12/04/2026
'বাজ-বাজি-বাজিগর'
অভী মণ্ডল।
"বাজ" কিংবা "বাজি" এ শব্দ দু'টোই যেন ঋণাত্মক শব্দ। এ দু'টো শব্দ বা শব্দাংশকে যে শব্দের সাথেই আমরা ভিড়ায় তাতে মন্দ বৈ ভালো কিছু মিলছেনা। ভরা বর্ষায় বিজলী চমকানোর সাথে যখন 'বাজ' বজ্র হয়ে একাই পড়ে তখন প্রাণহানি ঘটে। আবার বাজপাখি যখন ছোঁ মেরে মুরগির ছানা ধরে নিয়ে যায় তাও ক্ষতির কারণ। এভাবে বাজ যখন অন্য শব্দের সাথে জড়িত হয়ে মামলাবাজ, ঠকবাজ, চাঁদাবাজ, চাপাবাজ ধান্দাবাজ, ধড়িবাজ, ধাপ্পাবাজ, ধোকাবাজ, ফন্দিবাজ, ফটকাবাজ, যুদ্ধবাজ, রংবাজ, দুর্নীতিবাজ ইত্যাদি নানা ফরমেটে আবির্ভূত হয় তখন সেগুলোও আমাদের কাছে ক্ষতিকর রূপেই প্রতিভাত হয়।
আবার 'বাজি' (Bet) ধরা মানেই এক ধরণের জুয়া খেলাকে বুঝি। আইপিএল,বিপিএলে এমন বাজি ধরা বাজিগরদের কিংবা মিথ্যা ইন্দ্রজাল সৃষ্টিকারী বাজিগরদেরও আমরা ভালো চোখে দেখিনা, সে সুযোগও নেই। বাজি খেলে ফতুর হওয়ার গল্পও বহু পুরোনো। বাজি খেলা নাকি নেশার মতো। একসময় বাজির নেশায় মত্ত ফতুর বাজিগররা (জুয়াড়ি)নাকি ঘরের বৌকেও বাজির বোর্ডে বসিয়ে দিতে এমন গল্পও শৈশবে শুনেছি।
আবার 'আতসবাজি' ফুটানোও পয়সার অপচয় তথা অনেক সময় বিপদ ঘটায়। আজ শুধু চাঁদাবাজ বা চাঁদাবাজির বিষয়টিকে আমাদের জাতীয় জীবনের একটা অন্যতম সমস্যা ভাবছি। কিন্তু চাঁদাবাজ ছাড়াও আমাদে ব্যক্তি,সমাজ,রাষ্ট্রীয় জীবনে আরও যে কত কত বাজ-বাজিগর রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সুতরাং কেবল চাঁদাবাজ বা চাঁদাবাজি নয়,এ সমাজে যত "বাজ,বাজি,বাজিগর" রয়েছে সম্মিলিত ভাবে তারা সকলেই এ সমাজ এ দেশের জন্য ক্ষতিকর। সবচেয়ে বড় ক্ষতি করে দুর্নীতিবাজরা। এ দুর্নীতিবাজ হতে পারে কোন ব্যবসায়ী,আমলা, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, বুদ্ধিজীবী, কৃষিজীবী এমনকি একজন ভিক্ষুকও।
সুতরাং সব অনিষ্টের মূল্যেই রয়েছে -"বাজ", "বাজি" আর "বাজিগর"। এই 'বাজ' যার সাথেই যুক্ত হয় তাকেই 'বাজে' বিষয়-বস্তুতে পরিণত করে। যেন " বাজ" মানেই বাজে,নষ্ট, অসার, তুচ্ছ ,নিকৃষ্ট, অকেজো ইত্যাদি অনেক কিছুই। অথচ এই সব 'বাজ'দের গলার তেজ থাকে অনেকটাই ''চোরের মায়ের গলার মত বাজখাঁই'! আসমান থেকে নেমে আসা কোনো 'বাজপাখি' যদি সব "বাজদের" ছোঁ মেরে বাজিমাৎ বা ধরাশায়ী অথবা কূপোকাত করতে পারত অথবা আষাঢ়ের আসমানী "বাজ"(বজ্র) পড়ে জমিনী "সব বাজ" কে খতম করতে পারত তবে আজ আমাদের চাঁদাবাজ সহ অন্যান্য সব 'বাজ'দের নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়তে হতো না। সইতে হতো না এতটা যাতনা।
১২.৪.২০২৬