22/05/2026
যাত্রাবাড়ী মোড়ের জ্যাম আর গরমের মধ্যে হঠাৎ চোখ গেল ভ্যানভর্তি টকটকে লাল লিচুর দিকে। বিক্রেতা হাঁকাচ্ছে, এক দাম, দুইশো, একদম মধুর মতো মিষ্টি!" লোভ সামলাতে না পেরে দাঁড়িয়ে গেলাম।
জিভে জল আনা লিচু দেখে দরদাম করে একশ লিচুই কিনে ফেললাম। বিক্রেতা যখন চটপট হাত চালিয়ে ব্যাগে লিচু ভরছিলেন, তখন তার নিখুঁত হাতের কাজ দেখে মনে মনে ভাবলাম, "বাহ্, ঢাকা শহরের মানুষ কত ফাস্ট!" আমাকে ১০ টা লিচু বকশিসও দিলো। পলিথিনটা হাতে নিয়ে বিজয়ী বেশে বাসে উঠলাম।
বাসে বসে ভাবলাম, হিসাবটা একবার মিলিয়ে নেওয়া যাক। যেই না গোনা শুরু করলাম, আমার চোখ তো চড়কগাছ! বিশ, ত্রিশ, চল্লিশ... ব্যাস, গল্প ওখানেই শেষ! একশ লিচুর জায়গায় ব্যাগে মাত্র পঁয়ষট্টিটি লিচু টিমটিম করছে। বাকি পঁয়ত্রিশটা লিচু যেন যাত্রাবাড়ীর জ্যামেই হাওয়া হয়ে গেছে!
মুহূর্তের মধ্যে মেজাজটা সপ্তম আকাশে চড়ে গেল। মনে হলো বাস থেকে নেমে গিয়ে ওই বিক্রেতার কলার চেপে ধরি। কিন্তু তখনি পাশে বসা এক বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রী আমার কান্ড দেখে মুচকি হেসে বললেন, "আরে ভাই, শান্ত হন। আপনি তো তাও পঁয়ষট্টিটা পেয়েছেন, গত সপ্তাহে আমি গুনে পেয়েছিলাম মাত্র পঞ্চাশটা! ঢাকা শহরে লিচু গোনা আর লটারি জেতা একই কথা।"
ভদ্রলোকের কথা শুনে রাগটা একটু কমলো। বুঝতে পারলাম, বিক্রেতার ওই 'ফাস্ট' হাত আসলে কোনো দক্ষতা ছিল না, ওটা ছিল চোখের পলকে পঁয়ত্রিশটি লিচু গায়েব করার এক জাদুকরি বিদ্যা! আসলে আমরা বাঙালিরা সস্তায় পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই, আর সেই সুযোগে বিক্রেতারা আমাদের গণিতের পাঠ চুকিয়ে দেয়।
বাসার ফেরার পর যখন বাড়ির সবাই লিচু খেতে বসল, আমি তখন হাসতে হাসতে বললাম, "লিচুগুলো কিন্তু বেশ স্পেশাল, এগুলো স্পেস-টাইম কন্টিনিউয়াম পার করে এসেছে, তাই সংখ্যায় একটু কম!" ঠকে যাওয়ার এই গল্প শুনে সবাই হেসেই খুন। তবে মনের ভেতর একটা বড় শিক্ষা রয়ে গেল—যাত্রাবাড়ী হোক বা যেকোনো মোড়, সস্তার মিষ্টি কথায় মজে লিচু কেনার সময় বিক্রেতার হাতের জাদুর দিকে চোখ রাখাটা বড্ড জরুরি!
#আপনার লিচু কেনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন।