14/07/2026
📖 উপন্যাস: দ্য হন্টেড স্কুল
ধরন: Horror • Mystery • Thriller
মোট অধ্যায়: ৪০
এবার প্রস্তুত হও... কারণ প্রথম রাত থেকেই অদ্ভুত সব ঘটনা শুরু হবে। 👁️🕯️
অধ্যায় ১: আগমন
বিকেল প্রায় পাঁচটা।
আকাশজুড়ে কালো মেঘ। বাতাসে এমন এক ঠান্ডা ভাব, যেন বৃষ্টি নামার আগেই পুরো পৃথিবী নিঃশ্বাস আটকে রেখেছে।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে থামল আফরোজ খান মডেল স্কুল-এর বিশাল লোহার গেটের সামনে।
গেটের ওপরে মরিচা ধরা লোহার অক্ষরে লেখা—
"জ্ঞানই শক্তি।"
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, নিচে কেউ যেন ধারালো কিছু দিয়ে খুব কষ্ট করে আরেকটি বাক্য খোদাই করেছিল—
"রাতের পর এই জায়গা আর আগের মতো থাকে না..."
লেখাটার ওপর নতুন রঙ করা হয়েছে। তবু কাছ থেকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়।
গাড়ি থেকে প্রথমে নামল আরিশা।
তারপর তাইয়িবা, জান্নাত, নাশা, উর্মি, তিথি আর মর্ম।
সাতজনই এবার প্রথমবারের মতো এই বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি হয়েছে।
তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন লম্বা, গম্ভীর মানুষ।
— "আমি কামরুল স্যার। তোমাদের নতুন শিক্ষক।"
স্যারের কণ্ঠ শান্ত, কিন্তু চোখে যেন অদ্ভুত ক্লান্তি।
তিনি সবাইকে নিয়ে ভেতরে হাঁটতে শুরু করলেন।
স্কুলটা যেন একটা ছোট দুর্গ।
তিনতলা বিশাল ভবন।
পাশেই পুরোনো লাইব্রেরি।
আর একটু দূরে...
একটি ভাঙা ভবন।
ভবনটি চারদিকে লাল ফিতা দিয়ে ঘেরা।
উর্মি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— "স্যার, ওটা বন্ধ কেন?"
কামরুল স্যার একবারও পেছনে না তাকিয়ে বললেন,
— "ওদিকটায় কেউ যাবে না।"
শুধু এইটুকুই।
আর কিছু নয়।
হোস্টেলে পৌঁছে তাদের স্বাগত জানালেন গণি মামা।
বয়স প্রায় সত্তরের কাছাকাছি।
সাদা দাড়ি।
হাতে পুরোনো এক ঝাঁকড়া লণ্ঠন।
তিনি একে একে সবার মুখের দিকে তাকালেন।
তারপর হঠাৎ আরিশার দিকে একটু বেশি সময় তাকিয়ে রইলেন।
মৃদু কাঁপা গলায় বললেন,
— "তোমার চোখ... ঠিক একই রকম..."
আরিশা অবাক।
— "কার মতো?"
গণি মামা কোনো উত্তর দিলেন না।
শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
রাতে ডাইনিং হলে পরিচয় হলো আজিজ স্যার আর শরিফুল স্যারের সঙ্গে।
আজিজ স্যার সব সময় হেসে কথা বলেন।
শরিফুল স্যার খুব কম কথা বলেন।
তবে সবাই খেয়াল করল—
রাত ঠিক ৯টা বাজতেই তিনজন স্যার একই সঙ্গে ঘড়ির দিকে তাকালেন।
তারপর একে অপরের দিকে।
মনে হলো, তারা যেন কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করছেন।
রাত ১০টা।
হোস্টেলের সব আলো নিভে গেল।
সাতজন একই রুমে বসে গল্প করছে।
হঠাৎ...
ঠক...
দরজায় শব্দ।
তিথি দরজা খুলল।
বাইরে কেউ নেই।
শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটি পুরোনো খাম।
খামের ওপর কালো কালি দিয়ে লেখা—
"নতুনরা... ১২টার আগে ঘুমিয়ে পড়ো। জানালার বাইরে কেউ ডাকলে তাকিয়ো না।"
জান্নাত হেসে বলল,
— "কেউ মজা করছে।"
ঠিক তখনই...
দূরে কোথাও একটি ঘণ্টা বেজে উঠল।
ঢং...
ঢং...
ঢং...
গণি মামা করিডোর দিয়ে দৌড়ে যেতে যেতে চিৎকার করলেন—
"সবাই জানালা বন্ধ করো! এখনই!"
কিন্তু...
আরিশা তখনই লক্ষ্য করল—
তাদের রুমের জানালার বাইরে...
অন্ধকারে...
একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তার লম্বা চুল মুখ ঢেকে রেখেছে।
সে একটুও নড়ছে না।
ধীরে ধীরে...
সে তার মাথা তুলল।
আর ঠোঁটে ফুটে উঠল একটি অস্বাভাবিক হাসি।
(চলবে...) 👁️🕯️