10/11/2025
শান্তি জিনিসটা কী জানেন? অনেকে ভাবে, একদম চুপচাপ একটা ঘর, সেখানে কোনো শব্দ নেই, কোনো ঝামেলা নেই— সেটাই বুঝি শান্তি। তাই তো সবাই ছুটির দিনে ছুটে বেড়ায় পাহাড়ে বা নির্জন কোনো গ্রামে, যেখানে কোলাহল কম।
কিন্তু আমার তো মনে হয়, ব্যাপারটা অত সহজ না।
ধরুন, আপনি খুব ভোরে উঠেছেন। বারান্দায় বসে আছেন, হাতে এক মগ গরম কফি। ভাবছেন, “আহা, কী শান্তি!” চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ পাশের বাড়ির রেডিওটা চালু হলো, আর অমনি আপনার শান্তিটা গেল ফসকে। রেগেমেগে আপনি রেডিও বন্ধের জন্য চিল্লালেন। যেই না চিৎকার করলেন, তখনই বুঝলেন— এই সামান্য শব্দে যে শান্তি ভেঙে গেল, সে তো আসলে শান্তি ছিলই না। সেটা ছিল ‘শব্দের অভাব’।
হুমায়ূন আহমেদীয় ভঙ্গিতে বলি, শান্তি হলো হিমুর হলুদ পাঞ্জাবির মতো। ওটা গায়ে দিলেই যেমন হিমু হওয়া যায় না, কেবল চুপ করে থাকলেই শান্তি পাওয়া যায় না।
আসল কথাটা হলো, আমাদের চারপাশটা তো একটা বিশাল বাজার, সেখানে কোলাহল থাকবেই। রিকশার ঘণ্টি, ফেরিওয়ালার হাঁক, পাশের বাড়ির ঝগড়া, বাচ্চার কান্না— এ সব নিয়েই তো জীবন। আমরা যদি অপেক্ষা করি কখন সব শব্দ থেমে যাবে, তবে তো আমাদের আর কোনোদিনই শান্তি আসবে না।
এই যে কোটটা— “শান্তি কেবল নীরবতার মধ্যে পাওয়া যায় না, বরং আমরা কীভাবে সেই কোলাহলকে শুনি তার ওপর নির্ভর করে।”
এর মানে হলো: এই কোলাহলগুলো তো জীবনেরই অংশ। আপনি যদি মনকে শেখাতে পারেন যে, রিকশার ঘণ্টি বাজুক, পাশের ফ্ল্যাটে গান চলুক, তাতে আপনার ভেতরের নীরবতা ভাঙবে না, তবেই আপনি আসল শান্তি পাবেন।
হিমু যেমন জীবনের উদ্ভট ঘটনাগুলোকেও খুব স্বাভাবিকভাবে দেখে হাসে, মিসির আলি যেমন যুক্তির কাঁচি দিয়ে সব রহস্য কেটে দেয়— আমাদেরও তেমনি এই বাইরের গোলমালগুলোকে ‘শুনতে’ শিখতে হবে, তাদের সাথে লড়তে শিখতে হবে না।
নীরবতা তো একদিন এমনিতেও আসবে। কিন্তু এই গোলমালের ভেতর থেকেও যে মানুষটা মনকে শান্ত রাখতে পারে, সে-ই আসলে আসল শান্তি খুঁজে পায়। এইটা অনেকটা জোছনার রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার মতো। চারপাশে অনেককিছু ঘটলেও, আপনার চোখ কেবল চাঁদকেই দেখছে।
অতএব, কোলাহলকে ভয় না পেয়ে, তাকে আপনার জীবনের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক’ মনে করে নিন। দেখবেন, শান্তি আপনা-আপনিই আপনার ভেতরের বারান্দায় এসে কফি খেতে বসেছে