14/05/2026
গল্প : বুকের ভেতর তপ্ত দুপুর
আলমগীর হোসেন শিশির।
Alamgir Hossain Shishir
✒️
আকাশ থেকে তখন আগুনের হলকা নামছে। চৈত্র মাসের সেই দুপুরটা ছিল বড্ড বেশি নিঝুম, যেন কোনো এক মহাপ্রলয়ের পূর্বসংকেত। মাঠের ঘাসগুলো রোদে পুড়ে তামাটে বর্ণ ধারণ করেছে, আর বাতাসের প্রতিটি ঝাপটা যেন জ্যান্ত আগুনের ছোঁয়া। ৫-৬ বছরের ছোট্ট সোহেল তখন জানত না, এই তপ্ত দুপুর তার জীবনের সবটুকু ছায়া চিরতরে কেড়ে নিতে আসছে।
খালা তাকে জোর করে গোসল করিয়ে যখন বিছানায় শুইয়ে দিলেন, সোহেলের কচি বুকে তখন এক অজানা অস্থিরতা। খালা কড়া গলায় বললেন, "চুপ করে শুয়ে থাক। না ঘুমালে বিকেলে কুটুম বাড়ি নিয়ে যাব না।" সোহেল বিছানায় পিঠ লাগিয়ে ঘুমের ভান করে রইল। ঘরটা বাইরে থেকে সিটকিনি দিয়ে আটকে দেওয়া হলো। অন্ধকার আর নিস্তব্ধতার মাঝে সোহেলের মনে হলো, সময় যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। সে জানে না কেন তার বুকটা আজ অকারণে কেঁপে উঠছে।
হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে জানালার ওপাশ থেকে এক সহপাঠীর আর্তনাদ শোনা গেল— "এই সোহেল! তুই এখানে শুয়ে আছিস? ওদিকে তোর মা যে তোকে ফেলে চলে যাচ্ছে! তোর মায়ের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে রে!"
মুহূর্তেই সোহেলের পায়ের তলার মাটি সরে গেল। সে পাগলের মতো দরজায় আছাড় খেল, কিন্তু লোহার সিটকিনি অনড়। অবুঝ শিশুটি তখন খাঁচাবন্দি এক পাখির মতো ছটফট করতে লাগল। তার ছোট ছোট চোখ দুটো তখন জলহীন এক যন্ত্রণায় জ্বলছে। ঘরের কোণে পড়ে থাকা আম পাড়ার সেই লম্বা চিকন বাঁশের লগাটাই তখন তার একমাত্র আশার তরী।
সে তার কচি হাত দিয়ে বাঁশটা আঁকড়ে ধরল। শরীরের সবটুকু শক্তি দিয়ে সে উপরে উঠতে লাগল। হাত ছিঁড়ে যাচ্ছে, সারা শরীর ঘামে একাকার, তবুও তার থামার উপায় নেই। চালের নিচ থেকে দুটি টালি যখন সে সরাল, আকাশের সেই প্রচণ্ড রোদের তাপ সরাসরি তার মুখে এসে আছল পড়ল। শরীরের চামড়া যেন ঝলসে যাচ্ছে, সেই তাপে চোখের মণিও বোধহয় ঘোলাটে হয়ে আসছিল। কিন্তু তার কানে তখন কেবলই বাজছে— "মা তোকে ফেলে চলে যাচ্ছে!"
সোহেল চালের উপর উঠল। দিগন্তের দিকে তাকিয়ে দেখল, দূরে ধুলো উড়িয়ে একটা কিছু ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। সে নামতে জানে না, সে জানে না এই উঁচু চাল থেকে কীভাবে মাটিতে পা রাখতে হয়। শুধু জানত, তাকে মায়ের কাছে পৌঁছাতে হবে। টালির ঘরগুলো তখন আজকের দোতলা বাড়ির মতো উঁচু ছিল। এক বিভীষিকাময় উত্তাপের মাঝে ভারসাম্য হারিয়ে সে উঠানে আছাড় খেয়ে পড়ল। হয়তো ওপরওয়ালার অদৃশ্য কোনো রহমতের হাত তাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তার শৈশবটা ওই চালের ওপরই তপ্ত রোদে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
✒️
উঠানে আছাড় খেয়ে পড়ার পর সোহেলের শরীর ব্যথায় নীল হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সেই শারীরিক যন্ত্রণা ছাপিয়ে হৃদয়ের হাহাকার তাকে এক নিমেষে দাঁড় করিয়ে দিল। ধুলোমাখা শরীরে সে দেখল, দূরে পিচঢালা আঁকাবাঁকা পথ দিয়ে একটি স্কুটার ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলেছে। ওই স্কুটারের ভেতরেই বসে আছেন তার গর্ভধারিণী মা—নববধূর সাজে, অন্য এক জগতের উদ্দেশ্যে।
সোহেল উন্মাদের মতো সেই পথের দিকে দৌড়াতে শুরু করল। তার দুই পা ফেটে যাচ্ছে তপ্ত পিচের তাপে, কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ, কিন্তু বুক চিরে বেরিয়ে আসছে এক অবর্ণনীয় আর্তনাদ— "মা! যেওনা মা! আমাকে নিয়ে যাও!" বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ আর স্কুটারের ইঞ্জিনের শব্দে সেই কচি কণ্ঠের করুণ আকুতি কি মায়ের কানে পৌঁছেছিল? হয়তো পৌঁছেছিল, কিন্তু পৃথিবীর সব মা হয়তো সন্তানের জন্য পিছুটান রাখতে পারেন না। স্কুটারটি ধুলোর মেঘ উড়িয়ে এক সময় বনের বাঁকে মিলিয়ে গেল। সোহেল পথের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে রইল। তার মা একবারের জন্যও ফিরে তাকালেন না সেই ৫-৬ বছরের অবুঝ শিশুটির দিকে। আকাশ তখনো সমানে আগুন ঢেলে চলেছে, যেন প্রকৃতির এই নির্লজ্জ নিষ্ঠুরতাকে সাক্ষী রাখতে চায়।
ঝাঁঝালো রোদে সোহেল যখন আবার ধুঁকতে ধুঁকতে মামার বাড়িতে ফিরে এল, সেখানে কোনো মমতা কিংবা শীতল আঁচল তার জন্য অপেক্ষা করছিল না। এক বুক শূন্যতা নিয়ে ফিরে আসা শিশুটিকে দেখার পর মামাদের মুখগুলো আরও কঠোর হয়ে উঠল। কেউ তাকে বুকে টেনে নিল না, বরং শুরু হলো অমানুষিক প্রহার। প্রতিটি আঘাতের সাথে সাথে বর্ষিত হলো বিষাক্ত বাক্যবাণ— "এই ছেলে বড় হয়ে এক মস্ত বড় চোর হবে।" সোহেল কোনো প্রতিবাদ করল না। যার পৃথিবী এক নিমিষেই ধুলোয় মিশে গেছে, তার কাছে এই মার কিংবা গালি তখন তুচ্ছ মনে হচ্ছিল।
সেদিন বিকেলে সূর্য ডুবল ঠিকই, কিন্তু সোহেলের জীবনে অন্ধকার নেমে এল চিরস্থায়ী হয়ে। কেউ তাকে সান্ত্বনা দিল না, এক ফোঁটা জলও মুখে তুলে দিল না। সারা পৃথিবী যেন তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মাঝে মাঝে অন্ধকার ঘরে একা শুয়ে সোহেলের মনে হতো, এই বিশাল পৃথিবীতে তার মতো দুঃখী বোধহয় আর কেউ নেই। তার চোখের জল গড়িয়ে কানের পাশ দিয়ে বালিশ ভিজিয়ে দিচ্ছিল, কিন্তু সেই জল মোছানোর মতো কোনো আঙুল আজ আর অবশিষ্ট নেই।
✒️
দিন গেল, মাস গেল, এমনকি বছরের পর বছরও ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে গেল। সময়ের চাকা ঘুরলেও সোহেলের ভাগ্যের চাকা যেন সেই এক জায়গায় স্থবির হয়ে আটকে রইল। মামাদের বাড়িতে সে বড় হতে লাগল এক অনাহুত আগন্তুকের মতো। যে বয়সে অন্য শিশুরা স্কুলের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে হাসি-তামাশায় মেতে থাকে, সোহেলকে সেই বয়সে পিঠে তুলে নিতে হলো সংসারের ভারী বোঝা।
মামাদের বাড়িতে তার পরিচয় হলো 'বিনামূল্যে খাটা কামলা'। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হতো তাকে। কিন্তু বিনিময়ে যা জুটত, তাকে খাবার না বলে অবহেলা বলাই শ্রেয়। প্রায়ই তাকে ভাত খেতে দেওয়া হতো না। ক্ষুধার জ্বালায় পেটে যখন চড়া পড়ত, সোহেল তখন শুধু এক গ্লাস জল খেয়ে নিজের নাড়িকে শান্ত করত। কাজ একটু এদিক-সেদিক হলেই খাবারের বদলে জুটত নির্মম প্রহার। সেই শৈশবে শোনা 'চোর' অপবাদটা যেন এক অদৃশ্য তকমা হয়ে তার ললাটে সেঁটে দেওয়া হয়েছিল।
মায়ের কথা মনে পড়লে সোহেল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত। যে মা তাকে দশ মাস গর্ভে ধারণ করেছিলেন, সেই মা একটি বারের জন্য তাকে খুঁজে দেখলেন না। কোনো এক বিজন দুপুরে যখন সে ক্লান্ত হয়ে গাছের ছায়ায় বসত, তখন তার মনে হতো—সে কি এতটাই ফেলনা? এক যুগ পার হয়ে গেল, কিন্তু মায়ের দিক থেকে কোনো খবর এল না। একাকীত্বের সেই দহন তাকে ভেতরে ভেতরে পুড়িয়ে খাক করে দিচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই আগুনেই পুড়তে পুড়তে সোহেল এক অন্যরকম মানুষ হয়ে উঠছিল।
তার মনের ভেতর এক সুপ্ত প্রতিজ্ঞা জন্ম নিতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল, এই লাঞ্ছনা আর গঞ্জনার থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ হলো নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষুধার পেটে যখন যন্ত্রণা হতো, সোহেল তখন সেই যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তর করত। মেধা, মনন আর অসীম ধৈর্যকে সাথী করে সে এক অসম লড়াইয়ে নামল। তার চারপাশের মানুষগুলো তাকে যত অবজ্ঞা করল, তার জেদ তত বাড়তে লাগল। সে যেন এক বিশাল মরুভূমির মাঝে একাকী এক মরুঝাউ, যে প্রতিকূলতাকেও আপন করে নিতে শিখে গেছে। কষ্টের সেই বেলাভূমি পেরিয়ে সোহেল এক নতুন দিগন্তের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
✒️
সময়ের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সোহেল আজ আর সেই ধুলোমাখা অসহায় শিশুটি নেই। মেধা, অসীম ধৈর্য আর হাড়ভাঙা পরিশ্রমের এক বিশাল বেলাভূমি পেরিয়ে সে আজ এক সফল মানুষ। একদিন যে ছেলেটি আধপেটা খেয়ে মামাদের লাথি-ঝাঁটা সয়েছে, আজ তার ইশারায় অনেক কিছু চলে। অর্থ, বিত্ত আর সামাজিক প্রতিপত্তি—সবই আজ তার হাতের মুঠোয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশাল ঐশ্বর্যের মাঝে দাঁড়িয়েও সোহেল আজও সেই হারানো মায়ের মমতা খুঁজে বেড়ায়। তার মনের এক কোণে এখনো সেই ৫ বছরের শিশুটি বসে আছে, যে আজও ডুকরে কেঁপে ওঠে।
বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সোহেল এক সময় তার মায়ের খোঁজ পেল। মা এখন অন্য এক জগতের বাসিন্দা, অন্য দুই সন্তানের জননী। সোহেল যখন প্রথমবার তার মায়ের মুখোমুখি হলো, তখন তার দুচোখ ভরা ছিল এক সমুদ্র আকুতি। সে ভেবেছিল, হয়তো এই দীর্ঘ বিচ্ছেদ আর সোহেলের বর্তমান সাফল্য মায়ের মনের বরফ গলাবে। কিন্তু বিধাতা তার জন্য লিখে রেখেছিলেন আরও এক কঠিন বাস্তবতা।
মা তাকে দেখে জড়িয়ে ধরা তো দূর থাক, বরং তার চোখেমুখে ফুটে উঠল এক গভীর বিরক্তি আর লুকানোর চেষ্টা। মায়ের নতুন সংসারে সোহেল এক অনাহুত আগন্তুক, এক নিষিদ্ধ অতীত। যখন প্রতিবেশীরা কিংবা মায়ের বর্তমান সংসারের কেউ জানতে চাইত— "এই যুবকটি কে?", মা অবলীলায় মিথ্যা বলতেন। কখনও বলতেন, "আমার ভাইয়ের ছেলে", কখনও বা নিজের বর্তমান স্বামীর পরিচয় দিয়ে বলতেন, "মণির বাপের কাছে কোনো প্রয়োজনে এসেছে।" নিজের সন্তানকে অন্যের কাছে 'ভাইয়ের ছেলে' হিসেবে পরিচয় দেওয়ার যে হাহাকার, তা সোহেলের বুকটাকে যেন সহস্র টুকরো করে দিত।
সবচেয়ে বড় আঘাতটা এল এক নিভৃত মুহূর্তে। যখন কেউ পাশে ছিল না, মা সোহেলকে অত্যন্ত রূঢ় কণ্ঠে বললেন— "তুই এখানে কেন আসিস? তুই মরতে পারিস না?"
মায়ের মুখ থেকে উচ্চারিত এই 'মরতে পারিস না' শব্দগুলো সোহেলের কানে বিষের মতো বিধল। যে মা তাকে দশ মাস গর্ভে ধারণ করেছিলেন, যে মা তাকে নিজের বুকের দুধ খাইয়ে বড় করেছিলেন, সেই মায়ের কাছেই আজ তার অস্তিত্ব এতটা অসহ্য! সোহেল সেদিন কিছু বলেনি। সে শুধু মায়ের মুখের দিকে তাকিয়েছিল—যে মুখে এক সময় সে স্বর্গ দেখত, আজ সেই মুখেই যেন জাহান্নামের আগুন। সোহেল বুঝতে পারল, কিছু রক্ত কখনোই ঋণ শোধ করতে পারে না, আবার কিছু সম্পর্ক শুধু জন্ম দিলেই সার্থক হয় না।
✒️
মায়ের সেই বিষাক্ত প্রশ্ন— 'মরতে পারিস না?'—সোহেলকে মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ করে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরক্ষণেই তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে এল। সে ধীরপায়ে সেই আঙিনা ছেড়ে বেরিয়ে এল। না, তার মনে কোনো ক্ষোভ নেই, কোনো বিষাদ নেই। সে বুঝল, মা হয়তো তার নিজের মতো করে কোনো এক অদৃশ্য পরিস্থিতির শিকার। হয়তো সমাজের কাছে নিজের বর্তমান সুখ অটুট রাখতেই তাকে অস্বীকার করতে হচ্ছে। সোহেল আর মায়ের কাছে যায় না, মায়ের সাজানো সংসারে আর কোনোদিন নিজের ছায়া ফেলে বিব্রত করতে চায় না।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রতি মুহূর্তে সোহেল তার ওই জননীকেই স্মরণ করে। তার বিশাল অট্টালিকার নির্জন বারান্দায় দাঁড়িয়ে যখন সে আকাশের দিকে তাকায়, তার চোখে ভেসে ওঠে সেই মায়ের মুখ। যে মা তাকে দশ মাস দশ দিন জঠরে ধারণ করেছেন, নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে তিল তিল করে তাকে মানুষ করেছেন, তাকে কি ভোলা যায়? মায়ের প্রতি তার কোনো অনুযোগ নেই, কোনো অভিযোগ নেই। বরং সে আল্লাহকে ধন্যবাদ দেয়—মায়ের সেই অবহেলা আর নিষ্ঠুরতাই তো তাকে আজ এই পাহাড়সম উচ্চতায় নিয়ে এসেছে।
সোহেল আজ সফল, তার প্রাচুর্যের শেষ নেই। কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, সে একাধারে অনাথ এবং সনাথ। মা বেঁচে থেকেও তার কাছে মৃত, আবার মরে গিয়েও সে তার অস্তিত্বের প্রতিটি রন্ধ্রে বেঁচে আছে। মাঝে মাঝে গভীর রাতে সোহেলের ঘুমের ঘোরে মনে হয়, আজও সে সেই টালির চালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আজও সেই চৈত্র দুপুরের তপ্ত রোদ তার শরীর পুড়িয়ে দিচ্ছে। সে আজও সেই ধুলো উড়িয়ে চলা স্কুটারের পেছনে পাগলের মতো ছুটছে।
সোহেল জানে, এ পৃথিবীতে কিছু ভালোবাসার কোনো প্রতিদান হয় না। কিছু ঋণের কোনো মুক্তি নেই। সে তার মাকে ভালোবেসে যাবে দূর থেকে, কোনো অধিকার ছাড়াই, কোনো স্বীকৃতি ছাড়াই। কারণ সে জানে, মাতৃত্বের বিচার করার ক্ষমতা কোনো সন্তানের নেই। সে শুধু জানে, জীবনের সেই রোদে পোড়া চাল আর আগুনের দুপুর তাকে শিখিয়ে দিয়েছে—কীভাবে ভালোবাসতে হয় সেই মানুষকে, যে তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সোহেল রানা আজ এক বিশাল সমুদ্র, যার উপরিভাগে সাফল্যের ঢেউ খেললেও অতল গভীরে আজও এক ৫ বছরের শিশুর কান্না গুমরে মরে।
=০০=