27/12/2024
ঘনঘটা করে ফুলি দির বিয়ের বাজনা, সাথে সকলের উৎসবের আমেজ। চোখ যেন ফেরোনই যাচ্ছে না। ইতঃমধ্যেই মা কানের উপরিভাগ চাপকে ধরে বলে উঠলো , তাহলে ভালোই বাঁদরামি হচ্ছে। আমি বললাম মা ওই একটু ঘুরে ঘুরে সব দেখছিলাম তাই আর কি। মা: না ঘুরতে হবে না চল বাড়ি চল, সব অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে এখন। সেদিন বাড়ি ফেরার পথে মাকে বললাম ,মা আমিও বিয়ে করব ? তখন কিন্তু তুমি আমাকে অনেক আতশবাজি, ফুল অনেক খাবার কিনে দেবে । আমি আতশবাজি ফোটাব , ফুল দিয়ে সারা বাড়ি সাজাবো ফুলি দিদিদের মতো। আর অনেক খাবার খাবো। মার চোখ যেন ছলছল করছে, এর ই মধ্যে মা বলে উঠলো আচ্ছা ঠিক আছে আমার পাকনা বুড়ি। মায়ের এমন কথায় আমিও অনেক খুশি হলাম। কিন্তু যত দিন যেতে থাকলো তত যেন চিন্তা বাড়তে থাকল, লেখাপড়া যেন পিছুই ছাড়ছে না, কারণ ভালো রেজাল্ট যে করতেই হবে। দেখতে দেখতে মাধ্যমিকে আর মাধ্যমিকের গন্ডি না পেরোতেই , হঠাৎ করে মাথায় উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। মা বললো তুই রেডি হয়ে নে ,আজ ছেলেপক্ষ তোকে দেখতে আসছে। মা বাবার এমন কথায় আমি আর তাদের মুখের উপর কিছু বলতে পারলাম না, তাদের বোঝাতে পারলাম না যে আমি আরো পরতে চাই।
কোন কিছু না ভেবেই ছেলেপক্ষের সামনে হাজির হলাম, তাদের সালাম দিলাম। তারাও আমাকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলো,আমিও উত্তর দিলাম। তারা আমাকে ঘরে যেতে বলল, আমি ঘরের ভিতর গিয়ে তাদের এই উদ্ভট প্রশ্নের কথা চিন্তা করলাম, একটা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কিভাবে এরকম প্রশ্ন করতে পারে। এমন সময় মা ঘরে ঢুকে বলে উঠলো উনারা তোকে অনেক পছন্দ করেছেন, কালকেই তোর বিয়ে। হঠাৎ বুকটা কেমন যেন কেঁপে উঠলো। কেমন যেন চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে মা এমন বিয়ে আমি করতে চাইনি যে বিয়ে তোমাদের থেকে আমাকে আলাদা করবে, এখন বুঝতে পারছি সেদিন কেন তোমার চোখ ছলছল করছিলো। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়িতে হৈ হুল্লোড় লেগে গেছে। মানুষে বাড়ি ভরে গেছে।
Next part
see more second post.