Sabina Yeasmin - poet

Sabina Yeasmin - poet Poetry by Sabina Yeasmin, সাবিনা ইয়াসমিনের কবিতা

15/04/2026

শিবসা নদীর স্তোত্রগান
সাবিনা ইয়াসমিন

কত জলই না দেখা হল
এ ক্ষুদ্র‌জীবনে

মনে পড়ে বাড়ির পাশে ছোট্ট জলাশয়টিকে
যে জলে ডানকোনা মাছ খেলা করতো
এছাড়া উঠান ছাড়িয়ে বড় পুকুর
তাঁর বুক জুড়ে লাল শাপলা আর
সবুজ কলমির দাম ঠেলে
রাজহাঁসের সাথে সাথে কৈশোর সাঁতার

আমাদের গ্ৰামের এক প্রান্তে মিষ্টি পুকুর
অন্য প্রান্তে সরলের দিঘি
আহা! সেই সরোবরের জলে
পদ্ম ফুলের পাতায় পাতায়
শিশির ঝলমল করতো।

দেখেছি নদী
পদ্মা নদীর এপাড়- ওপাড়
মেঘনার ঢল, লক্ষ্যা নদীর বুকে
থির হয়ে থাকা নিঃসঙ্গ বজরা
টেম্পস এর ভেতর, বাহির
প্যারিসের বুক চিরে দেয়া সেইন।

ঝরনার জলও দেখেছি কত, নিসাং ঝর্না,
ক্ষীণ হিমছড়ি, মুসৌরিতে কেম্পটি ফলস।

দেখেছি বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ
ভারত মহাসাগরের অতল নীল
আরব সাগরের সূর্যাস্ত।

দেখেছি আহার শেষে
কাঁচের গ্লাসে রাখা স্বচ্ছ টলটলে জল
দাদির কাঁসার জামবাটিতে রাখা জলে
চন্দ্রগ্রহণের ছায়া।

কিন্তু সতত যে জল আমায় টানে, সে শিবসার জল।

আজ এই তপ্ত বৈশাখের
নিরাক পড়া দুপুরে
হঠাৎ কোথা থেকে যেন
এক টুকরো মেঘ ভেসে এলে
চিৎকার করে বলি--
কত দূরে আমার প্রাণের শিবসা?

ও মেঘ, তুমি কি পথ ভুলে আজ এ পাড়ায়?
দয়া করো, তুমি আজ
শিবসা নদীতে গিয়ে ঝরো
যে ছিল কুলহারা, কলনাদী- ঊর্মিমুখর
সে আজ বড় তৃষিত
বড় দুঃখিনী। শুয়ে আছে
আকাশে আঁচল পেতে
তুমি তার রিক্তপাত্র
পূর্ণ করে দাও, পূর্ণ করে দাও
পূর্ণ করে দাও।

31/03/2026

স্তোত্র, শিবসা
সাবিনা ইয়াসমিন

আমি আকাশের নাম দিয়েছি
সূর্যমুখী
আর এই নদীর নাম
ওল্ড মঙ্ক।

একদিন আকাশ থেকে নামবে
তৃষ্ণার্ত পুষ্প
অস্থির চুমুকে চুমুকে পান করবে
এই নদীর সবটুকু সুধা।

তবেই তো আলুথালু জ্যোৎস্না ফুটে উঠে
ঝুলে থাকবে স্থানুবৎ
মন্থর কুয়াশায়।

আর তখনই পাখিরা লীলাভরে
উড়ে এসে বসবে জোড়ায়
আর প্রেমিকেরা ঠোঁটে - ঠোঁটে ভাগ করে নেবে
জল- জ্যোৎস্নার তীব্র উল্লাস।

19/03/2026

কাঠুরিয়া
সাবিনা ইয়াসমিন

বাড়ির সামনে একটা প্রকান্ড বৃক্ষ ছিলো
তাতে রোজ পাখি এসে বসতো
শিশুরা তার শাখা থেকে নেমে আসা
ঝুরি বেঁধে দোল খেত।

বহুদিন পর ছুটিতে যখন বাড়ি ফিরি
দেখি সে বৃক্ষের
একটা করে শাখা পত্রপল্লব সহ উধাও।

আমার পাশ দিয়ে কাঁধে কুঠার ফেলে
উদাস হয়ে হেঁটে যায় এক কাঠুরিয়া
আমি চিৎকার করি, ' কেন? কেন?'

কিন্তু সে নির্বিকার
আমি তাকে দেখি
সে আমাকে দেখে না
কিংবা আমাকে উপেক্ষা করার এ এক কৌশল।

এরকমটা হয় ফি বছর।

বেশ কবছর পরে একবার বাড়ি ফিরে দেখি
বৃক্ষটাই নেই, বদলে সেখানে
উপুড় হয়ে পড়ে আছে সেই কাঠুরিয়া।

তার দুটো পা শরীর থেকে আলাদা
শরীর আর পায়ের মাঝের জমিটুকুতে
রক্ত জমে কালো হয়ে আছে।

কিন্তু তখনো তার ঠোঁট পড়ছিলো
এবারে সে আমাকে দেখেছে
আমি তার মুখের কাছে কান পেতে শুনি
থেমে থেমে সে বলছে
" জন্মান্তরে যেতে যেতে বলে যাই
পরজন্মে আমি বৃক্ষ হব
ফুল দেব, পত্র-পল্লব- ছায়া দেব
সুমিষ্ট ফল দেব
না হলে মালী হব
যোজন ব্যাপী বানাব সুশীতল সবুজ বাগিচা।

জন্মান্তরে যদি জীবন পাই, আমি কাঠুরে হব না
কাঠুরিয়া নিজেকেই গাছ ভেবে ভেবে কুঠার চালায়।"

17/03/2026

ভরণী নক্ষত্রের নিচে
সাবিনা ইয়াসমিন

বেলা শেষে সব পাখি কুলায় ফেরে
কিন্তু যার নীড় নেই, সে ডানা মেলে দেয়
ভরণী নক্ষত্রের নিচে, হেঁটে যায় বনছায়ায়।
যোজন ব্যাপী তার গৃহের অন্বেষা।

সব পাখি ঘরে ফেরে
তবুও হায়
কেউ কেউ পায় নাকো গৃহ
নশ্বরে- ঈশ্বরে।

আহারে জীবন!
শিশিরে- শবনমে মথিত জীবন!
ভরণী নক্ষত্রের নিচে সে শুধু
তিষ্ঠে ক্ষণকাল।

10/03/2026

বুকের ভেতরে সাত জন্মের জ্যোৎস্না
সাবিনা ইয়াসমিন

আমাদের শৈশব বহু দূরের অতীত
তবুও শৈশবের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা গন্ধরাজ
মাঝে মাঝে সামনে এসে দাঁড়ায়।

হে আমার ঈশ্বর,
মাঝে মাঝেই সেই ফুলগুলিকে
কেন তারা করে ফোটাও?
কেন আকাশ কাঁপে
অসম্ভবের আলোয়?

কেন দোলায়িত হয় ছিন্ন বীনার সুর
কেন সেই সুরে সুরের নদী হয়?

হে আমার ঈশ্বর,
নদীই যদি করেছো
মোহনা দাও, সমুদ্রে যাই।

যদি মানুষই করেছো
তবে স্মৃতির মুক্তো গুলো দানায় বাঁধো, গলায় পরি
ছেঁড়া হার যেন এক অসহ রৌরব দহন।

হে আমার ঈশ্বর
তবে আমায় বৃক্ষ করো
আমার শাখায় এসে বসুক ত্রিকালদর্শী বায়স
আমরা একসাথে বসে
বুকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা
সাত জন্মের জ্যোৎস্না দেখি।

19/01/2026

শিবসা সিরিজের কবিতা

মৃত নদী, হৃত শোক
সাবিনা ইয়াসমিন

ওইখানে সমুদ্র
ওইখানে কল্লোল
ওইখানে দিগন্ত, দিক্চক্রবাল
ওইখানে ঘাঘরা তুলে নাচে
কূয়াশার ঘূর্ণি

তবুও
মনের ভেতরে পেখম মেলে দেয়
যে ময়ূর, নাচ ভুলে
কেকারবে কাঁদে
সে এক আশ্চর্য উজান- ভাটির নদী

মাঝে মাঝে
বুক চিরে দেখি সে নদী
মরে গেছে কি না।

11/09/2025

চঞ্চল চী এ পৈঠা কাল
সাবিনা ইয়াসমিন

তোমরা যখন আনলে বয়ে
আগুন
আমি তাকে ফাগুন ভেবে
হাসছিলাম
আমি
হাসছিলাম।

নিরোর মতো
নিজের ভেতর ডুবে
বাঁশির সুরে
ভাসছিলাম
আমি
হাসছিলাম।

তোমরা যখন আগুন দিলে
ডানার মতো ছড়িয়ে থাকা
রাজদরবারের গায়ে
তখনও আমি নিরোর বাঁশি -
সুরই ভালোবাসছিলাম
আমি
হাসছিলাম।

হঠাৎ দেখি ভবন তো নয়
চর্যাপদই পুড়ছে
অগ্নিশিখার মাথার উপর
পদগুলি সব উড়ছে।

তালপত্রের অক্ষরগুলো
মূর্খরা সব ছুঁড়ছে
অগ্নিকুণ্ডে ছুঁড়ছে।

রাজদরবার ছাই হয়েছে
গ্ৰন্থাগারও ছাই
লুই পা, ভুসুকা পা
আর কাহ্নপারাও তাই।

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
সকলেই ওই আগুনমুখো
রক্তনদীর যাত্রী।

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল
চঞ্চল চী এ পৈঠা কাল

চঞ্চল চী এ পৈঠা কাল
চঞ্চল চী এ পৈঠা কাল।

24/08/2025

রতি আনা ভরি
সাবিনা ইয়াসমিন

ঘড়ির কাঁটা থেকে, সময়ের বাঁধন থেকে মুক্ত করেছি নিজেকে। দূরে, বহুদূরের আয়নায় দেখতে চেয়েছি মুখ। ঝোড়ো হাওয়ার গর্জনে ভুলে গেছি শান্ত সন্ধ্যায়
প্রিয় গানের সুর, পঞ্চমুখী শঙ্খ, হাওয়াদের ফিসফাস।

এসে পড়েছি এক তৃণহীন, কুসুমহীন বিরান মাঠে। সেই
মাঠের ওপারে জড়ো হয় কিছু ছায়া।আমি সেই ছায়াদে
চিনি না। কি যেন খুঁজে ফিরি। ধুলোকণাকে শুধাই।এখানে ধুলিও মনে রাখেনা কোন প্রাচীন পদচিহ্ন।

মধ্যরাতের নীলাভ আলোর স্রোতে মৃদু গুঞ্জন তুলে
কেউ যেন বলে যায়,' বয়ে যায়, সময় বয়ে যায়'-
সেইক্ষণে নত হয়ে আসে আকাশ, তারারা কাঁপে।
বিটপী লতা দুলে ওঠে । কী গান গায় অবুঝ মন।

আহা! কোন কোন মাঠের কোন শেষ থাকেনা। কোন
কোন পথেরও, কোন গন্তব্য থাকে না। শুধু থাকে এক
একাকি ভ্রমনের সাহসের নির্ণয়। ভরি আনা রতির
নিক্তিতে তারে মাপা যায় না কিছুতেই।

16/07/2025

ঢ়
সাবিনা ইয়াসমিন

সে তো মূলত ঢ় বর্ণের মতো
আদিতে প্রয়োগ নেই
বসে আছে অনাদিতে

সুদৃঢ়
ঘোষ ও মহাপ্রাণে....

14/07/2025

পথ অগ্নিচিহ্নিত, ব্যথা স্বরচিত
সাবিনা ইয়াসমিন

কেউ কি বলেছিলো, অপেক্ষা করো
অপেক্ষা করতে করতে
তোমার গা ভর্তি যে পাখি পোষ
তারা সব অলখে উড়ে যাক
আর তুমি পুরাতন শ্যাওলা হয়ে
জলে নুয়ে থাকা জবা ফুলের দিকে চেয়ে
পার করে দাও পুরোটা শরতকাল?

বলেনি তো-

তবু কেন অপেক্ষা ?
কেন জাতিস্মর,
সাত জনমের বন্ধন খুঁজে ফেরা?

সত্যটা এই-
ভালোবাসায় পথ অগ্নিচিহ্নিত, ব্যথা স্বরচিত।

08/07/2025

অবশ পরান
সাবিনা ইয়াসমিন

কত ভাবে, কত কারণেই না অবশ হয়ে ওঠে অবোধ পরান
কখনো তা বোঝা যায়, কখনো বা নয়
কোন নিশুতি রাতে
দূরে, বহু দূরে
বিজলিচ্ছটার সাথে সাথে ঝুম বৃষ্টি হলে
কিংবা কোন শিউলি অসময়ে
মাটির সাথে যদি করে অশ্রু বিনিময়, ভোর শিশিরের নামে
তবে কোন কারণ ছাড়াই অবশ হয়ে ওঠে অবোধ পরান।

কখনো যদি রথের মেলা থেকে
নাগরদোলা ডাকে
খাঁচার ভেতর অচিন পাখিগুলো
সারাটি রাত আকাশ চেয়ে কাঁদে
অমনি কেমন স্তম্ভিতে পরান
ব্যথার মতন অবশ হয়ে থাকে।

কখনো যদি অনিদ্রা লিখে লিখে
শ্রান্ত হয় চক্ষুদুটির পাতা
কখনো যদি তামসীমেঘ ভাঙা
শ্রাবনজলস্রোতে
প্রাচীন কোন উপল ভেসে আসে
তবে তো সেই উপলঘায়েই মরি
অবোধ পরান অবশ হয়ে ওঠে।

কখনো যদি বটের ঝুরির মতো
নেমে আসে দিব্যজ্ঞানের জ্যোতি
আর দেখতে পাই দূর দিগন্তে
লালচে আভার মতো
ছড়িয়ে পড়েছে কোন
হারিয়ে যাওয়া ভ্রু
তবে আমি বুঝি সেই ভ্রু- পল্লবের আহ্বান
অবশ পরান জেগে ওঠে আচন্বিতে।

04/06/2025

শিবসা/ ৪
সাবিনা ইয়াসমিন

এখন আর একা লাগে না
এখন মেঘের সাথে সাথে
উড়তে শিখে গিয়েছি
কালিমা-কল্মুষ যত, তুচ্ছ ধুলো যত
ধুতে শিখে গিয়েছি শিবসার জলে
আমার ঘরে গঙ্গা-জ্ঞানে
শিবসার জল রাখা আছে ।

এখন আর বৈরাগ্য জাগে না
শুধু মেঘের সাথে ওড়ার সময়
মেঘের ভেতরেই কোন কোন
মুখের আদলে কারো কারো
মুখ জেগে ওঠে, মানুষ নয়
আমি জানি সে এক নদী
মানুষের মুখোশ গুলো সেই
নদীর জলে ভেঙে ভেঙে পড়ে।

Address

Paikgacha
Khulna

Telephone

+8801734572490

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sabina Yeasmin - poet posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category