12/01/2026
part:3
মা নিজের সব কাজ বন্ধ করে শুধু নানুর খেয়াল রাখতো। আমিও যতক্ষণ বাড়িতে থাকতাম শুধু নানুর সাথেই থাকতাম। নানু কোনো কথা না বললেও আমি একাই নানুর সাথে কথা বলতাম। আমার বিশ্বাস ছিল যে নানু একদিন আমার কথার উত্তর দিবে।
[২০ দিন পর ]
ডাক্তার নানুকে দেখতে এসেছিলেন। আমার পুরো আত্মবিশ্বাস ছিল যে নানুর অবস্থা আগের থেকে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু ডাক্তার আমার সব বিশ্বাস ভেঙ্গে দিয়ে বলে
--------উনার অবস্থা আগের থেকে আরো খারাপ হচ্ছে। হয়তো উনি কোনো কিছু নিয়ে tension করেন তাই এই অবস্থা। আপনাদের আরো ভালো করে take care করতে হবে।আমি আর মা হতাশা ভরা মুখ নিয়ে নানুর দিকে তাকাই। নানু একনজরে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাতে আমি নানুর রুমে গিয়েছিলাম হাতে সেই ডাইরিটা নিয়ে। ডাইরিটা নেওয়ার বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।শুধু কথা শুরু করার একটি মাধ্যম হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলাম।নানু একটি চেয়ারে বসে ছিল। আমি নানুর কাছে গিয়ে বসি।
-------নানু দেখ।এটা তোমার বাড়ির সামনে মাচা থেকে পেয়েছি। ভুল করে নিয়ে এসেছি। জানি কাজটা ঠিক হয়নি। কার না কার? তোমার আমাকে খুব বকতে ইচ্ছে করছে তাই না?
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললাম
------তাহলে বকো।কিছু একটা তো বলো নানু।তোমাকে এভাবে দেখতে আর ভালো লাগে না।
তারপর আমি উপরে তাকাতেই দেখি নানু আমার হাতে থাকা ডাইরিটির দিকে বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পরছে।ঠোঁট কাঁপছে।
কিন্তু কেন? নানুর সাথে কি এটার কোনো সম্পর্ক আছে?