29/06/2026
বর্তমানে আমাদের সমাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা আলেম-ওলামাদের নিয়ে বিশেষ করে মাওলানা মামুনুল হক সাহেবকে নিয়ে যে ধরণের কুৎসা রটানো হচ্ছে, তা এক কথায় অত্যন্ত দুঃখজনক। রাজনৈতিক ময়দানে একে অপরের সমালোচনা বা কাদা ছোড়াছুড়ি হয়তো একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু যখন দেখি একজন আলেম, মাওলানা বা মুফতি সাহেবও এ ধরণের নিকৃষ্ট প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন, তখন সত্যিই খুব অবাক লাগে।
একজন আলেম যখন অন্যের চরিত্রের ওপর অপবাদ তোলেন বা কোনো সত্যতা যাচাই না করেই মন্তব্য করেন, তখন তিনি কি সূরা নূরের সেই কঠোর হুশিয়ারিগুলো ভুলে যান? যারা এই পথে চলছেন, তারা কি এই আয়াত গুলোর তাফসীর পড়েননি?
আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন:
لَوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَئِكَ عِنْدَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ
"তারা কেন এ ব্যাপারে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? সুতরাং যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তখন তারা আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী।"
(সূরা আন-নূর: ১৩)
আবার যারা অন্যের সম্পর্কে শোনা কথা যাচাই না করেই প্রচার করেন, তাদের উদ্দেশ্যও আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمٌ
"স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের কাছে তা মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং তোমাদের মুখে এমন সব কথা বলছিলে, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। তোমরা একে সামান্য বিষয় মনে করেছিলে, অথচ আল্লাহর নিকট তা ছিল অত্যন্ত গুরুতর।" (সূরা আন-নূর: ১৫)
যদি আল্লাহ তাআলার কাছে এটা এতোটা গুরুতর বিষয় হয়, তবে যারা নিজেকে আলেম বা মুফতি হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তাদের আমল ও আচরণে এই ভয় থাকা কি জরুরি নয়?
কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কিংবা প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা ঈমান ও ইনসাফের পরিপন্থী।
আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, আমরা যা বলছি বা লিখছি, তার প্রতিটি কথার হিসাব একদিন আল্লাহর কাছে দিতে হবে। একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে আবেগের বশে নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডে বিচার করাই আমাদের ঈমানের দাবি।