22/06/2026
মাত্র ২৪ ঘণ্টা। সিলেটের শাহপরান (রহ.) মাজারে দাঁড়িয়ে মা*দ*ক, চাঁ'দা'বা'জি ও আয়-ব্যয়ের অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি—এর মধ্যেই বদলি করা হলো আলোচিত জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম-কে। প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই একটি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো বাস্তবতা?
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শাহপরান (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন—মাজারে মা*দ*ক চলবে না, গাঁ*জা*র আসর বসবে না, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দানের টাকা কোথায় যাচ্ছে তার স্বচ্ছ হিসাব থাকতে হবে। মানুষের বিশ্বাসের জায়গাকে ব্যবহার করে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না—এ কথাই তিনি জোর দিয়ে তুলে ধরেন।
এখানে প্রশ্ন আসে—একজন জেলা প্রশাসক কি ভুল কিছু বলেছেন? তিনি কি মাজার বন্ধের কথা বলেছেন? না। তিনি কি ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে চেয়েছেন? সেটাও না। তিনি শুধু বলেছেন, পবিত্র স্থানে অপরাধ চলতে পারে না, দানের টাকায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। এটা কি কোনো অপরাধ?
বাংলাদেশের মানুষ বহুবার দেখেছে যারা দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁ'দা'বা'জি ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তারা অনেক সময় একা হয়ে যান। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই বদলি কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গল্প আছে? উত্তর যাই হোক, একটি বিষয় স্পষ্ট সাহস করে সত্য বলার মানুষ আমাদের দেশে খুবই কম, আর যারা বলেন, তাদের কণ্ঠ মানুষ সহজে ভুলে যায় না।
আজ সারোয়ার আলম বদলি হয়েছেন, কিন্তু মা*দ*ক*মু'ক্ত মাজার, স্বচ্ছ হিসাব ও চাঁ'দা'বা'জি'মুক্ত পরিবেশের যে দাবি তিনি তুলেছিলেন, সেই দাবির সঙ্গে অসংখ্য সাধারণ মানুষ একমত। মানুষ পবিত্র স্থানে পবিত্রতাই দেখতে চায়—অস্বচ্ছতা নয়, চাঁ'দা'বা'জি নয়, মা*দ*ক তো একেবারেই নয়। মানুষ চায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসন।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে তীব্র বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, মাজারের ভক্ত ও অনুসারীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৭০০ বছরের মাজার পরিচালনার রীতি ও ঐতিহ্য এতে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। দানবাক্স সিলগালার যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা সঠিক ছিল না। হিসাব চাওয়া যেতে পারে, কিন্তু জোর-জবরদস্তির মতো নিয়ন্ত্রণ আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়—এটি মাজার ও ওলি-আউলিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড বলেও তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ আগস্ট তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিলেটে সাদা পাথর লুটের ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পদে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। বদলির বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করলেও, এর কারণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তা এখনো জানানো হয়নি।