলে একটা কুল তো হবে, আর যাই হোক নদীতে তো আর ভেসে যেতে হবে না।

অরু বুঝে পায়না এতোবড় দুনিয়া থাকতে ওরা নদীতে কেন ভেসে যাবে, কি অপ'রাধ ওদের?

অনুর রাগের ঘট এমনিই পরিপূর্ণ, এসব শুনলে আরও বেশি মাথা খারাপ হয়ে যায়, চে'চামেচি করে বাড়ি মাথায় তুলে ফেলে সে, বিপরীতে মামির গা জালানো কথাতো আছেই। এককথায় এরা বাড়িতে পা রাখা মানেই ঝামেলা আর অশান্তি।

অরু হলরুমের চারদিকে চোখ বুলায়, অনু কোথাও নেই,

- তারমানে আপা এখনো হসপিটালে যাক ভালোই হলো।

ওর মামি ডাইনিং এ বসে আঙুর চিবুচ্ছে, রেজা কাঁউচে বসে পায়ে পা তুলে টিভি দেখছে। মামা আপাতত আসেপাশে নেই।

অরু সবটাই দেখলো, তারপর না দেখার ভান করে দোতলায় পা বাড়ালো।

দুটো সিঁড়ি মারাতেই পেছন থেকে ডাক পরলো মামির,-- কিরে দেখলি আমরা এখানে বসে আছি তাও ঢ্যাং ঢ্যাং করে উপরে চলে যাচ্ছিস। মামিকে চোখে পরেনা নাকি? আর আমার বউমা কোথায়?

#চলবে

তোর  আশিকি  #উপন্যাস    #শেষ  #পর্বপৃথিবীর অন্য এক গোলার্ধে, সূদুর আটলান্টিকের ওপারে , একই বিষাদমাখা সুর তুলে লোকাল বাসে...
19/06/2026

তোর আশিকি #উপন্যাস

#শেষ #পর্ব

পৃথিবীর অন্য এক গোলার্ধে, সূদুর আটলান্টিকের ওপারে , একই বিষাদমাখা সুর তুলে লোকাল বাসের কানায় কা-নায় মুখরিত করে তুলেছে সদ্য চাকরি জীবনের স্বাদ আস্বাদন করা একঝাঁক মেডিকেল টিমের ছেলেমেয়ে। তাদের মাঝে হৃদমিলাও আছে। সর্বদা গান নিয়ে পরে থাকা এই কোকিল কণ্ঠী রমণী আজকাল আর গানের ধারেকাছ দিয়েও ঘেঁষেনা। কেমন যেন বিষন্ন হয়ে থাকে সারাটাক্ষন। ধরাবাঁধা যান্ত্রিক জীবনযাপন তার।

এখন আর সি আর বি তে পাওয়া যায়না তাকে। দেখা মেলেনা কোনো গানের আসরে। হৃদমিলার এহেন উদা-সীনতা নিয়ে আজকাল ভীষণ চিন্তিত থাকে মাহিন। কিন্তু বাবাকে কে বোঝাবে? ক্ষণিকের ঝোড়ো হাওয়ার মতোই ওর সকল খুশি, আনন্দ, উচ্ছ্বাস কেঁড়ে নিয়ে ভিনদেশে পাড়ি জমিয়েছে এক অচেনা যুবক। পাছে শুধু ওর জন্য রেখে গেছে একটা গীটার। গীটার কি কখনো অনুভূতি প্র-কাশের মাধ্যম হতে পারে? কখনোই না।

হৃদ জানে সেই যুবকের সঙ্গে দ্বিতীয়বার দেখা হওয়ার সম্ভবনা ক্ষীণ। তবুও মন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারছে না কিছুতেই। স্বল্পসময়ের সেই ক্ষণস্থায়ী ভালো-লাগার কথা। লোকটার কথা মনে পরলে আর কোনোকি-ছুতেই মন বসেনা তার। মাঝেমধ্যে রাগও হয় নিজের উপর, সেদিন ঝোঁকের বশে নাম্বার খচিত রুমালটা ফেলে না দিলে অন্তত একটা যোগাযোগের সুযোগ থাকতো। কিন্তু এখন তো সেটাও নেই। কেবল ওই নাম্বারটা ব্যতিত লোকটার ফেলে যাওয়া কোনোকিছুই ছিলনা হৃদের কাছে। এমনকি নামটাও জানে না সে।

এই ভুলের মাশুল হিসেবে হৃদমিলা অবশ্য কম পাগলামি করেনি। প্রায়সই ফোনবুথে গিয়ে বৃষ্টিস্নাত রাতের আঁধারে এক ঝলক দেখে রাখা সেই নাম্বারে ডায়াল করে সে। কিন্তু পরিস্থিতি বোধ হয় তার অনুকূলে নেই। প্রত্যেকবারই রং নাম্বার বলে কেটে যায় ফোন। হৃদমিলা হতাশ হয়। তা-রপর কিছুদিন পরে আবারও নাম্বার নিয়ে শুরু করে কোনো না কোনো পাগলামি। ওর হাতে ক্ষমতা থাকলে হয়তো রুমালটাই গিয়ে তুলে নিয়ে আসতো। কিন্তু আফ-সোস, দূর পাহাড়ের ওই খাদে পৌঁছানোর দুঃসাহস কোনো সাধারন মানুষের নেই।

সুন্দরবনের একটা মেডিকেল ক্যাম্প শেষ করে আজ আবারও ফেরার পথে বৃষ্টি হচ্ছে, ঝুম বৃষ্টি। সচরাচর সব-কিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, বৃষ্টি দেখলে হৃদমিলার মন-টাও বিষন্ন হয়ে যায়। আরও বেশি করে মনে পরে সেই লোকটাকে। লম্বা চওড়া সুদর্শন যুবকটিকে দেখার লোভে হৃদয়টা আনচান করে ওঠে। জীবনটাকে তুচ্ছ মনে হয়। কেবল ওই একটা মানুষের জন্যই। এটাই কি তবে ভালো-

বাসা? প্রেমে কি মানুষ এভাবেই পরে?

হৃদ আলগোছে মাথা এলিয়ে দেয় চলন্ত বাসের জানা-লায়। নীরব নিভৃত চোখে দেখতে থাকে ওই উচ্ছ্বাসিত ছেলেমেয়ে গুলোকে। যারা ভাবে পৃথিবী সুন্দর, তারচে-য়েও সুন্দর মানব মনের অনুভূতি।

দেখতে দেখতে পথ ফুরিয়ে যায়। বাস এসে থামে গন্তব্যে। সহকর্মীদের বিদায় জানিয়ে হৃদ আস্তেধীরে বাড়ির দিকে এগোয়। ঝুম বৃষ্টিতে রাস্তার ধারের ফুটপাত গুলো খালি পরে আছে। রিকশা নেই, সিএনজি নেই, কোনো টং দো-কানও নেই। একলা পথিকের মতো নীরব পদচারণায় এগিয়ে চলে হৃদমিলা। যেতে যেতেই তার মনের মাঝে চা-তকিনীর মতো তৃষ্ণা উদয় হয়। কথা বলার তৃষ্ণা। যেই একটা ডিজিটের জন্য তার নাম্বারটা বারবার রং হতো, সেই নাম্বারটা হুট করেই মাথায় চলে আসে। অনেকটা মি-রাকলের মতোই, - এইট! ওটা জিরো নয় এইট হবে!

ঝুম বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে একাই উদ্ভাসিত হলো হৃদমিলা। এদিক ওদিক অস্থির চোখ বুলিয়ে খুঁজতে লাগলো ফোন-বুখ। কিছুক্ষণ খোঁজাখোজির পরে পেয়েও গেলো একটা। ছুটে গেলো সেদিকে। ভেতরে ঢুকে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে মাথায় গুছিয়ে নিলো নাম্বারটা। অতঃপর বৃষ্টি-ভেজা কাঁপা হাতে ডায়াল করলো সেটাতে। হৃদের বুক দুরুদুরু করছে, এটাই শেষ সুযোগ। কিন্তু হায়, মেয়েটার সকল আকাঙ্ক্ষা এক নিমিষে গুড়িয়ে দিয়ে, কানে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ওপাশ থেকে মিষ্টিকণ্ঠী

এক বিদেশি রমণী স্যরি বলে কেটে দিলো। নাম্বার নাকি বন্ধ। মনটা ভেঙে গেলো হৃদমিলার। একটা ভাঙাচোরা ছাপ পরলো তার চেহারায়। একচোট কান্নার ঢেউ ভেতর থেকে স্রোতের মতোই উথলে এলো গলার কাছে। খেই হা-রিয়ে ফেললো হৃদমিলা। অচেনা একটা মানুষের জন্য নি-জের এতোগুলো বছরের আত্মসংযম ভুলে রাস্তার ধারের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মেয়েটা। কাঁদতে কাঁদতে আকাশের দিকে তাকিয়ে পরম স্রষ্ঠার কাছে সাহায্য চাইলো। অস্থির হয়ে বলতে লাগলো,

- ঈশ্বর ধৈর্য দাও। ওই মানুষটাকে ভোলার শক্তি দাও।

আর নয়তো তাকে এনে দাও।

সারাটাদিন ভবঘুরের মতো বৃষ্টিতে ভিজে সন্ধ্যা নামার আগ মূহুর্তে বাড়িতে ফিরলো হৃদমিলা। সময়টা বিকেল আর সন্ধ্যার মাঝামাঝি হওয়াতে সূর্যের তাপ কমে গিয়ে একটা নৈসর্গিক ছায়া পরেছে পৃথিবী জুড়ে। তখনও অভিমানী কিশোরীর মতো মুখ ভার করে আছে আকাশ। দেখে মনে হচ্ছে খুব দ্রুতই অঝোর ধারায় কেঁদে উঠবে সে রাস্তার বাঁক পেরিয়ে গেইটের ভেতর প্রবেশ করছিল

হৃদমিলা, তখনই হঠাৎ করে একগুচ্ছ মেঘভেজা পাগ-লাটে হাওয়া এসে ছুঁয়ে দিলো তাকে। বাতাসে পরিচিত সু-ঘ্রাণ। প্রথমে ভ্রম মনে হলেও, পরপর একই ঘটনার পুন-রাবৃত্তি হওয়ায় আচানক দাঁড়িয়ে পরলো মেয়েটা। ঘুরে তাকাতেই দেখলো বৃষ্টিভেজা চকচকে রাস্তার ওপারে একটা বিলাশবহুল টয়োটা দাঁড়িয়ে। হৃদের কপাল কুঁচকে গেলো। কৌতূহল জড়ানো চোখে আরেকটু ঘুরে তাকা-তেই দেখলো গাড়ির সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে এক লম্বাটে যুবক। যুবকের ভেজা বসন। সম্ভবত বৃষ্টিতে ভিজেছে সা-রাটাক্ষন। মেঘের ফাঁক গলে উঁকি দেওয়া সূর্যের ক্ষীণ রশ্মিতে ঝলমল করছে তার পুরন্ত মুখ। হৃদমিলাকে দেখা মাত্রই চোখ থেকে রোদ চশমা সরালো সে। সঙ্গে সঙ্গে চির পরিচিত সেই মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো হৃদমিলার।

লোকটাকে দেখে প্রথমে বিমূঢ়, বুদ্ধিভ্রষ্টের মতোই মেয়েটা পিছিয়ে গেলো দু'কদম। তারপর ঠিক একই গতিতে ছুটে এসে ছিটকে পড়লো তার বুকের উপর। কান্নার দমকে কণ্ঠস্বর বুঝে আসছে মেয়েটার। কথাগুলো অস্পষ্ট। তবুও রোহানের কর্ণকুহরে পৌঁছালো একটা অদ্ভুত স্নিগ্ধ নাম,

- হৃদমিলা, আমি হৃদমিলা।

ক্ষণিকের বিলম্বতায় সমস্ত সংকোচ ভুলে গেলো রোহান। দু'হাত বাড়িয়ে আগলালো সে মেয়েটাকে। কপালের উপর প্রকষ্ট এক চুমু খেয়ে জানান দিলো,

আমি রোহান, হৃদমিলার রোহান।

দু'জনার মনে ঝড়বয়ে চলা সুপ্ত অনুভূতি প্রকাশের নিমি-ত্তেই বুঝি আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো। চোখের পলকে ত্তেই বুঝি আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলো। চোখের পলকে কাকভেজা হলো দু'টো প্রাণ। ভালোবাসা, ভালোলাগায় মাখামাখি হয়ে মন গহীনে বেজে উঠলো সুরের সয়লাব,

অনেক করে পাবো

তোমার অনেক বেশি হবো।

হাতটা ধরে, পথটা ভুলে

মনের কথা কবো......

মিলানো, ইতালি,

বসন্তের এক রৌদ্রকজ্জল সকালে প্রিসিলার সমস্ত অপে-ক্ষার অবসান ঘটিয়ে ট্রেনিং শেষে স্নোফ্লেক্স ম্যানরে ফিরে এলো ইয়াশ। গাছে গাছে তখন চেরিব্লোসমের মেলা, বা-তাসে মিষ্টি সুবাস, বছর ঘুরে ম্যাপল পাতাগুলো আবারও নতুন রূপে সেজেছে। প্রকৃতির সাথে মিলেমিশে সেজেছে প্রিসিলাও। একটা সফ্ট বেবি পিংক কালারের ফ্রক পরেছে সে।লম্বা, রেশমের মতো সোনালী চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছে পিঠের উপর। সবশেষে ঠোঁটে সামান্য গ্লস লাগি-য়ে আয়নার দিকে দৃষ্টিপাত করবে তক্ষুনি বাড়ির গ্যারেজ থেকে উচ্চস্বরে হর্ণের শব্দ ভেসে এলো। আজ বহুদিন বাদে চিরচেনা ল্যাম্বরগিনির শব্দ পেয়ে বুকের ভেতর ধক করে উঠলো প্রিসিলার। হর্ণটা যে তাকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া হয়েছে তা আর বুঝতে বাকি নেই। সহসা সাজ-গোছ ফেলে রেখে উৎকণ্ঠা নিয়ে ছুটলো মেয়েটা। সুদীর্ঘ লন পেরিয়ে ছুটে গিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়াতেই আচানক দু'টো লম্বা হাত শূন্যে তুলে নিলো তাকে। পাখির পালকের মতো ছোট শরীরটাকে বাহুবন্ধ করে ঘোরাতে লাগলো নির্নিমেষ। প্রিসিলার মাথা ঘুরে উঠলো, অতর্কিতে জড়ি-য়ে ধরলো যুবকের প্রশস্ত কাঁধ। শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠে বললো,

থামো ইয়াশ! ভয় লাগছে তো আমার।

সহাস্যে থামলো ইয়াশ। তবে কোল থেকে নামালো না। হা-তের বাঁধন শিথিল করে মুখের কাছে মুখ হাস্কি স্বরে বললো,

বড় হয়ে গেছিস।

- আমি তো বড়ই ছিলাম।

কথাটা বলেই ঠোঁট উল্টালো প্রিসিলা। বিপরীতে একচি-লতে কপট হাসির ঢেউ খেলে গেলো ইয়াশের ঠোঁটের আগায়। তৎক্ষনাৎ একটা চোখ ব্লিঙ্ক করে হিসহিসিয়ে আওড়ালো,

-আমার স্পর্শে আরও বড় হয়েছিস।

প্রিসিলা লাল হয়ে গেলো। ইয়াশের পিঠের উপর আলতো চাপড় মে'রে বললো,

ধ্যাত, অসভ্য!

আ'ম হাঙ্গরি প্রিসি, লেট মি টেস্ট ইউ্য!

কথাটা বলেই আচানক প্রিসিলার ঠোঁটের দিকে ঝুঁকে এলো ইয়াশ। বহুদিনের দূরত্ব শেষে প্রচন্ড খরায় একপ-শলা বৃষ্টির মতোই দ্রবীভূত হলো মন। প্রিসিলা ধাতস্থ হলো, চোখ বুঝলো প্রিয় পুরুষের মোহময় স্পর্শের প্রতী-ক্ষায়। ঠিক সেই মূহুর্তে কাছাকাছি কারোর উপস্থিতি টের পেয়ে চকিতে ঘাড় ঘোরালো দু'জন। দেখলো, ওদের থেকে কয়েকহাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছে তুষার আর ফ্লোরা। পাপা মাম্মাকে দেখা মাত্রই আস্তে করে প্রিসি-লাকে কোল থেকে নামিয়ে দিলো ইয়াশ। অতঃপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো তাদের নিকট। সদা সাবলীল অভি-ব্যক্তি ধরে রাখা তুষারের চোখে আজ বিস্ময়। ছয়মাস আগের ভবঘুরে, ছন্নছাড়া, বেখেয়ালি ছেলেটার কি আমূল পরিবর্তন এসেছে। শারীরিক ফিটনেস আগের চে-য়েও বেড়েছে।

আপাদমস্তক পরিপাটি ছাপ। ঠোঁটের কোনে রিং নেই, এলোমেলো চুল গুলো এখন ছোট করে ছাঁটা। সবসময় হুডি পড়ে ঘুরে বেড়ানো ছেলেটার গায়ে ধূসর রঙের ফর্মাল শার্ট, তারউপর গাঢ় কালো রঙের ভেস্ট, গলায় শোভা পেয়েছে কালোরঙের সুনিপুণ টাই। বিগত ছয় মাসে যে ইয়াশ ইউভান অনেক বেশি পরিবর্তিত হয়েছে তা আর বোঝার অপেক্ষা রাখেনা। ইয়াশ কাছাকাছি আসতেই তুষারের দু'চোখ গর্বে চিকচিক করে ওঠে। মুখে কিছু বলার আগেই ইয়াশ নিঃশব্দে জড়িয়ে ধরলো তাকে। কয়েক মূহুর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো তুষার। ছে-লের সঙ্গে সেই ছোট্টবেলায় এমন মধুর মূহুর্ত কাটিয়েছে সে, বড় হওয়ার পর থেকে ইয়াশটা কেমন গুটিয়ে নিয়ে-ছিল নিজেকে। আজ হঠাৎ এমন করে জড়িয়ে ধরায় তু-ষারের বুকের ভেতর আনন্দের পাহাড় ভাঙলো।

রুদ্ধশ্বাসে প্রশ্ন করলো,

-- তুমি রেগে নেই?

সেই প্রশ্নের উত্তর দিলোনা ইয়াশ। উল্টো পাপাকে শক্ত হাতে আলিঙ্গন করে কৃতজ্ঞতা মিশ্রিত কণ্ঠে বলে উঠলো,

থ্যাঙ্কিউ পাপা। থ্যাঙ্কিউ ফর গিভিং মি দ্যা মোস্ট প্রিসি-য়াস গিফট ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড।

নিভৃতে হাসলো তুষার। ছেলের পিঠের উপর আলতো চাপর দিয়ে বললো,

আ'ম সো প্রাউড অফ ইউ, চ্যাম্প। ট্রলি প্রাউড অফ ইড্য।
তখনই পাশ থেকে ভেসে এলো ফ্লোরার অভিমানি কণ্ঠ-স্বর। পাপা ছেলে কি সুন্দর ভাব বিনিময় করছে, এদিকে আমি যে একটা মানুষ সাইডে দাঁড়িয়ে আছি সেটা কেউ খেয়ালই করছে না। ফ্লোরার বলতে বাকি, তৎক্ষনাৎ এগিয়ে এসে তাকে কোলে তুলে নিলো ইয়াশ। ফ্লোরা হক-চকিয়ে উঠলো। অধৈর্য গলায় বললো,

- কি করছো দুষ্ট ছেলে। মাম্মা পরে যাবোতো।

আগে তুমি আমাকে কোলে নিতে, আর এখন আমি তোমায় নিচ্ছি। সিম্পল!

বলেই মাম্মা সমেত ঘরের দিকে হাঁটা ধরলো ইয়াশ। যেতে যেতেই বললো,

আজ তোমার সব কথা শুনবো। একদম বাধ্য ছেলে হয়ে, প্রমিস।

সন্ধ্যা থেকেই ইয়াশের ঘরের সামনে ঘুরঘুর করছে প্রি-সিলা। ভেতরে টিম মেম্বারদের সাথে গেইম খেলায় মত্ত হয়ে আছে মহারাজ। বউয়ের কথা মনেই নেই তার। আপাতত নিজের অস্তিত্ব মনে করানোর জন্যই এই ঘরের সামনে পায়চারি করছে মেয়েটা। কিছুক্ষণ এদিকওদিক করে দরজা সরিয়ে উঁকি দিলো ভেতরে। সঙ্গে সঙ্গে কয়েক জোড়া অদ্ভুত চোখ কৌতূহলী নজরে ঘুরে তা-কালো ওর দিকে। যেন প্রিসিলা কোনো অন্য গ্রহের প্রাণি, ভুল বশত পৃথিবীতে ল্যান্ড করে ফেলেছে। মেয়েটা অপ্রস্তুত হলো। শুষ্ক একটা ঢোক গিলে তাকালো চারি-

দিকে। ভেতরের আলো নেভানো, মনিটর স্ক্রীনের ক্ষীণ নীল আলোয় কারোরই মুখ চেনা যাচ্ছে না ঠিক করে। তার বদলে ক্রমাগত কানে ভেসে আসছে কি-বোর্ড টুক টুক আওয়াজ। এখানে আসার পরেও ইয়াশের কোনো পাত্তা নেই। সে গেইম খেলছে একইভাবে। ফলস্বরূপ হতাশ দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো প্রিসিলা। মনমরা হয়ে দরজা ভে-জিয়ে সরে আসতে নিলে অন্ধকারের মাঝেই হঠাৎ কানে ভেসে এলো ইয়াশের রাশভারি কণ্ঠস্বর,

রুমের দরজাটা খোলা রাখিস। রাতে আসবো।

ইয়াশের কথা ওর টিম মেম্বাররা সব হইরই করে উঠলো।

কেউ তো টিপ্পনী কেটে বলে উঠলো,

ছোট বোনের রুমে তোমার কি কাজ ব্রো?

ওদের হাসিঠাট্টা শুনে রাগে-দুঃখে শরীরটা রি রি করে উঠলো প্রিসিলা। তৎক্ষনাৎ জোরে জোরে পা ফেলে ছা-দের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে তেঁতো গলায় স্বগোতক্তি করলো মেয়েটা,

খোলা রাখবো না ছাই। আসুক আজ আমার কাছে। খবর আছে।

- কার খবর আছে?

পেছন থেকে হঠাৎ ইয়াশের কন্ঠ শুনে চকিতে লাফিয়ে উঠলো প্রিসিলা। ভুতগ্রস্তের পেছনে তাকিয়ে বললো,

- তুমি এখানে?

কোথায় যাচ্ছিস?

বলবোনা। তুমি যাও গিয়ে মেম্বারসদের সাথে গেইম খেলো।

বলেই হনহনিয়ে সিঁড়ি ভেঙে রুফটপে উঠে গেলো প্রি-সিলা। ইয়াশও গেলো ওর পিছুপিছু। বাইরে জোর হাওয়া। দিচ্ছে। গাছের পাতা পাগলের মতো উড়ছে। আকাশের হাসিমুখে জোৎন্সা বিলাচ্ছে শুক্লপক্ষের একাদশী চাঁদ। চাঁদের ঐন্দ্রজালিক রূপ গলে গলে পরছে বাড়ির পাশের সবুজ বন-বনানীর গায়ে। প্রিসিলা কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়াতেই একঝাপটা রেশমি হাওয়া এসে অবাধে খেলতে শুরু করলো ওর সোনালী চুলগুলো নিয়ে। প্রিসিলা হাত বাড়ি-য়ে চুড়ো করে বাঁধতে আরম্ভ করলে ওর হাতটা ধরে ফে-ললো ইয়াশ। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিতে একরাশ কৌতুহল নিয়ে ঘুরে তাকালো মেয়েটা। ইয়াশ প্রত্যুত্তর করলো,

-রুপাঞ্জেলকে খোলা চুলেই মানায়।

প্রিসিলা তর্ক করলো না আর। চুপচাপ চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে ঘুরে তাকালো ইয়াশের দিকে। দৃষ্টির মিলন ঘটলো দু'জনার। প্রিসিলার শরীরে একটা সবুজ রঙের টিশার্ট ছিল, সেটা দেখে ইয়াশ শান্ত গলায় প্রশ্ন করলো,

আমার টিশার্ট পরে আছিস কেন?

তোমাকে মিস করছিলাম তাই।

প্রিসিলার কথার বিপরীতে ইয়াশ একটা ডাঁটিয়াল হাসি হেসে বললো,

- আমিতো সামনেই আছি, এখন তাহলে খুলে ফেল।

ওর কথা শুনে নাকের পাটা ফুলিয়ে তপ্তশ্বাস ছাড়লো প্রি-সিলা। অন্য দিকে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁত কটমট করে আওড়ালো,

- অসভ্য একটা।

এরপর কিছুটা সময় নৈঃশব্দ্যে অতিবাহিত হলো। বালি-কার নাজুক মনের সুপ্ত অভিমান ডালপালা ছড়িয়ে আকাশ ছুলো এবার। মনেমনে নিজেকেই নিজে ধিক্কার দিলো সে,

- যে বুঝতে চায়না, তাকে এতো বোঝানোর প্রয়োজন কি? কে জানে কেন এতো ভালো লাগে এই ছন্নছাড়া, মতিচ্ছন্ন, এলোমেলো ছেলেটাকে।

ওর স্বভাবের জন্যই বোধ হয় প্রিসিলা ওর প্রতি এতোটা আকৃষ্ট। যেমনটা ঈশানী ছিল এরীশের প্রতি।

প্রিসিলা মতিভ্রমে বুদ হয়ে ছিল। ঠিক তখনই পেছন থেকে ডেকে উঠলো ইয়াশ,

-পেছনে ঘোর।

- না ঘুরবো না।

মেয়েটার একরোখা জবাব। ইয়াশ এবার নিজেই ঘুরে এসে সামনে দাঁড়ালো ওর। রুপোলী চাঁদের ফিকে আলোয় ছেলেটার হাতে চকচক করছে একগুচ্ছ নীল রঙের ফুল। সেদিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থেকে প্রি-সিলা প্রশ্ন করলো,

- এগুলো কি?

- মাই ফেবরেট ব্লুবেল।

- কার জন্য?

- ফর মাই পার্সনাল ব্লুবেল।

ইয়াশ একটু ভাব নিয়ে বললো কথাটা।

- সেটা আবার কে?

পরপরই প্রশ্নটা করে তীর্যক দৃষ্টিতে ইয়াশের দিকে তা-কালো প্রিসিলা। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যুত্তর ভেসে এলো ওপাশ থেকে,

- এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর চোখের মেয়েটি।

প্রিসিলার দৃষ্টি শীতল হয়ে এলো। মুখের আদলে লজ্জাভছায়া পড়লো। তবুও মেকি একটা রাগ দেখিয়ে বললো, ঠিক আছে পাঠিয়ে দাও তাকে।

বলেই হনহনিয়ে হাঁটা ধরলো মেয়েটা। তৎক্ষনাৎ পেছন থেকে ওর কব্জিতে হ্যাঁচকা টান দিয়ে নিজের ইস্পাত কঠিন বুকে এনে ফেললো ইয়াশ। পেছন দিকে হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে মুখের কাছে মুখ নিয়ে চিবিয়ে চিবি-য়ে বললো,

নাটক করছিস? বুঝিস না সেই মেয়েটা কে?

- না বুঝিনা।

মেয়েটা তুই! শুধু তুই!

- আমি কি?

ইয়াশকে রাগিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় সদা তৎপর রমণী। কিন্তু ইয়াশ আজকে রাগ দেখালো না, উল্টো প্রিসিলাকে শক্ত করে বুকে চেপে বললো,

আমার ধূসর জীবনের একটা মাত্র নীল রঙের ফুল

তুই। মাই বিউটিফুল ব্লুবেল। আর,

এতোক্ষণে ইয়াশের বুকের মাঝে আদুরে বিড়াল ছানার মতোই গুটিয়ে গিয়েছে প্রিসিলা। সেভাবেই ওর গায়ে নাক ঘষে প্রশ্ন করলো,

- আর?

প্রিসিলার চুলের ভাঁজে অগণিত চুমু খেলো ইয়াশ।

অতঃপর মোহাচ্ছন্ন স্বরে প্রত্যুত্তর করলো,

- আর, আই লাভ ইউ্য। রিয়েলি, রিয়েলি লাভ ইউ্য।

এই পুরো ঘটনাটা সিঁড়ি ঘরের কাছে দাঁড়িয়ে চুপিসারে দেখে গেলো তুষার আর ফ্লোরা। দেখতে দেখতেই হঠাৎ নিচু গলায় স্বগোতক্তি করলো তুষার, তোমায় বলেছিলাম না, আমি যা করি খুব ভেবেচিন্তে করি?

বিপরীতে আচানক তার গালের উপর শব্দ করে চুমু খেলো ফ্লোরা। তুষার হকচকিয়ে উঠলো। ঘাড় ঘুরিয়ে ফ্লোরার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিপাত করে বললো,

- কি করছো? ছেলেমেয়ে গুলো ওখানে।

সে কথা গ্রাহ্য করলো না রমণী। চোখে চোখ রেখে স্বা-মীর সঙ্গে নিভৃতে দৃষ্টির বিনিময় করলো। অতঃপর সুদৃঢ় গলায় আওড়ালো,

তুমি বেস্ট তুষার জাওয়াদ। বেস্ট হাসবেন্ড, বেস্ট পাপা, আর সবশেষে বেস্টফ্রেন্ড। ইয়েস, ইউ্য আর বেস্ট ফ্রেন্ড ফর দ্যা রেস্ট অফ মাই লাইফ।

#সমাপ্ত

@সঙ্গিন _প্রনয়াসক্তি #উপন্যাস #পর্ব  #এক #শুধুমাত্র_প্রাপ্ত_মনস্ক_এবং_মুক্তমনাদের_জন্য।@["যাদের ডেস্পারেট কিংবা রাগী হির...
18/06/2026

@সঙ্গিন _প্রনয়াসক্তি #উপন্যাস

#পর্ব #এক

#শুধুমাত্র_প্রাপ্ত_মনস্ক_এবং_মুক্তমনাদের_জন্য।

@["যাদের ডেস্পারেট কিংবা রাগী হিরো পছন্দ গল্পটা শুধু মাত্র তাদের জন্য। যাদের কাছে অতিরঞ্জিত মনে হয় তাদের জন্য নয়।"]

ভালোবাসা একটি চার অক্ষরের বিশাল অর্থবহ তাজা অনুভূতির রাজ্য। এ অনূভুতি কে কখনো কখনো বিশ্লেষণ করে হাজারটা রূপ দান করা যায়। প্রেম, প্রনয়, মোহ, ঘোর, আসক্তি আরও কত কিই, আবার কারও কারও কাছে এটি "সঙ্গিন প্রনয়াসক্তি" বা (unhealthy obsession) |

ভালোবাসার বিশ্লেষণ যেমন সবার কাছে এক'নয়, তেমনই সবার ভালোবাসার ধরনটাও ঠিক এক'রকম নয়। কিছু মানুষের ভালোবাসা সদ্য ফোটা ভৃঙ্গরাজ পুষ্পের ন্যায় আকর্ষনীয় আর সুরভীত। তাদের হৃদয়ের আদ্যপান্ত মিলনে ইষান্বিত হয়ে কত

প্রশংসাই না করে মানুষ। অলিতে-গলিতে বন্ধু মহল থেকে শুরু করে পাড়ার চায়ের আড্ডা পর্যন্ত তাদের নিয়ে চলে দিনভর আলোচনার বহর, কি করে তৈরি হলো এমন যুগল?? এতো রাজযোটক। কোনো দিন ভাঙবে না। আরও কত কিই!!!!

অন্যদিকে এই পুষ্পরেণুর মতো ভালোবাসার বিপরীতে যে শুধুই ঘৃনার বসবাস তেমনটা নয়, ওই যে বললাম ভালোবাসারও ধরন হয়। কেউ কেউ এসব গঁদবাধা ভালোবাসার নিয়মে গা ভাসাতে পারেনা কোনো কালেই, খালি মুখে ভালোবাসি কথাটা উচ্চারন করাটাও যেন হিমালয় জয় করার মতো এডভেঞ্চারাস আর থ্রিলিং তাদের কাছে, তাই সেসব কিন্তু ওয়ালা মানুষগুলোর ভালোবাসা প্রকাশের ধরনটাও হয় কিছুটা ভিন্নরকম, সেখানে অনুভূতি প্রকাশের থেকে আদায়করার স্পৃহাটাই বেশি কাজ করে। সেই আদায় করার ধরনটা যেমনই হোক, জোর করে কিংবা তার থেকেও কোন কুৎসিত পন্থায় (এট এ্যনি কষ্ট)।

কারও কাছে সে ভালোবাসা বিষাক্ত তো কারও কাছে অসুস্থ।

কারও মতে এ আবার কেমন ভালোবাসা, এটা কোনো কালেই ভালোবাসা নয়, নিছকই আসক্তি, ভয়ানক আসক্তি। আবার ইঁচড়েপাকা, ডার্ক রোম্যান্স দেখে দেখে ফরেইন কালচারে বেড়ে ওঠা অষ্টাদশীদের কাছে ইটস কল্ড ডেঞ্জারাস লাভ।

এতো এতো বিশ্লেষণ আর চর্চার বাইরে গিয়ে আরও একধরণের অনুভূতি রয়েছে, এটা অনেকটা একপাক্ষিক ভালোবাসা বা অনসাইড লাভ। হৃদয়ের সুপ্ত অনুভূতির কথা তাকে না জানিয়েও কি সন্দর দিনরাত অতিবাহিত করে দেওয়া

যায় তাকে কল্পনায় ভালোবেসে। একটিবার চোখের দেখা

দেখেও নরম হৃদয়টা পুলকিত হয়ে ওঠে মূহুর্তেই। ভালোবাসা টইটুম্বুর হয়, ভরে ওঠে হৃদয়ের কানায় কানায়, ভার্সিটির ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে বই আস্তরিত ফাঁকা লাইব্রেরীর এককোনের ছোট্ট টেবিলটায় সেই শ্যাম পুরুষকে দেখার জন্য কত যায়গাতেই না ছুটে বেড়ায় বেপরোয়া সর্বনাশা মনটা, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে ছোটে মনের অধিকারী র'ক্তমাংসের মানুষটাও। আপন মনকে অন্যজনের নিয়ন্ত্রনে ছেড়ে দিলে এই হয়। ক্যাম্পাসে এসে তাকে এক নজর না দেখা অবধি অশান্ত মনটা দমার নামই নেয়না। এই যেমন এই মূহুর্তটা মনটা কেমন ঝিমিয়ে যাওয়া ম'রা বিকেলের ন্যায় শান্ত হয়ে আছে। উচ্ছ্বাস আকাংঙ্খা সবকিছু দমে গিয়ে তৃষ্ণার্থ চোখ জোড়া সবচেয়ে পছন্দের শ্যাম পুরুষটিকে দেখতে ব্যাস্ত। সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা অতিবাহিত হয়, তবুও তাকে দেখে দেখে চোখ দুটো ক্লান্ত হয়না, কি আছে এই শ্যাম পুরুষের মাঝে?? আহামরি তো কিছু নয়, হলিউড কিংবা বলিউড হিরোদের মতো পেশীবহুল গৌড় বর্ন ও নয়। ছিমছাম গড়নের শ্যাম পুরুষ সে, বেশ লম্বা চওড়া মানুষটা আর সবচেয়ে সুন্দর তার হাসি, হাসির সাথে সাথে কি সুন্দর ঠেউ খেলে যায় টোল পরা গাল দুটোতে।

ফাঁকা লাইব্রেরীতে সবচেয়ে কর্নারের টেবিলটায় ঠিক মুখো মুখি হয়ে বসে আছে নিখিল ভাই। এটা বোধ হয় নিখিল ভাইয়ের পছন্দের যায়গা ওই জন্যই তো প্রতিদিন এসে এখানটায় বসে বই পড়ে। পড়বে নাই'বা কেন ভার্সিটির তুখোর ছাত্র নিখিল ভাই, ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে সমাবেশ কিংবা নির্বাচন সব কিছুতেই নিখিল ভাইয়ের অগ্রাধিকার, সেই যের ধরে ভার্সিটির ভিপিও তিনিই। এক নামে সবাই চেনে, তবে পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটুও কম্প্রোমাইজ করেননা তিনি, এই

যে এখনো বই পড়ছে, কানে হেডফোন গুঁজে বইয়ে মুখ ডুবিয়ে পাতার পর পাতা উল্টে যাচ্ছে, এই সিনটা দেখতেও মারাত্মক লাগছে, লাগবেই তো এতো কাছ থেকে নিখিল ভাইকে দেখার সযোগ হয়নি কোনো কালেই। মনে হচ্ছে সময়টা এখানেই আটকে যাক। আজ লাইব্রেরিটাও বেশ ফাঁকা, সিনিয়র রা তেমন কেউই নেই। এই সুযোগে নিখিল ভাইয়ের সাথে দু'একটা কনভারসেশন এগোলে ক্ষতি কি??

--নিখিল ভাই, এই যে নিখিল ভাই........লাজুক হেসে টেবিলে টক টক করে সামান্য টোকা দিয়ে ডাকছে অরু, তবুও নিখিল ভাইয়ের হেলদোল নেই কোনো। একবার তাকালো না পর্যন্ত আশ্চর্য এভাবে উপেক্ষা করার কি হলো? অরুর বুঝি খারাপ লাগেনা? লজ্জা আর আত্মসম্মানের মাথা খেয়ে অরু আবারও ডাকলো তাকে, কিন্তু এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে, নিখিল ভাই কোনোরূপ সারা দিলোনা বরং ওর দিকে না তাকিয়েই বাম হাত দিয়ে একটা ছোট্ট সাইজের এলার্ম ঘড়ি এগিয়ে দিলো ওকে, যেটা এই মূহুর্তে বাজখাঁই আওয়াজ তুলে কানের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।

--ইশ কি বিরক্তি কর, এটা কেন দিলেন নিখিল ভাই??

এবারও নিখিল ভাই নিশ্চুপ, বরং এলার্মের বিরক্তিকর শব্দটা আরও দিগুণ জোরে বাজিয়ে দিলেন তিনি, এলার্মটা বিরক্তির আওয়াজ তুলে কর্নকূহর ছাপিয়ে মস্তিষ্কে এসে লাগছে এবার, কানের পর্দা ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম। নাহ আর নিতে পারলো না অরু, বিরক্তির চড়ম পর্যায়ে গিয়ে শব্দ করে চেঁচিয়ে উঠলো,

-- এটা বন্ধ করুন নিখিল ভাই উফফ আর সহ্য হচ্ছে নাআআআ.. একপর্যায়ে গায়ের কম্ফোর্টারটা ছুড়ে ফেলে হন্তদন্ত হয়ে উঠে বসলো অরু।

ঘুমের ঘোর এখনো কাটেনি.. চারিদিকের পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে উঠতে একটু সময় লেগে গেলো ওর, যখন বুঝে উঠলো তখন প্রতিদিনের মতো প্যালেসের ন্যায় মাস্টার বেডরুমের কিং সাইজ বিছানায় নিজেকে আবিস্কার করলো অরু। ঠোঁট কামড়ে একটা চাঁপা নিঃশ্বাস ছেড়ে ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে নিজের হাটু অবধি লম্বা সিল্কি চুল গুলোকে মেসি বান করে বিছানা ছাড়লো ও, তারপর সবার আগে বন্ধ করলো বিরক্তিকর অ্যালার্মটাকে।

একে একে পুরাতন জানালার ভারী পর্দা গুলো সরিয়ে রুমটাকে আলোকিত করে বসে পরলো ল্যাপটপ নিয়ে ..তারপর সেই বিরক্তিকর কাজ মেইল পাঠানো।

গত একবছর ধরে এটা ওর রুটিনে রূপান্তরিত হয়েছে, আপা যে কেন বুঝতে চায়না কে জানে? আবারও ভেতরের আহত বাতাসকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে নিংড়ে বের করলো অরু।

মেইল পাঠানো শেষ হলে, শক্ত কাঠের চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিয়ে উদাসীন চোখে বাইরে চাইলো অরু,ওর

পড়নে কোন দামি পাজামা সেট নয়, বরং সিম্পল প্লাজো আর একটা ওভারসাইজ টিশার্ট, সাধারন বাঙালি মেয়েরা যা পরে ঘুমায় আর কি, এই রুমের বিশাল জানালার কারুকাজ করা লৌহ গাট গলিয়ে যতদূর চোখ যায় শুধু বাগানবিলাশের ছড়াছড়ি, এখন বসন্ত চলছে তাই একটু বেশিই সুন্দর লাগছে বাড়ির ফ্রন্ট ইয়ার্ডটা।

পুরান ঢাকায় যতগুলো প্রাচীন আর নাম করা বাড়ি আছে তার মধ্যে এই বাড়িটা অন্যতম। লোকমুখে শোনা যায় এ বাড়ির পূর্ব পুরুষরা নায়েব -গোমস্তা ছিলেন। পরবর্তী প্রজন্মে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেলেও এদের বংশপরম্পরায় নেতৃত্ব আর আভিজাত্য ভাবটা রয়েই যায়, তাইতো যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সবাই রাজনৈতিক কর্নধার হয়ে নাম লিখিয়ে এসেছেন। এই বাড়িটা ঠিক কোন প্রজন্মের জানা নেই অরুর তবে বাড়িটা বেশ পুরোনো। প্রায় দশ বিঘা জমি নিয়ে তৈরি এ বাড়িটাকে ছোট খাটো ড্রিম হলিডে বললে মন্দ কিছু হবেনা।

মহলের সদর দরজা থেকে গেইট অবধি যেতে মিনিট দশেক টাইম লেগে যায়, ধীরে সুস্থে হাটলে তার চেয়েও বেশি। তারপর চোখে পরে অযত্নে ইতি-উতি বেড়ে ওঠা বাগান বিলাসে ঘেড়া দানবাকৃতির বিশাল গেইট। তাতে মার্বেল পাথর দিয়ে গুটিগুটি অক্ষরে লেখা

" ক্রীতিক কুঞ্জ"।

বছর ত্রিশেক আগেও বাড়ির নাম কিংবা গেইটের চেহারায় ভিন্নতা ছিল, কিন্তু ত্রিশ বছর আগে এ বাড়ির ছোট কর্তার জন্মের পরই তার দাদাসাহেব এক মাত্র আদরের নাতির নামে বাড়ির নাম পরিবর্তন করেন। ইট পাথর আর লোহায় ঘেরা গেইটকে সর্বেসর্বা বিদায় জানিয়ে মার্বেল পাথরের গেইট নির্মান করেন সে'ই, বাড়ির নাম পরিবর্তন করে রাখেন "ক্রীতিক কুঞ্জ"।

সময় পাল্টেছে, সময়ের তালে তালে বদলে গেছে কতৃত্ব আর আভিজাত্যে মোড়ানো মানুষ গুলোওও। একে একে খালি

35

হয়েছে ক্রীতিক কুঞ্জ। তাদের দাম্ভিকতা কিংবা রাজনৈতিক অবদান এখন কেবলই লোক মুখের বুলি মাত্র। এতো কিছু বাদ দিলেও রিয়েলস্টেড বিজনেস নিয়ে এ পরিবার এগিয়েছে অনেক দূরে..... দেশ ছাপিয়ে বিদেশে সগৌরবে দাপিয়ে বেড়ায় এদের পারিবারিক বিজনেস। সবাই এক নামে চেনে, দেশিয় পন্যের থার্টি পাসেন্ট জোগান এদের পারিবারিক ব্যাবসা থেকেই আসে, শুধু উচ্চ পদস্থ না, সয়ং সরকারওও আজকাল মুখে লাগাম দিয়ে কথা বলে এদের সাথে।

--আনফরচুনেটলি এই পরিবারের শুধু টাকাই আছে পরিবার বলে কিছু নেই, আপসোসের সুরে বলে ওঠে অরু। তখনই নিচ তলা থেকে অনুর রাশভারী কন্ঠস্বর শোনা গেলো,

--অরু এই অরুর বাচ্চা খেতে নাম, আমি কি এখন পালকি নিয়ে আসবো? হসপিটালে যেতে দেরি হলে তোর খবর আছে।

শুনেই বোঝা যাচ্ছে বেজায় চটে আছে সে।

অরু দ্রুত চেয়ার ছেড়ে দেওয়াল ঘড়িতে চোখ রাখলো, নয়টা বেজে পয়ত্রিশ,

-- এই রে.. হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে সময় শেষ করে ফেলেছি, তারউপর আজ আবার ভার্সিটিতে যাওয়ার প্লান আছে, নিচে গেলে আপা নির্ঘাত কথা শুনিয়ে পেট ভরিয়ে ফেলবে... এখন কি করি?

বিশাল হলরুমের এক কোনে রান্নাঘর, তার পাশেই ছোট ছোট একটা ডাইনিং, চারজন মতো বসার যায়গা হবে। সেখানেই খাবার সাজাচ্ছে অরুর বড় আপা অনু। এ বাড়ির কোনো কিছুই না পারতে ব্যাবহার করেনা অরুরা। যতটুকু না করলেই নয়, ঠিক ততটুকুতেই ওরা অধিকার খাটায়।

অনু খাবার সার্ভ করতে করতেই রেডি হয়ে নিচে নামে অরু, পরনে সেটে আছে টপস আর স্কার্ট, হাতে পুঁথি দিয়ে তৈরি বানজারা ব্যাগ।

অরু কে দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো অনুর। অরুর পরিপাঠি রূপ দেখে তেতিয়ে উঠলো মস্তিষ্কটা, রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো অরু চেয়ারে বসার সঙ্গে সঙ্গে।

এতোক্ষণে আসার সময় হলো তোর? রুমে দরজা আটকে কি করিস এতো? তোর জন্য আমার হসপিটালে যেতে কতটা দেরি হয়ে গেলো দেখলি??

অরু রুটি আর ডিমের রোলে কামড় বসাতে বসাতে বললো, রেডি হচ্ছিলাম আপা।

প্রতিদিনই তোর রেডি হতে লেট হয়? আর রেডি কেন হয়েছিস? কতবার বলেছি ভার্সিটিতে যাওয়ার দরকার নেই, আমি একা এতো কিছু সামলাতে পারছি না হাঁপিয়ে উঠেছি আমি। নিঃশ্বাসের পাল্লা ভারী হয় অনুর।

অনুর হাজারটা অভিযোগেও অরু নিশ্চুপ। শুধু ছোট্ট করে প্রশ্ন করে, মা এখন কেমন আছে আপা?

অনু আবারও ঝাঁঝ নিয়ে বলে,

সেটা নিজে গিয়েই বরং দেখে আয়।

আমার দেখতে ভালো লাগেনা আপা, বড্ড কষ্ট হয় মাকে এভাবে নিথর হয়ে শুয়ে থাকতে দেখতে, হসপিটালের ডেটল

আর হেক্সাসল এর গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে আমার। শ্বাস নিতে পারিনা আমি।

অরুর কথায় অনু আড়ালে নিঃশ্বাস ছাড়ে, মায়ের অসুখের পর থেকে ওর ডান পিঠে দুরন্ত বোনটা নিজেকে অনেক সামলেছে, যে মেয়ে সারাদিন হুরোহুরি আর বান্ধবীদের নিয়ে মেতে থাকতো সেই মেয়ে ঘরকুনো হয়েছে, হাজারটা অহেতুক বায়না ধরা মেয়েটা প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে এখন অহেতুক বায়না ধরা মেয়েটা প্রয়োজনের বাহরে গিয়ে এখন আর একটা কথাও বলেনা। অরুর মতো মুক্ত বাতাসে ডানাঝাপটানো মেয়ের জন্য এই পরিবর্তন অনেক কিছু, এতো অল্প বয়সে আর কতইবা সামলাবে নিজেকে ও?

অরুর বয়স কম সবে উনিশে পা দিয়েছে, তাইতো অনু নিজেই ওকে এসব হসপিটালের ঝুটঝামেলা থেকে দুরে সরিয়ে রাখে, আবার নিয়তির সাথে পেরে না উঠে নিজেই বিরক্ত হয়ে যায় বারংবার, সে বিরক্তি নিজের মধ্যে আটকে রাখা কষ্টকর হয়ে ওঠে ওর জন্য, গুমরে মরা অশান্ত হৃদয়টাকে একটু হালকা করার দায়ে মাঝেমধ্যেই বহিঃপ্রকাশ ঘটে চড়াও মেজাজের, যার ভুক্তভোগী হয় ওর ছোট্ট বোনটা।

অনু নিজেকে বহুবার বুঝিয়েছে আর যাই হোক ছোট বোনের ওপর রাগ ঝাড়বে না, কিন্তু দিন শেষে, মায়ের অসুখ, বাড়ি হসপিটাল-হসপিটাল বাড়ি এই করতে করতে নিজের খেইর নিজেই হারিয়েছে।

--আপা আমি গেলাম, আগামী একসপ্তাহ কোথাও যাবোনা, রান্না বান্না সব আমি করবো তবুও প্লিজ রাগ করিস না তুই।

-এই শোন, অনুর অযাচিত ডাকে পেছনে ঘুরলো অরু।

ইমেইল...

অনু কি বলবে সেটা বোধ হয় অরু জানতো, তাই এগিয়ে এসে বললো, ইমেইল পাঠিয়ে দিয়েছি।

কোন রিপ্লে এসেছে??

অরু তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে,

--- আপা তুইও না, গত এক বছর ধরে একটানা ইমেইল পাঠানোর পরেও যেখান থেকে একটা রিপ্লে আসেনি, হুট করেই সেখান থেকে রিপ্লে চলে আসবে? এতোটাও বেশি আসা করিস না।

কথা শেষ করে গট গট পা ফেলে প্যালেসের মতো বিশাল মহল ছেড়ে বেরিয়ে যায় অরু।

অরু চলে যাওয়ার পরে.. অনু আনমনে বলে, আমার বিশ্বাস অরু কোনো একদিন ঠিক রিপ্লে আসবে, আর আমরা মাকে সুস্থ হয়ে ফিরবে, তোর আর আমার দুঃখ সেদিনই ঘুচবে।

জটলা পাঁকানো চুলের মতো পুরান ঢাকার রাস্তা গুলোতে ইলেকট্রনিক তারের ছড়াছড়ি, রাস্তার দু ধারে লোহালক্কড়, হলুদ, মরিচ, শাড়ী, বিরিয়ানি আর গুড়ের পাইকারি দোকানের মরচে পড়া গন্ধ। কখনো কখনো সেই গন্ধটা নাকে উৎকট লাগে, আবার কখনো বেশ ভালো। মাথার উপর সূয্যি মামা তীর্যক আলো ছড়াচ্ছে, আজ বোধ হয় ভালোই গড়ম পরবে, দু'ধারে দোকান পাঠ ছাপিয়ে টিংটিং আওয়াজ করে

জগন্নাথবিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে অটোচালিত রিকশা, তাতে চেপে বসে আছে অরু।

পুরো নাম, মেহরীন শেখ অরোরা। এই বছরই ভার্সিটিতে এডমিশন হয়েছে ওর। তবে নতুন নতুন বড় হয়ে যাওয়া, ভার্সিটির আনন্দ, কিংবা বন্ধুমহল কোনো কিছুই ছুতে পারেনি ওকে, কারন একটাই মায়ের হার্টের অসুখ। আগে তাও হেটে চলে আসতে পারতো কিন্তু গত একবছর ধরে হসপিটালের এক কামরার বেডে শুয়ে দিনাতিপাত করে ওর মা আজমেরী শেখ। মায়ের দিনরাত দেখভাল করতে হয় বলে বড় বোন মেহবীন শেখ অনন্যা ইন্টারমিডিয়েটের পরেই পড়াশোনার ইতি টেনেছে।

অরু জানে ওর বড় আপা এতো রগচটা কোনোকালেই ছিলনা, গত একবছর ধরেই এমন হুটহাট রেগে যায় আপা, আর এও জানে পরিবারের জন্য আপার কত বিষর্জন, এমনটা নয় যে অনু বয়সে অরুর থেকে খুব বড়, পিঠেপিঠি বোন ওরা দুজন, তবুও অনুর কত ত্যাগ।

তাইতো আপার রাগের মাথায় বলা সবচেয়ে তিক্ত কথাগুলোকেও গায়ে মাখেনা অরু।

অরুর উদাসীন ভাবনার ইতি টেনে রিকশা এসো পৌঁছালো গন্তব্যে।

ভার্সিটির গেটে দাঁড়িয়ে লম্বা করে শ্বাস নেয় অরু, এই একমাত্র যায়গা যেখানে এসে একটু প্রানভরে সস্থির নিঃশ্বাস নিতে পারে অরু। সেই সাথে সস্থিদায়ক মানুষটার একটিবার দেখা মিললে তো আর কথায়ই নেই।

#চলবে

Address

Habiganj
Sylhet

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when তোর আশিকি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category