19/04/2026
পবিত্র কুরআনে মোট ৬টি আয়াতে সরাসরি “শিফা” (আরোগ্য/নিরাময়) শব্দটি উল্লেখ আছে। এগুলোকে “আয়াতে শিফা” বা রোগমুক্তির আয়াত বলা হয়। এই ৬টি আয়াত শুধু শারীরিক রোগ নয়, মানসিক, আত্মিক ও জীবনের বিভিন্ন কষ্টের জন্যও শিফা দেয়। আল্লাহ তা’আলা কুরআনে বারবার শিফার কথা বলেছেন যাতে আমরা বুঝি।
শিফা শুধু শরীরের জন্য নয়, পুরো জীবনের জন্য।
এগুলো পড়ার আগে সূরা ফাতিহা একবার পড়ে নেওয়া উত্তম। তারপর এই ৬টি আয়াত পড়ে পানিতে দম (ফুঁ) দিয়ে সেই পানি পান করা যায় অথবা রোগীর শরীরে হাত বুলিয়ে পড়া যায়। অনেক বুজুর্গানে দ্বীনের অভিজ্ঞতায় এই আমল রোগমুক্তিতে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত। (তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধের সাথে এই আমল করুন।)
নিচে ৬টা আয়াত বিস্তারিত সাজানো হলো। প্রত্যেক আয়াতের সাথে সুরা-আয়াত নম্বর, আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং কোন রোগের কী সমাধান তা স্পষ্টভাবে লেখা আছে।
১. অন্তরের অশান্তি ও মানসিক কষ্টের শিফা
সূরা তাওবা (৯), আয়াত ১৪
আরবি: وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াশফি ছুদূরা কাওমিম মু’মিনীন।
অর্থ: “এবং (আল্লাহ) মুমিনদের অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন।”
সমাধান: অন্তরের রোগ (হিংসা, সন্দেহ, অশান্তি, মানসিক চাপ, হতাশা) থেকে মুক্তি। মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে।
২. অন্তরের রোগ, দুশ্চিন্তা ও হেদায়েতের অভাবের শিফা
সূরা ইউনুস (১০), আয়াত ৫৭
আরবি: يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُমْ وَشِفَاءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
উচ্চারণ: ইয়া আইয়্যুহান্নাসু কাদ জা’আতকুম মাও’ইজাতুম মির রাব্বিকুম ওয়া শিফাউল লিমা ফিস সুদূরি ওয়া হুদাওঁ ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনীন।
অর্থ: “হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ, অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও মুমিনদের জন্য রহমত এসেছে।”
সমাধান: অন্তরের সব রোগ (দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, সন্দেহ, আত্মিক দুর্বলতা) দূর করে, সঠিক পথ দেখায় এবং রহমত নামিয়ে আনে।
৩. শারীরিক রোগ ও দুর্বলতার শিফা (মধুর মাধ্যমে)
সূরা নাহল (১৬), আয়াত ৬৯
আরবি: يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ
উচ্চারণ: ইয়াখরুজু মিম বুতূনিহা শারাবুম মুখতালিফুন আলওয়ানুহু ফীহি শিফাউল লিন্নাস।
অর্থ: “তার (মৌমাছির) পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় বের হয়, যাতে মানুষের জন্য রোগের প্রতিকার রয়েছে।”
সমাধান: শারীরিক সব রোগের (বিশেষ করে মধু-সম্পর্কিত) নিরাময়। মধু খাওয়ার সাথে এই আয়াত পড়ে দম দিলে অসাধারণ ফল পাওয়া যায়।
৪. সকল রোগের সামগ্রিক শিফা (কুরআন নিজেই)
সূরা বনী ইসরাঈল (১৭), আয়াত ৮২
আরবি: وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْমِنِينَ
উচ্চারণ: ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউঁ ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনীন।
অর্থ: “আমি কুরআন থেকে এমন জিনিস নাজিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত।”
সমাধান: কুরআন নিজেই সব রোগের (শারীরিক + আত্মিক) সুচিকিৎসা। নিয়মিত তিলাওয়াত করলে সকল কষ্ট দূর হয়।
৫. শারীরিক অসুস্থতা ও রোগব্যাধির শিফা
সূরা আশ-শু’আরা (২৬), আয়াত ৮০
আরবি: وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
উচ্চারণ: ওয়া ইযা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফীনি।
অর্থ: “যখন আমি অসুস্থ হই, তখন তিনিই (আল্লাহ) আমাকে শিফা দেন।”
সমাধান: যেকোনো শারীরিক রোগ (জ্বর, ব্যথা, দুর্বলতা ইত্যাদি) থেকে মুক্তি। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা সৃষ্টি করে।
৬. ঈমানের অভাব ও আত্মিক অন্ধত্বের শিফা
সূরা ফুসসিলাত (৪১), আয়াত ৪৪
আরবি: قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ
উচ্চারণ: কুল হুয়া লিল্লাজীনা আমানূ হুদাওঁ ওয়া শিফাউন।
অর্থ: “বলুন, এটা (কুরআন) মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও শিফা।”
সমাধান: ঈমানদারদের জন্য পথনির্দেশ ও সকল প্রকার ব্যাধির প্রতিকার। আত্মিক অন্ধত্ব, বিভ্রান্তি দূর করে।
✅ কীভাবে আমল করবেন?
▪️প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় এই ৬টি আয়াত একত্রে পড়ুন (প্রত্যেকটি ৩/৭/১১ বার)।
▪️রোগীর জন্য পড়ে তার শরীরে বা পানিতে ফুঁ দিন।
▪️বিশ্বাস রাখুন — শিফা শুধু আল্লাহর কাছ থেকে আসে, কুরআন তার মাধ্যম।
▪️চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধের সাথে এই আমল চালিয়ে যান।
আল্লাহ তা’আলা এই ৬টি আয়াতের বরকতে আপনার আমার সকলের রোগ-কষ্ট দূর করে শিফা দান করুন। আমীন।
শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন।