22/12/2025
লেখালেখির যাত্রায় এক অপ্রত্যাশিত ডাক
গল্প বা কবিতার বই লেখার কথা ভাবতাম, কিন্তু এতটা ভয় কখনো কাজ করেনি। যদিও পূর্ব থেকেই লেখালেখির চর্চা ছিল। কিন্তু সেদিনের সেই ফোনকলটা ছিল একেবারেই অন্যরকম।
সোনামনি প্রকাশনীর কর্ণধার, আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই ফিরোজ খান প্রিন্স হঠাৎ করেই ফোন দিয়ে বললেন, "ভাই, আপনাকে নবীদের জীবনী লিখতে হবে। বেশ কয়েকটি জীবনী।"
কিছুক্ষণ আমি নিঃশব্দ ছিলাম। সাহস হচ্ছিল না উত্তর দিতে। বিষয়টির গভীরতা ও দায়িত্বের ভর আমার মনে একটু ভীতি জাগিয়েছিল। ভাই সম্ভবত আমার মৌনতা বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি তখন বললেন, "আপনি পারবেন।"
ঠিক তখনই মনে হলো, ভাইয়ের এই আস্থা ও নির্দেশনা আমাকে এই পথে হাঁটতেই হবে।
ইসলামের ইতিহাস, নবী-রাসূল ও সাহাবীদের জীবনী আগে থেকেই পড়েছি অগণিত, অনেক আলেমের বক্তব্য থেকে জ্ঞান সংগ্রহ করেছি। কিন্তু যখন লেখার দায়িত্ব এলো, তখন আরও গভীরভাবে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন মনে হলো।
সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে গেলাম বাইতুল মোকাররম। সেখানে তখন ইসলামী বই মেলা চলছিল। সেখান থেকে সংগ্রহ করলাম বেশ কয়েকটি প্রামাণ্য বই। এর মধ্যে ছিল "ক্বাসাসুল আম্বিয়া", কোরআনের তাফসীর এবং আরও কিছু মূল্যবাণ গ্রন্থ।
শুরু করলাম হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর জীবনী দিয়ে। এই একটি জীবনী লিখতে গিয়ে ঘাটতে হয়েছে অজস্র সূত্র, করতে হয়েছে গভীর গবেষণা। পড়াশোনার পর পড়াশোনা, যাচাই-বাছাই—লেখার প্রতি বাক্যই যেন ইলমের পাহাড় টপকে আসা।
আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং ফিরোজ ভাইয়ের অকুণ্ঠ সাহস ও আস্থার বলয়ে শেষ পর্যন্ত রচিত হলো আমার প্রথম ইসলামী গ্রন্থ—"হযরত ইব্রাহীম (আ.)" জীবনী।
এই লেখার মাধ্যমে শুধু একটি বইই হয়নি, বরং নবীদের জীবন ও শিক্ষাকে আরও অন্তরের কাছ থেকে জানার একটি সুযোগ পেয়েছি। গবেষণার এই সুবাদে তাদের সান্নিধ্য যেন নিয়মিতই অনুভব করি।
আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা যদি কারো জন্য উপকারী হয়, আর আমি যেন এই পথেই থাকতে পারি—সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
শেষে, সোনামনি প্রকাশনী এবং ফিরোজ খান প্রিন্স ভাইকে আবারও অশেষ ধন্যবাদ। তাঁর প্রেরণা ও আস্থাই আমাকে এই অপ্রত্যাশিত ও মঙ্গলময় পথে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।
হ্যাশট্যাগ:
#নবীদের_জীবনী #ইসলামী_গ্রন্থ #সোনামনি_প্রকাশনী #লেখকের_গল্প ্রাহীম_আ #গবেষণা #ইসলামী_অনুপ্রেরণা