StOry By sadnan al AraF

StOry By sadnan al AraF অনুভূতি গুলো তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি

গল্প :-  ানা_এলাচ পরিসংখ্যান :- ৭ লেখক :-  #সাদনান_আল_আরাফ আমি বললাম,-- আমি যদি তোমাকে রক্ষা না করতাম। তাহলে হয়তো এতদিন...
23/08/2026

গল্প :- ানা_এলাচ
পরিসংখ্যান :- ৭
লেখক :- #সাদনান_আল_আরাফ

আমি বললাম,
-- আমি যদি তোমাকে রক্ষা না করতাম। তাহলে হয়তো এতদিনে তাঁরা আরো জঘন্য পরিকল্পনা করতো। আব্বা তো দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। একজন ভালো সন্তান হওয়া খুবই সহজ। তবে কখনো একজন ভালো স্বামী হওয়া যায় না।

আম্মা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। তিনি এখন নিরব হয়ে যায়। আজকে সারাদিন ছিল একটা যুদ্ধের মতো। যেখানে চারদিকেই শত্রু বাহিনীর আখড়া। একটু ভুল হলেই নিজের জীবনের যতটুকু সম্মান ছিল তা এক নিমিষেই শেষ করে দিবে।

আমি আম্মার হাতটা ধরে মাথা থেকে সরিয়ে দিয়ে উঠে বসে যায়। আম্মার চোখে ঘুমের আবরণ জড়ো হচ্ছে। তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ঘুমিয়ে যাচ্ছিল।

আমি আম্মাকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তুমি তো ঘুমিয়ে যাচ্ছো! আমার মাথা ব্যথা একদমই কমে গেছে। তুমি গিয়ে এখন ঘুমিয়ে পড়ো।

আম্মা বলে উঠলো,
-- তুই ও ঘুমিয়ে যা, বাজান। কালকে সকালে উঠতে হবে তো। কালকে সকালে কিন্তু অনেক কাজ।

আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম,
-- আম্মা, কালকে সকালে তো আব্বা দোকানে যাবে। তাহলে আমার কাজ কি?

আম্মা বিছানা থেকে নেমে দরজা ধারে দাঁড়িয়ে বলল,
-- কালকে একটু তোর নানীর বাড়িতে যেতে হবে। তোর নানুর শরীরটা খারাপ। তোকে তোর নানু একবার যেতে বলছে।

আমি একটু অবাক হলাম। আমি আজকে থেকে ২ বছর আগে নানুর বাড়িতে গিয়ে ছিলাম। আমার নানাবাড়ি বেশি দূরে নয়। আমাদের পাশের উপজেলার মধ্যে যেতে সময় লাগে ৪০ মিনিটের মতো।

আমি ওই বাড়িতে যেতে চাই না। সেখানে সবাই ছোট করে দেখে। সবসময় আমাদের গরিব বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। আমার আব্বা কোনো সম্মান করে না। যেখানে আমার বাপের সম্মান নেই। সেখানে আমি সন্তান হয়ে যাওয়া প্রশ্নেই আসে না।

আমি বলে উঠলাম,
-- আমি ওইখানে যেতে পারবো না। তোমার বাপের বাড়ির লোক, মানুষকে মানুষ বলেই মনে করে না।

আম্মা মাথা নিচু করে বলল,
-- সবাই যেমনি হোক, তোর নানু তো তোকে খুব আদর করে। তুই তাঁর আদরের কদর তো করবি।

আমি শান্ত কন্ঠে বললাম,
-- আমি যেতে পারি, কিন্তু তোমার পরিবারের কেউ কটুক্তিমূলক কথা বলে। তাহলে কিন্তু আমি কাউকে ছেড়ে কথা বলবো না। সেটা যদি তোমার বাপ হয় তা-ও না।

আম্মা আমাকে বলে উঠলো,
-- আমি তোর নানুকে বলে দিবো নি। তোর সাথে কেউ উল্টো পাল্টা কথা বলবে না। তুই শুধু যাবি ?

আমি বললাম,
-- আমি জানি, তোমার মায়ের কিছুই হয় নাই। কিসের জন্য যেতে হবে। সেইটা আমাকে একবারে বলে দাও।

আম্মা বলে উঠলো,
-- আসলে, আমি তোদের না জানিয়ে। তোদের দুই মামার কাছ থেকে এক কাঠা করে জমি বন্ধক রাখছি। এখন তো আমাদের ঘরের চাউল শেষ হয়ে গেছে। তাই যে ধান পাইছি, সেটাই আনতে যাবি।

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। আম্মা জমি বন্ধক রেখে দিছে। এত টাকা আম্মার কাছে আসলো কিভাবে। আব্বা তাঁর বাপের কাছ থেকে জমি কিনে রাখছে। আসলে আমার সাথে হচ্ছেটা কি?

আমি অবাক হয়ে বলে উঠলাম,
-- তুমি এত টাকা কোথায় পেলে। তোমার বড় ভাই ( হারুনুর রশীদ ) সে তো বড় মাছের হ্যাচারির মালিক। তোমার ছোট ভাই ( তাজুল ইসলাম ) সে তো হার্ডওয়্যারের দোকান। তাহলে তাঁরা কেনো জমি বন্ধক দিতে যাবে?

আম্মা আমাকে বলে উঠলো,
-- তোকে এত কথা জানতে হবে না। তুই কি রাত পোহালেই আমাকে ছাড়বি। সেই কখন থেকে পুলিশের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করে যাচ্ছিস?

আমি আর কিছু বললাম না। আমার কাছে কেমন জানি লাগছে।

আমি যদি কোনো ভাবে জানতে পারি। নানার বাড়ি থেকে সাহায্য করছে। তাহলে আম্মার খবর আছে। যদি দরকার হয়, তাহলে এক বেলা খাবো, দুই বেলা না খেয়ে থাকবো। তবুও কারো সাহায্য আমাদের দরকার নেই।

আমি বাহির থেকে অজু ইস্তেন্দা শেষ করে। এসেই লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি। আল্লাহ যদি বাঁচিয়ে রাখে। তাহলে কাল সকালে দেখা যাবে।

_______

আমি ঘরের দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, সকাল সাড়ে আটটা বাজে গেছে। আমার মাথায় বাজ পড়ে। আমি এত সময় পর্যন্ত কখনোই ঘুমায় না। আজকে ফজরের নামাজটাও মিস করে ফেললাম।

আমি উঠে বাহিরে গিয়ে উঠানে দাঁড়ায়। আম্মা রান্না ঘরে রান্না করতেছে। আব্বা হয় তো দোকানে চলে গেছে।

আবিদ কোথা থেকে দৌড়ে আমার কাছে আসে।

আবিদ এসেই বলে উঠলো,
-- ভাইয়া, আমরা কি গরুর গোশত খাবো না?

আমি একটু অবাক হলাম। আবিদ আর ফাবিহা সচরাচর এমন কথা বলে না। আজ হঠাৎ এই কথা বলছে।

আমি আবিদকে নিজের কাছে নিয়ে বললাম,
-- আমরা গরু গোশত খাবো না কেনো? আব্বার কাছে যখন টাকা হবে। তখন তো আমাদের জন্য আনবেই। তুই হঠাৎ এই কথা বলছিস কেনো?

আবিদ দাদুর রান্না ঘর দিকে দেখিয়ে দিয়ে বলল,
-- আজকে দাদুর ঘরে গরু গোশত রান্না করতেছে। আমরা সেই বড় ঈদের সময় গোশত খেয়ে ছিলাম। আব্বা তো আর গরু গোশত আনলো না?

আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। আসলে, এক কেজি গরুর গোশত আনলে ৭০০ টাকা লাগে। অথচ, এই টাকা দিয়ে আমাদের ডিম, ডাল বাকি টুকটাক সংসারের জিনিস আনলে অনায়াসে এক সপ্তাহ চলে যাবে।

আমি বললাম,
-- আরেকটু ধৈর্য্য রাখ ভাই আমার। আমার কাছে যদি টাকা হয়। তাহলে আমি তোদের জন্য অল্প হলেও আনবো।

আবিদ এতটুকু শুনেই খুশি হয়ে চলে যায়। তাঁর মুখে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

আমি রান্না ঘরের এইখানে গিয়ে একটা কয়লা নিয়ে দাঁত মেজে নেয়। আসলে, অভাব আছে বলে এতটাও নেই। আমি ট্রুটপেস্ট দিয়ে খুব একটা ব্রাশ করি না।

আমি ফাবিহার কাছে যায়। সে এখনো বসে পড়াশোনা করছে। আমার বোনটার ইচ্ছে সে একদিন খুব বড় ডাক্তার হবে। সে ডাক্তার হয়ে বিনামূল্যে মানুষের সেবা করবে।

আমি বললাম,
-- বোন, এখনো তুই এই পড়াশোনা নিয়ে পড়ে আছিস। সকালে কি কিছু খেয়েছিস?

ফাবিহা বসা থেকে উঠে চেয়ারটা টেনে আমাকে দিয়ে। সে আমার পাশেই দাঁড়িয়ে যায়। আসলে, এইটা আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ম। বড়রা যখন আসবে, তখন ছোটরা তাঁর আসন ছেড়ে দিবে।

ফাবিহা বলে উঠলো,
-- ভাই, তুমি খালি এই কথা বলো। আমি যদি পড়াশোনা না করি। তাহলে ডাক্তার হবো কিভাবে?

আমি একটা হাঁসি দিয়ে তাঁর হাতটা ধরে বিছানায় বসিয়ে দেয়।

আমি তাঁকে বললাম,
-- তোর পায়ের ব্যথা কি কমেছে! নাকি ওষুধ আনতে হবে?

ফাবিহা বলে উঠলো,
-- না না, তোমার ওষুধ আনতে হবে না। কালকে, কালো কইত্তা গাছের পাতার রস দিয়ে রাখছিলাম। এখন ঠিক হয়ে গেছে, এই যে আমি ঠিকঠাক ভাবে চলাফেরা করছি।

আমি তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম,
-- আচ্ছা আচ্ছা, আমি খুব বুঝতে পারছি। এখন তোর চোখ বন্ধ কর?

ফাবিহা বলে উঠলো,
-- ভাইয়া, চোখ বন্ধ করবো কেনো?

আমি একটু রাগ দেখিয়ে বললাম,
-- তোকে যেটা বলছি সেটাই করবি। তোকে এতকিছু জানতে হবে না।

ফাবিহা চোখ বন্ধ করতেই। আমি কোমড়ের খুজ থেকে, এক জোড়া নূপুর বের করে তাঁর হাতে দেয়।

আমি বলে উঠলাম,
-- এইবার তোর চোখ খোলে ফেল।

ফাবিহা তাঁর পছন্দের নূপুর জোড়া দেখেই। আমাকে বসা থেকে উঠেই জড়িয়ে ধরে। আমি হাসতেছি, এই তৃপ্তির হাসি। যার ভিতরে ভাই-বোনের ভালোবাসা। যেখানে অনুপাত আর সমানুপাতিক কোনো কিছু নেই।

ফাবিহা কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞাসা করে,
-- এই নূপুর গুলো আমার খুব পছন্দের। তুমি কিভাবে জানলে ভাইয়া?

আমি বলে উঠলাম,
-- তোর এতকিছু জানা লাগবে না। আমি এনে দিবো, তুই শুধু পরবি।

আমি একটু বলেই তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। আম্মার রান্না করা শেষ। আমি ঘরে গিয়ে একেবারে রেডি হয়ে যায়। যত যাই বলি না কেনো, আম্মা বলছে আর আমি যাবো না। তা দুনিয়ার বুকে কিয়ামত হয়ে গেলেও সম্ভব না।

আম্মার ডাক শুনে পাশের রুমে গেলাম। আম্মা ভাত বেড়ে দেয়। আমি খাবার খেতে থাকি।

আম্মা বলে উঠলো,
-- তুই কি তোর নানার বাড়ি যাবি?

আমি বললাম,
-- এই যে আমি রেডি হয়ে আসলাম। খাবার শেষ করেই বেড়িয়ে যাবো।

আম্মা বলে উঠলো,
-- বলছিলাম কি, আবিদ তোর সাথে যেতে চাই ছিল। এখন কি তাঁকে সঙ্গে নিবি?

আমি বলে উঠলাম,
-- আবিদের যেতে হবে না। আজকে তো তাঁর স্কুল আছে। পরে আরেকদিন নিয়ে যাবো।

আম্মা আর কিছু বলে নাই। জানে, আমি না করার পর আর কাজ হবে না।

আম্মা আমার হাতে ১০০ টাকা দিয়ে বলল,
-- এই টাকা নিয়ে গাড়ি ভাড়া দিয়ে যাবি।

আমি বললাম,
-- আমার কাছে তো গাড়ি ভাড়া আছে। তোমার কাছে রেখে দাও।

আম্মা আমাকে বলে উঠলো,
-- হয়েছে আর বলতে হবে না। তোর কাছে টাকা থাকলে তোর নানু জন্য কিছু নিয়ে যাস।

আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। আমি দোকানে চলে যায়।

আব্বা আমাকে দেখে বলে উঠলো,
-- তুই এইভাবে রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছিস?

আমি বললাম,
-- তোমার শশুর বাড়ী যাবো, তোমার শাশুড়ি আর বাঁচবে না বলতেছে। আমাকে শেষবারের মতো দেখতে চাইছে?

আমার কথা শুনে আব্বা হেঁসে দেয়। তিনি জানান আমি মজা করছি।

আব্বা ক্যাশ থেকে ২০০ টাকা দিয়ে বলল,
-- তাহলে তো তুই রোগী দেখতে যাচ্ছিস। এক কাজ করিস, ব্রিজ মোড় থেকে কয়েক হালি কলা আর কিছু টাকা বড়ে এক কেজি মিষ্টি নিয়ে নিস।

আমি দোকানের ভিতরে গিয়ে একটা বড় রুটির প্যাকেট , একটা এনার্জি বিস্কুটের প্যাক, আরেকটা জুস নিয়ে নেয়।

আমি আব্বাকে বলে উঠলাম,
-- আজ যদি তোমার শশুর কিছু বলে তাহলে তোমার শশুরের একদিন আমার যে কয়দিন লাগে।

আব্বা বলে উঠলো,
-- তুই আর ভালো হবি না। বারবার তোর নানার সাথেই লেগে থাকিস। আমি তোদের মাঝে যাবো না। তোরা নানা নাতি বুঝবি। তুই আস......?

চলবে......?

একটা পারিবারিক গল্পের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত গুলো আজকে যেনো প্রকাশ করতে পারলাম। আমার খুব পছন্দের একটা গল্প এইটা?

হ্যাপি রিডিং 🙂

গল্প :-  ানা_এলাচ পরিসংখ্যান :- ৬ লেখক :-  #সাদনান_আল_আরাফ আমি আর আম্মা অবাক হয়ে যায়। আব্বা এইসব কি বলছে। আমাদের তো এক...
22/08/2026

গল্প :- ানা_এলাচ
পরিসংখ্যান :- ৬
লেখক :- #সাদনান_আল_আরাফ

আমি আর আম্মা অবাক হয়ে যায়। আব্বা এইসব কি বলছে। আমাদের তো এক বেলা খেলে পরের বেলার জন্য চিন্তা করতে হয়। আর আব্বা বলছে আমাদের জায়গা।

আমি অবাক হয়ে বলে উঠলাম,
-- কি বলছো আব্বা

আব্বা বলে উঠে,
-- তোমরা যেটা শুনছো সেটাই সত্যি। আমি আব্বার কাছে ১ কাঠা জমি কিনে রাখছি। স্বাধীন বিদেশে গেলো, তখন আব্বা আমার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে ছিল। আমি এই বাড়ির ১ কাঠা জমির দলিল করে নিয়ে ছিলাম?

আমি আব্বার কথা শুনে রাগে টেবিলে থাপ্পড় মারি? আব্বা শোয়া থেকে উঠে বসে পড়ে।

আব্বা তরিগড়ি করে বলে,
-- কি হয়েছে?, তুই এইভাবে হুটহাট টেবিলে থাপ্পড় মারলি কেনো?

আমি আব্বার সাথে রাগ দেখিয়ে বললাম,
-- তুমি এতদিন আমাদের কাছে কেনো লুকিয়ে রাখলে। আমরা তো এতদিন এই বাড়িতে ভাড়াটিয়ার মতো থেকেছি। উঠতে বসতে তোমার মায়ের কথা শুনতে হয়েছে। আজকে নিজের উপর ভিশন হাঁসি পাচ্ছে। যাই করলাম তাই তো অপরাধ?

আব্বা মাথা নিচু করে শান্ত কন্ঠে বলল,
-- আমি যা চাই নাই, তাই যেনো আমার সাথে বারবার হয়। আবিদা, আমি চেয়েছিলাম সবাই একসাথে বসবাস করতে। আমি যদি তোমাদের বলে দিতাম। তাহলে প্রতিদিন ঝগড়া ফ্যাসাদ হতো?

আম্মা আব্বার পাশে বসে বলে উঠলো,
-- তুমি হতো এইটা চিন্তা করছো। কিন্তু তাঁরা এই চিন্তা করে নাই। আমাকে সবসময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে পদে পদে অপমান করে। আমি আর কত সহ্য করতাম?

আম্মা এইবার কষ্টে কান্না করে দেয়। দাদি আমার মা'কে বাজারের মেয়েদের সাথেও তুলনা করেছে।

আমি ওইদিন শুরু চেয়ে চেয়ে সবকিছুই দেখে ছিলাম। সেদিন আমি দূর্বল ছিলাম। আজ যদি কেউ আমার মা'কে কিছু বলে। তাহলে আমি তাঁকে নৃশংস ভাবে ধ্বংস করে ছাড়বো।

আমি রাগে দুঃখে বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তুমি ব্যাগ পএ গুছিয়ে ফেলো। আমরা আর এই বাড়িতে থাকবো না। আমাদের এইখানে আপন বলতে কেউ নেই? আব্বা যদি যায় তাহলে যেতে পারে। নাহয় সে তাঁর মায়ের কাছে থাকুক?

আব্বা বলে উঠলো,
-- জুনাইদ, তুই কি পাগল হয়ে গেছিস। আমি তোদের ছাড়া থাকতে পারবো নাকি। তোরা এইখানেই থাকবে তা-ও সম্মানের সাথে। আমি তোকে কথা দিচ্ছি।

আমি বলে উঠলাম,
-- তাহলে, মানুষ রূপি অমানুষ গুলোর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে?

আম্মা একটা মলিন হাঁসি দিয়ে বলল,
-- সম্পর্ক ছিন্ন করা খুবই সহজ। তবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বড়ই কঠিন।

আমি কৌতুহল নিয়ে বললাম,
-- আম্মা, তুমি ভুল বললে, সম্পর্ক ছিন্ন করা বড়ই কঠিন। যাদের কাছ থেকে তুমি হারিয়ে যাবে। তাদের সাথে থাকা স্মৃতি গুলো, তাদের প্রতি ভালোবাসা, নিজের আবেগ, অনুভব, অনুভুতি। সবকিছুই যে ছিন্ন করতে হয়।

আম্মা বলে উঠলো,
-- কারো সাথে সম্পর্ক রাখতে হলে। তাঁর করা ভুল গুলো, তাঁর থেকে পাওয়া দুঃখগুলো, তাঁর থেকে শোনা কটুক্তিমূলক মন্তব্য গুলো, তাঁর থেকে পদে পদে অপমান গুলো। সবকিছুই ভুলে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হয়। মানুষ চাইলেই সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে। তবে মানুষ চাইলেই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না।

আমি আম্মাকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছি। মানুষ নাকি কখনো লেখাপড়া করে নাই। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা পর্যন্ত হয় নাই। অথচ মনুষ্যত্বর শিক্ষা ঠিকই আছে।

আব্বা বলে উঠে,
-- আবিদা, আমাকে অল্প কিছু খেতে দাও। আমাকে আবার দোকানে যেতে হবে?

আম্মা বলে উঠলো,
-- তুমি এখন দোকানে যাবে কেনো? জুনাইদ, তুই খেয়ে দোকানে চলে যা। তোর আব্বা খেয়ে, একটু ঘুমিয়ে নিক।

আমি আম্মাকে বললাম,
-- আচ্ছা, আমাকে খাবার বেড়ে দাও। আবিদ আর ফাবিহা কি খাইছে?

আবিদ আর ফাবিহা এই রুমে আসে নাই। তাঁরা দুইজন পাশের রুমে হয়তো শুয়ে আছে।

আম্মা বলল,
-- না, তাঁরা দুইজন তোর জন্যই অপেক্ষা করছিল। তুই তো ঠিকই আসলি। এসেই তো তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললি?

আমি আম্মার কথাগুলো শুনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি। আসলে আমিই তো সবকিছু করছি। যদি ছেড়ে দিতাম তাহলে এতকিছু হতো না।

আমি তাদের ডেকে উঠলাম,
-- আবিদ আর ফাবিহা, তোরা কোথায়? তারাতাড়ি এইখানে আয়। আমার খুব ক্ষুদা পেয়েছে?

আমার ডাক দেওয়ার পরপরই তাঁরা দুইজন হাজির। তাঁরা আমার পাশেই বসল।

আম্মা রান্না ঘর থেকে সবকিছুই বেড়ে নিয়ে চলে আসছে?

আমি বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তুমি কি সকালে খেয়ে ছিলে?

আম্মা নিচু গলায় বলল,
-- না

আমি জেলারের মতো জেড়া করে বললাম,
-- তুমি খাবার খেলে না কেনো?

আম্মা আমতা আমতা করে বলল,
-- আসলে, তোরা কেউ খাবার খেলি না। তোর আব্বা বাড়া ভাত গুলো অর্ধেক রেখে চলে গেছে। আমার আর মনটা চাই নাই?

আব্বা বলে উঠলো,
-- তুমি আর কত আমাদের চিন্তা করবে, আবিদা বেগম। সে-ই যে বিয়ের রাত থেকে শুরু করলে এখন পর্যন্ত চলছেই। তুমি নিজের খেয়াল কি একটাবার নেও। তুমি তো এমন ছিলে না?

আম্মা হাঁসি মুখে বলে,
-- জুনাইদের আব্বা, আমি তো আগে মেয়ে ছিলাম। তারপর কারো স্ত্রী হলাম, তারপর কারো মা। আমার যে অনেক অনেক দায়িত্ব। তোমরা শুধু দোয়া করো, আমার কিচ্ছু হবে না।

আম্মা আমাদের তিন ভাই-বোনের পাতে ডিম ভাজি তুলে দেয়। ডিম ভাজি আর ডাল এই আমাদের তিনজনের খুব প্রিয়। আমরা খাবার শুরু করে দেয়।

আমি দেখলাম আম্মা আর আব্বা শুধু ডাল আর আলু ভর্তা দিয়ে খাচ্ছে। তাদের মুখে যেনো তৃপ্তির হাসি।

আমি বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তুমি আমাদের ডিম দিলে। তোমরা ডিম ছাড়া খাচ্ছো কেনো। আরেকটা ডিম ভাজি করলে কি হতো?

আম্মা বলে উঠলো,
-- জুনাইদ, খালি খেয়ে ফেলেই হবে। মুরগির বাচ্চাও তো তুলতে হবে। আমাদের আলাদা একটু সঞ্চয় তো এইখান থেকেই হয়। সংসারের কাজে না লাগাই, তোদের হাত খরচ তো হয়ে যায়।

আব্বা রাগী গলায় বলল,
-- তোমরা কি শুরু করলে। খাবার খাওয়ার সময় কথা বলতে নেই। কথা বললে রহমতের ফেরেশতা আসে না। এই জন্যই হয়তো আয় উপার্জনে উন্নতি নেই।

আমরা একদম চুপ হয়ে যায়। আব্বা অত্যান্ত ভদ্র আর সহজ সরল মানুষ। তবে তাঁর উঠে গেলে আর রক্ষা নেই। সবার কপালে দুঃখ আছে।

আমরা খাবার দাবার শেষ করে। আব্বা বিছানায় শুয়ে পড়ে তাঁর পাশেই আম্মাও। আজকে সারাদিন যা দখল গেলো তাঁর উপর দিয়ে। সচরাচর আম্মা আসরের পর কখনোই বিছানায় শুয়ে দেখে না। আজকে হয়তো শরীরটা খারাপ লাগছে।

আমি তাদের দুইজনকে দেখে। তারপর আবিদ আর ফাবিহা কে একসাথে থাকতে বলি। তাঁরা কখন কি করে ফেলে বলা তো যায় না।

_________

রাস্তাঘাট কুয়াশায় ঢেকে গেছে। দুই হাত সামনেও কিচ্ছু দেখা যায় না। তখন বাজে রাত ১২:০০ টা। আমি এইমাত্র দোকান বন্ধ করে বাড়ির দিকে ফিরছি।

আব্বার শরীরটা হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে যায়। আমি দোকান বন্ধ করে ডাক্তারের কাছে নিতে চেয়ে ছিলাম। আব্বা বললো, একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। তাই আজকে আমাকেই দোকান বন্ধ করতে হলো।

আমাদের বাড়ি থেকে দোকানের দূরত্ব ১৫ মিনিটের রাস্তা। তাই আসতে যেতে গাড়ির প্রয়োজন হয় না। আমি হেঁটে হেঁটে বাড়িতে পৌঁছে যায়।

আমি বাড়ির গেটে পার হতেই দেখতে পায়। এই শীতের মধ্যেও আম্মা এখনো উঠানে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। মা কি এমনই হয়। আমার ঠিক জানা নেই।

আমি গিয়েই বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তুমি এত্ত রাতে বাহিরে কি করছো। এই শীতের মধ্যে বসে আছো। তোমার কি আক্কেল জ্ঞান হবে না?

আম্মা আমার হাতে একটা মগ গরম পানি দেয়।

আম্মা বলে উঠলো,
-- আমি তোর ঘর থেকে হয় নাই। তুই আমার ঘর থেকে হয়েছিস। তাই তোর এত বুঝতে হবে না। যা গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে আয়। আমি তোর জন্য খাবার গরম করতেছি?

আমি আর কিছু বলি নাই। এখন যদি কিছু বলি তাহলেই চ্যাতে যাবে?

আমি হাত মুখ ধুয়ে ঘরে চলে যায়। আম্মা আমার জন্য খাবার বেড়ে দেয়। আমি খাইতে থাকি।

আমি বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তুমি খাইছো?

আম্মা আমার মাথা হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,
-- হ্যাঁ, আমি তোর আব্বা সহ সবাই এশার নামাজ পড়েই খেয়ে নিছি। তুই খাইলেই সবাই খাবার দাবার শেষ হবে?

আমি বলে উঠলাম,
-- আম্মা, আজকে কেনো জানি মাথাটা ব্যাথা করছে। একটু নারকেল তেল আর পানি মিশিয়ে কি একটু দিয়ে দিবে?

আম্মা তড়িগড়ি করে বলল,
-- তুই খেয়ে শেষ কর? আমি এক্ষুনি মাথায় তেল দিয়ে দিচ্ছি?

আমি আম্মার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছি। মায়ের কোলে যে কি শান্তি, আমার চোখে রাজ্যের ঘুম ভর করেছে। চোখ গুলো বেশ টেনে টেনে তাকিয়ে আছি?

আমি বলে উঠলাম,
-- আম্মা, তোমার সাথে এই যে এত এত অন্যায় হয়। তুমি কিভাবে সহ্য করে নাও?

আম্মা আমার মাথায় তেল দিতে দিতে বলল,
-- মানুষ হতে হলে আগে ধৈর্যশীল হতে হবে। আমাকে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আমি যদি তাদের কথায় কান দেয়। তাহলে এই পৃথিবী আমাকে বাঁচতে দিবে না। মানুষ হলো এক পবিত্র জাত। আবার এই মানুষ গুলোই নিকৃষ্ট পশুর থেকে খারাপ। যে যার জায়গা থেকে ঠিক।

আমি বললাম,
-- আমি যদি তোমাকে রক্ষা না করতাম। তাহলে হয়তো এতদিনে তাঁরা আরো জঘন্য পরিকল্পনা করতো। আব্বা তো দেখেও না দেখার ভান করে চলে যায়। একজন ভালো সন্তান হওয়া খুবই সহজ। তবে কখনো একজন ভালো স্বামী হওয়া যায় না।

চলবে.......?

সবাই একটু মন্তব্য করবেন?

হ্যাপি রিডিং 🙂

22/08/2026

ানা_এলাচ গল্পটার যদি ই-বুক তৈরি করা হয়। আপনারা কি কিনবেন?

কমেন্ট চেক?

গল্প :-  ানা_এলাচ পরিসংখ্যান :- ৫ লেখক :-  #সাদনান_আল_আরাফ ফাবিহা নিজের পায়জামাটা হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে আমাকে দেখায়। হা...
21/08/2026

গল্প :- ানা_এলাচ
পরিসংখ্যান :- ৫
লেখক :- #সাদনান_আল_আরাফ

ফাবিহা নিজের পায়জামাটা হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে আমাকে দেখায়। হাঁটুটা একদম ছিলে গেছে। এখনো রক্ত লেগে আছে?

আমি চিৎকার করে বললাম,
-- হানিফ বেপারীইইইইইইই

আমার চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দাদার ঘর থেকে সবাই একসাথে দল বেঁধে বের হয়। মেজো ফুফুও তাহলে চলে এসেছে। তাঁর সাথে ফুফাও এসেছে তাদের একমাত্র সন্তান আনিকাও এসেছে।

দাদা উঁচু গলায় আমাকে শাসিয়ে বলল,
-- এই বেয়াদবের বাচ্চা, কাকে কিভাবে ডাকতে হয়। তা কি তোর মা শিক্ষা দেয় নাই?

আমি শার্টের হাতা গুটিয়ে বললাম,
-- বেপারি, মা-বাবা তুলে না কথা বললেই খুশি হবো? আমার মা'কে কেনো বারবার টেনে আনো। আমি কিন্তু তোমার ছেলের ও সন্তান। আমি যদি বেয়াদবি হতাম তাহলে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতে না কেনো?

মেজো ফুফা আমাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলল,
-- এই শিক্ষা দিয়েছে তোমার বাবা-মা। বড়দের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়, এইটাই তো শিখাতে পারে নাই? নিজের দাদার নাম ধরে ডাকে কেউ?

আমি দুই কদম ফুফার দিকে এগিয়ে গেলাম, তাঁর সামনে গিয়ে বললাম,
-- আপনার মতো কাপুরুষের মুখে এমন কথা মানায় না?

আমার এমন কথায় সবাই আমার দিকে ত্যারে আসে? আমি এখনো সে-ই ভাবেই দাঁড়িয়ে আছি। আজ যদি কেউ কিছু উল্টো পাল্টা করে। তাহলে লাশ ফেলে দিবো?

দাদি বলে উঠলো,
-- তোর মতো কুলাঙ্গারের মুখে এমন কথা মানায় না। তোরা সবগুলোই বেইমান, যারটা খেয়ে পড়ে বেঁচে আছিস। আজ তাঁকেই নাম ধরে ডাকছিস?

আম্মা বসা থেকে উঠে আমার পাশে এসে দাঁড়াল। আম্মা আমার হাতটা ধরে আছে। আম্মা মনে করছে আমাকে তাঁরা মারবে?

আম্মা বলে উঠলো,
-- আম্মা, আমার ছেলেকে নিয়ে একটা বাজে কথা বলবেন না। আমাকে যা বলার বলেন?

দাদা এবার একটা লাঠি হাতে নিয়ে, মাটিতে টুকা দিয়ে দিয়ে বলছে,
-- ভিখারির বাচ্চা, আমি যদি তোর উপর দয়া না করতাম। তাহলে কেউ তোকে কোনো ঘরের বউ হিসেবে তুলতো না। আমার বাড়িতে থেকে, তোর ছেলে আমার নাম ধরে ডাকে। আজকের ভিতরে আমার বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি?

আম্মা মাথা নিচু করে চোখের পানি ফেলছে। আম্মাকে এইভাবে দেখে আমার রুহ পর্যন্ত কেঁপে উঠলো। আমি আম্মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম।

ফুফু বলে উঠলো,
-- কি নবাবজাদা, এক্ষুনি কি হাওয়া ফুরিয়ে গেছে?

আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললাম,
-- একটু অপেক্ষা করো। আমার মা, আমার বুকে মাথা দিয়ে শেষ কান্নাটা করে নিক। আমার মা আর কোনো দিন কান্না করবে না?

আমার কথা শুনে সবাই হেসে দেয়। আমি যেনো কোনো কৌতুক রঙ্গ করছি।

ফুফা বলে উঠলো,
-- এই বাড়ির থেকে বেরিয়ে গেলে। তোমাদের মাথা গুজার মতো কোনো স্থান থাকবে না। আসছে আমার শশুর শাশুড়ির উপর কথা বলতে?

আমার মাথায় এইবার রক্ত চড়ে যায়। আমি ধরে আম্মাকে আমাদের ঘরের সামনে একটা পিঁড়িতে বসিয়ে দেয়।

আমি ফুফাকে উদ্দেশ্য করে বলি,
-- তুই হইলি সবচেয়ে বড় কুলাঙ্গা। তোর জম্ম গ্রহণ করাই ঠিক হয়নি। তোর মা-বাবা একটা ভালো সন্তান আশা করে ছিল। আর তোর মতো কুলাঙ্গারের জম্ম হয়ে গেছে। এখন যেমন জম্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আছে। তাঁরা যদি জানতো তুই এমন হবি। তাহলে তখনি এই পদ্ধতি নিতো।

ফুফু দাদিকে বলে উঠলো,
-- আম্মা তুমি এইভাবে দাঁড়িয়ে আছো। এইদিকে পিচ্চি পোলা আমার স্বামীকে পদে পদে অপমান করছে?

আমি ফুফুর দিকে সাহাদাত আঙ্গুল দেখিয়ে দেখিয়ে বললাম,
-- এইটা তোমার স্বামীর প্রাপ্য ছিল। নিজের মায়ের একদিন খেয়াল নেয় না। মা খাইলো নাকি খাইলো না, সেদিকে তাঁর খেয়াল নেই। নিজের মা'কে একদিন ডাক দেয় না। এখন আসছে শশুর শাশুড়ির সমস্যা সমাধান করতে? আগে গিয়ে নিজের কপালের উপর কুলাঙ্গা চিহ্ন তুলে নিয়ে আসেন?

ফুফা চিৎকার করে বলল,
-- জুনাইদ, তুমি কিন্তু আমাকে অপমান করে কথা বলছো?

আমি হাসতে হাসতে বললাম,
-- আমি তো তোকে অপমানই করতেছি? তুই তুকারি করছি, এখনো কি তোর বুঝতে বাকি আছে।

দাদা বসা থেকে উঠেই হাতের লাঠি দিয়ে আমার পিঠে আঘাত করে। আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। যখনি দ্বিতীয় আঘাত করতে যাবে, তখনি কেউ দাদার লাঠি কেউ ধরে ফেলে।

দাদা রাগ আরো চওড়া হয়ে যায়। দাদা পিছনে ফিরে দেখল আব্বা লাঠি ধরে রেখেছে?

আব্বা আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে, দাদাকে জিজ্ঞেস করল,
-- কি হয়েছে আব্বা, তুমি এইভাবে মারছো কেনো?

দাদা কাউকে কিছু বুঝার আগেই আব্বার গালে থাপ্পড় মারে। আম্মা সহ আমরা ভাই-বোন অবাক বনে যায়। আব্বা মাথা নিচু করে ফেলল। হয়তো এইটাই বাপের প্রতি সন্তানের সম্মান।

দাদা আব্বার হাতে ধাক্কা দিয়ে বলল,
-- এই শিক্ষা দিয়েছিস ছেলেকে। নিজের বাপের বাপকে নাম ধরে ডাকে?

আব্বা আমাকে ডাক দিয়ে বলল,
-- জুনাইদ, আব্বা যেটা বলছে, সেটা কি সত্যি। তোর এতটা অধঃপতন হয়েছে?

আমি ফাবিহাকে ডাক দিয়ে পায়জামাটা একটু উপরে তুলতে বলি। ফাবিহা আব্বার কাছে গিয়ে দেখায়। বোন আমাদের সবার চোখের মণি। আব্বার কলিজার টুকরো?

আব্বা ফাবিহার পায়ের কাঁটা দেখে বলল,
-- এইখানে কি হয়েছে?

ফাবিহা সবকিছুই আব্বাকে বলে দেয়। আব্বা সবকিছুই শুনেছ। তাঁর চোখে পানি টলটল করছে। তিনি এইসব নিতে পাচ্ছে না।

আব্বা নিচু স্বরে বলল,
-- আব্বা আম্মা, তোমরা এই কাজটা করতে পারলে? শেষ পর্যন্ত আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বললে?

দাদি আব্বাকে বলে উঠলো,
-- তুই ভুল বুঝতেছিস শাহিন। আমরা ওদের বের হয়ে যেতে বলছি। তুই তো আমাদের সন্তান তুই কোথায় যাবি। তুই আমার কাছেই থাকবি?

আমি বলে উঠলাম,
-- তা তোমাদের সারাজীবন উপার্জন করে খাওয়া তো?

দাদা এবার বলে উঠলো,
-- আমার কি কোনো কিছুর অভাব রয়েছে। আমরা যদি বসেও খাই, তাহলে শেষ হবে না?

আব্বা বলে উঠলো,
-- সেই টাকা গুলো কিন্তু আমার উপার্জন করা। তোমার ছোট ছেলেও কিন্তু আমার টাকায় বিদেশ গেছে। আর আজ তুমি আমার সন্তানকে বের হয়ে যেতে বলছো?

দাদার মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। তাহলে এতদিন দাদা আর আব্বা দামা চাপা দিয়ে রাখছে?

আমি আব্বাকে বলে উঠলাম,
-- তুমি তোমার বাবা মা'র সাথে থাকো। আমি আমার মা'কে নিয়ে চলে যাচ্ছি?

আব্বা বলে উঠলো,
-- আমরা কেউ কোথাও যাবো না। আমরা এই বাড়িতেই থাকবো।

দাদি ঝাঁঝালো গলায় বলল,
-- শাহিন, যদি তোর বউ এইখানে থাকে তাহলে তাঁর গলার স্বর্ণের চেইন খুলে দিতে হবে।

আমি চিৎকার করে বললাম,
-- দাদি, যা বলছো তা তো বলেই ফেলছো। দ্বিতীয়বার যেনো তোমার মুখে না শুনি? আমার মায়ের বালা জোড়া এখনি তোমার মেয়েকে খুলে দিতে বললো?

দাদা বলে উঠলো,
-- তুই বড়দের মাঝে কথা বলবি না?

আমি বললাম,
-- তোমার ছেলে তো বোবা হয়ে যায়। তাই আমাকে বলতে হচ্ছে? সত্য বলতে সৎ সাহস লাগে। সে-ই শিক্ষাটাই দিতে পারলে না। আবার আমাকে নিয়ে কথা বলতে আসো। তোমাকে বেয়াদব বলা যায়। কারন তুমিই বেয়াদব জম্ম দিয়েছো?

আব্বা এইখান থেকে বেরিয়ে ঘরে চলে যায়। আব্বার পিছন পিছন আম্মা আর ফাবিহা, আবিদ চলে যায়।

দাদা বলে উঠলো,
-- আমি বলে দিচ্ছি কোনো তালুকদারের মেয়ে আমার বাড়িতে থাকতে পারবে না। নিজের সন্তানকে লেলিয়ে দিয়ে ঘরে বসে থাকে?

আমি হাত দিয়ে তুড়ি মেরে বললাম,
-- আমার মা কোথাও যাবে না। সে এইখানেই থাকবে, আমিও দেখি কে আটকায়। আমার মা যদি বলে পশ্চিম দিকে সূর্য উদয় হবে। আর সন্ধ্যার সময় পূর্ব দিকে সূর্য অস্ত যাবে। তাহলে, আমি জুনাইদ আহমেদের জন্য তাই হবে? মা যা বলবে তাই হবে।

দাদা বলে উঠলো,
-- আমিও দেখি তোরা কিভাবে এইখানে থাকিস? আমি সবকিছুই বাকি তিনজনের নামে লিখে দিবো? আমার ছেলেটা বিদেশ থেকে শুধু আসুক?

আমি হাসতে হাসতে বললাম,
-- আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো। যদি কিছু হয়ে যায়। তাহলে আমাকে কেউ কিছু বলবে না। আজকে আপনারা খুব বেশি ভাগ্যবান। নাহয় আপনারা দাঁড়িয়ে থাকার সক্ষমতা থাকতো না। আমার মা শুধু না করে গেলো দেখে?

আমি এইগুলো বলেই ঘরে চলে আসি। আব্বা শুয়ে আছে, হয়তো এইসব দেখে মানসিক চাপ পড়ছে। তিনি বিশ্বাস করতে পাচ্ছে না। আম্মা চৌকির পাশেই বসে চোখের পানি ফেলছে।

আবিদ আর ফাবিহা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। তাঁরা খুব ভয় পেয়ে গেছে।

দাদা বাহির থেকে চিল্লা পাল্লা করে বলতে থাকে,
-- আমিও দেখি তুই কি বা*ল ফেলে দিতে পারিস। আমিও দেখবো আমাকে কে কি করে?

আমি আব্বুকে বললাম,
-- কোথায় গেলো তোমার অন্ধ বিশ্বাস। যখন আমরা বলতাম, তখন তো আমাদের উপর হাত তুলতে। আজকে কি সেটার প্রমাণ পেয়েছো?

আব্বা কান্না ভেজা চোখে বলল,
-- আমি সবকিছুতে ভুল করেছি। আমার জন্য সারাজীবন তোদের সাথে অন্যায় করে গেলাম। আজ কি না, এই বাড়ি পর্যন্ত ছেড়ে যেতে বলছে?

আম্মা কান্না করতে করতে বলল,
-- আমি এই বাড়িতে থাকবো না। আজকের মধ্যেই সবকিছু নিয়ে চলে যাবো?

আব্বা বলে উঠে,
-- আমি কারো জায়গায় থাকি না। আমার নিজের টাকায় কেনা জায়গায় থাকি?

আমি আর আম্মা অবাক হয়ে যায়। আব্বা এইসব কি বলছে। আমাদের তো এক বেলা খেলে পরের বেলার জন্য চিন্তা করতে হয়। আর আব্বা বলছে আমাদের জায়গা।

আমি অবাক হয়ে বলে উঠলাম,
-- কি বলছো আব্বা

আব্বা বলে উঠে,
-- তোমরা যেটা শুনছো সেটাই সত্যি। আমি আব্বার কাছে ১ কাঠা জমি কি.......

চলবে...... ?

আজকের পর্বে সবকিছুই খোলা করে দিলাম। গল্পটা নিজের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

মা নিয়ে কোনো ছাড় হবে না?

হ্যাপি রিডিং 🙂

21/08/2026

আচ্ছা, আপনারা বলতে পারেন।
বাবা মায়ের ভালোবাসা কেমন হয়? 🥹

গল্প :-  ানা_এলাচ পরিসংখ্যান :- ৪ ( পারিবারিক যুদ্ধ ) লেখক :-  #সাদনান_আল_আরাফ আমার মুখে এমন হুমকি শুনতে পেয়ে। দাদি আর ...
20/08/2026

গল্প :- ানা_এলাচ
পরিসংখ্যান :- ৪ ( পারিবারিক যুদ্ধ )
লেখক :- #সাদনান_আল_আরাফ

আমার মুখে এমন হুমকি শুনতে পেয়ে। দাদি আর ফুফু এইখান থেকে চলে যায়। তাদের চোখে ভয়?

আমি আব্বাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,
-- আব্বা, তুমি আসলেই একজন খারাপ মানুষ। তুমি তোমার আনা আমনত রক্ষা করতে পারলে না। আর কত চুপ করে থাকবে? তুমি মহিলাদের মতো হাতে চুড়ি পরে রাখো?

আব্বা বসা অবস্থায় চিৎকার করে চেঁচিয়ে উঠলো। তিনি এত বড় অপমান সহ্য করতে পারে নাই। নিজের ছেলে শেষ পর্যন্ত চুড়ি পড়তে বলছে?

আব্বা আমাকে শাসিয়ে বলল,
-- জুনাইদ, তুই একটু বেশি বলে ফেলছিস না? কে আমার আমানত, আমি তো কোনো আমানত আনি নাই?

আমি আম্মার হাতটা ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসি? আব্বা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে। তিনি তাঁর আমানত কোনটা সেটাই জানতো না।

আমি আব্বাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম,
-- আব্বা, একদম শাসিয়ে কথা বলবে না। তুমি একটা মূর্তি, মূর্তির মতোই থাকবে? তুমি আমানত আনো নাই। তাহলে যে মানুষটা আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ওই মানুষটা এই বাড়িতে কেনো? সে কিন্তু তোমার পরিবারকে দেখে আসে নাই। সে একমাত্র তোমার উপরেই ভরসা করে এসেছে। আর তুমি বলছো আমানত আনো নাই?

আব্বা একদম চুপ হয়ে যায়। তিনি মাথা নিচু করে ফেলল।

আম্মা বলে উঠলো,
-- জুনাইদ, যে কথা গুলো বলার জন্য দীর্ঘ ২০ টা বছর কাটিয়ে দিলাম। আজ তুই সেই কথা গুলো বলে দিলি?

আমি আম্মার হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম,
-- আম্মা, তুমিও কিন্তু একজন অপরাধী! তুমি নিজের সাথে হয়ে যাওয়া অন্যায় গুলো মুখ বুজে সহ্য করে গেছো। আজ যেমন প্রতিবাদ করলে। যদি এই প্রতিবাদটা আরো আগে করতে। তাহলে আজ এই দিনটা দেখতে হতো না।

আব্বা বলে উঠলো,
-- তোমাদের মামলা মোকদ্দমা শেষ হলে। আমি এখন দোকানে যেতাম?

আম্মা হন্তদন্ত হয়ে রান্না ঘরে ছুটে যায়। আমি জানি আম্মা কেনো গেলো। যত কিছুই হয়ে যাক না কেনো। আব্বা না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে পারবে না।

আমি একটা পুরনো কাঠের চেয়ার টেনে বসে পড়ি। আমাদের ঘরের ভিতরে একটা টেবিল আর দুইটা চেয়ার ছাড়া ভারি কোনো বস্তু নেই।

আম্মা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে এক হাতে ভাতের থালা তাঁর উপর আলুর ভর্তা আর অন্য হাতে মুশুরীর ডাল।

এই খাবার গুলো এখন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। গরিবের তো দিন পার করতে পারলেই হয়।

আম্মা আব্বাকে পাটিতে বসিয়ে দিয়ে ভাত গুলো সামনে দেয়। আব্বা খাবার গুলো খেতে শুরু করে।

আম্মা বলে উঠলো,
-- তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? না খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চাও। এই যে যাচ্ছো? আসতে আসতে তো রাত হয়ে যাবে।

আমার আম্মা হওয়ার আগেও তিনি কারো স্ত্রী। একটা মেয়ের জন্য সন্তানের থেকেও স্বামী বেশি আপন। আম্মা নিজের দায়িত্ব থেকে এক চুল পরিমান সরে দাঁড়ায়নি। আমার আব্বা হতো এড়িয়ে গেছে।

আব্বা মুখ ভর্তি খাবার নিয়েও বলে উঠলো,
-- কি করবো বলো? প্রতিদিন এইসব ভালো লাগে? আমি আর কি করবো বলো তো আমায়। আমি তোমার সাথে প্রতিদিন অন্যায় করে যাচ্ছি। তাঁর উপর মা আর বোনরা তো আছেই। আমি একদম হাঁফিয়ে গেছি?

আমি আব্বার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। মানুষটা আসলেই খুব বেশি হাঁফিয়ে গেছে। সবকিছুই ঠিকঠাক রেখে চলতে চায়। অথচ, একটা কথা আছে না।

“ তাঁর অপরাধ ছিল জন্মের সময়। সে এই পৃথিবীতে পুরুষ হয়ে জন্মেছে। সে নিজের পরিবারের জন্য যতোই করুক। দিন শেষে তাঁর উপর হাজারো অভিযোগ রয়েই যায় ”

আমি নিচু স্বরে বললাম,
-- আব্বা, আমাকে মাফ করে দিও। আমি তোমাকে কথা গুলো! ওইভাবে বলতে চাই নাই। কিন্তু তখনের ঘটনার পর মাথাটা বিগড়ে গিয়ে ছিল‌।

আব্বা মাথা নিচু করে খেতেই থাকে। মাথা নিচু অবস্থায় বলল,
-- জুনাইদ, তুই বাবা মিথ্যা কিছু বলিস নাই। কোনো সন্তান তাঁর মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায় সহ্য করতে পারে না। তুই ভুলে যাস না, আমিও কারো না কারো সন্তান। সে যত অন্যায় করুক না কেনো? আমি চাইলেও কিছু বলতে পারি না।

আমি আব্বার কথা শুনে লজ্জায় পড়ে যায়। আব্বা তো ঠিক কথাই বলেছে। আমিও যেমন একজন মায়ের সন্তান। আমার আব্বাও তো কারো সন্তান, সেই মানুষটা যত খারাপই হোক না কেনো?

আব্বা খাবার শেষ করে উঠে যায়। উঠে ঘরের আলনা থেকে একটা শার্ট পড়ে চলে যায়। তীনি আর একটা কথাও বলে নাই।

আমি উঠে আম্মাকে বললাম,
-- আম্মা, আমি তাহলে কলেজে গেলাম?

আম্মা বলে উঠলো,
-- এখনি কি চলে যাবি? আমি তোর জন্য একটা মুরগির ডিম ভাজি করে দিচ্ছি। সকালের খাবার খেয়ে তারপর কলেজে যা?

আমি আম্মাকে বললাম,
-- আম্মা এখন আর খাবো না? সকালে দুইটা টোস্ট বিস্কুট খাইছি। তুমি ডিম ভাজি করে রাখো, আমরা তিন ভাই-বোন মিলে দুপুরে এক সাথে খাবো।

আমাদের পড়ার টেবিলে আর খাওয়া টেবিল একটাই। আমি টেবিল থেকে ব্যাগটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

আম্মা ঘরের দরজায় দিয়ে আছে। আমি জানি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে দেখা যাবে। আম্মা ততক্ষন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকবে। মায়ের ভালোবাসার কোনো মূল্যে হয় না।

আমি কলেজে চলে যায়। আব্বা তো দোকানেই গিয়েছে। ফাবিহা আর আবিদ আসতে আসতে বিকাল চারটা বেজে যাবে‌। আমি একটু আগে চলে আসবো?

________

তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল। পৌষ মাসের কনকনে শীতের দিন, গ্রামের এলাকা গুলোতে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। হালাকা শীত লাগছে, শীতের কিছুই পড়ে যায় নাই।

আমি এইমাত্র বাড়ি ফিরেছি। ঘরের সামনে যেতেই চোখটা ছানাবড়া হয়ে যায়। আম্মা ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কান্না করছে?

আমি এক দৌড়ে আম্মার কাছে যায়। আম্মা আমাকে দেখেই আরো বেশি জোরে কাঁদতে থাকে? আমি গিয়ে আম্মাকে ধরি।

আমি ব্যাকুল হয়ে বলি,
-- কি হয়েছে আম্মা! তুমি এইভাবে কান্না করছো কেনো?

আম্মা কিছুই বলতে চাচ্ছে না। তিনি নিজের আঁচল দিয়ে মুখটা ঢেকে নেয়। আমি বুঝতে পারলাম কিছু একটা হয়েছে?

আমি আমার ছোট বোনকে ডেকে আনি জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে,

-- ফাবিহা বাড়িতে কি হয়েছে! আম্মা এইভাবে কান্না করছে কেনো?

ফাবিহা আমতা আমতা করে বলল,
-- ভাইয়া, আমি আর আবিদ আজকে দুপুরেই চলে আসছি। এসে খাবার খেতে যখন বসি? তখন দাদা কোথা থেকে এসে। আম্মাকে যেভাবে পারছে সেইভাবেই কথা শুনিয়েছে? আমি ফিরাতে গিয়ে ছিলাম। দাদি আর ফুফুরা আমাকে মিলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে?

ফাবিহা নিজের পায়জামাটা হাঁটু পর্যন্ত উঠিয়ে আমাকে দেখায়। হাঁটুটা একদম ছিলে গেছে। এখনো রক্ত লেগে আছে?

আমি চিৎকার করে বললাম,
-- হানিফ বেপারীইইইইইইই.......

চলবে.... ?

বিশাল বড় ধামাকা হতে যাচ্ছে। কথায় আছে, বিশ্বযুদ্ধের থেকেও পারিবারিক কলহ বেশি ভয়ংকর?

সবাই নিজের মন থেকে গল্পটা নিয়ে ছোট্ট একটা মন্তব্য করে যাবেন?

হ্যাপি রিডিং 🙂

গল্প :-  #তোর_জন্য_এলাম_ফিরে পরিসংখ্যান :- ১৪ লেখক :-  #সাদনান_আল_আরাফ আহিল এইবার একটু দমে যায়। অরুর যে তাঁকে মুখের উপর...
19/08/2026

গল্প :- #তোর_জন্য_এলাম_ফিরে
পরিসংখ্যান :- ১৪
লেখক :- #সাদনান_আল_আরাফ

আহিল এইবার একটু দমে যায়। অরুর যে তাঁকে মুখের উপর অপমান করে দিবে, সেইটা সে কখনো চিন্তা করে নাই।

আহিল নিজের হাত মুষ্টি বদ্ধ করে বলে,
-- বাড়ির বউ মানুষ তুমি। কার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়, তা কি জানো না। আমি তোমার জামাইয়ের বড়ভাই হয়।

অরু বলে উঠলো,
-- আপন ভাইতো আর না? আপন ভাই হলেও এই কথা বলতে পারতো না। আপনি একটু বেশি আশা করে ফেলছেন না?

আহিল কি বলবে তা বুঝে উঠতে পারছে না। অরু এমন ভাবে কথা বলে, প্রতিটি কথায় যুক্তিসঙ্গত।

আহিল বলে উঠলো,
-- আমি তো মজা করে বলছিলাম আর তুমি ছোট্ট একটা কথা নিয়ে এত মাতামাতি করলে? তোমাকে এইটার মাশুল দিতে হবে?

অরু আহিলের কথা শেষ হতে না হতেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে। অরুর এমন হাসিতে আহিল বিচলিত হয়ে যায়।

অরু হাসতে হাসতে বলল,
-- আপনি কি করতে পারেন না পারেন। সেটা আমি মিসেসে শিকদার বলছি, আপনি কি করেন আমিও দেখে নিবো?

আহিল রাগ দেখি রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। অরু রাগী মুখ নিয়ে রান্না করছে। তখনি, উপস্থিত হয় তাঁর শাশুড়ি আম্মা।

শাশুড়ি আম্মা কটাক্ষ করে বলল,
-- এত রান্না বান্না কার জন্য শুনি? তখন তো এক গ্লাস সরবত পায় নাই। আর এখন চিকেন নুডলস্ আর পায়েস রান্না হচ্ছে?

অরুর যেনো মাথায় আগুন ধরে যায়। এতক্ষণ তো আহিল মাথা বিগড়ে গেলো। এখন আসছে এই মহিলা?

অরু শান্ত কন্ঠে বলল,
-- আম্মা, আপনার ছেলে একটু পায়েস খেতে চেয়েছিল। তাঁর জন্যই আমি রান্না করছি?

শাশুড়ি আম্মা ঝাঁঝালো গলায় বলল,
-- তুমি আর কত বাহানা দিবে? তোমার খেতে মন চায় এইটা বলো না। রাতের জন্য রান্না কখন করবে?

অরু এইবার ক্ষেপে যায়।

অরু দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
-- আম্মা, আপনি একটু বেশি বলছেন না। যদি এমনটাই হতো তাহলে আমি কখনো আপনার ছেলের নাম বলতাম না। আপনার চিন্তা করতে হবে না? আমি রাতের খাবার রান্না করে রাখবো?

অরুর হঠাৎ এমন আচরণে বরকে যায় হাফিজা খাতুন। অরু তো কখনো এমন আচরণ করে না।

অরুনীলা রান্না বান্না শেষ করে? একটা ট্রের মাঝে সাজিয়ে ঘরে উপস্থিত হয়।

অরু গিয়ে দেখে তাঁরা দুইজন বাপ বেটা শুয়ে আছে?

অরু বলে উঠলো,
-- উঠি উঠি, আপনাদের খাবার চলে আসছে?

হিমেল শিকদার বলে উঠলো,
-- আমাদের আর খিদে নেই?

অরু রাগী গলায় বলল,
-- কিসের খিদে নেই! আমাকে এত কষ্ট করে রাধিয়ে, এখন বলছে খিদে নেই।

আয়াজ অভিমানের সুরে বলে,
-- আমি তোমাল সাতে কতা বলবো না। তুমি আমালে বকা দিছো। আমি তোমাল হাতের খাবাল খাবো না?

অরু আয়াজ কে কোলে নিয়ে গালে চুমু দিয়ে বলল,
-- ওলে ওলে বাবুটা আমার, তুমি মায়ের উপর রাগ করে আছো? আমি তো তখন আমি মজা করে বলছি? তোমার পছন্দের চিকেন নুডলস্ বানিয়েছি?

আয়াজ তাঁর বাবার দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপ দিল। বাবা ছেলের কান্ড দেখে অরুর খুব বেশি হাঁসি পায়।

আয়াজ আর হিমেল শিকদার মিলে খাবার খাচ্ছিল। অরু তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল।
হঠাৎ করেই হিমেল শিকদার অরুকে টান দিয়ে তাঁর কোলে বসিয়ে দেয়। হঠাৎ এমন হওয়ায় অরু একটু ভয় পেয়ে যায়। অরু নিজের বুকে থুথু দেয়।

অরু রাগ দেখিয়ে বলে,
-- এইটা কি হলো? আপনি যে হঠাৎ করে হ্যাঁচকা টান মারলেন। এখন যদি আমি পড়ে যেতাম?

হিমেল শিকদার তাঁর প্লেট থেকে এক চামচ পায়েস তুলে অরুর মুখের সামনে ধরে। অরু রাগে মুখ ঘুড়িয়ে নেয়।

হিমেল শিকদার এইবার মুখটা এক হাতে ধরে তাঁর মুখের ভিতর চামচ ঢুকিয়ে দেয়। অরু তখন আর না করতে পারে না।

আয়াজ বলে উঠলো,
-- আব্বু, আমিও তোমাল সাতে খাবো? তুমি আম্মুলে দিলে, আমালে তেনো দিলে না।

হিমেল শিকদার কানে ধরে বলে,
-- আব্বু, আমার ভুল হয়েছে আর কখনো এমন হবে না। এই যে নাও?

সবাই মিলে নাস্তা সেরে নেয়। হিমেল শিকদার আর আয়াজ বিকালের আকাশ দেখতে নদীর পাড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।

অরু মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। সেও তাদের সাথে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু তাঁকে তো রাতের রান্না করতে হবে?

হিমেল শিকদার আর আয়াজ হাসি খুশি ভাবে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। অরু আর কি করবে, এক বস্তা সমবেদনা নিয়ে রান্না ঘরে উপস্থিত হয়।

অরু রান্না শুরু করে দেয়। আজকেও বাসায় মেহমান এসেছে। কত কি যে রান্না করতে হবে?

অরু রান্না করবে, গরু গোস্তের ঝোল, মুরগীর রোস্ট, চিংড়ি মাছের কারি, পোলাও, সাথে আবার ভাত। তাঁর উপর দিয়ে এখন একটা ঝড় বয়ে যাবে?

দেখতে দেখতে অনেকটাই রাত হয়ে গেছে? এখন রাত ৯:০০ টা বেজে গেছে। সবাই খাবার টেবিলের দিকে এগিয়ে এসেছে।

খাবার টেবিলের মাঝে বড়চাচা, বড়চাচি, আফিয়া, রিতু, শশুর আব্বা, শাশুড়ি আম্মা, আহিল আছে। আহিল একদম চুপ করে আছে। সে কথা বলেই তো অরু অপমান করে?

সবাইকে যখন অরু আর সুমি খাবার বেড়ে দিতে যাবে। তখনি, আয়াজ আর হিমেল শিকদার বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে।

হিমেল শিকদার বলে উঠলো,
-- বাহ বাহ, আমাকে রেখেই সবাই মহা ভোজের আয়োজনে বসে গেলে। আমি কি এই বাড়ির ছেলে না?

রিয়াজ শিকদার শান্ত কন্ঠে বলল,
-- এত ভনিতা না করে খেতে বস। এতক্ষণ কোথায় ছিলি?

আয়াজ বলে উঠলো,
-- দাদাভাই , আমি আল আব্বু বাজালে গিয়ে ছিলাম তাঁল আগে নদীল পালে গিয়ে ছিলাম। কি সুন্দল সুর্য ডুবে।

হিমেল শিকদার একটা চেয়ার টেনে আয়াজ কে কোলে নিয়েই বসে পড়ে। তাঁর খুব খিদে পেয়েছে।

সবাই তৃপ্তি সহকারে খেতে থাকে। তাদের খাওয়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে। রান্না ভালো হয়েছে।

হিমেল শিকদার বলে উঠলো,
-- এই রান্না করে করেছে?

অরু হাঁসি মুখে বলে,
-- আমি রান্না করেছি?

হিমেল শিকদার মজার ছলে বলে,
-- এমন জঘন্য রান্না তোমার? এর থেকে কি?

হিমেল শিকদার তাঁর সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারে নাই।

অরু রাগী গলায় শাসিয়ে বলে,
-- ভালোই ভালোই খেয়ে উঠে যান। নাহয়, সামনে রান্নায় জামাল গুটা মিশিয়ে খাইয়ে দিবো। তখন একবার আসবেন তো একবার যাবেন?

হিমেল শিকদারের এক নিমিষেই হাওয়া ফুরুশ। সে তো মজা করে বলছিল। তাঁর যে একখানা বউ, এই কাজ অচিরেই করতে পারে?

অরুর কথা শুনে সবাই হাসতে থাকে। আহিলের এইসব ভালো লাগছে না। তাদের সুখ তাঁর সহ্য হচ্ছে না।

হিমেল শিকদার আমতা আমতা করে বলল,
-- হয়েছে কি বউ! তুমি কত সুন্দর রান্না করো। আমি তো মজা করে বলছি। আজকের রান্না অমায়িক লেগেছে?

অরু রাগী গলায় বলল,
-- আমাকে আর ফাম দিতে হবে না। আমি তো দিয়েই ছাড়বো। আমার রান্নার বদনাম করে। আপনাদের কি কারো অভিযোগ আছে।

সবাই এক বাক্যে উওর দেয়, আমাদের কারো অভিযোগ নেই। আমরা তো এমন রান্না জীবনেও খাই নাই?

হিমেল শিকদার কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
-- তোমরাও আমার সাথে প্ল....

চলবে.....

গল্পটা অনেক দিন পর লিখলাম তাই একটু গুছিয়ে উঠতে সময় লাগবে? সবাই একটু রেসপন্স করবেন?

দোয়া করবেন 🤲
হ্যাপি রিডিং 🙂

Address

Mymensingh
Mymensingh
2250

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when StOry By sadnan al AraF posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category