03/12/2025
দুশ্চিন্তা দূর করার ১০ আমল
জীবনে দুশ্চিন্তা লেগেই থাকে। এর ফলে মানুষ অনেক অঘটন ঘটিয়ে ফেলে। দুশ্চিন্তা দূর করার দশটি কার্যকরী উপায় নিচে দেয়া হল:
□ ১. তাকদীরে পূর্ণ আস্থা রাখা:
ভালো-মন্দ তাকদিরের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখুন। কেননা তাকদিরের ওপর পূর্ণ আস্থাবান ব্যক্তিকে দুশ্চিন্তা কাবু করতে পারে না। এ বিষয়ে কুরআনে এসেছে,"আল্লাহ তোমাদের ক্লেশ দিলে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর আল্লাহ যদি তোমার মঙ্গল চান, তাহলে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই...।"
(সুরা ইউনুস, আয়াত: ১০৭)
□ ২. পরকালের বিপদের কথা স্মরণ করা:
দুনইয়ার বিপদ-আপদ আপনার জন্য পরকালের বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার কারণ হতে পারে। আর পরকালের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির তুলনায় দুনইয়ার বিপদ-আপদ খুবই নগণ্য। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,"যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে।"
(সুরা নাজিআত, আয়াত: ৪৬)
□ ৩. চিন্তার মোড় ঘুরিয়ে দিন:
"নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।"
(সূরা আলাম নাশরাহ, আয়াত: ৬)
মানুষের জীবন একাধারে দুঃখের আধার নয়, সার্বক্ষণিক সুখেরও নয়। জীবনে যেমন দুঃখ আছে, তেমনি সুখও আছে। কষ্টের পাশাপাশি স্বস্তিরও অনেক মুহূর্ত আসে জীবনে। জীবনে চূড়ান্ত হতাশার কিছুই নেই।
□ ৪. আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন:
আশা রাখুন যে তিনি আপনাকে আপনার দুরবস্থা থেকে নাজাত দেবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন: "আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।"
(সুরা তালাক, আয়াত: ৩)
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন,"আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন, ‘আমি সেরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।"
(বুখারি, হাদিস: ৬৯০১)
□ ৫. ধৈর্য ধারণ করুন:
বিশ্বাস করুন যে কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসে। কঠিন অবস্থার পর সচ্ছলতা আসে। আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেন,"...নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।"
(সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
□ ৬. সলাত পড়ুন:
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সা. যখন দুশ্চিন্তায় পড়তেন, সলাতে মগ্ন হতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,"তোমরা ধৈর্য ও সলাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও..."
(সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)
□ ৭. বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন:
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, "অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তো মহাক্ষমাশীল। (ফলে) তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে।"
(সুরা নুহ, আয়াত: ৭১)
রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন,"যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।"
(আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২০)
□ ৮. অধিক হারে দরূদ পড়ুন:
হাদিসে এসেছে, উবাই ইবন কাব (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার ওপর অধিক হারে দরূদ পাঠ করে থাকি। আমার সময়ের কতটুকু আপনার প্রতি দরূদ পাঠে ব্যয় করব? রাসুলুল্লাহ সা. বলেন,"তোমার যতটুকু ইচ্ছা।" আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বলেন,"তোমার ইচ্ছা। কিন্তু যদি আরো বাড়াও তবে ভালো।" আমি বললাম, অর্ধেক সময়? তিনি বলেন, "তোমার যা ইচ্ছা; তবে আরো বৃদ্ধি করলে তাও ভালো।" আমি বললাম, দু' তৃতীয়াংশ সময়? তিনি বলেন,"তোমার ইচ্ছা; তবে আরো বাড়ালে তাও ভালো। আমি বললাম, আমার সবটুকু সময় আপনার ওপর দরূদ পাঠে লাগাব? তিনি বলেন, তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্তির জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে আর তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।"
(তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)
□ ৯. পরামর্শ করা:
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। নির্ভরযোগ্য আলেমের সঙ্গে অভিমত গ্রহণ করুন। হাদিস শরিফে এসেছে, "যে ব্যক্তি পরামর্শ কামনা করে সে অকৃতকার্য হয় না।"
□ ১০. বিপদ মুক্তির দু'আ:
দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে নাজাতের উদ্দেশ্যে হাদিসে বেশ কিছু দু'আ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ওই দু'আগুলো বেশি বেশি পড়ুন। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, আমি এমন একটি দু'আ সম্পর্কে অবগত আছি, কোনো বিপদগ্রস্ত লোক তা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তার সেই বিপদ দূর করে দেন। সেটি হচ্ছে আমার ভাই ইউনুস আ.-এর দু'আ। দু'আটি হলো,"লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলিমীন।"
"হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিঃসন্দেহে আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।"
(তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)
চিন্তা ও পেরেশানির সময় রাসুলুল্লাহ সা. একটি বিশেষ দু'আ পড়তেন। দু'আটি হলো,"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।"
"হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।"
আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল সা. চিন্তাযুক্ত অবস্থায় এই দু'আ পড়তেন।
(বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)
মহান আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন৷
কপি পোস্ট