29/03/2026
সম্প্রতি উদীচীর অপভ্রংশ একটি অংশ যারা দখল, মবসন্ত্রাসের সাথে যুক্ত তাদের কিছু কার্যকলাপ জনমনে কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। বিশেষকরে, ২৫শে মার্চের কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই আবেগ থেকে মন্তব্য করছেন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে একটি অপভ্রংশের অপকর্মের দায় ঢালাওভাবে সমগ্র উদীচীর ওপর আরোপ করলে উদীচীর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ঐহিত্যকে খারিজ করে দেয়া হবে। আমরা অবশ্যই আপনাদের আবেগের জায়গাটা অস্বীকার করতে চাই না। কিন্তু সবকিছুকেই একপাল্লায় মাপা সমীচীন নয় সেটা যারা লিখছেন তারাও জানেন।
একাত্তরের গণহত্যা আমাদের জাতিসত্তার সবচেয়ে গভীর ক্ষত এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জনের পটভূমি। এই ইতিহাসকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে তার স্বাতন্ত্র্য ও গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে।
১৯৭১ সালে একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিগোষ্ঠীর ওপর নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে এবং তাদেরকে সহযোগিতা করেছে এদেশীয় দোসররা এই বাস্তবতাকে অন্য কোনো সময়ের রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে সরলরেখায় মিলিয়ে দেখা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি ইতিহাসকে বিকৃত করার ঝুঁকি তৈরি করে। যারা এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটিয়েছে, তারা ইতিহাসের মুখোমুখি হবেন এর বাইরে আমরা কিছু বলতে চাই না।
একইসঙ্গে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সাম্প্রতিক বছরগুলোর দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন বা নির্যাতন কোনোভাবেই উপেক্ষণীয় নয়। এগুলোও গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি। কোনো রাজনৈতিক শক্তির অন্যায়কে সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না।
তবে সব ধরনের অন্যায়কে এক কাতারে ফেলে সব রাজনৈতিক শক্তিকে একইভাবে চিহ্নিত করা একটি সরলীকৃত ও বিভ্রান্তিকর দৃষ্টিভঙ্গি। এতে সাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির নৃশংস ভূমিকা আড়াল হওয়ার ঝুঁকি থাকে, এবং প্রগতিশীল রাজনীতির ভেতরের পার্থক্যগুলোও অস্পষ্ট থেকে যায়।
অতএব, ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে, একাত্তরের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে, সমসাময়িক অন্যায়ের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়াই প্রয়োজন। আমরা যারা সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্ত-এর আদর্শে উদীচীর পতাকাতলে কাজ করি, আশাকরি তাদের অবস্থান এতেই স্পষ্ট।