08/08/2026
নিদারাবাদ সাত খুন: সম্পত্তির লোভে নিশ্চিহ্ন একটি পরিবার, যে হত্যাকাণ্ড আজও শিউরে তোলে মানুষকে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিদারাবাদ হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড হিসেবে আজও মানুষের মনে দাগ কেটে আছে।
একটি পরিবারের সাতজন মানুষ—বাবা, মা এবং পাঁচ সন্তান—ধীরে ধীরে ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্রের শিকার হন। উদ্দেশ্য ছিল সম্পত্তি দখল।
ঘটনার শুরু ১৯৮৭ সালে। আর ভয়াবহ পরিণতি ঘটে ১৯৮৯ সালে। মাঝখানে দুই বছর ধরে চলেছিল নিখোঁজ, মামলা, ভয়ভীতি, মিথ্যা প্রচার এবং শেষ পর্যন্ত একটি পরিবারের ওপর নেমে আসা নির্মম হত্যাযজ্ঞ।
আজও হরষপুর-নিদারাবাদ এলাকার মানুষ সেই ঘটনার কথা মনে করলে আঁতকে ওঠেন। ঘটনাটি এতটাই আলোচিত হয়েছিল যে পরবর্তীতে এটি নিয়ে নির্মিত হয় ‘কাঁদে নিদারাবাদ’ চলচ্চিত্র।
শুরুটা যেভাবে
১৯৮৭ সালের ১৬ অক্টোবরের এক কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে নিদারাবাদ গ্রামের দরিদ্র মুড়ির মোয়া বিক্রেতা শশাঙ্ক দেবনাথকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান তাঁর পূর্বপরিচিত তাজুল ইসলাম।
শশাঙ্ক তখন সন্তানসম্ভবা স্ত্রী বিরজাবালাকে বলেছিলেন, তিনি গুড় আনতে যাচ্ছেন এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবেন।
কিন্তু সেই যাওয়া ছিল তাঁর শেষ যাওয়া।
শশাঙ্ক আর বাড়িতে ফেরেননি।
দিন যায়, সপ্তাহ যায়, মাস যায়—কিন্তু তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না।
তাজুলকে বারবার জিজ্ঞেস করলে তাঁর বক্তব্য ছিল—শশাঙ্ক নাকি তাঁর কাছে জমি বিক্রি করে ভারতে চলে গেছেন।
কিন্তু স্ত্রী বিরজাবালা সেই কথা বিশ্বাস করেননি। কারণ শশাঙ্ককে শেষবার তাজুলই ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত বিরজাবালা তাজুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন।
মামলার তদন্ত ও বিচার এগোতে থাকে। তাজুল মাঝে মাঝে গ্রামে থাকতেন, আবার গা ঢাকা দিতেন। বিরজাবালার ওপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপও দেওয়া হচ্ছিল বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে। কিন্তু তিনি মামলা প্রত্যাহার করেননি।
দুই বছর পর নিখোঁজ পুরো পরিবার
শশাঙ্ক নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই বছর পর, ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নিদারাবাদে ঘটে যায় আরও ভয়াবহ ঘটনা।
এবার নিখোঁজ হন শশাঙ্কের স্ত্রী বিরজাবালা দেবনাথ (৪৫) এবং তাঁদের পাঁচ সন্তান—
- নিয়তি বালা — ১৭ বছর
- প্রণতি বালা — ১০ বছর
- সুভাষ দেবনাথ — ১৪ বছর
- সুপ্রসন্ন দেবনাথ সুমন — ৫ বছর
- সুজন দেবনাথ — মাত্র ২ বছর
শশাঙ্কের আরেক মেয়ে সুনীতিবালা তখন শ্বশুরবাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
গ্রামে তখন নানা কথা ছড়িয়ে পড়ে।
কেউ বলল, শশাঙ্ক আগেই ভারতে চলে গেছেন। এখন সুযোগ বুঝে তাঁর স্ত্রী-সন্তানদেরও ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কেউ আবার বলতে শুরু করল, শশাঙ্ক নাকি তাঁর জমিজমা বিক্রি করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
ফলে নিখোঁজ ছয়জনের ব্যাপারটিও প্রথমদিকে অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি।
কিন্তু সত্যিটা ছিল ভয়াবহ।
একটি ড্রামই খুলে দিল রহস্যের দরজা
কয়েক দিন পরের ঘটনা।
নিদারাবাদ গ্রামের স্কুলশিক্ষক আবুল মোবারক একদিন বিকেলে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। নৌকাটি ধুপাজুড়ি বিলের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল।
হঠাৎ তিনি পানিতে দুর্গন্ধযুক্ত কিছু ভাসতে দেখেন।
নৌকার গতিপথ একটু পরিবর্তন করা হয়।
একসময় নৌকার নিচে কোনো শক্ত জিনিস আটকে গিয়ে নৌকাটি দুলে ওঠে। মাঝির বৈঠায় পানির নিচে খটখট শব্দ হয়।
সন্দেহ হওয়ায় মাঝিকে পানির নিচে খোঁচাতে বলা হয়।
কিছুক্ষণ পর পানির নিচ থেকে উঠে আসে একটি ড্রাম।
ড্রামটির মুখ বন্ধ। চারদিকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ।
বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় আবুল মোবারক স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের খবর দেন।
ড্রাম খুলতেই সবাই স্তব্ধ হয়ে যান।
ভেতরে পাওয়া যায় তিনটি মানুষের মরদেহ।
এরপর শুরু হয় বিলজুড়ে অনুসন্ধান।
কিছুক্ষণ পর পাওয়া যায় আরও একটি ড্রাম।
সেটির ভেতরেও ছিল মানুষের মরদেহ।
দুই ড্রামে মিলিয়ে পাওয়া যায় ছয়টি লাশ।
পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর বেরিয়ে আসে ভয়াবহ সত্য—
এরা আর কেউ নন, ১১ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া বিরজাবালা দেবনাথ ও তাঁর পাঁচ সন্তান।
মরদেহগুলো টুকরো করে ড্রামে ভরে চুনসহ পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একটি ড্রামের সন্ধানই যেন খুলে দিয়েছিল দুই বছর ধরে রহস্যে ঢাকা একটি পরিবারের করুণ পরিণতির দরজা।
তদন্তে উঠে আসে সম্পত্তির লোভ
ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে সামনে আসে তাজুল ইসলাম।
পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, শশাঙ্ক দেবনাথের সম্পত্তির ওপর তাজুলের লোভ ছিল। প্রথমে শশাঙ্ককে সরিয়ে দেওয়া এবং পরে তাঁর স্ত্রী-সন্তানদেরও হত্যা করে সম্পত্তি দখলের পথ পরিষ্কার করার অভিযোগ ওঠে।
এদিকে ছয়টি লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাজুল গা ঢাকা দেন।
তাঁকে ধরতে পুলিশ দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে।
কিন্তু সমস্যা ছিল—তাজুলের কোনো নির্ভরযোগ্য ছবি পুলিশের হাতে ছিল না।
কৃষি ব্যাংকের একটি ছবি
অবশেষে স্থানীয় এক সাংবাদিক পুলিশকে জানান, তাজুল কৃষি ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন।
পুলিশ সেখানে যোগাযোগ করে তাঁর ছবি সংগ্রহ করে।
ছবি হাতে পাওয়ার পরও তাজুলকে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়নি।
পুলিশ জানতে পারে, তিনি নিজের চেহারা পরিবর্তন করেছেন।
দাড়ি রেখেছেন, চুল বড় করেছেন এবং নিজেকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছেন যাতে তাঁকে সহজে শনাক্ত করা না যায়।
কাকরাইল মসজিদের সামনে সেই নাটকীয় গ্রেপ্তার
অবশেষে আসে সেই মুহূর্ত।
ঢাকার কাকরাইল মসজিদের সামনে একদল মুসল্লির সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে দেখে এক গোয়েন্দার সন্দেহ হয়।
লোকটির মুখে লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি এবং চেহারায় পরিবর্তন।
কিন্তু গোয়েন্দার কাছে থাকা ছবির সঙ্গে তাঁর চোখের দৃষ্টি ও মুখের কিছু বৈশিষ্ট্যের মিল ছিল।
বিশেষ করে চোখের ওপরের একটি দাগ।
গোয়েন্দা নিশ্চিত হন—এই ব্যক্তিই তাজুল।
তাকে আটক করার পর তিনি মুসল্লিদের সামনে নিজের পরিচয় দেন এবং তাজুলকে পুলিশের হেফাজতে নেন।
পরে তাঁকে মালিবাগের সিআইডি দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
৩৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
নিদারাবাদ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ মোট ৩৮ জনকে দায়ী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়।
মামলায় তাজুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, হত্যাকাণ্ডটি আকস্মিক ছিল না; বরং এটি ছিল পরিকল্পিত। শশাঙ্কের সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
তাজুলের জবানবন্দীতে যে ভয়াবহ বর্ণনা
পরবর্তী সময়ে আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে তাজুল হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বর্ণনা করা হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যার কয়েক দিন আগে সহযোগীদের সঙ্গে পরিকল্পনা করা হয়। নৌকা ভাড়া করা হয়। ড্রাম, চুন ও লবণের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর গভীর রাতে একটি দল নৌকায় করে শশাঙ্কের বাড়ির কাছে যায়।
বাড়ির জানালার রড বাঁকিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিরজাবালা ও তাঁর সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তাদের মুখ চেপে ধরে নৌকায় তুলে নেওয়া হয়।
এরপর ধুপাজুড়ি বিলের দিকে নিয়ে গিয়ে তাঁদের হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দীতে বর্ণনা রয়েছে।
মরদেহগুলো টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরা হয়। ড্রামে চুন ও লবণ দেওয়া হয় এবং সেগুলো পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়।
এই অংশগুলো তাজুলের জবানবন্দীর বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত; প্রতিটি খুঁটিনাটি আলাদা করে আদালতের মূল নথি দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।
শশাঙ্কের হত্যার কথাও উঠে আসে
তদন্তের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল—বিরজাবালা ও তাঁর পাঁচ সন্তানকে হত্যার আগে শশাঙ্ককেও হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
তাজুলের জবানবন্দীতে বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে শশাঙ্ককে সীমান্ত পার করে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করা হয়েছিল।
পরে তাঁকে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং রাতের বেলায় গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দীতে উল্লেখ করা হয়।
এরপর তাঁর মরদেহ সীমান্তের ওপারে নিয়ে গিয়ে একটি পরিত্যক্ত কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে বর্ণনা দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, তদন্ত ও জবানবন্দীর বর্ণনা অনুযায়ী, পুরো ঘটনাটি ছিল এক দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ—প্রথমে পরিবারের কর্তা শশাঙ্ককে সরিয়ে দেওয়া, এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের নিশ্চিহ্ন করে সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
আদালতের রায়
মামলাটি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়।
১৯৯০ সালের জুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ আদালত ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়; দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে তাজুল ইসলাম ও বাদশা মিয়ার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে এবং আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয় বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ১৯৯৩ সালের ১১ আগস্ট রাত ২টা ১ মিনিটে কুমিল্লা কারাগারে তাজুল ইসলাম ও বাদশা মিয়ার ফাঁসি কার্যকর হয়।
তাজুলের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ ও ঘৃণা ছিল প্রবল। তাঁর ফাঁসি কার্যকরের পর নিদারাবাদে মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাসের কথা সমসাময়িক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কারাগার থেকে মরদেহ বের করার সময় ক্ষুব্ধ মানুষ জুতা নিক্ষেপ ও থুতু দেওয়ার ঘটনাও সংবাদে এসেছে।
সাতটি প্রাণ, একটি পরিবার
নিদারাবাদ হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো—এটি শুধু ছয়টি হত্যাকাণ্ড ছিল না।
এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দুই বছর আগে নিখোঁজ হওয়া শশাঙ্ক দেবনাথের হত্যাকাণ্ড।
অর্থাৎ—
**শশাঙ্ক দেবনাথ
+ তাঁর স্ত্রী বিরজাবালা
+ পাঁচ সন্তান
= একই পরিবারের সাতজন মানুষ।**
সবচেয়ে ছোট সন্তান সুজনের বয়স ছিল মাত্র দুই বছর।
একটি পরিবারের কাউকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি—শুধু শশাঙ্কের মেয়ে সুনীতিবালা শ্বশুরবাড়িতে থাকায় বেঁচে যান।
আজও কেন মনে পড়ে নিদারাবাদ?
এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি গ্রামের অপরাধের ইতিহাস নয়; এটি মানুষের লোভ, ষড়যন্ত্র এবং অপরাধের ভয়াবহ পরিণতির একটি নির্মম উদাহরণ।
একদিকে একটি দরিদ্র পরিবার—অন্যদিকে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ।
প্রথমে পরিবারের কর্তা নিখোঁজ।
তারপর দুই বছর পর স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিখোঁজ।
এরপর বিলের পানিতে ভেসে ওঠা ড্রাম।
ড্রামের ভেতর ছয়টি মরদেহ।
তারপর দেশজুড়ে আসামিকে খোঁজা, ছদ্মবেশে পালিয়ে থাকা, শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার, বিচার এবং ফাঁসি।
সব মিলিয়ে নিদারাবাদ হত্যাকাণ্ড হয়ে ওঠে বাংলাদেশের অপরাধ ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়।
ঘটনাটি এতটাই আলোচিত হয়েছিল যে পরবর্তীতে এটি নিয়ে নির্মিত হয় ‘কাঁদে নিদারাবাদ’ নামের চলচ্চিত্র।
শেষ কথা
আজ বহু বছর পেরিয়ে গেছে।
নিদারাবাদের সেই রাত, সেই নৌকা, সেই ড্রাম, সেই বিল—সবই এখন ইতিহাস।
কিন্তু বিরজাবালা, তাঁর পাঁচ সন্তান এবং শশাঙ্ক দেবনাথের নাম সেই ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে।
একটি পরিবারের সাতটি জীবন নিভে গিয়েছিল সম্পত্তির লোভ ও পরিকল্পিত সহিংসতার কাছে।
আর ধুপাজুড়ি বিলের পানিতে ভেসে ওঠা সেই ড্রাম একদিন প্রমাণ করে দিয়েছিল—
সত্যকে যত গভীর পানির নিচেই চাপা দেওয়া হোক, কোনো না কোনো দিন তা ভেসে উঠবেই।নোট: আপনার লেখার আবেগ ও ঘটনাক্রম যতটা সম্ভব রাখা হয়েছে, তবে প্রকাশযোগ্য প্রতিবেদনের জন্য সাম্প্রদায়িক গালি ও অযাচাইকৃত দাবিগুলোকে সরাসরি তথ্য হিসেবে না লিখে প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করেছি। ১৯৮৭ সালের ১৬ অক্টোবর, ১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, ৩৮ জনের চার্জশিট এবং ১৯৯৩ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসির মতো মূল তথ্যগুলো প্রকাশিত সংবাদসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।