12/09/2025
উবাই বিন কা'ব (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “একদা মূসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বানী ইসরাঈলের সামনে বক্তৃতা করছিলেন। এমন সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হলঃ সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ কে? তিনি বললেন, আমি সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী। একথার জন্য আল্লাহ তাঁকে তিরস্কার করলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কীত করেন নি। (অর্থাৎ বলেননি যে, আল্লাহই ভাল জানেন কে বেশী জ্ঞানী) আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী করলেনঃ আমার জনৈক বান্দা ‘দু’সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে’ আছে সে তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! কিভাবে আমি তার নিকট পৌঁছতে পারি? তাঁকে বলা হলঃ থলের মধ্যে একটি মাছ নিয়ে বের হয়ে পড়। যে স্থানে পৌঁছার পর মাছটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে সেখানেই তাকে পাওয়া যাবে। (এরপর মূসার সাথে খিযিরের সাক্ষাতের ঘটনা উল্লেখ করে বলেনঃ) তাঁরা উভয়ে সমুদ্রের পাড় ধরে চলতে লাগলেন। তাঁরা নৌকা পাচ্ছিলেন না। ইতোমধ্যে একটি নৌকা সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল। তাঁরা নৌকায় আরোহনের ব্যাপারে কথাবার্তা বললেন। মাঝিরা খিযিরকে চিনে ফেলল। তাই কোন পারিশ্রমিক ছাড়াই তাঁদেরকে নৌকায় তুলে নিল। ইতোমধ্যে একটি চড়ুই পাখী নৌকার একপ্রান্তে এসে বসল এবং সমুদ্র থেকে এক বা দু’চষ্ণু পানি তুলে নিল। খিযির বললেন: হে মূসা (আ:)! আমার জ্ঞান ও আপনার জ্ঞান উভয়ে মিলে আল্লাহর জ্ঞানের মোকাবেলায় এমন তুলনাও হয় না, যেমনটি এ চড়ুইয়ের চঞ্চুর পানির সাথে রয়েছে সমুদ্রের পানির।” এরপর তিনি হাদীছটি পূর্ণরূপে বর্ণনা করেন।
অপর বর্ণনায় আছেঃ একদা মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক জামাত লোকের মাঝ দিয়ে চলছিলেন। এমন সময়
জনৈক লোক এসে তাঁকে বললঃ আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী এমন কাউকে কি আপনি জানেন? মূসা বললেনঃ না। তখন আল্লাহ মূসার কাছে ওহী করলেনঃ বরং আমার বান্দা খিযির (তোমার চেয়ে বেশী জ্ঞানী)। তখন মূসা (আঃ) তাঁর কাছে যাওয়ার উপায় সম্পর্কে আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন....।”
(বুখারী ও মুসলিম প্রমূখ হাদীছটি বর্ণনা করেছেন)
সহিহ তারগিব ওয়াত তাহরিব, হাদিস নং ১৩৪
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস