SAN Comedy

Website

SAN Comedy "হাসুন, উপভোগ করুন, -এর সাথেই থাকুন! 😄"
(2)

🎭 Welcome to SAN COMEDY!

হাসি, মজা আর বিনোদনের এক দারুণ ঠিকানা। 😄
এখানে পাবেন মজার ছবি, কমেডি ভিডিও, ভাইরাল মুহূর্ত এবং প্রতিদিন নতুন নতুন বিনোদনমূলক কনটেন্ট।

👉 Follow করুন, হাসির সাথেই থাকুন!

গ্রামের বদরুল মিয়ার এক অদ্ভুত রোগ—রাতে ঘুমালে সে ঘুমের ঘোরে কথা বলে আর হাত-পা ছুড়ে মারপিট করে। বউ রাবেয়া খাতুন রোজ এই অত...
12/09/2026

গ্রামের বদরুল মিয়ার এক অদ্ভুত রোগ—রাতে ঘুমালে সে ঘুমের ঘোরে কথা বলে আর হাত-পা ছুড়ে মারপিট করে। বউ রাবেয়া খাতুন রোজ এই অত্যাচারে অতিষ্ঠ।
​একদিন রাতে বদরুল স্বপ্ন দেখছে, সে মেলায় গিয়ে গ্রামের নামকরা কুস্তিগির জবেদ আলীর সাথে কুস্তি লড়ছে। পুরো মেলা কাঁপিয়ে বদরুল নাকি বাঘা বাঘা সব প্যাঁচ দিচ্ছে!
​এদিকে বাস্তবে বদরুল ঘুমের ঘোরে বিছানায় শুয়েই হঠাৎ হুংকার ছেড়ে উঠল, "আরে জবেদ! তোর এত বড় সাহস, তুই আমার গোঁফে হাত দিস? এই দ্যাখ আমার আছাড়!"
​বলেই সে পাশে গভীর ঘুমে থাকা বউ রাবেয়ার পিঠে দুই হাত দিয়ে কষে এক জাপটা দিল। রাবেয়া ভড়কে গিয়ে চোখ মেলতেই বদরুল ঘুমের ঘোরে চোখ বুজেই রাবেয়াকে পুরো বিছানা থেকে ধাক্কা মেরে সোজা মেঝের ওপর ফেলে দিল! মেঝের মাটির ওপর ধপাস করে শব্দ হতেই রাবেয়া ব্যথায় আর রাগে চিৎকার করে উঠল।
​কিন্তু বদরুলের তখনও ঘুম ভাঙেনি। সে বিছানায় বসে শূন্যে ঘুষি চালাতে চালাতে গম্ভীর গলায় বলতে লাগল, "কী রে জবেদ, আছাড় খেয়ে মাটিতে শুয়েই আছিস? বুকের পাটা থাকলে উঠে আয়, আরেকটা প্যাঁচ দেখাই!"
​রাবেয়া মেঝে থেকে উঠে আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। অন্ধকারে হাতড়ে সে দরজার পেছনে রাখা ভারি ঝাড়ুটা হাতে নিল। তারপর সোজা গিয়ে বদরুলের পিঠে এক সপাং করে বাড়ি বসিয়ে দিয়ে বলল, "এই নে তোর জবেদ আলীর দ্বিতীয় প্যাঁচ!"
​বাড়ি খেয়ে বদরুলের ঘুম এক নিমেষে উধাও। সে পিঠে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, "আরে ও রাবেয়া, বাঁচাও! ঘরে চোর ঢুকছে!"
​রাবেয়া ঝাড়ু উঁচিয়ে বাতি জ্বালিয়ে বলল, "চোর না, জবেদ আলী আসছে! এবার কুস্তি শেষ করে ভালো ছেলের মতো মেঝেতে গিয়ে ঘুমাও, নাহলে সকাল পর্যন্ত তৃতীয় প্যাঁচ চলবে!"
​বদরুল তখন চুপচাপ বালিশটা বগলদাবা করে মেঝের এক কোণে শুয়ে পড়ল। আর মনে মনে বলল, স্বপ্নে আর যাই হোক, জীবনেও বউকে কুস্তিগির ভাবার ভুল করা যাবে না!

#বদরুলমিয়া
#স্বপ্নেকুস্তি
#হাসিরগল্প
#গ্রামেরকৌতুক

গ্রামের মাতব্বর শামসুদ্দিন সাহেবের একটাই শখ—মাইকে কথা বলা। গ্রামের কোথাও কোনো ওয়াজ, মিলাদ কিংবা সালিশ হলে শামসুদ্দিন সাহ...
08/09/2026

গ্রামের মাতব্বর শামসুদ্দিন সাহেবের একটাই শখ—মাইকে কথা বলা। গ্রামের কোথাও কোনো ওয়াজ, মিলাদ কিংবা সালিশ হলে শামসুদ্দিন সাহেব সবার আগে স্টেজে উঠে মাইক দখল করে বসে থাকেন। সমস্যা হলো, মাইক হাতে পেলে তিনি দুনিয়ার সব কথা ভুলে একাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বক্তৃতা দিতে থাকেন।
সেদিন গ্রামের সবচেয়ে কৃপণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত দুদু মিয়ার একমাত্র ছেলের সুন্নতে খাৎনা উপলক্ষে বড় এক ভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। খাওয়াদাওয়ার আগে দুদু মিয়া শামসুদ্দিন সাহেবকে একটু তেল মারার জন্য বলল, "মাতব্বর সাব, খাওন শুরু করার আগে মাইকে একটা দোয়া আর দুই মিনিট বক্তব্য না দিলে তো মজলিস জমে না!"
শামসুদ্দিন সাহেব যেন এই ডাকের অপেক্ষাতেই ছিলেন। তিনি গলার মাফলারটা ঠিক করে গম্ভীর মুখে মাইকটা টেনে নিলেন। তারপর শুরু করলেন তার ভাষণ—গ্রামের ইতিহাস, স্বাধীনতা যুদ্ধ, নিজের বাপদাদার আমলের জমিজমা থেকে শুরু করে বিশ্ব রাজনীতির হালচাল। দশ মিনিট গেল, বিশ মিনিট গেল, দেখতে দেখতে এক ঘণ্টা পার!
এদিকে দুপুরে রোদ চড়ে গেছে, ভোজের প্যান্ডেলে বসা শ-পাঁচেক মেহমানের পেট চোঁ চোঁ করছে। গরম বিরিয়ানির সুবাস বাতাসে ভাসছে, আর মেহমানরা পেটে হাত দিয়ে রাগ আর ক্ষুধায় ফুঁসছে। কিন্তু মাতব্বরের মুখের ওপর কথা বলবে কে?
দুদু মিয়া পড়ল মহাফাঁপরে। সে স্টেজের এক পাশ থেকে মাতব্বরকে ইশারা করে হাত নেড়ে বলল, "মাতব্বর সাব, খানা ঠান্ডা হইয়া গেল, সংক্ষেপ করেন!"
শামসুদ্দিন সাহেব মাইক এক হাতে সামান্য চেপে ফিসফিস করে ভাবলেন মাইক বন্ধ, কিন্তু মাইকের সুইচ অনই ছিল! পুরো প্যান্ডেলের বিশটা লাউডস্পিকারে বিকট আওয়াজে বেজে উঠল মাতব্বরের বিরস গলা, "আরে দুদু, চুপ মারো! তোমার এই বিস্বাদ বিরিয়ানি খাওয়ানোর আগে মানুষকে একটু জ্ঞান দিতেছি, তাতেও তোমার সহ্য হইতেছে না? পাবলিক তো খাবারের চেয়ে আমার কথাই বেশি মন দিয়ে শুনতেছে!"
পুরো প্যান্ডেলের মানুষ এক সেকেন্ড থমকে রইল। পিনপতন নীরবতার পর হঠাৎ পেছন থেকে গ্রামের বেপরোয়া ছোকরা কাইয়ুম চেঁচিয়ে উঠল, "মাতব্বর কাকা, জ্ঞান দিয়া যদি পেট ভরতো, তবে আপনারে মাইকসুদ্ধ বিরিয়ানির ডেগে চুবাইয়া দিতাম!"
কথা শোনা মাত্রই প্যান্ডেলের ক্ষুধার্ত জনতা একযোগে হইহই করে উঠল। মাতব্বর সাহেব বুঝলেন, আজ আর মাইক দিয়ে কাজ হবে না, উল্টো মাইকের স্ট্যান্ডই তার পিঠে ভাঙবে। তিনি মাইক ফেলে কোনোমতে পেছনের ত্রিপল ফাঁক করে দিলেন এক ভোঁ-দৌড়!
এদিকে মেহমানরা আর তর সইতে না পেরে বিরিয়ানির ডেগের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল যে, হাতাহাতিতে আস্ত একটা ডেগ উল্টে গিয়ে সোজা পড়ল হোস্ট দুদু মিয়ার গায়ের ওপর। দুদু মিয়া আলু আর ভাতের তলা থেকে মুখ বের করে কাঁদো কাঁদো গলায় চেঁচাতে লাগল, "আমার চাল-গোশত সব শেষ! ও মাতব্বর, তোমার মাইক বন্ধ করতে গিয়া আমার ঘরের ছাদটাই যে ভাইঙা গেল রে!"

#মাতব্বরসাহেব
#বিরিয়ানিকাণ্ড
#হাসিরগল্প
#গ্রামেরকৌতুক

গ্রামের সোবহান মিয়ার একটাই রোগ—সে নিজেকে অতি চালাক মনে করে এবং প্রতিবেশীদের ফ্রিতে পাওয়া জিনিসে ভাগ বসাতে ভালোবাসে। কিন্...
05/09/2026

গ্রামের সোবহান মিয়ার একটাই রোগ—সে নিজেকে অতি চালাক মনে করে এবং প্রতিবেশীদের ফ্রিতে পাওয়া জিনিসে ভাগ বসাতে ভালোবাসে। কিন্তু তার এই অতি চালাকির চক্করে একদিন যে এমন বিপত্তি ঘটবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার জুমার নামাজের পর। সোবহান দেখল পাশের বাড়ির বক্কর মিয়া একটা মাটির হাঁড়ি পরম যত্নে গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে। সোবহানের চোখ তো ছানাবড়া! সে নিশ্চিত হলো, বক্করের শ্যালক শহর থেকে স্পেশাল রসগোল্লা বা ঘি নিয়ে এসেছে, আর বক্কর একা একা খাওয়ার জন্য সেটা লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
সন্ধ্যা নামতেই সোবহান পা টিপে টিপে বক্করের রান্নাঘরের জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বক্কর আর তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে কথা বলছিল। সোবহান আড়ি পেতে শুনল, বক্কর বলছে, "হাঁড়িটা তো আমি চুলার পাশে মাচার ওপর তুলে রাখলাম। জিনিসটা খুব সাবধানে রাখতে হবে, কাল সকালে কাজে লাগবে।"
সোবহানের লোভের বাঁধ ভেঙে গেল। সে ভাবল, রাতের আঁধারে গিয়ে আধ হাঁড়ি মিষ্টি বা ক্ষীর সাবাড় করে এলে বক্কর জীবনেও টের পাবে না! রাত গভীর হওয়ার জন্য সে অপেক্ষা করতে লাগল। রাত প্রায় বারোটা, চারপাশ নিস্তব্ধ। সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। সোবহান চুপিচুপি বক্করের রান্নাঘরের বাঁশের ঝাঁপ আলগা করে ভেতরে ঢুকল।
ঘুটঘুটে অন্ধকার, হাতড়ে হাতড়ে সে মাচার ওপর রাখা সেই মাটির হাঁড়িটা খুঁজে পেল। হাঁড়ির ঢাকনা খুলতেই নাকে এক অদ্ভুত গন্ধ এল। সোবহান ভাবল, "শহরের খাঁটি ঘিয়ের তো এমনই উগ্র সুবাস থাকে!" কোনো চামচ নেই, তাই সে কালবিলম্ব না করে বড় এক থাবা মেরে পুরো এক মুঠো জিনিস মুখে পুরে দিল।
জিনিসটা মুখে যাওয়া মাত্রই সোবহানের চোখের সামনে লাখ লাখ তারা জ্বলে উঠল! মিষ্টি বা ঘি তো দূরের কথা, মুখে লাগামহীন এক পোড়া গন্ধ আর তিতকুটে ঝাঁজালো স্বাদ। আসলে ওটা ছিল বক্করের ক্ষেতের পোকা মারার জন্য তৈরি করা পচা তামাকপাতা, নিমতেল আর গোবরের বিশেষ ভেষজ মিশ্রণ!
সোবহান থু থু করতে গিয়ে অন্ধকারে উল্টো ব্যালেন্স হারিয়ে মাচাসুদ্ধ আছড়ে পড়ল রান্নাঘরের মাটির বাসনের ওপর। বিকট শব্দে হাঁড়িপাতিল ভেঙে চুরমার! বক্কর মিয়া লাঠি আর টর্চলাইট হাতে এক লাফে রান্নাঘরে ঢুকে লাইট মারল।
টর্চের আলোয় দেখা গেল, সোবহান মেঝেতে বসে মুখ মুছছে আর তার সারা মুখে, নাকে-চোখে কালো রঙের গোবর ও তামাকের কাই মাখামাখি।
বক্কর চোখ কপালে তুলে বলল, "সোবহান ভাই! তুমি এই মধ্যরাতে আমার রান্নাঘরে কী করছ? আর পোকা মারার বিষাক্ত দাওয়াই তোমার মুখে কেন?"
সোবহান থুতু ফেলতে ফেলতে চোখ দিয়ে পানি ছেড়ে ধরা গলায় বলল, "বক্কর... আমি তো ভাবছিলাম তুমি শহরের ক্ষীর লুকিয়ে রাখছ! মানুষ কি এমন সুন্দর হাঁড়িতে পোকা মারার বিষ রাখে রে ভাই?"
বক্কর লাঠি নামিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বলল, "আরে ক্ষীর তো দূরে থাক, এটা তো গরুর পেটের ওষুধ আর ক্ষেতের কীটনাশক! তোমার ক্ষীর খাওয়ার চক্করে আমার ক্ষেত বাঁচানোর দাওয়াইটাই তো সব সাবাড় করে দিলে!"
পরদিন সকালে সোবহান যখন পুকুরঘাটে গিয়ে দশবার সাবান দিয়ে মুখ ধুচ্ছিল, গ্রামের মানুষ ঘাটে দাঁড়িয়ে রসিয়ে রসিয়ে জিজ্ঞেস করছিল, "কী সোবহান ভাই, বক্করের মাটির হাঁড়ির মিষ্টির স্বাদ কেমন ছিল?" সোবহান ঘাটের পানির দিকে তাকিয়ে প্রতিজ্ঞা করল, জীবনে আর কোনোদিন পরের হাঁড়িতে আঙুল ছোঁয়াবে না!

#লোভেরফল
#হাসিরগল্প
#গ্রামেরকৌতুক

গ্রামের মোখলেস আলীর জীবনে সবচেয়ে বড় রোগ হলো ‘ফাও ফুটানি’। পকেটে এক কাপ চায়ের পয়সা না থাকলেও সে এমন ভাব নিয়ে হাঁটে যেন পু...
04/09/2026

গ্রামের মোখলেস আলীর জীবনে সবচেয়ে বড় রোগ হলো ‘ফাও ফুটানি’। পকেটে এক কাপ চায়ের পয়সা না থাকলেও সে এমন ভাব নিয়ে হাঁটে যেন পুরো ইউনিয়নের সব কোটিপতি তার কাছে হাত পেতে চলে।
​একদিন বাজারে গিয়ে মোখলেস দেখল, জয়নাল কসাইয়ের দোকানে একদল মানুষ ভিড় করে আছে। বিশাল এক খাসির রান ঝুলছে, আর জয়নাল চড়া গলায় হাঁক দিচ্ছে, "একদম তাজা মাল! যার দম আছে সে-ই শুধু দাম জিজ্ঞেস করবেন!"
​কথাটা মোখলেসের আত্মসম্মানে গিয়ে লাগল। চারপাশের মানুষের সামনে হিরো সাজার তীব্র নেশায় সে পকেটে হাত গুঁজে সামনে এগিয়ে গেল। বুক ফুলিয়ে বলল, "জয়নাল, এই ছোট্ট রানটা নিয়ে এত চিল্লাচিল্লি কিসের? আস্ত তিন কেজি ওজন দিয়ে সোজা আমার ব্যাগে ঢোকাও। মোখলেস আলী কোনোদিন আধা কেজি বা এক পোয়া গোশত কিনে বাড়ি ফেরে না!"
​পুরো বাজারের মানুষ এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। মোখলেসের ভাব দেখে স্বয়ং কসাই জয়নালও একটু নরম হয়ে বড় একটা প্যাকেট বানিয়ে তার হাতে তুলে দিল। এরপর মিচকে হেসে বলল, "মোখলেস ভাই, তিন কেজির দাম হয় মোট ছত্রিশশো টাকা। ক্যাশ না বাকি?"
​মোখলেস জানত তার পকেটে আছে মাত্র ছেঁড়া একখানা একশো টাকার নোট। কিন্তু সেখানে উপস্থিত গ্রামের মাতব্বর আর মোড়লদের সামনে মাথা নিচু করা তার পক্ষে অসম্ভব। সে মোবাইলটা কানের কাছে তুলে ধরে এমন ভান করল যেন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ফোন এসেছে।
​মোখলেস চোখমুখ শক্ত করে চিৎকার করে ফোনে বলতে লাগল, "কী বললে ম্যানেজার সাহেব? ঢাকা ব্যাংকের সার্ভার ডাউন? আমার অ্যাকাউন্টের বিশ লাখ টাকা ট্রান্সফার আটকে গেছে? ধুর! এই ডিজিটাল যুগের যন্ত্রণায় আর বাঁচা গেল না!"
​তারপর জয়নাল কসাইয়ের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, "শুনলে তো জয়নাল? ব্যাঙ্কের এই ছ্যাবলামির জন্য আজ ক্যাশ দিতে পারলাম না। গোশতটা তুমি রাখো, সার্ভার ঠিক হলে আমি গাড়ি পাঠিয়ে একবারে পুরো আস্ত খাসিটাই কিনে নেব!"
​মোখলেস যখন বীরের মতো বুক ফুলিয়ে হনহন করে হেঁটে দোকান থেকে বেরিয়ে আসছে, ঠিক তখনই ঘটল চরম অঘটন।
​তার হাত থেকে স্মার্টফোনটা হঠাৎ মাটিতে পড়ে গেল। মাটি স্পর্শ করতেই ফোনের ব্যাক কভার আর ব্যাটারি ছিটকে দুই দিকে চলে গেল। আর তখনই পুরো বাজারের মানুষ হাঁ করে তাকিয়ে দেখল—মোখলেস এতক্ষণ যে ফোনটা কানে চেপে ‘ব্যাংকের ম্যানেজারের’ সাথে বিশ লাখ টাকার আলাপ করছিল, সেটার ভেতরে কোনো সিম কার্ডই নেই! এমনকি সেটা কোনো আসল মোবাইলই না, বাচ্চাদের মেলা থেকে কেনা বিশ টাকার প্লাস্টিকের খেলনা ফোন, যার স্ক্রিনে একটা বড় লাল পুতুলের ছবি আঁকা!
​চারপাশে পিনপতন নীরবতা। মোখলেস তখন পাথরের মতো জমে দাঁড়িয়ে আছে।
​নীরবতা ভেঙে জয়নাল কসাই গম্ভীর গলায় বলল, "মোখলেস ভাই, ঢাকা ব্যাংকের ম্যানেজার কি এই পুতুলওয়ালা ফোনের অ্যান্টেনা দিয়ে আপনার সাথে যোগাযোগ করছিল? গোশত তো দূরের কথা, আগে আপনার এই বিশ লাখ টাকার প্লাস্টিক ফোনটা ব্যাগে ভরেন!"
​মুহূর্তের মধ্যে পুরো বাজারে এমন হাসির রোল উঠল যে পাশের ডালপট্টির কাকগুলো পর্যন্ত ভয় পেয়ে উড়ে পালাল। মোখলেস আর এক সেকেন্ডও পেছনে তাকাল না। খেলনা ফোন ফেলে রেখেই লুঙ্গি মালকোঁচা মেরে এমন এক দৌড় দিল যে, গ্রামের অলিম্পিক থাকলে সে নিশ্চিত স্বর্ণপদক পেয়ে যেত!
​
"আপনার পরিচিত এমন একজন ‘ডিজিটাল বড়লোক’ বন্ধুকে মেনশন করুন, যার ফুটানি দেখলে এই মোখলেসের কথাই মনে পড়ে!"

#মোখলেসমিয়া
#ফাওফুটানি
#হাসিরগল্প
#গ্রামেরকৌতুক

গ্রামের হাবুল মিয়ার শখ হলো নতুন প্রযুক্তি বা অদ্ভুত জিনিসের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা, কিন্তু কাজের বেলায় সবসময় তালগোল পাকি...
03/09/2026

গ্রামের হাবুল মিয়ার শখ হলো নতুন প্রযুক্তি বা অদ্ভুত জিনিসের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা, কিন্তু কাজের বেলায় সবসময় তালগোল পাকিয়ে ফেলে। একবার সে শহর থেকে অনেক শখ করে এক জোড়া রোমাঞ্চকর ‘স্মার্ট চশমা’ কিনে আনল। দোকানদার অবশ্য সাধারণ রোদচশমাই গছিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু হাবুল সারা গ্রামে ঢাকঢোল পিটিয়ে বলে বেড়াল, "এই চশমা চোখে দিলে মানুষের মনের আসল রূপ আর গোপন কথা সরাসরি চোখের সামনে ভেসে ওঠে!"
গ্রামের কেউ বিশ্বাস করল না, কিন্তু হাবুল এটা নিয়ে রীতিমতো ভাবমূর্তি তৈরি করে ফেলল। সে চশমাটা নাকের ওপর বসিয়ে বাজারে ঘুরে বেড়াত আর যাকে তাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসত, যেন সে তাদের সব গোপন খবর জেনে ফেলেছে।
একদিন বিকেলে হাবুল গেল তার শ্বশুরবাড়ি। সেখানে তার চরম গম্ভীর আর বদমেজাজি শ্বশুর মোবারক খন্দকার উঠোনে হুঁকো টানছিলেন। হাবুলকে দেখেই তিনি চোখ গরম করে বললেন, "কী হে হাবুল, শুনলাম তুমি নাকি নতুন চশমা দিয়ে মানুষের মনের কথা পড়তে পারো? দেখি, আমার মনের ভেতর এখন কী আছে বল তো?"
হাবুল পড়ল চরম বিপদে। শ্বশুরের মেজাজ সে ভালো করেই জানে। সে চশমাটা নাকের ওপর একটু ঠেলে গম্ভীর মুখে বলল, "আব্বাজান, মানুষের মনের গোপন কথা সবার সামনে বলতে নেই, পাপ হয়।"
শ্বশুর আরও রেগে গিয়ে উঠোনের সবাইকে ডেকে বললেন, "সবাই শুনে রাখো! এই ভণ্ড যদি এখন আমার মনের কথা বলতে না পারে, তবে ওর এই চশমা ভেঙে পিঠের চামড়া তুলে নেব!"
হাবুল কাঁপতে কাঁপতে ভাবল, কোনো একটা সাধারণ বা বানিয়ে বলা কথাই বলে শ্বশুরের মন খুশি করতে হবে। সে চশমার কাঁচটা গামছা দিয়ে মুছে চোখে লাগিয়ে বলল, "আব্বাজান, আপনার মন বলছে—আপনি আমাকে নিজের ছেলের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। আর আপনার মনে ইচ্ছা করছে, আজকে রাতের খাবারের জন্য ঘরের সবচেয়ে বড় লাল মোরগটা জবাই করে আপনার এই জামাইকে খাওয়াবেন!"
শ্বশুরের হুঁকো টানা বন্ধ হয়ে গেল। তিনি লাল চোখে উঠে দাঁড়িয়ে চ্যালাকাঠ হাতে নিয়ে বললেন, "হারামজাদা! আমার মনে তো ঘুরছিল গত সপ্তাহে আমার ক্ষেত থেকে চুরি যাওয়া দশটা লাউ তোর বাড়িতে পাওয়া গেল কীভাবে! আর তুই উল্টো আমার খাসি সাইজের মোরগ খাওয়ার স্বপ্ন দেখছিস?"
হাবুল আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। জুতো জোড়া উঠোনে ফেলেই সে খোলা মেঠোপথ দিয়ে এমন এক দৌড় দিল যে পেছনে ধুলোর ঝড় উঠে গেল। শ্বশুর চ্যালাকাঠ হাতে পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছেন, আর হাবুল দৌড়াতে দৌড়াতে পেছন ফিরে হাত জোড় করে চেঁচাচ্ছে, "আব্বাজান, মনের কথা ঠিকই ছিল, চশমার কাঁচের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে উল্টোপাল্টা দেখাচ্ছিল রে!"
পুরো গ্রামের মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে বলল, "হাবুলের স্মার্ট চশমা সত্যিই মনের কথা বের করতে পেরেছে, খালি আউটপুটটা পিঠের দিকে চলে গেছে!"

#হাবুলমিয়া
#স্মার্টচশমা
#গ্রামেরকৌতুক
#হাসিরগল্প

গ্রামের কালাচাঁদ মিয়ার ধারণা, তার মতো ডাক্তার বা বৈদ্য পুরো তল্লাটে আর দ্বিতীয়টি নেই। সে টুকটাক গাছের শিকড়-বাকড় আর ঝাড়ফু...
02/09/2026

গ্রামের কালাচাঁদ মিয়ার ধারণা, তার মতো ডাক্তার বা বৈদ্য পুরো তল্লাটে আর দ্বিতীয়টি নেই। সে টুকটাক গাছের শিকড়-বাকড় আর ঝাড়ফুঁক দিয়ে নিজেকে রীতিমতো বড় বিশেষজ্ঞ দাবি করত। কালাচাঁদের এই পাণ্ডিত্য একদিন চরম পরীক্ষার মুখে পড়ল তার প্রতিবেশী বারেক আলীর কারণে।
বারেকের পেটে হঠাৎ মোচড় দিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়েছিল। ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে সে কালাচাঁদের দাওয়ায় এসে আছড়ে পড়ল, "কালাচাঁদ ভাই, বাঁচাও! পেটের ভেতর মনে হয় গোটা বিশেক ঢিল ঘুরছে!"
কালাচাঁদ চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বিজ্ঞের মতো বারেকের নাড়ি পরীক্ষা করল। বুক ফুলিয়ে বলল, "চিন্তার কিছু নেই। এটা পেটের গ্যাস না, এটা হচ্ছে পেটের ভেতর বিষাক্ত বায়ুর ঘূর্ণিবায়ু! আমার কাছে এক মহৌষধ আছে, এক চুমুকেই শান্তি।"
কালাচাঁদ তড়িঘড়ি করে মাটির ভাঁড়ে রাখা কালো রঙের এক ঘন পাঁচন গ্লাসে ঢালল। কিন্তু ঘরে আবছা আলো থাকায় ভুল করে সে নিমপাতার তেতো পাঁচনের বোতল না নিয়ে তার পাশে রাখা মেটে ইঁদুর মারার জন্য গুঁড়ো করা তেতো কালমেঘ ও কড়া কাঁচামরিচের ঝাল মিশ্রণ গুলে ফেলেছিল। কালাচাঁদ কোনো কিছু না বুঝে বারেকের মুখে গ্লাস ঠেকিয়ে বলল, "এক ঢোকে শেষ কর!"
বারেকের তখন ব্যথায় প্রাণ যায় অবস্থা, সে চোখ বুজে পুরো গ্লাস এক চুমুকে গিলে ফেলল। গিলতেই চোখ দুটো কোটর থেকে ঠিকরে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। পেট তো দূরের কথা, তার কান দিয়ে যেন আগুনের ধোঁয়া বের হতে লাগল! বারেক কিছু বলার শক্তি হারিয়ে দুই হাত আকাশে তুলে বিকট এক চিৎকার দিল এবং সোজা কালাচাঁদের উঠোনের পাশের ডোবায় লাফিয়ে পড়ল।
পানির ভেতর থেকে বুদবুদ তুলে বারেক চিৎকার করতে লাগল, "কালাচাঁদ! তুই আমাকে ওষুধ দিলি না পেটের ভেতর বাজি ফাটাইলি রে!"
কালাচাঁদ তখন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে গ্লাসের তলায় শুঁকে দেখল এবং নিজের ভুল বুঝতে পারল। কিন্তু বাইরে ভাব বজায় রেখে ডোবার পাড়ে দাঁড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল, "দেখলে তো ওষুধের পাওয়ার? পেটের রোগ একেবারে টেনে বাইরে বের করে তোমাকে সোজা পানিতে নামিয়ে দিল! এখন আধঘণ্টা ডুব দিয়ে থাকো, রোগ একদম ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে!"
গ্রামের লোকজন ততক্ষণে জড়ো হয়ে ডোবায় বারেকের ডুব সাঁতার আর পাড়ে কালাচাঁদের গম্ভীর মুখের 'চিকিৎসা' দেখে হাসিতে ফেটে পড়ল। বারেক ডোবা থেকে কাদার দলা তুলে কালাচাঁদের দিকে ছুড়ে মেরে চেঁচাল, "ডাক্তার সাব, তোমার পেটের গ্যাস নামানোর ওষুধ আমি এখন তোমার পিঠে মালিশ করব, খালি পানি থেকে উঠতে দাও!"
কালাচাঁদ আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে নিজের জুতোজোড়া বগলদাবা করে উল্টোমুখে দৌড় লাগাল।

#কালাচাঁদডাক্তার
#গ্রামেরকৌতুক
#হাসিরগল্প

02/09/2026

"আজকে নেচারাল লুকে ছবি তুলতে গিয়ে সাপের মুখে যা শুনতে হলো! 🐍😂 আপনাদের সাথে কখনো এমন অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হয়েছে কি? কমেন্টে জানিয়ে ফেলুন! 👇"

​
​
​
​
​

গ্রামের গফুর মিয়ার জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা তার 'স্মৃতিশক্তি'। কোন জিনিস কোথায় রাখে, তা পাঁচ মিনিটের বেশি মনে রাখতে পারে ন...
01/09/2026

গ্রামের গফুর মিয়ার জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা তার 'স্মৃতিশক্তি'। কোন জিনিস কোথায় রাখে, তা পাঁচ মিনিটের বেশি মনে রাখতে পারে না। তবে এই ভুলে যাওয়ার রোগ ঢাকতে সে সবসময় এমন ভাব ধরে, যেন সে দুনিয়ার সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ।
একদিন সকালে গফুরের বউ আছিয়া তাকে কড়া ধমক দিয়ে বলল, "আজকে যদি হাট থেকে একটা তাজা রুই মাছ আর এক বোতল খাঁটি সরিষার তেল কিনে না আনতে পারো, তবে দুপুরে তোমার ভাত বন্ধ!"
গফুর মিয়া আত্মসম্মানে আঘাত পেয়ে বলল, "তুমি আমাকে কী ভাবো? আমার মাথায় কম্পিউটারের মতো সব সেভ থাকে!"
বাজারে গিয়ে গফুর এক কেজি ওজনের তাজা একটা রুই মাছ কিনল আর সাথে নিল এক বোতল সরিষার তেল। কিন্তু মুশকিল হলো ফেরার পথে। মেঠোপথের ধারে এক গাছের নিচে গ্রামের কয়েকজনকে জমিয়ে তাস খেলতে দেখে গফুর আর লোভ সামলাতে পারল না। সে মাছটা আর তেলের বোতলটা ঘাসের ওপর রেখে খেলায় বসে গেল।
আধঘণ্টা পর খেলা শেষ করে গফুর উঠে দাঁড়াল। কিন্তু আশেপাশে তাকিয়ে দেখে মাছ আছে, তেলের বোতল উধাও! আসলে পাশের এক চতুর ছেলে তেলটা সরিয়ে নিয়েছিল, কিন্তু গফুর ভাবল সে নিজেই কোথাও ভুল জায়গায় রেখেছে। নিজের ভুল ঢাকতে সে মুখে কোনো বিকার না এনে মাছের লেজটা শক্ত করে ধরে হাঁটা শুরু করল।
বাড়িতে ঢুকতেই বউ আছিয়া হাত বাড়িয়ে বলল, "তেল আর মাছ কোথায়?"
গফুর বীরদর্পে মাছটা বউয়ের সামনে তুলে ধরে বলল, "এই নাও তাজা রুই মাছ!"
আছিয়া চারদিকে তাকিয়ে বলল, "আর তেলের বোতল কই?"
গফুর এক মুহূর্ত ভাবল, তারপর বিজ্ঞের মতো গম্ভীর মুখে বলল, "আরে বোকা নারী, তুমি কিছুই বোঝো না! আজকের রুই মাছটা এতোটাই তাজা আর তেলতেলে ছিল যে, আমি বুদ্ধি করে তেলের বোতল কিনিই নাই। বাজার থেকে হাঁটার সময় মাছটার পেটে এমনভাবে হাত বুলাতে বুলাতে এসেছি যে, ওর গা থেকেই আধ লিটার খাঁটি তেল ঝরে পড়েছে! এখন বলো, তোমার টাকা বাঁচিয়ে দিয়ে লাভ করলাম না?"
আছিয়া কিছুক্ষণ চোখ বড় বড় করে স্বামীর মুখের দিকে চেয়ে রইল। তারপর মাছের দিকে তাকিয়ে দেখল, শুকনো ধুলোবালির রাস্তায় টানতে টানতে মাছের গায়ে আর চামড়াই অবশিষ্ট নেই, পুরোটা কাদামাখা।
আছিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "টাকা তো বাঁচাইলা খুব ভালো কথা, এখন এই ধুলোমাখা মাছটা ভালো করে ধুয়ে তুমিই চিবিয়ে খাও। আমি চললাম বাপের বাড়ি!"
গফুর মিয়া তখন শুকনো মুখে মাছের দিকে তাকিয়ে ভাবছে, বুদ্ধি খাটাতে গিয়ে আজ নিজের দুপুরের ভাতটাও হাতছাড়া হলো!

​ #গফুরমিয়া
​ #বাংলাকৌতুক
​ #হাসিরগল্প
​
​

01/09/2026

বিড়ালের মুখে এমন সত্য কথা শুনলে যে কেউ শকড হবে! 😹

​"বিড়ালের এত বড় সাহস! মেয়েটা তো একদম থ হয়ে গেলো। 😂 কার কার বিড়াল এমন পাজি প্রকৃতির? কমেন্টে জানিয়ে ফেলুন! 👇"

​
​
​
​
​

গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার একটাই বাতিক—সব কাজে অতি-হিসাবি হওয়া। তার মতে, দুনিয়ায় যারা টাকা বা শক্তি অপচয় করে, তারা মানুষই না।...
31/08/2026

গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার একটাই বাতিক—সব কাজে অতি-হিসাবি হওয়া। তার মতে, দুনিয়ায় যারা টাকা বা শক্তি অপচয় করে, তারা মানুষই না। একদিন বিকেলে কুদ্দুস মিয়া বাজারে গেল আস্ত একটা তরমুজ কিনতে। দরদাম করে আধঘণ্টা তর্ক করার পর সে সবচেয়ে বড় তরমুজটা পানির দরে কিনে নিল। তরমুজের ওজন প্রায় আট কেজি।
দোকান থেকে বের হয়েই কুদ্দুসের হিসাবে টান পড়ল। ভ্যান নিলে লাগবে বিশ টাকা, আর হেঁটে গেলে ফ্রি। হিসাবি মাথায় সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধি এল—বিশ টাকা বাঁচিয়ে তরমুজটা মাথায় করে নিয়েই হাঁটা যাক। কিন্তু সমস্যা হলো, রাস্তাটা ছিল পুরো গ্রামের সবচেয়ে খানাখন্দে ভরা আর পিচ্ছিল মেঠোপথ।
কিছুদূর যাওয়ার পর তরমুজের ভারে কুদ্দুসের ঘাড় বাঁকা হয়ে এল। এমন সময় সামনে দিয়ে তার চরম শত্রু কাসেম আলী আসছিল। কাসেমকে দেখে কুদ্দুস ভাবল, কোনোভাবেই দুর্বল দেখানো যাবে না। সে তরমুজ মাথায় রেখেই বুক ফুলিয়ে হনহন করে হাঁটা শুরু করল। কিন্তু ভাগ্য খারাপ, পথের ঠিক মাঝখানে শুয়ে থাকা এক মোটাতাজা কুকুরের লেজে কুদ্দুস সজোরে পা দিয়ে বসল।
কুকুরটা বিকট আওয়াজে কেঁউ করে কুদ্দুসের লুঙ্গির কোণা কামড়ে ধরল। কুদ্দুস ভারসাম্য হারিয়ে একদিকে হেলে পড়ল, আর মাথার তরমুজ ছিটকে সোজা গিয়ে পড়ল রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাসেম আলীর সাইকেলের হ্যান্ডেলে। সাইকেলের সামনে ছিল কাসেমের দুই কেজি রসগোল্লার হাঁড়ি। তরমুজের ধাক্কায় হাঁড়ি ভেঙে সব রসগোল্লা ছিটকে পড়ল কাদার ভেতর, আর সাইকেলসহ কাসেম গিয়ে পড়ল ডোবায়।
কুদ্দুস তখন কুকুর ছাড়াতে ছাড়াতে চেঁচিয়ে বলছে, "কাসেম ভাই, রসগোল্লা তো গেছেই, আমার তরমুজটা ডোবা থেকে তুলে দাও, নষ্ট হয় নাই!"
কাসেম ডোবার কাদা থেকে মুখ তুলে রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল, "কুদ্দুইস্যা! তরমুজ তো তুলবই, কিন্তু সেটা আগে তোর মাথায় ভাঙব!"
ঠিক তখনই গ্রামের মাতব্বর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি কুদ্দুসকে জিজ্ঞেস করলেন, "কুদ্দুস, এই কাদার মধ্যে কুস্তি খেলছ কেন?"
কুদ্দুস ছেঁড়া লুঙ্গি সামলাতে সামলাতে করুণ মুখে বলল, "মাতব্বর সাব, বিশ টাকার ভ্যানভাড়া বাঁচাতে গিয়ে বিশ হাজার টাকার মানসম্মান আর চল্লিশ টাকার তরমুজ দুটোই ডোবায় বিসর্জন দিলাম!"

* #কুদ্দুসমিয়া
* #হাসিরগল্প
* #বাংলাকৌতুক
*
*

Address

Barishal
Pirojpur
8510

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SAN Comedy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share