03/12/2025
রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪ হাজার ৯১১টি মৌজার পেটে পানি নেই বললেই চলে। এসব এলাকায় খাবার পানি ছাড়া অন্য কোনো কারণে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা যাবে না। সরকার এ-সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি এ গেজেট হাতে পেয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। তারা চাষাবাদের জন্য গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি তোলে। এখন কী করণীয়, সে বিষয়ে বিএমডিএ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
৪ হাজার ৯১১টি মৌজাকে আগামী ১০ বছরের জন্য পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব মৌজা পড়েছে ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নে। এরমধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন, ৪০টি ইউনিয়নের ৮৮৪টি মৌজাকে উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এবং ৬৬টি ইউনিয়নের ১ হাজার ২৪০টি মৌজাকে মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া, পাকড়ি ও রিশিকুল ইউনিয়ন; মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম, পবার দর্শনপাড়া, দামকুড়া ও হুজরিপাড়া; তানোরের বাঁধাইড়, কলমা, পাঁচন্দর, সরনজাই, তালন্দ ও চান্দুড়িয়া ইউনিয়ন। রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ঝিলিম, গোমস্তাপুরের আলিনগর, চৌডালা, পার্বতীপুর, রহনপুর ও রাধানগর, নাচোলের ফতেপুর, কসবা, নাচোল ও নেজামপুর, নওগাঁর ভাবিচা, হাজিনগর ও নিয়ামতপুর ইউনিয়ন; নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল, রসুলপুর ও শ্রীমন্তপুর; পত্নীতলার আকবরপুর, দিবর, কৃষ্ণপুর, মাটিন্দর, নির্মইল, শিহাড়া ও পত্নীতলা; পোরশার ছাওড়, গাঙ্গুরিয়া, ঘাটনগর, মশিদপুর, নিতপুর ও তেঁতুলিয়া; সাপাহারের আইহাই, গোয়ালা, সাপাহার, শিরন্টী ও তিলনা।
উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন; বাগমারার গণিপুর, চারঘাট সদর ইউনিয়ন, দুর্গাপুরের ঝালুকা, জয়নগর ও কিসমতগণকৈড়; গোদাগাড়ী সদর ইউনিয়ন, মোহনপুর ও গোগ্রাম; মোহনপুরের বাকশিমইল, ধুরইল, রায়ঘাটি ও মৌগাছি; পবার হড়গ্রাম এবং তানোরের কামারগাঁ। নওগাঁর আত্রাইয়ের হাটকালুপাড়া, মহাদেবপুরের হাতুর, মান্দার গণেশপুর, মৈনম ও তেঁতুলিয়া; নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া ও শেখেরপুর; নিয়ামতপুরের বাহাদুরপুর, পত্নীতলার আমাইড় ও পাটিচরা; রানীনগরের গোণা, কাশিমপুর ও রাণীনগর ও সাপাহারের পাতাড়ী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের গোবরাতলা, মহারাজপুর ও রানীহাটি; গোমস্তাপুরের আলিনগর, বাঙ্গাবাড়ী, বোয়ালিয়া ও গোমস্তাপুর; শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গা, সত্রাজিতপুর, শ্যামপুর ও উজিরপুর।
মধ্যম পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে এসেছে রাজশাহীর বাঘার আড়ানী, বাজুবাঘা, বাউসা ও মনিগ্রাম; বাগমারার আউচপাড়া, বাসুপাড়া, গোয়ালকান্দি, গোবিন্দপাড়া, মাড়িয়া, সোনাডাঙ্গা, শ্রীপুর ও শুভডাঙ্গা, চারঘাটের ভায়ালক্ষমীপুর, নিমপাড়া, সরদহ ও ইউসুফপুর, দুর্গাপুরের দেলুয়াবাড়ি ও নওপাড়া; গোদাগাড়ীর বাসুদেবপুর, চরআষাড়িয়াদহ ও মাটিকাটা; মোহনপুরের জাহানাবাদ, পবার পারিলা, বড়গাছি, হরিপুর ও হরিয়ান; পুঠিয়ার বানেশ্বর, ভালুকগাছি ও শিলমাড়িয়া। রয়েছে নওগাঁর আত্রাইয়ের কলিকাপুর ও সাহাগোলা; ধামইরহাটের খেলনা, মান্দার বিষ্ণুপুর, কাঁশোপাড়া, কশব, পরানপুর ও প্রসাদপুর; নওগাঁ সদরের বক্তারপুর, চন্ডিপুর, দুবলহাটি, হাঁপানিয়া, হাঁসাইগাড়ি, শৈলগাছি ও তিলকপুর; নিয়ামতপুরের চন্দননগর, পত্নীতলার ঘোষনগর, নজিপুর, রানীনগরের বড়গাছা, কালীগ্রাম, মিরাট ও পারইল; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বালিয়াডাঙ্গা ও বারঘরিয়া; ভোলাহাটের সদর, দলদলী, গোহালবাড়ী ও জামবাড়িয়া; শিবগঞ্জের চককীর্তি, দাইপুকুরিয়া, ধাইনগর, দুর্লভপুর, ঘোড়াপাখিয়া, কানসাট, মোবারকপুর ও পাঁকা ইউনিয়ন।
নির্দেশনায় যা আছে: পানি সংকটাপন্ন এলাকায় বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩ ও ১৮ অনুযায়ী পানি সম্পদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক ব্যবহার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে বলে গেজেটে বলা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথমেই বলা হয়েছে, খাবার পানি ব্যতীত অন্য কোনো কারণে নতুন করে নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ থাকবে এবং খাবার পানি সরবরাহ ছাড়া অন্য কোনো কারণে বিদ্যমান নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ থাকবে।