12/09/2026
গ্রামের বদরুল মিয়ার এক অদ্ভুত রোগ—রাতে ঘুমালে সে ঘুমের ঘোরে কথা বলে আর হাত-পা ছুড়ে মারপিট করে। বউ রাবেয়া খাতুন রোজ এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ।
একদিন রাতে বদরুল স্বপ্ন দেখছে, সে মেলায় গিয়ে গ্রামের নামকরা কুস্তিগির জবেদ আলীর সাথে কুস্তি লড়ছে। পুরো মেলা কাঁপিয়ে বদরুল নাকি বাঘা বাঘা সব প্যাঁচ দিচ্ছে!
এদিকে বাস্তবে বদরুল ঘুমের ঘোরে বিছানায় শুয়েই হঠাৎ হুংকার ছেড়ে উঠল, "আরে জবেদ! তোর এত বড় সাহস, তুই আমার গোঁফে হাত দিস? এই দ্যাখ আমার আছাড়!"
বলেই সে পাশে গভীর ঘুমে থাকা বউ রাবেয়ার পিঠে দুই হাত দিয়ে কষে এক জাপটা দিল। রাবেয়া ভড়কে গিয়ে চোখ মেলতেই বদরুল ঘুমের ঘোরে চোখ বুজেই রাবেয়াকে পুরো বিছানা থেকে ধাক্কা মেরে সোজা মেঝের ওপর ফেলে দিল! মেঝের মাটির ওপর ধপাস করে শব্দ হতেই রাবেয়া ব্যথায় আর রাগে চিৎকার করে উঠল।
কিন্তু বদরুলের তখনও ঘুম ভাঙেনি। সে বিছানায় বসে শূন্যে ঘুষি চালাতে চালাতে গম্ভীর গলায় বলতে লাগল, "কী রে জবেদ, আছাড় খেয়ে মাটিতে শুয়েই আছিস? বুকের পাটা থাকলে উঠে আয়, আরেকটা প্যাঁচ দেখাই!"
রাবেয়া মেঝে থেকে উঠে আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। অন্ধকারে হাতড়ে সে দরজার পেছনে রাখা ভারি ঝাড়ুটা হাতে নিল। তারপর সোজা গিয়ে বদরুলের পিঠে এক সপাং করে বাড়ি বসিয়ে দিয়ে বলল, "এই নে তোর জবেদ আলীর দ্বিতীয় প্যাঁচ!"
বাড়ি খেয়ে বদরুলের ঘুম এক নিমেষে উধাও। সে পিঠে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, "আরে ও রাবেয়া, বাঁচাও! ঘরে চোর ঢুকছে!"
রাবেয়া ঝাড়ু উঁচিয়ে বাতি জ্বালিয়ে বলল, "চোর না, জবেদ আলী আসছে! এবার কুস্তি শেষ করে ভালো ছেলের মতো মেঝেতে গিয়ে ঘুমাও, নাহলে সকাল পর্যন্ত তৃতীয় প্যাঁচ চলবে!"
বদরুল তখন চুপচাপ বালিশটা বগলদাবা করে মেঝের এক কোণে শুয়ে পড়ল। আর মনে মনে বলল, স্বপ্নে আর যাই হোক, জীবনেও বউকে কুস্তিগির ভাবার ভুল করা যাবে না!
#বদরুলমিয়া
#স্বপ্নেকুস্তি
#হাসিরগল্প
#গ্রামেরকৌতুক