11/05/2026
ইটনার শিক্ষা ব্যবস্থা: আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
একদিকে কৃষকের লোনা ঘাম, অন্যদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ—মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা।
সম্প্রতি ইটনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে আমি এমন কিছু রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বাস্তবতা যখন উদ্বেগজনক:
নবম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী এখনও সাবলীলভাবে ইংরেজি রিডিং পড়তে পারে না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানের “টপার” হিসেবেও পরিচিত শিক্ষার্থীদের অবস্থাও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। যেখানে শিক্ষার বুনিয়াদই দুর্বল, সেখানে নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের অবস্থাও সহজেই অনুমান করা যায়।
সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো—এই ব্যর্থতার দায় নিতে কেউ রাজি নয়।
অভিভাবক প্রশ্ন তোলেন, “প্রতিষ্ঠান কী শেখাচ্ছে?”
প্রতিষ্ঠান বলে, “অভিভাবকরা সচেতন নন।”
কিন্তু এই দোষারোপের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আজ অনেক সন্তান মাঠে নেই, বইয়ে নেই, মনোযোগী ক্লাসেও নেই; বরং তারা আসক্ত হয়ে পড়ছে স্মার্টফোন, নেতিবাচক সঙ্গ এবং কুরুচিপূর্ণ আচরণে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা:
এ বছর কৃষিতে যে বিশাল ক্ষতি হয়েছে, তা আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেতে দেখেছি আমরা।
আমাদের সন্তানরা যদি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক শিক্ষা পেতো, তবে আধুনিক চাষাবাদ, আগাম পূর্বাভাস এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে হয়তো এই ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে ইটনায় এখনও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান বিভাগের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। পাশের অনেক এলাকা এগিয়ে গেলেও আমরা এখনও পিছিয়ে আছি। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার অভাব আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকেই সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে।
আমরা কৃষকের সন্তান:
রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যে বাবা হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সন্তানের পড়ার খরচ জোগান দেন—তাঁর একটাই স্বপ্ন, সন্তান একদিন শিক্ষিত হয়ে পরিবারের কষ্ট বদলে দেবে।
কিন্তু সেই সন্তানরাই যদি মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে কৃষির উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার কিংবা সমাজের পরিবর্তন আসবে কীভাবে?
আমাদের দরকার এমন এক প্রজন্ম, যারা শুধু সার্টিফিকেটের পেছনে ছুটবে না—বরং দক্ষতা, নৈতিকতা ও বাস্তব জ্ঞান নিয়ে গড়ে উঠবে।
তাই শিক্ষক, অভিভাবক, ইমাম এবং সমাজের সচেতন মানুষ—সবার আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। কারণ “শিক্ষাই জাতির আলো।”
ইটনায় যেসব প্রতিষ্ঠান আন্তরিকভাবে মানসম্মত শিক্ষার জন্য কাজ করছে, আমি নিজে গিয়ে তাদের কার্যক্রম দেখতে চাই। আমরা যদি সম্মিলিতভাবে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করি, তবে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।
মনে রাখবেন—
“যে হাতে সঠিক শিক্ষার কলম থাকবে, সেই হাত অবশ্যই সমাজ উন্নয়নের কাজে আসবে।”
আর আজ যদি আমরা শিক্ষাকে বাঁচাতে না পারি, কাল আমাদের প্রজন্মকে আর বাঁচাতে পারবো না।
— শিক্ষার আলোয় বদলাক ইটনা