30/12/2024
গন্তব্যহীন চিঠি...
অপরিচিতা...
আজ খুব করে জানতে ইচ্ছে করে তুমি কেমন আছো? আর ইচ্ছে হলেই বেদনা বিধুর দুটি লাইন মনে পড়ে যায় মান্নাদের কণ্ঠে গাওয়া “ খুব জানতে ইচ্ছে করে”, প্রতিদিন মনের অজান্তেই গানটি যে কতবার শুনি তার ইয়ত্তা নেই। হয়তো তোমাকে হারিয়েই গানগুলো আজ খুব উপভোগ করি। মনের মাঝে ছোট একটা প্রশ্ন খুব করে বাজে, তোমারও কি জানতে ইচ্ছে করে, আমি কেমন আছি? নাকি ব্যস্ততার বেড়াজালে আর সময়ের ব্যবধানে অতীতের পাতাগুলো টিস্যু পেপারের মতো ছিড়ে ফেলেছো? জানি এমন প্রশ্ন তোমাকে অসস্থি দেবে। তুমি কি জানো? আমি আজও তোমার দেওয়া স্মৃতিগুলো খুব যত্ন করে হৃদয়ের কোঠায় রেখে দিয়েছি.. যেখানে কেবল শুধুই তোমার বিচরণ।
জীবনভর শুধু সংলাপ শুনেছি, কিন্তু কখনো বোঝার চেষ্টা করিনি। যখন জীবন দিয়ে অনুভব করলাম, তখনই বুঝলাম পথের স্রষ্টা যেমন পথীক, তেমনি সংলাপের স্রষ্টাও । অভিজ্ঞতার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন পড়েনা। জীবনের প্রায় শতভাগ পূর্ণ করেছি তোমার দেওয়া স্মৃতি দিয়ে, যেন বাকিটা জীবন আর কোনো নতুন স্মৃতি জায়গা না পায়।
আচ্ছা তুমি কি আজও সেই ভাঙ্গা টং দোকানের ডাল ভাজা খাও??
জানো, তোমার খাওয়া ডাল ভাজার যে বাকি অংশ আমাকে দিয়েছিলে, তার স্বাদ আর কোনো ডাল ভাজায় আমি আজও খুজে পাইনি।
খুজে পাইনি তোমার মতো আদুরে মানুষ, যে ভালোবেসে বলবে, এইটুকু খেয়ে নাও কিচ্ছুটি হবেনা। হাতে হাত রেখে পাশাপাশি বসে থাকা, অথচ কেও বুঝতেই পারতনা তুমি হাতটি ধরে আছো। মনে আছে সেই দিনের কথা যেদিন বড় আপুর চোখ ফাঁকি দিয়ে তার সামনেই আমরা হাত ধরে বসেছিলাম?? কি দারুণ সেই অনুভূতি.. তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতেই তুমি বলতে “এমন করে কি দেখো” ? আমি কিছুই বলতাম না শুধু অপলক দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
মনের সব কথা অকথ্য হয়ে যেতো তোমার সামনে গেলেই । হাজারো প্রেমিক প্রেমিকার মতো করে তোমাকে আবেগী কণ্ঠে হয়তো কখনো বলিনি , আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু তুমি বুঝতে, আর আমি তাতেই ধন্য ছিলাম। এসকল সুখের স্মৃতিগুলো আজ আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। এ জগতে অনেক মানুষ ব্যর্থ
হয়ে জীবননাশ করেছে, কিন্তু আমি তাদের দলে যেতে চাইনা। আমি তো তোমাকে হারায়নি। তুমি আছো আজও আমার হৃদয় জুড়ে। প্রতিটাক্ষণ হয় তোমার সাথে কথা। যখনই একলা থাকি মনে মনে তোমার সাথে কথা বলি, আর সেই সুখটা অনেক নিবিড়। সেখানে তোমার কোনো কলঙ্কের ভয় নেই জানো তো.. পাগলের মতো একাকী ভালোবাসার সুখ সবাই পাইনা।
কিন্তু সৌভাগ্যবান হিসেবে আমি পেয়েছি। তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি ছোট করতে চাইনা। তুমি হয়তো জানোনা, তোমার ভিক্ষে দেওয়া সময়গুলো আমার এই ক্ষুদ্র জীবনের এক বিরাট সঙ্গী। সেই পরম সঙ্গী নিয়ে আমি মনের সাম্রাজ্য গড়েছি। হেলাল হাফিজের মতো হয়তো আমারও অনেক ইচ্ছে ছিল, কিন্তু সব ইচ্ছে কি আর পূরণ হয় !!
এখন শুধু কামিনী রায়ের পরার্থে
কবিতার দুটি চরণ মনে পড়ে...
>>পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও
তার চেয়ে সুখ আর কি বা আছে, আপনার কথা ভুলিয়া যাও।