Sabina Yeasmin - poet

Sabina Yeasmin - poet Poetry by Sabina Yeasmin, সাবিনা ইয়াসমিনের কবিতা

24/06/2026

হে আলো, হে সখা
সাবিনা ইয়াসমিন

তোমায় ভুলে থাকি অহোরাত্র
আর নাম গান গাই
অন্ধকারের

অমাবস্যার অনুপ্রাস খুঁজে খুঁজে
শব্দ সাজাই
ভুল পুষ্পে গাঁথা হয়
ললন্তিকা হার

এ আরণ্যক জীবন
শব্দময়, ছন্দোময় হবে
অঞ্জলি ভরে যদি নামো

যদি নুতন করে
শেখাও নামগান
হে আলো, পুণ্যরশ্মি, হে প্রাণসখা
যদি প্লাবিত হ্রদের উর্মি মালার মতো
নেচে নেচে নেচে
নেচে নেচে নেচে
ভাসিয়ে নিয়ে যাও, সুখে।

26/04/2026

পিলুরাগ
সাবিনা ইয়াসমিন

শুদ্ধ হও
কোমলে বাজো
কোমলে বাজাও
ঋদ্ধ হও।

কোমলে বাজো
কোমলে বাজাও পাখোয়াজ
হাওয়ায় হাওয়ায় ঝরে পড়ুক মায়া
মায়া কুসুমের কারুকাজ।

সুর থেমে গেলে তার রেশ ধরে ধরে
তুমি বলবে, 'ভাসো', আমি শুনবো, 'ভাসাও'
এইটুকু দ্বিধা থেকেই দুপুরের রোদে
বিকেলের মায়া জমে যাবে, ভালোবাসাও।

20/04/2026

ছিন্ন হৃদয় মূলে
সাবিনা ইয়াসমিন

ডুবোজাহাজ বোঝাই করে
রেখেছি শৈশব
মাঝে মাঝে সে জাহাজ
ভুস করে ভেসে ওঠে জলে
একটুখানি শ্বাস নেবে বলে।

ডুবতে শিখিনি বলে
জলে নামি না
করিনা সেই জাহাজ ভর্তি হর্ম্যের খোঁজ
বসে থাকি তীরে, যদি আবার ভাসে
বেলাভূমিতে বাড়ে অপেক্ষার ছায়া
আমার শুধু ঘুম আসে।

ডুবোজাহাজে রাখা আমার শৈশব
ঘুমিয়ে আছে জলে
মণি- মানিক্য সে অরূপ রতন
চমকায় আমার ছিন্ন হৃদয় মূলে।

15/04/2026

শিবসা নদীর স্তোত্রগান
সাবিনা ইয়াসমিন

কত জলই না দেখা হল
এ ক্ষুদ্র‌জীবনে

মনে পড়ে বাড়ির পাশে ছোট্ট জলাশয়টিকে
যে জলে ডানকোনা মাছ খেলা করতো
এছাড়া উঠান ছাড়িয়ে বড় পুকুর
তাঁর বুক জুড়ে লাল শাপলা আর
সবুজ কলমির দাম ঠেলে
রাজহাঁসের সাথে সাথে কৈশোর সাঁতার

আমাদের গ্ৰামের এক প্রান্তে মিষ্টি পুকুর
অন্য প্রান্তে সরলের দিঘি
আহা! সেই সরোবরের জলে
পদ্ম ফুলের পাতায় পাতায়
শিশির ঝলমল করতো।

দেখেছি নদী
পদ্মা নদীর এপাড়- ওপাড়
মেঘনার ঢল, লক্ষ্যা নদীর বুকে
থির হয়ে থাকা নিঃসঙ্গ বজরা
টেম্পস এর ভেতর, বাহির
প্যারিসের বুক চিরে দেয়া সেইন।

ঝরনার জলও দেখেছি কত, নিসাং ঝর্না,
ক্ষীণ হিমছড়ি, মুসৌরিতে কেম্পটি ফলস।

দেখেছি বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ
ভারত মহাসাগরের অতল নীল
আরব সাগরের সূর্যাস্ত।

দেখেছি আহার শেষে
কাঁচের গ্লাসে রাখা স্বচ্ছ টলটলে জল
দাদির কাঁসার জামবাটিতে রাখা জলে
চন্দ্রগ্রহণের ছায়া।

কিন্তু সতত যে জল আমায় টানে, সে শিবসার জল।

আজ এই তপ্ত বৈশাখের
নিরাক পড়া দুপুরে
হঠাৎ কোথা থেকে যেন
এক টুকরো মেঘ ভেসে এলে
চিৎকার করে বলি--
কত দূরে আমার প্রাণের শিবসা?

ও মেঘ, তুমি কি পথ ভুলে আজ এ পাড়ায়?
দয়া করো, তুমি আজ
শিবসা নদীতে গিয়ে ঝরো
যে ছিল কুলহারা, কলনাদী- ঊর্মিমুখর
সে আজ বড় তৃষিত
বড় দুঃখিনী। শুয়ে আছে
আকাশে আঁচল পেতে
তুমি তার রিক্তপাত্র
পূর্ণ করে দাও, পূর্ণ করে দাও
পূর্ণ করে দাও।

31/03/2026

স্তোত্র, শিবসা
সাবিনা ইয়াসমিন

আমি আকাশের নাম দিয়েছি
সূর্যমুখী
আর এই নদীর নাম
ওল্ড মঙ্ক।

একদিন আকাশ থেকে নামবে
তৃষ্ণার্ত পুষ্প
অস্থির চুমুকে চুমুকে পান করবে
এই নদীর সবটুকু সুধা।

তবেই তো আলুথালু জ্যোৎস্না ফুটে উঠে
ঝুলে থাকবে স্থানুবৎ
মন্থর কুয়াশায়।

আর তখনই পাখিরা লীলাভরে
উড়ে এসে বসবে জোড়ায়
আর প্রেমিকেরা ঠোঁটে - ঠোঁটে ভাগ করে নেবে
জল- জ্যোৎস্নার তীব্র উল্লাস।

19/03/2026

কাঠুরিয়া
সাবিনা ইয়াসমিন

বাড়ির সামনে একটা প্রকান্ড বৃক্ষ ছিলো
তাতে রোজ পাখি এসে বসতো
শিশুরা তার শাখা থেকে নেমে আসা
ঝুরি বেঁধে দোল খেত।

বহুদিন পর ছুটিতে যখন বাড়ি ফিরি
দেখি সে বৃক্ষের
একটা করে শাখা পত্রপল্লব সহ উধাও।

আমার পাশ দিয়ে কাঁধে কুঠার ফেলে
উদাস হয়ে হেঁটে যায় এক কাঠুরিয়া
আমি চিৎকার করি, ' কেন? কেন?'

কিন্তু সে নির্বিকার
আমি তাকে দেখি
সে আমাকে দেখে না
কিংবা আমাকে উপেক্ষা করার এ এক কৌশল।

এরকমটা হয় ফি বছর।

বেশ কবছর পরে একবার বাড়ি ফিরে দেখি
বৃক্ষটাই নেই, বদলে সেখানে
উপুড় হয়ে পড়ে আছে সেই কাঠুরিয়া।

তার দুটো পা শরীর থেকে আলাদা
শরীর আর পায়ের মাঝের জমিটুকুতে
রক্ত জমে কালো হয়ে আছে।

কিন্তু তখনো তার ঠোঁট পড়ছিলো
এবারে সে আমাকে দেখেছে
আমি তার মুখের কাছে কান পেতে শুনি
থেমে থেমে সে বলছে
" জন্মান্তরে যেতে যেতে বলে যাই
পরজন্মে আমি বৃক্ষ হব
ফুল দেব, পত্র-পল্লব- ছায়া দেব
সুমিষ্ট ফল দেব
না হলে মালী হব
যোজন ব্যাপী বানাব সুশীতল সবুজ বাগিচা।

জন্মান্তরে যদি জীবন পাই, আমি কাঠুরে হব না
কাঠুরিয়া নিজেকেই গাছ ভেবে ভেবে কুঠার চালায়।"

17/03/2026

ভরণী নক্ষত্রের নিচে
সাবিনা ইয়াসমিন

বেলা শেষে সব পাখি কুলায় ফেরে
কিন্তু যার নীড় নেই, সে ডানা মেলে দেয়
ভরণী নক্ষত্রের নিচে, হেঁটে যায় বনছায়ায়।
যোজন ব্যাপী তার গৃহের অন্বেষা।

সব পাখি ঘরে ফেরে
তবুও হায়
কেউ কেউ পায় নাকো গৃহ
নশ্বরে- ঈশ্বরে।

আহারে জীবন!
শিশিরে- শবনমে মথিত জীবন!
ভরণী নক্ষত্রের নিচে সে শুধু
তিষ্ঠে ক্ষণকাল।

10/03/2026

বুকের ভেতরে সাত জন্মের জ্যোৎস্না
সাবিনা ইয়াসমিন

আমাদের শৈশব বহু দূরের অতীত
তবুও শৈশবের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা গন্ধরাজ
মাঝে মাঝে সামনে এসে দাঁড়ায়।

হে আমার ঈশ্বর,
মাঝে মাঝেই সেই ফুলগুলিকে
কেন তারা করে ফোটাও?
কেন আকাশ কাঁপে
অসম্ভবের আলোয়?

কেন দোলায়িত হয় ছিন্ন বীনার সুর
কেন সেই সুরে সুরের নদী হয়?

হে আমার ঈশ্বর,
নদীই যদি করেছো
মোহনা দাও, সমুদ্রে যাই।

যদি মানুষই করেছো
তবে স্মৃতির মুক্তো গুলো দানায় বাঁধো, গলায় পরি
ছেঁড়া হার যেন এক অসহ রৌরব দহন।

হে আমার ঈশ্বর
তবে আমায় বৃক্ষ করো
আমার শাখায় এসে বসুক ত্রিকালদর্শী বায়স
আমরা একসাথে বসে
বুকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা
সাত জন্মের জ্যোৎস্না দেখি।

19/01/2026

শিবসা সিরিজের কবিতা

মৃত নদী, হৃত শোক
সাবিনা ইয়াসমিন

ওইখানে সমুদ্র
ওইখানে কল্লোল
ওইখানে দিগন্ত, দিক্চক্রবাল
ওইখানে ঘাঘরা তুলে নাচে
কূয়াশার ঘূর্ণি

তবুও
মনের ভেতরে পেখম মেলে দেয়
যে ময়ূর, নাচ ভুলে
কেকারবে কাঁদে
সে এক আশ্চর্য উজান- ভাটির নদী

মাঝে মাঝে
বুক চিরে দেখি সে নদী
মরে গেছে কি না।

Address

Paikgacha
Khulna

Telephone

+8801734572490

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sabina Yeasmin - poet posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category