29/08/2025
#সাম্যের_পৃথিবী
কত ভেদাভেদে ভরা
পৃথিবী বৈচিত্র্যে গাঁথা।
মালিক হুকুম করে
ভৃত্য ঠেলে ভারী বোঝা।
সহ্য কর সব ব্যথা
মালিকের দাস মোরা।
মালিকের করুনায়
পেটে জোটে অন্ন দানা।
ইহুদি মুসলিম হিন্দু
ময়দানে তাদের যুদ্ধ।
কত জীবন কেড়েছে
কত করেছে রক্তাক্ত।
মায়ের পেটের শিশু
কোথায় ধর্মের চিহ্ন?
দুনিয়ার বুকে দেখি
ভেদাভেদে এক চিত্র।
চর্মে কারো শ্বেত বর্ণ
কারোর কুচকুচে কালো।
ঘৃণা বড্ড লাগে তার
যার গায়ে শ্বেত চর্ম।
এরা হলো ক্ষণিকের
বোঝে না সৃষ্টির মর্ম।
তারা সুখের নেশায়
অবজ্ঞার সাথে মত্ত।
সাম্যের দণ্ডতে গড়া
সুন্দর এক পৃথিবী।
যেথা নেই ভেদাভেদ
ক্ষমতার প্রতিপত্তি।
নেই অর্থ বিনিময়ে
সুখের বাজার মূল্য।
ভালোবাসা হারানোর
নেই বুক ভরা কষ্ট।
জানি মৃত্যু অনিবার্য
ফকির কিংবা ধনপতি।
পরকালে গিয়ে হবে
কিতাবের শর্তে শাস্তি।
হে ঈশ্বর ভগবান
আমার প্রাণের ক্ষোদা।
এ মাথা দিয়েছি পেতে
দিন প্রাণ ভরে সাজা।
একটাই ছিল আবদার
মাথা পেতে চাচ্ছি ক্ষমা।
গীতা কুরআন বাইবেল
পবিত্র বইয়ের পাতা।
তবু আজ মিথ্যা হোক
শাস্তির সকল কথা।
হিন্দু মুসলিম ইহুদি
আজ কারও নয় সাজা।
বৃদ্ধ বুড়ি কেঁদে মরে
এক পঙ্গু কামড়ে মাটি।
কষ্টের এক চিৎকার
দুর্ভাগা আমার নিয়তি।
কৃষ্ণ বর্ণের মেয়েটা
তার ঐ মনে আফসোস।
যেন জন্ম কালে আমি
করেছি কোথায় দোষ?
পরলোকে কারো নরক
কারো ফুল ভারা স্বর্গ।
হে ঈশ্বর ভগবান
চেয়েছি সাম্যের চিত্র।
দুনিয়ার অর্থ বলে
পড়েছি যে যাতা কলে।
রূপ বিক্রি হয় সেথা
টাকা অর্থ বিনিময়ে।
বিচারের ময়দানে
চাইছি সাম্যের পৃথিবী ।
তাদের সকল সাজা
ভোগ করবে এই পাপী।
গোটা মহাবিশ্ব ভরে
বয়ে যাক সুখ শান্তি।
তার বিনিময়ে আমি
সহে নেব তীব্র অগ্নি।
আমার সকল ইন্দ্রিয়
অগ্নিতে গলে পড়ুক।
আমার পশম গুলো
কোঁকড়া হয়ে ঝড়ুক।
আমার গোড়ালি ফেটে
অঝোরে ঝড়ুক রক্ত।
একটি পৃথিবী চেয়েছি
যেখানে সবাই সাম্য।
:- কখনো ভাবতে পারেন, আপনি যে রূপের পিছনে হাজার টাকা খরচ করেন তা একদিন মাটিতে গলে পচে যাবে।
কখনো ভাবতে পারেন আপনি যে দশ তালা বিল্ডিংয়ে ঘুমিয়ে অহংকার করেন সেখান থেকে আপনার ঈশ্বর/ভগবান/ ক্ষোদা আপনার কয়েক ফুট মাটির নিচে নামিয়ে দেবে।
কথায় আছে শিক্ষা "দুর্জনের" অহংকারী করে।এরা সামান্য সার্টিফিকেটে নিয়েও অহংকার করে। তার মৃত্যুর পর এগুলো কোন থলির মধ্য অকেজো হয়ে থাকবে।
"সার্টিফিকেটে অর্জন ও শিক্ষিত হওয়া এক বস্তু নয়।"(প্রমথ চৌধুরী)
কৃপণ, মন্দ পথে অর্থ ব্যয় করা ধনী ফকিরের থেকে এবং সার্টিফিকেটে অর্জন করে অহংকার করা ব্যক্তি মূর্খের থেকে তুচ্ছ।
ক্ষমতা? বন্যা এলে মাছে পিঁপড়া খাই খরা হলে পিঁপড়া মাছ খাই। মানুষ কেন এই সামান্য কথা বোঝে না।
আজ মানুষের গড় আয়ু ৬০-৬৪। সামান্য এই জীবনে কেন ভেদাভেদ, অহংকার,স্বার্থপরতা, হিংসা?
কবিতার মূলভাব এইরকম নই।এই কর্মকাণ্ড পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের জন্য কতটা পীড়াদায়ক তাই এর মূল কথা।এই পৃথিবীতে সত্যি আর কখনো সাম্য বয়ে আনবে না। রূপ,অর্থ,শক্তি, ধর্মের ভেদাভেদ। কিন্তু মৃত্যুর পর শাস্তির পূর্বে একটি আবদারের চিত্র কবিতায় ফুটে উঠেছে।তা হলো সাম্যের কামনা। প্রত্যেকের সুখ যেখানে কারো দুঃখ নেই, এমন হলে পৃথিবী কেমন হতো। প্রত্যেকে এক পাল্লায়। হাস্যরসাত্মক ভরে কবিতায় তারই কামনা।
িশ্বাস